সর্বশেষ সংবাদ-
জেলা ক্রিকেট আম্পায়ার্স এন্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশনের ত্রি-বার্ষিকী নির্বাচনসাতক্ষীরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক চোরাচালানের হোতাসহ তিনজন গ্রেফতারScopri le ultime promozioni su wyns casino e inizia a vincere oggiAlles Wat Je Moet Weten Over Getlucky Casino Nederland Uitbetalingenনাসিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বিলুপ্তির প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভদৈনিক আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকার ৯ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা  দেবহাটায় জাতীয় প্রাণি সম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণি সম্পদ প্রদর্শনীর উদ্বোধনসাতক্ষীরায় জাতীয় দৈনিক রুপালী বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনসাতক্ষীরার মিঠু খানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করল বিএনপিকালিগঞ্জে পুকুরের পানিতে দুই শিশুর মৃত্যু

ফিফার সর্বকালের সেরা দলে জায়গা হয়নি মেসির

অনলাইন ডেস্ক : গেমারদের জগতে ফিফার আবেদন আকাশচুম্বী। নব্বইয়ের দশক থেকে ফুটবলপ্রেমীদের তাঁদের প্রিয় তারকা নিয়ে খেলার সুযোগ করে দিচ্ছে এ ভিডিও গেম। এরই মাঝে বাজারে এসে গেছে গেমটির নতুন সংস্করণ ফিফা-১৮। নতুন সংস্করণে সবচেয়ে বেশি রেটিং পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৯৪ পয়েন্ট পাওয়া রোনালদোর চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে লিওনেল মেসি। কিন্তু গেমটির সব সংস্করণ মিলিয়ে যদি কোনো একাদশ করা হয়, তাহলে এ দুজন কি জায়গা পাবেন?

ফিফার রেটিংয়ে সেরা দল। ফাইল ছবিউত্তর হচ্ছে, না! ক্যারিয়ার সেরা বর্তমান রেটিংয়ে রোনালদো জায়গা পেলেও ডান উইংয়ে জায়গা হয়নি মেসির। সে জায়গা নিয়ে নিয়েছেন রোনালদোর স্বদেশি লুইস ফিগো। মেসি ছাড়া ফিফার সেরা একাদশের বাদবাকি নামগুলো অবশ্য চাইলেই ধারণা করে নিতে পারবেন। কারণ, নিজ নিজ সময়ে নিজেদের পজিশনে সেরা খেলোয়াড়ের জায়গাই হয়েছে এ দলে।

গোলরক্ষক: জিয়ানলুইজি বুফন
ফিফার মাঝের বেশ অনেক সংস্করণে সেরা রেটিং নিয়ে শীর্ষে ছিলেন ইকার ক্যাসিয়াস। তার আগে অলিভার কান কিংবা ফ্যাবিয়েন বার্থেজও এ মুকুট পরেছেন। কিন্তু ফিফা-০৫ সংস্করণে বুফনের ৯৭ রেটিংয়ের ধারেকাছে যেতে পারেননি কোনো গোলরক্ষক।

রাইটব্যাক: লিলিয়ান থুরাম
রাইটব্যাক পজিশনে স্মরণকালে অনেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। দানি আলভেজ কিংবা ক্যারিয়ারের শুরুতে সার্জিও রামোস। কিন্তু এঁরা কেউই থুরামকে টপকাতে পারেননি। ফিফা-০৫ সংস্করণে ৯২ রেটিং ছিল ফরাসি এই ডিফেন্ডারের।

সেন্টার ব্যাক: ফার্নান্দো হিয়েরো ও আলেসান্দ্রে নেস্তা
রামোস কিংবা ম্যাট হামেলস নন, ডিফেন্সের জায়গা কেড়ে নিয়েছেন সাবেক স্পেন ও রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক হিয়েরো। ফিফা-০২ সংস্করণে স্প্যানিশ অধিনায়কের রেটিং ছিল ৯৪। রক্ষণে তাঁর সঙ্গী এসি মিলানের বিখ্যাত সে ডিফেন্সের সদস্য নেস্তা। তাঁকে ৯৪ পয়েন্ট দেওয়া হয়েছিল ফিফা-০৫ সংস্করণে।

লেফট ব্যাক: রবার্তো কার্লোস
এ পজিশনে যে তিনিই থাকবেন এটা সবারই জানা। শুধু ফিফা গেম কেন, বাস্তবেও সর্বকালের সেরাদের একজন কার্লোস। ফিফা-০৫ সংস্করণের ৯৪ পয়েন্টে অনুমিতভাবেই আছেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুলব্যাক।

মিডফিল্ড: জিনেদিন জিদান, লুইস ফিগো, রোনালদিনহো, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
মধ্যভাগের দায়িত্ব রিয়ালের তারকাপুঞ্জের কাঁধে। আর তাঁদের সঙ্গী বার্সেলোনার রোনালদিনহো। ফিফা-০২ সংস্করণে ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় ফিগোকে ৯৭ পয়েন্ট দেওয়া হয়েছিল। আর জিদান দলে থাকছেন ৯৬ পয়েন্ট নিয়ে (ফিফা-০৫)। মধ্য মাঠে জিদানের সঙ্গী অবধারিতভাবেই রোনালদিনহো, ফিফার ২০০৬ সংস্করণে ৯৫ পয়েন্ট ছিল সময়ের সেরা খেলোয়াড়ের। আর ফিফা-১৮ তে ৯৪ পয়েন্ট পেয়ে লেফট উইংয়ে থাকবেন রোনালদো।

স্ট্রাইকার: রোনালদো, থিয়েরি অরি
‘দ্য ফেনোমেনন’ ফিফার ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেটিংধারী খেলোয়াড়। ফিফার ২০০৪ সংস্করণে ৯৮ রেটিং দেওয়া হয়েছিল তাঁকে! পরের বছরই তাঁকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিলেন আর্সেনালে সোনালি সময় পার করা থিয়েরি অরি (৯৭ পয়েন্ট)।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিদেশি মালিকেরা ইসলামী ব্যাংক ছাড়ছেন

অনলাইন ডেস্ক : মালিকানা পরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। এর আমানতের প্রবৃদ্ধি কমেছে, কিন্তু বেড়েছে ঋণ দেওয়া। বেড়েছে খেলাপি ঋণও।
আবার ইসলামী ব্যাংক ছেড়ে যাচ্ছেন বিদেশি মালিকেরাও। প্রতিষ্ঠাকালীন (১৯৮৩) দেশের সবচেয়ে বড় এই ব্যাংকের ৭০ শতাংশ পুঁজি জোগান দিয়েছিলেন বিদেশিরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের শেয়ার কমে হয়েছে ৩২ শতাংশ।
২০১৩ সালে ইসলামী বাংক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার পরই ব্যাংকটি ছাড়তে শুরু করেন বিদেশিরা। গত ৫ জানুয়ারি ব্যাংকটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় হঠাৎ পরিবর্তনের পর তা প্রকট হয়েছে। বিদেশিদের ছেড়ে দেওয়া শেয়ার বিভিন্ন নামে ২ শতাংশ করে কিনছে চট্টগ্রামভিত্তিক একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান। গত এক বছরে নতুন নতুন দেশীয় কোম্পানির নামে ব্যাংকটির ২৫ শতাংশ শেয়ার কেনা হয়েছে।

পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর গত ২৪ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উদ্বেগ জানিয়ে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) প্রেসিডেন্ট বন্দর এম এইচ হাজ্জার লিখেছিলেন, আইডিবিসহ সৌদি আরব, কুয়েতের উদ্যোক্তাদের ৫২ শতাংশ শেয়ার থাকার পরও ব্যাংকটির সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।

তবে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান বলেন, ‘বিদেশিরা শুরুর দিকে ব্যাংকে এসেছিলেন। তাই অনেকেই চলে যাচ্ছেন। আবার অনেকে নতুন করে আসার আগ্রহও দেখাচ্ছেন। এটা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।’

আরাস্তু খান আরও বলেন, ‘এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক। দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। তাই এই ব্যাংক নিয়ে সবার আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে ব্যাংকে স্বাভাবিক কার্যক্রম ভালো চলছে, আমানতও বাড়ছে।’

ছেড়ে যাচ্ছেন বিদেশিরা
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক সূত্র জানায়, ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছিল ৭০ শতাংশ। বাকি অর্থের জোগান দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার এবং কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তবে ধীরে ধীরে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার ছাড়তে শুরু করে।

২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে ইসলামী ব্যাংকের বেশ কিছু শাখা ও এটিএম বুথে ভাঙচুর হয়। ব্যাংকটির সঙ্গে জামায়াতের রাজনীতির যোগসূত্র থাকার অভিযোগ ওঠে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া মীর কাসেম আলী ব্যাংকটির সাবেক পরিচালক। ২০১৩ সালে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ত্বরান্বিত হলে তিনিও দেশ ছেড়ে চলে যান। ২০১৫ সালের জুনে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হন মুস্তাফা আনোয়ার।

ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তা বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক তাদের হাতে থাকা পুরো শেয়ার বিক্রি করে চলে যায়। ২০১৫ সালে আরেক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান দুবাই ইসলামিক ব্যাংকও সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়।

২০১৬ সালে দেশীয় ইউনাইটেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান হজরত শাহজালাল (রহ.) ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি লিমিটেড ব্যাংকটির ৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৫টি শেয়ার কেনে। ওই বছরই ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তাদের পক্ষে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২১ জুলাই ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় গ্রুপটির পক্ষে পরিচালক প্রত্যাহার করা হলে তাদের সব শেয়ার কিনে নেয় গ্র্যান্ড বিজনেস নামের চট্টগ্রামভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। মূলত এটাই ছিল ব্যাংকটির মালিকানা বদলের শুরু। ওই বছরই বিভিন্ন খাতের আরও আটজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যাঁরা ব্যাংকটি পরিচালনায় মূল ভূমিকা রাখতে শুরু করেন।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আরমাডা স্পিনিং মিলস নামের একটি প্রতিষ্ঠান ব্যাংকটির শেয়ার কেনে এবং সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর গত ৫ জানুয়ারি ব্যাংকটির পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে। আরাস্তু খান নতুন চেয়ারম্যান হন।

বড় এই পরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংকের ৮ কোটি ৬৯ লাখ শেয়ার বিক্রি করে দেয় উদ্যোক্তা পরিচালক আইডিবি। গত মে মাসে প্রতিটি শেয়ার ৩১ টাকা ৫০ পয়সা দামে ২৭৪ কোটি টাকায় এসব শেয়ার কেনে বাংলাদেশেরই চার প্রতিষ্ঠান। আইডিবির ছেড়ে দেওয়া সিংহভাগ শেয়ার কিনেছে এক্সেল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বদরুন নেসা আলম চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের প্রধান সাইফুল আলমের বোন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর কুয়েতের সরকারি ব্যাংক কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকায় সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ইসলামী ব্যাংকের সোয়া ৫ শতাংশ শেয়ার ছিল। তবে এখনো কুয়েত সরকারের আরেক প্রতিষ্ঠান দ্য পাবলিক ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল সিকিউরিটির নামে ১০ কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪১ শেয়ার রয়েছে, যা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ। ব্যাংকটিতে কুয়েতের তিন প্রতিষ্ঠানের ১৫ শতাংশ শেয়ার ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক জেপি মরগানের একজন গ্রাহক ২০১৫ সালের শেষ দিকে ইসলামী ব্যাংকের ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার কেনে। সম্প্রতি শেয়ার ছেড়ে দেওয়ায় তাদের অংশীদার কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের পর বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। একদিকে ব্যাংকটিতে আমানত আসা কমে গেছে, পাশাপাশি কমেছে আয়ও। অন্যদিকে বেড়ে গেছে ঋণ বিতরণ। খেলাপি ঋণও বেড়ে গেছে। তাই নগদ অর্থের সংকট তৈরি হয়েছে ব্যাংকটিতে। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ২ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা, গত জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ৬ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা।

গত চার বছরের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যাংকটিতে সবচেয়ে কম আমানত এসেছে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে। এই সময়ে আমানত এসেছে ২ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। অথচ গত বছরের প্রথম ছয় মাসে আমানত এসেছিল ৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। আর ২০১৫ সালের প্রথমার্ধে আমানত আসে ৩ হাজার ৫৯৯ কোটি এবং ২০১৪ সালের একই সময়ে ছিল ৫ হাজার ২০৯ কোটি টাকা।

আমানতপ্রবাহ কমলেও এই ছয় মাসে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ অবশ্য গত চার বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটি ৫ হাজার ৩১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। ২০১৫ ও ২০১৪ সালের প্রথম ছয় মাসে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৬৯৫ ও ২ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো সর্বশেষ হিসাবে, ব্যাংকটির আমানতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। ফলে ঋণ আমানত অনুপাত বেড়ে হয়েছে ৮৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য এই সীমা সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ।

সূত্র : প্রথম আলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষক এবং শিক্ষকতা -মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ছোট শিশুদের স্কুল দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই আমি এরকম স্কুলে চলে যাই, বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলি।
শহরের বাচ্চাদের চেহারা ছবি পোশাক একরকম, গহিন গ্রামের একটা স্কুলের বাচ্চাদের অন্যরকম, কিন্তু তাদের ভাবনা-চিন্তা মোটামুটি একই ধরনের। স্কুলের বাচ্চাদের পেলেই আমি তাদের জিজ্ঞেস করি, ‘তোমরা বড় হয়ে কী হতে চাও?’ বাচ্চাগুলো তখন একে অন্যের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে, দেখেই বোঝা যায়, বড় হয়ে যে নিজের ইচ্ছামতো কিছু একটা হওয়া যায় ব্যাপারটা তারা জানেই না। আমাকে তখন তাদের সাহায্য করতে হয়। আমি জিজ্ঞেস করি, ‘তোমরা কী বড় হয়ে ডাক্তার হবে, নাকি ইঞ্জিনিয়ার হবে? নাকি বিজ্ঞানী, কিংবা পাইলট কিংবা পুলিশ না হলে, র‌্যাব হবে? নাকি শিক্ষক কিংবা অফিসার হবে?’ বাচ্চাগুলো তখন নড়ে-চড়ে বসে এবং একজন সাহস করে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার পাইলট এরকম কিছু একটা বলে ফেলে এবং তখন দেখা যায়, অন্য সবাই সেই একই পেশায় যেতে চায়। আমি এখন পর্যন্ত অনেক বাচ্চার সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা অনেক কিছু হতে চেয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে বলতে শুনিনি, সে বড় হয়ে শিক্ষক হতে চায়!

আমি বাচ্চাদের একটুও দোষ দিই না। তাদের জন্য স্কুল কখনো আনন্দময় একটা জায়গা নয় এবং সেই স্কুলের দায়িত্বে যে শিক্ষকরা থাকেন সম্ভবত তাদের নিয়ে বাচ্চাদের কোনো সুখস্মৃতি নেই। কিংবা তারা হয়তো দেখেছে, একজন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কিংবা পুলিশ অফিসার অনেক দাপটে থাকে। তাদের তুলনায় একজন শিক্ষক থাকেন খুবই দুর্বলভাবে কিংবা দীনহীনভাবে। তাই বড় হয়ে তারা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখে না।

আমি আমার নিজেকে দিয়েও বিষয়টা চিন্তা করে দেখেছি। ছাত্রজীবনে আমি যে ধরনের শিক্ষকদের দেখেছি তাদের কথা মনে করতে চাইলে বিভীষিকাময় নিষ্ঠুর শিক্ষকদের কথা আগে মনে পড়ে। তাদের নিয়ে আতঙ্কের বিষয়টা এতই ব্যাপকভাবে আসে যে, অন্য দু-চারজন ভালো শিক্ষকের স্মৃতি ঢাকা পড়ে যায়। তাদের মিষ্টি করে বলা কোনো কথা মনে নেই; কিন্তু যতবার তাদের হাতে মার খেয়েছি প্রত্যেকটা ঘটনার কথা স্পষ্ট মনে আছে। শারীরিক যন্ত্রণার কথা ভুলে যাওয়া যায়, কিন্তু অপমানটার কথা কখনো ভোলা যায় না।

আমাদের দেশে আইন করে স্কুলে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার বিষয়টা তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি অনেক বড় ঘটনা যদিও আমরা এখনো পত্র-পত্রিকায় স্কুল মাদ্রাসায় ছাত্রছাত্রী পেটানোর ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা মাঝে মাঝেই দেখতে পাই।

এ ব্যাপারে আমার নিজেরও ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা আছে। আমাদের ইউনিভার্সিটির যে স্কুল, আমি তখন তার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। হঠাৎ একদিন আমার কানে এলো কোনো একজন ছাত্রীর গায়ে কোনো একজন শিক্ষক হাত তুলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই আমি খুবই বিচলিত হয়ে পরদিন সেই ক্লাসে হাজির হয়েছি। যে শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ক্লাসে ঢুকে শিক্ষককে কিছুক্ষণের জন্য আমাকে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিরিবিলি কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। শিক্ষক বাইরে চলে গেলে আমি দরজা বন্ধ করে তাদের কাছে জানতে চাইলাম সত্যি সত্যি কোনো শিক্ষক তাদের গায়ে হাত তুলেছেন কিনা। প্রথমে সবাই মাথা নিচু করে নিঃশব্দে বসে রইল। খানিকক্ষণ অভয় দেওয়ার পর তারা মুখ খুলল এবং জানতে পারলাম সত্যি সত্যি এ ধরনের ব্যাপার ঘটছে। আমাদের স্কুল জীবনে শিক্ষকরা ছাত্রদের পেটানোর জন্য লম্বা বেত হাতে নিয়ে ক্লাসে ঢুকতেন। এখন সেটি সম্ভব নয়। তাই ছাত্রছাত্রীর গায়ে হাত তোলার জন্য এখনকার শিক্ষকদের কোনো একটা শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করতে হয়। এই ক্লাসে ধাতব রুলার দিয়ে একাধিক ছাত্রীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই আমি যথেষ্ট বিচলিত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের বললাম, দেশে আইন হয়েছে শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীর গায়ে হাত তুলতে পারবেন না। কাজেই যদি কোনো শিক্ষক ছাত্রছাত্রীর গায়ে হাত তুলে থাকেন তাহলে তিনি দেশের আইন ভঙ্গ করছেন। দেশের আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি হয়, তাই সেই শিক্ষকেরও শাস্তি পাওয়ার কথা। চুরি ডাকাতি খুন যেরকম অপরাধ ছাত্রছাত্রীর গায়ে হাত তোলাও সেরকম অপরাধ। কাজেই যদি ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা ঘটে তাহলে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকের সঙ্গে কোনো বেয়াদবি না করে যেন শাস্তিটুকু সহ্য করে। তারপর স্কুল ছুটির পর আমার অফিসে এসে যেন আমাকে ঘটনাটি জানায়। আমি কথা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ক্লাস এমনভাবে আনন্দধ্বনি করে উঠল যে, আমি খুব অবাক হলাম এবং আমার মনে হলো হয়তো এরকম ঘটনা স্কুলে নিয়মিতভাবে ঘটছে। আমার তখন মনে হলো, হয়তো অন্যান্য ক্লাসে গিয়েও আমার ছাত্রছাত্রীদের একই কথা বলে আসা উচিত।

আমি তাই একটি একটি করে প্রতিটি ক্লাসে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বলে এলাম, তাদের গায়ে হাত তোলা দেশের আইনে অপরাধ এবং যদি তাদের ওপর এই অপরাধ করা হয়, তাহলে যেন সেটি আমাকে জানানো হয়। প্রতিটি ক্লাসেই আমি বিশাল আনন্দধ্বনি শুনতে পেলাম।

শুধু ছাত্রছাত্রীদের বলেই আমি শেষ করে দিলাম না, আমি সব শিক্ষককে ডেকে তাদের বললাম, তারা কোনো অবস্থাতেই কোনো ছাত্রছাত্রীর গায়ে হাত তুলতে পারবেন না।

তারপর স্কুলে যেটা ঘটল আমি সেটার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। কয়েক দিন পর খবর পেলাম পুরো স্কুলে শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই, ছাত্রছাত্রীরা চেঁচামেচি চিৎকার করে সময় কাটায়, শিক্ষকরা ক্লাসে উদাস মুখে বসে থেকে ছাত্রছাত্রীদের নরক গুলজার করতে দেন। হেডমাস্টার শিক্ষকদের ক্লাসের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বললে তারা মুখ ভার করে আমার কথা বলে, আমি নাকি তাদের বলেছি ছাত্রছাত্রীদের কিছু বলা যাবে না। তাই তারা কিছু বলেন না! এই বয়সের ছেলেমেয়েদের ক্লাসে পুরো স্বাধীনতা দিয়ে দিলে তারা কী তুলকালাম কাণ্ড করতে পারে সেটা অনুমান করা কঠিন নয়। বাচ্চাদের চিৎকার-চেঁচামেচির কারণে স্কুলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায় না, সব শুনে আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছি না! অনেক কষ্ট করে শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থার সামাল দিতে হয়েছিল।

কিছু দিন আগে আমাকে একজন জিজ্ঞেস করেছে, আপনার বেশ কয়েকটি পরিচয় আছে, লেখালেখি করেন, গবেষণা করেন, শিক্ষকতা করেন, কখনো কখনো নানারকম আন্দোলনও করেছেন। আপনার কোন পরিচয়টিতে আপনি পরিচিত হতে চান? আমি এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে বলেছি আমি শিক্ষক পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই। আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করে দেখেছি, শিক্ষকতা না হয়ে অন্য কোনো পেশায় যোগ দিলে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম, একটাও খুঁজে পাইনি। আমার ধারণা আমার মতো যারা শিক্ষক, সেটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকই হোক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকই হোক, সবাই আমার কথায় সায় দেবেন।

তার কারণ আমরা যারা শিক্ষক তারা সত্যিকারের মানুষ নিয়ে কাজ করি, আমরা প্রতিদিন ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে কথা বলি। তাদের পড়াই, পড়তে না চাইলে ভয়ভীতি দেখাই, তারা ভালো কিছু করলে খুশিতে আটখানা হয়ে যাই। তারা ভুল করলে লম্বা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলি। একদল ছাত্র পাস করে বের হয়ে যায় তখন অন্য একদল ছাত্র এসে ঢোকে। দেশে-বিদেশে হঠাৎ হঠাৎ একজনের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। যে বলে, ‘স্যার আমি আপনার ছাত্র’। হয়তো পাশে তার স্ত্রী দাঁড়িয়ে থাকে, কোলে শিশুসন্তান। যে ছাত্রটি প্রায় কিশোর হিসেবে একদিন পড়তে এসেছিল এখন সে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে, দেখে কী ভালোই না লাগে। শুধু আমরা শিক্ষকরা, সেই আনন্দটুকু পেতে পারি, আমার মনে হয় না অন্য কোনো পেশার কোনো মানুষ কোনো দিন আমাদের এই আনন্দটুকু উপভোগ করতে পারবে।

তবে লেখাপড়ার জগতে একটা মৌলিক পরিবর্তন হচ্ছে যেটা আমরা নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছি। একটি সময় ছিল যখন একটি সার্টিফিকেট খুব একটা মূল্যবান বিষয় ছিল। সেই সার্টিফিকেটটি কোন বিষয়ের সার্টিফিকেট সেটা নিয়েও মানুষজন মাথা ঘামাত। শুধু তাই না, ছাত্র বা ছাত্রীটি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটটি এনেছে সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ধীরে ধীরে সেই আস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এখন একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে যাচাই করার একটিমাত্র মাপকাঠি, সেটি হচ্ছে তার যে বিষয়টুকু জানার কথা, সে কি সেটা জানে, নাকি জানে না? কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিতে পারেনি, হাতে কোনো সার্টিফিকেট নেই; কিন্তু পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে এরকম উদাহরণের এখন আর অভাব নেই।

কাজেই আমাদের শিক্ষকদের একটি নতুন দায়িত্ব হচ্ছে, আমাদের ছাত্রছাত্রীদের বোঝানো, নতুন পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে একটি চকচকে সার্টিফিকেট যথেষ্ট নয়। একটি ছাত্রকে যেটি জানার কথা, সেটি জানবে হবে। তার চাইতে বড় কথা একশ বিলিয়ন নিউরন দিয়ে তৈরি মস্তিষ্ক নামের অমূল্য সম্পদটিকে ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে শাণিত করে রাখতে হবে। যখন প্রয়োজন হবে তখন যেন সেটাকে ব্যবহার করা যায়। মুখস্থ করে কিংবা কোচিং ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থী না হয়ে শুধু পরীক্ষার্থী হওয়ার ট্রেনিং নিয়ে নিয়ে তারা যেন নিজেদের মস্তিষ্কটিকে ভোঁতা করে না ফেলে।

আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীকে পড়াই তারা সবাই একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি। গত কয়েক বছর থেকে ছাত্রছাত্রীর মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে আসছে। অনেক সময় মনে হয়, পড়ানোর সময় আমি যেটা বলছি ছাত্রছাত্রীরা সেটা শুনছে, কিন্তু বোঝার জন্য মস্তিষ্কটিকে ব্যবহার করতে তাদের ভিতর এক ধরনের অনীহা, এক ধরনের আলস্য। এ নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি, আমার কাছে কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই; কিন্তু আমার মনে হয়, এটি হচ্ছে ফেসবুক জাতীয় সামাজিক নেটওয়ার্কের বাড়াবাড়ি আসক্তির ফল। এটি নিশ্চয়ই শুধু আমাদের দেশের সমস্যা নয়, সারা পৃথিবীর সমস্যা। আমি একাধিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে দেখেছি, মাদকে আসক্তি এবং ফেসবুকে আসক্তির মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

তবে এ কথাটিও সত্যি, সারা পৃথিবীতেই সব মানুষ দাবি করে এসেছেন তাদের সময়ে তরুণ সমাজ অনেক ভালো ছিল এবং নতুন প্রজন্মের হাজারো সমস্যা! আমি নিশ্চিত আমি এখন যে তরুণ প্রজন্মের সমালোচনা করছি তারা যখন বড় হবে তখন তারাও নূতন প্রজন্মের সমালোচনা করে হতাশা প্রকাশ করবে। কাজেই আমরা যাদের পেয়েছি, তাদের নিয়ে অভিযোগ না করে যেটুকু এগোতে পারি সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চাই।

তবে এ কথা সত্যি, আমার শিক্ষকতা জীবন নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। শিক্ষক হিসেবে আমি খুব সফল নই, আমি জানি আমার ছাত্রছাত্রীরা আমাকে যমের মতো ভয় পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা যথেষ্ট বড় এবং তাদের পূর্ণবয়স্ক মানুষের মতো বিবেচনা করা উচিত। ক্লাসের বাইরে আমি সেটা করি কিন্তু ক্লাসের ভিতরে আমি তাদের প্রায় কিন্ডারগার্টেনের বাচ্চার মতো নজরদারি করি। কোনো রকম ঘোষণা না দিয়ে হঠাৎ একদিন ক্লাসে আমি যখন পরীক্ষা নিয়ে ফেলি তখন তারা নিশ্চয়ই আমার ওপর খুব বিরক্ত হয়। শুধু তাই নয়, আমি ক্লাসে ছেলেমেয়েদের প্রশ্ন করে করে ক্রমাগত উৎপাত করি। আমার ক্লাসে ছেলেমেয়েরা নিশ্চয়ই শান্তিতে বসতে পারে না, তাই যদি আমাকে যমের মতো ভয় পায় তাদের দোষ দেওয়া যাবে না।

ক্লাসে ছাত্রদের প্রশ্ন করা নিয়ে একটা ঘটনার কথা বলে শেষ করে দিই। ক্লাসে পড়াতে পড়াতে একদিন এক ছাত্রকে খুব সোজা একটা প্রশ্ন করেছি, ছাত্রটি প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারল না। আমি খুবই বিরক্ত হয়ে পরের জনকে একই প্রশ্ন করেছি সেও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল না। আমি তখন রীতিমতো রেগে উঠে পরের জনকে প্রশ্ন করলাম, সেও উত্তর দিতে পারল না। তখন আমি একজন একজন করে সবাইকে প্রশ্ন করতে শুরু করেছি এবং তারা কেউ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না এবং আমি ধীরে ধীরে রেগে উঠতে শুরু করেছি। একজন একজন করে যখন আমি একেবারে শেষ ছাত্রটির কাছে পৌঁছলাম এবং সেও আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল না তখন আমার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল সেই ছেলেটির ওপর। তাকে প্রচণ্ড বকাঝকা করে যখন শেষ করেছি তখন ছেলেটি খুবই করুণ গলায় বলল, ‘স্যার আমি আসলে এই ইউনিভার্সিটির ছাত্র না। আমি ওসমানী মেডিকেল কলেজে পড়ি। আপনি কীভাবে ক্লাস নেন সেটা দেখার জন্য এসেছিলাম। ’ পুরো ক্লাস হাসিতে ফেটে পড়ল এবং আমার সমস্ত রাগ মুহূর্তের মধ্যে পানি হয়ে গেল।

শিক্ষকতা জীবনের এরকম টুকরো টুকরো ঘটনার শেষ নেই এবং আমার ধারণা শুধু একজন শিক্ষকের জীবনেই এরকম ঘটনা ঘটা সম্ভব, কারণ আমরা ফাইল নিয়ে কাজ করি না, যন্ত্র নিয়ে কাজ করি না, আমরা কাজ করি রক্ত-মাংসের মানুষ নিয়ে। যাদের চোখে রঙিন চশমা এবং যারা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে!

[বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০১৭ জাতীয় উদযাপন কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে পঠিত]

লেখক : অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেয়ে-জামাতাসহ অভিযুক্ত নওয়াজ

পাকিস্তানের একটি আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে পানামা পেপারস ফাঁসের প্রেক্ষাপটে করা দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। বৃহস্পতিবার সরকারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এএফপিকে এ কথা জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, আদালত নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম ও তার জামাইকেও লন্ডনে তাদের সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

নওয়াজ শরীফের আইনজীবী এক আবেদনে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। নওয়াজ শরীফ এখন লন্ডনে ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন তার স্ত্রী কুলসুমের কাছে অবস্থান করছেন।

তার মেয়েও নির্দোষ দাবি করে ইসলামাবাদের ওই আদালতে আবেদন করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এশিয়া কাপে চীনকে হারাল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ যখন পিছিয়ে ৩-১ গোলে। বৃষ্টিস্নাত মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ তখন প্রহর গুণছেন আরেকটি পরাজয়ের।
সেখান থেকেই যেন ভোজবাজির মতো ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। শেষ ছয় মিনিটে দুই গোল দিয়ে সমতা ফেরাল ম্যাচে। এরপর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারাল চীনকে, নিশ্চিত করল এবারের এশিয়া কাপে অন্তত ছয়ের নিচে নামছে না। এশিয়া কাপ হকিতে প্রথমবারের মতো হাসতে পারলেন জিমিরা।

ম্যাচের শুরু থেকে দারুণ দাপটের সঙ্গে খেলছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পেনাল্টি কর্ণার ঠেকাতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে শুরু থেকেই। ১৭ মিনিটেই দু তালাকে দুইটি পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন চীনকে। বাংলাদেশ তখনও আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল। যেটির ফল পায় ২৫ মিনিটে এসে।
রুম্মান সরকারকে পেছন থেকে ফেলে দিলে পেনাল্টি কর্ণার পায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে গোল করে এগিয়ে দেন আশরাফুল ইসলাম।

কিন্তু তিন মিনিট পরেই আবার পেনাল্টি কর্ণার পায় চীন, আবারও গোল করে এগিয়ে দেন দু তালাকে। প্রথম তিন কোয়ার্টারে আর কোনো গোল শোধ করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ায় চতুর্থ কোয়ার্টারে, ৫৩ মিনিটে ওঁৎ পেতে থাকা মিলন স্টিকের আলতো ছোঁয়ায় ব্যবধান কমান। এক মিনিট পরেই পেনাল্টি কর্নার পায় বাংলাদেশ, এবার আর ভুল করেননি খোরশেদুর, গোল করে সমতা ফেরান ম্যাচে।

এরপর টাইব্রেকারে প্রথম চারটি পেনাল্টি শুট শেষে ছিল ৩-৩ সমতা। চীন পঞ্চম শুট মিস করলে রাসেল মাহমুদ জিমির ওপরেই দাঁড়ায় অগ্নিপরীক্ষা। ভুল করেননি তিনি, গোল করেই নিজের হকিস্টিক ছুঁড়ে মেতেছেন উচ্ছ্বাসে।

জার্সি খুলে সতীর্থদের সঙ্গে তার উদযাপনে ভেসে যাওয়া বলছে, বাংলাদেশের জন্য এই জয় কতটা দরকার ছিল। তার চেয়েও বড় কথা, এই জয়ের ফলে পরেরবারের এশিয়া কাপ হকির বাছাইপর্ব খেলতে হবে না বাংলাদেশকে, টিকিট পাবে সরাসরিই। আগামীকাল পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এখন জাপান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশের চেয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় গরিব বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্য সব দেশেই থাকে।
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় গরিবের সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। ১১৭ বছর আগে পুরো আমেরিকায় মাত্র আট হাজার যানবাহন ছিল। সেই তুলনায় বাংলাদেশও সঠিক পথে আছে এবং সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সব খাতে। ’ গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘প্রবীণ কল্যাণ-বিষয়ক গবেষণা ফলাফল বিস্তরণ এবং নীতি সংস্কার জাতীয় কর্মশালা-২০১৭’ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মুস্তফা কামাল বলেন, ‘চিকিৎসার আধুনিকায়নে দেশে বার্ধক্যের সংখ্যা বাড়ছে। সারা বিশ্বেই এ হার বাড়ছে। আমাদের দেশে ৭ শতাংশ মানুষের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। জাপানে ১৫ শতাংশ মানুষ বৃদ্ধ। বয়স্ক মানুষের সুফল পেতে হবে। তাদের অর্জিত জ্ঞান-গবেষণা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। ’ বাবা-মার প্রতি সম্মান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বয়স হলে বাবা-মা একাকিত্ব বোধ করেন। সব সময় ভয়ভীতির মধ্যে থাকেন। তারা একা থাকলে ভয় পান। তাই তাদের বৃদ্ধাশ্রমে নয়, নিজের কাছে রাখুন। ’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তুরস্কের এমপিরা প্রতিদিন ২৪ হাজার কাপ চা পান করেন!

প্রতিদিন ২৪ হাপ্রজার কাপ চা ও কফি পান করে থাকেন তুরস্কের বর্তমান সংসদ সদস্যরা। ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের আগস্টে ক্যাফেটেরিয়ায় ৬০ লাখ কাপ চা ও প্রায় ৫ লাখ কাপ কফির অর্ডার দিয়েছেন দেশটির সংসদ সদস্যরা।
এমন খবর জানিয়েছে ডেইলি সাবাহ।

মোট ৬৫ লাখ কাপ চা ও কফির অর্ডার হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে ২৪ হাজার কাপ চা ও কফির অর্ডার পেয়েছে ক্যাফেটেরিয়া।

তুরস্কের সংসদ সদস্য সংখ্যা ৫৪৪ জন। এ হিসাবে প্রতি দিন একজন সদস্য ৪৫ কাপ চা পান করেন।

সংসদ সদস্যদের চা সরবরাহের জন্য সেখানে চা’স্টোরের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। চা সরবরাহের জন্য মোট ৭৩টি চা’স্টোর খোলা হয়েছে।

পৃথিবীর মধ্যে চীন এবং ভারতের পর চা পান করার দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও )-এর মতে, বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় চা পানের পরিমাণ বছরে ১ কেজি। কিন্তু তুরস্কে এর পরিমাণ ৩ কেজি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলেজের গণ্ডি পেরোননি দীপিকা!

কলেজের গণ্ডিও পেরোননি বলিউডের হার্টথ্রব দীপিকা। মডেলিংয়ের দুনিয়ায় নিজেকে প্রমাণ করার জন্য, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্তই পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। বেঙ্গালুরুতে থাকাকালে তাকে বহুবার কাজের জন্য কখনও মুম্বাই তো কখনও দিল্লি যেতে হয়েছে।

কলেজে উঠে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু পারেননি। পরেও অনেকবার পড়াশোনা চালাতে চেয়েছিলেন। তা-ও হয়ে ওঠেনি। তাই তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি স্কুলের পর আর পড়াশোনা করতে পারেননি, আর এই নিয়ে তার বাবা-মায়ের অনেক ক্ষোভ ছিল।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি তার একটি বক্তব্যকে ঘিরে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে বিনোদন জগতে। প্রেমের সম্পর্ককে জটিল মনে করেন ত্রিশোর্র্ধ্ব এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি ক্যারিয়ারে সব সময় নম্বর ওয়ানে থাকাও যে অসম্ভব তাও জানেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest