সর্বশেষ সংবাদ-
আ.লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে সরকার: নাহিদএনসিপির কমিটি পুনর্গঠন: পাটওয়ারী-হাসনাত-সারজিস-আসিফের পদোন্নতি৮১ বছরে জাতিসংঘ: বিশ্ব চায় প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন – নিকোলাস বিশ্বাসএরশাদের ৯ বছরের শাসন আমলে দেশের মানুষ সবচেয়ে ভালো ছিল: সাবেক এমপি আশুসাতক্ষীরায় জামায়াতে যোগ দিলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেনসাতক্ষীরায় পৌর ও সদর উপজেলা তাঁতীদল এর সাংগঠনিক আলোচনা সভাকলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক- সম্পাদক ফারুকীসাতক্ষীরা সদরের ৫ নং শিবপুর ইউনিয়নে কৃষক দলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিতশ্যামনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী শাহ আলমের ব্যানার কেটে নষ্ট করার অভিযোগসাতক্ষীরা- খুলনা মহাসড়কের আঠারো মাইলে ঝরলো ৬ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা সদরের এল্লারচরে পোস্ট অফিসের জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক দখল করে দোকানঘর ও বাড়ি নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে।
সদরের ফিংড়ী ইউনিয়নের এল্লাচর বাজারে অবস্থিত এল্লারচর পোস্ট অফিসের নামে বালিথা এল্লাচর মৌজায় ২৪৬ নং দাগের, ৭নং খতিয়ানে ১০ আগস্ট’১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ডাক বিভাগের নামে ০৩ শতক জমি রেকর্ড করা হয়। অথচ সরেজমিনে উক্ত জায়গা না থাকায় পোস্ট অফিসের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরৎ যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সদর উপজেলার ওই এলাকার যে কোন ধরনের চিঠি, মানি-অর্ডার, পে-অর্ডার, লিগ্যাল নোটিশসহ, পোস্ট অফিস সংক্রান্ত যেকোন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এল্লাচর বাজারে একটি দোকানঘরে ঢেলামেশাভাবে ডাকঘরের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে পোস্ট মাস্টার আক্তারুল ইসলাম। বর্তমানে পিওন জয়দেব বাবু রাস্তার পাশের অন্য একটি কম্পিউটারের দোকানে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

জানা যায়, ডাকঘরের পাশে একটি বসত ঘর, বিথিকা জুয়েলার্স ও অনিক লাইট হাউজ নামে ২টি দোকান রয়েছে যা ওই এলাকার প্রভাবশালী নিমায় চন্দ্রের দখলে। ডাক ঘরের জায়গা ০৩ শতক হলেও বাস্তবে ০১ শতকেরও কম জায়গায় ১টি অব্যবহার যোগ্য পাকা ডাকঘর আছে। দীর্ঘদিন ঘরটি পরে থাকা এবং সংস্কারের অভাবে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যে কারণে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন ডাকঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়। সে মোতাবেক কাজ শুরু করতে যেয়ে সরেজমিনে জায়গা না থাকায় উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরৎ যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানাগেছে। এলাকাবাসী জানায় পোস্ট অফিসের ওই জায়গাটি ১৯৮৮ সালের আগে হিন্দু জমিদারদের মাঠ ছিল। ১৯৮৮ সালে সার্ভেয়ার আসলে তৎকালীন মেম্বর সন্তোষ সিং পোস্ট অফিসের নামে ওই ০৩ শতক জায়গা লিখে দিয়ে যায়। পরবর্তীতে পোস্ট অফিসের জায়গা দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী নিমায় চন্দ্র বিথিকা জুয়ের্লাস ও অনিক লাইট হাউজ নামে ২টি দোকান গড়ে তোলে। কিছু কুচক্রী ব্যক্তিদের জন্য পোস্ট অফিসের জন্য টেন্ডার হওয়ার পরেও কাজ না হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তাদের দাবি পোস্ট অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরৎ গেলে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চিরতরে বিলুপ্ত হতে পারে। ওই এলাকার সর্বস্তরের মানুষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ কামনা করে পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করার আহবান জানিয়েছেন।

এঘটনায় ফিংড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শামসুর রহমান বলেন, “জায়গাটি পোস্ট অফিসের নামে রেকর্ড হয়েছে। কিন্তু পোস্ট অফিসের কোন ভবন ছিলো না। অনেক আগে পোস্ট মাস্টার বটতলায় বসে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতো এবং বট গাছে বক্স ঝুলানো ছিলো। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি সমিতির ঘরে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আমারও চাই পোস্ট অফিসের ভবন নির্মাণ করা হোক।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ রাখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ মঙ্গলবার শুরু হওয়া তিনদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সব মিলিয়ে মোট ২৩ দফা নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

২৩ দফার মধ্যে আরো বলা হয়েছে, তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। মানুষ যেন শহরমুখী না হয়। শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ যাতে না বাড়ে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে জেলা প্রশাসকদের ব্রতী হতে হবে।

ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমাতে উন্নয়ন কর্মসূচি এমনভাবে গ্রহণ করতে হবে যাতে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ উপকৃত হয়। বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরো সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, গ্রামের মুরুব্বি, নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী, নারী সংগঠক, আনসার-ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ, এনজিওকর্মীসহ সমাজের সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার প্রদান ও আদালতে মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে কার্যকর করতে হবে।

জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে।

শিক্ষার সর্বস্তরে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভূমি রক্ষায় আরো সচেষ্ট হতে হবে।

কৃষি-উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনাকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী হতে হবে।

ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও এসডিজির সফল বাস্তবায়নে মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই সংক্রান্ত আইন ও বিধি বিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘ্ন করা এবং পেশিশক্তি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভোক্তা অধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

নারী উন্নয়ন নীতি সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ এবং নারী ও শিশু পাচার রোধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে ইতিহাস চেতনা, জ্ঞানস্পৃহা ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে।

কঠোরভাবে মাদক ব্যবসা, মাদক চোরাচালান এবং এর অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে সরকারি ভূমি রক্ষায় সজাগ থাকতে হবে।

পার্বত্য জেলাগুলোর উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণের পাশাপাশি এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। পর্যটনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।

এসবের বাইরে নিজ নিজ জেলাভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে এগুলো সমাধানের উদ্যোগ এবং নদীভাঙনের শিকার ও গৃহহীনদের ঘর-বাড়ি তৈরি করে দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন।

এ সময় মঞ্চে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি হজ ফ্লাইটে (এসভি ৮১১) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ৩১৩ হজযাত্রী। উড্ডয়নের মিনিট খানেক আগে এ ঘটনা ঘটেছে বলে হজ যাত্রী সূ্ত্রে জানা গেছে। খবর বাংলানিউজের।

খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটলেও এসভি ৮১১ ফ্লাইটের ৩১৩ জন যাত্রী নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত সবাইকে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনা হয়। পরে দুপুর পৌনে ২টায় অন্য আরেকটি ফ্লাইটে হজ যাত্রীদের জেদ্দা পাঠানো হয়। ফ্লাইটটির বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা ত্যাগ করার শিডিউল ছিলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এম. বেলাল হোসাইন : সাতক্ষীরায় বিরল রোগে আক্রান্ত ১০ মাস বয়সের শিশু শেখ ইব্রাহীম। জন্মের ৭ মাস বয়স থেকে শিশু ইব্রাহীম এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে তার পিতা শেখ জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের শেখ জয়নাল আবেদীনের শিশুটির গলায় ও উরুর গোড়ায় বড় আকারে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৩ মাস পূর্বে তার গলায় ছোট আকারে একটি ক্ষতের চিহ্ন দেখা দেয় সেটা ধীরে ধীরে গলার চারিদিকে বিস্তার হচ্ছে। শিশুটির পিতা অসহায় ফল বিক্রেতা শেখ জয়নাল ও মাতা হাসিনা বেগম জানান ৭ মাস বয়সে রোগ দেখা দিলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডাক্তার নারায়ন প্রসাদ সান্যালকে দেখালে কোন উন্নতি না হওয়ায় তার পরামর্শে ঢাকার সমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ডাঃ কবির চৌধুরীর তত্বাবধানে ২০ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও কোন উন্নতি না হওয়ায় ডাক্তার কবির চৌধুরী উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের ভেলোরে ক্রিস্টিয়ান মেডিকেল কলেজে ডা. অনু করুলার নিকট যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সামান্য ফল বিক্রেতা বাবার কোন উপায় না থাকায় তার সর্বস্ব বিক্রি করে ভেলোরে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ইব্রাহীমের উরুর গোড়ায় একই ক্ষত চিহ্ন দেখা দিলে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে ডা. অনু কোরুলা বলেন, তার বোনমেরা পরিবর্তন ছাড়া তাকে সুস্থ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বাংলাদেশ টাকায় প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। যা একজন হতদরিদ্র নিঃস্ব ফল বিক্রেতার পক্ষে বহন করা সম্ভব না। তিনি কিভাবে শিশু সন্তানের চিকিৎসা করাবেন তা নিয়ে রয়েছেন দুঃশ্চিন্তায়। তিনি তার শিশুটির সুচিকিৎসায় সরকারের উচ্চ মহলসহ দেশের বিত্তবানদের নিকট মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা মাতা হাসিনা হিসাব নং ২১৬৮৫ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ সাতক্ষীরা শাখা। যোগাযোগ: ০১৭১৬৫৭০১৭৭।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কথা না শোনায় আজ তাঁরা ইউএনওকে জেলে ঢোকাচ্ছে। নির্বাচনের সময় কথা না শুনলে নির্বাচন কমিশনারকে জেলে ঢুকিয়ে দেবে। আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র আর ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।’

আজ মঙ্গলবার বরিশাল টাউন হলে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন এমপি আর ভোটারবিহীন ভোটের যে সংসদ, সেই সংসদের সংশোধিত সংবিধানে নির্বাচন এই দেশের মানুষ মেনে নেবে না।’ নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে এখন থেকেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ছিলেন আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যে কারণে তাঁর সময়ে জাতীয় নির্বাচনে সংসদে গিয়েছিল আওয়ামী লীগের ৩৯ জন সংসদ সদস্য। অথচ আজ আমাদেরকে সভা সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না। ঢাকায় মানিক মিয়া এভিনিউ ডিভাইডার দিয়ে বিভক্ত করাসহ আরো নানাভাবে সমাবেশ করার জায়গাগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। তাদের পক্ষে জনগণ নেই। সভা-সমাবেশ করলে লোক হয় না। যে কারণে আজ সমাবেশের জায়গাগুলো নষ্ট করা হচ্ছে।’

দেশে তিন ধরনের শিক্ষানীতি চলছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে গেলে ১৫-২০ লাখ টাকা লাগে। পরীক্ষার দাবিতে ছেলেরা রাস্তায় নামলে গুলি করে তাদের চোখ অন্ধ করে দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পর আবার তারা মিথ্যাচারও করে। বলে যে নিজেদের কোন্দলে নাকি এসব ঘটনা ঘটেছে। তাদের মিথ্যাচার আকাশ ছুঁয়েছে। তারা প্রবৃদ্ধির যে হার দাবি করে তাও মিথ্যা। গবেষণা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এ দেশে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ২-এর বেশি নয়। মিথ্যা বলতে বলতে দেশকে তারা ধ্বংসের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মানুষকে ১০ টাকা কেজির চাল খাওয়ানোর কথা বলে এখন ৫০ টাকায় চাল খাওয়াচ্ছে। সব জিনিসপত্রের দম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পলায়নের কোনো ইতিহাস নেই বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘সেই ইতিহাস কেবল আপনাদেরই আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনাদের নেতারা ভারত আর পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবরণের দিনে আপনাদের দলের নেতা বোরখা পরে পালাতে গিয়ে বর্ডারে ধরা পড়েছিলেন, ১/১১-তে আপনারা আমেরিকায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পালিয়ে যাওয়ার কেনো ইতিহাস নেই।’

দলের যুগ্ম মহাসচিব এবং বরিশাল মহানগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বহু নেতা। একটানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজির হন দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

বক্তব্যের শেষপর্যায়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন এবং আগামী নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া ও ভোট কেন্দ্রগুলোতে দুর্গ গড়ে তোলার জন্যে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি বিলকিস জাহান শিরিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল (উত্তর) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম নান্নু, কেন্দ্রীয় নেতা এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক এমপি বরিশাল (উত্তর) জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, বরিশাল (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিন, বরিশাল মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হায়দার আলী খান লেনিন, বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক তারিন, বশির আহম্মেদ, আবুল কালাম আজাদ, কামরুজ্জামান রতন এবং শামিমা আকবরসহ আরো অনেকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বাংলাদেশের কাটার মাস্টার খ্যাত মুস্তাফিজ। তার অভিষেক খেলা হয় ভারতের সাথে। তার জাদুকরি কাটার বলে ভারত লন্ডভন্ড হয়ে যায়। সেই ম্যাচ থেকে সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন এই বাংলাদেশের বাহাতি কাটার বয়।

মুস্তাফিজের জাদুকরি কাটার, স্লোয়ার, ইয়র্কারের সংমিশ্রণে দুর্দান্ত বোলিং দেখে ডাক পায় ভারতের আইপিএলে। সেখানেও গিয়ে সবাই কে অবাক করে দেয়। আইপিএল থেকেও সারা পৃথীবিকে আবারো তাক লাগিয়ে দেয় মুস্তাফিজ। কিন্তু হঠাৎ করে ইনজুরিতে পড়ে যায় মুস্তাফিজ। তার কাঁধের ইনজুরির কারণে তাকে অস্ত্রপাচার করতে হয়ে। হাতের ইনজুরির কারণে তাকে আর সেই ভাবে জ্বলে উঠতে দেখা যায়নি। কয়েকটি ম্যাচ ছাড়া ভালো বল করতে পারেননি তিনি।

এবার বাংলাদেশের সাবেক বোলিং কোচ সরওয়ার ইমরান জানালেন অন্য কথা। তিনি বলেন, মুস্তাফিজের বোলিংয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। তার বোলিংয়ে আরও বৈচিত্র্য আনতে হবে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মুস্তাফিজের ‘স্টক বল’ কাটার দেখতে না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশও মনে করেন, মুস্তাফিজের বোলিংয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। অনুশীলনে তার বোলিংয়ে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন তিনি। মুস্তাফিজের বোলিংয়ে নতুন অস্ত্র যোগ করতে চান ক্যারিবিয়ান এই কোচ।

বোলিং কোচ কোর্টনিভাষায়, মুস্তাফিজের বোলিং নিয়ে কাজ করছি। ট্রেনিং শেসনে তার বোলিংযে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। উইকেটের খুব কাছে থেকে বল করানোর চেষ্টা করছি। এখানেই শেষ নয়, তার বোলিংয়ে নতুন অস্ত্র যোগ করার চেষ্টা করছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : দীর্ঘদিন পর খালেদা জিয়াকে কাছে পেয়েছেন একমাত্র সন্তান তারেক রহমান, দুই পুত্রবধূ ও নাতনিরা। তাই সারাক্ষণ তাকে ঘিরেই যেন সব তৎপরতা। দুই পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান ও শার্মিলা রহমান সার্বক্ষণিক শাশুড়ি খালেদা জিয়ার সেবা-শুশ্রূষা করছেন। খালেদা জিয়াও যেন রাজনীতিকে কিছুটা দূরে রেখে পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাতে চাইছেন। তাই পরিবারের লোকজন ছাড়া আর কারও সঙ্গে এখন তিনি দেখাও করছেন না। লন্ডন বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সেখানে পৌঁছার পর থেকে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্য, সফরসঙ্গী একান্ত সহকারী আবদুস সাত্তার আর গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম ছাড়া বাইরের কারও কোনো সাক্ষাৎ হয়নি।
পশ্চিম লন্ডনের সারে জেলার কিংস্টন এলাকায় ছেলের বাসায় থেকেই নিজের চিকিৎসা নিচ্ছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। সোমবার একই এলাকায় অবস্থিত ‘কিংস্টন হাসপাতালে’ প্রিয় মাকে চোখের ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে এসেছেন তারেক রহমান।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোট ছেলে কোকোর মৃত্যুর পর অনেকটা ভেঙে পড়েন খালেদা জিয়া। পরিবারের বাকি সদস্যরা সবাই লন্ডনে। তিনি একা দেশে থাকেন। অনেকদিন ধরেই তাই ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনিদের কাছে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন খালেদা জিয়া। সে কারণেই পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে লন্ডনে যাওয়া। আর এখন পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গেই তিনি তার সবটুকু সময় ব্যয় করছেন।
গত ১৫ জুলাই রাতে ঢাকা থেকে রওনা দেওয়ার পরদিন লন্ডনের হিথ্র বিমানবন্দরে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে খালেদা জিয়াকে বাসায় নিয়ে যান। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত গত ১০ দিনের মধ্যে পরিবারের বাইরের কোনো ব্যক্তির সঙ্গে তার কোনো দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অপ্রতিম রহমান : ইউএনও গাজী তারিক সালমনকে হেনস্তার ঘটনায় এবার বরিশালের সেই দুর্নীতিবাজ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলী হোসেনকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী আইনমন্ত্রণালয় এই সুপারিশ ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এর আগে গতকাল বরিশাল ও বরগুনা জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হয়েছে একই ঘটনার জেরে।

উল্লেখ্য, দেশব্যাপী আলোচিত চলমান ঘটনা শিশুদের আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি দাওয়াতপত্রে ব্যবহার করায় আগৈলঝাড়ার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী তারিক সালমানের বিরুদ্ধে ৭ জুন ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানি মামলা হয়েছিল। চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে এই মামলাটিরবাদী হলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। বর্তমানে বরগুনা সদর উপজেলায় কর্মরত ইউএনও গাজী তারিক সালমান ১৯ জুলাই আদালতে হাজির হলে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। তবে এর দুঘণ্টা পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জামিন মেলে।

ইউএনও গাজী তারিক সালমনকে জেলহাজতে পাঠানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আলী হোসাইন যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার সঙ্গে বাস্তবতা ভিন্ন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তবে এবিষয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলেও নিশ্চিত হয়েছে আইনমন্ত্রণালয়।
এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণে দেখা গেছে, ওই দিন (১৯-৭-২০১৭) হাজতখানার আসামী গ্রহণের রেজিস্ট্রি খাতায় অন্য আসামীদের সঙ্গে গাজী তারিক সালমনের নামও ছিল। ওই রেজিস্ট্রারে তার নাম ছিল ১ নম্বর ক্রমিকে। শুধু তাই নয় সেখানে তারিক সালমনের পিতার নামের পাশাপাশি স্থায়ী ঠিকানাও উল্লেখ ছিল। পাশেই নির্দেশদাতার সূত্র হিসেবে লেখা রয়েছে ‘সিএমএম’ (চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট)। সিআর মামলা নং ৪২৭/১৭ (সদর) আসামী হিসেবে ইউএনও গাজী তারিক সালমন সেদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের কাছে দেয়া লিখিত ব্যাখ্যায় বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আলী হোসাইন বলেন, ইউএনও গাজী তারিক সালমনের জামিন নামঞ্জুরের কোন আদেশ ওইদিন তিনি দেননি। ব্যাখ্যায় তিনি আরো বলেন, ‘আদালতের কার্যপ্রণালী শেষে এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় এসে শুনি ইউএনও-র জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে মর্মে অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তার জামিন আবেদন একটি বারের জন্যও নামঞ্জুর করা হয়নি। ফলে জেল হাজতে পাঠানোর কোন প্রশ্নই উঠে না।’
“ইউএনও-র পক্ষে নথি দাখিল হলে এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অবসান হলে জামিনের আবেদন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারার আবেদন আইনানুগ প্রক্রিয়া পালনপূর্বক মঞ্জুর ক্রমে জামিন প্রদান করা হয়। ইউএনওর আদালত কক্ষ ত্যাগের পরে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা যাতে বিঘিœত না হয় এবং অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি পরিহারের জন্যই আমি তৎক্ষণাৎ জামিনের দরখাস্তের আদেশ না দিয়ে নথি দাখিল হলে শুনানি শেষে আদেশ দেয়া হবে বলে উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি।”
বিচারক তার ব্যাখ্যায় আরো বলেন, ‘(কোতোয়ালি) মামলাটি শুনানি চলাকালে উৎসুক জনসাধারণের রোষানল হতে ইউএনও-র ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য শুনানি মুলতুবি করা হয়। ইউএনওর আইনজীবী মোখলেছুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাগজাত (নথি) দাখিল করতে বলি এবং মৌখিক আদেশ দেয়া হয় যে, নথি দাখিলের পরে পুনরায় শুনানি হবে। আমি তখন ইউএনওকে আদালত কক্ষে বসাতে বলি। আদালতে কর্তব্য পালনরত পুলিশ সদস্যগণ ইউএনও-র সার্বিক ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাধ্যমত চেষ্টা করেন।’ “ইউএনওকে আদালতের কাঠগড়া হতে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে আদালতের কক্ষে বসানোর জন্য আদালত কক্ষের এক দরজা দিয়ে বের হয়ে বারান্দা ব্যবহার করে অন্য দরজা দিয়ে আদালত কক্ষে আনতে হয়েছে। এই সময়ে মিডিয়ার কর্মীরা বা অন্য কেউ কোন ছবি তুলেছেন কিনা তা অবলোকন করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। এই সময়ে কি সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তাও আমি বিচারকার্য পরিচালনাধীন থাকায় তা জানতে পারিনি।”

কেবল সার্কিট হাউসে ভাড়া বকেয়া নয়, বিনা ভাড়ায় লঞ্চে যাতায়াতের কথা ফাঁস হয়েছে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আলী হোসাইনের বিরুদ্ধে। যাত্রী চাপ থাকায় ঈদুল ফিতরে পছন্দের বিনা ভাড়ার সিটের টিকেট দিতে বিলম্ব হওয়াতে গ্রীন লাইন ওয়াটারওয়েজের কর্মকর্তা মো. লিপটনকে পুলিশ দ্বারা ডাকিয়ে নেওয়া হয়েছিল। একথার সত্যতা স্বীকার করেন কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আওলাদ হোসেন। বিচারকরা প্রভাব খাটিয়ে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করলে এটা নৈতিকতার পরিপন্থি বলে জানালেন নাগরিক সমাজের নেতৃস্থানীয়রা।
গ্রীন লাইন ওয়াটারওয়েজের কর্মকর্তা মো. লিপটন বলেন, প্রায় আড়াই বছর আগে বরিশাল টু ঢাকা রুটে নদীপথে তাদের গ্রীন লাইনের যাত্রা শুরু হয়। এর মাস কয়েক পরই চিফ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার মো. সুমন হাওলাদার তাদের বিচারক মো. আলী হোসাইনের জন্য টিকেট নিতে আসেন। বিনা ভাড়ায় টিকেট চাইলে অপারগতা প্রকাশ করলে নানা ধরনের হয়রানির ভয় দেখায়। এরপর টিকেট দিতে রাজি হলেও তাও আবার সৌজন্য লেখা যাবে না বলে আপত্তি তোলেন পেশকার সুমন। অবশেষে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে চাহিদা অনুযায়ী টিকেট দিতে বলেন। প্রতি বৃহস্পতিবার চিফ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হোসাইন বরিশাল থেকে ৩টার লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। মাস ছয়েক হলো তার সাথে আরো যুক্ত হয়েছেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গোলাম ফারুকের জন্য বিনা ভাড়ায় টিকেট নেওয়া। এই দুই বিচারককে তাদের পছন্দের ছিট দিতে হয়।
গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, এবার ঈদুল ফিতরে দুই বিচরকের পছন্দের সিট দিতে না পারায় বরিশাল কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাকে ডেকে নিয়েছিলেন। অবশ্য পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে তার সাথে খারাপ কোন আচরণ করেননি।
এনিয়ে কথা বলার জন্য চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বা পেশকারকে মুঠোফোনে বার কয়েক কল দিলেও তারা রিভিস করেননি। তবে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, তাদের কাছে বলায় গ্রীন লাইনের কর্মকর্তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন মাত্র।
অপরদিকে ২০১৫ সালে ২৭ অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত সার্কিট হাউজের ৭ নম্বর কক্ষে বাস করে মাত্র ৫ দিনে ৩৯০ টাকা ভাড়া প্রদান করেছেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন। তার কাছে ৯৩ হাজার ৯৫০ টাকা পাওনা আছে বলে ৪ আগস্ট ২০১৬ তারিখ ওই সময়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর কল্যাণ চৌধুরী চিঠি দিয়েছিলেন। সার্কিট হাউসের দায়িত্বে থাকা এনডিসি মোহাম্মদ নাহিদুল করিম বলেন, বকেয়া ভাড়া এখন পর্যন্ত পরিশোধ করেননি চিফ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
লঞ্চে বিনা ভাড়ায় টিকেট নেওয়া সার্কিট হাউসের ভাড়া পরিশোধ না করার বিষয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর গিয়াস উদ্দিন কবুল বলেন, তিনি জানতেন লঞ্চে তাদের কোটায় থাকা সিটে ভাড়া পরিশোধ করে বিচারকরা যাতায়াত করেন। ভাড়া না দিয়ে যাতায়াত করে থাকলে এটা নৈতিকতা বিরোধী। এ নিয়ে সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম ইকবাল বলেন, বিচারকদের পরিচ্ছন্ন মনোভব থাকা আমাদের কাম্য। এ বিষয়গুলো সমাজের মানুষ জানতে পারলে তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিবে এটাই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে ডেইলি সাতক্ষীরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ুন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest