নিজস্ব প্রতিনিধি : ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা সদরের আলিপুর ইউনিয়নের ভাঁড়–খালী ফুটবল মাঠে এমপি রবি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২২ এর প্রথম রাউন্ডের ৬ষ্ঠ দিনের জাঁকজমকপূর্ণ ফুটবল খেলা
অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় সাতক্ষীরা সদরের আলিপুর ইউনিয়নের ভাঁড়–খালী ফুটবল মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রধান অতিথি হিসেবে টুর্নামেন্টের ৬ষ্ঠ দিনের খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি রবি বলেন, “করোনাকালীন সময়ে মানুষ ঘর বন্দী হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ দুই বছর পর মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে মহামারী করোনা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। মানুষকে একটু স্বস্তি ও আনন্দ দিতে খেলার আয়োজন
করেছি। খেলা-ধূলা স্বাস্থের জন্য যেমন উপকারী। খেলা-ধুলা করলে দেহ মন ভাল থাকে। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গি ও বাল্যবিবাহ মুক্ত সমাজ গড়তে যুব সমাজকে খেলার মাঠে আনতে হবে। খেলা-ধূলায় সাতক্ষীরা সন্তানেরা বিদেশের মাটিতে
সাতক্ষীরা সুনাম তুলে ধরেছে। তিনি আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ দূর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গিকার গ্রাম হবে শহর, সে লক্ষ্যে শহরের সুবিধা গ্রামে পৌছাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”
এমপি রবি ফুটবল টুর্নামেন্টের ৬ষ্ঠ দিনের খেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মকসুমুল হাকিম, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ডা. মুনসুর আহমেদ, জেলা যুবলীগের সিনিয়র সদস্য যুব নেতা মীর মহিতুল আলম মহি, সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর বিন সেলিম যাদু, ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাদের, বৈকারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখ। এমপি রবি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২২ এর ৬ষ্ঠ দিনের খেলায় অংশ নেয় ঘোনা ইউনিয়ন দল বনাম বৈকারী ইউনিয়ন দল। খেলায় বৈকারী ইউনিয়ন দলকে

৪-০ গোলে হারিয়ে ঘোনা ইউনিয়ন দল জয়লাভ করে। খেলা পরিচালনা করেন রেফারী শাম্মু, সহকারি রেফারী ছিলেন রফিকুল ইসলাম খান ও পিপুল খান। শুক্রবার দুপুর ২টার আগেই আলিপুর ইউনিয়নের ভাঁড়–খালী ফুটবল মাঠ দর্শকে কানায় কানায় ভরে যায়। হাজার হাজার দর্শক ৬ষ্ঠ দিনের খেলাটি উপভোগ করেন। শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ভাঁদড়া মাঠে এমপি রবি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২২ এর প্রথম
রাউন্ডের ৭ম দিনের খেলায় অংশ নেবে লাবসা ইউনিয়ন দল বনাম কুশখালী ইউনিয়ন দল। ৬ষ্ঠ দিনের খেলার সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নারী ফুটবলার ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীনের পরিবারকে মিষ্টিমুখ করালেন সাতক্ষীরা জেলা নদী বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও জেলা ভুমিহীন সমিতির নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার বিকেলে বিনেরপোতায় নারী ফুটবলার ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীনের বাড়িতে গিয়ে তার পিতা রজব আলী ও মাতা ফাতেমা খাতুনসহ তার দুই বোনের মিষ্টিমুখ করান এবং তাদের সার্বিক খোজখবর নেন।

নেতৃবৃন্দরা হলেন সাতক্ষীরা জেলা নদী বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সভাপতি আদিত্য মল্লিক, সহ সভাপতি সাংবাদিক সেলিম হোসেন, শেখ আবু সুফিয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, জেলা ভুমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ,
সহ সভাপতি শেখ শওকত আলী, সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী, প্রচার সম্পাদক সোহরাব হোসেন, শফিকুল ইসলাম, লাবসা ইউনিয়ন ভুমিহীন সমিতির সভাপতি শেখ রিয়াজুল ইসলাম, মৎস্য বিত্তনী আলমগীর হোসেন, সুপদ ব্যানার্জী প্রমূখ। এসময় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীনের পরিবারকে বসতঘর তৈরি করে দেওয়া সহ পরিবারকে সার্বিক সহযোগীতা করা জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানান জেলা নদী বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি ও জেলা ভুমিহীন সমিতির নেতৃবৃন্দরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দলের অধিনায়ক গোলম্যাশিন খ্যাত সাতক্ষীরা কৃতি সন্তান ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু।

শুক্রবার(২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদরের মাছখোলা শিবতলা মোড়ে শুভেচ্ছা জানানোর সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনূর ইসলাম, সাজেক্রীসের যুগ্ম-সম্পাদক মীর তাজুল ইসলাম রিপন,বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক বন্দে আলী, যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রানা, ব্রহ্মরাজপুর ইউপির সদস্য মো নুরুল হুদা, মিজানুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য নুর ইসলাম মগরেব, যুবলীগ নেতা মো. সালাউদ্দিনসহ স্থানীয় এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অনলাইন ডেস্ক :
জাতীয় গ্রীষ্মকালীন অ্যাথলেটিক্সের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সুমাইয়া দেওয়ানকে হারিয়ে দ্রুততম মানবীর মুকুট পুনরুদ্ধার করেছেন সাতক্ষীরার শিরিন আক্তার। এ নিয়ে ১৩ বার ১০০ মিটার জিতলেন শিরিন। সময় নিয়েছেন ১১.৯৫ সেকেন্ড। ইলেকট্রনিক বোর্ডে এটি মেয়েদের ১০০ মিটারে নতুন জাতীয় রেকর্ড। আগের রেকর্ডও ছিল শিরিনের। ২০১৬ সালে গুয়াহাটি এসএ গেমসে করেন ১১.৯৯।

অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের জাতীয় প্রতিযোগিতা মানেই টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন। গত জাতীয় প্রতিযোগিতার মতো এই প্রতিযোগিতাও হয়েছে ইলেকট্রনিক টাইমিংয়ে। দ্রুততম মানবী শিরিন তার ১০০ মিটার ইভেন্টে সেরা টাইমিং করেছেন।

এই ইভেন্টে আগের সেরা টাইমিং ছিলো ১১.৯৯। সেটা ছিলো ২০১৬ সালে গৌহাটি সাফ গেমসে। এবারের সামারে তার টাইমিং তিনি করেছেন ১১.৯৫। দ্বিতীয় হওয়া সুমাইয়া দেওয়ানের টাইমিং ১২.০৯।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি : ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির নবগঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুরাতন সাতক্ষীরা নাট মন্দির প্রাঙ্গণে জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি এ্যাড. সোমনাথ ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’র শ্যামল সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীল, জয় মহাপ্রভু সেবক সংঘ জেলা শাখার সভাপতি গোষ্ঠ বিহারী মন্ডল, ডা. প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, অধ্যাপক ভূধর সরকার, জেলা মন্দির সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রঘুজিৎ গুহ, ধীরু ব্যানার্জী, কিরন্ময় ঘোষ, অমিত কুমার, বাসু দেব প্রমুখ।

জেলা মন্দির সমিতির নবগঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন -সভাপতি এ্যাড, সোমনাথ ব্যানাজী, গোষ্ঠ বিহারী মন্ডল, সহ-সভাপতি দিলীপ কুমার চ্যাটার্জী, স্বপন কুমার শীল, দাশ সোনাতন চন্দ্র, এ্যাড, তারক মিত্র, সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন, যুগ্ন সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র দাশ, সঞ্জীব কুমার ব্যানার্জী, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ কুমার সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাণনাথ দাশ, সাহিত্য সম্পাদক অসীম কুমার দাশ সোনা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পলাশ দেবনাথ,

অডিটর বলাই দে, প্রচার সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক করুনাময় ঘোষ করু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দীপঙ্কর কুমার ঘোষ, শঙ্কর কুমার ঘোষ, কেশব সাধু, গেনিন্দ্র নাথ মন্ডল, উদয় ভাস্কর বন্দোপাধ্যায়, অজয় ঘোষ ও নির্মল পাল, কার্যনির্বাহী সদস্য সুভাষ চন্দ্র ঘোষ, দেবাশীষ বসু শেখর, দীপাসিন্ধু তরফদার, গোপাল চন্দ্র ঘোষ, শিবপ্রসাদ ঘোষ, প্রবীর পোদ্দার, বিষ্ণু কুমার দাস, রায় দুলাল চন্দ্র, গংগাধর দফাদার, তরুণ কুমার গুহ, বিশ্বজিৎ বাছাড়, জ্যোৎস্না দত্ত, অসীম কুমার সাধু, তাপস কুমার সোম, তারক মন্ডল, ডা. দিনেশ দত্ত, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, হেমন্ত কুমার দাশ, উজ্জল দে ও সনজিত কুমার দেবনাথ। অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও নব-গঠিত কমিটির সকলকে ফুল ও উত্তোরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা মন্দির সমিতির নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান ঃ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের একটি মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর করেছে দূর্বত্তরা। শুক্রবার ভোর রাতে উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের সাহাপাড়া মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় মন্দিরে থাকা প্রতিমার মাথার অংশ ভেঙ্গে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা।

সাহাপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি অসিত সাহা জানান, রাত ১২টা পর্যন্ত আমরা মন্দিরে ছিলাম। সকালে মন্দিরে এসে দেখি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রতিমার মাথা অংশ ভেঙ্গে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। প্রতিমা ভাংগা অবস্থায় পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব খান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু, তালা থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ, ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন, উপজেলার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজীৎ দাশ বাপী প্রমুখ।

সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এ সময় বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই সেখানে গিয়ে এলাকাবাসির সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, ইতিমধ্যে তিনিসহ জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। খব দ্রুত এ ঘটনায় জড়িতদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক:
হিমালয়ের দেশ নেপালকে পরাজিত করে সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধনায়ক এবং স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুন নিজ বাড়িতে আসায় সাতক্ষীরায় সর্বস্তরের মানুষ বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। হৃদয়ের সবটুকু আবেগ উজাড় করে সাবিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে হাজারো মানুষ।

ফুলেল শুভেচ্ছায় এবং বর্ণিল শোভাযাত্রায় তাকে বরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি কালো রঙের প্রাইভেটকারে চড়ে সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসেরর সামনে আসেন ফুটবল কন্যা সাবিনা খাতুন। এরপর একটি ছাদখোলা পিকআপে ওঠেন তিনি।

সাদা টি-শার্ট আর কলো গগজ পরা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনাকে দুই হাত নেড়ে এ সময় অভিনন্দন জানান হাজারো মানুষ। এসময় সাতক্ষীরা-যশোর সড়কে দেখা যায় জনতার ভীড়। এরপর সাফ চ্যাম্পিয়ন সাবিনা খাতুন ছাদখোলা পিকআপে দাঁড়িয়ে জনতার অভিনন্দনের জবাব দেন। সাতক্ষীরা সার্কিট হাউস মোড় থেকে শহরের সঙ্গীতা মোড় হয়ে পাকাপুল, টাউন স্পোর্টিং ক্লাব ঘুরে নিউমার্কেট মোড়ে এসে পিকআপটি থামে। গোটা শহর ঘুরে তিনি সাতক্ষীরাসহ দেশবাসিকে অভিনন্দন জানান। লাল-সবুজের জাতীয় পতাকাবাহী খোলাছাদের পিকআপটি সাবিনাকে নিয়ে শহর প্রদক্ষিণকালে শিশু, কিশোর, যুব-বৃদ্ধ সবাই তাঁকে অভিনন্দন জানান। শহর প্রদক্ষিণ শেষে সাতক্ষীরা নিউমার্কেট মোড় থেকে ফুটবল কন্যা সাবিনা খাতুন ফিরে যান নিজ বাড়িতে। এসময় সড়কের দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ তাঁকে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান।

এর আগে সকাল ৫টার দিকে সাবিনা খাতুন রাজধানী ঢাকা থেকে তাঁর নিজ বাড়িতে পৌঁছান। এসময় সাবিনা খাতুন তাঁর প্রয়াত পিতা সৈয়দ আলী ও প্রয়াত গুরু আকবর আলীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে কিছু সময় অতিবাহিত করেন।

শহর প্রদক্ষিণেরর আগে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা দলের বর্তমান অধিনায়ক এবং স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুন। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এ বিজয় দেশবাসির প্রতি উৎসর্গ করেছি। বাবা বেঁচে থাকলে তিনি আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। আমার প্রয়াত শিক্ষাগুরু আকবর আলীর কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

সাতক্ষীরাসহ দেশবাসির ভালোবাসায় আজ বাংলাদেশ নারী ফুটবল টিম বিজয় উল্লাস প্রকাশ করতে পারছি। এজন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাবলিল সহযোগিতা আমাদেরকে উদ্দীপ্ত করেছে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিয়ে থাকেন। তিনি আমাদের সব সময় প্রেরণা দিচ্ছেন। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আগামীতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রেরণা ও দেশবাসির ভালোবাসায় এগিয়ে যাব-ইনশাল্লাহ।

এসময় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।###

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

একটা গল্প দিয়ে শুরু করি। যদিও গল্পটা অনেকেরই জানা তবুও বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিকতা থাকায় গল্পটা আবার পাঠকদের মনে করিয়ে দিতে চাই। একবার এক দরিদ্র কৃষক সরকার থেকে ৫০ লাখ টাকা অনুদান পেল। তখন সে চিন্তা করল আর কষ্ট না করে ঐ টাকা দিয়ে বসে বসে খাবে। মনের আনন্দে সে বাজারে গেল মিষ্টি কিনতে তার প্রতিবেশীদের খাওয়াবে বলে। বাজারে গিয়ে দেখল যে, মিষ্টির দোকান বন্ধ। কারণ মিষ্টির দোকানদারও ৫০ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছে। সেও আর কষ্ট করে দোকান চালাবে না, ঐ টাকা দিয়ে বসে বসে বাকি জীবন পার করবে। তারপর সেই কৃষক বাজারে গেল তার নিজের জন্য চাল, ডাল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কিনতে। কিন্তু গিয়ে দেখল সব দোকানই বন্ধ। কারণ তারাও প্রত্যেকে সরকার থেকে ৫০ লাখ টাকা করে অনুদান পেয়েছে। তারও চিন্তা করেছে আর কষ্ট না করে এবার আরাম-আয়েশে জীবনটা পার করতে। উপায় না পেয়ে কৃষক এবার হোটেলে গেল ভাত খেতে। সেখানেও একই অবস্থা। তারপর সে এক মুদির দোকানে গেল অন্তত কিছু শুকনো খাবার ও পানি খেয়ে নিজের জীবনটা বাঁচাতে। সেখানেও একই অবস্থা। এরপর ঐ কৃষক তার আশেপাশের মানুষের হাতে-পায়ে ধরছে তাকে কিছু খাবার দেওয়ার জন্য। বিনিময়ে সে বস্তা বস্তা টাকা দিতেও রাজি। কারণ টাকা খেয়ে তো আর বেঁচে থাকা যায় না।

উপরের গল্প থেকে আমরা এটা বুঝতে পারি যে, শুধু টাকা দিয়ে জীবন চলে না। উৎপাদন ছাড়া টাকা কোনো কাজে আসে না। এখানে দেখা যাচ্ছে, সরকার থেকে টাকা পেয়ে তারা তাদের নিজ নিজ কর্ম বা উৎপাদন বন্ধ করেছে। ফলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থের যোগান হয়েছে কিন্তু প্রয়োজনীয় দ্রব্যের যোগান বাড়েনি। অর্থনীতির ভাষায় যাকে বলে Inflation বা মুদ্রাস্ফীতি। এজন্য তাদের কাছে প্রচুর টাকা আছে কিন্তু খাবার নেই। তাহলে এই টাকা দিয়ে কী হবে? কোনো কাজে আসবে না। সুতরাং উৎপাদন না বাড়িয়ে দেশকে উন্নতি করার আমাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে।

এবার আসি উৎপাদন নিয়ে। উৎপাদন কারা করে? বাংলাদেশের শিক্ষার হার এখনো শতভাগে পৌছায়নি। তাই বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এখনো অশিক্ষিত। তবে তারা ছোট-বড় বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত রয়েছে। আর যারা শিক্ষিত তাদের মধ্যে কেউ কেউ সরকারি বা বেসরকারি চাকরি করছেন; আবার কেউ কেউ উদ্যোক্তা হয়ে আরো অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন; আবার কেউ কেউ বেকার। এবং এই বেকারত্বের পরিমাণটা নেহাত কম না। তারা চায় একটা চাকরি করতে, বিশেষ করে সরকারি চাকরি করতে। কারণ সবার ধারণা, সরকারি কাজ কোনো কাজই না। এখানে তেমন কোনো চাপ নেই, কষ্টও নেই। কিন্তু ক্রমবর্ধমান এই জনসংখ্যার দেশে এত লোকের চাকরি দেওয়া কীভাবে সম্ভব? বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে বছরে কতগুলো পদ খালি হয়, আর নতুন করেই বা কতগুলো পদ সৃষ্টি হয়? সব মিলিয়ে ৫০ হাজারও হবে না (এটা আনুমানিক হিসেব)। কিন্তু প্রতি বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় – সব মিলিয়ে কয়েক লক্ষ শিক্ষিত যুবক চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে। বিগত বিসিএসগুলোতে আবেদনকারীর সংখ্যা বিশ্বের কয়েকটি দেশের মোট জনসংখ্যা থেকেও বেশি। এমতাবস্থায় যত ভাল শিক্ষার্থী হোক না কেন একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি চাকরি পাবে না। তাহলে যারা বাদ পড়ে যাবে তারা সবাই কি খারাপ? হতে পারে অনেকেই চাকরি পাওয়ার যোগ্য না। তাইবলে তো সবাই অযোগ্য হতে পারে না। বিসিএসে যারা পাস করে সবাই চাকরি পায় না। কারণ পদ স্বল্পতা। তাহলে যারা বিসিএসে পাস করেও চাকরি পেল না তাদেরকে আমরা কি বলব? ‘বিসিএস পাস বেকার’ ছাড়া কিছুই বলার নেই। এত কষ্ট করে পড়ালেখা করে পাস করেও পদ স্বল্পতার কারণে চাকরি না পাওয়ায় বহু যুবকের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। যাইহোক, আমাদের আলোচ্য বিষয় সেটা না। এখন এই যে চাকরি না পাওয়া শিক্ষিত যুবকগুলো তো কিছু না কিছু করে জীবিকা নির্বাহ করবে। কারণ বেঁচে থাকতে গেলে কিছু একটা উপার্জনের পথ বের করতে হবে। আর জীবনের তাগিদে তখন সুবিধামতো বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হতে হয়। হতে পারে যারা চাকরি পায় নি তাদের মেধা, যারা চাকরি পেয়েছে তাদের থেকে তুলনামূলক কম (ব্যতিক্রমও রয়েছে)। তবে এটা তো পরিষ্কার আপনাকে বা আমাকে বা কাউকে না কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হবেই হবে। কারণ পদ সীমিত। এখন এই মানুষগুলো যখন বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয় তখন তাদেরকে অবজ্ঞা ভরে দেখা হয়। কারণ তারা চাকরি করে না। আমাদের সমাজে চাকরি না করাটা ‘পরিচয়হীন ব্যক্তি’ বলে মনে করা হয়। কী অদ্ভুদ ব্যাপার! এতো গেল নীতি নৈতিকতার কথা। এবার আসি বাস্তবতায়।

আচ্ছা, জীবনের প্রয়োজনে আমাদের অনেক কিছুই দরকার হয়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা -এই পাঁচটা মৌলিক অধিকারের বাইরে আমাদের আরো বহুবিধ চাহিদা রয়েছে। সেটা হতে পারে প্রয়োজনীয় বা বিলাসবহুল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সকল চাহিদা পূরণ করবে কারা? নিশ্চয়ই কোনো চাকরিজীবী নয়। বিনোদোন আমাদের জীবনের অপরিহার্য একটা অংশ। বিনোদন ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব। কিন্তু বিনোদন জগতে তো সরকারি চাকরির পদ নেই। তাহলে তো বিনোদন দেওয়ার মতো লোক পাওয়া যাবেনা অথচ যেটা আমাদের দরকার। আমাদের বস্ত্র দরকার। কিন্তু পোশাক কারখানাগুলো তো ব্যক্তি মালিকানাধীন। তাহলে সেখানে কাজ করবে কারা? পোশাক ছাড়া তো চলা অসম্ভব। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য দরকার। খাদ্য তো এসি রুমে হয় না। হয় মাঠে। তাহলে রোদ, ঝড়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফসল উৎপাদন করবে কারা? আমাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য মাছ উৎপাদন করবে কারা? আমাদের পা-কে রক্ষার জন্য জুতো তৈরি করবে কারা? রোগ-ব্যাধি থেকে আমাদের মুক্তির জন্য ওষধ তৈরি করবে কারা? ক্যানসার, ইবোলা ভাইরাস, এইডস, হাম, যক্ষা, বি-ভাইরাস ইত্যাদি থেকে নিরাপদ থাকার জন্য টিকা তৈরি করবে কারা? উপরের সকল পণ্য সঠিক স্থানে পৌঁছে দেবে কারা? চাকরিজীবিদের গাড়ি-বাড়ি তৈরি করে দেবে কারা? যাতায়াতের জন্য রাস্তা-ঘাট তৈরি করবে কারা? তাদের বাড়িতে পানি, মাছ, মাংস যোগান দেবে কারা? তাদের টিভি, ফ্রিজ, এসি মেরামত করবে কারা? তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করবে কারা?কবি, সাহিত্যক না থাকলে আমাদের উন্নত দৃষ্টিভঙ্গির পথ দেখাবে কারা? সাংবাদিক না থাকলে আমাদের চারপাশের খবর তথা বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমস্ত খবর আমাদেরকে জানিয়ে সচেতন করবে কারা? এরকম হাজারও ‘কারা’ এর কোনো উত্তর আমাদের কাছে নেই।

একটা দেশের সার্বিক উন্নতি করতে হলে সকল পেশায় দক্ষ জনশক্তি দরকার। আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করলে বিষয়টা আরও একটু পরিষ্কার হবে। গত কয়েকমাস যাবৎ দেশের অর্থনীতিতে বেশ মন্দা ভাব দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে জুলাইয়ের শুরুতে। মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেছে, টাকার মান কমে গেছে এবং জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে ডলার সংকট একটা। এই ডলার আসে কীভাবে? ১. প্রবাসীদের পাঠানো ডলার এবং ২. আমাদের দেশীয় পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত ডলার। এখন আসি প্রবাসী আয়ে। বিষয়টা একটু অন্যভাবে আলোচনা করা যাক, আমরা যারা একটু লেখাপড়া শিখেই চাকরি চাকরি করি, তারা কি ভেবে দেখেছি আমরা দেশের অর্থনীতিতে কতটুকু অবদান রাখছি? আমাদের বিভিন্ন খাদ্যশস্য, ফল, জ্বালানি তেল, গ্যাস, ঔষধ, গাড়ি, শিশুখাদ্য, প্রসাধনী, বিলাসবহুল পণ্য, ইলেক্ট্রনিক দ্রব্যাদিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র আমদানি করতে হয় বাইরের দেশ থেকে। আর এই আমাদনি কার্যক্রম চালাতে হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা ডলার দিয়ে। ডলার তো আমরা ছাপাতে পারি না। এই ডলার আসে প্রবাসী আয় থেকে এবং আমাদের নিজেদের পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে। এখন যারা বাইরের বিভিন্ন দেশে কাজ করে ডলার পাঠান তারা যদি এই ডলার না পাঠান, অর্থাৎ অবৈধভাবে পাঠান অথবা, ধরে নিই বাইরের দেশে কেউ কাজ করতে গেল না সেক্ষেত্রে আমাদের অর্থনীতি কোথায় যাবে সেটা বুঝতে খুব বেশি জ্ঞানের দরকার হয় না। তাহলে বুঝতেই পারছি প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

এবার আসি আমাদের নিজেদের পণ্য রপ্তানির বিষয়ে। আমরা আমাদের খাদ্যশস্য যেমন, চাল, গম, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চিংড়ি, ফল, তৈরি পোশাক, ঔষধ, রড, সিমেন্ট, বিলাসজাত পণ্য, জনশক্তিসহ বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য রপ্তানি করে থাকি এবং এর মাধ্যমে ডলার পেয়ে থাকি। এখন প্রশ্ন হলো এই সব দ্রব্যাদি উৎপাদন করে কারা। নিশ্চয়ই কোনো অফিসিয়াল চাকরিজীবী নয়। এসব উৎপাদন করে একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। তৈরি পোশাক আমাদের অর্থনীতির একটা বড় শক্তি। সেই পোশাক কারখানাগুলোতেও কাজ করে একেবারে প্রান্তিক লোকজন।

তাহলে আমরা যারা চাকরি চাকরি করে দিন পার করছি, আর চাকরি না হলে হতাশ হচ্ছি এবং যারা চাকরি না করে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে যুক্ত আছে বলে তাদেরকে ছোট করে দেখছি, আমরা কি ভেবে দেখেছি আমরা কতটা ঠিক কাজ করছি? সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে কারা আমরা একবারও চিন্তা করছি? দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে এই মুহুর্তে দুটো জিনিস আগে দরকার। এক. প্রবাসী আয় বৃদ্ধি করা; এবং দুই. আমাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করা। যার কোনোটাই আমরা সবাই করতে পারব না। কই? আপনিতো চাকরিজীবী! তো বাঁচান না দেশের অর্থনীতিকে। আপনার ক্ষমতা অনেক। তো প্রয়োগ করে দেখান যাতে করে আমাদের দেশের লোকজন একটু স্বাচ্ছন্দ্যে খেয়ে পরে বেঁচে থাকে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে সরকারি বা বেসরকারি চাকরির কি কোনো দরকার নেই? হ্যাঁ, অবশ্য আছে। আমি কিন্তু কখনো বলিনি যে চাকরির দরকার নেই। ‘চাকরি’ মানে ‘কাজ’। তবে সেই কাজ করা হয় কখনো নিজের মতো স্বাধীনভাবে, কখনো সরকারের অধীনে আবার কখনো বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তির অধীনে। সবইতো চাকরি বা কাজ। সরকারের অধীনে যে কাজ করা হয় সেটাকে বলা হয় সরকারি চাকরি। বলা হয় সরকারি চাকরিতে অন্যান্য চাকরি থেকে তুলনামূলক সুযোগ-সুবিধা বেশি। আর বেসরকারি চাকরিতে সেই সুযোগ-সুবিধাগুলো তুলনামূলক কম (কিছু ব্যতিক্রম বাদে)। এবার আসি সেই সুযোগ-সুবিধা কী। আসলে মোটাদাগে সরকারি চাকরি বা কাজ বলতে আমরা সাধারণ জনগণ সেটাই বুঝি যেখানে তেমন কোনো কাজ নেই। তবে রাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের কথা আলাদা। সেখানে প্রচুর চাপ থাকে, এমনকি তাদের মাঠ পর্যায়েও কাজের প্রেসার অনেক। কিন্তু গড় হিসেবে অন্যান্য সেক্টরগুলোতে আসলে বেশিরভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কী সেবা দিয়ে থাকেন সেটা প্রতিদিনকার খবরের কাগজে দেখা যায়। আমরা সবাই সরকারি চাকরি করতে চাই, কিন্তু সেবা নিতে যাই বেসরকারি খাত থেকে। কেন? কারণ সেখানে আমাদের আস্থা বেশি। কারণ কি? সেখানকার ব্যবস্থাপনা ভাল। আর ব্যবস্থাপনা ভাল কারণ সেখানকার কাজগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হয় সুশৃঙ্খলভাবে। আর তাই সেখানে চাকরি করা একটু চাপ বেশি বলে মনে হয়। কারণ আমাদের চোখের সামনে দেখছি একই পেশায় সরকারি প্রতিষ্ঠানে থেকে অন্যরা আরামে দিন কাটাচ্ছে।

আমাদের মাঠ পর্যায়ে উৎপাদনশীল বা অনুৎপাদনশীল কাজে যারা যুক্ত আছেন তাদেরকে সঠিক দিক নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। এখন এই দিক নির্দেশনা কারা দিবে? আমরা প্রতেকেই তো একাই একশ, কিন্তু একশ লোক কখনো এক হতে পারি না, আর বর্তমান বাস্তবতায় সেটা সম্ভবও না। আর তাই কেন্দ্রীয়ভাবে দেশের প্রত্যেক সেক্টরকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য আলাদা আলাদা দক্ষ জনশক্তি দরকার হয়। যেমন: কৃষি খাত দেখাশোনা করার জন্য কৃষি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য খাত দেখার জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ে দক্ষ কর্মকর্তা, প্রকৌশল খাত দেখাশোনা করার জন্য প্রকৌশলী- এরকমভাবে প্রত্যেক সেক্টরে দক্ষ জনবল দরকার। আর তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য আরও কিছু অধীনস্থ কর্মকর্তা এবং কর্মচারীও দরকার হয়। আর এই সকল সেক্টরকে মনিটরিং করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সিভিল প্রশাসন দরকার। এখন এসব সেক্টরের কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারী, অথবা সাধারণ মানুষ যারা অপরাধ করবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য এবং দেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিচার বিভাগ, পুলিস প্রশাসন, দুদকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য এজেন্সি দরকার। দেশকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনী দরকার। দেশের অভ্যন্তরীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু রাখা এবং বৈদেশিক লেনদেন চালু রাখার জন্য ব্যাংক এবং ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী দরকার। আবার সকলকে ছোট থেকে বড় করে সত্যিকার অর্থে মানুষ করার জন্য দক্ষ শিক্ষক দরকার। আর সবাইকে ভালভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সৎ ও যোগ্য রাজনৈতিক নেতা দরকার। তাহলে সবকিছু বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের সবাইকে সবার প্রয়োজন। আমরা প্রতেকেই একটা সামগ্রিক ব্যবস্থার এক একটা ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। কেউ কাউকে ছাড়া চলতে পারি না।

এক সময় আমাদের দেশ ১০০% শিক্ষিত হবে। তখনওতো বিভিন্ন পেশায় দক্ষ জনবল প্রয়োজন হবে। দেশ যখন ১০০% শিক্ষিত হবে তার অর্থ দাঁড়াবে, রাস্তার রিক্সাওয়ালাটা শিক্ষিত, বাড়ির কাজের বুয়াও শিক্ষিত, একজন সেলুন দোকানদার সেও শিক্ষিত, যে জুতো সেলাই করে সে শিক্ষিত, যে মাঠে ফসল ফলায় সেও শিক্ষিত, যে নদীতে মাছ ধরে সেও শিক্ষিত। ১০০% শিক্ষিত মানে চায়ের দোকানি থেকে শুরু করে যারা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে সবাই শিক্ষিত। সবাই ১০০% এর ভিতরে। তাহলে তখন শিক্ষিত হয়ে সবাই অফিসিয়াল চাকরি করলে কে ফসল ফলাবে? কে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে? উৎপাদনের সাথে কারা যুক্ত থাকবে? কারা বিদেশে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাবে? দেশ চলবে কীভাবে? সবচেয়ে বড় কথা হল, কে কাকে চাকরি দেবে? উত্তর আমাদের জানা নেই। তাহলে মানুষের পেশা নিয়ে কেন এত হীনমন্যতা? কেন এত সংকীর্ণতা? সত্যিকার অর্থে দেশকে বাঁচিয়ে রাখছে কারা? দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কারা?

অগ্নিধ্র শর্মা
সাতক্ষীরা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest