ইন্সপেক্টর নটি কে হাজির

আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্দায় আসছে যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’। ছবিটি নিয়ে প্রায় সবকিছু প্রস্তুত। একেবারে শেষ দিকে এসে প্রকাশিত হলো এর ট্রেলার।

এর মাধ্যমে দর্শক দেখতে পেল ছবির প্রধান দুই শিল্পী জিৎ ও নুসরাত ফারিয়ার চরিত্র দুটি। রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) ট্রেলারটি জাজ মাল্টিমিডিয়ার ইউটিউবে অবমুক্ত করা হয়েছে।
এখানে দেখা যায়, ফারিয়া বাঙালি বংশোদ্ভূত ইতালিয়ান পুলিশ। আর জিৎ কলকাতা থেকে ইতালিতে গিয়েছেন। তিনি নিজেকে সবসময় ‘বেঙ্গল পুলিশ’ দাবি করেন। যদিও জিৎ তা নন।
কলকাতার অভিনেতা জিৎ ও বাংলাদেশের নুসরাত ফারিয়া জুটির তৃতীয় ছবি ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’।
জিৎ-ফারিয়া জুটি বেঁধে এর আগে ‘বাদশা-দ্য ডন’ ও
‘বস টু’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। পর পর দুই ঈদে ছবি দুটি মুক্তি পেয়েছিল।

‘ইন্সপেক্টর নটি কে’ পরিচালনা করেছেন কলকাতার অশোক পাতি। যৌথভাবে প্রযোজনার এ ছবিটি নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া ও জিতের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জিৎ’স ফিল্মওয়ার্ক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস

চীন-রাশিয়াসহ দশটি দেশের বিরোধিতা উপেক্ষা করে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার প্রশ্নে উত্থাপিত একটি জাতিসংঘ-প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পৃথিবীর সবথেকে বিপন্ন ওই জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে উত্থাপিত প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ দূত নিয়োগেরও আহ্বান জানানো হয় অনুমোদিত প্রস্তাবে। রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এর পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ছয় লাখেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। রাখাইন সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। তবে এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’ও রোহিঙ্গাদের পক্ষে কোনও ইতিবাচক ভূমিকা নিতে সক্ষম হননি। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কিত হয়েছেন তিনি। হারিয়েছেন বহু সম্মাননা। এই নিধনযজ্ঞ বন্ধ করতে রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ত্রাণকর্মীদেরকে মিয়ানমারে কাজ করার সুযোগ দেওয়া, সকল শরণার্থীর ফেরা নিশ্চিত করা এবং রোহিঙ্গাদেরকে পূর্ণ নাগরিকত্বের অধিকার প্রদানের মতো বিষয়গুলোকে ওআইসির প্রস্তাবটিতে অন্তর্ভূক্ত হয়। এছাড়া মিয়ানমারে একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রতি আহ্বান জানানো হয় ওই প্রস্তাবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ দূতের নতুন নিয়োগের জন্য তহবিল প্রদানের ব্যাপারে বাজেট কমিটির কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই সাধারণ পরিষদ প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে। পরিষদের ১২২ টি সদস্য দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে। বিরোধিতা করেছে ১০ টি দেশ। আর ২৪টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। এদিকে মিয়ানমারের পাশাপাশি প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে চীন, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম, বেলারুশ, সিরিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

এদিকে মিয়ানমার সরকারের আপত্তিতে দেশটিতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়ানঘি লির আসন্ন সফর অনিশ্চিত হয়ে আছে। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিপীড়নসহ মিয়ানমারজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো তদন্ত করতে জানুয়ারিতে দেশটি সফর করার কথা ছিল তার। কিন্তু ২০ ডিসেম্বরমিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়,জাতিসংঘের এই তদন্তকারীকে আর কোনও সহযোগিতা দেওয়া হবে না। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে লী জানিয়েছেন,মিয়ানমার সরকার তাকে সফরের অনুমতি দেয়নি। তার সন্দেহ, রাখাইনে এমন ভয়াবহ কিছু ঘটছে যা আড়াল করতে তাকে সফরে বাধা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আদি জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় স্বীকার করে না মিয়ানমার। নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে পরিচিত করতে চায় ইয়াঙ্গুন। তাদেরকে পালিয়ে মিয়ানমারে যাওয়া বাংলাদেশি মুসলিম হিসেবে দেখাতে চায় দেশটি। নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শুধু নাগরিকত্বই কেড়ে নেওয়া হয়নি বরং পদ্ধতিগতভাবে তাদের মৌলিক অধিকারও ছিনতাই করা হয়েছে। মুক্তভাবে চলাফেরা, কাজকর্ম এমনকি বিয়ের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নাতি বিয়ে করবে দাদিকে আর দেবর ভাবিকে!

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোন্ড সম্প্রদায়ের মধ্যে এক রকম অদ্ভুত নিয়ম প্রচলিত আছে। তাদের মতে, সমাজে কোনো বিধবা থাকবে না। প্রয়োজনে নাতি বিয়ে করবে দাদিকে, দেবর ভাবিকে। এই জনজাতির বাস ভারতের মূলত মধ্যপ্রদেশের মান্ডলা জেলায়। তাদের প্রচলিত রীতি হল‚ একজন স্বামীহীনা হলে তার শ্বশুর বাড়িতে আর একজন যে অবিবাহিত পুরুষ আছে সে তাকে বিয়ে করবে। যদি দেখা যায়‚ নাতি ছাড়া কোনও পুরুষ অবিবাহিত নেই‚ তাহলে নাতির সঙ্গেই হবে দাদির বিয়ে।

ওই এলাকার পাতিরাম ওয়াড়খেড়। তার যখন ৬ বছর বয়স তখন মারা যান দাদা। এদিকে বাড়িতে আর কোনও অবিবাহিত পুরুষ নেই। তখন ৬ বছরের পাতিরামের সঙ্গে বিয়ে হল বৃদ্ধা দাদির। বলাই বাহুল্য, এখানে শারীরিক সম্পর্কের অবকাশ থাকে না।
কিন্তু দাদিকে বিয়ে করে নাতি হয়ে যায় পরিবারের কর্তা। এই বিয়েকে বলা হয় ‘নাতি পাতো‘। পাতো হল এক বিশেষ ডিজাইনের রুপার বালা। সেই বালা দাদিকে পরিয়ে দেয় নাতি। ব্যস দাদি হয়ে গেল তার স্ত্রী।
যৌবনে পৌঁছে পাতিরাম ফের বিয়ে করেছেন। গোন্ড সমাজ এই বিধানও দিয়েছে। যদি কোনও ছেলেকে অল্প বয়সে বিয়ে করতে হয়‚ তবে যৌবনে পৌঁছে সে আবার বিয়ে করতে পারবে। তবে যতদিন প্রথম বৌ থাকবে‚ দ্বিতীয় বৌ সংসারে থাকবে সতীন হিসেবে। যেমন ছিল পাতিরামের দ্বিতীয় বৌ। নিজের স্বামীর দাদিকে সতীন করে।

নাতি-দাদির বিয়েতে দৈহিক সম্পর্ক না থাকলেও তা গৌণ নয় দেবর-ভাবির বিয়েতে। যাকে বলে ‘দেবর পাতো’। যখন বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে ভাবির হাতে রুপার বালা বা পাতো পরিয়ে দেয় দেবর। যেমন দিয়েছিলেন সম্পত কুরওয়াড়ি। নিজের চেয়ে ১০ বছরের বড় ভাবির হাতে পরিয়ে দিয়েছিলেন ওই বালা। যতক্ষণ না তিনি সম্মত হচ্ছিলেন ততক্ষণ গ্রামের প্রধানরা যোগ দেননি সম্পতের বড় ভাইয়ের পারোলৌকিক ক্রিয়া কর্মে। কিন্তু যদি পরিবারে একান্তই না থাকে অবিবাহিত পুরুষ? অথবা যদি রাজি না হন বিধবা নিজে? তাহলেও আছে বিধান। তখন গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে ওই নারীকে দেওয়া হয় রুপার বালা। হলেন তিনি ‘পঞ্চ পাতো’। তবে থাকতে পারবেন একা‚ নিজের মতো‚ অথচ সধবা বিবাহিতা নারী হিসেবেই।

শুধু নিজেদের গ্রামে সীমাবদ্ধ নয়। গোন্ডরা এ রীতি পালন করেন যখন অন্যত্র প্রতিষ্ঠিত হন‚ তখনও। এমনকী‚ এরকম উদাহরণও আছে‚ ভোপালে ইঞ্জিনিয়ার‚ কিন্তু গোন্ড সমাজের রীতি মেনে পাতো প্রথা গ্রহণ করেছেন। এই তথ্য সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন সেই গোন্ড সমাজের প্রধান‚ যে আদি জনজাতি কোনও মেয়েকে দেখতে চায় না বৈধব্যের বেশে। নিজেদের অভিধানে রাখতে চায় না স্বামীহীনা কথাটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডক্টরেট ডিগ্রি পেলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

বছরের শেষটা ভালই যাচ্ছে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার। একের পর এক অ্যাওয়ার্ড যোগ করছেন নিজের ঝুলিতে। কিছুদিন আগেই মাদার তেরেসা স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। ইতিমধ্যে জি সিনে অ্যাওয়ার্ডসে পারফর্ম করেছেন। পাঁচ মিনিটের এ পারফরম্যান্সের জন্য নাকি ৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। এদিকে, চলতি বছর বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় রয়েছে প্রিয়াঙ্কার নাম।

আর এবার সাম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেলেন তিনি। তাকে এ ডিগ্রি দিয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত বেরেলি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

চলতি বছরের শুরুর দিকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ফের কলেজে ফিরে পছন্দের একটি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নিতে চান এ অভিনেত্রী। তার সে ইচ্ছে পূরণ হল এবার।

গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ডা. কেশব কুমারও তাকে সম্মাননা দেন। বর্তমানে ইউনিসেফের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রিয়াঙ্কা। এছাড়া বিভিন্ন জনহিতৈষী কাজের সঙ্গে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। লাখো নারীর অনুপ্রেরণা তিনি। এ জন্যই তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
টেক্সটাইল মিলে অগ্নিকাণ্ড; ৪০ জন জীবিত উদ্ধার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শ্যামপুরের লাকী টেক্সটাইল মিলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার ছাদে আটকা পড়াদের মধ্যে ৪০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ছয়তলা ওই ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে।
আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট কাজ করছে।

আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাজানা যায়নি।

জানা গেছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। আগুন লাগার পর কারখানায় থাকা অন্তত ৪০-৫০ জন ছাদে উঠে আটকা পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কন্ট্রোল রুমের ইন্সপেক্টর মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন ওই টেক্সটাইল মিলের ছাদে আটকা পড়ে আছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধারে কাজ করছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সীমান্তে ঢুকে পড়া ৩ বিএসএফ সদস্য আটক

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়া তিন বিএসএফ সদস্যকে আটক করেছে বিজিবি। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহীর সীমান্তের কাছে তাদেরকে আটক করা হয়।

এ নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিজিবির ১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শামীম উদ্দীন। তিনি জানান, বিএসএফ’র তিন সদস্য কুয়াশার মধ্যে ভুল করে বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে ঢুকে পড়ে ঘোরাফেরা করতে থাকেন। পরে তাদেরকে আটক করে বিজিবি। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

চর মাঝার দিয়াড় এলাকার ওই স্থানে সীমানা পিলার না থাকায় ভুল করে বিএসএফের তিন সদস্য বাংলাদেশে ঢুকে পড়েন বলেও জানান বিজিবির ওই কর্মকর্তা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ শুভ বড়দিন

আজ শুভ বড়দিন

কর্তৃক Daily Satkhira

আজ ২৫ ডিসেম্বর। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন। এই দিনে খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, সৃষ্টি-কর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে প্রভু যিশুর এই ধরায় আগমন ঘটেছিল।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের খ্রিস্টধর্মানুসারীরাও যথাযথ ধর্মীয় আচার, আনন্দ-উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবেন।

আজ সরকারি ছুটির দিন। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। আবহমানকাল ধরে এ দেশে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। বিদ্যমান সম্প্রীতির এই সুমহান ঐতিহ্যকে আরো সুদৃঢ় করতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী এ পুণ্যদিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে ঔদার্য এবং মানবতার মহান ব্রতে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণ ও উন্নয়নে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, বড়দিন দেশের খ্রিস্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যকার বিরাজমান সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিকে আরো সুদৃঢ় করবে।

বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক স্বপন রোজারিও বাসসকে জানিয়েছেন, সকাল থেকে বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে ।

দিনটি উপলক্ষে অনেক খ্রিস্টান পরিবারে কেক তৈরি হবে, থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন। দেশের অনেক অঞ্চলে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের আসর বসবে। রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জায় বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। গির্জা ও এর আশপাশে রঙিন বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রচুর জরি লাগিয়ে গির্জার ভেতর সুসজ্জিত করা হয়েছে। ভেতরে সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি।

বড় দিন উপলক্ষে গির্জার মূল ফটকের বাইরে বসে মেলা। মেলার দোকানগুলোতে বড়দিন ও ইংরেজি নতুন বছরের কার্ড, নানা রঙের মোমবাতি, সান্তা ক্লজের টুপি, জপমালা, ক্রিসমাস ট্রি, যিশু-মরিয়ম-যোসেফের মূর্তিসহ নানা জিনিস বিক্রি হতে দেখা যায়।

বড়দিন উপলক্ষে বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও এবং মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া আজ এক যুক্ত বিবৃতিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজনকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বড় দিন ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের জন্য আনন্দ বার্তা বয়ে আসুক এই কামনা করেছেন নেতৃদ্বয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি; সর্বভুক এক ইউএনও !

অনলাইন ডেস্ক: কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় একটি করে খাসি জবাই করা হয়। এ দিয়ে ওই দিনের ভোজ সারেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবাদত হোসেন। খাসি একেক মাসে একেক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বাধ্যতামূলকভাবে সরবরাহ করেন। এক বছর ধরে এটা চলছে।

সম্প্রতি দুস্থদের জন্য রবাদ্দ ত্রাণের টিন দিয়ে উপজেলা পরিষদ মসজিদের মার্কেট নির্মাণ করেছেন ইউএনও। শুধু টিন না, এই মার্কেটের ইট থেকে শুরু করে অন্য নির্মাণসামগ্রী তিনি বিভিন্নজনের কাছ থেকে নিয়েছেন। দাতাদের মধ্যে রয়েছে ভাটা মালিক, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও বিভিন্ন প্রকল্পের কমিটি (পিআইসি)। সাহায্য নিয়ে মার্কেটটি নির্মাণ করলেও এখন এর সব খরচ মার্কেটের বরাদ্দপ্রাপ্ত দোকান মালিকদের কাছ থেকে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। ইউএনও ওই মসজিদ কমিটির সভাপতিও। সাধারণ সম্পাদকসহ মসজিদ কমিটির কোনো সদস্য মার্কেট নির্মাণ সম্পর্কে কিছু জানেন না। মার্কেট নির্মাণের আগে-পরে এ নিয়ে কমিটির কোনো সভা-রেগুলেশন হয়নি।

উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য গরু, ছাগল ও সেলাইমেশিন কেনার অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউএনও ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে রোগা ও কম দামের গরু-ছাগল কিনে আনেন। বিতরণ করতে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ক্ষুব্ধ হয়ে এসব ফেরত দিয়ে ভালো গরু-ছাগল কিনতে বলে চলে যান।

এদিকে এক ইউপি চেয়ারম্যানের টাকায় সরকারি অফিসে তাপানুকূল যন্ত্র (এসি) লাগিয়েছেন ইউএনও। যদিও তাঁর অফিসে চারটি সিলিং ফ্যান রয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তিনি প্রচার চালান বেতনের টাকায় এসি লাগিয়েছেন। উপজেলা পরিষদের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো ইউএনও এসি ব্যবহার করতে পারেন না। তাঁর বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, সম্প্রতি মোনহরদিয়া ইউনিয়নের একটি সড়ক থেকে কোটি টাকা মূল্যের ৪৬টি বড় গাছ কেটে আত্মসাৎ করেন। ২৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এই গাছ রোপণ করেছিল। এ নিয়ে এলজিইডি থানায় অভিযোগ দেয়। ইউএনওর চাপে থানা সেই মামলা নথিভুক্ত করেনি।

ভুক্তভোগীরা জানায়, ইউএনও ইবাদত হোসেন প্রায় প্রতি বৃহস্পতিবারই গোপনে সরকারি গাড়ি নিয়ে তাঁর নিজ বাড়ি নড়াইলের লোহাগাড়া উপজেলার লাহড়িয়া গ্রামে যান। সম্প্রতি সেখান থেকে ফেরার পথে এক শুক্রবার দুপুরে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সীমান্তে মারাত্মক দুর্ঘটনায় তাঁর সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বিষয়টি বেমালুম চেপে গিয়ে জেলা প্রশাসনকে জানান, সরকারি কাজে গিয়েছিলেন।

এখানেই শেষ নয়। ভিক্ষুক পুনর্বাসনের নামে সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া টাকা খরচের ব্যাপারে এ কর্মকর্তার স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এ ছাড়া টিআর, কাবিখা, সোলার স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ইউএনওর অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, ইউএনও প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা হয়েও তাঁর অফিসে সরকারবিরোধীদের নিয়ে নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ নিয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর এক চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর তর্ক হয়।

সম্প্রতি সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের সামনে থেকে কিছু মাটি কেটে রাস্তায় দেয় শ্রমিকরা। এ ঘটনার পর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও স্থানীয় এক মেম্বারকে অফিসে ডেকে এনে তাঁকে লোকজনের সামনে গালাগাল করে মারতে উদ্যত হন ইউএনও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মেম্বার বলেন, ‘একটা ঘটনা নিয়ে ইউএনও আমাকে বকাঝকা করেছিলেন। মুখ বুজে সব সহ্য করেছি। ’

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা তাঁর অফিসে শৌচাগার নেই বলে তাঁকে জানাতে গেলে তিনি ওই কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। নারী কর্মকর্তা কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন। সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা এক কৃষককে সার্টিফিকেট মামলায় জেলে পাঠান ইউএনও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইউএনওর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ইউএনও সবার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে অনেকে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, বিভিন্ন সময় ইউএনও প্রধানমন্ত্রীর এক বিশেষ সহকারীর আত্মীয় ও আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার পরিচয় দিয়ে দাপট দেখান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুষ্টিয়ার এক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ইউএনও যেভাবে অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেন তাতে সবাই হতবাক। তিনি উপজেলার সব দপ্তরের লোকজনকে সব সময় গালমন্দ করেন। এতে সবাই তাঁর ওপর বিরক্ত। তবে মুখ খুলে কেউ কিছু বলতে সাহস করে না। তিনি জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও সম্মান করেন না। তাঁকে নিয়ে আমরা সবাই খুবই বিব্রত। ’ ইউএনও ইবাদত হোসেনের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর কার্যালয়ে গেলে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। একপর্যায়ে তিনি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান হাবিব বলেন, ‘ইউএনওর বিরুদ্ধে যদি এ ধরনের অভিযোগ আমাদের নজরে আসে, তাহলে তদন্ত করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব। ’
সূত্র: কালের কণ্ঠ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest