সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ৫০ হাজার টাকা জরিমানাদেবহাটায় বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযানবিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতক্ষীরায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহসাতক্ষীরায় ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজআশাশুনির মহিষকুড় মৎস সেট সংলগ্ন সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধনশ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন : সভাপতি মনির- সাধারণ সম্পাদক লিটনঅবৈধভাবে বালু উত্তোলন: সাতক্ষীরার গাবুরায় লাখ টাকা জরিমানাতালায় জেলে-কৃষকের জীবন-জীবিকার কথা শুনলেন ড. হোসেন জিল্লুরদেবহাটায় ম্যান ফর ম্যান ফাউন্ডেশনের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ

বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কেন্দ্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদের সামনে এক মঞ্চে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন তিনি। ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ভৌগলিকভাবে বাংলার সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের সীমান্ত। দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।

 তিনি আরও বলেন, আপনাদের কারণে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। আর ফল ভোগ করছে বাংলা। আমরা কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চাই না। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে চাই।

হিন্দুত্ব কখনও উগ্র হতে পারে না। উগ্ররা আসল হিন্দু নয়। নকল হিন্দুদের থেকে সাংবাদিকদের সাবধান থাকারও অাহ্বান করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি ছড়ানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উস্কানিম‍ূলক প্রচারণা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ রুখে দাঁড়ান। দরকার হলে পুলিশের নজরে আনুন। তাদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেবে। আমরাও নজর রাখছি।

কোনোভাবেই বাংলায় সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেব না। আমি ফেসবুককে সম্মান করি, ফেকবুক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

পাঁচ মাস বয়সী একটি বাছুরকে ঘিরে কম্বোডিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। শত শত লোকজন সেখানকার উত্তর-পূর্বাংশের প্রদেশ ক্রাতির এক গ্রামে বাছুরটিকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।

কারণ ৭৪ বছরের খজম হাং নামে এক নারী দাবি করে বসেন আছেন, তার স্বামী ওই বাছুর রূপে পুনরায় জন্ম নিয়েছেন। বছরখানেক আগে মারা যাওয়া টোল খাট যে ধরনের আচরণ করতেন, তার সঙ্গে ওই বাছুরের আচরণের নাকি মিল পেয়েছেন তিনি।

কম্বোডিয়ার ৯৫ শতাংশ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। মৃত্যুর পর মানুষের পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেন তারা। এই পুনর্জন্ম বিভিন্নভাবে হতে পারে। অল্পদিন পরে কিংবা দেরিতে আবার মানুষ কিংবা অন্য যে কোনো প্রাণীর রূপ নিয়ে ফিরে আসতে পারে। সেই হিসেবে সেখানকার অনেকেই ঘটনাটি বিশ্বাস করছেন।

খজম হাংয়ের দাবি, বাছুরটি অাসলেই তার স্বামী। বেঁচে থাকতে তার স্বামী যা যা করত, বাছুরটি সেই কাজগুলোই করছে। তবে বাছুরটির কী ধরনের কাজে স্বামীর কাজের সঙ্গে মিল পেয়েছেন সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।

গত মার্চে জন্ম নেয়া বাছুরটিকে নিয়মিত গোসল করানো হচ্ছে, যত্ন সহকারে খাওয়ানো হচ্ছে, টোল খাটের ঘুমানোর বিছানায় বাছুরটিকে শুইয়ে দেয়া হচ্ছে।

এভাবেই যত্ন-আত্তি করে আমৃত্যু বাড়িতে রেখে দেয়ার কথাও বলেন খজম হাং। বাড়িতে এভাবে বাছুরের খাতির যত্ন অার স্বামী হিসেবে দাবি করার একটি ভিডিও ফেসবুকে দেখেছেন তরুণী থাচ ভিন।

তিনি বলেন, আমি ভাবতাম এভাবে বাড়ির ভিতর বাছুর পুষে রাখা অসম্ভব। সেই ধারণা থেকেই ওই বাড়িতে যাওয়া। সেখানে গিয়ে তো ঘটনাটি নিজের চোখে দেখলাম।

সূত্র : রয়টার্স

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

তিনি একজন টেনিস তারকা। অলিম্পিকে শিরোপা জিতেছেন দুবার। ট্যুর ফাইনালের ট্রফিও জিতেছেন। তিনবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী তারকা। ইউএস ওপেনে একবার; আর উইম্বলডনে দুবার। চোট তাকে এবার উইম্বলডন থেকে ছিটকে দিয়েছে।

অ্যান্ডি মারে এখন বিশ্রামেই আছেন। এর ফাঁকে একটা ‘বড়সড়’ কাজ করে ফেলেছেন। নিজে টেনিসের মানুষ হলেও ফুটবলের খোঁজ-খবর রাখেন। তাই বানিয়ে ফেললেন ফুটবলে স্বপ্নের একাদশ। এ প্রজন্মের সেরা ফুটবলারদেরই রেখেছেন সেই একাদশে।

আক্রমণভাগে যেমন রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি। দুই প্রান্তে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার দুই প্রাণভোমরা। আর স্ট্রাইকারের ভূমিকায় আছেন থিয়েরি অরি।

গোলরক্ষকের ভূমিকা পালনে রয়েছেন ইতালিয়ান গ্রেট জিয়ানলুইজি বুফন। রক্ষণভাগে কাফু, সার্জিও রামোস, ফার্ডিনান্ড ও মালদিনি। আর মাঝমাঠের দায়িত্বে রয়েছেন তিন বার্সা তারকা; আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জিও বুসকেটস ও জাভি হার্নান্দেজ।

গোলরক্ষক : জিয়ানলুইজি বুফন
ডিফেন্ডার : কাফু, সার্জিও রামোস, ফার্ডিনান্ড, মালদিনি
মিডফিল্ডার : আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জিও বুসকেটস, জাভি হার্নান্দেজ
ফরোয়ার্ড : লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, থিয়েরি অরি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা করতে দলের সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, যারা বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে ঢুকে তারা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে নানা অপকর্ম করে, আর তাতে দলের ওপরে দোষ চাপে।
তিনি বলেন, কোথায় কারা ঢুকেছে, কাদের মাধ্যমে ঢুকছে, কী অপকর্ম করছে এসব তথ্য আমার কাছে আছে, আরও তথ্য আসছে। এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন কারা কোথায় অনুপ্রবেশ করেছে, কার মাধ্যমে দলে ঢুকেছে এমনকি দলীয় পদ পর্যন্ত পেয়ে গেছে তার একটি তালিকা করে তার হাতে দিতে।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দল ভারি করে বদনাম কেনার দরকার নাই। এমন এলাকা আছে, শুধু দলেই নেয়া হয় না, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদও দিয়ে দেয়া হয় অনুপ্রবেশকারীদের।
শেখ হাসিনা বলেন, ওবায়েদ উল্লাহ সাজু কে? দলে কী তার অবদান। আজকে অতি উৎসাহী হয়ে যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তাতে কী হয়েছে? দলকে ও সরকারকে বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতেও দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে কথা বলেছেন এবং সতর্ক থাকতে বলেছেন শেখ হাসিনা।
তিনি জানান, ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। সবাইকে চোখ, কান খোলা রাখতে হবে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেন, দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে ও অন্য সম্পাদকমণ্ডলীর নেতাদের সঙ্গে দলের ভেতরে এসব বিশৃঙ্খলা নিয়ে খুব শিগগিরই কথা বলবেন দলীয় সভাপতি। অন্য দল থেকে কাউকে দলে না নিতেও প্রাথমিক নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছেন। তারা মিথ্যা ডকুমেন্ট বানিয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন ঘটনা ফটোশপের মাধ্যমে কারসাজি করে বিদেশি দূতাবাসগুলোসহ বিদেশের বিভিন্ন সংস্থায় পাঠিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সেন্টিমেন্ট তৈরি করতে চাচ্ছে। দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র চক্রান্তের চেষ্টা হচ্ছে। ছোট খাট ইস্যুকে বড় করে ফায়দা হাসিল করতে চায়। সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুজিবর রহমানের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিতে হাসপাতালে গেলেন এমপি রুহুল হক। শুক্রবার বেলা ২টায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এর ১৩ নং কেবিনে চিকিৎসার অগ্রগতির খোঁজ-খবর নিতে যান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সাবেক সফল স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান মন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যাপক ডাঃ আ,ফ,ম, রুহুল হক এম.পি। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ও মোশায়েদ আলী। অসুস্থ আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি মানসিক ভাবে ভেঙ্গে না পড়ার বিষয়ে শান্তনা প্রদান করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় হাজী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি হজ্ব প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশন মিলনায়তনে হজ্বযাত্রী ভাই বোনদের জন্য পবিত্র হাজ্বের পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ আজিজুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন হাজী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওঃ মিজানুর রহমান আজমী, সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশনের সহ সভাপতি শেখ তহিদুর রহমান ডাবলু, সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশন জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম জিয়া, সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশনের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. আব্দুর রহমান, হাজী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার, অফিস সম্পাদক আলহাজ্ব মীর আহসানুল হক, প্রচার সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ, মোয়াল্লিম আলহাজ্ব ওসমান গণি, আলহাজ্ব ইব্রাহিম হোসেন, আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। উল্লেখ্য যে, প্রতি শুক্র ও শনিবার বাদ মাগরিব থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হজ্বযাত্রী ভাই বোনদেরকে হজ্ব ও ওমরার যাবতীয় নিয়ম- কানুন ও মাসলা মাসাইল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এসময় শতাধিক নারী পুরুষ হজ্বযাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হাজী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওঃ মিজানুর রহমান আজমী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ফেসবুক থেকে নেয়া

অপ্রতিম রহমান : ফেসবুক ভরে গেছে বরিশালের ৫ম শ্রেণির এক শিশুর আঁকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবিতে। সারাদেশে চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে। প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে তরুণ প্রজন্ম। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে তীব্র নিন্দা। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণ ইউএনও’র প্রশংসা করেছেন, তাকে হেনস্তা করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেনÑ। ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছেন হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে মামলার হোতা বরগুনা আ ’লীগের সেই নেতাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এত যে আলোচনা, এত যে প্রশংসা, এত যে ক্ষোভ- তার মূলে সাতক্ষীরার এক তরুণ সন্তান, গাজী তারিক সালমন। মেধা, মনন, সততা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং দৃঢ় মনোবলের কারণে যাকে দু’দিন আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মত গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও হেনস্তা হতে হয়েছিল।কারা অন্ত্যরীণ করার আদেশ দেয়া হয়েছিল বিনা অপরাধে। ক্ষোভে, দুঃখে যে তরুণ তুর্কি চাকরিই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন, সেই সালমন আজ সাতক্ষীরাবাসির গর্ব। তার পাশে দাঁড়িয়েছে সমগ্র দেশ, দেশের জনপ্রশাসন, দেশের সরকার প্রধান।
গাজী তারিক সালমন (অয়ন), সাতক্ষীরার সন্তান। তার গ্রামের বাড়ি দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামে। বর্তমানে তার পিতা-মাতা সাতক্ষীরা শহরের মুন্সীপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা।

স্কুল জীব‌নে অয়‌নের কৃ‌তি।

অয়নের পিতা মো: আব্দুর রহমান, মাতা: নাসিম বানু। আব্দুর রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পায়ে গুরুতর আঘাত পান।
অয়নের মাতামহ ডা. মুজিবর রহমান সাতক্ষীরা শহরের প্রথম দিকের একজন এমবিবিএস চিকিৎসক। যখন সামান্য কয়েকজন লোক আ ‘লীগ করতো তখন তিনি ছিলেন শহর আ ‘লীগের সভাপতি।তার বড় মামা সকলের পরিচিত মঞ্জু স্যার, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ও শিক্ষক।
তারিক সালমন ১৯৯৯ সালে এসএসসি এবং ২০০১ সালে এইচএসচি পাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের ৩১ তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার প্রথম, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা রচনা প্রতিযোগিতায় দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন ছাত্র জীবনেই। ২৮তম বিসিএস এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগদান করে বর্তমানে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

অয়‌নের ক‌বিতা

সালমন কবিতা লেখেন। ২০১৬ সালে একুশের বইমেলায় ‘সহজ প্রেমের কবিতা’ নামে তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থও বেরিয়েছে। পড়াশুনাও করেন প্রচুর। সাহিত্যের প্রতি তার আকর্ষণ বোঝা যায় ফেসবুকে দেয়া স্টাটাসগুলো দেখলেই।
সর্বশেষ ফেসবুক স্টাটাসে সালমন জীবনান্দ থেকে নিয়ে লিখেছেন- “তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও/ আমি এই বাংলার পারে র’য়ে যাব”।

নিজের পরিচিতি সে ফেসবুকে তুলে ধরেছে- “তুমিই প্রাণ, তুমিই পর/ বারান্দাই আমার ঘর”।

এমন অসাধারণ সৃষ্টিশীল মনের অধিকারী একজন মানুষ কি কখনও বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করতে পারেন? পারেন না, করেনওনি তিনি। তিনি বরং শিশুদেরকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টাই করেছেন। যা করতে পারলে দেশকে ভালোবাসার এক প্রজন্ম তৈরি হবে।
বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির মিথ্যা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদি ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে আওয়ামী লীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে কেন স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার সন্ধ্যায় অ্যাডভোকেট সাজুকে সাময়িক বহিষ্কারের এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সভায় অংশ নিতে যাওয়া নেতারা ইউএনও তারেক সালমানের প্রসঙ্গ তোলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাজু সম্পর্কে জানতে চান। তিনি বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা নেতাদের বলেন, ‘তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিন।’
দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিকরা বলছে, মানুষের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকশিত করতে হলে শিশুদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ তুলে ধরতে হবে। এ জন্য চিত্রাঙ্কন, লেখালেখি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠসহ সাংস্কৃতিক আয়োজন দরকার। ইউএনও গাজী তারিক সালমান যা করেছেন তা খুবই ইতিবাচক। শিশুদের মধ্যে এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- আরো বেশি হওয়া উচিত বলেও তারা মত দেয়।
জানা গেছে, ইউএনও গাজী তারিক সালমানের বিরুদ্ধে মামলার নেপথ্যে রয়েছে সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজুর ব্যক্তিগত রোষ। তারিক সালমান আগৈলঝাড়ায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এতে বহু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়েন। নকল প্রতিরোধেও তিনি ছিলেন সোচ্চার। টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময় খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচিতে বেশ কিছু অনিয়মের বিষয়ে ছিলেন কঠোর। এসব নিয়ে সেখানকার বহু লোকের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন তারিক সালমান। সে কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই মামলা করেন আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।

স্কুল ছাত্র অয়‌নের বঙ্গবন্ধুর প্র‌তি গভীর ভা‌লোবাসার দৃষ্টান্ত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী তারিক সালমান বলেন, ‘এর আগে আমি যেখানে কর্মরত ছিলাম সেখানে চেষ্টা করেছি আমার ওপর অর্পিত সরকারি দায়িত্ব পালন করতে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেশ কিছু অভিযান চালিয়েছি। টিআর, কাবিখা প্রকল্পের কা কঠোরভাবে তদারকি করায় আমাকে কয়েকজন জনপ্রতিনিধির রোষানলে পড়তে হয়। তারা আমার কোনো দুর্নীতি খুঁজে না পাওয়ায় এখন মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।’
সারাদেশ তারিক সালমনের বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দোষীদের শাস্তির অপেক্ষা করছে। সাতক্ষীরা জেলাবাসীও আজ গর্বিত অন্যায়ের কাছে মাথা না নোয়ানো অদম্য গাজী তারিক সালমন অয়নকে নিয়ে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ন্যাশনাল ডেস্ক : শুধু মামলা নয়, বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারেক সালমনকে তার প্রশাসন বিভাগ থেকেও হেনস্থা করা হয়। শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়ে কার্ড ছাপানোর ঘটনার পর পরই তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক শোকজ করেছিলেন। আর তার জবাব সন্তোষজনক নয় বলে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার। ইউএনও সালমান তখন বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কর্মরত ছিলেন। এরপর তাকে শাস্তি হিসেবে সেখান থেকে বরগুনা সদরে বদলি করা হয় বলে সূত্র জানায়।
সালমানকে শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান বলেন, ‘কার্ড ছাপার পর কোনও একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ওই কার্ড নিয়ে কেবিনেট ও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারকে জানান। কমিশনার আমাকে বলেন, ওনার (ইউএনও) কাছ থেকে একটা ব্যাখ্যা নাও। আমি তখন তাকে শোকজ করে ব্যাখ্যা নেই এবং বিভাগীয় কমিশনারকে তা পাঠিয়ে দেই। তার ব্যাখ্যা যে সন্তোষজনক নয়, তা আমার কথা নয়, কমিশনারের চিঠির কথা।’
গাজী তারেক সালমানকে জেলা প্রশাসক শোকজ করেন ১৩ এপ্রিল। শোকজের জবাব দেওয়ার পর তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস ১৮ এপ্রিল আরেকটি চিঠি দেন। তাতে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রকাশ না করার বিষয়ে গাজী তারেক সালমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আগৈলঝাড়া, বরিশালকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দাখিলের অনুরোধ করা হলে তিনি লিখিত জবাব দাখিল করেছেন। তার দাখিল করা জবাব সন্তোষজনক নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়।’
এই চিঠির অনুলিপি তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকেও দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগকারী ওই একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তো বিভাগীয় কমিশনার আমাকে জানাননি।’
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস এপ্রিলেই অতিরিক্ত সচিব হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদায়নের জন্য বদলি হয়ে ঢাকায় আসেন। তিনি টেলিফোনে বলেন, ‘কোনও লিখিত অভিযোগ নয়, পার্টির লোকজন আমার কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহারে নিয়ম-কানুন মানা হয়নি। তাই আমি ডিসিকে বলেছিলাম ইউএনওকে শোকজ করতে।’ ইউএনও সালমানের জবাব কেন তার কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহারের কিছু আইন-কানুন আছে। কার্ডে বঙ্গবন্ধুর ছবি ফার্স্ট পেজে না দিয়ে ব্যাক পেজে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তার জবাব সন্তোষজন মনে হয়নি আমার কাছে এবং আমি তা সংস্থাপন মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করা হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়নি। ব্যাক পেজে ছাপা হয়েছে, এটাই আমার কাছে আইনের লঙ্ঘন বলে মনে হয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘এ জন্য তার (সালমান) বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
ইউএনও গাজী তারেক সালমন জানান, ‘আমাকে শোকজের পর জবাব দেই। এরপর আমাকে আর কোনও চিঠি দেওয়া হয়নি। ২৪ মে আমাকে আগৈলঝাড়া থেকে বদলি করা হয়। আমি জুন মাসে বরগুনা সদরে যোগ দেই।’
আগৈলঝাড়া উপজেলার ইউএনও থাকাকালে গাজী তারেক সালমান শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়ে স্বাধীনতা দিবসে কার্ড ছাপান। এই কার্ড নিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাকে আগৈলঝাড়া থেকে বরগুনা সদরে বদলি করা হয় বলে সূত্রের দাবি। তারপরও তিনি রেহাই পাননি।
বরগুনা সদর উপজেলায় বদলি হয়ে যাওয়ার পর ৭ জুন তার বিরুদ্ধে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ও মানহানির মামলা করেন বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। ওই মামলায় ১৯ জুলাই প্রথমে তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে একই দিনে তাকে জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
আইনজীবী ওবায়েদ উল্লাহ সাজু দাবি করেন, ‘মামলা করে আমি যদি অপরাধ করে থাকি, তাহলে জেলা প্রশাসনও এ দায় এড়াতে পারে না। জেলা প্রশাসক তাকে শোকজ করেছেন আগে। আর আমি মামলা করেছি তার অনেক পরে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest