সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরের

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি বদলে যাচ্ছে পদ্মা সেতু ঘিরে

অনলাইন ডেস্ক: পদ্মা সেতু আর পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে দক্ষিণাঞ্চল হবে ‘সিঙ্গাপুর’। অর্থাৎ সিঙ্গাপুরের মতো সক্ষম হবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি। কয়েক বছর আগে বরিশালে একটি অনুষ্ঠানে আশাজাগানিয়া এই উক্তিটি সর্বপ্রথম করেছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। ৮ অক্টোবর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দক্ষিণাঞ্চল এখন আর অবহেলিত নেই।’ সরকারপ্রধানসহ একাধিক মন্ত্রী, এমপি, নেতাসহ সরকারের অনেক কর্মকর্তার মুখে ঘুরেফিরেই উচ্চারিত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের ‘সিঙ্গাপুর’ বনে যাওয়ার গল্প। সঙ্গে রয়েছে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল সুযোগের পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। রেললাইন আসছে কুয়াকাটা-পায়রা পর্যন্ত। ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প ১১ অক্টোবর একনেকের সভায় অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আরও রয়েছে বিস্তৃত নৌপথ। এমন সম্ভাবনার দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হারে গড়ে উঠবে দেশি-বিদেশি শিল্প-কলকারখানা। পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হবে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, হবে ব্যবসায়িক জোন। এমন ভাবনায় আগে থেকেই দক্ষিণাঞ্চলমুখী হয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। নতুন করে অনেকে আসছেন স্বপ্নের ‘সিঙ্গাপুরের’ উদ্যোক্তা হতে। কেউ পছন্দের জমি পাচ্ছেন, কেউ এখনো খুঁজছেন। তবে আশা ছাড়ছেন না। কীভাবে গড়ে উঠবে স্বপ্নের ‘সিঙ্গাপুর’, কবে হবে দৃশ্যমান, এর ভিতরের রহস্যটাই কী—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. তারিকুল হক বলেন, সিঙ্গাপুর এক দিনে এমন হয়নি। একসময় মালয়েশিয়া তাদের বের করে দিয়েছে। তাদের নেতা লি কুয়ানের অদম্য প্রচেষ্টায় সিঙ্গাপুর আজ এ অবস্থায়। মাত্র ৭৩০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সিঙ্গাপুর এখন সারা বিশ্বে উজ্জ্বল। তিনি বলেন, পায়রা বন্দর, পদ্মা সেতু হচ্ছে, লেবুখালীতে হচ্ছে সেতু এবং সেনানিবাস, কলাপাড়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা-পায়রা ফোর লেন ও রেললাইন প্রক্রিয়াধীন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পায়রা বন্দর হবে অন্যতম। এখানে জমির মূল্য কম। রয়েছে সস্তা শ্রম। ২০২১ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর কানেকশন হয়ে গেলে এর পরই শুরু হবে ইন্ডাস্ট্রি। সময়ের প্রয়োজনে দ্রুত চোখে পড়বে আমূল পরিবর্তন। সব দিকের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে গ্রেটার বরিশাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্যুরিস্ট হাব, কমার্শিয়াল হাব এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাবে পরিণত হবে বলে মনে করেন জাইকার একটি প্রকল্পের পরামর্শক প্রকৌশলী তারিকুল হক। প্রকৌশলী তারিকুল হক আরও বলেন, মিল-ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠতে প্রথমেই ট্রান্সপোর্টেশন (পরিবহন) প্রয়োজন। সবচেয়ে সহজ এবং সাশ্রয়ী হচ্ছে নৌ, রেল ও সড়কপথ। আকাশপথ এক্সপেনসিভ হলেও বরিশালে সব ধরনের যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকায় ঢাকা থেকে বরিশাল এবং পায়রা বন্দর পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে কোনো আনসোল্ড জমি নেই। তার মতে, গুরুত্ব বুঝে উদ্যোক্তারা দক্ষিণাঞ্চলে জমি কেনায় ইতিমধ্যে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন। এখন অপেক্ষা অবকাঠামোর। সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, এখনো দক্ষিণের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কৃষি-অর্থনীতির উন্নয়নে কৃষির বৈচিত্র্যকরণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির প্রয়োগ, নদীভাঙন রোধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, লবণপানির প্রভাব মোকাবিলা, স্বল্প সুদে কৃষিঋণ এবং বাজারজাতকরণের জন্য প্রচুর অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। কৃষি ছাড়াও দক্ষিণে এখন শিল্পায়নের বিশাল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ আক্তারুজ্জামান। তার মতে, পূর্বে ভোলার গ্যাস, পশ্চিমে মোংলা বন্দর, উত্তরে পদ্মা সেতু আর দক্ষিণে পায়রা বন্দর-কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত—এই পাঁচের সম্মিলনে মাত্র কয়েক বছরেই জেগে উঠছে ‘দক্ষিণাঞ্চল’। দক্ষিণে সস্তা শ্রম, অবরিত জমি, কম খরচে নৌপরিবহনসহ সড়কপথেও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্যাপক শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। অপসোনিনসহ অনেকেই ইতিমধ্যে শিল্প সম্প্রসারণ করেছে। উদ্যোগী হয়েছেন অনেকে। শিল্প করার জন্য সম্প্রতি পায়রা সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি জমি দেখতে গিয়েছিলেন বিএনপির সিনিয়র এক নেতা। বরিশালের সন্তান ওই নেতাসহ তার এক বন্ধুর একসঙ্গে শিল্প করার পরিকল্পনা রয়েছে সেখানে। বিরোধিতার স্বার্থে কার্পণ্য না করে ওই নেতা বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দর হবে ‘ভায়াব্ল’। এখান দিয়ে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট দ্রুত হবে। ঢাকার সঙ্গে সহজ হবে নৌ, সড়ক, রেল ও আকাশপথের যোগাযোগ। তাই বন্দরের কাছাকাছি শিল্পের জন্য জমি চাই তাদের। যারা সারাক্ষণ সরকারের সমালোচনায় ব্যস্ত, তারাও এক বাক্যে স্বীকার করছেন বরিশালের বদলে যাওয়ার গল্প।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. সাইদুর রহমান রিন্টুর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুর বনে যাওয়া সম্পর্কে। তিনি বলেন, পায়রা বন্দরের কাজ চলছে। পদ্মা সেতুর চলমান। ফোর লেন অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পায়রা-কুয়াকাটা পর্যন্ত সব সেতু হয়ে গেছে (লেবুখালীর কাজ চলমান)। নৌ যোগাযোগের উত্তম ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ভোলার গ্যাস আসছে। কলাপাড়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে। লেবুখালীতে হচ্ছে সেনানিবাস। পদ্মার এপার হচ্ছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বরিশালের চরমেঘায় হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র। কুয়াকাটা ও বরিশালে সরকারি উদ্যোগে হচ্ছে দুটি ফাইভস্টার হোটেল। চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বরিশালে ব্যাপক হারে গড়ে উঠবে শিল্প-কলকারখানা। কর্মসংস্থান হবে লাখ লাখ মানুষের। সবকিছু মিলিয়ে শিল্প, ব্যবসা আর পর্যটনের ওপর ভিত্তি করে ‘সিঙ্গাপুরে’ পরিণত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চল—এমনটাই মনে করছেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, শিল্পোদ্যোক্তা ও জনপ্রতিনিধি রিন্টু।

শুধু শিল্প আর ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, পায়রার অদূরেই রয়েছে ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। সেখানে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যায় সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়। রয়েছে দেশের বৃহত্তম প্রাচীন বৌদ্ধমন্দির, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব শরীফ বলেন, একই জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় উপভোগ করা যায় পৃথিবীর মাত্র দুটি স্থানে। এর একটি হলো কুয়াকাটা আর অন্যটি জাপান। কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত সাইট ট্যুরও এখন সময়ের ব্যাপার। কুয়াকাটা মাস্টারপ্ল্যানে রয়েছে জাতীয় ক্রিকেট ভেন্যু, দুটি স্টল এয়ারপোর্ট, মেরিন ড্রাইভসহ অনেক কিছু। এত সম্ভাবনার কুয়াকাটায় হচ্ছে ট্যুরিস্ট হাব। তবে ভাঙন থেকে কুয়াকাটা রক্ষায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ ও মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

দক্ষিণের বদলে যাওয়ার রহস্য জানতে চাইলে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। খুলনা আর চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুটি বন্দরে শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে। অর্থনীতিতে ওই দুই অঞ্চল অনেক সমৃদ্ধ। এই দুই বিভাগের মাঝে বরিশালের (ছয় জেলা) সঙ্গে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, বাগেরহাট এত দিন ছিল পিছিয়ে। এ অঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর, ফোর লেন, রেললাইন, লেবুখালীতে সেতু ও সেনানিবাস, কলাপাড়ায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, হিজলায় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পদ্মার এপারে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করছেন। পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের উন্নয়নে এতগুলো মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তার দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। এটাই বদলে যাওয়ার ভিতরের ‘রহস্য’ বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট দুলাল। আগামী কয়েক বছরে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছলে দক্ষিণাঞ্চলে ‘সিঙ্গাপুরের’ চেহারাই ফুটে উঠবে এমন স্বপ্ন দেখেন তিনি।

এক অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১০ সালে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিল ৩১.৫ শতাংশ। অথচ ওই বছর বরিশাল বিভাগে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩৯.৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪.৪ ভাগ এবং বরিশালের দারিদ্র্যের হার ছিল ২৬.৫ ভাগ। অর্থাৎ পিছিয়ে থাকলেও বরিশালে দ্রুত কমছে দারিদ্র্যের হার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বরিশালে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত কমছে দারিদ্র্যের হার। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে ১০ বছরের মধ্যে বরিশাল বিভাগের দারিদ্র্যের হার ১৫-১৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা।

অর্থনীতির শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামানের মতে, ‘সিঙ্গাপুর হচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আমতলী উপজেলার চেয়েও আয়তনে ছোট। এত ছোট একটা দেশ সমুদ্রবন্দর, পর্যটন আর মেডিকেল সার্ভিসের ওপর ভর করে ধনী রাষ্ট্র হতে পারলে আমরা (দক্ষিণাঞ্চল) কেন পারব না?’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাবাকে নিয়ে স্বপ্নটা পূরণ হলো না বাচ্চুর

বিনোদনের খবর: ৩৪৪ জুবিলী রোড, নুরুজ্জামান সওদাগরের বাড়ি। চট্টগ্রাম নগরের এনায়েত বাজার এলাকার তিনতলার ভবনটির গায়ে শেওলা জমেছে। বিভিন্ন জায়গায় জন্মেছে পরগাছা। দীর্ঘদিন রং না করায় এখন বিবর্ণ। হঠাৎ করে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ভবনটিতে দর্শনার্থীর আনাগোনা বেড়ে যায়। একের পর এক আসতে থাকে সাংবাদিকের গাড়ি।
এই বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ফিরিঙ্গিবাজারের হাজী নুরুজ্জামান আবাসিক এলাকার ‘হাজী বিল্ডিং’ ও ‘সখিনা ম্যানশন’। সেখানেও একই চিত্র। চট্টগ্রাম নগরের তিন ভবনে এখন শোকের ছায়া। কারণ এই ভবনগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর বেড়ে ওঠার স্মৃতি। এসব ভবনের বাসিন্দারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁদের প্রিয় ‘বাচ্চু’ আর নেই।

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শুধু গানের জগতে কিংবা গায়কের শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি। গিটারিস্টদের জগতে বিশাল একটি শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ছিলেন এই উপমহাদেশের অন্যতম সেরা গিটারিস্টদের একজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথম আলোকে এ কথা বলেন দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড সোলসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ নেওয়াজ। তাঁর হাত ধরেই সোলসে এসেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। সময় তখন ১৯৮২ সাল। সেদিনের কথা স্মৃতিচারণা করে আহমেদ নেওয়াজ বলেন, ১৯৭৩-৭৪ সালে সোলসের যাত্রা শুরু হয়। শুরুর দিকে ভালোই চলছিল। কিন্তু ১৯৮২ সালের দিকে সংকটে পড়ে সোলস। এই সংকট ছিল গিটারিস্টের। ওই সময়ে শুনতে পান আইয়ুব বাচ্চুর কথা। নগরের দেওয়ানহাট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কথা হলে তাঁকে সোলসে যোগ দিতে বলা হয়। এরপর গিটারিস্ট হিসেবে সোলসে যোগ দেন তিনি। বাচ্চু যোগ দেওয়ার পর সোলসের গানের ধরন পাল্টে যায় বলে মন্তব্য করেন আহমেদ নেওয়াজ। তিনি বলেন, ‘আমরা বিকেলে সবাই দুই-তিন ঘণ্টা প্র্যাকটিস (অনুশীলন) করতাম। কিন্তু বাচ্চু রাত দুই-তিনটা পর্যন্ত প্র্যাকটিস করতেন।’
সংগীতের প্রতি আইয়ুব বাচ্চুর সাধনা অন্য রকম ছিল মন্তব্য করেন ছোটবেলার বন্ধু চিটাগং মিউজিক্যাল ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী। বাচ্চু এশিয়া উপমহাদেশের সেরা ১০ গিটারিস্টের একজন উল্লেখ করে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ফুটবল-ক্রিকেট খেলতাম না। আমাদের খেলা ছিল সংগীত নিয়ে। স্কুলের সময় ছাড়া রাত-দিন গান নিয়ে পড়ে থাকতাম। বাচ্চু তখন থেকেই দারুণ গিটার বাজাতেন। স্কুলে থাকার সময় বাচ্চু বিশ্বের বড় বড় শিল্পীদের ক্যাসেট জোগাড় করতেন, তা রপ্ত করতেন। পরে গিটারে তুলতেন।’

১৯৮২ সালে সোলসে যোগ দেওয়ার আগে লালখান বাজার এলাকায় জ্যাকব ডায়েসের প্রতিষ্ঠিত স্পাইডার ব্যান্ডে গিটারিস্ট হিসেবে ছিলেন বলে জানান সোলসের তৎকালীন ড্রামার সুব্রত বড়ুয়া রনি। তিনি প্রথম আলোক বলেন, বাচ্চু সেরা গিটারিস্ট ছিল। সে শুধু গিটারই বাজাত না। গানও লিখত। নিজেই সুর দিত। বাচ্চু আসার পর সোলসের গানের স্টাইলই চেঞ্জ হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছে বাচ্চু।

ব্যান্ড জগতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন এই সময়ের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল তিরন্দাজের ভোকাল শান শাহেদ। হঠাৎ মৃত্যু এখনো মেনে নিতে পারছেন না এই তরুণ শিল্পী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাচ্চু ভাই আমাদের বলতেন, তোমাদের নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন আছে। সংগীত নিয়ে তোমরা যাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারো, সে জন্য কাজ করছি। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক, পরিবারের সদস্য। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ হওয়া কঠিন।’
এক মাস আগে ঢাকায় আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে সরাসরি দেখা হয় ছোট বোন আফরিন মুন্নীর স্বামী ওমর উদ্দিন আনসারির। সপ্তাহখানেক আগে মুঠোফোনে শরীরের খোঁজখবর নেন তিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে মুঠোফোনে যে খবরটি শোনেন, তার জন্য একদম প্রস্তুত ছিলেন না ওমর উদ্দিন। ‘বাচ্চু ভাই আর নেই’ শোনার সঙ্গে সঙ্গে ফিরিঙ্গিবাজারের সখিনা ম্যানশনে কান্নার রোল ওঠে। বোন মুন্নীর আহাজারিতে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না শোকাহত অন্য সদস্যরা।

বাসায় থাকলেও বড় ছেলের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়নি বাবা মোহাম্মদ ইছহাককে। বিকেলে ওমর উদ্দিন আনসারি বলেন, ‘সকালে সবাই মিলে নাশতা করতে বসছিলাম। ঠিক ওই সময় খবরটি পাই। এ ধরনের খবর আসবে তা কল্পনা করিনি। এটি আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য সংবাদ।’ তিনি জানান, চৈতন্যগলির কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে বাচ্চুকে কবর দেওয়া হবে।

আইয়ুব বাচ্চুর জীবনের একটি অংশ কেটেছিল নুরুজ্জামান আবাসিক এলাকার হাজী বিল্ডিংয়ের তিনতলায়। সেখানে ভাইবোনদের নিয়ে বসবাস করতেন বাবা। এখন সেখানে ভাড়াটে থাকেন। এই ভবনের নিচতলায় থাকেন ফুফাতো ভাই হাসান রিয়াদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৩ অক্টোবর চট্টগ্রামের জিইসি কনভেনশনে প্রোগ্রাম ছিল ভাইয়ার (আইয়ুব বাচ্চুর)। অনুষ্ঠান শেষ করেই ফোন দেন। অ্যাভিনিউ হোটেলে খেতে আসতে বলেন। ব্যস্ততার জন্য যেতে পারিনি। এখন মনে হচ্ছে কেন সেদিন গেলাম না। গেলে অন্তত ভাইয়ার সঙ্গে শেষ দেখা হতো। নিজের ওপর এখন রাগ হচ্ছে।’

এনায়েত বাজারের বাড়িটিতেই জন্মেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। এখন আর পরিবারের কেউ থাকেন না এই ভবনে। বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। মেসও আছে সেখানে। আছে গুদামঘর ও দোকান। এই ভবনের একটি কক্ষে ১৩ বছর ধরে ভাড়া থাকেন রাজা মিয়া। গিটারিস্ট বাচ্চুর চেয়ে গায়ক বাচ্চু তাঁর কাছে অধিক প্রিয়। তিনি বলেন, ‘একসময় যখনই আইয়ুব বাচ্চুর ক্যাসেট বের হতো, তা সংগ্রহ করতাম, আর শুনতাম। তাঁকে আমরা বাড়ির মালিকের চেয়ে গায়ক হিসেবে বেশি চিনি। একসময় বছরে অন্তত একবার হলেও আসতেন। তবে ২০১২ সালের পর থেকে সেভাবে আসতেন না।’

প্রায় দুই মাস আগে এক দুপুরে চট্টগ্রাম এসে দেখা করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে। পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে চলে বিভিন্ন খুনসুটি। আলাপের একপর্যায়ে মেয়রকে জানান, চট্টগ্রাম নগরের পছন্দনীয় এলাকায় মনের মতো বাড়ি করার স্বপ্ন রয়েছে। বাবাকে এনে রাখবেন সে বাড়িতে। আর ঢাকা থেকে আসা-যাওয়া করবেন। সংগীতজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর একেবারেই চট্টগ্রামে চলে আসবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। সে দিনের স্মৃতিচারণায় আক্ষেপ করে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘স্বপ্নটা পূরণ হওয়ার আগেই হুট করে চলে গেল বাচ্চু। এটি ভেবে খারাপ লাগছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্বাচনের আগে সাত হাজার বন্দীর মুক্তি

অনলাইন ডেস্ক: লঘু অপরাধে কারাগারে আটক বন্দীদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি বন্দী থাকায় চাপ কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বয়স্ক, অসুস্থ ও সাজার মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে আসা বন্দীরাও মুক্তি পাবেন। সব মিলিয়ে ৭ হাজার ৪০১ জন বন্দীকে মুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
এমনকি মাদক মামলায় কারাগারে আটক ২৭ হাজার ৪১৫ জন বন্দীর (সাজা হয়নি এখনো) বড় একটি অংশকেই মুক্তি দিতে চায় সরকার। যদিও দেশজুড়ে এখন মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই বন্দীদের বেশির ভাগ মাদকের বাহক হিসেবে ধরা পড়েছিলেন। তাঁরা বড় অপরাধী নন। তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষীও পাওয়া যাচ্ছে না।

এভাবে বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার সরকারি প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাঁরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে কারাগার খালি করে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ঢোকাতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, কোনো নীতিমালা বা প্রজ্ঞাপন জারি না করে নির্বাচনের আগে এভাবে বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক। সরকারের এই উদ্যোগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে বিরোধী মতের রাজনৈতিক কর্মীদের কারাগারে যাতে রাখা যায়, সে ব্যবস্থাই সরকার করতে যাচ্ছে—এমন সন্দেহ মানুষের মনে জাগবে।

কারা কর্মকর্তারা বলছেন, চুরি, ছিনতাই, মাদক বহনের ঘটনায় আটক বন্দীদের অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সাক্ষীর অভাবে বিচার শেষ হচ্ছে না। আবার শাস্তির মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন কিন্তু বিচার শেষ হয়নি—এমন বন্দীরা জেল সুপারের কাছে অন্যায় স্বীকার করে আবেদন করেছেন। এসব আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁদের মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।

কেন এ উদ্যোগ নেওয়া হলো—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে কারাগারে বন্দীর চাপ কমানো। কারাগারে ৩৬ হাজার ৬১৪ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু আসামির সংখ্যা প্রায় ৯২ হাজার। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই লঘু অপরাধে আটক আছেন। সাক্ষীর অভাবে বিচার হচ্ছে না। বিচারাধীন মামলার এসব আসামির মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করছে। দেশের সব কারাগারে এমনভাবে যাঁরা বিনা বিচারে তিন বছর পর্যন্ত আটক আছেন, তাঁদের এই প্রক্রিয়ায় মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কারাগারে বন্দীর সংখ্যা কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত মাসে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১৪২ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৩৬ জন মামলা থেকে অব্যাহতি ও ১০৬ জন বিভিন্ন মেয়াদে জামিনে মুক্তি পান।

সাধারণত প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং দুই ঈদের আগে কিছু বন্দীকে (লঘু অপরাধ এবং কারাগারে শৃঙ্খলা মেনে চলা) মুক্তি দিতে বিভিন্ন কারাগার থেকে একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় সেই তালিকা সুপারিশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠায়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ওই বন্দীরা ক্ষমা পান। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি যেকোনো আদালতের দেওয়া দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা কমাতে পারেন।

আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, সরকারের এ ধরনের উদ্যোগের ফলে জনমনে যেন বিচারব্যবস্থা নিয়ে আস্থাহীনতার পরিবেশ তৈরি না হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে। আসামির নাম, অভিযোগের ধারা ও কারাবাসের সময় প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট আসামিকে মুক্তি দিতে হবে, না হয় জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হবে। জনগণ ভাববে সরকার রাজনৈতিক বা অন্যায় উদ্দেশ্যে এসব করছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ধর্ষিতার বাবার সামনেই কার্যকর হলো ধর্ষকের ফাঁসি

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের দিল্লিতে গণধর্ষণ কাণ্ডের এত বছর পরেও ফাঁসির সাজা কার্যকর করা হল না। কিন্তু ভারতের থেকে সব দিক থেকে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান কিন্তু দেখিয়ে দিল কীভাবে ধর্ষকদের নজিরবিহীন ফাঁসির সাজা দেওয়া যায়।
গত বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় পাকিস্তানে ধর্ষিতার বাবার সামনেই ধর্ষককে ফাঁসি দেওয়া হলো। পাকিস্তানের লাহোরের কোট লকপত জেলে ফাঁসি হল সাত বছরের জিনাব আনসারির ধর্ষক ইমরান আলির। জিনাবকে ধর্ষণ করে খুন করেছিল ইমরান। জিনাবেব বাবা দাবি করেছিলেন, তার সামনে ফাঁসি দেওয়া হোক তার মেয়ের ধর্ষককে। সে ইচ্ছে পূরণ করেছে পাকিস্তান আদালত।
ইমরানকে ফাঁসিতে ঝোলানোর আগেরদিন রাতে লাহোরের জেল কর্তৃপক্ষ জিনাবের বাবার সঙ্গে ৪৫ মিনিটের বৈঠক করেন। তারপরেই বুধবার ভোরে ম্যাজিস্ট্রেট আদিল সরওয়ার, জেনাবের বাবা মহম্মদ আমিনের উপস্থিতিতে ফাঁসি দেওয়া হয় ধর্ষক ইরানকে।
জেলের মধ্যে ফাঁসি দেওয়ার সময় ইমরানের বড় ভাই এবং তার দুই বন্ধুকেও অ্যাম্বুলেন্সে করে আনা হয়েছিল জেলের ভেতরে। সকলের উপস্থিতিতেই সাজা কার্যকর করা হয়। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের অ্যান্টি টেরোরিস্ট কোর্ট ইমারানকে ২১ বার ফাঁসি এবং ২৩ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র

বিদেশের খবর: মার্কিন ধর্মযাজককে মুক্তি দেওয়া নিয়ে তুরস্কের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। যাজক ব্রানসনকে মুক্তি দেওয়ার কয়েকদিন পর এই কথা বললেন পম্পেও।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে স্বল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাথে আলোচনার পর বুধবার এই মন্তব্য করেন মাইক পম্পেও। সৌদি সাংবাদিক কামাল খাশোগির নিখোঁজ এবং খুনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনার জন্য তুরস্কে আকস্মিক সফর করলেন মাইক পম্পেও। তিনি বলেন, ব্রানসনকে মুক্তি দেওয়ার পর তাকে নিয়ে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আর রাখার যৌক্তিকতা নেই।
বুধবার পম্পেওর সাথে সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসগলু। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওর সাথে এব্যাপারে কোনো আলোচনা না করলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অযৌক্তিক বলেন তিনি। মেভলুত বলেন আমাদের সম্পর্কের মাঝে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত নয়। নিষেধাজ্ঞা থাকলে সম্পর্ক অগ্রসর হতে পারে না।
সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মার্কিন যাজক ব্রানসনকে গ্রেফতার এবং বিচারের কারণে তুর্কি বিচারমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার কারণে তুরস্কের মুদ্রার দাম অনেকখানি নেমে যায়। মাইক পম্পেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা বলার পর মুদ্রার দাম বাড়তে শুরু করেছে।-আল জাজিরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাবিতে ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম হওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন সেই শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটের অধীনে প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় গত ১৬ অক্টোবর। এতে পাস করেছে ২৬.২১%। তবে ভর্তি পরীক্ষার আগে বৃহস্পতিবার রাতে এই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবরও প্রকাশিত হয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।
এদিকে, ফল প্রকাশের পরই প্রশ্ন ফাঁসের দাবি আরও জোরালো হয়। কেননা, প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের মধ্যেই এ ইউনিটে রেকর্ড নম্বর পেয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় হয়েছেন তাসনিম বিন আলম ও জিহাদ হাসান আকাশ নামে দুই ছাত্র।

অবাক করার বিষয় হল, জিহাদ নিজের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিট ও তাসনিম বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটে ফেল করেছিলেন।
জিহাদ ‘গ’ ইউনিটে পেয়েছেন ৩৪ দশমিক ৩২ নম্বর। বাংলায় পেয়েছিলেন ১০.৮ ইংরেজিতে পেয়েছিলেন ২.৪০, হিসাব বিজ্ঞানে ৫ দশমিক ২৮, ব্যবসায় নীতিতে ৬ দশমিক ৭২ এবং ফিন্যান্সে ৯ দশমিক ৮৪।
অথচ সে ‘ঘ’ ইউনিটে পেয়েছেন ১২০ নম্বরে পেয়েছেন ১১৪ দশমিক ৩০। বাংলায় ৩০-এর মধ্যে ৩০, ইংরেজিতে ৩০-এর মধ্যে ২৭.৩০, সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ২৮ দশমিক ৩০ এবং আন্তর্জাতিকে ২৫ দশমিক ৫০।

অন্যদিকে, তাসনিম বিন আলম বিজ্ঞান শাখার তার নিজের অনুষদ ক ইউনিটের পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের মধ্যে ৪৩.৭৫ পেয়ে ফেল করেছিলেন। পরে ‘ঘ’ ইউনিটে ১২০ নম্বরের মধ্যে ১০৯.৫০ পেয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকার বিজ্ঞান শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।
আর যে কারণে প্রশ্ন পত্র ফাঁসের বিষয়টি সবার নজরে এসেছে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ‘ঘ’ ইউনিটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, কেবল ফল প্রকাশ হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীরা এলে তাদের বিষয়ে তদন্ত ও যাচাই শেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কারও মেধা নিয়ে আমরা প্রশ্ন করতে পারি না। তবে কাউকে সন্দেহ হলে ডিন তাদের ব্যাপারে পুনরায় যাচাই করতে পারেন।

এদিকে, মিডিয়ায় যখন ওই দুই শিক্ষার্থীর রেকর্ড করা রেজাল্ট নিয়ে লেখা লেখি হচ্ছে তখনি বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করা শিক্ষার্থী তাসনীম বিন আলম।

বিষয়টি নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বছরের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০৯.৫ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকারী। কিন্তু আমি ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪৩.৭৫ নম্বর পেয়েছিলাম।’

তিনি জানান, ‘কলেজের প্রথম বর্ষ থেকেই আমার ‘ঘ’ ইউনিটে ইকোনমিকস নিয়ে পড়ার ইচ্ছা। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরের পুরোটা সময় আমি ‘ঘ’ ইউনিটের জন্যই প্রস্তুতি নিয়েছি। সেই সময়ে এমনকি ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষার আগমুহূর্তেও আমি বিজ্ঞান বিভাগের কোন বই পড়িনি। ‘ক’ ইউনিটের ফরম আমি তুলেছিলাম মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার একটা প্র্যাকটিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স অর্জনের জন্য, যাতে করে ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় আমার নার্ভাসনেস কাজ না করে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোথাও বিজ্ঞান-সম্পর্কিত ইউনিটের ফরম তুলিনি।’

তাসনীম আলম বলেন, ‘আমি একটি বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষায় আমি চতুর্থ বিষয় জীববিজ্ঞানের বদলে বাংলা উত্তর করি এবং যেখানে আমার মোট নম্বর ছিল ৪৩.৭৫। সেখানে বাংলাতেই আমি পেয়েছিলাম ২১.৭৫ নম্বর। কেননা আমি ‘ঘ’ ইউনিটের প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম এবং বাংলা তুলনামূলকভাবে ভালো পড়া ছিল।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ভাল করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায়ও আমি ছেলেদের মধ্যে পঞ্চম স্থান অর্জন করি। সেখানে এই ইউনিটেও ইকোনমিকস আছে, যে বিষয়ে আমার পড়ার ইচ্ছা। তবে আমি জাহাঙ্গীরনগরে হয়ে যাওয়া বিজ্ঞান-সম্পর্কিত অন্যান্য অনুষদের ফরম আমি তুলিনি, পরীক্ষা দিইনি।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমার ‘ক’ ইউনিটে ফেল করেও ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।’

‘বিষয়টি নিয়ে আমি বলতে চাই, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর থেকে আমি শুধু ‘ঘ’ ইউনিটের প্রস্তুতিই নিয়েছি। ‘ক’ ইউনিটের জন্য তিলমাত্র প্রস্তুতি নিইনি। তাই ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষায় খারাপ করলেও, আমি ‘ঘ’ ইউনিটে ভালো ফলাফল পেয়েছি।’
তাসনীম আলম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় আমার বাংলায় ৩০-এ ২১.৭৫ পাওয়া, আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষায় পঞ্চম হওয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান-সম্পর্কিত অনুষদের ফরম না তোলা আমার ‘ঘ’ ইউনিটের প্রস্তুতি এবং তাতে ভালো করার পক্ষে যথেষ্ট সমর্থন দেয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে গত মঙ্গলবার সৌদি আরব পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরের তিনি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং রাজকীয় প্রাসাদে মাধ্যহ্ন ভোজে অংশ নেন। একই দিন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিন দিনের সফর শেষে সৌদি আরব থেকে শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে মক্কার এশার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা ওমরাহ পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার এ সফরে গত বুধবার রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবনও উদ্বোধন করেন। এছাড়া সৌদি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন সৌদি যুবরাজ, উপ-প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ। তিনি এ উন্নয়নের অংশীদার হতে চান।
স্থানীয় সময় বুধবার সৌদি আরব সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সৌদি যুবরাজকে উদ্ধৃতি করে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সালমান তাঁর কর্মকর্তাদের বাংলাদেশকে দেখে আসা এবং বাংলাদেশে উন্নয়নের কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ পাঠানোর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন যুবরাজকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, তখন তিনি (যুবরাজ) অত্যন্ত উষ্ণতার সঙ্গে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বলেন, আমি শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করব।
শেখ হাসিনা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমরা আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ করব না, বরং আমরা আমাদের যে কোনো সমস্যা নিজেরাই সমাধান করব।
প্রধানমন্ত্রী যখন জানান, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি ৬ বার সৌদি আরব সফর করেছেন, তখন সৌদি যুবরাজ তাঁকে (শেখ হাসিনা) ‘হাফ সৌদি’ বলে বর্ণনা করেন। ‘এটিও আপনার বাড়ি’ একথা উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, আপনি অনেক বার সৌদি আরব সফর করেছেন, তাই আপনি ‘হাফ সৌদি’ হয়ে গেছেন।
মুসলিম উম্মাহর মধ্যে শান্তি বজায় রাখা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে যুবরাজ বলেন, আমরাও এটা চাই এবং আমরা সবাই একত্রে শান্তিতে বসবাস ও উন্নয়ন করতে চাই।
যুবরাজ বলেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের চমৎকার সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরো তা বৃদ্ধি পাবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সালমানের বৈঠকে মূলতঃ দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। এর একটি হচ্ছে- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং অপরটি হচ্ছে- প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়।
হক বলেন, -আমরা আশা করছি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সৌদির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল খুব শিগগির বাংলাদেশ সফর করবেন এবং দেশটি বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগ করবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
থামছে না ইলিশ ধরা, পৌঁছেনি সরকারি সহায়তা

অনলাইন ডেস্ক: মা ইলিশ সংরক্ষণে চলমান অভিযানে একদিকে যেমন ইলিশ শিকার বন্ধ হয়নি তদ্রুপ জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তাও এখনো পুরোপুরি পায়নি জেলেরা। ফলে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের প্রথম সপ্তাহ দোটানার মধ্য দিয়ে পার হল। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সমুদ্র ও নদীতে গত ৭ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।
শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মা ইলিশ শিকারের দায়ে প্রথম ১০ দিনে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৩’শ ৯০ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ পর্যন্ত ৫ লাখ ২৭ হাজার ৯ শত টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং ৩ হাজার ২০০ কেজি ইলিশ ও প্রায় ১৪ লক্ষ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিভাগীয় মৎস অফিসের সহকারী পরিচালক আজিজুর রহমান।
তিনি জানান, গত ৭ অক্টোবর থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় মৎস অধিদপ্তরের নেতৃত্বে মোট ৮০২ টি অভিযান ও ৪৩১ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। যার অনুকূলে ৩৪৪ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
যদিও সরকার থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল অভিযান শুরুর পর থেকেই সহায়তা করা হবে জেলেদের। এবার চাল বরাদ্দ পেতে সারাদেশে তিন লাখ ৯৫ হাজার ৭০৯ কার্ডধারী জেলে তালিকাভুক্ত করা হয়। যার মধ্যে বরিশাল বিভাগে তালিকাভুক্ত তিন লাখ ৫১ হাজার ৩০৪ জেলের নাম ছিল। আর তাদের মধ্যে চাল পাবেন দুই লাখ ২৭ হাজার ৯৪৩ জন।

কিন্তু অভিযান শুরু হওয়ার পর ১০ দিন অতিবাহিত হলেও সহায়তার চাল পৌঁছেনি বরিশাল বিভাগের সমস্ত উপজেলার জেলেদের কাছে। কয়েকটি উপজেলায় চাল দেওযা শুরু করলেও তাতে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন জেলেরা।
মূলত, প্রান্তিক জেলেদের সহায়তায় সরকারিভাবে ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। নিষেধাজ্ঞা শুরুর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই জেলে পরিবারগুলোতে চাল বিতরণের সরকারি নির্দেশনা ছিল। কয়েক বছর ধরেই অভিযোগ উঠেছে যে, যথাসময়ে চাল পান না জেলেরা। আবার শেষ সময়ে পাওয়া গেলেও ২০ কেজির পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১৫ কেজি চাল দেওয়া হয় তাদের। এর কারণ জানতে চাইলে চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা একাধিক জনপ্রতিনিধি (ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র) বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই তারা চাল বিতরণ শুরু করবেন।

এদিকে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রজননকালে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা তাদের দায়িত্ব। আর ত্রাণ বিতরণের বিষয়টি রয়েছে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা পালনে জেলেদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের সহায়তা হিসেবে তিন বছর ধরে প্রত্যেক জেলে পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই প্রান্তিক জেলেদের কাছে চাল পৌঁছাতে না পারলে বিতরণের আসল উদ্দেশ্যে ব্যাহত হয়। তবে বিষয়টির সঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্পৃক্ততা না থাকায় তারা এক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ড. ওয়াহেদুজ্জামানের দাবি, কিছু কিছু জায়গায় চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। যারা করেননি, তারা চলতি সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ শুরু করবেন।

এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জেলেদের সংগঠন জাতীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, এবার নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া চলছে। ফলে বেকার জেলেরা অন্য কোনো কাজও করতে পারছেন না। এমন অভাব-অনটনের মধ্যে ঠিক সময়ে চাল দেওয়াটা জরুরি। না দিলে জেলেরা পেটের তাগিদে নদীতে নামবে-এটাই স্বাভাবিক। এই নেতা মনে করেন, শুধু জেল-জরিমানা করে মা ইলিশ শিকার বন্ধ করা সম্ভব নয়। দরকার সরকারী সুবিধা বৃদ্ধি ও সুষম বন্টন করা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest