আসাদুজ্জামান ঃ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের একটি মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর করেছে দূর্বত্তরা। শুক্রবার ভোর রাতে উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের সাহাপাড়া মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় মন্দিরে থাকা প্রতিমার মাথার অংশ ভেঙ্গে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা।

সাহাপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি অসিত সাহা জানান, রাত ১২টা পর্যন্ত আমরা মন্দিরে ছিলাম। সকালে মন্দিরে এসে দেখি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রতিমার মাথা অংশ ভেঙ্গে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। প্রতিমা ভাংগা অবস্থায় পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব খান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু, তালা থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ, ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন, উপজেলার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজীৎ দাশ বাপী প্রমুখ।

সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এ সময় বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই সেখানে গিয়ে এলাকাবাসির সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, ইতিমধ্যে তিনিসহ জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। খব দ্রুত এ ঘটনায় জড়িতদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক:
হিমালয়ের দেশ নেপালকে পরাজিত করে সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধনায়ক এবং স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুন নিজ বাড়িতে আসায় সাতক্ষীরায় সর্বস্তরের মানুষ বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। হৃদয়ের সবটুকু আবেগ উজাড় করে সাবিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে হাজারো মানুষ।

ফুলেল শুভেচ্ছায় এবং বর্ণিল শোভাযাত্রায় তাকে বরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি কালো রঙের প্রাইভেটকারে চড়ে সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসেরর সামনে আসেন ফুটবল কন্যা সাবিনা খাতুন। এরপর একটি ছাদখোলা পিকআপে ওঠেন তিনি।

সাদা টি-শার্ট আর কলো গগজ পরা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনাকে দুই হাত নেড়ে এ সময় অভিনন্দন জানান হাজারো মানুষ। এসময় সাতক্ষীরা-যশোর সড়কে দেখা যায় জনতার ভীড়। এরপর সাফ চ্যাম্পিয়ন সাবিনা খাতুন ছাদখোলা পিকআপে দাঁড়িয়ে জনতার অভিনন্দনের জবাব দেন। সাতক্ষীরা সার্কিট হাউস মোড় থেকে শহরের সঙ্গীতা মোড় হয়ে পাকাপুল, টাউন স্পোর্টিং ক্লাব ঘুরে নিউমার্কেট মোড়ে এসে পিকআপটি থামে। গোটা শহর ঘুরে তিনি সাতক্ষীরাসহ দেশবাসিকে অভিনন্দন জানান। লাল-সবুজের জাতীয় পতাকাবাহী খোলাছাদের পিকআপটি সাবিনাকে নিয়ে শহর প্রদক্ষিণকালে শিশু, কিশোর, যুব-বৃদ্ধ সবাই তাঁকে অভিনন্দন জানান। শহর প্রদক্ষিণ শেষে সাতক্ষীরা নিউমার্কেট মোড় থেকে ফুটবল কন্যা সাবিনা খাতুন ফিরে যান নিজ বাড়িতে। এসময় সড়কের দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ তাঁকে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান।

এর আগে সকাল ৫টার দিকে সাবিনা খাতুন রাজধানী ঢাকা থেকে তাঁর নিজ বাড়িতে পৌঁছান। এসময় সাবিনা খাতুন তাঁর প্রয়াত পিতা সৈয়দ আলী ও প্রয়াত গুরু আকবর আলীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে কিছু সময় অতিবাহিত করেন।

শহর প্রদক্ষিণেরর আগে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা দলের বর্তমান অধিনায়ক এবং স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুন। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এ বিজয় দেশবাসির প্রতি উৎসর্গ করেছি। বাবা বেঁচে থাকলে তিনি আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। আমার প্রয়াত শিক্ষাগুরু আকবর আলীর কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

সাতক্ষীরাসহ দেশবাসির ভালোবাসায় আজ বাংলাদেশ নারী ফুটবল টিম বিজয় উল্লাস প্রকাশ করতে পারছি। এজন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাবলিল সহযোগিতা আমাদেরকে উদ্দীপ্ত করেছে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিয়ে থাকেন। তিনি আমাদের সব সময় প্রেরণা দিচ্ছেন। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আগামীতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রেরণা ও দেশবাসির ভালোবাসায় এগিয়ে যাব-ইনশাল্লাহ।

এসময় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।###

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

একটা গল্প দিয়ে শুরু করি। যদিও গল্পটা অনেকেরই জানা তবুও বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিকতা থাকায় গল্পটা আবার পাঠকদের মনে করিয়ে দিতে চাই। একবার এক দরিদ্র কৃষক সরকার থেকে ৫০ লাখ টাকা অনুদান পেল। তখন সে চিন্তা করল আর কষ্ট না করে ঐ টাকা দিয়ে বসে বসে খাবে। মনের আনন্দে সে বাজারে গেল মিষ্টি কিনতে তার প্রতিবেশীদের খাওয়াবে বলে। বাজারে গিয়ে দেখল যে, মিষ্টির দোকান বন্ধ। কারণ মিষ্টির দোকানদারও ৫০ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছে। সেও আর কষ্ট করে দোকান চালাবে না, ঐ টাকা দিয়ে বসে বসে বাকি জীবন পার করবে। তারপর সেই কৃষক বাজারে গেল তার নিজের জন্য চাল, ডাল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কিনতে। কিন্তু গিয়ে দেখল সব দোকানই বন্ধ। কারণ তারাও প্রত্যেকে সরকার থেকে ৫০ লাখ টাকা করে অনুদান পেয়েছে। তারও চিন্তা করেছে আর কষ্ট না করে এবার আরাম-আয়েশে জীবনটা পার করতে। উপায় না পেয়ে কৃষক এবার হোটেলে গেল ভাত খেতে। সেখানেও একই অবস্থা। তারপর সে এক মুদির দোকানে গেল অন্তত কিছু শুকনো খাবার ও পানি খেয়ে নিজের জীবনটা বাঁচাতে। সেখানেও একই অবস্থা। এরপর ঐ কৃষক তার আশেপাশের মানুষের হাতে-পায়ে ধরছে তাকে কিছু খাবার দেওয়ার জন্য। বিনিময়ে সে বস্তা বস্তা টাকা দিতেও রাজি। কারণ টাকা খেয়ে তো আর বেঁচে থাকা যায় না।

উপরের গল্প থেকে আমরা এটা বুঝতে পারি যে, শুধু টাকা দিয়ে জীবন চলে না। উৎপাদন ছাড়া টাকা কোনো কাজে আসে না। এখানে দেখা যাচ্ছে, সরকার থেকে টাকা পেয়ে তারা তাদের নিজ নিজ কর্ম বা উৎপাদন বন্ধ করেছে। ফলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থের যোগান হয়েছে কিন্তু প্রয়োজনীয় দ্রব্যের যোগান বাড়েনি। অর্থনীতির ভাষায় যাকে বলে Inflation বা মুদ্রাস্ফীতি। এজন্য তাদের কাছে প্রচুর টাকা আছে কিন্তু খাবার নেই। তাহলে এই টাকা দিয়ে কী হবে? কোনো কাজে আসবে না। সুতরাং উৎপাদন না বাড়িয়ে দেশকে উন্নতি করার আমাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে।

এবার আসি উৎপাদন নিয়ে। উৎপাদন কারা করে? বাংলাদেশের শিক্ষার হার এখনো শতভাগে পৌছায়নি। তাই বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এখনো অশিক্ষিত। তবে তারা ছোট-বড় বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত রয়েছে। আর যারা শিক্ষিত তাদের মধ্যে কেউ কেউ সরকারি বা বেসরকারি চাকরি করছেন; আবার কেউ কেউ উদ্যোক্তা হয়ে আরো অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন; আবার কেউ কেউ বেকার। এবং এই বেকারত্বের পরিমাণটা নেহাত কম না। তারা চায় একটা চাকরি করতে, বিশেষ করে সরকারি চাকরি করতে। কারণ সবার ধারণা, সরকারি কাজ কোনো কাজই না। এখানে তেমন কোনো চাপ নেই, কষ্টও নেই। কিন্তু ক্রমবর্ধমান এই জনসংখ্যার দেশে এত লোকের চাকরি দেওয়া কীভাবে সম্ভব? বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে বছরে কতগুলো পদ খালি হয়, আর নতুন করেই বা কতগুলো পদ সৃষ্টি হয়? সব মিলিয়ে ৫০ হাজারও হবে না (এটা আনুমানিক হিসেব)। কিন্তু প্রতি বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় – সব মিলিয়ে কয়েক লক্ষ শিক্ষিত যুবক চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে। বিগত বিসিএসগুলোতে আবেদনকারীর সংখ্যা বিশ্বের কয়েকটি দেশের মোট জনসংখ্যা থেকেও বেশি। এমতাবস্থায় যত ভাল শিক্ষার্থী হোক না কেন একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি চাকরি পাবে না। তাহলে যারা বাদ পড়ে যাবে তারা সবাই কি খারাপ? হতে পারে অনেকেই চাকরি পাওয়ার যোগ্য না। তাইবলে তো সবাই অযোগ্য হতে পারে না। বিসিএসে যারা পাস করে সবাই চাকরি পায় না। কারণ পদ স্বল্পতা। তাহলে যারা বিসিএসে পাস করেও চাকরি পেল না তাদেরকে আমরা কি বলব? ‘বিসিএস পাস বেকার’ ছাড়া কিছুই বলার নেই। এত কষ্ট করে পড়ালেখা করে পাস করেও পদ স্বল্পতার কারণে চাকরি না পাওয়ায় বহু যুবকের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। যাইহোক, আমাদের আলোচ্য বিষয় সেটা না। এখন এই যে চাকরি না পাওয়া শিক্ষিত যুবকগুলো তো কিছু না কিছু করে জীবিকা নির্বাহ করবে। কারণ বেঁচে থাকতে গেলে কিছু একটা উপার্জনের পথ বের করতে হবে। আর জীবনের তাগিদে তখন সুবিধামতো বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হতে হয়। হতে পারে যারা চাকরি পায় নি তাদের মেধা, যারা চাকরি পেয়েছে তাদের থেকে তুলনামূলক কম (ব্যতিক্রমও রয়েছে)। তবে এটা তো পরিষ্কার আপনাকে বা আমাকে বা কাউকে না কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হবেই হবে। কারণ পদ সীমিত। এখন এই মানুষগুলো যখন বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয় তখন তাদেরকে অবজ্ঞা ভরে দেখা হয়। কারণ তারা চাকরি করে না। আমাদের সমাজে চাকরি না করাটা ‘পরিচয়হীন ব্যক্তি’ বলে মনে করা হয়। কী অদ্ভুদ ব্যাপার! এতো গেল নীতি নৈতিকতার কথা। এবার আসি বাস্তবতায়।

আচ্ছা, জীবনের প্রয়োজনে আমাদের অনেক কিছুই দরকার হয়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা -এই পাঁচটা মৌলিক অধিকারের বাইরে আমাদের আরো বহুবিধ চাহিদা রয়েছে। সেটা হতে পারে প্রয়োজনীয় বা বিলাসবহুল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সকল চাহিদা পূরণ করবে কারা? নিশ্চয়ই কোনো চাকরিজীবী নয়। বিনোদোন আমাদের জীবনের অপরিহার্য একটা অংশ। বিনোদন ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব। কিন্তু বিনোদন জগতে তো সরকারি চাকরির পদ নেই। তাহলে তো বিনোদন দেওয়ার মতো লোক পাওয়া যাবেনা অথচ যেটা আমাদের দরকার। আমাদের বস্ত্র দরকার। কিন্তু পোশাক কারখানাগুলো তো ব্যক্তি মালিকানাধীন। তাহলে সেখানে কাজ করবে কারা? পোশাক ছাড়া তো চলা অসম্ভব। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য দরকার। খাদ্য তো এসি রুমে হয় না। হয় মাঠে। তাহলে রোদ, ঝড়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফসল উৎপাদন করবে কারা? আমাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য মাছ উৎপাদন করবে কারা? আমাদের পা-কে রক্ষার জন্য জুতো তৈরি করবে কারা? রোগ-ব্যাধি থেকে আমাদের মুক্তির জন্য ওষধ তৈরি করবে কারা? ক্যানসার, ইবোলা ভাইরাস, এইডস, হাম, যক্ষা, বি-ভাইরাস ইত্যাদি থেকে নিরাপদ থাকার জন্য টিকা তৈরি করবে কারা? উপরের সকল পণ্য সঠিক স্থানে পৌঁছে দেবে কারা? চাকরিজীবিদের গাড়ি-বাড়ি তৈরি করে দেবে কারা? যাতায়াতের জন্য রাস্তা-ঘাট তৈরি করবে কারা? তাদের বাড়িতে পানি, মাছ, মাংস যোগান দেবে কারা? তাদের টিভি, ফ্রিজ, এসি মেরামত করবে কারা? তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করবে কারা?কবি, সাহিত্যক না থাকলে আমাদের উন্নত দৃষ্টিভঙ্গির পথ দেখাবে কারা? সাংবাদিক না থাকলে আমাদের চারপাশের খবর তথা বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমস্ত খবর আমাদেরকে জানিয়ে সচেতন করবে কারা? এরকম হাজারও ‘কারা’ এর কোনো উত্তর আমাদের কাছে নেই।

একটা দেশের সার্বিক উন্নতি করতে হলে সকল পেশায় দক্ষ জনশক্তি দরকার। আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করলে বিষয়টা আরও একটু পরিষ্কার হবে। গত কয়েকমাস যাবৎ দেশের অর্থনীতিতে বেশ মন্দা ভাব দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে জুলাইয়ের শুরুতে। মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেছে, টাকার মান কমে গেছে এবং জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে ডলার সংকট একটা। এই ডলার আসে কীভাবে? ১. প্রবাসীদের পাঠানো ডলার এবং ২. আমাদের দেশীয় পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত ডলার। এখন আসি প্রবাসী আয়ে। বিষয়টা একটু অন্যভাবে আলোচনা করা যাক, আমরা যারা একটু লেখাপড়া শিখেই চাকরি চাকরি করি, তারা কি ভেবে দেখেছি আমরা দেশের অর্থনীতিতে কতটুকু অবদান রাখছি? আমাদের বিভিন্ন খাদ্যশস্য, ফল, জ্বালানি তেল, গ্যাস, ঔষধ, গাড়ি, শিশুখাদ্য, প্রসাধনী, বিলাসবহুল পণ্য, ইলেক্ট্রনিক দ্রব্যাদিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র আমদানি করতে হয় বাইরের দেশ থেকে। আর এই আমাদনি কার্যক্রম চালাতে হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা ডলার দিয়ে। ডলার তো আমরা ছাপাতে পারি না। এই ডলার আসে প্রবাসী আয় থেকে এবং আমাদের নিজেদের পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে। এখন যারা বাইরের বিভিন্ন দেশে কাজ করে ডলার পাঠান তারা যদি এই ডলার না পাঠান, অর্থাৎ অবৈধভাবে পাঠান অথবা, ধরে নিই বাইরের দেশে কেউ কাজ করতে গেল না সেক্ষেত্রে আমাদের অর্থনীতি কোথায় যাবে সেটা বুঝতে খুব বেশি জ্ঞানের দরকার হয় না। তাহলে বুঝতেই পারছি প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

এবার আসি আমাদের নিজেদের পণ্য রপ্তানির বিষয়ে। আমরা আমাদের খাদ্যশস্য যেমন, চাল, গম, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চিংড়ি, ফল, তৈরি পোশাক, ঔষধ, রড, সিমেন্ট, বিলাসজাত পণ্য, জনশক্তিসহ বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য রপ্তানি করে থাকি এবং এর মাধ্যমে ডলার পেয়ে থাকি। এখন প্রশ্ন হলো এই সব দ্রব্যাদি উৎপাদন করে কারা। নিশ্চয়ই কোনো অফিসিয়াল চাকরিজীবী নয়। এসব উৎপাদন করে একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। তৈরি পোশাক আমাদের অর্থনীতির একটা বড় শক্তি। সেই পোশাক কারখানাগুলোতেও কাজ করে একেবারে প্রান্তিক লোকজন।

তাহলে আমরা যারা চাকরি চাকরি করে দিন পার করছি, আর চাকরি না হলে হতাশ হচ্ছি এবং যারা চাকরি না করে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে যুক্ত আছে বলে তাদেরকে ছোট করে দেখছি, আমরা কি ভেবে দেখেছি আমরা কতটা ঠিক কাজ করছি? সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে কারা আমরা একবারও চিন্তা করছি? দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে এই মুহুর্তে দুটো জিনিস আগে দরকার। এক. প্রবাসী আয় বৃদ্ধি করা; এবং দুই. আমাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করা। যার কোনোটাই আমরা সবাই করতে পারব না। কই? আপনিতো চাকরিজীবী! তো বাঁচান না দেশের অর্থনীতিকে। আপনার ক্ষমতা অনেক। তো প্রয়োগ করে দেখান যাতে করে আমাদের দেশের লোকজন একটু স্বাচ্ছন্দ্যে খেয়ে পরে বেঁচে থাকে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে সরকারি বা বেসরকারি চাকরির কি কোনো দরকার নেই? হ্যাঁ, অবশ্য আছে। আমি কিন্তু কখনো বলিনি যে চাকরির দরকার নেই। ‘চাকরি’ মানে ‘কাজ’। তবে সেই কাজ করা হয় কখনো নিজের মতো স্বাধীনভাবে, কখনো সরকারের অধীনে আবার কখনো বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তির অধীনে। সবইতো চাকরি বা কাজ। সরকারের অধীনে যে কাজ করা হয় সেটাকে বলা হয় সরকারি চাকরি। বলা হয় সরকারি চাকরিতে অন্যান্য চাকরি থেকে তুলনামূলক সুযোগ-সুবিধা বেশি। আর বেসরকারি চাকরিতে সেই সুযোগ-সুবিধাগুলো তুলনামূলক কম (কিছু ব্যতিক্রম বাদে)। এবার আসি সেই সুযোগ-সুবিধা কী। আসলে মোটাদাগে সরকারি চাকরি বা কাজ বলতে আমরা সাধারণ জনগণ সেটাই বুঝি যেখানে তেমন কোনো কাজ নেই। তবে রাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের কথা আলাদা। সেখানে প্রচুর চাপ থাকে, এমনকি তাদের মাঠ পর্যায়েও কাজের প্রেসার অনেক। কিন্তু গড় হিসেবে অন্যান্য সেক্টরগুলোতে আসলে বেশিরভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কী সেবা দিয়ে থাকেন সেটা প্রতিদিনকার খবরের কাগজে দেখা যায়। আমরা সবাই সরকারি চাকরি করতে চাই, কিন্তু সেবা নিতে যাই বেসরকারি খাত থেকে। কেন? কারণ সেখানে আমাদের আস্থা বেশি। কারণ কি? সেখানকার ব্যবস্থাপনা ভাল। আর ব্যবস্থাপনা ভাল কারণ সেখানকার কাজগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হয় সুশৃঙ্খলভাবে। আর তাই সেখানে চাকরি করা একটু চাপ বেশি বলে মনে হয়। কারণ আমাদের চোখের সামনে দেখছি একই পেশায় সরকারি প্রতিষ্ঠানে থেকে অন্যরা আরামে দিন কাটাচ্ছে।

আমাদের মাঠ পর্যায়ে উৎপাদনশীল বা অনুৎপাদনশীল কাজে যারা যুক্ত আছেন তাদেরকে সঠিক দিক নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। এখন এই দিক নির্দেশনা কারা দিবে? আমরা প্রতেকেই তো একাই একশ, কিন্তু একশ লোক কখনো এক হতে পারি না, আর বর্তমান বাস্তবতায় সেটা সম্ভবও না। আর তাই কেন্দ্রীয়ভাবে দেশের প্রত্যেক সেক্টরকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য আলাদা আলাদা দক্ষ জনশক্তি দরকার হয়। যেমন: কৃষি খাত দেখাশোনা করার জন্য কৃষি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য খাত দেখার জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ে দক্ষ কর্মকর্তা, প্রকৌশল খাত দেখাশোনা করার জন্য প্রকৌশলী- এরকমভাবে প্রত্যেক সেক্টরে দক্ষ জনবল দরকার। আর তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য আরও কিছু অধীনস্থ কর্মকর্তা এবং কর্মচারীও দরকার হয়। আর এই সকল সেক্টরকে মনিটরিং করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সিভিল প্রশাসন দরকার। এখন এসব সেক্টরের কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারী, অথবা সাধারণ মানুষ যারা অপরাধ করবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য এবং দেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিচার বিভাগ, পুলিস প্রশাসন, দুদকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য এজেন্সি দরকার। দেশকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনী দরকার। দেশের অভ্যন্তরীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু রাখা এবং বৈদেশিক লেনদেন চালু রাখার জন্য ব্যাংক এবং ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী দরকার। আবার সকলকে ছোট থেকে বড় করে সত্যিকার অর্থে মানুষ করার জন্য দক্ষ শিক্ষক দরকার। আর সবাইকে ভালভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সৎ ও যোগ্য রাজনৈতিক নেতা দরকার। তাহলে সবকিছু বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের সবাইকে সবার প্রয়োজন। আমরা প্রতেকেই একটা সামগ্রিক ব্যবস্থার এক একটা ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। কেউ কাউকে ছাড়া চলতে পারি না।

এক সময় আমাদের দেশ ১০০% শিক্ষিত হবে। তখনওতো বিভিন্ন পেশায় দক্ষ জনবল প্রয়োজন হবে। দেশ যখন ১০০% শিক্ষিত হবে তার অর্থ দাঁড়াবে, রাস্তার রিক্সাওয়ালাটা শিক্ষিত, বাড়ির কাজের বুয়াও শিক্ষিত, একজন সেলুন দোকানদার সেও শিক্ষিত, যে জুতো সেলাই করে সে শিক্ষিত, যে মাঠে ফসল ফলায় সেও শিক্ষিত, যে নদীতে মাছ ধরে সেও শিক্ষিত। ১০০% শিক্ষিত মানে চায়ের দোকানি থেকে শুরু করে যারা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে সবাই শিক্ষিত। সবাই ১০০% এর ভিতরে। তাহলে তখন শিক্ষিত হয়ে সবাই অফিসিয়াল চাকরি করলে কে ফসল ফলাবে? কে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে? উৎপাদনের সাথে কারা যুক্ত থাকবে? কারা বিদেশে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাবে? দেশ চলবে কীভাবে? সবচেয়ে বড় কথা হল, কে কাকে চাকরি দেবে? উত্তর আমাদের জানা নেই। তাহলে মানুষের পেশা নিয়ে কেন এত হীনমন্যতা? কেন এত সংকীর্ণতা? সত্যিকার অর্থে দেশকে বাঁচিয়ে রাখছে কারা? দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কারা?

অগ্নিধ্র শর্মা
সাতক্ষীরা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় বিএনপির ৫টি ইউনিটের আহবায়ক কমিটি অনুমোদন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সাতক্ষীরা জেলা শাখার আওতাধীন ৫ টি ইউনিটের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর ২২ তারিখে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাড: সৈয়দ ইফতেখার আলী ও সদস্য সচিব আব্দুল আলিম স্বাক্ষরিত এক পত্রে সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ ৪টি উপজেলার ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত কমিটিগুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর, পৌরসভা, কালিগঞ্জ, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলা।

সদর উপজেলার নেতৃবৃন্দ হলেন, আহবায়ক এ্যাড. নুরুল ইসলাম, যুগ্মআহ্বায়ক যথাক্রমে আতাউর রহমান, ইউনুচ আলী বুলু, লুৎফর রহমান, কামরুজ্জামান, আব্দুর রশিদ,আমিরুল ইসলাম, ডা: নজরুল ইসলাম, ডা: শফিকুল ইসলাম, আব্দুল মুজিদ(সাবেক চেয়ারম্যান), ইউসুফ আলী, শামসুল আলম(সাবেক চেয়ারম্যান), সদস্য সচিব নূরে আলম সিদ্দিকী, সদস্য যথাক্রমে শাহিন হোসেন, হাজী কবীর হোসেন, শহিদুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, রায়হান বিশ^াস(সাবেক চেয়ারম্যান), রফিকুল ইসলাম, সেলিন আক্তার মন্টু, আব্দুল গণি, শফিকুল ইসলাম, আবুল হাসান, এ এইচ এম কামরুজ্জামান, হাদীউজ্জামান বাদশা, মহব্বত আলী, বাবলুর রহমান, আবু বক্কর সিদ্দিক, নজিবুর রহমান টুটুল(মেম্বর), গোলাম মোস্তফা, হাফেজ তাজুউজ্জামান, আবুল বাশার, রফিকুল ইসলাম, শফিকুর রহমান শফি, জাহাঙ্গীর আলম, আবুল বাশার, শাহিনুর রহমান, মনিরুল ইসলাম, আতিয়ার রহমান, সাইদুল ইসলাম, মো: আক্তারুজ্জামান।

পৌর বিএনপির আহবায়ক শের আলী, যুগ্ম আহবায়ক যথাক্রমে মাছুম বিল্লাহ শাহিন, ইয়াছিন আলী, ইলিয়াস হোসেন, শাহ কামরুজ্জামান কামু, আব্দুল জলিল, আব্দুর রাজ্জাক, সাইফুল ইসলাম বাবলু, নাসির উদ্দীন, মতিনুর রহমান কচি, মনিরুজ্জামান মনি,আশরাফ হোসেন, সদস্য সচিব তাজকিন আহমেদ চিশতি, সদস্য যথাক্রমে এস এম আকবর হোসেন, সিরাজুল ইসলাম বাবু, ইসমাইল হোসেন বাবু, অজিয়ার রহমান, জহুরুল হক, মো: মাহমুদুল হক, ওলিউল্লাহ ওলি, শেখ রাকিবুল ইসলাম, শাহিনুর রহমান শাহিন, কামরুজ্জামান পলাশ, কামরুল ইসলাম বকুল, নাসির উদ্দীন বাবু, আবু হাসান, আলতাফ হোসেন, নুরুল হক, ফেরদৌসুর রহমান, মাহমুদ আলী, মোনায়েম খান, নবাবজান, আবু দাউদ, আবু সাঈদ, নেছারুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম,মাছুম বিল্লাহ, সাইফুল ইসলাম, হযরত আলী, রোকনুজ্জামান, আব্দুল হামিদ।

কালিগঞ্জ উপজেলার আহবায়ক শেখ ইবাদুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক যথাক্রমে দিদারুল ইসলাম, শেখ নুরুজ্জামান, আক্তারুজ্জামান বাপ্পী, জুলফিকার আলী, শেখ আনিছুর রহমান(হাবিবুল্লাহ), আল মাহমুদ ছটকু, শেখ লুৎফর রহমান, মাস্টার আহসান উল্লাহ, শফিকুল ইসলাম শফি, আব্দুস সবুর, জালাল উদ্দীন, সদস্য সচিব ডা: শফিকুল ইসলাম বাবু, সদস্য যথাক্রমে জাহাঙ্গীর আলম, আরশাদ আলী, শিহাব উদ্দীন, আবু বক্কর সিদ্দিকী, সিরাজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, কাজী আব্দুল মইন, আলমগীর হোসেন, আলী বক্স গাইন, আকবর আলী, আলমগীর হোসেন, মিজানুর রহমান, সৈয়দ হাসনাত আলী, প্রভাষক শহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম বাবু, কাজী হুমায়ুন কবীর ডাবলু, মাহবুবুর রহমান, শহিদ উদ্দীন শহিদ, বদিউজ্জামান, গোলাম রসুল, সাইফুল ইসলাম, আবু তাহের মেম্বর, মোতাহার হোসেন, মাহমুদ আলী,ইয়াছিন আলী, হেমায়েত বাবু, কামরুজ্জামান গাজী।

দেবহাটা উপজেলার আহবায়ক মহিউদ্দীন সিদ্দীকি, যুগ্ম আহবায়ক যথাক্রমে মোকলেছুর রহমান, মোকলেছুর রহমান মুকুল, মো: জাকির হোসেন, এ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির, প্রভাষক কামাল হোসেন, হাবিবুর রহমান মাছুম, হাবিবুর রহমান মাছুম, হাসান সরাফি, আলতাফ হোসেন, মাছুম বিল্লাহ,গোলাম মোস্তফা, সুলতান আহমেদ ফারুক, সদস্য সচিব শেখ সিরাজুল ইসলাম, সদস্য যথাক্রমে গোলাম ফারুক বাবু, রফিকুল ইসলাম মন্টু, আব্দুর রহমান, হাবিল সরদার, রুহুল কুদ্দুস খোকন, মতি সানা, রবিউল ইসলাম, মো: আহসান, শওকত আলী, আব্দুল কাদের, রফিকুল ইসলাম সানা, আব্দুস সালেক, রিয়াজুল ইসলাম মোল্লা, সুমন পারভেজ, আহম্মদ আলী, আইয়ুব হোসেন, রাজীব হোসেন রাজু, মোকছেদ আলী, আমজাদ হোসেন, আবু সাঈদ, শামছুজ্জামান ময়না, রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সামাদ,কোপাত শেখ, শফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নজরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন।

আশাশুনি উপজেলার আহবায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক যথাক্রমে নূরুল হক খোকন, খায়রুল ইসলাম, রাশেদ আহম্মেদ খোকা, শেখ আব্দুর রশিদ, জাকির হোসেন বাবু, আব্দুল আলিম, শওকত হোসেন, রবিউল আওয়াল ছোট, নূরুল ইসলাম বাবলু, তুহিনউল্লাহ, আজহারুল ইসলাম মন্টু, সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, সদস্যযথাক্রমে রুহুল কুদ্দুস (চেয়ারম্যান), আসিফুর রহমান তুহিন, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, রফিকুজ্জামান ছোট্টু, কবির আহম্মেদ, আক্তারুজ্জামান, মাস্টার বশির আহম্মেদ, শামছুদ্দীন আহম্মেদ, ইব্রাহিম হোসেন, এ্যাড. এ.বি.এম সেলিম, আশরাফুল ইসলাম মুকুল, আব্দুল মালেক, আব্দুর রহিম ছোট, মনজুরুল ইসলাম, সালাউদ্দীন আহম্মেদ, রবিউল ইসলাম, ডা: টুকু, বজলুর রহমান, বাবর আলী মাস্টার(মুক্তিযোদ্ধা), এ্যাড. খোরশেদ আলম ডালিম, বোরহান উদ্দীন বুলু, আব্দুল ওহাব, কেসমতুল্লাহ তুহিন, ইসলাম গোলদার, আরিফুল ইসলাম বকুল, আজহারুল ইসলাম, আতাউল্লাহ চৌধুরী, ছাদেক আনোয়ার ছট্টু। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা থানা পুলিশের অভিযানে জিআর ওয়ারেন্ট ভূক্ত ১ জন আসামী গ্রেফতার। দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন
সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান দিক নির্দেশনায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ সজীব খান মহোদয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) কনক কুমার দাস। সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) এসএম জামিল আহমেদ সার্বিক তত্ত্বাবধানে। দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ ওবায়দুল্লাহ নেতৃত্বে। দেবহাটা থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকদ্রব্য উদ্ধার।

গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা কালে এসআই শোভন দাশ সংগীয় ফোর্সসহ দেবহাটা থানাধীন জনগন্নথপুর এলাকা হইতে নন-জিআর ১২/২০ (দেবঃ), এর আসামী ১. মোঃ রবিউল ইসলাম সরদার (৪৮), পিতা-মৃত শহিদ সরদার, গ্রাম- জগন্নাথপুর , থানা- দেবহাটা, গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে ইং- ২২/০৯/২০২২ইং বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেবহাটা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার প্রথিতযশা সাংবাদিক, জীবন্ত ডিকশনারী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরীর মৃত্যুতে দেবহাটা রিপোটার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে রিপোটার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরী শুধু একজন সিনিয়র সাংবাদিকই ছিলেননা, তিনি ছিলেন জীবন্ত ডিকশনারী। তার কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েই আজ আমরা সাংবাদিকতা করি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সুভাষ চৌধুরী ছিলেন আমাদের অভিভাবক, তাই তার শূন্যতা পূরন হওয়ার নয়। নেতৃবৃন্দ তার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। বিবৃতিদাতা নেতৃবৃন্দ হলেন, মোহনা টিভি প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক আর.কে.বাপ্পা, সহকারী অধ্যাপক সাংবাদিক ইয়াছিন আলী, দেবহাটা রিপোটার্স ক্লাবের সভাপতি অহিদুজ্জামান,

সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক গ্রামের কাগজের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম, সাতনদীর স্টাফ রিপোর্টার ওমর ফারুক মুকুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি পত্রদুত আকতার হোসেন ডাবলু, সহ-সভাপতি জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য মেহেদী হাসান কাজল, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক দৈনিক প্রতিদিনের রুহুল আমিন মোড়ল, দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি রেজাউল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আবির হোসেন লিয়ন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, আমিরুল ইসলাম, সাহিত্য ও প্রচার সম্পাদক তারেক মনোয়ার, কার্য্যনির্বাহী সদস্য মজনুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম বাদল, হীরন কুমার মন্ডলসহ সকল সাংবাদিকবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবি সমিতির বিবাদমান সমস্যা নিয়ে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা আইন আইনজীবির সমিতির হলরুমে সাবেক সভাপতি অ্যাড. শাহ আলম আইনজীবি সমিতির বর্তমান আহবায়ক অ্যাড. শম্ভুনাথ সিংহসহ তার পরিষদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দূর্নীতি তুলে ধরে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। এর আগে শাহ আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন বর্তমান আহাবায়ক অ্যাড. শম্ভুনাথ সিংহ।

সাবেক সভাপতি অ্যাড. শাহ আলম তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুইটি পক্ষকে নিয়ে গত ইং ২২.০৩.২০২২ তারিখে সাতক্ষীরা ০২ ও ০১ আসনের সংসদ সদস্যদ্বয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি ও অ্যাড. মোস্তফা লুৎফুল্লাহ এবং জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবীদের উপস্থিতিতে সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমার পক্ষ থেকে ৩ জন এবং অপর পক্ষ হইতে ৩ জন ও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এক জনসহ মোট ৭ জনের সমন্বয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন পরিচালনা একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সেখানকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কমিটি অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করবে। নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বারের রেগুলার রুটিন ওয়ার্ক সম্পন্ন করবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এজেন্ডা বহির্ভূত ভাবে অ্যাডঃ শম্ভু নাথ সিংহ (জি,পি) আমার পক্ষের ৩ জনকে মাননীয় সংসদ সদস্যদ্বয়সহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারে অনুমতি ব্যতিত তাদেরকে বাদ দিয়ে সেখানে একজনকে অর্ন্তভুক্ত করে এবং জেলা আইনজীবী সমিতির কার্য্যনির্বাহী কমিটির বোর্ডে ৫ জনের নাম তালিকা ভুক্ত করেন। যার প্রতিবাদে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ আইনজীবগণ ফুশে উঠেন এবং ওই বোর্ড থেকে নাম মুছে ফেলেন। তাছাড়া উক্ত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিজের ক্ষমতা পাকা করার জন্য সাধারণ সভার আহবান করে এতে সাধারণ আইনজীবীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ইং ২১.০৯.২০২২ তারিখে জেলা আইনজীবী সমিতির ১নং ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করে ও সাধারণ সভা স্থগিতসহ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবী জানান। উক্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশকে ভিন্ন খানে প্রভাবিত করার জন্য তারা অ্যাডঃ আমিনুর রহমান চঞ্চল, অ্যাডঃ সাহেদুজ্জামান সাহেদ, অ্যাডঃ সাইদুর রহমান সাইদ, অ্যাডঃ সাইদুজ্জামান জিকো, অ্যাডঃ আরিফুর রহমান আলো, অ্যাডঃ ওসমান গনি, অ্যাডঃ আজহারুল ইসলাম, অ্যাডঃ শেখ আব্দুল খালেক, অ্যাডঃ রাশীদুজ্জামান সুমনসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ সময় আইনজীবীদের সুনাম নষ্ট করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে ও মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যহারসহ অনতি বিলম্বে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন দিয়ে সমিতিকে কলঙ্ক মুক্ত করার জোর দাবী জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এর আগে, অআইনজীবি সমিতির বর্তমান আহাবায়ক অ্যাড. শম্ভুনাথ সিংহ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ২৩ মার্চ থেকে আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে শান্তিপূর্ণভাবে সমিতির সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সমিতিতে এক কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা সঞ্চয় করে সমিতির নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিয়েছি। এছাড়া আজ যে সাধারণ সভা ডাকা হয়েছিল তা অনিবার্যকারন বশত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে তারিখ জানানো হবে। তিনি আরো বলেন, আগামী সাধারন সভা আহবানের মাধ্যমে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করা হবে।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি :
ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে লাল রঙে ক্রস চিহ্ন এঁকে দেয়া হয়েছিল নারী ফুটবল দলের ডিফেন্ডার মাছুরার সাতক্ষীরার বাড়িতে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের দেয়া সেই ক্রসচিহ্ন মুছে দিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় বিনেরপোতা এলাকায় ফুল ও মিষ্টি নিয়ে মাছুরার বাড়িতে যান তিনি। শুভেচ্ছা জানান মাছুরার পরিবারকে, খোঁজখবর নেন তাদের।

এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, মাছুরার বাড়িটি সড়ক ও জনপদ বিভাগ ভাঙবে না। যতদিন পরিবারটির স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করা না যায় ততদিন ঘরটি ভাঙা যাবে না। সড়ক ও জনপথ বিভাগকে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মাছুরার বাবা রজব আলী, মা ফাতেমা বেগম ও দুই বোন সুমাইয়া ও সুরাইয়া পারভীনের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। এসময় জেলা প্রশাসককে তারা জানান, ২০২০ সালে শহরের বিনেরপোতা এলাকায় সড়কের পাশে তাদের আট শতক সরকারি জমি বন্দোবস্ত দেয় জেলা প্রশাসন। সেখানে একটি ঘর বানিয়ে থাকছেন তারা।

তবে মাস দুয়েক আগে সড়ক বিভাগ তাদের ঘরটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য তারা লাল রঙে ক্রসচিহ্ন এঁকে দিয়ে গিয়েছিল তাদের বাড়িতে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest