image-35873আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আব্দুল মান্নান ও উপ-পরিদর্শক (এস.আই) লিয়াকতের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বেআইনীভাবে আটকে রেখে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন এক ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে শ্যামনগরের বিড়ালক্ষ্মী গ্রামের শাহাদাৎ হোসেন মোল্লার ছেলে ভাটা সর্দার কবীর হোসেন সবুজ বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৩ জুন সকাল ১০টার দিকে শ্যামনগর থানার এসআই লিয়াকত নওয়াবেকী থেকে কোন অভিযোগ ছাড়াই বিড়ালক্ষ্মী গ্রামের কবীর হোসেন সবুজকে নওয়াবেকী এলাকা থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এরপর তাকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষের জানালার সাথে বেধে বেদমভাবে পিটিয়ে আহত করেন এসআই লিয়াকত। পরে তাকে ওসির কক্ষে নেওয়া হলে সেখানে হয় দেনদরবার। সবুজের কাছে চাওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা। সে সময় সবুজের কাছে থাকা ভাটার শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেন ওসি সৈয়দ আব্দুল মান্নান ও এসআই লিয়াকত। পরে সবুজের স্ত্রী বাড়ি থেকে আরও ১৮ হাজার টাকা এনে দিলে রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সবুজ পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দিন সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।
এক পর্যায়ে সবুজ সুস্থ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে ১০৯/৩২৩/৩২৭/৩৪২/৩৮৫/৩৮৬ ধারায় ওসি সৈয়দ আব্দুল মান্নান ও এস আই লিয়াকতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রমাণ হিসেবে আদালতে ৫০ হাজার টাকার দেন-দরবার সংক্রান্ত একটি অডিও ফোন রেকর্ডও দাখিল করেছেন বাদী।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার গোপাল কুমার ম-ল জানান, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম. জাহিদ হাসান এ মামলায় বাদীর জবান বন্দি গ্রহন করে প্রাথমিকভাবে আমলে নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আব্দুল মান্নান বলেন, তিনি সবুজকে চেনেনও না। মামলা হয়েছে কি না তাও তিনি জানেন না।
প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরায় পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানির এমন অভিযোগ অহরহ ঘটেই চলেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1496854322বর্ণিল দোপাট্টা, পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা লেহেঙ্গা ও এর সঙ্গে মিল রেখে  লিপস্টিক—ভারতের বিয়েগুলোতে এমন সাজেই দেখা যায় কনেকে। আর বরকে দেখা যায় পাগড়ি, টুপি পরা অবস্থায়। পাঞ্জাবের আলোচিত এক দম্পতির বিয়ের দিনের পোশাকও অনেকটা সেই রকমই ছিল। একটু ব্যতিক্রম ছিলেন কনে। আর তা নিয়েই ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে।

ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, পাঞ্জাবি ও পাগড়ি পরা হাস্যোজ্জ্বল বর। তাঁর হাতে একটি কোমল পানীয়র বোতল। তাঁর ডানে কনের মাথায় দোপাট্টা।

লিপস্টিক পরা ঠোঁটে এক চিলতে হাসি। নাক, কান, গলাভর্তি অলংকার। শরীরের ঊর্ধ্বাংশে ঐতিহ্যবাহী পোশাক চলি। আর নিম্নাংশে বহুজাতিক কোম্পানি নাইকির শর্টস (হাফ প্যান্ট)। আর সেই পোশাকেই বরের হাতে হাত রেখে হেঁটেছেন তিনি।

https://www.youtube.com/watch?v=JoKIrf27Q1c

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

kings-of-saudi-arabiaমক্কা ও মদিনা বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র নগরী। এই দুটি শহরই সৌদি আরবে অবস্থিত। ইসলামের প্রাচীণ ইতিহাস ও ঐতিহ্যর নিদর্শন হিসেবে সৌদি আরব বিশ্বে অদ্বিতীয়। আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সৌদি রাজবংশ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। অনেকেরই জানার আগ্রহ: ইসলামের সঙ্গে এই রাজবংশের সম্পর্ক কী? বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল বাছিরের সঙ্গে কথা বলেছে দেশের একটি শীর্ষ অনলাইন পত্রিকা।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের ইতিহাস হচ্ছে ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।ইসলামের সঙ্গে সৌদি রাজবংশেরও সম্পর্ক রয়েছে। তবে, সৌদি রাজবংশের উপর ইসলামের যে অর্পিত দায়িত্ব ছিল তা পালন করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে এই অর্থে যে তারা শুধু ওহাবিজমকেই পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন।
‘ওহাবিজমের পাশাপাশি ইসলাম ধর্মের আরও যে মতধারা রয়েছে সেগুলোর সমন্বয় করে যদি এরকম হতো যে, বিশ্বের বিশিষ্ট ওলামায় ক্বেরাম যারা আছেন, তাদেরকে নিয়ে এগুলো গবেষণা করে তারা যদি আমাদের সত্যিকারের ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইতেন, তাহলে তাদের প্রতি আমাদের যে অভিযোগগুলো আছে, তা থেকে তারা মুক্তি পেতেন।’
ড. আবদুল বাছির  বলেন: তারা (সৌদি রাজবংশ) শুধু চেয়েছেন তাদের একদেশ ভিত্তিক আদর্শকে (ওহাবিজম) সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে। সার্বিক অর্থে তাদের এই আদর্শ অনেকটা খণ্ডিত। তারা শুধু ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছে। তাদের রাষ্ট্রের যে নামকরণ তারা করেছে ‘কিংডম অব সৌদি আরবিয়া’ তা ইসলামের কোন নিয়ম বা বিধান মেনে করা হয়নি।এটি ইসলাম অনুসারে ঠিকও নয়। তারা যে সেখানে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে রেখেছেন, এটিও ইসলামের কোন বিধানের মধ্যে পড়ে না।’
সৌদি রাজবংশ ঐতিহাসিকভাবেই অমুসলিমদেরকে সব সময় প্রাধান্য দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন: শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা অমুসলিমদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলেছে। সৌদি আরবের বর্তমান যে পতাকা রয়েছে তাতে আড়াআড়িভাবে দুটি তলোয়ার রয়েছে, যার একটি হচ্ছে সৌদ পরিবারের অন্যটি হচ্ছে ওহাবি পরিবারের। এই দুটোর সিম্বল হচ্ছে সেটি। তার মানে বোঝা যায় ধর্মকে ব্যবহার করে তারা রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করেছে।
আবদুল বাছির  বলেন: রিয়াদের কাছে অবস্থিত দিরিয়া নামের একটি কৃষি বসতির প্রধান ছিলেন মুহাম্মদ বিন সৌদ। এই উচ্চাভিলাষী মরুযোদ্ধা ১৭৪৪ সালে আরবের বিখ্যাত ধর্মীয় নেতা মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের (যিনি ওয়াহাবী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বেশি পরিচিত) সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি করে ‘দিরিয়া আমিরাত’ গঠন করেন। তুরস্কের উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে শিরক-বিদাত পালনের অভিযোগ এনে এই দুইজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ শুরু করেন।
‘ওই দিরিয়া আমিরাতই বিশ্বের প্রথম সৌদি রাজ্য। মুহাম্মদ বিন সৌদ তার পুত্র আবদুল আজিজের সাথে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের মেয়ের বিয়ে দেন। এভাবেই সৌদ পরিবার ও ওয়াহাবী মতবাদের মিলনযাত্রা শুরু হয়। ১৭৬৫ সালে মুহাম্মদ বিন সৌদের মৃত্যু হলে তার ছেলে আবদুল আজিজ দিরিয়ায় ক্ষমতাসীন হয়।’
কিং সালমান
তিনি বলেন: হঠাৎ করে মোহাম্মদ বিন সৌদ এবং মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের কাছে মনে হল, বর্তমানে (তখন) যে ইসলাম চলছে তা সঠিক ইসলাম নয়। সেখানকার শেখের সাথে তাদের কথা হল। তারা এ বিষয়ে একমত হলেন যে বিষয়টির রাজনৈতিক দিক একজন এবং ধর্মীয় দিক অন্যজন দেখবেন। ফলে দু’জনের একজন ধর্মীয় এবং আরেকজন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যুক্ত হলেন। তাদের মতাদর্শ তারা মক্কা-মদিনায় সারা পৃথিবী থেকে যাওয়া মুসলিমদের মধ্যে যদি ছড়িয়ে দিতে কাজ করতে থাকলেন। এই দুইজনের বোঝাপড়া অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে হয়েছিল।
‘একসময়ে তারা মক্কা-মদিনা আক্রমণ করে বসলেন। এরপর তারা রিয়াদ নামের স্থানটিকে তাদের রাজধানী করলেন। তুর্কিরা এতে ক্ষিপ্ত হল। তারা মিশরের মোহাম্মদ আলী পাশাকে বললেন যে তারা যে কাজগুলো করছে তা প্রতিহত করা দরকার।’
মোহাম্মদ আলী পাশা তার ছেলে ইসমাইলকে পাঠালেন উদীয়মান মতাদর্শকে বিতাড়িত করার জন্য। ইসমাইল এসে সেখান থেকে তাদেরকে বিতাড়িত করলেন। নতুন মতাদর্শের (ওহাবিজম) ধারক ও বাহকরা যে জায়গা দখল করেছিলেন তা ছেড়ে তারা কুয়েতে পালিয়ে গেলেন।
১৯০১ সালে কুয়েত থেকে সৌদ পরিবারের সন্তান আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ খুব সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে প্রায় ১০০ জন যোদ্ধাসহ রাতের অন্ধকারে আক্রমণ করে পুনরায় রিয়াদ দখল করে নিলেন। তার এই রিয়াদ দখল করার পেছনে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের ধর্মীয় যে মতাদর্শ ছিল সেটি যারা অনুসরণ করতেন, তাদেরকে বলা হতো মুসলিম ব্রাদারহুড। এরা আবদুল আজিজ ইবনে সৌদকে সহায়তা করেছিলেন। দুই গোষ্ঠীর সমর্থন নিয়ে সৌদের শক্তি বেশ বেড়ে যায়।
‘১৯১৬ সালে ব্রিটিশ সরকার দেখল, এটি তো একটি উদীয়মান শক্তি এবং এটি যেহেতু তুরস্কের বিরুদ্ধে আর ব্রিটিশদের শত্রু ছিল তুরস্ক সুতরাং এই শক্তিকে যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া যায়, তাহলে ওরাই তুর্কিদের ধ্বংস করবে। তাহলে ব্রিটিশদেরকে নতুন করে কোন শক্তি প্রয়োগ করতে হবে না। বরং তাদের লাভই হবে। সেজন্য তারা রিয়াদ দখল করা আবদুল আজিজ ইবনে সৌদকে মেনে নিয়ে সমর্থন দেয়।’
কিং সালমান
ওই বছরই তাদের গ্রহণ করা অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেয় ব্রিটিশরা। নতুন একটি রাষ্ট্রের জন্মের মধ্য দিয়ে তুরস্কের আধিপত্য খর্ব হয়। কিন্তু হিজাজে (মক্কা-মদিনা) তখন তুরস্কের শাসক ছিলেন শহীদ ইবনে হোসেন ইবনে আলী ইতিহাসে তিনি শরীফ হোসেন নামে বেশি পরিচিত। তুর্কির সুলতান আবদুল হামিদ তাকে হেজাজের শাসক করেছিলেন এই কারণে যে মহানবী (স.)র পরিবারের সাথে তার যোগসূত্র ছিল এবং তাকে যদি হেজাজের গভর্নর করা হয় তাহলে পশ্চিম বিশ্ব ও সৌদি আরবের মানুষরা মহানবীর পরিবারের বলে তার প্রতি সহানুভূতি দেখাবে । কিন্তু শরীফ হোসনের মনে মনে একটা উদ্দেশ্য ছিল যে তিনি তুরস্কের অধীনে এখানকার প্রশাসক না হয়ে তিনি বংশীয় যে প্রাধান্য সেটি অর্জন করবেন এবং এখানকার স্বাধীন শাসক হবেন।
ফলে তিনিও দেখলেন, এই মুহূর্তে স্বাধীন শাসক হওয়ার জন্য ব্রিটেনের সহযোগিতা বেশি দরকার।আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ এবং শরিফ হাসানের সঙ্গে ব্রিটিশদের যোগাযোগ হল। শরিফ হাসানের সঙ্গে হল প্রকাশ্যে দিনের বেলায়। আর আবদুল আজিজের সঙ্গে হল রাতের বেলায়।
ওহাবিজমের সমর্থনকারীরা কখনো চাইতো না কোন বিদেশি শক্তির সাথে আবদুল ইবনে আজিজের সঙ্গে কোন যোগাযোগ থাকুক। কারণ এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে মেনে নেয়া কষ্টকর ছিল। এজন্য সৌদ যোগাযোগ করতেন রাতে এবং শরিফ হোসেন যোগযোগ করতেন দিনের বেলায়।
শরিফ হোসেনের সাথে ব্রিটিশদের ১২টি পত্র বিনিময় হয়েছিল। পরবর্তীতে রাশিয়ার মাধ্যমে এ বিষয় নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। তখন ওহাবিজমে বিশ্বাসীরা একটি সুযোগ পেয়ে যায় যে শরিফ হোসেন মুসলমানদের শাসক হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশদের সাথে যোগাযোগ করছে, সুতরাং তিনি সমগ্র মুসলানের শত্রু। তাকে প্রতিহত করতে হবে। তাকে যদি প্রতিহত করা যায় তাহলে মক্কা এবং মদিনায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যাবে। যে ওহাবিজমকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার উদ্দেশ্য তাদের ছিল,  সেটি সফল হবে।
১৯২৪ সালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফ হোসেনকে আক্রমণ করে। তখন তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। কারণ ব্রিটেন তাকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেনি। ব্রিটিশরা তখন উদীয়মান আবদুল আজিজ ইবনে সৌদকে সহযোগিতা করাই তাদের কাছে বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেছিল। কারণ ইতোমধ্যে কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমান– এই রাষ্ট্রগুলো যে ব্রিটিশরা তৈরি করেছিল তার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বাধা ছিল আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ।
সুতরাং, তাদের কাছে মনে হল: সৌদকে যদি সহযোগিতা করা যায় তাহলে এই রাষ্ট্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা তারা দিতে পারে। এজন্য তারা সৌদের পক্ষে চলে গেল এবং শরিফ হোসেনকে বলা হলো, ঠিক আছে আমরা যদি পরে কোন রাষ্ট্র তৈরি করতে পারি তাহলে আমরা সেখানে তোমাকে বা তোমার ছেলেদেরকে কর্তৃত্ব দিয়ে দেবো। সে অনুযায়ী পরবর্তীতে তারা ইরাক দখল করে সেখানে শরিফ হোসেনের ছেলে হোসেনকে শাসক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। শরিফ হোসেনের পতন হল। তার পতনের মধ্য দিয়ে মক্কা মদিনায় আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
মুহাম্মদ বিন সৌদের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক। অন্যদিকে আবদুল ওহাব ইবনে নজদীর উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয়। এই ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক স্বার্থ এক হয় আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৩২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ সৌদি আরব থেকে নিজের নামে শাসন পরিচালনা করতে থাকেন। এরপর ১৯৩৪ সালে রাষ্ট্রটির নাম দেয়া হয় ‘কিংডম অব সৌদি আরবিয়া’।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1496909323আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে সর্বোচ্চ ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৯৮০ টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সভাকক্ষে ইসলামী ফাউন্ডেশনের জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এই ফিতরা নির্ধারণ করা হয়।

সভা শেষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন মূল্য এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগ থেকে মূল্য এনে গবেষণা করে, চিন্তাভাবনা করে যে মূল্যটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯.৩৯ টাকা, প্রতি কেজি এই হিসাবে এক কেজি ৬৫০ গ্রাম আটার মূল্য ৬৫ টাকা। ন্যূনতম ৬৫ টাকা এ বছরের ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

সারা দেশে গম বা আটার বাজারমূল্য হিসাব করে এই সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, এক কেজি ৬৫০ গ্রাম গম বা আটা অথবা খেজুর, পনির, যব বা কিশমিশের মধ্যে যেকোনো একটি পণ্যের তিন কেজি ৩০০ গ্রামের বাজারমূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা যায়।

সে হিসেবে তিন কেজি ৩০০ গ্রাম যবের দাম ৫৬০ টাকা, একই ওজনের কিশমিশের দাম এক হাজার ২৫০ টাকা, খেজুরের দাম এক হাজার ৬৫০ টাকা এবং এই ওজনের পনিরের দাম এক হাজার ৯৮০ ধরে এবারের ফিতরা নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এসব পণ্যের যেকোনো একটি দিয়ে অথবা সমপরিমাণ দাম দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে।

ইসলাম ধর্মের নিয়ম হলো, ঈদুল ফিতরের নামাজের আগেই ফিতরা দিতে হয়। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ffবনানীতে রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ ঘটনায় সাফাতসহ ৫ আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।

ধর্ষণের ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো আলামত না পাওয়া গেলেও বিষয়টি মামলায় কোনো ধরণের প্রভাব পড়বে না বলে এর আগে সুপ্রিম কোর্টের দু’জন আইনজীবী জানিয়েছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শেখ আতিয়ার রহমান এবং আইনসেবা’র নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী স্বর্ণকান্তি দাস চৌধুরি ওই সময় বলেন, বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে ধর্ষণের ঘটনার অনেকদিন পর ফরেনসিকের রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। এতদিনে ধর্ষণের আলামত পাওয়া এখান থেকে সম্ভব নয়। তবে সে কারণে মামলা কোনোভাবেই ধীরগতি পাবে না, বরং মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।

গত ২৮ মার্চ বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে বন্ধুর মাধ্যমে এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। এরপর অভিযুক্তরা ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখে।

যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, তাদের একজন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ। প্রাণনাশসহ বিভিন্ন হুমকি উপেক্ষা করে ঘটনার একমাসের বেশি দিন পর ওই দুই তরুণী ৪ মে বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করতে যান।

তবে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে তাদেরকে হয়রানি করে বলে অভিযোগ ওঠার ৪৮ ঘণ্টা পর ৬ মে ওই অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে।

গত ১১ মে সাফাত ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দিন আদালতে তোলা হলে আদালত সাফাতকে ৬ দিন এবং সাদমান সাকিফকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ১৭ মে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার করা হয় মামলঅর অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফকে।

এছাড়া গত ১৫ মে সাফাতের দেহরক্ষী রহমতকে গুলশান থেকে এবং ড্রাইভার বিল্লালকে নবাবপুর থেকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে রহমতকে ৩ দিন এবং বিল্লালকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

232332জি.এম আবুল হোসাইন : সাতক্ষীরায় ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’র প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’র আয়োজনে ও সেভ দ্য চিলড্রেন এর সহযোগীতায় বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে “গুড কজ ক্যাম্পেইন প্রকল্প”র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’র পরিচালক (কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন) মো. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন। তিনি বলেন, শিশুদের মাদকাসক্তি ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা ও খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। বর্তমানে সাতক্ষীরা সদরের প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ শিশুদের জন্য পৃথক বাজেট রাখছেন। যা শিশুদের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। শিশুদের নিয়ে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স দীর্ঘ দিন কাজ করছে। তিনি শিশুদের উন্নয়নে সকলে একসাথে কাজ করার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান বাবু, উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর হোসেন সজল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, ফিংড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান, ভোমরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইসরাইল গাজী, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তারাময়ী মুখার্জী, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’র জি.সি.সি প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার মো. রাকিব হোসাইন, প্রোগ্রাম অফিসার মো. আব্দুল হক পাটোয়ারি প্রমুখ।

ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ স্থানান্তরিত শিশুদের নিয়ে সদরের কুশখালী, ঝাউডাঙ্গা, বৈকারী, ফিংড়ি ও ভোমরা ইউনিয়নে প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। অবহিতকরণ সভায় এসব কর্মএলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সচিব, শিশু সুরক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’র প্রকল্প সমন্নয়কারি দিপঙ্কর মল্লিক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

Vomra-Pictureআসাদুজ্জামান : ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বন্দর এলাকায় মালামাল খালাস করে ফিরে আসার সময় সাতক্ষীরা ভোমরাস্থল বন্দর চেকপোস্ট এলাকা থেকে ১৬ বোতল মদসহ বাংলাদেশি একটি ট্রাক আটক করেছে বিজিবি। এ সময় বিজিবি সদস্যরা ওই ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপারকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, ট্রাক ড্রাইভার আলামিন ও হেলপার ইনছার শেখ।
ভোমরা বিওপির হাবিলদার মেহেদী জানান, বাংলাদেশি একটি ট্রাক ভারতের ঘোজাডাঙ্গা এলাকায় মালামাল খালাস করে ফিরে আসার সময় ট্রাকটির ড্রাইভার আালামিন লুকিয়ে ভারতীয় ১৬ বোতল মদ নিয়ে আসে। এ খবন জানতে পেরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা ভোমরা স্থল বন্দর চেকপোস্ট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে অভিযান চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা ট্রাক ড্রাইভার আলামিন হেলপার ইনছারকে আটক কওে ট্রাকটি জব্দ করেন। পরে ট্রাকের ভিতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৬ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

02নজরুল ইসলাম রাজু : পাটকেলঘাটায় এক ভূয়া মহিলা কবিরাজের গর্ভ ধারণের ভেল্কিতে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছে সাধারন জনগণ। ভুয়া কবিরাজ ধানদিয়া ইউনিয়নের মানিকহার গ্রামের আঃ রব এর স্ত্রী রওশনারা বেগম (৪৬)।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, পাটকেলঘাটা থানাধীন ধানদিয়া ইউনিয়নের আব্দুল রবের স্ত্রী পাঁচ সন্তানের জননী রওশনারা বেগম যেসব মহিলারা দীর্ঘদিনে সন্তান গর্ভ ধারণে ব্যর্থ হয় তাদেরকে জ্বীন ভারনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার গর্ভে সন্তান ধারণের জন্য ঔষধ দিয়ে থাকে, বিনিময়ে তিনি নেন জ্বীনের মাধ্যমে বলে দেওয়া মোটা অংকের টাকা। আর জ্বীন কবিরাজের মূখের কথার মাধ্যমে বলে কত টাকা দিতে হবে। তবে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাই রোগীদের প্রকার ভেদে। গর্ভে সন্তানের জন্য পরিবারের সদস্যরা টাকার দিকে না তাকিয়ে সরল বিশ্বাসে দিয়ে দেয়। মহিলা কবিরাজের ঔষুধে কাজ হয় এমন নজির নেই এলাকায়। সহজ সরল মানুষগুলোকে বোকা বানিয়ে প্রতিদিন ইনকাম করছে হাজার হাজার টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে ও কবিরাজ রওশনারার সাথে আলাপকালে জানা যায়, কবিরাজ রওশন আরা দীর্ঘ ১৬ বছর এই পেশার সাথে জড়িত। গ্লাসের মধ্যে পানি নিয়ে জ্বীনের মাধ্যমে ভারণ দিয়ে বিভিন্ন প্রকার গাছড়া, এ্যালোপ্যাথিক, হোমিও প্যাথিক ঔষধ দিয়ে থাকি গর্ভে সন্তান ধারন করার জন্য। তবে এতে কাজ হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। বিশ্বাস করে রোগীরা টাকা দিয়ে যায়। তবে এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় তার কবিরাজের সুফল পেয়েছে এমন নজির বিরল। কবিরাজ রওশনার শিকার নগরঘাটার রমেছা, মিঠাবাড়ির সাহিদা, গনডাঙ্গা গ্রামের হাবিবাসহ আরো অনেকে জানান, ভূয়া এই কবিরাজের কাছে দীর্ঘদিন আসলেও কোন ফল পাচ্ছি না শুধু কাড়িকাড়ি টাকা নষ্ট হচ্ছে। মিথ্যা জ্বীন ভারণ আর জ্বীনের মাধ্যমে টাকা নিয়ে সাধারণ জনগণের সাথে এধরনের প্রতারণা যেনো আর না করতে পারে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সাথে সাথে এলাকার সাধারন মানুষ এধরনের ভূয়া কবিরাজের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest