আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভা (শ্যাডো কেবিনেট) থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক। পার্লামেন্টে সরকারের আনা ব্রেক্সিট বিলের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার জন্য লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন নির্দেশ জারি করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়া টিউলিপ শিক্ষাবিষয়ক ছায়া মন্ত্রণালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনের এই এমপি যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার (যা ব্রেক্সিট নামে পরিচিত) বিপক্ষে। টিউলিপই প্রথম কোনো সদস্য যিনি ব্রেক্সিটের বিরোধিতা করে ছায়ামন্ত্রী সভা থেকে পদত্যাগ করলেন। লেবার নেতা জেরেমি করবিনের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগ পত্রে টিউলিপ বলেন, পার্লামেন্টে আনা ব্রেক্সিট বিলের পক্ষে ভোট দেওয়া হবে তার জন্য বিবেক বহির্ভূত কাজ। গণভোটে তাঁর নির্বাচনী এলাকার ৭৫ শতাংশ মানুষ ব্রেক্সিটের বিপক্ষে রায় দিয়েছিল উল্লেখ করে টিউলিপ বলেন, এই বিলের পক্ষে ভোট দেওয়া তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমোদন চেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে বিল উত্থাপন করে সরকার। এদিন সকালেই লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন বিলটিকে সমর্থন দেবেন বলে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানান। তখনই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান টিউলিপ। যুক্তরাজ্যের রীতি অনুযায়ী মন্ত্রিসভা বা ছায়া মন্ত্রিসভায় থেকে কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারেন না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ ২০১৫ সালে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে লেবার দলের এমপি নির্বাচিত হন। দলীয় এমপিদের বিদ্রোহের কারণে কিছুদিন আগে নতুন করে নেতৃত্বে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামতে হয় লেবার নেতা জেরেমি করবিনকে। তৃণমূলের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে পুনরায় নেতৃত্বে ফেরা করবিন তাঁর নতুন ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। যেখানে প্রথমবারের মতো কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পান টিউলিপ।


নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকা ২ বছরে সাজা প্রাপ্ত আসামিকে আটক করেছে শ্যামনগর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শ্যামগনরের গোবিন্দপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত আসামি গোবিন্দপুর গ্রামের দিরাজতুল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রফিকুল ইসলাম চিটিং মামলার ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সে দীর্ঘদিন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে ছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তার নিজস্ব বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সভাপতি রাহমতউল্লাহ পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকালে আমতলাস্থ হালিমা খাতুন শিশু সদনের এ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হবির সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ- সভাপতি শের আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোদাচ্ছেরুল হক হুদা, জেলা বিএনপির শাহীনুর রহমান, নুরে আলম সিদ্দিকী, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সিকদার, সদর থানা ছাত্রদলের আনারুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম বাবুল, ফারুক, সোহেল, ইসমাইল, আল মাসুম রাজ প্রমুখ। দোয়া অনুষ্ঠানে আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা ও তার পরিবারের সকলের সু-স্বাস্থ্য কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা মরহুম এড. এ এফ এম এন্তাজ আলীর ১৯তম মৃত্যু বার্ষিকী আগামীকাল। সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. এ এফ এম এন্তাজ আলী ১৯৯৮ সালের ২৬ জানুয়ারি পবিত্র শবে ক্বদরের রাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের ভিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং ৭১ এর যুদ্ধকালীন সময় মুজিব বাহিনীর সাতক্ষীরার (তৎকালীন সময় সাতক্ষীরা মহকুমা) প্রধান ছিলেন। এড. এ এফ এম এন্তাজ আলী ঢাকায় ৬ দফা আন্দোলনের (প্রথম দিনের আন্দোলনে) রাজধানীর রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আন্দোলন শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই আন্দোলনে সাবেক কেন্দ্রীয় আ’লীগ নেতা ও সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী মরহুম আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক কেন্দ্রীয় আ’লীগ নেতা ও সাবেক অর্থ মন্ত্রী মরহুম শাহ এস এম কিবরিয়া, সাতক্ষীরার এড. এ এফ এম এন্তাজ আলী ও মাখন মিয়া অন্যতম ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশব্যাপী আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়ে জোরদার করতে এড. এ এফ এম এন্তাজ আলী সাতক্ষীরা জেলায় চলে আসেন। এছাড়া তিনি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি ছিলেন। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের সময় ১৯৯০ সালে সর্ব দলীয় ও ১৯৯৬ সালে জেলার আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তিনি সাতক্ষীরার সামাজিক, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। মরহুম এড. এ এফ এম এন্তাজ আলী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এদিকে এড. এন্তাজ আলীর পরিবার অভিযোগ করে বলেন, তার মৃত্যুর পর প্রায় ২ সপ্তাহের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগে বাস ভবনে আসেন পরিবারকে সান্তনা জানাতে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য প্রবীণ এ নেতার মৃত্যুর পর থেকে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত সময় কোন শোক ও স্মরণ সভাও করা হয়নি। এমনকি এ নেতার নামে আজ পর্যন্ত সাতক্ষীরার কোন সড়ক তার নামে নামকরণ করা হয়নি। সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন অলিগলির বিভিন্ন সড়ক গুলো বিভিন্ন নামে নাম করণ করা হয়েছে। এমনকি এক সময়ের মুসলিম লীগ নেতার নামে নামকরণ করা হয়। সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল প্রাণ সায়ের খালের পাশের রাস্তাটি (পাকাপোল থেকে কাটিয়া বাজার ব্রীজ) এড. এন্তাজআলীর নামে নামকরণ করার কথা থাকলেও তৎকালীণ পৌর মেয়র ও তা না করে ওই মুসলিম লীগ নেতার নামে নামকরণ করে। যেখানে দেশ থেকে জামায়াত-শিবিরের চিহ্ন মূছে ফেলতে চাইলেও সাতক্ষীরা শহরের এ সড়কটির নামকরণ একজন নামকরা মুসলিম লীগ নেতার নামে করা হয়েছে। সেখানে কেন একজন আ’লীগের সাবেক সাংসদ ও বীরমুক্তিযোদ্ধার নামে সড়কের নামকরণ করা হবেনা এ আক্ষেপ ওই পরিবারটির। পরিবারের সদস্যরা আরো অভিযোগ করে বলেন, যেখানে বীরমুক্তিযোদ্ধা এড. এন্তাজ আলীর নামে ওই সড়কটি করার কথা থাকলেও ওই মুসলীম লীগ নেতার নামে সড়কটির নামকরণ করা হয়েছে। কিন্তু জেলা আ’লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের কোন সংগঠনের কেউ এ ব্যাপারে আজও পর্যন্ত প্রতিবাদ করেনি। এব্যাপারে এড. এন্তাজআলীর পরিবার জেলা আ’লীগ, সদর এমপি, জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ও পৌর মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।