সর্বশেষ সংবাদ-
টিআরএম বিলের ক্ষতিপূরণের বকেয়া ৪৮ কোটি টাকা পরিশোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধনসাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে অবাঞ্চিত ঘোষনাসাতক্ষীরায় জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল:  ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ সাতক্ষীরা জেলার জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট নিরসনে করনীয় শীর্ষক গণতান্ত্রিক সংলাপসাতক্ষীরায় প্রাথমিক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার: জনরোষে অভিযুক্ত নারীর মৃত্যুআশাশুনিতে গাঁজাসহ ব্যবসায়ী গ্রেফতারদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন প্রেস মিনিস্টার সাতক্ষীরার সন্তান সাইদুর রহমানসাতক্ষীরা কুখরালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় মৎস্যঘের থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার: পরিবারের দাবি হত্যাসাতক্ষীরায় ফাইনাল খেলা দেখে ফেরার পর আর্জেন্টিনা সমর্থকের মৃত্যু

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ সদস্য নিহত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আরিফ নামে এক পুলিশ সদস্য নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনায় আরো একজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সেতু টোল প্লাজার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৪২৪ রানের টার্গেট পেল বাংলাদেশ; তামি-মোমিনুলের দ্রুত বিদায়

ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে জয়ের জন্য ৪২৪ রানের টার্গেট পেয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা তাদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান করে। অবশ্য ব্যঅট করতে নেমেই দ্রুত তামি ও মোমিনুলের উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের কেইউ রানের খাতা খুলতে পারেননি। উইকেট দুটিই নিয়েছেন মরনে মরকেল। এ রিপোর্ট লেখার সময় বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ১১। ব্যাট করছেন মুশফিক ও ইমরুল।

এর আগে, ব্যাটিংয়ে দ্যূতি ছড়ানোর পর বল হাতেও আলো ছড়ান মুমিনুল হক। তিনি ৩টি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া ২টি মোস্তাফিজ এবং ১টি লাভ করেন শফিউল ইসলাম।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭৬ রানে এগিয়ে ছিল। এতে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৪২৪ রানের।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করে ৪৯৬ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে বাংলাদেশ ৩২০ রানে অলআউট হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জুটি ভাঙ্গলেন মমিনুল: বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ

মমিনুলের করা ৪৯ তম ওভারের পঞ্চম বলে সুইপ করতে গেলে এলবিডব্লিউয়ের ফাদে পড়েন ডু প্লেসিস। আউট হওয়া আগে ৮১ রান সংগ্রহ করে প্রোটিয়া অধিনায়ক। ডুপ্লেসিস আউট হওয়ার পরের ওভারেই পচেফস্ট্রুমে বৃষ্টি নেমে আসে। একারণে খেলা বন্ধ আছে। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২১২।

এদিকে চতুর্থ দিনের শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনে আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। দলীয় ৭০ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে হাশিম আমলাকে সাজঘরের পথ দেখান তিনি। মুস্তাফিজের বলে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ার আগে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আমলা করেছেন ২৮ রান। আমলার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন ডু প্লেসিস। তার আক্রমণাত্নক ব্যাটিংয়ে লাঞ্চ বিরতির আগেই ৩৫০ রানের লিড পেরিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এর আগে দুই উইকেটে ৫৪ রান নিয়ে রবিবার দুপুরে ফের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে প্রোটিয়ারা। শনিবার তৃতীয় দিনের শেষ বেলাটা মোটামুটি স্বস্তিতেই পার করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনারকে ফেরত পাঠিয়েছে সাজঘরে। তবে প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রানের বড় লিড পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

তিন উইকেটে ৪৯৬ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে করেছে ৩২০ রান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা নির্যাতনে জঙ্গিদের সুযোগ নেয়ার আশঙ্কা অস্ট্রেলিয়ার

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নির্যাতন চলতে থাকলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সহ অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ।

তার ধারণা, আইএস জঙ্গিরা রোহিঙ্গা নির্যাতনকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। রোহিঙ্গাদের ঢাল হিসেব ব্যবহার করে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে তারা।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আইএসসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন তাদের কাজে লাগাতে পারে। এ ব্যাপারে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি।

রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার অযুহাতে ২৫ আগস্টের পর থেকে রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে মিয়ানমার। জীবন বাঁচাতে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তাণ্ডবকে পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত জাতিগত নিধনের উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ইতোমধ্যেই রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চলমান সহিংসতায় বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যাও বাড়াতে পারে। সেকারণে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান করার কথাও বলেন জুলি বিশপ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেখ হাসিনা প্রাচ্যের নতুন তারকা : খালিজ টাইমস

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা ‘খালিজ টাইমস’ রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি মানবিক আবেদনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাচ্যের নতুন তারকা হিসেবে অভিহিত করেছে।

খালিজ টাইমসে প্রকাশিত ‘শেখ হাসিনা জানেন সহমর্মিতার নৈপুণ্য’ শীর্ষক নিবন্ধে কলামিস্ট অ্যালন জ্যাকব বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার জীবন রক্ষায় সীমান্ত খুলে দিয়ে শেখ হাসিনা তাঁর যে সহমর্মিতা ও সমানুভূতি দেখিয়েছেন, সে জন্য এ সপ্তাহে তাঁর চেয়ে বড় কোনো ‘হিরো’ দেখছি না।
জ্যাকব তাঁর কলামে লিখেন, লেখার বিষয় নির্বাচনের আগে সব সময়ে আমাকে কোনো বিষয় এবং ব্যক্তিবর্গের ব্যাপারে ভাবতে হয়, এখানে স্বীকার করতেই হয় যে এ সপ্তাহে আমার লেখার বিষয় দক্ষিণ ভারতের একজন অভিনেতা এবং রাজনৈতিক মাঠে তাঁর আশাবাদী কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখার বিষয় মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, কিন্তু আমি যখন বুঝতে পারলাম, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হচ্ছেন প্রাচ্যের নতুন তারকা, তখন আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলাম। তিনি বলেন, হ্যাঁ, মিয়ানমারে একজন নোবেল বিজয়ীর উজ্জ্বলতা হারানোর বিষয় নিয়ে মিডিয়া অধিক ব্যস্ত থাকায় আমরা এই মহৎ সুযোগটি হারিয়েছি। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক আবেদনটি অবজ্ঞা করায় একটি অপরাধের বোঝা আমাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বলেছেন, এতে তাঁর হৃদয় ভেঙে গেছে।
জ্যাকব বলেন, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি যখন কণ্ঠস্বর হারিয়েছেন, এমন সময় শেখ হাসিনার সোচ্চার হয়ে ওঠা এক বিরাট স্বস্তি। সু চি ও শেখ হাসিনা তাঁদের নিজ নিজ দেশের মুক্তিসংগ্রামের মহানায়কের কন্যা। দুজনই খুব কাছ থেকে ট্র্যাজেডি দেখেছেন। যদিও ফারাকটা বিশাল। মানবতা যখন বিপন্ন, তখন একজন নিছক দর্শক হয়ে থাকার পথ বেছে নিলেন, অপরজন দেখালেন অমায়িক দয়া। শেখ হাসিনার প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত ছোট্ট দেশটিতে একবারে ৪ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে অধিবেশন চলাকালে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে তিন লাখ শরণার্থী পেয়েছি, কিন্তু আমাদের স্থান সংকুলানের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আরও বেশি শরণার্থী গ্রহণের বিশাল হৃদয় আমাদের রয়েছে।’
জ্যাকব লিখেছেন, এটা স্রেফ কোনো অনুকম্পার বিষয় নয়, এতে ট্র্যাজিক পরিস্থিতিতে সাহস প্রদর্শিত হয়েছে।
তিনি বলেন, জার্মান চ্যান্সেলর অাঙ্গেলা ম্যার্কেল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে ১২ লাখ শরণার্থী গ্রহণের সাহস দেখিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যতিক্রম, এর সম্পদ সীমিত। এটি বাংলাদেশ সরকারের কারণে সৃষ্ট কোনো জনস্রোত নয়, তথাপি শেখ হাসিনা তাঁর মানবিকতার জায়গা থেকে সরে যাননি।
জ্যাকব বলেন, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর মতো নেতারা যখন কর্ণধার হন, তখন অভিবাসন সমস্যা নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত বিশ্বে আশার আলো জ্বলে উঠে। তাঁর কর্মকাণ্ড প্রথমে ক্ষীণ মনে হয়েছিল, তবে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা সমস্যা প্রত্যক্ষ করতে খালিজ টাইমস যখন একজন রিপোর্টার পাঠাল, তখনই প্রকৃত সমস্যাটি সামনে চলে আসে। রিপোর্টারের বর্ণনায় উঠে এসেছে, দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর অবর্ণনীয় দুর্দশার চিত্র। ক্ষুধার্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা খাদ্যের জন্য অপেক্ষা করছে, জীর্ণ কুটিরে বসবাস করছে। এ ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে।
জ্যাকব লিখেছেন, বিশ্ব গণমাধ্যম রোহিঙ্গা সংকটকে সু চির চোখে দেখার জন্য অপরাধী। দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দ্বারা দেশছাড়া হওয়া রোহিঙ্গাদের রক্ষা করতে সু চিকে অসহায় মনে হয়েছে। অনেকেই অনুধাবন করতে পারেনি যে দুই বছর আগে তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি নির্বাচনে বিজয়ী হলেও এখন পর্যন্ত দেশটির সামরিক জান্তাই মূল ক্ষমতায় রয়েছে।
সু চি তাঁর দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে দেশ থেকে বিতাড়ন রোধের পরিবর্তে যা করছেন, তা হচ্ছে তিনি নির্বাচনে সাফল্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন কিংবা বলা যায় তিনি ব্যালটের ফায়দা লুটছেন। সু চি এত দিন ধরে যে রাজনৈতিক সংগ্রামটি চালিয়ে এসেছেন, তা সামাজিক ও মানবিক অঙ্গনে সুপ্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় তা থেকে তিনি বিচ্যুত হয়েছেন। তার সামরিক বাহিনী যখন রোহিঙ্গা নিধনে মেতে আছে, তখন তিনি ফার্স্ট কাউন্সেলর হিসেবে ক্ষমতার জাঁকজমক ও সুযোগ-সুবিধায় আটকা পড়ে আছেন এবং এর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।
প্রকৃতপক্ষে তিনি নিজে একটি কোটরে আবদ্ধ হয়ে আছেন এবং প্রতীকী নেতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি যখন মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন তাঁর মধ্যে কোনো আবেগ ছিল না, তাঁকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। তিনি যখন সেনাবাহিনীর পক্ষসমর্থন করে কথা বলছিলেন, তখন তাঁকে তাঁর পূর্বের সংগ্রামী জীবনের ছায়ামাত্র মনে হচ্ছিল।
জ্যাকব বলেন, ‘যখন তাঁর সবচেয়ে বেশি উচ্চকণ্ঠ হওয়ার দরকার ছিল, তখন তিনি সোচ্চার হতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তথাকথিত এই আইকনের জন্য আমার সহমর্মিতা নেই বললেই চলে। গণতন্ত্র যখন পছন্দসই সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে যায়, তখন এটি ত্রুটিপূর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। আর জান্তা ও একনায়কদের সঙ্গে সন্ধি করা সহজ হয়ে যায়। রোহিঙ্গাদের নিয়ে সু চির সুচিন্তিত নীরবতা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। আমাদের একটি সম্পাদকীয়তে আমি এ কথা বলেছি; আরও বলব। যখন মানবতার জন্য চিৎকার করে কথা বলা উচিত, তখন কারও নিশ্চুপ থাকাটা আমার অপছন্দ।
সূত্র: প্রথম আলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘ছেলে-মেয়ের অ্যাপার্টমেন্ট আছে, অথচ বৃদ্ধাশ্রমে আছি ১৮ বছর ধরে’

‘অধ্যক্ষ ছিলাম,কলামও লিখতাম, ছবিও আঁকতাম। এখন এখানে বসে বসেই ছবি আঁকি। গত ১৮ বছর ধরে এখানেই আছি।’ বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের চারতলার বারান্দায় গ্রিলের ভেতর দিয়ে বৃষ্টি দেখতে দেখতে কথা বলছিলেন মুজিবুল হক। বললেন,‘ধানমন্ডিতে ছেলে-মেয়ের অ্যাপার্টমেন্টও আছে। অথচ আমি এখানে আছি গত ১৮ বছর ধরে।’

এত বছর ধরে এখানে কেন জানতে চাইলে-তিনি বলেন, ‘ভালো আছি তাই, অথবা থাকতে হবে তাই আছি। অন্য কোথাও নিরাপদ মনে করি না। স্ত্রী নেই, কিন্তু অন্য যারা আছে তাদের সঙ্গে থাকা যাবে না। আধুনিককালের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে তাল মেলাতে পারি না। তাই বোধহয় আমরা এখানে আছি।’

তিনি আরও বলেন,‘তবে খরচটা এখন বেড়ে গেছে। যেটা অনেকের পক্ষেই সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এখানে যখন প্রথম আসি তখন খাওয়া হয়ে যেত ৬০০-৬৫০ টাকায়। এখন আড়াই হাজার টাকায়ও খাওয়া হয় না। আমি এখানকার পুরাতন বাসিন্দাদের একজন।’

১৮ বছর ধরে একা থাকার কষ্টটা বোধহয় দেখাতে চাইলেন না এই শিল্পী। কথা পাল্টে বলেন, ‘তবে আরও বেশি ভালো লাগে তোমাদের মতো ছেলে-মেয়েরা মাঝে মাঝে এখানে বিরিয়ানি,মোরাগ পোলাও, আইসক্রিম খাওয়ায়। এগুলো আরও বেশি ভালো লাগে। আমি টিভি দেখি বেশি। টিভি দেখতে ভালোবাসি, নিজেকে দেখতেও ভালো লাগে আমার। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের সুখে ভরা, কিন্তু আমরা সেটি মনে রাখি না। কান্নাটাকে বেশি করে দেখি।’

১৮ বছর ধরে একা আছেন, কষ্ট লাগে না– আবার প্রশ্ন করতেই মুজিবুল হক বলেন, ‘আই কেইম অ্যালোন, আই হ্যাভ টু গো অ্যালোন-দ্যাটস ট্রু, দ্যাটস দ্য রিয়েলিটি, দেয়ার ইজ আল্লাহ, দেয়ার উইল বি আল্লাহ-তুমি এটা বিশ্বাস করো বা নাই করো। তাই আমার কোনও কষ্ট নেই। আমি ভালো আছি।’ বলে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মুজিবুল হক।

১ অক্টোবর প্রবীণ দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘে গিয়ে কথা হয় সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই উচ্চ শিক্ষিত, কেউ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন। নাম-ছবি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তাদেরই একজন বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা উচ্চ শিক্ষিত, কেউ কেউ অনেক উঁচু পদে চাকরি করছেন, সংসার করছেন। তাদের শান্তির জন্য সাজানো সংসার ছেড়ে বছরের পর বছর ধরে এই বয়সে একা আছি এখানে। তাই কথা বলতে পারি, কিন্তু নাম এবং ছবি দেওয়া চলবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের স্ত্রী-যিনি নিজেও একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে মানুষ আসে অসহায় হয়ে, সেই শিশু বয়স আর এই বৃদ্ধ বয়স-দুটোই এক সুতোয় গাঁথা। কারও সাহায্য ছাড়া চলা যায় না, অথচ আধুনিক কালের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে আজ আমি এখানে। কিন্তু সবাইকেই বুঝতে হবে, প্রত্যেকেরই বয়স হবে। আজ আমি যাদের জন্য এখানে-তাদেরও একদিন এখানে আসতে হতে পারে। কারণ প্রকৃতি কাউকে ক্ষমা করে না।’ সন্তর্পণে চোখ মুছেন তিনি।

এই নারী আরও বলেন, ‘অন্যের সন্তানকে স্কুলে নৈতিকতা শিক্ষা দিয়েছি, কিন্তু নিজের ঘরেই সেটা করতে পারিনি। কিন্তু একটা মানুষ একা থাকতে পারে না-এই সামাজিক মূল্যবোধগুলো জাগিয়ে তুলতে হবে। মানুষ সামাজিকতা ভুলে গেছে। গাদা গাদা বই পড়ে বড় অফিসার হয়তো হওয়া যায় কিন্তু মানুষ হওয়া যায় না।’

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ৭৮ বছরের চন্দনা শতদ্রু (মিনি মর্জিনা) লেখাপড়া করেছেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে এখানে আছেন। তিনি বলেন, ‘আগে তো এসব ওল্ড হোম ছিল না, কিন্তু এখন কেন হচ্ছে? আগে তো একান্নবর্তী পরিবার ছিল-এখন কেন থাকছে না। ছেলেমেয়েরা কি দুজন মানুষকে খরচ দিয়ে চালিয়ে রাখতে পারে না– প্রশ্ন করে তিনি বলেন, মানুষ সামাজিকতা ভুলে গেছে, প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে শিকড় ভুলে গেছে।’

ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো গান গাইতেন নাদিরা রহমান। তিনি বলেন, ‘গান গেয়েছি-ভাইয়ের মায়ের এত স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ। কই গেল সেই গানের কথা? এখন তো কোথাও কোনও ভালোবাসা নেই, স্নেহ নেই, শ্রদ্ধা নেই। তাই ছোটবেলা থেকে পাঠ্যপুস্তকে একটা অধ্যায় রাখতে হবে। যেখানে শেখানো হবে, বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেলেমেয়েদের দেখতে হবে, কী দরকার আমাদের দেশে এসব প্রতিষ্ঠানের (বৃদ্ধ নিবাস)।’

তিনি বলেন, ‘ছোটবেলার শিক্ষাটা মজ্জাগত হয়, সারাজীবন মনে থাকে। বিদ্যালয়গুলোয় সেমিনার করতে হবে, ছোটবেলাতেই তাদের বোঝাতে হবে, এ শিক্ষাটা দিতে হবে যে বৃদ্ধ হলে বাবা-মাকে তোমাদের দেখতে হবে। বংশ পরম্পরায় এটা দায়িত্ব হয়ে এসেছে সমাজে, সেই দায়িত্ববোধকে কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না। তাদের দেখতে হবে, ব্যবস্থা করতে হবে। কয়েক বছর পর যখন বৃদ্ধদের সংখ্যা বাড়বে তখন তারা যাবে কই। সরকার কতজনকে এরকম ওল্ডহোমে রাখবে।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত এপ্রিলে দেশে ফিরে এই নিবাসে আশ্রয় নিয়েছেন ফিরোজা বিশ্বাস। স্বামী মারা গেছেন। পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে দুজন যুক্তরাষ্ট্র, দুজন কানাডা আর একজন আছেন অস্ট্রেলিয়াতে। তিনি বলেন, ‘সবাই যে যার কাজে চলে যায়, একা খুব বোরিং লাগতো। ছেলে-ছেলের বউরা কাজে চলে যেত, কিছুদিন নাতি-নাতনিদের সঙ্গে কাটিয়েছি। তারাও এক সময় বড় হলো, যার যার নিজের জগৎ হলো। তখন আমি একা হয়ে গেলাম আবার। কিন্তু আমি কথা বলতে ভালোবাসি। চেয়েছিলাম স্বামীর কবরের পাশে আমার কবর হোক। সে ব্যবস্থাও আমি করে রেখেছিলাম আগেই। আমরা স্বামী-স্ত্রী যতোটা না ছিলাম, তার চেয়েও বেশি ছিলাম বন্ধু।’

তিনি বলেন, ‘ফেলে আসা জীবন আনন্দের, কিন্তু সেটা নিয়ে চোখের পানি ফেলি না আমি।’ আমেরিকার বিলাসি জীবন ছেড়ে এই প্রবীণ নিবাসে একা আছেন, আপনার ঘুম হয়– প্রশ্ন করলে অশ্রুসজল চোখে ফিরোজা বিশ্বাস বলেন, ‘স্বাধীন মানুষের ঘুম না হলে কার হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আটলান্টিকের ওপরে অচল হলো বিমানের ইঞ্জিন

আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর প্যারিস থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী একটি এয়ার ফ্রান্সের বিমানের ইঞ্জিনের কিছু অংশ ভেঙ্গে পড়লে বিমানটি জরুরী অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

গ্রিনল্যান্ড পার হয়ে উড়ে যাবার সময় এয়ারবাস এ৩৮০ উড়োজাহাজের চারটি ইঞ্জিনের একটি অচল হয়ে পড়ে।

এয়ার ফ্রান্সের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিমানটিতে ৪৯৬ জন যাত্রী এবং ২৪ জন ক্রু ছিলেন। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

ডেভিড রেহমার নামের একজন সাবেক উড়োজাহাজ ম্যাকানিক ঐ বিমানটিতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, তার কাছে মনে হয়েছে ইঞ্জিনের ফ্যান বিকল হয়ে পড়ায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি বলেন, হঠাৎ করেই বিমানটি নড়ে ওঠে এবং এরপর বিকট এক শব্দ শোনা যায়। যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।

রেহমার বলেন, কয়েক মুহূর্তের জন্য তার কাছে মনে হচ্ছিল বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়বে।

তবে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে উড়োজাহজটি স্থিতিশীল হবার পর তিনি বুঝতে পারেন যে বিমানের ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পাইলটরা খুব দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেন বলে তিনি জানান।

তিনটি ইঞ্জিনের সাহায্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা উড্ডয়নের পর কানাডার পূর্বাঞ্চলে ল্যাব্রেডর বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি।

যাত্রীদের তোলা ছবিতে দেখা যায় ইঞ্জিনের সামনের অংশটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং ডানার ওপরের অংশও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে কানাডার ছোট বিমানবন্দরটি এয়ারবাস এ৩৮০-র মত বড় বিমান দেখভাল করার মত উপযুক্ত না হওয়ায় যাত্রীরা বিমানের ভেতরেই আটকে রয়েছেন।

রেহমার বলেন, যাত্রীদের স্থানান্তরের জন্য মন্ট্রিয়াল থেকে দুটি এয়ার ফ্রান্স ৭৭৭ উড়োজাহাজ আসছে বলে তাদের জানানো হয়েছে।

এয়ার ফ্রান্স একটি বিবৃতিতে বলেছে, বিমানটির একটি ইঞ্জিন ‘মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে এবং তাদের কর্মীরা “ঘটনাটি সুচারুভাবে সামাল দিয়েছে”।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাতালান গণভোট: রাতভর ভোটকেন্দ্র পাহারা দিচ্ছেন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা

স্প্যানিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই স্থানীয় সময় সকাল থেকে গণভোট শুরু হবে বলে জোর দিয়ে বলছেন কাতালান নেতারা।

আঞ্চলিক নেতারা বলছেন, ব্যালট বাক্স তৈরি এবং প্রচুর ভোটার সমাগম হবে বলে তারা আশা করছেন।

তবে ভোটগ্রহণ থামানোর জন্য অতিরিক্ত পুলিশ পাঠাচ্ছে স্প্যানিশ সরকার।

ভোটগ্রহণ শুরু হবার অনেক আগেই গভীর রাত থেকে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেছেন ভোটাররা। বিচ্ছিন্নতার সমর্থনকারী হাজার হাজার মানুষ রাতভর ভোটকেন্দ্র হিসেবে ঘোষিত স্কুলগুলো ঘিরে অবস্থান করছেন।

পুলিশ বলছে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে।

গণভোটের আয়োজনকারীরা ভোটকেন্দ্র ‘রক্ষার’ জন্য ভোটারদের ভোর ৫ টায় (জিএমটি ৩:০০ টা) উপস্থিত হবার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৯:০০ টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবার কথা রয়েছে।

সমাজিক মাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় আয়োজকরা বলেছেন “আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে সকল বয়সের প্রচুর মানুষ যেন উপস্থিত থাকেন”, যেকোন পুলিশী বাঁধা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিহত করারও আহ্বান জানানো হয়।।

রোববার “গণতন্ত্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন” স্থানীয় কাতালান একটি টেলিভিশনকে বলেন আঞ্চলিক ভাইস-প্রেসিডেন্ট ওরিওল জাঙ্কারাস।

“আমরা অনেকে বাঁধা অতিক্রম করেছি, এমন কিছু নেই যা আমরা পার হতে পারবো না।” তিনি বলেন “আমরা যদি নিজেদের অধিকার রক্ষা না করি, তাহলে কে করবে?”

ব্যালট পেপারে শুধুমাত্র একটি প্রশ্নই থাকবে: “আপনি কি চান যে কাতালোনিয়া প্রজাতন্ত্রের আদলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হোক?” উত্তর দিতে হবে হ্যা অথবা না।

কাতালোনিয়ার জনসংখ্যা ৭৫ লাখ। সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যার সমান। স্পেনের মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ এই কাতালোনিয়ায়। স্পেনের উত্তর-পূর্বের এই প্রদেশটির রাজধানী বার্সেলোনা। তাদের আছে নিজস্ব ভাষাও। বার্সেলোনা বিশ্বের অত্যন্ত জনপ্রিয় শহরগুলোর একটি, ফুটবল এবং একই সাথে পর্যটনের কারণে।

স্পেন সরকার বলছে, এই গণভোট অবৈধ। শুধু তাই নয়, আদালত থেকেও এই ভোটের আয়োজন বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest