সর্বশেষ সংবাদ-
কলারোয়ায় মিনি স্টেডিয়াম ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি হাবিবুল ইসলাম হাবিবেরসাতক্ষীরার ৩২৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারশ্যামনগরে জনসভা- গণমিছিলের মধ্য দিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুতালা–কলারোয়ার উন্নয়নে ঐক্যের ডাক হাবিবুল ইসলাম হাবিবেরআদালত চত্বরে কেরোসিন ঢেলে মাটি চাপা দেওয়া হলো জব্দকৃত হরিণের মাংসসাংবাদিক আকরামুলের উপর হামলা : সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দাপাইকগাছায় বাসস চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীনের উদ্যোগে দশ গ্রামের দুস্থদের মাঝে তিন সহস্রাধিক কম্বল বিতরণবিএনপি থেকে ডা: শহীদুল আলম বহিস্কারসংগ্রামের গল্পে ঢাবি জয় দিহানেরতালায় লার্নিং শেয়ারিং ওয়ার্কশপ

শনিবারও থাকতে পারে বৃষ্টি; সতর্কতা সাতক্ষীরার জন্যও

অনলাইন ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সারা দেশের মত সাতক্ষীরাতেও গতকাল রাত থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তা অব্যাহত আছে। সকালে আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, আগামীকাল শনিবারও তা থেমে থেমে চলবে। এমতাবস্থায় অন্যান্য উপকূলীয় জেলার মত সাতক্ষীরা জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া উপকূল তীরবর্তী অঞ্চল এক থেকে দুই ফুট উচ্চতায় বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আবহাওয়া কার্যালয়। এর কারণে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান। তিনি জানান, এ ছাড়া এই সময়ে দেশে সবচেয়ে বেশি হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায়। সেখানে ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
ছুটির দিনে যাঁরা বাসায় আছেন তাঁদের জন্য এই ‘গরম-কমানো’ বৃষ্টি বেশ উপভোগ্য হলেও, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যানবাহনের স্বল্পতার সঙ্গে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ছিল বাড়তি বিড়ম্বনা। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ। তাদেরকে বাধ্য হয়ে কাজের সন্ধানে বাইরে বের হতে হয়েছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও।

আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর ও উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে স্থল নিম্নচাপে রূপ নিয়ে উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের অধিক্য বিরাজ করছে এবং গভীর সঞ্চালন মেঘমালা তৈরি অব্যাহত রয়েছে।
এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়া কার্যালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা বাসস।
রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফাঁস হওয়া প্রশ্নে ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিতে ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরুর প্রায় আট ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্রের একটি অংশ ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত ৩টা ১৯ মিনিটে মেইলে একটি প্রশ্নপত্র আসে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ওই প্রশ্নের মিল পাওয়া গেছে। গতকাল রাতে আসা মেইলটি রয়েছে। সেখানে ২৪টি প্রশ্নের সঙ্গে আজকের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ইংরেজি অংশের ২৪টি প্রশ্নের মিল রয়েছে। ইংরেজি অংশে মোট ২৫টি প্রশ্ন রয়েছে।

তবে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে এ ভর্তি পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় প্রতিটি আসনের বিপরীতে লড়েছে ৬১ জন ভর্তিচ্ছু। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কে এম আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির কারণে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

এ বছর ‘ঘ’ ইউনিটে এক হাজার ৬১০টি আসনের বিপরীতে ৯৮ হাজার ৫৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এই ইউনিটে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এক হাজার ১৪৭টি, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের জন্য ৪১০টি ও মানবিক শাখার জন্য ৫৩টি আসন রয়েছে।

গতকাল আসা প্রশ্নের সঙ্গে আজকের যেসব প্রশ্নে মিল পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইংরেজি প্রথম প্রশ্ন ছিল- “হোয়াট ইজ দ্য মিনিং অব দ্য ইডিওম ‘টু ফলো ইয়র নোজ’?”, তৃতীয় প্রশ্ন ছিল- ‘দ্য হাইওয়ে এজেন্স. . . বেড ওয়েদার…’, অষ্টম প্রশ্ন ছিল- ‘জার্মানি হ্যাজ ওন দ্য ফুটবল ম্যাচ…’. দ্বাদশ প্রশ্ন- ছিল ‘দিস ইজ দ্য স্কল হুইচ…’ ও বিংশতম প্রশ্ন ছিল- ‘অ্যা পিস অব কেক মিনস’।

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া অসম্ভব। যদি আমরা ফাঁসের বিষয় জানতে পারি, তবে খোঁজ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করব।’

ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এ এম আমজাদ বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন পরীক্ষার্থী জালিয়াতির চেষ্টা করেছেন। তাঁদের আটক করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে কি না, তা বলতে পারব না। এমন কোনো অভিযোগ বা তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সু চিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মিয়ানমারে নতুন রাজনৈতিক দল

মিয়ারমারের চলমান রোহিঙ্গা সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। কিন্তু তা সমাধানে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।

শুধু রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানই নয়, মিয়ানমারে বিদ্যমান নানা সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার নিয়ে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক দল আসছে। চলতি বছরের শেষেই দেয়া হতে পারে ঘোষণা। দেশটির সাবেক ছাত্র নেতা কো কো জি এ ঘোষণা দিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রচারণা শুরু না করলেও দলের বিষয়ে কো কো জি মিয়ানমার সম্প্রদায়ের মধ্যে সমর্থন তৈরির চেষ্টাও করছেন। জাপানের টোকিওতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারে গ্রহণযোগ্য সরকার গড়তে চাই। ‘ এ নিয়ে সমর্থনও পাচ্ছেন তিনি। এক সমর্থক বলেন, ‘আমি নিশ্চিত তিনি ভবিষ্যৎ মিয়ানমারের জন্য কাজ করবেন। ‘ সূত্র : এনএইচকে ওয়ার্ল্ড

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গ্রাম প্রধানের বাড়িতে প্রবেশের অপরাধে বৃদ্ধকে চাটতে হল থুতু!

দুম করে ঢুকে পড়েছিলেন গ্রাম প্রধানের বাড়িতে। বৃদ্ধের জ্ঞানই ছিল না যে গ্রাম প্রধানের বাড়িতে ঢুকতে হলে অনুমতি নিতে লাগে।

উদ্ভট এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বিহারের নালন্দা জেলার নুরসরাই ব্লকের অজয়পুর গ্রামে। সেখানে একসময় থাকতেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।

জানা গেছে, সরকারি প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য গ্রাম প্রধান তথা সরপঞ্চের বাড়িতে গিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। কোনও প্রকার অনুমতি ছাড়াই সেই বাড়িতে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। গ্রামের অতি সাধারণ একজন মানুষের কি করে ধৃষ্টতা হয় কি করে, কাউকে কিছু না বলে সরপঞ্চের বাড়িতে ঢুকে পরার! সরপঞ্চ মানে তো সমগ্র গ্রামের মাথা। সেই বাড়িতে ঘারে একটি মাত্র মাথা নিয়ে ঢোকার সাহস দেখিয়ে ফেলেছিলেন সেই বৃদ্ধ। তাও আবার বিনা অনুমতিতে! এই অপরাধের কারণে মাটিতে থুতু ফেলে তা চাটতে বাধ্য করা হল ওই বৃদ্ধকে।

ছবিতে দেখা গেছে, যে যেখানে থুতু ফেলে তা ওই বৃদ্ধকে চাটানো হয়েছে সেই জায়গায় রয়েছে বেশ কয়েক জোড়া জুতা। সরপঞ্চের বাড়ির লোকেদের জুতা রাখার জায়গায় থুতু ফেলে চাটতে বাধ্য করা হয়েছে তাকে।

এখানেই অবশ্য শেষ যায়নি শাস্তি। বিনা অনুমতিতে সরপঞ্চের বাড়িতে ঢুকে পড়েছে বলে কথা! একটি ভিডিও-তে দেখা গেছে সরপঞ্চের বাড়িতেই দুই মহিলা ওই বৃদ্ধকে জুতা দিয়ে বেধড়ক মারপিট করছেন।

খুব স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই উঠেছে সমালোচনার ঝড়। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেও খুব একটা সময় নেয়নি। সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেন্দ্রে সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মাস খানেক আগে সেই গেরুয়া শিবিরই জোট বেধে সরকার গঠন করেছে বিহারে। স্বভাবতই এই ঘটনার জেরে অস্বস্তিতে পড়েছে বিহার প্রশাসন। যদিও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওই রাজ্যের মন্ত্রী নন্দ কিশোর যাদব।

বিহারের মন্ত্রীসভার ক্যাবিনেট মন্ত্রী নন্দ কিশোর বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মোজা থেকে বের করে ‘ট্যাবলেট’ খেয়ে তুমুল বিতর্কে মেসি!

উয়েফা ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ গোলের নতুন কীর্তি স্থাপন করলেন লিও মেসি। আবার একই দিনে তাকে নিয়ে তৈরি হল নতুন কৌতূহল।
খেলা চলাকালীন বাঁ পায়ের মোজার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে কিছু একটা বের করে মুখে দেন মেসি। মুহূর্তে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। দেখে অনেকের মনে হয়েছিল, কোনও ট্যাবলেটই সম্ভবত খাচ্ছেন।

মেসির ক্ষেত্রে সাড়া পড়ে যায় টিভি ক্যামেরায় এই বিশেষ মুহূর্তটি ধরা পড়ার পরে। রেডিওতে এক সাংবাদিক বলেন, মেসি নাকি গ্লুকোজ ট্যাবলেট নিচ্ছিলেন। এনার্জি বাড়ানোর জন্য যা নিয়ে থাকতে পারেন বলে অনুমান। আবার কেউ কেউ বলছেন, ম্যাচের তখন মাত্র ১০ মিনিট হয়েছে। অত তাড়াতাড়ি গ্লুকোজ ট্যাবলেট নিতে যাবেন কেন মেসি? ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই কী করে তার শক্তি বা দমের ঘাটতি দেখা দিতে পারে? আরও একটি প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে যে, খেলার মধ্যে এভাবে ট্যাবলেট নেওয়া আইনসম্মত কি না?

জল্পনা-কল্পনা চলতেই থাকে বৃহস্পতিবার সারা দিন ধরেও। মেসি নিজে এ নিয়ে কিছু জানাননি।
বার্সেলোনার কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দেকে গত কাল ম্যাচের পর এ নিয়ে জিজ্ঞেস করেন সাংবাদিকেরা। ভালভার্দে বলেন, ‘‘মেসি গ্লুকোজ পিল নিয়েছেনাকি। আমি তো কিছুই জানি না। এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারব না আমি। যদি বড়িটা নিয়ে ও গোল করে থাকে, আবার নেওয়া উচিত ওর। ’’

মোজার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে ট্যাবলেট বের করে আনলেন কি না, তা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে। তার গোলের রেকর্ড করার ভঙ্গি যে মেসি-সুলভই হয়ে থাকল, তা নিয়ে কারও কোনও সংশয় নেই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০০ গোলের কৃতিত্ব ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ছাড়া আর কারও নেই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিফার সর্বকালের সেরা দলে জায়গা হয়নি মেসির

অনলাইন ডেস্ক : গেমারদের জগতে ফিফার আবেদন আকাশচুম্বী। নব্বইয়ের দশক থেকে ফুটবলপ্রেমীদের তাঁদের প্রিয় তারকা নিয়ে খেলার সুযোগ করে দিচ্ছে এ ভিডিও গেম। এরই মাঝে বাজারে এসে গেছে গেমটির নতুন সংস্করণ ফিফা-১৮। নতুন সংস্করণে সবচেয়ে বেশি রেটিং পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৯৪ পয়েন্ট পাওয়া রোনালদোর চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে লিওনেল মেসি। কিন্তু গেমটির সব সংস্করণ মিলিয়ে যদি কোনো একাদশ করা হয়, তাহলে এ দুজন কি জায়গা পাবেন?

ফিফার রেটিংয়ে সেরা দল। ফাইল ছবিউত্তর হচ্ছে, না! ক্যারিয়ার সেরা বর্তমান রেটিংয়ে রোনালদো জায়গা পেলেও ডান উইংয়ে জায়গা হয়নি মেসির। সে জায়গা নিয়ে নিয়েছেন রোনালদোর স্বদেশি লুইস ফিগো। মেসি ছাড়া ফিফার সেরা একাদশের বাদবাকি নামগুলো অবশ্য চাইলেই ধারণা করে নিতে পারবেন। কারণ, নিজ নিজ সময়ে নিজেদের পজিশনে সেরা খেলোয়াড়ের জায়গাই হয়েছে এ দলে।

গোলরক্ষক: জিয়ানলুইজি বুফন
ফিফার মাঝের বেশ অনেক সংস্করণে সেরা রেটিং নিয়ে শীর্ষে ছিলেন ইকার ক্যাসিয়াস। তার আগে অলিভার কান কিংবা ফ্যাবিয়েন বার্থেজও এ মুকুট পরেছেন। কিন্তু ফিফা-০৫ সংস্করণে বুফনের ৯৭ রেটিংয়ের ধারেকাছে যেতে পারেননি কোনো গোলরক্ষক।

রাইটব্যাক: লিলিয়ান থুরাম
রাইটব্যাক পজিশনে স্মরণকালে অনেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। দানি আলভেজ কিংবা ক্যারিয়ারের শুরুতে সার্জিও রামোস। কিন্তু এঁরা কেউই থুরামকে টপকাতে পারেননি। ফিফা-০৫ সংস্করণে ৯২ রেটিং ছিল ফরাসি এই ডিফেন্ডারের।

সেন্টার ব্যাক: ফার্নান্দো হিয়েরো ও আলেসান্দ্রে নেস্তা
রামোস কিংবা ম্যাট হামেলস নন, ডিফেন্সের জায়গা কেড়ে নিয়েছেন সাবেক স্পেন ও রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক হিয়েরো। ফিফা-০২ সংস্করণে স্প্যানিশ অধিনায়কের রেটিং ছিল ৯৪। রক্ষণে তাঁর সঙ্গী এসি মিলানের বিখ্যাত সে ডিফেন্সের সদস্য নেস্তা। তাঁকে ৯৪ পয়েন্ট দেওয়া হয়েছিল ফিফা-০৫ সংস্করণে।

লেফট ব্যাক: রবার্তো কার্লোস
এ পজিশনে যে তিনিই থাকবেন এটা সবারই জানা। শুধু ফিফা গেম কেন, বাস্তবেও সর্বকালের সেরাদের একজন কার্লোস। ফিফা-০৫ সংস্করণের ৯৪ পয়েন্টে অনুমিতভাবেই আছেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুলব্যাক।

মিডফিল্ড: জিনেদিন জিদান, লুইস ফিগো, রোনালদিনহো, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
মধ্যভাগের দায়িত্ব রিয়ালের তারকাপুঞ্জের কাঁধে। আর তাঁদের সঙ্গী বার্সেলোনার রোনালদিনহো। ফিফা-০২ সংস্করণে ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় ফিগোকে ৯৭ পয়েন্ট দেওয়া হয়েছিল। আর জিদান দলে থাকছেন ৯৬ পয়েন্ট নিয়ে (ফিফা-০৫)। মধ্য মাঠে জিদানের সঙ্গী অবধারিতভাবেই রোনালদিনহো, ফিফার ২০০৬ সংস্করণে ৯৫ পয়েন্ট ছিল সময়ের সেরা খেলোয়াড়ের। আর ফিফা-১৮ তে ৯৪ পয়েন্ট পেয়ে লেফট উইংয়ে থাকবেন রোনালদো।

স্ট্রাইকার: রোনালদো, থিয়েরি অরি
‘দ্য ফেনোমেনন’ ফিফার ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেটিংধারী খেলোয়াড়। ফিফার ২০০৪ সংস্করণে ৯৮ রেটিং দেওয়া হয়েছিল তাঁকে! পরের বছরই তাঁকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিলেন আর্সেনালে সোনালি সময় পার করা থিয়েরি অরি (৯৭ পয়েন্ট)।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিদেশি মালিকেরা ইসলামী ব্যাংক ছাড়ছেন

অনলাইন ডেস্ক : মালিকানা পরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। এর আমানতের প্রবৃদ্ধি কমেছে, কিন্তু বেড়েছে ঋণ দেওয়া। বেড়েছে খেলাপি ঋণও।
আবার ইসলামী ব্যাংক ছেড়ে যাচ্ছেন বিদেশি মালিকেরাও। প্রতিষ্ঠাকালীন (১৯৮৩) দেশের সবচেয়ে বড় এই ব্যাংকের ৭০ শতাংশ পুঁজি জোগান দিয়েছিলেন বিদেশিরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের শেয়ার কমে হয়েছে ৩২ শতাংশ।
২০১৩ সালে ইসলামী বাংক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার পরই ব্যাংকটি ছাড়তে শুরু করেন বিদেশিরা। গত ৫ জানুয়ারি ব্যাংকটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় হঠাৎ পরিবর্তনের পর তা প্রকট হয়েছে। বিদেশিদের ছেড়ে দেওয়া শেয়ার বিভিন্ন নামে ২ শতাংশ করে কিনছে চট্টগ্রামভিত্তিক একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান। গত এক বছরে নতুন নতুন দেশীয় কোম্পানির নামে ব্যাংকটির ২৫ শতাংশ শেয়ার কেনা হয়েছে।

পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর গত ২৪ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উদ্বেগ জানিয়ে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) প্রেসিডেন্ট বন্দর এম এইচ হাজ্জার লিখেছিলেন, আইডিবিসহ সৌদি আরব, কুয়েতের উদ্যোক্তাদের ৫২ শতাংশ শেয়ার থাকার পরও ব্যাংকটির সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।

তবে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান বলেন, ‘বিদেশিরা শুরুর দিকে ব্যাংকে এসেছিলেন। তাই অনেকেই চলে যাচ্ছেন। আবার অনেকে নতুন করে আসার আগ্রহও দেখাচ্ছেন। এটা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।’

আরাস্তু খান আরও বলেন, ‘এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক। দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। তাই এই ব্যাংক নিয়ে সবার আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে ব্যাংকে স্বাভাবিক কার্যক্রম ভালো চলছে, আমানতও বাড়ছে।’

ছেড়ে যাচ্ছেন বিদেশিরা
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক সূত্র জানায়, ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছিল ৭০ শতাংশ। বাকি অর্থের জোগান দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার এবং কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তবে ধীরে ধীরে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার ছাড়তে শুরু করে।

২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে ইসলামী ব্যাংকের বেশ কিছু শাখা ও এটিএম বুথে ভাঙচুর হয়। ব্যাংকটির সঙ্গে জামায়াতের রাজনীতির যোগসূত্র থাকার অভিযোগ ওঠে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া মীর কাসেম আলী ব্যাংকটির সাবেক পরিচালক। ২০১৩ সালে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ত্বরান্বিত হলে তিনিও দেশ ছেড়ে চলে যান। ২০১৫ সালের জুনে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হন মুস্তাফা আনোয়ার।

ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তা বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক তাদের হাতে থাকা পুরো শেয়ার বিক্রি করে চলে যায়। ২০১৫ সালে আরেক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান দুবাই ইসলামিক ব্যাংকও সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়।

২০১৬ সালে দেশীয় ইউনাইটেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান হজরত শাহজালাল (রহ.) ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি লিমিটেড ব্যাংকটির ৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৫টি শেয়ার কেনে। ওই বছরই ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তাদের পক্ষে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২১ জুলাই ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় গ্রুপটির পক্ষে পরিচালক প্রত্যাহার করা হলে তাদের সব শেয়ার কিনে নেয় গ্র্যান্ড বিজনেস নামের চট্টগ্রামভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। মূলত এটাই ছিল ব্যাংকটির মালিকানা বদলের শুরু। ওই বছরই বিভিন্ন খাতের আরও আটজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যাঁরা ব্যাংকটি পরিচালনায় মূল ভূমিকা রাখতে শুরু করেন।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আরমাডা স্পিনিং মিলস নামের একটি প্রতিষ্ঠান ব্যাংকটির শেয়ার কেনে এবং সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর গত ৫ জানুয়ারি ব্যাংকটির পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে। আরাস্তু খান নতুন চেয়ারম্যান হন।

বড় এই পরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংকের ৮ কোটি ৬৯ লাখ শেয়ার বিক্রি করে দেয় উদ্যোক্তা পরিচালক আইডিবি। গত মে মাসে প্রতিটি শেয়ার ৩১ টাকা ৫০ পয়সা দামে ২৭৪ কোটি টাকায় এসব শেয়ার কেনে বাংলাদেশেরই চার প্রতিষ্ঠান। আইডিবির ছেড়ে দেওয়া সিংহভাগ শেয়ার কিনেছে এক্সেল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বদরুন নেসা আলম চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের প্রধান সাইফুল আলমের বোন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর কুয়েতের সরকারি ব্যাংক কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকায় সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ইসলামী ব্যাংকের সোয়া ৫ শতাংশ শেয়ার ছিল। তবে এখনো কুয়েত সরকারের আরেক প্রতিষ্ঠান দ্য পাবলিক ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল সিকিউরিটির নামে ১০ কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪১ শেয়ার রয়েছে, যা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ। ব্যাংকটিতে কুয়েতের তিন প্রতিষ্ঠানের ১৫ শতাংশ শেয়ার ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক জেপি মরগানের একজন গ্রাহক ২০১৫ সালের শেষ দিকে ইসলামী ব্যাংকের ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার কেনে। সম্প্রতি শেয়ার ছেড়ে দেওয়ায় তাদের অংশীদার কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের পর বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। একদিকে ব্যাংকটিতে আমানত আসা কমে গেছে, পাশাপাশি কমেছে আয়ও। অন্যদিকে বেড়ে গেছে ঋণ বিতরণ। খেলাপি ঋণও বেড়ে গেছে। তাই নগদ অর্থের সংকট তৈরি হয়েছে ব্যাংকটিতে। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ২ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা, গত জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ৬ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা।

গত চার বছরের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যাংকটিতে সবচেয়ে কম আমানত এসেছে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে। এই সময়ে আমানত এসেছে ২ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। অথচ গত বছরের প্রথম ছয় মাসে আমানত এসেছিল ৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। আর ২০১৫ সালের প্রথমার্ধে আমানত আসে ৩ হাজার ৫৯৯ কোটি এবং ২০১৪ সালের একই সময়ে ছিল ৫ হাজার ২০৯ কোটি টাকা।

আমানতপ্রবাহ কমলেও এই ছয় মাসে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ অবশ্য গত চার বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটি ৫ হাজার ৩১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। ২০১৫ ও ২০১৪ সালের প্রথম ছয় মাসে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৬৯৫ ও ২ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো সর্বশেষ হিসাবে, ব্যাংকটির আমানতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। ফলে ঋণ আমানত অনুপাত বেড়ে হয়েছে ৮৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য এই সীমা সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ।

সূত্র : প্রথম আলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষক এবং শিক্ষকতা -মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ছোট শিশুদের স্কুল দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই আমি এরকম স্কুলে চলে যাই, বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলি।
শহরের বাচ্চাদের চেহারা ছবি পোশাক একরকম, গহিন গ্রামের একটা স্কুলের বাচ্চাদের অন্যরকম, কিন্তু তাদের ভাবনা-চিন্তা মোটামুটি একই ধরনের। স্কুলের বাচ্চাদের পেলেই আমি তাদের জিজ্ঞেস করি, ‘তোমরা বড় হয়ে কী হতে চাও?’ বাচ্চাগুলো তখন একে অন্যের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে, দেখেই বোঝা যায়, বড় হয়ে যে নিজের ইচ্ছামতো কিছু একটা হওয়া যায় ব্যাপারটা তারা জানেই না। আমাকে তখন তাদের সাহায্য করতে হয়। আমি জিজ্ঞেস করি, ‘তোমরা কী বড় হয়ে ডাক্তার হবে, নাকি ইঞ্জিনিয়ার হবে? নাকি বিজ্ঞানী, কিংবা পাইলট কিংবা পুলিশ না হলে, র‌্যাব হবে? নাকি শিক্ষক কিংবা অফিসার হবে?’ বাচ্চাগুলো তখন নড়ে-চড়ে বসে এবং একজন সাহস করে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার পাইলট এরকম কিছু একটা বলে ফেলে এবং তখন দেখা যায়, অন্য সবাই সেই একই পেশায় যেতে চায়। আমি এখন পর্যন্ত অনেক বাচ্চার সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা অনেক কিছু হতে চেয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে বলতে শুনিনি, সে বড় হয়ে শিক্ষক হতে চায়!

আমি বাচ্চাদের একটুও দোষ দিই না। তাদের জন্য স্কুল কখনো আনন্দময় একটা জায়গা নয় এবং সেই স্কুলের দায়িত্বে যে শিক্ষকরা থাকেন সম্ভবত তাদের নিয়ে বাচ্চাদের কোনো সুখস্মৃতি নেই। কিংবা তারা হয়তো দেখেছে, একজন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কিংবা পুলিশ অফিসার অনেক দাপটে থাকে। তাদের তুলনায় একজন শিক্ষক থাকেন খুবই দুর্বলভাবে কিংবা দীনহীনভাবে। তাই বড় হয়ে তারা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখে না।

আমি আমার নিজেকে দিয়েও বিষয়টা চিন্তা করে দেখেছি। ছাত্রজীবনে আমি যে ধরনের শিক্ষকদের দেখেছি তাদের কথা মনে করতে চাইলে বিভীষিকাময় নিষ্ঠুর শিক্ষকদের কথা আগে মনে পড়ে। তাদের নিয়ে আতঙ্কের বিষয়টা এতই ব্যাপকভাবে আসে যে, অন্য দু-চারজন ভালো শিক্ষকের স্মৃতি ঢাকা পড়ে যায়। তাদের মিষ্টি করে বলা কোনো কথা মনে নেই; কিন্তু যতবার তাদের হাতে মার খেয়েছি প্রত্যেকটা ঘটনার কথা স্পষ্ট মনে আছে। শারীরিক যন্ত্রণার কথা ভুলে যাওয়া যায়, কিন্তু অপমানটার কথা কখনো ভোলা যায় না।

আমাদের দেশে আইন করে স্কুলে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার বিষয়টা তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি অনেক বড় ঘটনা যদিও আমরা এখনো পত্র-পত্রিকায় স্কুল মাদ্রাসায় ছাত্রছাত্রী পেটানোর ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা মাঝে মাঝেই দেখতে পাই।

এ ব্যাপারে আমার নিজেরও ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা আছে। আমাদের ইউনিভার্সিটির যে স্কুল, আমি তখন তার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। হঠাৎ একদিন আমার কানে এলো কোনো একজন ছাত্রীর গায়ে কোনো একজন শিক্ষক হাত তুলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই আমি খুবই বিচলিত হয়ে পরদিন সেই ক্লাসে হাজির হয়েছি। যে শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ক্লাসে ঢুকে শিক্ষককে কিছুক্ষণের জন্য আমাকে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিরিবিলি কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। শিক্ষক বাইরে চলে গেলে আমি দরজা বন্ধ করে তাদের কাছে জানতে চাইলাম সত্যি সত্যি কোনো শিক্ষক তাদের গায়ে হাত তুলেছেন কিনা। প্রথমে সবাই মাথা নিচু করে নিঃশব্দে বসে রইল। খানিকক্ষণ অভয় দেওয়ার পর তারা মুখ খুলল এবং জানতে পারলাম সত্যি সত্যি এ ধরনের ব্যাপার ঘটছে। আমাদের স্কুল জীবনে শিক্ষকরা ছাত্রদের পেটানোর জন্য লম্বা বেত হাতে নিয়ে ক্লাসে ঢুকতেন। এখন সেটি সম্ভব নয়। তাই ছাত্রছাত্রীর গায়ে হাত তোলার জন্য এখনকার শিক্ষকদের কোনো একটা শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করতে হয়। এই ক্লাসে ধাতব রুলার দিয়ে একাধিক ছাত্রীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই আমি যথেষ্ট বিচলিত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের বললাম, দেশে আইন হয়েছে শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীর গায়ে হাত তুলতে পারবেন না। কাজেই যদি কোনো শিক্ষক ছাত্রছাত্রীর গায়ে হাত তুলে থাকেন তাহলে তিনি দেশের আইন ভঙ্গ করছেন। দেশের আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি হয়, তাই সেই শিক্ষকেরও শাস্তি পাওয়ার কথা। চুরি ডাকাতি খুন যেরকম অপরাধ ছাত্রছাত্রীর গায়ে হাত তোলাও সেরকম অপরাধ। কাজেই যদি ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা ঘটে তাহলে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকের সঙ্গে কোনো বেয়াদবি না করে যেন শাস্তিটুকু সহ্য করে। তারপর স্কুল ছুটির পর আমার অফিসে এসে যেন আমাকে ঘটনাটি জানায়। আমি কথা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ক্লাস এমনভাবে আনন্দধ্বনি করে উঠল যে, আমি খুব অবাক হলাম এবং আমার মনে হলো হয়তো এরকম ঘটনা স্কুলে নিয়মিতভাবে ঘটছে। আমার তখন মনে হলো, হয়তো অন্যান্য ক্লাসে গিয়েও আমার ছাত্রছাত্রীদের একই কথা বলে আসা উচিত।

আমি তাই একটি একটি করে প্রতিটি ক্লাসে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বলে এলাম, তাদের গায়ে হাত তোলা দেশের আইনে অপরাধ এবং যদি তাদের ওপর এই অপরাধ করা হয়, তাহলে যেন সেটি আমাকে জানানো হয়। প্রতিটি ক্লাসেই আমি বিশাল আনন্দধ্বনি শুনতে পেলাম।

শুধু ছাত্রছাত্রীদের বলেই আমি শেষ করে দিলাম না, আমি সব শিক্ষককে ডেকে তাদের বললাম, তারা কোনো অবস্থাতেই কোনো ছাত্রছাত্রীর গায়ে হাত তুলতে পারবেন না।

তারপর স্কুলে যেটা ঘটল আমি সেটার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। কয়েক দিন পর খবর পেলাম পুরো স্কুলে শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই, ছাত্রছাত্রীরা চেঁচামেচি চিৎকার করে সময় কাটায়, শিক্ষকরা ক্লাসে উদাস মুখে বসে থেকে ছাত্রছাত্রীদের নরক গুলজার করতে দেন। হেডমাস্টার শিক্ষকদের ক্লাসের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বললে তারা মুখ ভার করে আমার কথা বলে, আমি নাকি তাদের বলেছি ছাত্রছাত্রীদের কিছু বলা যাবে না। তাই তারা কিছু বলেন না! এই বয়সের ছেলেমেয়েদের ক্লাসে পুরো স্বাধীনতা দিয়ে দিলে তারা কী তুলকালাম কাণ্ড করতে পারে সেটা অনুমান করা কঠিন নয়। বাচ্চাদের চিৎকার-চেঁচামেচির কারণে স্কুলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায় না, সব শুনে আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছি না! অনেক কষ্ট করে শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থার সামাল দিতে হয়েছিল।

কিছু দিন আগে আমাকে একজন জিজ্ঞেস করেছে, আপনার বেশ কয়েকটি পরিচয় আছে, লেখালেখি করেন, গবেষণা করেন, শিক্ষকতা করেন, কখনো কখনো নানারকম আন্দোলনও করেছেন। আপনার কোন পরিচয়টিতে আপনি পরিচিত হতে চান? আমি এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে বলেছি আমি শিক্ষক পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই। আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করে দেখেছি, শিক্ষকতা না হয়ে অন্য কোনো পেশায় যোগ দিলে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম, একটাও খুঁজে পাইনি। আমার ধারণা আমার মতো যারা শিক্ষক, সেটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকই হোক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকই হোক, সবাই আমার কথায় সায় দেবেন।

তার কারণ আমরা যারা শিক্ষক তারা সত্যিকারের মানুষ নিয়ে কাজ করি, আমরা প্রতিদিন ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে কথা বলি। তাদের পড়াই, পড়তে না চাইলে ভয়ভীতি দেখাই, তারা ভালো কিছু করলে খুশিতে আটখানা হয়ে যাই। তারা ভুল করলে লম্বা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলি। একদল ছাত্র পাস করে বের হয়ে যায় তখন অন্য একদল ছাত্র এসে ঢোকে। দেশে-বিদেশে হঠাৎ হঠাৎ একজনের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। যে বলে, ‘স্যার আমি আপনার ছাত্র’। হয়তো পাশে তার স্ত্রী দাঁড়িয়ে থাকে, কোলে শিশুসন্তান। যে ছাত্রটি প্রায় কিশোর হিসেবে একদিন পড়তে এসেছিল এখন সে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে, দেখে কী ভালোই না লাগে। শুধু আমরা শিক্ষকরা, সেই আনন্দটুকু পেতে পারি, আমার মনে হয় না অন্য কোনো পেশার কোনো মানুষ কোনো দিন আমাদের এই আনন্দটুকু উপভোগ করতে পারবে।

তবে লেখাপড়ার জগতে একটা মৌলিক পরিবর্তন হচ্ছে যেটা আমরা নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছি। একটি সময় ছিল যখন একটি সার্টিফিকেট খুব একটা মূল্যবান বিষয় ছিল। সেই সার্টিফিকেটটি কোন বিষয়ের সার্টিফিকেট সেটা নিয়েও মানুষজন মাথা ঘামাত। শুধু তাই না, ছাত্র বা ছাত্রীটি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটটি এনেছে সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ধীরে ধীরে সেই আস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এখন একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে যাচাই করার একটিমাত্র মাপকাঠি, সেটি হচ্ছে তার যে বিষয়টুকু জানার কথা, সে কি সেটা জানে, নাকি জানে না? কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিতে পারেনি, হাতে কোনো সার্টিফিকেট নেই; কিন্তু পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে এরকম উদাহরণের এখন আর অভাব নেই।

কাজেই আমাদের শিক্ষকদের একটি নতুন দায়িত্ব হচ্ছে, আমাদের ছাত্রছাত্রীদের বোঝানো, নতুন পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে একটি চকচকে সার্টিফিকেট যথেষ্ট নয়। একটি ছাত্রকে যেটি জানার কথা, সেটি জানবে হবে। তার চাইতে বড় কথা একশ বিলিয়ন নিউরন দিয়ে তৈরি মস্তিষ্ক নামের অমূল্য সম্পদটিকে ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে শাণিত করে রাখতে হবে। যখন প্রয়োজন হবে তখন যেন সেটাকে ব্যবহার করা যায়। মুখস্থ করে কিংবা কোচিং ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থী না হয়ে শুধু পরীক্ষার্থী হওয়ার ট্রেনিং নিয়ে নিয়ে তারা যেন নিজেদের মস্তিষ্কটিকে ভোঁতা করে না ফেলে।

আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীকে পড়াই তারা সবাই একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি। গত কয়েক বছর থেকে ছাত্রছাত্রীর মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে আসছে। অনেক সময় মনে হয়, পড়ানোর সময় আমি যেটা বলছি ছাত্রছাত্রীরা সেটা শুনছে, কিন্তু বোঝার জন্য মস্তিষ্কটিকে ব্যবহার করতে তাদের ভিতর এক ধরনের অনীহা, এক ধরনের আলস্য। এ নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি, আমার কাছে কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই; কিন্তু আমার মনে হয়, এটি হচ্ছে ফেসবুক জাতীয় সামাজিক নেটওয়ার্কের বাড়াবাড়ি আসক্তির ফল। এটি নিশ্চয়ই শুধু আমাদের দেশের সমস্যা নয়, সারা পৃথিবীর সমস্যা। আমি একাধিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে দেখেছি, মাদকে আসক্তি এবং ফেসবুকে আসক্তির মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

তবে এ কথাটিও সত্যি, সারা পৃথিবীতেই সব মানুষ দাবি করে এসেছেন তাদের সময়ে তরুণ সমাজ অনেক ভালো ছিল এবং নতুন প্রজন্মের হাজারো সমস্যা! আমি নিশ্চিত আমি এখন যে তরুণ প্রজন্মের সমালোচনা করছি তারা যখন বড় হবে তখন তারাও নূতন প্রজন্মের সমালোচনা করে হতাশা প্রকাশ করবে। কাজেই আমরা যাদের পেয়েছি, তাদের নিয়ে অভিযোগ না করে যেটুকু এগোতে পারি সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চাই।

তবে এ কথা সত্যি, আমার শিক্ষকতা জীবন নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। শিক্ষক হিসেবে আমি খুব সফল নই, আমি জানি আমার ছাত্রছাত্রীরা আমাকে যমের মতো ভয় পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা যথেষ্ট বড় এবং তাদের পূর্ণবয়স্ক মানুষের মতো বিবেচনা করা উচিত। ক্লাসের বাইরে আমি সেটা করি কিন্তু ক্লাসের ভিতরে আমি তাদের প্রায় কিন্ডারগার্টেনের বাচ্চার মতো নজরদারি করি। কোনো রকম ঘোষণা না দিয়ে হঠাৎ একদিন ক্লাসে আমি যখন পরীক্ষা নিয়ে ফেলি তখন তারা নিশ্চয়ই আমার ওপর খুব বিরক্ত হয়। শুধু তাই নয়, আমি ক্লাসে ছেলেমেয়েদের প্রশ্ন করে করে ক্রমাগত উৎপাত করি। আমার ক্লাসে ছেলেমেয়েরা নিশ্চয়ই শান্তিতে বসতে পারে না, তাই যদি আমাকে যমের মতো ভয় পায় তাদের দোষ দেওয়া যাবে না।

ক্লাসে ছাত্রদের প্রশ্ন করা নিয়ে একটা ঘটনার কথা বলে শেষ করে দিই। ক্লাসে পড়াতে পড়াতে একদিন এক ছাত্রকে খুব সোজা একটা প্রশ্ন করেছি, ছাত্রটি প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারল না। আমি খুবই বিরক্ত হয়ে পরের জনকে একই প্রশ্ন করেছি সেও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল না। আমি তখন রীতিমতো রেগে উঠে পরের জনকে প্রশ্ন করলাম, সেও উত্তর দিতে পারল না। তখন আমি একজন একজন করে সবাইকে প্রশ্ন করতে শুরু করেছি এবং তারা কেউ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না এবং আমি ধীরে ধীরে রেগে উঠতে শুরু করেছি। একজন একজন করে যখন আমি একেবারে শেষ ছাত্রটির কাছে পৌঁছলাম এবং সেও আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল না তখন আমার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল সেই ছেলেটির ওপর। তাকে প্রচণ্ড বকাঝকা করে যখন শেষ করেছি তখন ছেলেটি খুবই করুণ গলায় বলল, ‘স্যার আমি আসলে এই ইউনিভার্সিটির ছাত্র না। আমি ওসমানী মেডিকেল কলেজে পড়ি। আপনি কীভাবে ক্লাস নেন সেটা দেখার জন্য এসেছিলাম। ’ পুরো ক্লাস হাসিতে ফেটে পড়ল এবং আমার সমস্ত রাগ মুহূর্তের মধ্যে পানি হয়ে গেল।

শিক্ষকতা জীবনের এরকম টুকরো টুকরো ঘটনার শেষ নেই এবং আমার ধারণা শুধু একজন শিক্ষকের জীবনেই এরকম ঘটনা ঘটা সম্ভব, কারণ আমরা ফাইল নিয়ে কাজ করি না, যন্ত্র নিয়ে কাজ করি না, আমরা কাজ করি রক্ত-মাংসের মানুষ নিয়ে। যাদের চোখে রঙিন চশমা এবং যারা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে!

[বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০১৭ জাতীয় উদযাপন কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে পঠিত]

লেখক : অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest