ছোলায় বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক উপকার।
উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক যাবে। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ছোলার কিছু চমকপ্রদ গুণাগুণ হল-
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে : আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে, যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে : অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন যে খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমে যায়।
ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায়, হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।
ডাল হিসেবে : ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজ এর চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ।
ক্যান্সার রোধে : কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে বেশি পরিমাণ ফলিক এসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজিদেরকে মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়। আর তাই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্থ থাকুন।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে : ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে।
ডায়াবেটিসে উপকারী : ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এর সবই শরীরের উপকারে আসে।
যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে : যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শ্বাসনালিতে জমে থাকা পুরনো কাশি বা কফ ভালো হওয়ার জন্য কাজ করে শুকনা ছোলা ভাজা। ছোলা বা বুটের শাকও শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ রয়েছে এই ছোলায় ও ছোলার শাকে। ডায়াটারি ফাইবার খাবারে অবস্থিত পাতলা আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি’র সভপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান, সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও হেলদি বাংলাদেশের আহবায়ক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এসময় তিনি বলেন, ‘এক পাশে ময়লা আর এক পাশে খাবার খাবো এটা কখনও হেলদি সাতক্ষীরা বা বাংলাদেশ হতে পারেনা। বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এগিয়ে নিয়ে স্বাস্থ্য সেবার মধ্য দিয়ে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে হবে। অনেকে মনে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন হচ্ছেনা। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। দেশের বিভিন্ন মফস্বল এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। অন্যান্য জেলার চেয়ে সাতক্ষীরা জেলা স্বাস্থ্য ও ক্রীড়াঙ্গনে অনেক উন্নত। মাদক নির্মূলে এ জেলা কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। এসময় তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সকল সুখের মুল তাই এ বিষয়ে জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে নারীদেরকে সকল কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমি ফিট তো দেশ ফিট।’ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্য্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান, শিশু শৈল চিকিৎসক প্রফেসর ডা. তাহমিনা বানু, ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেটেটিভ ডা. খায়রুল ইসলাম, প্রাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান, বিআইজিডি’র রিসার্চ এ্যাসোসিয়েটস কানেতা জিল্লুর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল, ডা. কাজী আরিফ আহমেদ, ডা. শামীমা পারভীন, এভারেস্ট বিজয়ী এম.এ মুহিত, এ করিম বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন খান লিপি, এইচ.এফজি’র কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট তানভীর হোসেন, হেলথ ফিন্যান্স এন্ড গর্ভনেন্স এর ড. কামরুল জাহিদ ও ড. সোহেল রানা প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ দৌলা সাগর, কাজী ফিরোজ হাসান, শফিকুল আলম বাবু, অনিমা রাণী মন্ডল, শেখ আব্দুস সেলিম, পৌরসভার সচিব সাইফুল ইসলাম বিশ^াস, প্রকৌশলী সেলিম সরোয়ারসহ সাতক্ষীরা পৌরসভা এবং পিপিআরসি’র কর্মকর্তারা।
