সর্বশেষ সংবাদ-
সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মৌয়াল আহততালায় খালে মাছ ধরতে এসে বৃদ্ধের মৃত্যুদেবহাটার সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যুসাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কালিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যদেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যু

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে চুরি হওয়া মোটর সাইকেল কয়েক ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটায় চুরি হওয়া একটি মোটর সাইকেল কয়েক ঘন্টার মধ্যে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে। এসময় পুলিশ মোটর সাইকেল ছিনতাইকারীকেও আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আটককৃত মোটর সাইকেল চোর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেবহাটা থানায় আটক ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,

দেবহাটা উপজেলার সখিপুর গ্রামের সাবুর আলীর ছেলে মোশাররফ হোসেনের সখিপুর মহিলা কলেজের সামনে একটি দোকান আছে। তিনি দোকানের পাশে প্রতিদিনের মতো তার এ্যাপাচি (আরটিআর) ১৬০ সিসির মোটর সাইকেলটি রেখে দোকানদারী করছিলেন।

বৃহষ্পতিবার ২৪ মার্চ, ২২ ইং তারিখ সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে তার মোটর সাইকেলটি চুরি হলে তিনি দেবহাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০৯, তাং- ২৪-০৩-২২ ইং। মামলা পরবর্তী দেবহাটা থানার ওসি শেখ ওবায়দুল্লাহর নির্দেশনার থানার ওসি (তদন্ত) তুহিনুজ্জামানের নেতৃত্বে এসআই শফিকুল রহমান দ্রæত অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহষ্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার পারুলিয়া হাইস্কুলের সামনে থেকে চুরি যাওয়া মোটর সাইকেল ও চোর সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার চিংড়ীখালী খালপাড়া এলাকার আরশাদ গাজীর ছেলে আবু বক্কর গাজীকে আটক করেন।

দেবহাটা থানার ওসি শেখ ওবায়দুল্লাহ জানান, মোটর সাইকেল চোরের একটি সংঘবদ্ধ দল আছে। আটককৃতের সাথে আর কারা কারা জড়িত সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। ওসি আরো জানান, আটককৃতের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও অনেক চুরির অভিযোগ আছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই জামায়াত নেতার ফাঁসির রায়ে সাতক্ষীরায় মিষ্টি বিতরণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য মাও. আব্দুল খালেক মণ্ডলসহ দুই জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সাতক্ষীরায় আনন্দ মিছিলও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে রায় শুনে সাতক্ষীরা শহরের আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে আনন্দ মিছিল বের করে সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। আনন্দ মিছিল পরবর্তী বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের যুগ্ন-সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান বাবু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন মশু ও সদর সভাপতি শফিক আহম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর করিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ জামায়াতের দুই নেতার এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত দুই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে খুন, ধর্ষণ, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী ছয়টি অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সব্বোর্চ এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় এজলাস কক্ষে আসামির কাঠগড়ায় ছিলেন আব্দুল খালেক মন্ডল। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রোকনুজ্জামান পলাতক রয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন সাতক্ষীরা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের খলিলনগর গ্রামের বাসিন্দা জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক মণ্ডল। অন্যজন শহরের পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা জামায়াত নেতা খান রোকনুজ্জামান।

মামলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের যুগ্ন-সম্পাদক আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান বাবু জানান, ‘১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতক্ষীরার দুই জামায়াত নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা এই রায়ে আনন্দ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে সরকারের কাছে দ্রুত এই রায় কার্যকর করার দাবি করছি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যুদ্ধাপরাধ মামলায় খালেক রোকনের ফাঁসির আদেশ: সাতক্ষীরায় মুক্তিযোদ্ধা জনতার আনন্দ মিছিল

নিজস্ব প্রতিনিধি :
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতক্ষীরা জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক ম-লসহ দুই জামায়াত নেতার মৃত্যুদ-ের রায় ঘোষনা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) বেলা ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক ম-ল সাতক্ষীরা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের খলিলনগর গ্রামের বাসিন্দা। অপর আসামী জামায়াত নেতা খান রোকনুজ্জামান শহরের পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাতক্ষীরা নবজীবন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা।
এদিকে, যুদ্ধাপরাধ মামলায় দুই জামায়াত নেতার মৃত্যুদ-ের রায় ঘোষনার পর বেলা ১২টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে আনন্দ মিছিল বের করে মুক্তিযোদ্ধা জনতা। আনন্দ মিছিলে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার , দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, যুদ্ধাপরাধ মামলার স্বাক্ষী হাফিজুর রহমান মাছুম, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আক্তার হোসেন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীমা পারভীন রতœা, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমান আশিক,সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেনসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
সাতক্ষীরা মুক্তিযোদ্ধা জনতার আয়োজনে মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকারের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রিয়াজ,জেলা জাসদের সভাপতি শেখ ওবায়েদুস সুলতান বাবলু, রওনক বাসার প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই জামায়াত নেতারা যুদ্ধের সময় ও যুদ্ধ পরবর্তী হত্যা, ধর্ষন, অগ্নি সংযোগ, লুটপাট করেছে। ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষীরা এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে। ফলে আজকের এই প্রত্যাশিত রায়। এই রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার মানুষ কলঙ্কমুক্ত হবে।
এদিকে, জামায়াত নেতার রায়কে ঘিরে সাতক্ষীরা শহরসহ বৈকারী এলাকায় বিভিন্নস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেন কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দ-প্রাপ্ত দুই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে খুন, ধর্ষণ, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী ছয়টি অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ এ দ- দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় এজলাস কক্ষে আসামির কাঠগড়ায় ছিলেন আব্দুল খালেক মন্ডল। অপর দ-প্রাপ্ত আসামী খান রোকনুজ্জামান পলাতক রয়েছেন।
২০১৫ সালের ১৬ জুন ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের খলিলনগর মহিলা মাদরাসায় নাশকতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে গোপন বৈঠকের অভিযোগে আব্দুল খালেক ম-লকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৭ আগস্ট তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ মোট ৬০ জনকে সাক্ষী করা হয়। ওই বছরের ২৫ আগস্ট খালেক ম-লের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলার মধ্যে শহীদ মোস্তফা গাজী হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ি ইউনিয়নের শিমুলবাড়িয়া গ্রামের রুস্তম আলীসহ পাঁচ জনকে হত্যার অভিযোগে ২০০৯ সালের ২ জুলাই খালেক ম-লের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন শহীদ রুস্তম আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম গাজী। এই মামলায় তাদের মৃত্যুদ-ের আদেশ হলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মানবতাবিরোধী অপরাধ: সাবেক সংসদ সদস্য খালেকসহ ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি :
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক মন্ডল ওরফে জল্লাদ খালেকসহ দুই রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি হলেন খান রোকনুজ্জামান। তিনি পলাতক রয়েছেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য রেখে আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

গত ২২ মার্চ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদেশ দেন।

মামলায় আসামি খালেক মন্ডলের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আব্দুস সোবহান তরফদার ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। অপর আসামি পলাতক খান রোকনুজ্জামানের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন গাজী এম এইচ তামিম।

এ মামলায় মোট আসামি ছিলেন চারজন। অপর দুই আসামি আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও জহিরুল ইসলাম টেক্কা খান বিচার চলাকালে মারা যান।

২০১৮ সালের ৫ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ছয়জনকে হত্যা, দুজনকে ধর্ষণ, ১৪ জনকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ।

২০১৫ সালের ১৬ জুন ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খলিলনগর মহিলা মাদ্রাসায় নাশকতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে গোপন বৈঠকের অভিযোগে আব্দুল খালেক মন্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই বছরের ২৫ আগস্ট তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় দায়ের করা তিনটি মামলার মধ্যে শহীদ মোস্তফা গাজী হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখান ট্রাইব্যুনাল।

শিমুলবাড়িয়া গ্রামের রুস্তম আলীসহ পাঁচজনকে হত্যার অভিযোগে ২০০৯ সালের ২ জুলাই খালেক মন্ডলের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন শহীদ রুস্তম আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম গাজী।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চার আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু হয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়।

২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চার জনের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী সংস্থা। পরে ৮ মার্চ অন্য তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

একই বছরের ১৭ মার্চ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের বুলারাটী গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুল্লাহ-হেল বাকীকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯ মার্চ হাজির করা হলে ঢাকায় থাকা ও ধার্য দিনে হাজিরের শর্তে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আব্দুর রউফের হেফাজতে ১০৩ বছর বয়স্ক বাকীকে জামিন দেয়া হয়। পরো তিনি মারা যান।

আসামিদের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ আনা হলেও ট্রাইব্যুনালে ছয়টি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।

প্রথম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে বেতনা নদীর পাড়ে বুধহাটা খেয়াঘাটে আফতাবউদ্দিন ও সিরাজুল ইসলামকে রাজাকার কমান্ডার ইছাহাক (মৃত) ও তার সহযোগীরা গুলি করে হত্যা করেন। পরে স্থানীয় খলিলুর রহমান, মো. ইমাম বারী, মো. মুজিবর রহমান ও ইমদাদুল হককে রাজাকার বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্র ডায়মন্ড হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১ ভাদ্র ধুলিহর বাজার থেকে ধরে কমরউদ্দিন ঢালীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যান ১০/১২ জন রাজাকার। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন সাতক্ষীরা মহকুমার রাজাকার কমান্ডার এম আব্দুল্লাহ আল বাকী ও খান রোকনুজ্জামান। পরে ঢালীর মরদেহ পাওয়া যায় বেতনা নদীর পাড়ে। তৃতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১ ভাদ্র বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে রাজাকার কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল বাকী, রোকনুজ্জামান খানসহ চার থেকে পাঁচজন মিলে সবদার আলী সরদারকে চোখ বেঁধে পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যান। পরে আর তার সন্ধান মেলেনি।

চতুর্থ অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ৭ আষাঢ় সকাল ৭টার দিকে আবুল হোসেন ও তার ভাই গোলাম হোসেন নিজেদের বাড়ির পাশে হালচাষ করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে গোলাম হোসেন বাড়িতে নাস্তা করতে এলে আসামি আব্দুল খালেক মন্ডল ও জহিরুল ইসলাম টেক্কা খানসহ ১০/১২ জন রাজাকার তাকে ধরে নিয়ে পাশের পাটক্ষেতে গুলি করে হত্যা করেন।

পঞ্চম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২ ভাদ্র সকালে বাশদহ বাজারের ওয়াপদা মোড় থেকে মো. বছির আহমেদকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর তার বুড়ো আঙুলের রগ কেটে দেন রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা।

ষষ্ঠ অভিযোগ: ১৯৭১ সালের জ্যেষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে আসামি আব্দুল খালেক মন্ডল ও রাজাকার কমান্ডার জহিরুল ইসলাম টেক্কা খান একদল পাকিস্তানি সৈন্যকে সঙ্গে নিয়ে কাথান্ডা প্রাইমারি স্কুলে স্থানীয় গ্রামবাসীদের ডেকে মিটিং করেন। সেই মিটিংয়ে বলা হয়, যারা আওয়ামী লীগ করেন এবং যারা মুক্তিযুদ্ধে গেছেন তারা ‘কাফের’। এরপর তারা কাথান্ডা ও বৈকারি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের বাড়িঘর লুট করে জ্বালিয়ে দেন। সে সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দুই সদস্য মৃত গোলাম রহমানের স্ত্রী আমিরুনকে তার বাড়ির রান্নাঘরের পেছনে আটকে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বৈকারি গ্রামের ছফুরা খাতুনকে মৃত শরীয়তউল্লাহর ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে চার পাকিস্তানি সৈন্য।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

অনলাইন ডেস্ক : তাসকিনের আগুনঝরা বোলিংয়ের পর জয়টা প্রায় বাংলাদেশের হাতের মুঠোয়ই চলে এসেছিল। বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার দায়িত্ব ব্যাটারদের ঘাড়ে। দেখার ছিল, তারা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে সেই দায়িত্ব পালন করেন।

বোলাররা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৫৪ রানে অলআউট করে দিয়ে ম্যাচ যতটা সহজে পরিণত করেছিলেন, ব্যাটাররা সেই সহজ কাজটাতে আরও সহজ করে নিলেন। বিশেষ করে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। অন্য ওপেনার লিটন দাসকে নিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ১২৭ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয়কে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত লিটন আউট হলেও সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্টস পার্কে মাত্র ২৬.৩ ওভারে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়ে মাঠ ছাড়লেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তিধর দেশের মাটিতে গিয়ে তাদেরই বিপক্ষে এই প্রথম সিরিজ জয়ের ইতিহাস রচনা করলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

যে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এর আগে কোনো ফরম্যাটে একটিও জয় ছিল না বাংলাদেশের, সেখানে শুধু ম্যাচ জয়ই নয়, সিরিজ জয় রীতিমতো অবিশ্বাস্য একটি ব্যাপার। বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নতির দুর্দান্ত একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এই সিরিজ জয়।

জয়ের জন্য ১৫৫ রানের সহজ লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পাড়ি দিতে গিয়ে তাকে মোটেও কঠিন করে তুললেন না দুই ওপেনার। বরং তামিম ইকবাল বিধ্বংসী ব্যাটিং করে বাংলাদেশের জয়কে আরও সহজ করে দেন। লিটনকে অন্যপ্রান্তে দর্শক বানিয়ে একের পর এক শর্ট খেলতে থাকেন তিনি। যে কারণে দেখা গেছে, ১০ম ওভারে কাগিসো রাবাদার মতো বোলারকে চারবার বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের ভক্ত সমর্থকরা ধারণা করেছিল, ১০ উইকেটের ব্যবধানেই বুঝি জয়টা আসতে যাচ্ছে। কিন্তু ১২৭ রানের জুটি গড়ার পর ২১তম ওভারের ৫ম বলে কভারে দাঁড়িয়ে থাকা টেম্বা বাভুমার হাতে ক্যাচ তুলে দেন। বোলার ছিলেন কেশভ মাহারাজ। ৪৮ রানের মাথায় আউট হলেন লিটন। বল খেললেন ৫৭টি।

 

লিটন আউট হওয়ার পর জয়ের জন্য ফিনিশিং টাচ দিতে মাঠে নামেন সাকিব আল হাসান। তামিম-সাকিব মিলে বাকি কাজ শেষ করেন আর মাত্র ৫ ওভারেই। ২৬.৩ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। হাতে বাকি ছিল তখনও ১৪১ বল (২৩.৫ ওভার)।

তামিম ইকবাল অপরাজিত থাকলেন ৮৭ রানে। ৮২ বলে খেলা ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১৪টি বাউন্ডারির সাহায্যে। ওয়ানডেতে নিজের ক্যারিয়ারে এটা তামিমের ৫২তম হাফ সেঞ্চুরি। ২০ বল খেলে ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন সাকিব আল হাসান। দেশে নিজের তিন সন্তান, মা, শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। তবুও, দেশের জন্য সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন সাকিব। শেষ পর্যন্ত তিনি লক্ষ্যে সফল হলেন, ইতিহাস গড়তে পারলো বাংলাদেশ।

 

আজ ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলে দিচ্ছিল, ভালো কিছু হতে যাচ্ছে। টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট করতে নামার পর প্রথম ওভারেই শরিফুল যেভাবে বল হাতে আগুন ঝরাচ্ছিলেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য। তার দ্বিতীয় বলেই পরাস্ত হন ওপেনার জানেমান মালান।

আউটের আবেদন করেছিলেন তিনি। আম্পায়ার আউট না দেয়ায় খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই শরিফুল রিভিউ নিতে বলেন তামিমকে। রিভিউ নেন অধিনায়ক। যদিও আউট হয়নি। কিন্তু শরিফুলের সেই আত্মবিশ্বাস যেন ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো দলের মধ্যেই।

শেষ পর্যন্ত সেই আত্মবিশ্বাসের বলেই মাত্র ১৫৪ রানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। তাসকিন নিয়েছেন ৫ উইকেট।

প্রোটিয়া ব্যাটাররা যখন ব্যাট করছিল, তখন মনে হয়েছিল সেঞ্চুরিয়নের এই উইকেট বুঝি বোলারদের স্বর্গরাজ্য। কিন্তু বাংলাদেশের দুই ওপেনার যখন ব্যাট করতে নামলেন, তখন মনে হচ্ছে এটা বুঝি ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্য।

 

জয়ের জন্য ১৫৫ রানের সহজ লক্ষ্য। এই রান করতে নেমে শুরুতেই বিপদ ঘটিয়ে বসতে পারতেন ওপেনার লিটন দাস। একেবারে প্রথম ওভারেই কাগিসো রাবাদার বলে থার্ড স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। কিন্তু সেখানে প্রোটিয়া ফিল্ডার কেশভ মাহারাজ বলটি তালুবন্দি করতে পারেননি। বেঁচে যান লিটন, বেঁচে যায় বাংলাদেশের ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন।

এরপর বিপদে পড়তে পারতেন তামিম ইকবালও। লুঙ্গি এনগিদির একটি বল ঠিকমতো খেলতে পারেননি। ব্যাটে লেগে বলটা পিচ করে স্ট্যাম্পের একেবারে কাছেই। কান ঘেঁষে বুলেট যাওয়ার মতো অবস্থা। সমূহ বিপদ থেকে বেঁচে যান তামিম। বেঁচে যায় বাংলাদেশও।

ব্যাট করতে নেমে প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে এই দুটি বিপদ থেকে রেহাই পাওয়ার পর বলা যায় শুভ সূচনাই হয়েছে বাংলাদেশের। দুই ওপেনারের উইকেট ধরে রেখে প্রথম ৫ ওভারে এসেছে ১৯ রান।

 

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে মাত্র ৩৭ ওভারে ১৫৪ রানে অলআউট হয় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুটা ভালো করেছিল তারা। ৬ ওভারের মধ্যে ৪৫ রান পার হয়ে যায়। ৬.৫ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে প্রথম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। আউট হন কুইন্টন ডি কক, ১২ রানে।

জানেমান মালান করেন সর্বোচ্চ ৩৯ রান। এছাড়া কেশভ মাহারাজ ২৮, ডোয়াইনে প্রিটোরিয়াস ২০ রান করেন। ডেভিড মিলার করেন ১৬ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউই আর দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি।

তাসকিন আহমেদ ৯ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ফাইফারের দেখা পেলেন তাসকিন। সাকিব আল হাসান নেন ২ উইকেট। শরিফুল এবং মেহেদী হাসান মিরাজ নেন একটি করে উইকেট। ২৮ রান করা কেশভ মাহারাজ হন রানআউট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাচন বানচালের কোনো চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবেনা

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, প্রেসক্লাবের ২২ মার্চ তারিখের বার্ষিক সাধারন সভা ও সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘সাংবাদিক ঐক্য’ নামের একটি কথিত সংগঠনের মেইল(satkhirajournalistunity@gmail.com)থেকে প্রেসক্লাবের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে সদস্যদের মেইলে চরম মিথ্যাচার, মনগড়া তথ্য সম্বলিত প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসমস্ত তথ্য তারা কেবল মেইলে পাঠিয়ে খ্যন্ত হচ্ছে না, তারা তা আবার দু’একটি পত্রিকায় প্রকাশ এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও ওইসমস্ত পত্রিকার অনলাইন ভার্সানে এবং বিভিন্ন ফেসবুক তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছে। যেটি প্রেসক্লাবের মত একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য চরম মর্যদাহানিকর। যা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বার্ষিক সাধারণ সভার সার্বিক ঘটনা ও পরিস্থিতির বিষয়ে প্রেসক্লাবের সদস্যরা সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। তারপরও ওইদিনের ঘটনার বিষয়ে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রকৃত তথ্য আপনাদের জানাতে চাই।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বশেষ ১৫ মার্চ তারিখের সভায় অনুমদিত ১০১ জন সদস্যকে যথানিয়মে সাধারণ সভায় উপস্থিত ও বকেয়া চাঁদা পরিশোধের জন্য সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুজন স্বাক্ষরিত চিঠি দেয়া হয়। সেই চিঠির আলোকে সকল সদস্যরা সাধারন সভায় হাজির হন। দীর্ঘসময় পর সাধারন সভায় মিলিত হতে পেরে উচ্ছসিত সদস্যরা সভাস্থলে উপস্থিত হতে কিছুটা দেরী করেন। তাছাড়া প্রেসক্লাবের কিছু সদস্য কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় পত্রিকা না থাকা ও গঠনতান্ত্রিক নিয়মে ০৫.০৯.২০২১ তারিখে সদস্যপদ বাতিল হওয়া তিনজন সদস্যের বার্ষিক বকেয়া চাঁদা গ্রহনের জন্য অর্থ সম্পাদককে চাপ দিতে থাকেন। যেহেতু অনেক আগে তাদের সদস্যপদ বাতিল হয়েছে এবং ১০১ জনের তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তাদের চাদা নেয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। মিমাংশিত এই বিষয়টি ইস্যু করে ৩২ জন সদস্য বার্ষিক চাঁদা প্রদান না করে সভাস্থলে হাজির হন। প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের ১০ এর ঘ) ধারা মতে বার্ষিক সাধারন সভার পূর্বে বকেয়া চাঁদা পরিশোধ করার কথা।
এসময় প্রেসক্লাবের সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী সভা শুরুর আগে তাদের সদস্য চাঁদা পরিশোধ এবং ১০১ সদস্যের বাইরে কাউকে সভাস্থলে না থাকতে অনুরোধ করে বক্তব্য দেন। কিন্তু সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সভাপতির বক্তব্যের মধ্যে ওই তিনজনের চাঁদা নিতে এবং তাদের সভায় রাখতে পরিকল্পিতভাবে সভাপতিতে আক্রমন করে বক্তব্য দিতে থাকেন এসময় সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী ও আবু আহমেদও নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে সভা ভন্ডুল করতে উদ্যত হন।

এসময় তাদের পক্ষীয় সদস্যরাও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র সদস্যদের অনুরোধে সদস্য চাঁদা পরিশোধ করেন এবং ওই তিনজন বাতিল হওয়া সদস্যকে সভাস্থল থেকে বাইরে পাঠাতে সম্মত হন। এরপর বৈধ সদস্যদের সদস্য চাঁদা পরিশোধ স্বাপেক্ষে ৭১ জন সদস্যের উপস্থিতিতে পূনরায় সভাপতি এজেন্ডা অনুযায়ি কার্যক্রম শুরু করে স্বাগত বক্তব্য দিতে শুরু করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বিগত নির্বাচনে পরাজিত হয়ে প্রেসক্লাবের কিছু সদস্য ‘সাংবাদিক ঐক্য’ নামের একটি সংগঠন তৈরি করে কিছু ‘বিপথগামী’ সদস্য একের পর এক প্রেসক্লাবের স্বার্থ পরিপন্থী কর্মকান্ড পরিচালনা করে চলেছেন। সভাপতির বক্তব্য চলাকালে আবারও আবুল কালাম আজাদ, আবু আহমেদ, সুভাষ চৌধুরীসহ কতিপয় সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং হট্টগোল করে সভা বানচালের চেষ্টা করেন। এরইমধ্যে অতি উৎসাহী হয়ে যমুনা টিভির আহসানুর রহমান রাজিব সামনের সারিতে থাকা প্রেসক্লাব সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, অর্থ সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিকদের ‘এই ধর ধর’ বলে চেয়ার তুলে তেড়ে আসেন এবং মারতে উদ্যত হন। এহেন পরিস্থিতিতে প্রেসক্লাবের প্রবীন সদস্য প্রথম আলো’র নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, বীর মুক্তিযোদ্ধা কালিদাস রায়, যুগের বার্তার নির্বাহী সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাফ্ফর রহমান, সাবেক সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সদস্য হাফিজুর রহমান মাসুম, মনিরুল ইসলাম মনি, আসাদুজ্জামান আসাদ, শাকিলা ইসলাম জুইসহ প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র সাংবাদিকরা তাকে নিবৃত করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

এরপর বেশকিছু সময়ের জন্য সভা মুলতবী রাখা হয়। মধ্যাহ্ন বিরতির পর পূনরায় সভার বাকী কার্যক্রম শুরু হয়। এতে তারা সভায় অংশ না নিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজ করে চলে যান। যথারীতি সভা শুরু হলে উপস্থিত সকল সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গঠনতন্ত্রের আলোকে আহসানুর রহমান রাজিবকে সদস্যপদ বাতিলের প্রস্তাব করলে তা সর্বসস্মতভাবে গৃহীত হয়। এরপর ২১ এপ্রিল নির্বাচনের তারিখ নির্ধারন করে নির্বাচনী তপশীল ঘোষনা এবং তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
তাদের এহেন কর্মকান্ডে অধিকাংশ সদস্য মূখ ফিরিয়ে নেয়ায় এবং আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের আশাংকা অনুমান করে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করে কতিপয় সদস্য ঘোলা পনিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা শুরু করছে। এমনকি সাধারন সভার পরদিন বুধবার সকালে প্রেসক্লাবে স্বাভাবিকভাবে গিয়ে ১৮-২০ জন সদস্য জড়ো হয়ে একটি কথিত আহবায়ক কমিটি ঘোষনা হয়েছে বলে অপপ্রচার শুরু করেছেন। যা গঠনতন্ত্র পরীপন্থি এবং ধৃষ্টতা। প্রেসক্লাব কোনোভাবেই তাদের এই অপচেষ্টাকে সফল হতে দেবেনা। বরাবরই যখনই প্রেসক্লাব যখন স্থীতিশীল অবস্থা বিরাজ করে গঠতান্ত্রিক ধারাবহিকতা রক্ষা করার চেষ্টা করে ঠিক তখনই ওই মহলটি প্রেসক্লাবকে অস্থিথিশীল করতে তৎপর হয়।
প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ মনে করে নির্বাচনে জয়পরাজয় থাকবে। পক্ষ-বিপক্ষ থাকবে। নির্বাচন ভন্ডুল করে যদি কেউ ফায়দা লোটার অপচেষ্টা করেন তাদের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাব গঠনতন্ত্র অনুযায়ি পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবেনা।

আমরা আশাকরি এরপর কোনো ব্যাক্তি বা গোষ্টির স্বার্থ সংরক্ষণ করতে সদস্যরা ভুলপথে পরিচালিত হবেন না। একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে প্রেসক্লাবের সদস্যরা গঠততান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সমন্বিতভাবে উদ্যোগী হবেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেয়র চিশতির বিরুদ্ধে আইন ভেঙে সাতক্ষীরা পৌরসভায় ঠিকাদারীর প্রমাণ মিলেছে !

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা পৌর মেয়রের তাজকিন আহমেদ চিশতির বিরুদ্ধে ১০ কাউন্সিলের করা অভিযোগের বেশ কয়েকটির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। যদিও কিছু ভুঁইভোড় অনলাইনে গতকাল থেকে প্রচার করা হচ্ছে যে, তদন্তে কোন অভিযোগই প্রমাণ হয়নি।

এ প্রসঙ্গে একাধিক পৌর কাউন্সিল বলেন, কারও বিরুদ্ধে আইন ভাঙার একটি অভিযোগ প্রমাণ হলেও তাকে সেজন্য শাস্তি পেতে হয়। অথচ একাধিক অনিয়মের প্রমাণ যার বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে তাকে নির্দোষ সাজিয়ে হাস্যকর গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে সাতক্ষীরায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক মাশরুবা ফেরদৌস স্বাক্ষরিত একটি পত্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পানি বিল মওকুফের অভিযোগ প্রমানিত হলেও কাউন্সিলরগণ সুপারিশ করেছেন। ১৪২৩ হতে ১৪২৮ সন পর্যন্ত হাট বাজার ইজারা মূল্য, ভ্যাট বকেয়ার চুক্তিপত্রের অভিযোগ প্রমানিত। ট্রেড লাইসেন্সের ফি এককভাবে হ্রাস করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন, ২০১০ এর ১৯ এর (২) (ছ) নং ধারা অনুসারে পৌরসভা মেয়র বা কাউন্সিলর কর্তৃক পৌরসভার কোন ঠিকাদারী কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু মেয়র তাজকিন আহমেদ পৌরসভা থেকে ঠিকাদারির জন্য ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেন। যা ওই তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

যদিও এবিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোন সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। অথচ একটি চক্র পৌর মেয়র নির্দোষ- এমন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে কাউন্সিলরগণ দাবি করেছেন।

এবিষয়ে সাতক্ষীরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক মাশরুবা ফেরদৌস বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত করেছি। প্রতিবেদনও পাঠিয়েছি। এটি তো আভ্যন্তরীণ বিষয়। মেয়রের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা এমন সংবাদ বিভিন্ন অনলাইন প্রচার হচ্ছে এবিষয়ে তিনি বলেন, এটি ঠিক না। মন্ত্রণালয় থেকে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। তাছাড়া দোষী কি নির্দোষ সেটিও এখনো প্রমাণিত হয়নি। অনলাইন পত্রিকাগুলো কোন প্রমাণ ছাড়া এধরনের সংবাদ প্রকাশ করে ঠিক করেনি। আমরা প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় পুনরায় তদন্ত করতেও পারে।

এবিষয়ে পৌর কাউন্সিলর কাজী ফিরোজ হাসান বলেন, কমপক্ষে ১০টি খাতে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে কারো সঙ্গে পরামর্শ না করে গরীব লোকজনকে আর্থিক সাহায্য বাবদ ১ কোটি ৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ব্যক্তিস্বার্থে ৮০ লাখ টাকার পানির বিল মওকুফ, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য পৌরসভার টাকায় গাড়ির তেল কেনাসহ প্রমোদ ভ্রমণ, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে পৌরসভার আর্থিক ক্ষতি, বিধি ভঙ্গ করে পৌরসভার বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারা দেওয়া এবং অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার জন্য বাজেট ছাড়াই টেন্ডার দেওয়া উল্লেখযোগ্য। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু তদন্তের সিদ্ধান্ত আসার আগেই একটি চক্র তাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। তদন্তের আমাদের অভিযোগের মধ্যে অনেকগুলোর সত্যতা পেয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি ২০২২ সাতক্ষীরা পৌরসভার ১১জন কাউন্সিলর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে মেয়র চিশতীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুলোর যথাযথ তদন্তেন জন্য মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দ্রুত তদন্ত কাজ শুরু করবে বলে জানাগেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সরকারের উন্নয়ন সফলতা তুলে ধরে শ্যামনগরে এম পি জগলুল’র উঠান বৈঠক

মেহেদী হাসান মারুফ, শ্যামনগর : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন সফলতা তুলে ধরে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৩ মার্চ বুধবার বিকাল ৫টায় শ্যামনগর সদরের গোপালপুর শিব মন্দিরের মাঠে উঠান বৈঠকে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন সফলতা তুলে ধরেন ।

এ সময় বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার। উঠান বৈঠকের শুরুতেই এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন নারী নেত্রী রহিমা খাতুন বক্তব্যে বলেন আমাদের এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

কিন্তু বিগত সময়ে আকাশ বন্যায় রাস্তাঘাট প্লাবিত হয় , কৃষি জমি সহ জলাভূমি তে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি কারনে সংস্কার করার দাবি জানান। কোহিনুর বেগম বলেন সামনে শুষ্ক মৌসুম পবিত্র রমজান আগত সুপেয় খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করার জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য কে আহ্বান জানান।

সমাজসেবক ও প্রবীণ ব্যক্তিত্ব পঞ্চানন দাস বর্তমান সরকারের সাফল্য সফলতা ,

কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন আমার জীবন দশায় অনেক সরকারকে দেখেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সময় যে উন্নয়ন হয়েছে এটা কোন সময় দেখি নি। উপস্থিত সাধারণ মানুষের বক্তব্য শুনে সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার তার বক্তব্যে বলেন অচিরেই রাস্তা ও সুপেয় পানি সংকট নিরসন করা হবে আশ্বাস প্রদান করে বর্তমান সরকারের শিক্ষা খাত,

রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্যোগ সহনশীল সাইক্লোন শেল্টার তৈরি সহ স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া চান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংবাদিক আলহাজ্ব আকবর কবির, ইউপি সদস্য এসকে সিরাজুল ইসলাম, ইউপি সদস্য দেলোয়ারা বেগম, ইউপি সদস্য মলয় কুমার ঝন্টু সহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest