
প্রেসবিজ্ঞপ্তি : কালিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে অসুস্থ্যতার ভান ধরে ‘সিক বেডে’ ডিগ্রী দ্বিতীয় পার্ট পরীক্ষা দিচ্ছেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রী সাবিয়া ইসলাম। সিক বেডে সার্বক্ষনিক কক্ষ পরিদর্শক থাকার নিয়ম থাকলেও সেখানে নেই কোন কক্ষ পরিদর্শক। ফলে রিতিমত বই দেখেই পরীক্ষা দিচ্ছেন ওই পরীক্ষার্থী। শুধু তাই নয়, সাবিয়া ইসলাম পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সরকারি নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন সরকারি গাড়িতে করে (স্বামী এডিএম এর ব্যবহৃত গাড়িযোগে) সাতক্ষীরা থেকে কালিগঞ্জে প্রায় ৭০ কি:মি: আসা-যাওয়া করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয় নকল বা পরীক্ষার নানা দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে বদ্ধপরিকর। সেখানে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রী অসুস্থ্যতার ভান করে সিক বেডে পাবলিক পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্নের জম্ম দিয়েছে। জানাগেছে, এ বছর ডিগ্রী দ্বিতীয় পার্ট পরীক্ষা শুরু হয়েছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে। কালিগঞ্জ রোকেয়া মনসুর কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্রী হিসেবে ডিগ্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ফারুক আহম্মেদের স্ত্রী সাবিয়া ইসলাম। যার রোল নম্বর- ১৩১০১০০৫৭৮৩। পরীক্ষা কেন্দ্র কালিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ। পরীক্ষার শুরু থেকেই তিনি সিক বেডে পরীক্ষা দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই পরীক্ষার্থী সিক বেডে বই খুলেই পরীক্ষার খাতায় লিখছেন। সেখানে কাগজে-কলমে একজন কক্ষ পরিদর্শক থাকলেও তিনি সেখানে যান না। গতকাল ২৭ অক্টোরব ছিল ইসলামী শিক্ষা পরীক্ষা। একই ভাবে তিনি এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, সরকারি গাড়িতে চেপে তিনি প্রতিদিন সাতক্ষীরা থেকে প্রায় ৭০ কি: মি: রাস্তা পাড়ি দিয়ে পরীক্ষা দিতে যান কালিগঞ্জে। এক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও সে-টি নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলার জন্য তার সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে সমাজ বিজ্ঞান পরীক্ষার দিন ওই কলেজের সহকারী হল সুপার ইয়াসিন আলী সাংবাদিকদেরকে জানান, নিয়ম অনুযায়ী সিক বেডে সাবিয়া ইসলাম পরীক্ষা দিচ্ছে। ওই কক্ষের পাশের রুমে আমি গার্ড দিচ্ছি। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এ কে এম মহিউদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বিব্রত হওয়া ছাড়া আসলে আমার কিছু করার নেই। তার পরেও দেখছি কি করা যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইচ্ছে করলেই সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে এডিএম এর স্ত্রী কালিগঞ্জে পরীক্ষা দিতে যেতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে অনুমতির নিতে হবে। কিন্তু এ বিষয়টিও আমার জানা নেই। প্রসঙ্গত, ডিগ্রী প্রথম বর্ষের পরীক্ষার সময়ও পরীক্ষার্থী সাবিয়া ইসলাম একই ভাবে সিক বেডে সবগুলো পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সে সময় তার স্বামী সৈয়দ ফারুক আহম্মেদ কালিগঞ্জের ইউএনও ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এডিএম হয়েছেন।




ডেস্ক রিপোর্ট: খাদিজা ‘আব্বু’ ডেকেছেন। গত মঙ্গলবার তাঁর বাবা মাশুক মিয়া প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘খাদিজা আমাকে আজ আব্বু বলে ডেকেছে। খুব আস্তে। আমি নিজে শুনেছি।’সিলেটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের নৃশংস হামলার শিকার খাদিজা ৩ অক্টোবর থেকে হাসপাতালে অচেতন পড়ে ছিলেন। কাজেই তাঁর মুখে এই ‘আব্বু’ ডাকে মেয়ের জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় থাকা বাবার প্রাণটা যেমন জুড়িয়েছে, তেমনি তাঁদের শুভাকাঙ্ক্ষী দেশের হাজারো মানুষ খুশি। সবাই চায়, মেয়েটি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাক। আরও চায়, হামলাকারী বদরুলের শিগগিরই শাস্তি হোক। এদিকে রাজধানীর মিরপুরের বিসিআইসি কলেজের ছাত্রী দুই যমজ বোনকে উত্ত্যক্ত ও মারধর করা বখাটে যুবক জীবন করিমকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাই বলে বখাটের ছুরি কিন্তু থেমে নেই। গত সোমবার ঝিনাইদহ শহরে পূজা বিশ্বাস নামের এক স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছে লিটু নামের এক বখাটে। তাকে অবশ্য এর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঝিনাইদহে কিছুদিন আগেও বখাটের উৎপাত সইতে না পেরে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। আজকাল পত্রিকার পাতা ওলটালেই বখাটেদের এমন অলক্ষুনে দু-চারটা খবর চোখে পড়েই। এই উৎপাত যেন ক্রমে বাড়ছে। বখাটে সে এক প্রাণী বটে! শরীরটা মানুষের, প্রাণটা হায়েনার। কর্মকাণ্ড সংক্রামক ব্যাধির মতো। একটি মেয়ের পেছনে লেগে তার পুরো পরিবারের আরাম হারাম করে দেয়। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বখাটেদের এই উত্ত্যক্ত করার বিষয় সেভাবে নজরে আসে গত শতকের আশির দশকে। বখাটের মূল কাজ প্রকাশ্যে মেয়েদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা। নারীকে স্রেফ পণ্য আর ভোগের বস্তু মনে করে তারা। আগে তাদের দৌরাত্ম্য ছিল সীমিত। শিস দিত, অশ্লীল মন্তব্য ছুড়ত, কয়েকজন মিলে উপহাস করত, ভুল বানান ও ভুল অশালীন বাক্যে প্রেমপত্র লিখে ছুড়ে দিত। চোরা-চোরা একটা ভাব নিয়ে এসব করত তারা। মেয়ের অভিভাবক বা স্বজন কিংবা পাড়ার ভাইদের দেখলে শিয়ালের মতো লেজ গুটিয়ে পালাত তারা। হালে তারা বুক ফুলিয়ে উত্ত্যক্ত করে। সঙ্গে কেবল সহযোগীই নয়, থাকে ধারালো অস্ত্রও। অপকর্মে প্রযুক্তিও কাজে লাগাচ্ছে তারা। মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে, পথে কিশোরী বা তরুণীকে নাজেহাল করার ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে পাঠিয়ে পান্ডাগিরি দেখাচ্ছে। নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে উত্ত্যক্তের শিকার মেয়েটিকে তারা দমিয়ে তো রাখেই, এর সঙ্গে মেয়েটির পুরো পরিবারকে ফেলে দেয় নির্ঘুম দুশ্চিন্তায়। মেয়ের অভিভাবকেরা ধনে–মানে দুর্বল হলে তো কথাই নেই। পদে পদে হেনস্তা হয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত। তাদের দৌরাত্ম্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে কিশোরী বা তরুণীকে প্রাণটা পর্যন্ত দিতে হয়। যেমন দিয়েছে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী রিসা। মাদারীপুরের কালকিনিতে স্কুলছাত্রী নিতুর বেলায়ও ঘটেছে একই ঘটনা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উত্ত্যক্তের শিকার কিশোরী-তরুণীর স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষী বখাটের হামলার শিকার হন। প্রাণ খোয়ান। বিড়াল উৎপাত করলে তাকে তাড়ানো যায়। কুকুরের উপদ্রব দমনে পৌর কর্তৃপক্ষের লোকজন সুচ নিয়ে নামে। আর মশা-মাছির ওষুধ তো আছেই। কিন্তু বখাটের বেয়াড়াপনা দমানোর দাওয়াই কী? এ প্রশ্নের উত্তরে যাওয়ার আগে জেনে নিই বখাটে আসলে কারা? দেখা যাবে, অঢেল বিত্তের ভেলায় ভাসা কোনো ব্যক্তি আদুরে সন্তান, যে এসএসসি বা এইচএসসিতে সগৌরবে ডাব্বা মেরে মেয়েদের পেছনে ঘোরাটাকেই একমাত্র কাজ বলে বেছে নিয়েছে। আবার সে হতে পারে কোনো পরিবারে অনাদরে বেড়ে ওঠা তরুণ, যার মায়া-মমতাহীন জীবন অন্যের সুখ কেড়ে নেওয়ায় উদ্বুদ্ধ করেছে। আর এ ক্ষেত্রে পীড়ন করার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে আত্মরক্ষায় তুলনামূলকভাবে নাজুক কিশোরী বা তরুণীকে। বখাটে হতে পারে দিনের পর দিন বেকার থাকা কোনো তরুণ বা মাদকসেবী। সে হতে পারে বিকৃত মানসিকতাসম্পন্ন কেউ। বখাটে হতে পারে পথে-প্রান্তরে বেড়ে ওঠা এমন তরুণ, যার কোনো চালচুলোই নেই। অভিজ্ঞজনদের মতে, মূল্যবোধের অবক্ষয়, প্রকৃত শিক্ষার অভাব, সামাজিক অবক্ষয় ও বৈষম্য, বেকারত্ব ও হতাশা, সুস্থ সংস্কৃতির অভাব, মাদকদ্রব্যের অবাধ ব্যবহার, আইনগত ব্যবস্থা যথাযথ ও জোরালো না থাকা, রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্যমূলক সম্পর্কের কারণে বখাটেদের উত্ত্যক্ত করার মতো পরিবেশে সৃষ্টি হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বখাটেরা আইনের ফাঁকফোকর গলে জামিন পেয়ে যায়। এরপর থাকে পলাতক। আড়াল থেকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখায় মেয়ের পরিবারের সদস্যদের। ফাঁসের মতো আটকে থাকা ঝামেলা খসাতে অনেক অভিভাবক আপস করে ফেলেন। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক বাদীপক্ষ মামলা চালানোর ম্যারাথনে ক্ষান্ত দেয়। এভাবে অনেক মামলা শেষ পরিণতি পর্যন্ত গড়ায় না। এতে সাজাও হয় না বখাটের। এসব দেখে অন্য বখাটেরা উসকানি পায়। কাজেই বখাটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর হওয়াটা জরুরি। বখাটে যেহেতু এখন জ্বলন্ত সমস্যা, কাজেই আইনগত ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। উত্ত্যক্তকারীর বিচার হতে পারে দ্রুত বিচার আদালতে। সাজা দীর্ঘ বা স্বল্পমেয়াদি, যা-ই হোক না কেন, অপরাধটি অজামিনযোগ্য বলে আইন চালু হলে এ ধরনের অপতৎপরতা কমে যাবে। আমাদের দেশে সামাজিক বিভিন্ন অপরাধ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে রয়েছে কমিউনিটি পুলিশিং। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আস্থাভাজন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে বখাটেপনা দমনে কোনো কমিটি করা যেতে পারে। ওই এলাকায় বখাটেদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে তৎপর থাকবে এই কমিটি। প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। উত্ত্যক্তকারীর উৎপীড়ন বা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চালাতে হবে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা। এর সঙ্গে সভা-সমাবেশ হতে পারে। বখাটে যদি উপলব্ধি করতে পারে, কিশোরী বা তরুণীকে উত্ত্যক্ত করার বিষয় কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে। এ জন্য কঠিন সাজাও পেতে হবে, তাহলে অবশ্যই হতোদ্যম হবে। বখাটে দমনের আরেকটি মোক্ষম দাওয়াই হতে পারে আত্মরক্ষার কৌশল জানা। আমাদের দেশের মেয়েরা এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন। অনেক ক্ষেত্রেই তারা উদ্যমী ও সাহসী। সে ক্ষেত্রে বখাটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে এসব মেয়েকে আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ কাজে লাগতে পারে। এ প্রশিক্ষণ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক। আত্মরক্ষার জন্য আজকাল নানা রকম মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক কৌশল প্রয়োগ করা হয়। মেয়েদের এসব জানা থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনবে। যুক্তরাষ্ট্রে গত আগস্টে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের এমন প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মূলত ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি ঠেকাতেই এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়টি চালু করা হয়েছে। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ হাজার ৭০০ নতুন শিক্ষার্থী এই প্রশিক্ষণ নেন। আমাদের দেশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের কোর্স চালু করা যেতে পারে; বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য। এতে সরকারের যে খুব বেশি ব্যয় হবে, তা নয়।