সর্বশেষ সংবাদ-
হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ৩০ মে রিইউনিয়নের লোগো উন্মোচনলীজ নিয়ে অবৈধভাবে সম্পত্তি দখল করতে না পেরে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মানববন্ধনের অভিযোগসাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কোর কমিটির সভা অনুষ্ঠিতঅপরাধীকে অপরাধী হিসেবে আইনের আওতায় আনা হবে, সে যে দলেরই হোক –সাতক্ষীরার নবাগত এসপিআশাশুনির কুল্যায় মাদক কারবারী ও অনলাইন জুয়াড়ীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধনসাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিলসম্মিলিত সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনগাজীপুরে ৫ খুন: পদ্মা সেতু থেকে লাফ দি‌য়ে অভিযুক্তের আত্মহত্যাWaarom Fairplay casino online inloggen de toekomst van gokken verandertMonster Casino et sports en ligne une alliance pour les amateurs de paris sportifs

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক  ফজলুল হকের  দাফন সম্পন্ন

জাহাঙ্গীর আলম লিটন, কলারোয়া : সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক একেএম ফজলুল হক ইন্তেকাল করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সিটি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক একেএম ফজলুল হক (৫০) কলারোয়া পৌর সদরের ঝিকরা গ্রামের নিজ বাড়িতে রোববার (২৬ ডিসেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে অসুস্থ বোধ করলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে চিকিৎিসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টার দিতে স্ট্রোক জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না..রাজেউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী,
২ কণ্যা, ১ পুত্র সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেনে।

মরহুমের পৈত্রিক বাড়ি উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের বহুড়া গ্রামে। তার প্রয়াত পিতা আব্দুর রহিম সোনাবাড়িয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। রবিবার জোহরবাদ
কলারোয়া হাইস্কুল ফুটবল মাঠে প্রথম জানাযা নামাজের পর দ্বিতীয় জানাযা নামাজ আসরের নামাজ বাদ মরহুমের পৈত্রিক বাড়ি বহুড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়।

জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন কার্য সম্পন্ন করা
হয়েছে। কলারোয়া হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জানাযা নামাজের ইমামতি করেন
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক ও বহুড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত জানাযা নামাজে ইমামতি করেন জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা
আমীর হাফিজ রবিউল বাশার। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী
মাওলানা আজিজুর রহমানের পরিচালনায় জানাজাপূর্ব আলোচনায় বক্তব্য রাখেন ও
মুসুল্লিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির নেতা তাসকীন আহমেদ চিশতি, হাবিবুর রহমান হবি, কলারোয়া উপজেলা বিএনপির সহ.সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের
আমীর হাফিজ রবিউল বাশার, কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী,
কলারোয়া উপজেলা জামায়াত নেতা ইমান আলী শেখ, মাওলানা ওমর আলী, অধ্যাপক
মাহফুজুর রহমান, জামায়াতের বাগেরহাট জেলার সাবেক আমীর অধ্যক্ষ মশিউর
রহমান, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু, খুলনা মহানগর আমীর আবুল
কালাম আজাদ, খুলনা উত্তর জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, খুলনা দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি এ্যাড: মোস্তাফিজুর রহমান, শিবিরের খুলনা মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি মিয়া গোলাম কুদ্দুস, সাতক্ষীরা শহর শাখার সভাপতি
আনিসুর রহমান, মরহুমের পুত্র ফাহাদ, ছোট ভাই নাজমুল হক সহ অসংখ্য
মুসুল্লিগণ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার ১০ ইউপির ৭টিতে নৌকার ভরাডুবি

আসাদুজ্জামান : চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৯ টি ও তালা উপজেলার একটিসহ মোট ১০ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের তিন জন ও বাকী ৭ জনস্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারী ভাবে জয়লাভ করেছেন।

এর মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মধ্যে ২টিতে আওয়ামীলীগ ও ৭টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী করেছে। অপরদিকে, তালা উপজেলার কুমরিা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।
বেসরকারীভাবে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী গাজী আনিছুজ্জামান আনিচ, নুরনগর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহমেদ, কৈখালীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা জি এম মাসুদুল আলম, বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত সমর্থিত হাজী নজরুল ইসলাম, রমজাননগর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ আল মামুন, পদ্মপুকুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আমজাদুল ইসলাম, আটুলিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী আবু সালেহ, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থী অসীম কুমার মৃধা।
এদিকে, তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ আজিজুর ইসলাম জয়লাভ করেছেন।###

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কক্সবাজারে নারী পর্যটক ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ৩

দেশের খবর: কক্সবাজারে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় এজাহারভুক্ত দুজনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। শনিবার রাতে এ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃরা ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ বাহারছড়া গ্রামের রেজাউল করিম (৩০), একই গ্রামের মেহেদী হাসান (২৫) ও চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উলুবনিয়া গ্রামের মামুনুর রশীদ (২৮)। এর আগে হোটেল ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ আলোচিত মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, চট্টগ্রাম ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মোসলেম উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ।

ডিআইজি মোসলেম উদ্দিন বলেন, তাদের আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে ধর্ষণকাণ্ডের মূল হোতা আশিক এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভিকটিম পর্যটক নারী দাবি করেন, গত বুধবার সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজার বেড়াতে যান তিনি। এরপর তাঁরা শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে ওঠেন। সেখান থেকে বিকেলে যান সৈকতের লাবনী পয়েন্টে। সেখানে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তাঁর স্বামীর ধাক্কা লাগলে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তাঁর আট মাসের সন্তান ও স্বামীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আরেকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তাঁকে তুলে নেয় তিন যুবক। পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে তিনজন। ধর্ষণ শেষে তাঁকে নেওয়া হয় জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে। সেখানে আরেক দফা তাঁকে ধর্ষণ করে ওই তিন যুবক। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে হুমকি দিয়ে রুম বাইরে থেকে বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। এর মধ্যে ওই নারী জিয়া গেস্ট ইনের তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে এক যুবকের সহায়তায় দরজা খোলেন। এরপর ফোন দেন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ। পুলিশ তাঁকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নারীদের ঘনিষ্ঠ পুরুষ স্বজন ছাড়া ভ্রমণ নয়: তালেবান

বিদেশের খবর: স্বল্প দূরত্ব ছাড়া অন্য কোথাও ভ্রমণ করতে চান এমন আফগান নারীরা ঘনিষ্ঠ পুরুষ স্বজনকে সঙ্গে না নিলে বাইরে ভ্রমণ করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছে তালেবান সরকার। আজ রোববার দেশটির পূণ্যের প্রচার ও পাপপ্রতিরোধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নতুন এই নির্দেশনা জারি করেছে।

একই সঙ্গে যে নারীরা ইসলামিক হিজাব পরবেন কেবলমাত্র তাদের গাড়িতে পরিবহনের সুযোগ দিতে দেশটির সব যানবাহনের মালিকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে তালেবান। খবর এনডিটিভি ও এএফপির।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাদেক আকিফ মুজাহির বলেছেন, ৭২ কিলোমিটারের বেশি ভ্রমণকারী নারীদের সঙ্গে যদি পরিবারের কোনও ঘনিষ্ঠ সদস্য না থাকেন, তাহলে তাদের কোনও যানবাহনেই ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না। আরও নির্দিষ্ট করে তিনি বলেছেন, এই ভ্রমণের সময় অবশ্যই নারীর সঙ্গে একজন ঘনিষ্ঠ পুরুষ স্বজন থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন নেটওয়ার্কে আফগান পূণ্যের প্রচার ও পাপপ্রতিরোধ মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতি ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে নারীরা অভিনয় করেছেন এমন নাটক এবং সোপ অপেরার প্রদর্শন বন্ধে আফগানিস্তানের সব টেলিভিশন চ্যানেলকে নির্দেশ দেওয়ার পর নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এ ছাড়া নারী টিভি সাংবাদিকদের উপস্থাপনার সময় হিজাব পরার আহ্বান জানিয়েছে আফগান এই মন্ত্রণালয়।

সাদেক আকিফ মুজাহির বলেছেন, যে নারীরা যানবাহনে চলাচল করতে চান তাদের হিজাব পরতে হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় যানবাহনে গান বাজানো বন্ধ করতেও বলা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জন্ম নিবন্ধনের ভুল সংশোধনে ভোগান্তি চরমে

বিশেষ ডেস্ক: মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম। তার ভাতিজা মাহমুদুল হাসানের জন্ম নিবন্ধনের সময় ভুল হয়েছে তারিখে। সেটি সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ, ইউএনও অফিস ঘুরে আসতে হয়েছে ঢাকার রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে। তবে তাতেও কোনো সুরাহা হয়নি। অনেক চেষ্টার পর সংশোধনের পরিবর্তে ভুল জন্ম নিবন্ধন দিয়েই কাজ চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয় তাদের। অবেশেষে নিরাশ হয়েই বাড়ি ফেরেন তিনি।

সংশোধনে জটিলতার কারণে মাহমুদুলের জন্মের তারিখই পরিবর্তন হয়ে গেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে শাহ আলম বলেন, নিবন্ধনে আমার ভাতিজা মাহমুদুল হাসানের জন্ম তারিখ ভুল ছিল। তার জন্ম ছিল ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই। কিন্তু নিবন্ধনে হয়ে গেছে ২৮ জুলাই। এই ভুলটি সংশোধন করতে চেয়েছি। কিন্তু দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সেটি পারিনি। উল্টো তারা জানিয়েছেন, জন্ম নিবন্ধনের সার্ভার পুরোটাই লক, এর সংশোধন হবে না। যা আছে তাতেই চালিয়ে নিতে হবে।

ভোগান্তি নিয়ে শাহ আলম বলেন, প্রথমে আমি ইউনিয়ন পরিষদে গেছি। পরে তারা ইউএনও অফিসে পাঠায়। সেখানেও সমাধান না পেয়ে পরিবহন পুল ভবনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে যাই। সেখানেও সমাধান পাইনি। এ কারণে আমার ভাতিজার জন্ম তারিখই পরিবর্তন হয়ে গেল। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় বললো, ২৪ আর ২৮ তারিখের ব্যবধান খুব বেশি নয়। এখানে তাদের করণীয় কিছু নেই বলেই সান্ত্বনা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সাধারণ মানুষের এখানে কিছু করণীয় নেই। এখানে উপরের যারা আছেন তারা হয়তো একটি প্রক্রিয়া বের করে আনলে মানুষের সুবিধা হবে। আমার ভাতিজাকে ভুল জন্ম তারিখের জন্ম নিবন্ধন দিয়েই স্কুলে ভর্তি করাতে হয়েছে।

জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত এমন সমস্যা এখন প্রতিটি পর্যায়ে। ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন এখন অনেকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানান জটিলতার কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুরেও সমাধান মিলছে না অনেকের। এর সঙ্গে কর্তাদের গাফিলতি নিয়মিত ঘটনা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, জন্ম নিবন্ধনের মতো প্রয়োজনীয় একটি বিষয়ে এত জটিলতা রাখা বাস্তব সম্মত নয়। সাধারণ মানুষের জন্য সহজ পদ্ধতি হলে এ ধরনের ভোগান্তি হতো না বলে মনে করছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০১ সালের পর যাদের জন্ম, তাদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য বাবা-মায়ের জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করায় সন্তানের জন্ম সনদ নিতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অভিভাবকদের। একই সঙ্গে কারো মৃত্যু সনদ নিতে হলেও প্রয়োজন হচ্ছে ডিজিটাল জন্ম সনদের। সব মিলিয়ে চরম জটিলতায় পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নাগরিকদের ১৮টি সেবা পেতে জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং চারটি সেবা পেতে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়। ২০০৭ সালে ভোটার তালিকা তৈরির কার্যক্রম শুরু হলেও ২০০১-২০০৬ সালে ২৮টি জেলায় ও চারটি সিটি করপোরেশনে জন্ম নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সনদ দেওয়ার জন্য অফিস ও জনবল সংকটে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। নতুন করে কিছু অঞ্চল যুক্ত হওয়ায় এক অঞ্চলের অফিসেই তিন অঞ্চলের সেবাগ্রহীতাদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। ফলে এক অঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন অঞ্চলের নাগরিকদের সেবা দিতে হচ্ছে, যা খুবই কষ্টসাধ্য।

জন্মনিবন্ধন কার্যক্রমে ভোগান্তি জানতে সরেজমিনে বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিস, ওয়ার্ড কার্যালয় ও রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় ঘুরে দেখেছে জাগো নিউজ। সেখানে ভুক্তভোগীরা তাদের নানান অভিযোগের কথা বলেছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) অঞ্চল-৮ এর কার্যালয়ে ৬২ থেকে ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের সব এলাকার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য সেখানে এসেছেন ধলপুর বাঁশপট্টির বাসিন্দা মিনারা বেগম। তবে কর্তারা জানালেন, স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করা এলাকার চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেট ছাড়া জন্ম নিবন্ধন হবে না।

দীর্ঘদিন ঢাকায় বাস করা মিনারা বেগমের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর। ঢাকায় কোনো বাড়িঘর নেই। আবার তিনি গ্রামেও যান না। এ কারণে কোথাও সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না তিনি। এরপর নানাভাবে কর্তাদের আকুতি শুরু করেন মিনারা। কিন্তু উল্টো একজন কর্মকর্তা আক্ষেপ করে নিজের বোনের জন্ম নিবন্ধন তৈরিতে এমন সমস্যা হয়েছে বলে জানান। সংশোধনে ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন ওই কর্মকর্তা।

মিনারা বেগম বলেন, আমি ভোটার হয়েছি নারকেল বাগান মসজিদ এলাকা থেকে। ভোটার আইডিসহ সবকিছুই সেখান থেকে হয়েছে। আমাদের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈরে। তবে সেখানে বাড়িঘর, সহায় সম্পত্তি কিছু নেই। সেখানে আমরা বসবাসও করি না। আমার সন্তানদের সবার জন্ম ঢাকায়। ভোটার আইডি এই ঠিকানা দিয়ে করেছি। সবকিছু নিয়ে এসেছি। ঢাকায় বলে গ্রামের চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেট লাগবে। আমি বললাম আমি তো ওখানে থাকি না, যাই না। সেখানকার চেয়ারম্যানও পরিচিত না। কাউন্সিলর অফিসেও বলছে যে গ্রামের ঠিকানার সার্টিফিকেট আনতে। আমরা এখানকার নাগরিক, আমরা ঢাকার ভোটার। এখন ঢাকায় তো বাড়িও নেই। গ্রামে বা ঢাকায় কোথাও বাড়ি নেই বলে আমার জন্ম নিবন্ধনের কাজটি হচ্ছে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাঝহারুল ইসলাম কাকন বলেন, আমি আমার এবং আব্বু-আম্মুর জন্ম নিবন্ধন করতে আসছি। কিন্তু আমার মায়ের আবেদন নিয়ে সমস্যা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস থেকে দেওয়া সার্টিফিকেটে আমার মায়ের নামের সঙ্গে নানার নাম যোগ করা, আব্বুর নাম নেই। সেটি আবার লিখে আনতে বলছে। এটা তো সমন্বয়হীনতা। তারা তো জানে যে আম্মুর সার্টিফিকেটে তার স্বামীর নাম উল্লেখ করতে হবে। কিন্তু তারা সেটা করে দেয়নি। জন্ম নিবন্ধনের কাজটা আরও সহজ করা উচিত। আর কাউন্সিলর অফিসে দেখলাম অনেকের ঢাকায় বাড়ি নেই, আবার গ্রামেও বাড়ি নেই। তাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়ে জন্ম নিবন্ধনে ব্যর্থ হলে অনেকেই শরণাপন্ন হন রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের। তবে সেখানে লোকবল সঙ্কটসহ নানা কারণে সঠিক সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ অনেকের।

নিবন্ধন অফিসের ভুলক্রমে নুসাইবা জামান দিয়ানাহ’র জন্ম নিবন্ধন দুবার এন্ট্রি হয়েছে সার্ভারে। ফলে তার জন্ম নিবন্ধনের নম্বর দিয়ে সার্ভারে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সমস্যা সমাধানে দিয়ানাহ’র বাবা মনিরুজ্জামান কাউন্সিলর অফিসসহ বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টার পর যোগাযোগ করেন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে।

সেখানকার পরামর্শ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দুটি নিবন্ধনের কোনটি বাদ দিতে চান সেটি সংযুক্ত করে অনুমতিপত্র নিয়ে আসা হলেও সেখানে সমস্যার কথা জানায় রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। এরপর তাদের পরামর্শে তাদের চাহিদা অনুযায়ী পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি জন্ম নিবন্ধন বাদ দেওয়ার অনুমতিপত্রসহ জমা দেওয়া হয়। তবে দুই মাস হয়ে গেলেও সমাধান দেননি তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. ফরহাদ হোসেন জানান, আমার কাজ ফাইল উঠিয়ে অ্যাপ্রুভ হলে টেকনিক্যাল টিমের কাছে পাঠানো। কিন্তু ফাইল তুলতে আমার কিছু প্রিপারেশন আছে। সেটা তো ডিসি অফিস থেকে আমাদের কাছে চিঠিতে প্রোপারলি উল্লেখ করে দিতে হবে যে, এই ব্যক্তির এই তথ্য থাকবে এবং এটা বাতিল হবে। কিন্তু ডিসি অফিস একটা জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে বলছে তার একটা থাকবে একটা বাতিল হবে। যেহেতু তার একটিই নিবন্ধন নম্বর, সুতরাং যদি সেটা উল্লেখ করে না দেয় কোনটা থাকবে, তাহলে কিভাবে বুঝবো? তাদের আমরা ছক করে চিঠি দিয়েছি। যাতে সেভাবে উল্লেখ করে দেয়।

নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, যে জন্ম নিবন্ধন যেখানে করেছে সংশোধন যদি করতে হয়, সেখানে আবেদন করে। সেখানে সমস্যা হলে পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে সংশোধনী হয়। এটা অনলাইনে এখানে করতে হবে, তারপর পাঠাতে হবে। যেহেতু ভুল হয়েছে সংশোধনের প্রক্রিয়া তো এভাবেই হবে।

তিনি বলেন, জন্ম নিবন্ধন নতুন করে করতে চাইলে তার বাসস্থান যেখানে হোক, উনি যেখানে বসবাস করছেন সে এলাকায় নিবন্ধনের আবেদন করতে পারেন, সমস্যা নেই।

নিজেদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, এখন সব চাপ এক সঙ্গে। ১ লাখ মানুষ যদি আমাদের সফটওয়্যারে ঢোকে তাহলে বুঝুন আমাদের চাপ কেমন আছে। আর সংশোধনের ক্ষেত্রেও এখন আমাদের প্রতিটি জায়গায় প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার আবেদন আসছে। কিন্তু সারাদিন মনোযোগ দিয়ে করলেও ৩শ’র বেশি করা যায় না। আমাদের অন্য কাজও আছে, পাসওয়ার্ড অন্য কাউকে শেয়ার করেও করা সম্ভব না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের (রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়) লোকবল নাই-ই। এখানে খুব বেশি কাজ নেই। এখানে কাজ হলো যেখানে আমার অনুমোদন লাগে সেখানে কাজ করা এবং সফটওয়্যারটা রেডি রাখা। তবে খুবই খারাপ অবস্থা, এখানে মাত্র দুজন টেকনিক্যাল ম্যান ছিলে। তার মধ্যে সহকারী প্রোগ্রামার চাকরি ছেড়েছে আর প্রোগ্রামার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছে। তবে ছুটিতে থাকার পরও তিনি পুরো কাজটাই করছেন। আমাদের কিছু কনসালটেন্ট আছে তারা ফুল সাপোর্ট দিচ্ছেন, সেকারণে আমরা টিকিয়ে রাখতে পারছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নরমাল জন্ম নিবন্ধন যারা করেন তারা পেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সমস্যা হয় যখন তারা আবার কারেকশন করতে যান। আমাদের দেশের ম্যাক্সিমাম জন্ম নিবন্ধন কারেকশন করতে যান জালিয়াতির উদ্দেশ্যে। তখন সেটার ব্যাপারে আমাদের একটা রেস্ট্রিকশন থাকে, সার্ভার সেগুলো অ্যালাও করে না। দেখা যায় এখন বয়স আপনার যেটা আছে সেটা একটু কমিয়ে বা বাড়িয়ে দিতে চান। তখন এসব সমস্যা দেখা যায়। একজন লোকের বয়স ৮৫ বছর হলেও জন্মনিবন্ধন করতে চায়, দেখা যায় তার এসএসসির সনদ বা কিছুই নেই, তখন সমস্যাগুলো দেখা দেয়।

সমন্বয়হীনতার কারণেও মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নির্বাচন কমিশনে দুই বছর চাকরি করেছি। ওখানে ফর্মে আপনি আপনার নাম লিখছেন, জন্ম তারিখ লিখছেন, মা-বাবার নাম লিখছেন। সেভাবে সেগুলো প্রিন্ট করে দিয়ে দেওয়া হয়। সেটি জমা দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করলেন। দেখা গেলো পাঁচ বছর পর আপনি এসে বলছেন আমার নাম চেঞ্জ করতে হবে, ডেট অব বার্থ চেঞ্জ করতে হবে। কিন্তু এটি করার সময় কিন্তু একটি কারেকশন কপি দেখানোও হয়, সেখানে যিনি জন্ম নিবন্ধন করবেন তিনি নিশ্চিত করলেই প্রিন্ট করে দেয়া হয়। তাহলে দোষ কার?

জালিয়াতির বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে আমি অসংখ্য পিএইচডি করা মানুষকে দেখেছি যে তিনি এফিডেভিট করে বলছে আমি এসএসসি পাস করিনি, শুধু বয়স বাড়ানো বা কমানোর জন্য। হয়ত সে বিদেশ যাবে বা অন্য কোনো কাজ করবে। এরকম অসংখ্য মানুষকে দেখেছি। নরমালি হলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সানি লিওনের গান নিষিদ্ধের দাবি পুরোহিতের

বিনোদন ডেস্ক: ‘মধুবন’ শিরোনামে একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে রাধা হয়ে নেচেছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সানি লিওনি। গানে সেই নাচ অশ্লীল মনে হয়েছে পুরোহিতের কাছে। ফলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে অভিনেত্রীর গান নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন। সেই সাথে সানি লিওনি প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে তাকে ভারতে থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি নিয়ে এই গানে সানি লিওনির নাচ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেক নেটিজেন। সেই অভিযোগে এবার মথুরার পুরোহিত নবল গিরি মহারাজ মিউজিক ভিডিও নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন।

‘মধুবন মে রাধা নাচে’শিরোনামের ওই গানটি করেছেন প্রথ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মোহাম্মদ রফি। জানা গেছে ১৯৬০ সালে কোহিনূর চলচ্চিত্রে গানটি গেয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি সারেগামা মিউজিক এই গানটির নতুন মিউজিক ভিডিও ‘মধুবন’ শিরোনামে প্রকাশ করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেশের খবর: স্বামী-সন্তান জিম্মি করে কক্সবাজারে পর্যটক নারীকে ধর্ষণকাণ্ডের মূল আসামিদের কাউকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয় বিশিষ্টজনের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে আসামি গ্রেপ্তারের চেয়ে ভুক্তভোগী নারীর ‘দোষ’ খুঁজে বের করাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। এ কারণে ধর্ষকের চেয়ে ভুক্তভোগীকে নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

এদিকে ভুক্তভোগী ওই নারী শুক্রবার বিকালে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি অসুস্থ সন্তানকে ‘বাঁচাতে’ টাকা জোগাড় করতে এসে ধর্ষণের শিকার হন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল ব্যবস্থাপকের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার বিকালে ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন- আসামি আশিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ওরফে বাবু ভুক্তভোগী নারীর পূর্বপরিচিত। তাকে মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে যখন আশিক নিয়ে যায় তখন মূল সড়ক দিয়েই গেছে। এরপর জিয়া গেস্টরুমে যখন যাচ্ছিল, তখন সড়কে অনেক লোকজন ছিল। কিন্তু ওই নারী কোনো ধরনের চিৎকার-চ্যাঁচামেচি করেননি। আমরা চাই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হোক। এ রকম ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

একইভাবে ট্যুরিস্ট পুলিশের অ্যাডিশনাল এসপি মহিউদ্দিন আহমেদের ধর্ষণের ঘটনায় দেয়া বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের পর ওই নারীর ‘চরিত্র’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই পোস্ট করেছেন।

অ্যাডিশনাল এসপি বলেছেন, গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে অনেক ‘রহস্য’ পাওয়া যাচ্ছে। এ গৃহবধূ গত কয়েক মাসের মধ্যে কক্সবাজার বেশ কয়েকবার এসেছেন। ওই নারী কক্সবাজারে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত জেনে তারা (ধর্ষণে অভিযুক্তরা) হয়তো বলেছে, এখানে এসব করতে গেলে তাদের চাঁদা দিতে হবে। এছাড়াও তারা ওই নারীর পূর্বপরিচিত।

পুলিশের বক্তব্য প্রসঙ্গে কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ভিকটিম নারীকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত পুলিশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য আইন পরিপন্থি ও দুঃখজনক। তাদের উচিত ছিল দ্রুত ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা। তাদের একেকজনের নামে ১৭টি মামলা রয়েছে। তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা। ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, নারী পর্যটক, স্থানীয়, অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত বা পতিতা, যাই হোক তাকে ধর্ষণ করার অধিকার কে দিয়েছে? তা ছাড়া দণ্ডবিধির ১৮৬০-এর সেকশন ৩৭৫-এর (ক) তে স্পষ্ট উল্লেখ আছে-নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনসঙ্গম করার চেষ্টা অবশ্যই ধর্ষণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে। অথচ উলটো এখন ভিকটিম ওই নারীকে নিয়ে ট্রল হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও আরো সতর্কভাবে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, পুরো ঘটনা বিস্তারিত বলতে গিয়ে ওসব কথা বলতে হয়েছে। মূল কথা হচ্ছে, কারও অসম্মতিতে জোরপূর্বক মিলন করা মানে তাকে ধর্ষণ করা। ওই নারী যদি তার সন্তান বাঁচানোর জন্য অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত হন এটি তার ব্যক্তিগত এবং পারিপার্শ্বিক বিষয়। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি দাবি করেছেন তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এখন আমরা সব বিষয় মাথায় রেখে মামলাটি তদন্ত করছি। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযুক্ত ধর্ষকরা অধরা

অভিযুক্ত আসামিদের চিহ্নিত করে ঘটনার এক দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করা হলেও মূল আসামিদের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

আসামিরা হল- আশিকুর রহমান ও তার তিন সহযোগী ইস্রাফিল হুদা ওরফে জয় ও মেহেদী হাসান ওরফে বাবু এবং রিয়াজ উদ্দিন ছোটন। ট্যুরিস্ট পুলিশকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে জিয়া গেস্ট ইনের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এদের মধ্যে কক্সবাজার সদর থানায় আশিকের নামে অস্ত্র, মাদক, নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজিসহ ১৭টি এবং জয়ের নামে দুটি মামলা রয়েছে। তারা এখনো কক্সবাজার শহরে অবস্থান করছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

অপরদিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনের আদালত শনিবার সন্ধ্যায় ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ব্যবস্থাপক রিয়াজুদ্দিন ছোটনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক রুহুল আমিন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি: শুক্রবার বিকালে কক্সবাজার সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজিনের আদালতকে ওই নারী জানান, আট মাস বয়সি অসুস্থ বাচ্চার চিকিৎসায় অর্থ জোগাড়ে স্বামীসহ গত ৩ মাস ধরে কক্সবাজারে এসেছেন। ৮ মাস বয়সি শিশুর হার্টে ছিদ্র রয়েছে। তার চিকিৎসায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। যে কোনো মূল্যে সন্তানকে বাঁচাতে টাকা জোগাড় করাই ছিলো তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তার মধ্যে সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করে। একবার বাধ্য হয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন। পরে আবার চাঁদা চাইতে গেলে স্বামীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর সূত্র ধরে তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে।

ওই নারী জবানবন্দিতে আরো জানান, তাকে বুধবার রাত ৮টার দিকে সৈকত পোস্ট অফিসের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আশিকের দুই বন্ধু তাকে ধর্ষণ করে। এরপর আশিক তাকে আবার মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় কলাতলী এলাকার জিয়া গেস্ট ইন নামে একটি হোটেলে। তাকে নিয়ে ওই হোটেলের একটি কক্ষে ওঠে আশিক। সেখানে ইয়াবা সেবন করে ধর্ষণের একপর্যায়ে একটি ফোনকলে পুলিশের উপস্থিতির কথা জানতে পেরে আশিক কক্ষ থেকে দ্রুত বের হয়ে যায়। ভুক্তভোগী

ওই নারী আরো জানান, তিনি হোটেল কক্ষ থেকে বের হয়ে পর্যটন মোটেলের সামনের সড়কে আসেন। সেখানে স্বামীকে দেখতে পান র‌্যাবের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে। র‌্যাব তাকে নিয়ে হোটেল জিয়া গেস্ট ইনে আসেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মহাকাশে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপের যাত্রা শুরু

বিদেশের খবর: ইতিহাস সৃষ্টি করে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ জেমস ওয়েব সফলভাবে মহাকাশে যাত্রা শুরু করেছে। এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে এক হাজার কোটি ডলার। ফ্রেঞ্চ গায়ানার কৌরো মহাকাশ বন্দর থেকে আরিয়ান রকেটের মাধ্যমে এটি মহাকাশের দিকে যাত্রা করে।

টেলিস্কোপটির নামকরণ করা হয়েছে চাঁদে অবতরণকারী অ্যাপোলো নভোযানের একজন স্থপতির নামে। এটি হাবল টেলিস্কোপের উত্তরসূরি। টেলিস্কোপটি তৈরিতে কাজ করেছে ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডার মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রকৌশলীরা। অতীতের যে কোনো টেলিস্কোপের থেকে একশগুণ বেশি শক্তিশালী করতে ৩০ বছর কাজ করেছেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে এটির এক মাস সময় লাগতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest