পাকিস্তানের করাচীতে ১৫ লাখ বাঙালির মানবেতর জীবনযাপন

অনলাইন ডেস্ক: করাচী শহরের কেন্দ্র থেকে ইব্রাহিম হায়দেরি এলাকায় যেতে গাড়িতে লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। একসময় এ জায়গাটি ছিল ছিমছাম একটি জেলে পল্লী, তবে বর্তমানে এটি হয়ে উঠেছে করাচীর নোংরা ঘিঞ্জি একটি জনপদ, যেখানকার সিংহভাগ বাসিন্দা বাঙালি।
রাস্তা ধরে সাগরের দিকে যেতে থাকলে, পরিবেশে, গন্ধ, দৃশ্য, শব্দ সবই বদলে যেতে থাকে।

যেখানে সেখানে নোংরা পানি জমে আছে। তার ওপর ভাসছে আবর্জনা। আর রাস্তার দুপাশে বস্তির মত সার সার ঘর। বিভিন্ন সময়ে গরীব দুস্থ মানুষজন এখানে এসে জীবন যাপনের চেষ্টা করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বাঙালিরাও। যে ১৫ লাখের মত বাঙালি করাচীর এই শহরতলীতে থাকে , তাদের অধিকাংশই ভারত ভাগের পর থেকেই বংশ পরম্পরায় এখানে রয়েছে। ৭১ সালে পাকিস্তান ভাগের পর তাদের অনেকেই অবশ্য করাচী শহরে চলে যায়।

কিন্তু লাখ লাখ এই বাঙালিকে পাকিস্তান এখনও তাদের নাগরিক হিসাবে মর্যাদা দেয়নি। এই বঞ্চনার সাথে যতটা না রয়েছে জাতিসত্তার সম্পর্ক, তার চেয়ে বেশি রয়েছে পাকিস্তানের জটিল ইতিহাসের।

এলাকায় পাকিস্তানী বেঙ্গলি অ্যাকশন কমিটি নামে বাঙালিদের একটি সংগঠনের সমন্বয়কারী হিসাবে কাজ করছেন জয়নুল আবেদিন। উচ্চাভালাষি, তৎপর এই যুবক পাকিস্তানের রাজনীতিতেও ঢুকতে চান। সালোয়ার-কামিজ এবং কোটি পরা জয়নুল আবেদিনকে সাধারণ একজন পাকিস্তানীর মতই লাগে। তবে মুখের চেহারায় বাঙালির ছাপ।
তিনি বলেন, “বাঙালিদের সিংহভাগই বয়সে তরুণ। এরা সব পাকিস্তানে তৃতীয় প্রজন্মের বাঙালি।”
কেমন আছেন তারা ? জয়নুল আবেদিন বললেন, “আমরা খারাপ ছিলাম না একসময়। জাতীয় পরিচয় পত্র জোগাড় করতে কর্মকর্তাদের কিছু ঘুষ দিতে হতো। তাছাড়া ঠিকঠাকই চলেছে।” তবে করাচীতে সন্ত্রাস এবং জঙ্গি তৎপরতা বাড়তে থাকায় জীবনযাপনের সেই স্বস্তি দিন দিন চলে যাচ্ছে। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র জোগাড় করা পাকিস্তানের বাঙালিদের জন্য এখন প্রায় অসম্ভব।
আমারা ইউসুফ নামে বাঙালি কলোনির এক নারী তার ঘরের ভেতরে একটি স্কুল চালান। দু বছর আগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, পরিচয় পত্র না থাকায় কোনো কলেজে তাকে ভর্তি করেন। “আমি কি পাকিস্তানী নই? আমার জন্ম এখানে। আমার বাবা-মার জন্মও এখানে। তারপরও কেন তারা আমাদের বাঙালি বলে ডাকে। কেন পরিচয়পত্র দেয়না? ভাবলে খুবই কষ্ট লাগে, কিন্তু কী করার আছে আমাদের?” আমারা মনে করেন, পাকিস্তানে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর কোনো ভবিষ্যৎ নেই, কারণ তারা শিক্ষার মত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচেছ।
নাগরিকত্বের প্রশ্নে প্রতি বছর হাজার হাজার বাঙালি তরুণ তরুণী কলেজ থেকে ঝরে পড়ছে। ফলে ছোটোখাটো কাজে লেগে যাচেছ তারা। এরা হয় রাস্তার পাশে সবজি বেচছে, নাহয় চায়ের দোকানে বা মুদি দোকানে কাজ করছে।
নিজের ঘরের সামনে ছোটো এক উঠোনে কার্পেট বুনছিলেন নাসিমা নামে এক নারী। তার ঘরের অবস্থা জরাজীর্ণ, নোংরা। বয়সের তুলনায় বয়স্ক, ক্লান্ত দেখাচিছলো তাকে। জানালেন একটি কার্পেট শেষ করতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ লাগে। তা বেঁচে আয় হয় ছয়শ রুপি।
“আইডি কার্ড না থাকায় আমার ভাই কোনো চাকরি পায়না, আমার বাবা পেনশন পায়না। এই কার্পেট বোনা ছাড়া উপায় কী?” পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে নাসিমার বাবা, ভাই এলাকার বাইরে খুব একটা বেরোয় না। ফলে কলোনির ভেতরেই যেসব ছোটোখাটো ফ্যাক্টরি আছে, সেখানে নামমাত্র পয়সায় খাটতে হয় অধিকাংশ বাঙালিকে।
পাকিস্তানে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আসাদ ইকবাল বাট বলেন, “একজন অবাঙালি শ্রমিক যেখানে মাসে ১২-১৩ হাজার রুপি মজুরি পায়, একজন বাঙালি পায় তার অর্ধেক।” “বাঙালি মেয়েরা ফ্যাক্টরি, বাসাবাড়িতে কাজ করে। শুধু যে পয়সা কম তা নয়, যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে তারা।”
করাচীর মৎস্য শিল্পের মেরুদণ্ড বাঙালিরা। বাঙালি নেতা জয়নুল আবেদিন মনে করেন, সস্তা শ্রমের সুবিধার জন্য পাকিস্তানে কেউ চায়না বাঙালিরা দেশ ছেড়ে চলে যাক, কিন্তু বৈধতার জন্য কেউ তাদের জন্য কিছু করছেও না। মানবাধিকার কমিশনের আসাদ বাট বলেন, “সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশ সৃষ্টির পর পাকিস্তানে বাঙালিরা ঘৃণার শিকার হয়ে পড়ে। তাদেরকে ছোটো চোখে দেখা শুরু হয়, বিশ্বাসঘাতক হিসাবে দেখা শুরু হয়। রাখঢাক না রেখেই বৈষম্য শুরু হয়।”
বাঙালিরা নাগরিক নয়, সুতরাং তাদের ভোট নেই। ফলে, রাজনীতিকরা তাদের নিয়ে মাথা ঘামায় না।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজকের সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের সাথে জাতীয় ছাত্র সমাজ নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : দৈনিক আজকের সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও ডেইলি সাতক্ষীরার সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় ছাত্র সমাজ সাতক্ষীরা জেলা শাখার নব-নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আজকের সাতক্ষীরা অফিসে এ সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় ছাত্রসমাজ সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি কায়সারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান সুমনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিত খেতে হবে ১০টি খাবার

বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ এখন একটি উত্তোরত্তর বেড়ে চলা সমস্যা। আর এর জন্য প্রধানত দায়ী হলো অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবারের মতো ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। উদাহরণত, যেসব খাবার ডিম বা প্রাণিজ মাংস থেকে আসে। অনেক গবেষণায়ই প্রমাণিত হয়েছে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনেই স্বাস্থ্যের ওপর বেশ ভালো রকমের প্রভাব পড়ে।

বিশেষ করে, এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফাস্টফুড খাওয়ার ফলে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রক্তের শিরা-উপশিরাগুলো প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এবং স্বাভাবিকভাবে শিথিল হওয়ার ক্ষমতা অর্ধেক কমে আসে।
তথাপি, গবেষণায় এও দেখা গেছে যে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস রপ্ত করলে হৃদরোগের ফলে যে ক্ষয় হয় তা সেরে ওঠে। গবেষকরা আরো দেখতে পেয়েছেন, যখন লোকে রক্তের শিরা-উপশিরা বন্ধ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতাসম্পন্ন খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেন তখন তাদের দেহ আরোগ্য লাভ করতে শুরু করে। এবং যে প্লাক জমেছিল তা মিইয়ে যায়।

যুক্তরাজ্যের চিকিৎসক ও জীবন-যাপন এবং খাদ্যাভ্যাস বিশেষজ্ঞ ড. মিখায়েল গ্রেগার ডেইল মেইলকে এমন ১০টি খাবারের কথা বলেছেন যেগুলো প্রতিদিন খেলে হৃদরোগ প্রতিরোধ হবে।

১. শিম এবং শুঁটিজাতীয় খাবার: প্রতিদিন তিনবার খেতে হবে।

২. বেরি: প্রতিদিন একবার খেতে হবে। বেশ ভালো পরিমাণেই খেতে হবে।

৩. অন্যান্য ফল: প্রতিদিন অন্তত তিনবার খেতে হবে।

৪. ক্রসীফেরাস জাতীয় সবজি: দিনে একবার খেতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। কেননা এতে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ফ্রি র‌্যাডিক্যালসদের সঙ্গে যুদ্ধ করে। আর ফ্রি র‌্যাডিক্যালসরা দেহের ক্ষয় করে।

৫. সবুজ সবজি: প্রতিদিন দুইবার খেতে হবে।

৬. অন্যান্য সবজি: প্রতিদিন দুইবার খেতে হবে। বিটরুটের মতো সবজি নাইট্রেটের বড় উৎস। যা রক্তচাপ কমায় এবং রক্তপ্রবাহ বাড়ায়।

৭. ফ্ল্যাক্সসীড/তিসি: এক টেবিল চা চামচ। রক্তচাপের রোগীরা ছয় মাস ধরে ফ্ল্যাক্সসীড খাওয়ার পর তাদের রক্তচাপ ব্যাপকভাবে কমে আসতে দেখা গেছে। সালাদ বা স্যুপের সঙ্গেও খাওয়া যায় ফ্ল্যাক্স সীড।

৮. বাদাম এবং বীজ: প্রতিদিন অন্তত একমুঠো খেতে হবে।

৯. ভেষজ এবং মশলা: এক চা চামচের চারভাগের একভাগ খেলেই চলবে।

১০. পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার: প্রতিদিন অন্তত তিনবার খেতে হবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে যারা বেশি বেশি পূর্ণশস্যজাতীয় খাবার খান তারা অনেকদিন পর্যন্ত বাঁচেন। কেননা এইজাতীয় খাবার হৃদরোগ, টাইপ টু ডায়াবেটিস, স্থুলতা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

১১. শরীরচর্চা: প্রতিদিন অন্তত ৯০মিনিট করতে হবে। আপনি কী খাবার খাচ্ছেন তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ শরীরচর্চা করেছেন কিনা। শুনে হয়তো অদ্ভুত লাগতে পারে কিন্তু সত্যি হলো পুষ্টি এবং শরীরচর্চা হাত ধরাধরি করে চলে। শরীরচর্চা করলে পুষ্টি উপাদানগুলো আরো বেশি কার্যকর হয়।

সূত্র: ডেইলি মেইল

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিদেল কাস্ত্রোর বড় ছেলে দিয়াজের ‘আত্মহত্যা’

কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ছেলে ফিদেল অ্যাঞ্জেল কাস্ত্রো দিয়াজ বালার্ট মারা গেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্রানমা জানিয়েছে, দিয়াজ আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে হাভানা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার কিউবার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্রানমার খবরে বলা হয়, ‘ফিদেল কাস্ত্রো দিয়াজ বালার্ট প্রচণ্ডরকমের বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। কয়েক মাস ধরে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক তার চিকিৎসা করেছেন। সকালে তিনি মারা গেছেন।

৬৮ বছর বয়সী দিয়াজ বালার্ট দেখতে অনেকটা বাবার মতো হওয়ায় তিনি ফিদেলিতো নামে পরিচিত ছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রোর প্রথম সন্তান তিনি। দিয়াজ বালার্ট পারমাণবিক পদার্থবিদ হিসেবে কাজ করেছেন এবং কাউন্সিল অব দ্য স্টেট অব কিউবার উপদেষ্টা ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাবার বইয়ে মেয়ের মলাট

এবারের অমর একুশে বইমেলায় চারটি বই আসছে অভিনেতা আবুল হায়াতের। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকায় কলাম লিখেছেন তিনি।

সেগুলো নিয়ে অনন্যা প্রকাশনী থেকে বেরোচ্ছে ‘এসো নীপবনে’, ‘ঢাকামি’ ও ‘জীবন খাতার ফুটনোট’।

এ ছাড়া শব্দ শিল্প প্রকাশনী থেকে বেরোচ্ছে গল্পের বই ‘মিতুর গল্প’। চারটি বইয়েরই প্রচ্ছদ করেছেন তাঁর মেয়ে বিপাশা হায়াত।

এ বিষয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ২৬টি বই বেরিয়েছে আমার। বেশির ভাগ বইয়ের প্রচ্ছদ বিপাশার করা। ও চারুকলায় ভর্তি হওয়ার পর আর কাউকে দিয়ে আমার বইয়ের প্রচ্ছদ করাতে হয়নি।’

বাবার বইয়ের প্রচ্ছদ করা নিয়ে জানতে চাইলে বিপাশা বলেন, ‘বাবার লেখার সঙ্গে ছোটবেলা থেকে পরিচয়। তাঁকে ব্যক্তিগতভাবেও খুব কাছ থেকে জানি। এ জন্য বাবার বইয়ের প্রচ্ছদ করতে আলাদা সুবিধা পাই। মজাও লাগে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৩২ ধারার বিরুদ্ধে জনমত ক্রমশ জোরালো হচ্ছে

বিতর্কিত আইসিটি আইন বিলুপ্ত করে প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারার বিরুদ্ধে জনমত ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারাও এই আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হচ্ছে এর তীব্র সমালোচনা। আইনটি জাতীয় সংসদে পাস করার আগে চূড়ান্ত খসড়াটির এই ধারাসহ বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি একটু ভেবেচিন্তে প্রণয়ন করা উচিত। কারণ, আইনটির চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদন পাওয়ার পর বিভিন্ন মহল যেভাবে এর বিরোধিতা করছে, সরকারের উচিত তা বিবেচনায় নেওয়া। বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা নিয়ে যেভাবে সোচ্চার, তাঁদের দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এর আগে মনে হয় কোনো আইনে গণমাধ্যমের জন্য এত বিরোধাত্মক বিধান ছিল না। সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে খসড়াটি চূড়ান্ত করেছে, সেটি এখনো আইনের রূপ পায়নি। এখনো সুযোগ আছে খসড়াটি সংশোধন করার।’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও একুশে টেলিভিশনের সিইও মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা প্রণয়নের সময় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এর বিরোধিতা করেছিলেন। সরকার বলেছিল, ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ হবে না। শেষ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হলো ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগের কথা, তার দ্বারা গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির কথা।’ তিনি বলেন, ‘এখন নতুন করে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করতে খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। সেই খসড়ার কোথাও সাংবাদিক বা গণমাধ্যম নিয়ে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু খসড়ার ৩২ ধারা নিয়ে শঙ্কার কথা বলছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সরকার বলছে, এটির আপপ্রয়োগ হবে না। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা প্রণয়নের সময়ও একই কথা বলা হয়েছিল। তাই গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্পাদক ও সাংবাদিকতা বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়াটি আরো উপযোগী করা। সাংবাদিকরা এটি নিয়ে যে শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তার সমাধান না করে সংসদে আইন আকারে পাস করা হলে এটির অপপ্রয়োগ হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা সাংবাদিকতার জন্য একটি উটকো ঝামেলা সৃষ্টি করবে। খসড়াটি সংশোধন না করে যদি আইন আকারে পাস হয়, তাহলে তা পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে কি না তা নিয়েও আলোচনা করা হবে।’

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ওই আইন বাতিল করার জন্য এবার যা করা হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা আরো সংকুচিত হবে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হবে এবং সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ আরো কঠিন হয়ে পড়বে।’ তিনি বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, ছবি তোলা, ভিডিও করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এখানে ‘বেআইনি’ শব্দটি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের তথ্য-সংগ্রহ এবং ফটো বা ভিডিও চিত্র ধারণ বন্ধ করাই মূল উদ্দেশ্য। এ ধরনের কাজকে গুপ্তচরবৃত্তি বা রাষ্ট্রদ্রোহ বলে তথ্য সংগ্রহের কাজটি আরো কঠিন করে তোলা হলো। এটি সাংবাদিকতার জন্য চরম হুমকি।”

চূড়ান্ত খসড়া সংশোধনের দাবি টিআইবির : প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৭’কে জনগণের বাক ও মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যায়িত করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ আইনের সব বিতর্কিত ধারা সংশোধন এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনের অভিমতের ভিত্তিতে পরিমার্জনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই আহ্বান জানান।

কড়া সমালোচনায় সিপিবি : অবৈধ, অন্যায় ও গণবিরোধী কাজ করে পার পাওয়ার অভিসন্ধি থেকে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো ‘কালো আইন’ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। গতকাল পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে সিপিবি কার্যালয়ে ‘গণবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রত্যাহার কর’ শিরোনামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারাকে ‘কালাকানুন’ আখ্যা দিয়ে সিপিবি সভাপতি বলেন, ওই আইনের কোথায় কোথায় সংশোধন করতে হবে সে বিষয়ে সুপারিশ ও পরামর্শগুলোর তোয়াক্কা না করে বিপরীতমুখী নতুন বিধান যুক্ত করে এবং বিচ্ছিন্ন ধারাগুলো এক জায়গায় করে আইন হচ্ছে। ‘কালাকানুন দূর হবে আশা করেছিলাম, কিন্তু সরকার কালো আইনের বদলে কুচকুচে কালো আইন জাতিকে উপহার দিচ্ছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শহিদের সাথে মঞ্চে উঠে বেকায়দায় মীরা

‘পদ্মাবত’ বিতর্কের মাঝেই এবার ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে হাজির হলেন শহিদ কাপুর। স্ত্রী মীরা রাজপুতকে নিয়ে ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে উপস্থিত হন শহিদ।

ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে ডিজাইনার অঙ্কিতা দোগরের পোশাক পরে স্বামী স্ত্রী দুজনই ছিলেন। মঞ্চে উঠে যখন দু’জনে পোজ দিতে শুরু করেন, তখন আচমকাই ওড়না জড়িয়ে যায় মীরার মাথায়। কোনওক্রমে সেই পরিস্থিতি সামলে নেন শহিদ কাপুর।

স্ত্রীর মাথা থেকে চটপট ওড়না সরিয়ে দেন তিনি। এরপর ফের দু’জনে মঞ্চের ওপর পোজ দিতে শুরু করেন। যদিও অঙ্কিতা দোগরের পোশাক পরে শাহিদ-মীরার হাজিরাকে ‘স্বপ্নের’র মত বলেই অনেকে মন্তব্য করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শহরে মাংস বিক্রির মাইকিং নিষিদ্ধ করেছে মাংস ব্যবসায়ী সমিতি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : যখন তখন মাংস বিক্রির মাইকিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন শহর মাংস ব্যবসায়ী সমিতি। গতকাল শহর মাংস সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ ওলিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে সকল সদস্যদের অবগতির জন্য জানিয়েছেন, মাংস বিক্রি সংক্রান্ত প্রচার মাইক যোগে করা শব্দ যন্ত্র ব্যবহার ও শব্দ দূষণ আইনের পরিপন্থি। যে কারণে মাইক যোগে মাংস বিক্রিয় সংক্রান্ত মাইকিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরায় মাইক যোগে মাংস বিক্রি সংক্রান্ত যত্রযত্র প্রচারের পূর্বে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় নিজ দায়িত্বে প্রচার করতে হবে। সেক্ষেত্রে অত্র সমিতির কোন দায়বদ্ধতা থাকবে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest