সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরা‌র গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে‌ পিআইবির দুই দিনের নির্বাচনকালীন প্রশিক্ষণসাতক্ষীরায় -৭নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৮ দফার বার্তাসাতক্ষীরা জেলা রোভার স্কাউটসের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতাসাতক্ষীরায় তারেক রহমানের ৮ দফার লিফলেট ছড়িয়ে দিল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’সাতক্ষীরায় রাইচ মিলের কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে অতীষ্ট এলাকাবাসী: ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সড়ক অবরোধপ্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদসাতক্ষীরায় মাদক এবং মাদক বিক্রির অবৈধ টাকাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারতালায় বাস মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিতআশাশুনিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলার তদন্তে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার

নলতায় খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ৫ বছরের শিশুকে বিকৃত যৌন নিপীড়ন

নিজস্ব প্রতিনিধি : খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ব্রাক স্কুলের ৫ বছরের এক শিশু ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেছে আবুল হোসেন নামের এক নরপশু। শিশুটির বুকে কামড় দিয়ে ক্ষত বিক্ষত করেছে সে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা কলেজ মোড়ে এক সাইকেল মিস্ত্রির দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ জনতা মঙ্গলবার সন্ধা ৬ টার দিকে জনতা ঐ সাইকেল মিস্ত্রী ও তার ছেলেকে পিটিয়ে জখম করেছে। এসময় আবুল হোসেন ও তার ছেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে নলতা হাসপাতালে যায়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হাসপাতালের প্রাচির টপকিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
সরেজমিনে জানা যায়, পূর্ব নলতা গ্রামের মৃত সেলিমের শিশু মেয়ে দাদার কাছে থেকে নলতা ব্রাক স্কুলে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণীতে পড়াশুনা করে। নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজ মোড়ের সাইকেল মিস্ত্রী সোনাটিকারী গ্রামের মৃত আদর আলী গাজীর ছেলে আবুল হোসেন (৫৫) স্কুলে যাওয়া ও আসার পথে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে দোকানে বসায়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তার ভাইঝি দাদার চায়ের স্টলে যাওয়ার সময় সাইকেল মিস্ত্রী আবুল হোসেন তাকে দোকানের মধ্যে নিয়ে খাবার দিয়ে তার দু’ বুকে(স্তনে) কামড় দিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে এবং কাউকে বিষয়টি না বলার জন্য হুমকি দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে ক্ষত স্থানে ব্যাথা শুরু হতে থাকলে শিশুটি তার মাকে বিষয়টি খুলে বলে। বিষয়টি তার মা স্থানীয়দের জানালে ক্ষুব্ধ জনতা আবুল হোসেনকে উত্তম-মধ্যম দেয়। এসময় বাধা দেওয়ায় ছেলে আলমগীর হোসেনকেও (২৫) পিটিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা । পরে তারা নলতা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। তবে বিষয়টি অভিযুক্ত আবুল হোসেন অস্বীকার করেছে।
এদিকে কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুধাংশু হালদার, উপপরিদর্শক হেকমত আলী ও এমদাদুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। এবং অভিযুক্তদের আটকের উদ্দেশ্যে নলতা হাসপাতালে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই আবুল হোসেন ও তার ছেলে পালিয়ে যায়। তবে আবুল হোসেনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানা যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটার জোয়ার গুচ্ছগ্রাম প্রাইমারিতে শ্রেণিকক্ষ সংকটে পাঠদান ব্যাহত

কেএম রেজাউল করিম : দেবহাটার গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকট হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পারুলিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ভূমিহীদের মাঝে শিক্ষার আলো আলোকিত করতে ১৯৯৫ইং সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা ৫ জন, ছাত্র/ছাত্রী সংখ্যা ১৭৮জন। কয়েক বছর আগে পাঁকা পুরাতন জরাজীর্ণ একটি ভবন দেখা যায়। ভবনের পাঁকা অংশে বিভিন্ন স্থান ধ্বসে পড়ে শিক্ষার্থীদের মারাত্বক ক্ষতি হতে পারে এমন অবস্থায় ২০০৬ইং সালে ভূমিহীন পল্লীর জনসাধারণের জন্য নির্মিত আশ্রায়কেন্দ্রে শুরু হয় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। সেই রুমে কোন রকম ভাবে শুরু হওয়া পাঠদান বর্তমানে নানা সংকটের মুখে পড়েছে। কেননা প্রতিটা বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ শুধুমাত্র শিশু শ্রেণির জন্য বরাদ্ধ। যেখানে শিক্ষা উপকরণ রাখা হয়েছে ৪টির ১টিতে, একটি রুম অফিস কক্ষ হিসাবে, অপর দুটি কক্ষে পাঠদান করা হলেও সংকট থেকে যায় আরও রুমের। এতে করে খোলা পরিবেশে ক্লাস করানো হচ্ছে। আর তাতে শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে নেই ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আধুনিক মানসম্মত কমন রুম, নেই সীমানা প্রাচীর, ওয়াশ রুম, নেই ভালো টয়লেট। ঝড়-বৃষ্টি হলে শিক্ষকসহ ছাত্র/ছাত্রী এবং বই পুস্তক বৃষ্টি পানিতে ভিজে যায়। রৌদের সময় ধুলাবালিতে ভরে যায়।
তবে ১৯৯৫ সালের এই বিদ্যালয় ভবনটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে আছে বহুদিন। বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো বার বার প্রশাসনকে জানানো হলেও তেমন কোন ফল পাওয়া যায়নি। ফল না পেয়ে স্থানীয় ভূমিহীন ছিন্নমূলের মানুষের সহযোগীতায় পরিত্যাক্ত ভবনে ঝুঁকির মধ্যে পাঠদান করা হলেও সেটি এখন পুরোপুরি বন্ধ। সেই সাথে বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। নেই আধুনিক পাঠদানের উপকরণ ব্যবস্থা। নেই পর্যাপ্ত আধুনিক বেঞ্চ-টেবিল। নেই সীমানা প্রাচীর। বিদ্যালয়টিতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করতে আসে। আর এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। যেখানে বর্তমান সরকার শিক্ষার বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণভাবে দেখলেও এই বিদ্যালয়টি অবহেলায় পড়ে আছে।
অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবর রহমানের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি বিদ্যালয়টির শুরু থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ভবনের আবেদন করেও কোন সাড়া পাচ্ছি না। যদি আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টির দিকে সু-দৃষ্টি দেয় তাহলে আমরা খুবই উপকৃত হব।
এ ব্যপারে অত্র বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোকারম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নতুন করে কমিটিতে এসেছি। শিক্ষকদের থেকে জানতে পারলাম বিভিন্ন দপ্তরে ভবনের জন্য আবেদন করে এখনো কোন সুফল পাওয়া যায়নি। আমি আসার পর থেকে নিজ অর্থায়নে এবং পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে বিদ্যালয়ের পরিবেশকে শিক্ষাবান্ধব করে তুলছি। সরকারি ভাবে একটা নতুন ভবন তৈরি করে দিলে আমাদের এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা নির্বিঘিœ পড়ালেখা করতে পারবে। তাছাড়া আগের অকেজো ভবনটি প্রতিনিয়ত ভেঙে পড়ছে যাতে দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই অকেজো ভবনটি ভেঙ্গে স্থানটিতে নতুন ভবন তৈরি করতে কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করছি।
অনতি বিলম্ভে পাঁকা নতুন ভবন নির্মাণ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দাবি করেন শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মহল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় সুইড খাতিমুন্নেসা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভা

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : সাতক্ষীরায় সুইড খাতিমুন্নেসা হানিফ লস্কর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে সুইড খাতিমুন্নেসা হানিফ লস্কর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেবাশিস সরদার, জেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম, সুইড খাতিমুন্নেসা হানিফ লস্কর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য বিশিষ্ট সমাজ সেবক ডা. আবুল কালাম বাবলা ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা তুলসী কুমার পাল প্রমুখ। সভায় সুইড খাতিমুন্নেসা হানিফ লস্কর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পোশাক ক্রয় এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় সুইড খাতিমুন্নেসা হানিফ লস্কর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুইড খাতিমুন্নেসা হানিফ লস্কর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে বিএনপি

এম বেলাল হোসাইন : “বিপ্লবের এই দিনে, জিয়া তোমায় পড়ে মনে” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকালে শহরের আমতলা মোড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আমতলামোড়স্থ নিরিবিলি কমিউনিটি সেন্টারে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি রহমততুল্লাহ পলাশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীন, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শেখ তারিকুল হাসান, বিএনপি নেতা রফিকুল আলম বাবু, হাবিবুর রহমান হবি, আবুল হাসান হাদী, অধ্যাপক শের আলী, অধ্যাপক নরুমোহাম্মদ পাড়, আইনুল ইসলাম নান্টা, মাসুম বিল্লাহ শাহিন, এড. এবিএম সেলিম প্রমুখ
আলোচনা সভায় বক্তরা বলেন, “১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর ছিল আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশ প্রেমিক সৈনিক ও জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের দিন। তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যুহ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব খর্ব করার এক হীন চক্রান্ত। সাধারণ সৈনিকরা বিপ্লবের প্রথম ধাপেই জেল থেকে মুক্ত করে আনেন তাদের প্রিয় অধিনায়ক সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানকে। তিনি সেনা বিদ্রোহকে প্রশমিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সৈনিকরা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসেন রাস্তায়। তিন দিনের গুমোট পরিবেশ মুহূর্তেই পরিবর্তিত হয়ে যায়।
সেনাবাহিনীর ট্যাংকের নলে মালা পরিয়ে দেয় উৎফুল্ল জনতা। ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় উঠে বাংলাদেশের আকাশ-বাতাস। রাজধানী ঢাকার রাজপথে জনতার গগন বিদারি শ্লোগানের সঙ্গে ট্যাঙ্কের গর্জন মিলে সৃষ্টি করে এক অভূতপূর্ব আবহ। সে আবহ আবারও পুনরায় জানান দেয়, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”
আলোচনা সভা শেষে দিবসটি উপলক্ষ্যে বিএনপি নেতৃবৃন্দ সেখানে একটি কেক কাটেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত করে সরকারের ইমেজ নষ্টকারীদের কোন ছাড় দেওয়া হবেনা-এমপি রবি

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সদর হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে সদর হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, সদর হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কমিটির সভায় প্রতিটি সভায় যে সব আলোচ্য সূচী নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা আজ অবধি বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং একই আলোচ্য সুচি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা পুরোদমে ভেঙ্গে পড়েছে। সাতক্ষীরার বিভিন্ন মানুষ আমার কাছে অভিযোগ করেছে। হাসপাতাল চত্বরে নোংড়া ও দূর্গন্ধে হাসপাতালের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সদর হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ে ঘাপলা ও দুর্নীতি এবং সেই সাথে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ থেকে যে অর্থ আদায় হচ্ছে তাও দূর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হচ্ছে। ডাক্তাররা ঠিকমতো হাসপাতালে থাকেনা। তারা প্রাইভেট ক্লিনিক নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে গরীব অসহায় রোগীদের হয়রানী করছে। সদর হাসপাতালের রোগী ভাগিয়ে অন্যত্র প্রইভেট ক্লিনিকে নেওয়ার অভিযোগ করেছে অনেকে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সরকারি বেতন নেবেন অথচ তাদের সেবা দেবেননা তা হবেনা। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সেবার নামে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত করে সরকারের ইমেজ নষ্টকারীদের ছাড় দেওয়া হবেনা।’ এসময় আর বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন পিপিএম, খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. রওশন আনোয়ার, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. তাওহীদুর রহমান, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান, ডা. মোখলেছুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক বিশ^াস, জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেবাশিস সরদার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফরহাদ জামিল, পৌর কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ দৌলা সাগর, ফারহা দিবা খান সাথী, সদর হাসপাতালের প্রকৌশলী আমিনুর রহমান ও কামরুল ইসলাম প্রমুখ। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আলোচ্য সূচির মধ্যে ছিল জনবল সম্পর্কিত আলোচনা, সদর হাসপাতালের সামনে থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, হাসপাতাল প্রধান ফটকের সংস্কার, হাসপাতাল প্রধান ফটকের পাশে আলাদা গার্ড রুম স্থাপন, ডাইরিয়া ওয়ার্ডের পাশে আলাদা একটি রুম স্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয় মুক্তিযোদ্ধা ও বয়স্ক ও প্রবীণ মানুষদের জন্য হেলথ কার্ডের ব্যবস্থা এবং সদর হাসপাতালকে দালাল মুক্ত করতে ও হাসপাতাল এলাকায় অপরাধ দমনে একজন এস আইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সকল প্রকার রোগীর চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। এসময় সদর হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রজেক্টরের মাধ্যমে সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিভিল সার্জন অফিসের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফুজ্জামান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৫

দেবহাটা থেকে বিজয় ঘোষ : দেবহাটা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ৫ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। থানা সুত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে দেবহাটা থানার এস আই মাজরিয়া হোসাইন তার সঙ্গীয় ফোস নিয়ে জি আর সাতঃ ৭৩/১৬ মামলার আসামি কুলিয়া ইউনিয়নের বহেরা গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর পুত্র জামাল উদ্দিন, জি আর দেবঃ ৭/১০ মামলার আসামি নওয়াপাড় ইউনিয়নের কালাবাড়িয়া গ্রামের মৃত মাদার মোল্লার পুত্র আব্দুল খালেক, দেবঃ ৭/১০ ও টি আর ২১৯/১৭ মামলার আসামি একই গ্রামের মৃত ফজর আলীর পুত্র সফিবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে। অপর অভিযানে এ এস আই আল-আমিন ও শামিম উপজেলার পাঁচপোতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেবঃ জি আর ১০৪/১৪ মামলার আসামি পাঁচপোতা গ্রামের রউফ গাজীর পুত্র মধু গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া এ এস আই আবুল কালাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দেবঃ জি আর ১১৪/০৭ ও টি আর ৩০৪ মামলার আসামি নিয়ামদ্দীনের পুত্র শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কুলিয়ার চেয়ারম্যান ইমাদুল থাকে বিদেশে, পরিষদ চালায় ভারতীয় নাগরিক!

নিজস্ব প্রতিবেদক : “সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান হিসাবে পরিচালনা করছেন একজন ভারতীয় নাগরিক। অপরদিকে ইউপি চেয়ারম্যান ইমাদুল ইসলাম দিনের পর দিন কুয়েতে অননুমোদিতভাবে বসবাস করছেন। তার অনুপস্থিতিতে তার ভাই ইউপি সদস্য আসাদুল ইসলাম ও প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ সরকার দুইজনে পরিষদে নানা জালজালিয়াতিও করছেন।”
মঙ্গলবার কুলিয়া ইউনিয়নের জনগণের পক্ষে সাতক্ষীরায় এক সংবাদ সম্মেলন করে লিখিতভাবে এসকল অভিযোগ করেন, একই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন।
এ সময় পরিষদের সাবেক সদস্য আবদুল গফফার, বর্তমান সদস্য রবিউল ইসলাম এবং গ্রামবাসী আবদুল হামিদ, শফিকুল ইসলাম, আবদার হোসেন, আবুল কাসেম, রমজান আলি, আবদুর রহিম, কৌশিক সরকার, মোমিন খাঁ, ক্ষিতীশ সরকার, গোষ্ঠ দাস, মুজিবর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান ভারতীয় নাগরিক বিকাশ সরকার একজন ফেনসিডিল চোরাচালান মামলার আসামি। বাংলাদেশে তার কোনো ভিটেমাটি নেইÑ জানিয়ে তিনি বলেন তিনি একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। সত্য গোপন করে তিনি ইউপি সদস্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি- বিকাশের ভারতীয় নাম দেবাশীষ সরকার। বাবার নাম নির্মল চন্দ্র সরকার, মা ভগবতী সরকার। পশ্চিমবাংলার বাদুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তারা। তাদের বাড়ি নং ০১৮৭, সেখানে বিকাশ ওরফে দেবাশীষের ভোটার নম্বর ৯৮৩। সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ এবং চেয়ারম্যান ইমাদুল ইসলামের অপসারণ দাবি করেন তারা।
তবে প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ সরকার এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমি জন্মগতভাবে বাংলাদেশের নাগরিক। আমার সাত পুরুষের বসবাস এখানে। আমি এখানকার একজন নির্বাচিত সদস্য। কে কিভাবে আমাকে ভারতীয় নাগরিক বানালো তা আমার জানবার বিষয় নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান ইমাদুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত সপরিবারে কুয়েত প্রবাসী। এতে পরিষদ যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হবার পর তিনি ২৪ মে মিটিং করে ইউপি সদস্য বিকাশ সরকারকে প্যানেল চেয়ারম্যান করেন। এরপর তিনি কুয়েত যান এবং সেখানে সফটরক নামের একটি নিজস্ব গার্মেন্টস ব্যবসা পরিচালনা করেন। চেয়ারম্যান ইমাদুল নিজ গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার না করে ঢাকার উত্তরার ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান এভাবে সত্য গোপন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ হোসেন বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইন অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যান ও মেম্বর বছরে ৯০ দিনের বেশি ছুটি নিতে পারেন না। অথচ চেয়ারম্যান ইমাদুল ইসলাম ২০১৬ সালে তিন দফায় ১১১ দিন ছুটি নিয়েছেন। তিনি পরপর ৩বার মাসিক মিটিংয়ে থাকেননি। এমনকি উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে বছরে একবারের বেশি থাকেন নি। এসবই আইনের লংঘন বলে উল্লেখ করেন তিনি। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে পরিষদের সামাজিক ও আইনশৃংখলা বিষয়ক ক্ষতি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সুযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ ও চেয়ারম্যানের ভাই আসাদুল ইসলাম তার স্বাক্ষর জাল করছেন। এমন কি ভুয়া রেজুলেশনও করছেন। তারা ভুয়া প্রকল্পও পাঠাচ্ছেন।”
এদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালনকারী ইউপি সদস্য বিকাশ সরকার বলেন, চেয়ারম্যান বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি নিয়ে দেশের বাইরে গেছেন। নিয়মিত ছুটিও নিয়েছেন তিনি। জালজালিয়াতির অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান ও তার বিরুদ্ধে একটি মহল মিথ্যা প্রচার দিচ্ছে’। জানতে চাইলে চেয়ারম্যান ভ্রাতা ইউপি সদস্য আসাদুল ইসলাম বলেন, তার ভাই সরকারের অনুমতি নিয়ে স্টেশন ত্যাগ করেছেন। তিনি এখন কুয়েতে নন ঢাকাতে আছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার এই বক্তব্য খন্ডন করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “ইমাদুল ইসলামের পাসপোর্ট পরীক্ষা করলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। ইমাদুল ইসলাম বছরের ১০ মাস থাকেন কুয়েতে।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জয়ের খাতা খুলল কুমিল্লা

এবারের বিপিএলে প্রথম জয় পেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। চট্টগ্রাম ভাইকিংসকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে মোহাম্মদ নবীর দল। প্রথমে ব্যাটিং করে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান করেছিল চট্টগ্রাম। জবাবে মাত্র দুই উইকেট হারিয়েই জয় নিশ্চিত করে কুমিল্লা।

১৪৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৪ ওভারেই ৪০ রান তুলে নেয় কুমিল্লা। ১৪ বলে ২৩ রান করে লিটন দাস আউট হলেও জস বাটলার অন্যপ্রান্তে ছিলেন অবিচল। দ্বিতীয় উইকেট জুাটতে ইমরুল কায়েসকে নিয়ে ৫৭ রান যোগ করেন এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। ৪২ বলে দুটি চার ও তিন ছয়ে ৪৮ রান করে আউট হন বাটলার। এরপর মারলন স্যামুয়েলসের ১৮ বলে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন নবীরা। ৩১ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন ইমরুল। ভাইকিংসদের হয়ে দুটি উইকেটই নেন শুভাশীষ রায়।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ১১ ওভারে মাত্র ২ উইকেটে হারিয়ে ৯৭ তুলেছিল চট্টগ্রাম। সে হিসাবে অনায়াসে ১৬০-১৭০ রান পার করে যাওয়ার কথা ছিল দলটির। তবে শেষ ৯ ওভারে মাত্র ৪৬ রানই নিতে পারেন মিসবাহ উল হক-সৌম্য সরকাররা। ফলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সংগ্রহটা ভালো করতে পারেনি চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানেই শেষ হয়েছে এনামুল-সৌম্যদের ইনিংস।

মূলত মিডলঅর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার কারণেই সংগ্রহটা বাড়েনি ভাইকিংসদের। লুক রনকি-সৌম্য সরকার ও দিলশান মুনাবিরা দারুণ সূচনা করে দিয়েছিলেন চট্টগ্রামকে। একটা সময় ১৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১০৬ রান ছিল দলটির স্কোরবোর্ডে। মুনাবিরা ও সৌম্য ফিরতেই রান নেওয়ার জন্য গলদঘর্ম হতে হয়েছে মিডলঅর্ডারের ব্যাটসম্যানদের। এনামুল হক বিজয়, মিসবাহ উল হক, লুইস রিস, সিকান্দার রাজারা কিছুই করতে পারেননি।

২১ বলে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন লুক রনকি। এ ছাড়া সৌম্য ৩৮ ও মুনাবিরা করেন ২১ রান। সাইফুদ্দিন চার ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে নেন তিনটি উইকেট।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আল আমিন হোসেন, আরাফাত সানি, অলক কাপালি, মারলন স্যামুয়েলস, ডোয়াইন ব্রাভো, জস বাটলার, মোহাম্মদ নবি ও রশীদ খান।

চিটাগং ভাইকিংস : সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, এনামুল হক, শুভাশীষ রায়, সানজামুল ইসলাম, লুক রনকি, মিসবাহ উল হক, সিকান্দার রাজা, দিলশান মুনাবিরা, সোহরাওয়ার্দী শুভ ও লুইস রিস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest