সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় তারেক রহমানের ৮ দফার লিফলেট ছড়িয়ে দিল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’সাতক্ষীরায় রাইচ মিলের কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে অতীষ্ট এলাকাবাসী: ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সড়ক অবরোধপ্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদসাতক্ষীরায় মাদক এবং মাদক বিক্রির অবৈধ টাকাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারতালায় বাস মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিতআশাশুনিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলার তদন্তে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারদেবহাটায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের মতবিনিময়৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়াসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা

ডিসি, এসপি ও ইউএনও পদে বড় ধরনের রদবদল আসছে

দেশের খবর: জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশা-সনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে রদবদলের পরিকল্পনা নিয়ে সরকারে কাজ চলছে। এই রদবদল স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন। সূত্র বলছে, রদবদলের প্রক্রিয়ায় মূলত আগামী নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত মাঠ প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত থাকেন সেসব কর্মকর্তার পদে ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নিয়োগ-বদলি-পদোন্নতি) হারুন অর রশিদ বলেন, রদবদল পরিকল্পনা আছে। তবে এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে আছেন, বদলির সময় হয়েছে বা কেউ যদি এলাকায় বিতর্কিত হয়ে পড়েন, এমন কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে রদবদল করা হয়ে থাকে।

প্রসঙ্গত, অতীতেও সব নির্বাচনের আগে, সব সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কিছুু পদে রদবদল করা হয়েছে।

জানা গেছে, ৪৯৫টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম এবং তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ইতোমধ্যে যাচাই বাছাই করা হয়েছে। কিছু কিছু ওসির জীবন বৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকদের বিষয়টিও বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কিছু কর্মকর্তা প্রত্যাহার ও কিছু নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে এ পরিকল্পার বিপক্ষেও মতামত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন নির্বাচনের মাত্র দুই মাস বাকি থাকতে এমন করা হলে নতুন কারো পক্ষে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরিবেশ বুঝে কাজ করা কঠিন হতে পারে। পাশাপাশি রদবদলের প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্থিরতাও তৈরি হতে পারে।

অবশ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মাঠ পর্যায়ে কিছু কর্মকর্তার পদে রদবদল হবে। সেটি কবে নাগাদ শুরু হবে বা কাদেরকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া বা প্রত্যাহার করা হবে সেটি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বর্তমান সংসদের অনেক এমপি যারা আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন এমন কেউ কেউ ইউএনও-ওসি বদলের চেষ্টায় বেশ তত্পর রয়েছেন। অনেক এমপিকে ফোনে বা সশরীরে এসে তদ্বির করতেও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ না করে কারো কথায় কিছু এখন পর্যন্ত করেনি, করবে বলে আশ্বাসও দিচ্ছে না। অনেকটাই পেশাদারিত্ব দেখিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র বলছে, কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তা প্রমাণিত না হলে কারো কথায় বা সুপারিশে কাউকে পদায়ন ও বদলি করা হবে না। তবে যেসব সুপারিশ আসছে সেগুলো নিজেদের মতো করে তারা পর্যালোচনা করছেন। নির্বাচনী সুবিধা পাওয়ার আশায় কোনো সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে না বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে যেসব কর্মকর্তা অতিমাত্রায় অপ্রয়োজনে দলীয় কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন তাদের বিষয়টি শৃঙ্খলাভঙের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা হবে।

সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন যদি কোনো কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেয় সেক্ষেত্রে যাতে তাত্ক্ষণিকভাবে ওই আদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, সেজন্য উপযুক্ত কর্মকর্তার তালিকাও প্রস্তুত করে রাখার কাজ চলছে। পাশাপাশি নির্বাচনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পর্যবেক্ষণ টিমের কর্মকর্তাদের তালিকাও প্রণয়নের কাজ চলছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, সংবিধান অনুযায়ী ইসি যে কোনো কর্মকর্তার প্রত্যাহার চাইতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারের জন্য সে আদেশ পালনের আবশ্যকতা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ

খেলার খবর: ফাইনালের একদিন আগে সংবাদ সম্মেলনেই মালদ্বীপের কোচ পিটার সেগার্ট বলেছিলেন, ‘ফাইনালে একটি সেনসেশন অপেক্ষা করছে।’ সত্যিই তার দল সেনসেশনটা দেখিয়ে দিল। দক্ষিণ এশিয়ার ফটুবল পরাশক্তি হয়ে উঠা ভারতের দম্ভ চূর্ণ করে দিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো সাফের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে মালদ্বীপ।

আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। ২-১ গোলের দারুণ এক জয় তুলে নিয়ে এক দশক পর সাফের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করল তারা। প্রথমবার তারা সাফের শিরোপা জয় করেছিল ২০০৮ সালে। সেবারও ফাইনালে এই ভারতকেই পরাজিত করেছিল ১-০ গোলে।

সাফের শুরুতে মালদ্বীপের পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। তাদের পারফর্ম্যান্স দেখে হতাশ ছিলেন খোদ সমর্থকরাই। কেউ বিশ্বাসই করেননি মালদ্বীপ সাফের ফাইনাল খেলবে। কারণ গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল। এরপর ভারতের কাছেই ২-০ গোলে হারের লজ্জা পেতে হয় তাদেল। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান সমান হওয়ায় টস ভাগ্যের সহায়তা নিয়ে শেষ চারে নাম লেখায় তারা। এমন দল নিয়ে কে বাজি ধরতে চায়?

অথচ সেই দলটিই কি না সেমি ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঠিকই জ্বলে উঠল। নিজেদের খোলস থেকে বেরিয়ে শিরোপা প্রত্যাশী নেপালকে ৩-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ফাইনালের মহারণে নাম লেখায় মালদ্বীপ। আর শিরোপার মহামঞ্চে অতি আত্মবিশ্বাসী ভারতকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে ঠিকই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে তারা।

শুরুতে কোনো দলকেই দেখা যায়নি উল্লেখ করার মতো আক্রমণ রচনা করতে। ম্যাচটি ফাইনাল বিধায় হয়তো উভয় দলই কিছুটা সময় নিয়েছে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে একে অপরের অবস্থান বুঝে নেয়ার জন্য। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে প্রথম আক্রমণেই সফল হয় মালদ্বীপ। বাম প্রান্ত দিয়ে হাসান নিয়াজের বাড়িয়ে দেয়া বল নিয়ে ডি বক্সে গিয়ে ভারতীয় গোলকিপার বিশাল কাইতের মাথার উপর দিয়ে আলত টোকা দিয়ে বল জালে জড়ান মালদ্বীপের ফরোয়ার্ড মাহুদি হাসান।

তিন মিনিট পর ফের আক্রমণে যায় মালদ্বীপ। তবে এবার সতর্ক ভারতীয় ডিফেন্ডাররা বেশ দক্ষতার সঙ্গেই প্রতিহত করে মালদ্বীপের সংঘবদ্ধ আক্রমণটি। ২ মিনিট পর ডি বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রী কিক থেকে মালদ্বীপের ফরোয়ার্ড আলী ফাসির চমৎকার বাঁকানো শট নিলেও বলটি অল্পের জন্য ক্রস বার ঘেষে বাইরে চলে যায়। এরপর আবারো মধ্যমাঠে চলে যায় খেলা। ভারত গোল পরিশোধের জন্য এ সময় বেশ কয়েকটি কর্নার আদায় করলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে মালদ্বীপের অধিনায়ক আকরাম আবদুল ঘানি গুরুতর আহত হওযায় তাকে মাঠ থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে পরিবর্তিত হিসেবে নামানো হয় আহমেদ নোমানকে। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে বিপজ্জনক ফাউলের কারণে বরং হলুদ কার্ড দেখতে হয় ভারতীয় অধিনায়ক সুবাশিষ বোসকে।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ভারত। শুরুতেই আক্রমণে যায় তারা। তবে এসব আক্রমণগুল ছিল বিচ্ছিন্ন। পরিকল্পনার কোন ছাপ ছিলনা আক্রমণে। ফলে গোলও আসেনি।

একপর্যায়ে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টায় অল আউট খেলতে শুরু করে ভারত। আর ওই সুযোগে প্রতি আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুনে নিয়ে যায় মালদ্বীপ। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে মধ্য মাঠ থেকে হামজাদ মোহাম্মেদের বাড়িয়ে দেয়া বল ফাঁকায় পেয়ে ক্ষিপ্র গতিতে সেটি নিয়ে ভারতীয় গোল বক্সে ঢুকে পড়েন আলি ফাসির। এসময় ভারতীয় গোল কিপার এগিয়ে এলে কিছুটা আড়াআড়ি ভাবে চলন্ত বলে মাটি কামড়ানো শটে এগিয়ে দেন তিনি। বলের গতির সঙ্গে দৌঁড়ে সেটি আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন ডিফেন্ডার শার্থাক গুলুই। কিন্তু এর আগেই ঠিকানা খুঁজে নেয় বল। এ সময় আগ্রাসী উদযাপনের জন্য হলদু কার্ড দেখতে হয় মালদ্বীপের ওই ফরোয়ার্ডকে।

ম্যাচের ইনজুরি টাইমে (৯০+২) সুমিত পাসির গোলে ব্যবধান কমায় ভারত। বাম প্রান্ত থেকে নিখিলের ক্রসের বলটি একেবারেই মালদ্বীপের গোলপোস্টের সামনে পেয়ে আলতো শটে গোল করেন পাসি (২-১)। এতে ব্যবধান কমলেও হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ভারতকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মুশ‌ফি‌কের মহাক‌ব্যিক সেঞ্চু‌রি‌তে বাংলা‌দে‌শের লঙ্কা জয়

খেলার খবর: ম্যাচের শুরুতে নিশ্চয়ই অনেক দর্শক টিভির সামনে থেকে উঠে গিয়েছিলেন। কারণ বাংলাদেশের টপ অর্ডারের হতশ্রী ব্যাটিং আর তামিম ইকবালের চোট- হতাশ করে দিয়েছিল টাইগার শিবিরকে।

কিন্তু তারপর লেখা হলো রূপকথা। প্রতিরোধ গড়লেন মুশফিক-মিথুন। মুশি খেললেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। ইনিংসের শেষ দিকে দেখা গেল এক আবেগময় দৃশ্য। আঙুলে ব্যান্ডেজ নিয়ে মুশফিককে সঙ্গ দিতে নামলেন তামিম ইকবাল! চোখে জল চলে এল দর্শকদের!

৯ম উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তামিমের মতো সাহসী সঙ্গী পেয়ে ঝলসে উঠলেন মুশফিক। ১৬ বলে তুলে নিলেন ৩২ রান। তার ১৪৪ রানের ইনিংসের যোগ্য মর্যাদা দিতে বল হাতে ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠলেন মাশরাফি, মুস্তাফিজ, মিরাজরা। ব্যাটে বলে অসাধারণ পারফরমেন্স দেখিয়ে ১৩৭ রানের বিশাল জয় দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করল টিম টাইগার।

২৬২ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের শিকার হয় লঙ্কানরা।

পুঁজি লড়াকু হলেও এই স্কোর নিয়ে জয় পেতে হলে যা করা দরকার ঠিক সেই কাজটাই করে দেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা আর মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে প্রথম আঘাত হানেন মুস্তাফিজ। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন কুসল মেন্ডিস (০)। পরের ওভারে এসেই উপুল থারাঙ্গার (২৭) স্টাম্প উপড়ে দেন ম্যাশ।

ফিরতি ওভারে এসেই ০ রানে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে এলবিডাব্লিউ করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরিয়ে দেন টাইগার ক্যাপ্টেন। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করেছিলেন কুসল পেরেরা। তাকে ব্যক্তিগত ১১ রানে এলবিডাব্লিউ করে দেন তরুণ ঘূর্ণি তারকা মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩৮ রানে ৪র্থ উইকেটের পতন ঘটে শ্রীলঙ্কার।

মিরাজের বলে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি দাসুন শানাকা। সেই মিরাজের বলেই সাকিবের দুর্দান্ত থ্রোতে ৭ রান করে রান-আউট হয়ে যান তিনি। আরেক পেস তারকা রুবেল হোসেন মঞ্চে এসেই শিকার করেন লঙ্কান ক্যাপ্টেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে (১৬)। তখনও বাংলাদেশের চিন্তার কারণ হয়ে ছিলেন থিসারা পেরেরা। কিন্তু ঝড় তোলার আগেই ব্যক্তিগত ৬ রানে মিরাজের বলে ধরা পড়লেন রুবেলের হাতে।

দিলরুয়ান পেরেরার সঙ্গে নাইটওয়াচম্যান সুরঙ্গা লাকমাল জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু লাকমালকে বেশিদূর যেতে দেননি মুস্তাফিজ। ২০ রানেই তাকে বোল্ড করে দেন ‘কাটার মাস্টার’। জয় তখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। দিলরুয়ান পেরেরাকে (২৯) মোসাদ্দেক আর আপসনোকে সাকিব প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠালে ৩৫.২ ওভারে ১২৪ রানেই অল-আউট হয়ে যায় লঙ্কানরা। ১৩৭ রানের দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় মাশরাফি বাহিনী। মাশরাফি, মুস্তাফিজ, মিরাজ  ২টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন রুবেল, সাকিব এবং মোসাদ্দেক। ৩ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে সবচেয়ে কৃপণ বোলারও হয়েছেন মোসাদ্দেক।

এর আগে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে লিটন দাসকে (০) কুসল মেন্ডিসের তালুবন্দি করেন ১ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা গতিদানব লাসিথ মালিঙ্গা। অফ স্টাম্পে পিচ করা বল একটু বেরিয়ে যাচ্ছিল। লিটন চেষ্টা করেছিলেন সামনের পায়ে ডিফেন্স করার। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে যায় প্রথম স্লিপে মেন্ডিসের হাতে।

পরের বলেই স্টাম্প উড়ে যায় সাকিব আল হাসানের (০)। সুইং করে ভেতরে ঢোকা বলটি যেন চমকে দিয়েছিল সাকিবকে। এক বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে স্বপ্নের মতো ফেরা হলো লাসিথ মালিঙ্গার। বাংলাদেশের জন্য আরও বড় এক ধাক্কা হলো তামিমের আহত হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরা। ইনজুরি আক্রান্ত তামিম সুরাঙ্গা লাকমলের বাউন্সের পুল করতে চেয়েছিলেন। বল গ্লাভসে লেগে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

মহাবিপদের মধ্যে জুটি গড়ে তোলেন মুশফিকুর রহিম এবং মোহাম্মদ মিঠুন। দ্রুত উইকেটে মানিয়ে নেওয়া এই দুজনের জুটি একসময় পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যায়। ঘুরতে থাকে রানের চাকা। ৫২ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পূরণের পর ৬৮ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ৬৩ রান করে মিথুন লাসিথ মালিঙ্গার তৃতীয় শিকার হলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ভাঙে ১৩১ রানের দুর্দান্ত এক জুটি।

পরবর্তী ব্যাটসম্যান মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ ৪ বলে ১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন। ফিরতি ওভারে এসে আবারও ছোবল মারেন মালিঙ্গা। তার শর্ট বল মোসাদ্দেকের (১) ব্যাটের কানায় লেগে কিপারের গ্লাভসে চলে যায়। এরপর মুশফিকের সঙ্গে ৩৩ রানের জুটি গড়ে আশা জাগাচ্ছিলেন মিরাজ। কিন্তু স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে সুরঙ্গা লাকমলের বলে তারই দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হন ১৫ রান করা এই অল-রাউন্ডার।

দলের এমন বিপর্যয়ে অনেক বার লোয়ার অর্ডার থেকে আশা জাগিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি। তবে আজ পারলেন না। ১১ রান করে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়লেন উপুল থারাঙ্গার হাতে। মুশফিক যখন সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে, তখন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে যান রুবেল হোসেন (২)।

ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন ‘মি. ডিপেন্ডেবল’ খ্যাত মুশফিকুর রহিম। তিনি যখন ১২৩ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় তিন অংকে পৌঁছলেন, তখন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান। মুস্তাফিজ ১০ রান করে রান-আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভাঙা আঙুলে ব্যান্ডেজ নিয়ে আবারও মাঠে নামেন তামিম।

দেশসেরা ওপেনারকে পেয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন মুশফিক। বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছুটতে থাকে। থিসারা পেরেরার করা শেষ ওভারের তৃতীয় বলে কুসল মেন্ডিসের হাতে ধরা পড়ার আগে মুশফিকের সংগ্রহ ১৫০ বলে ১১ বাউন্ডারি এবং ৪ ওভার বাউন্ডারিতে ১৪৪ রান। এটা তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। তাকে সঙ্গ দিতে আসা তামিম অপরাজিত থাকেন ২ রানে। ২৬১ রানে অল-আউট হয় বাংলাদেশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আ. লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

দেশের খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে বলেছেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্যই জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় নির্বাচিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের মাঝে এখনও আওয়ামী লীগের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে, কারণ জনগণ বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশ এগিয়ে যাবে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপেও এটা উঠে এসেছে। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার রাতে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম সভায় সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন।

সততাকেই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল যারা অপেক্ষা করেই থাকে কখন দেশে অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতা দখল করবে আর তাদের অবস্থার উন্নতি হবে। ’

‘কিন্তু, সেই আশা করে আর লাভ নেই। উত্তরপাড়া আর আসবে না তাদের ক্ষমতায় বসাতে,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন জোট গঠনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তারা যেখানে চাইবে সেখানেই সরকার তাদের সভা করতে দেবে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন দুটি ঐক্য ফোরাম গঠনকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরকম হওয়া উচিত। আরো নতুন নতুন পলিটিক্যাল অর্গানাইজেশন তৈরি হোক।

তিনি বলেন, তাঁরা আগামীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিটিং করতে চেয়েছেন, তাঁরা যদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চান, আমরা করতে দেব।

আমাদের কোন আপত্তি নাই, আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি। পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ করবো আপনারা বাধা দেবেন না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দরকার হলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি স্থায়ী মঞ্চ করে দেব। যার যত খুশি সেখানে বক্তৃতা দিতে পারবে। আমি বলবো একটি কর্ণার ঠিক করে দিতে সেখানে বক্তৃতা দিক, আন্দোলন করুক, যা খুশী করুক। কারণ আমরা কারো গলা চেপে ধরিনি, আমরা কারো মুখ বন্ধ করিনি।

‘কিন্তু যারা মিথ্যাচার করবে, উস্কানিমূলক কাজ করবে এবং সংঘাত সৃষ্টি করতে চাইবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিরএসময় আওয়ামীলী‌গের জাতীয় নির্বাচন প‌রিচালনা ক‌মি‌টির অন্যতম সদস্য ডা. আ ফ ম রুহুল হক এম‌পিসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশটাকে পরিস্কার করি দিবস ২০১৮ অনুষ্ঠিত

 

“চারিপাশে ময়লা নাই, এমন একটি দেশ চাই” এইপ্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সারা দেশব্যাপী ‘পরিবর্তন চাই’ সাতক্ষীরার আয়োজনে দেশটাকে পরিস্কার করি দিবস ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা নবারুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে “পরিবর্তন চাই” সাতক্ষীরা জেলা কমান্ডার মোছা. খাদিজা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে দিবসের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশ্তি। বিশেষ অতিথি হিসাবে জেলা রোভার স্কাউট এর কমিশনার এ.এস.এম আব্দুর রশিদ, সম্পাদক এসএম আসাদুজ্জামান, নবারুন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পরিবর্তন চাই সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক এস.এম হাবিবুল হাসান ও মোছা. হাফিজা আফরোজ।ৃ
উদ্বোধন শেষে অতিথিদের সাথে নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে র‌্যালী ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযানে অংশ গ্রহন করেন- সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ, সাতক্ষীরা মহিলা কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ, সাতক্ষীরা পিএন স্কুল এন্ড কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ, নবারুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় স্কাউটস সহ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে অংশ গ্রহনকারী রোভার স্কাউট, স্কাউট ও শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চেয়ারম্যান মোশারফ হত্যা মামলার আসামী জলিল গনপিটুনিতে নিহত !

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল জলিল গাইন গনপিটুৃনিতে নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত ৯টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর বাজারে যুবলীগ অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল জলিল গাইন কালিগঞ্জ উপজেলার ইয়াকুব আলী গাইনের ছেলে।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান হাফিজুর রহমান জানান, চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামী আব্দুল জলিল গাইনকে শুক্রবার ঢাকার গাজীপুর কালিয়ারকৈ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার রাত টার দিকে তাকে নিয়ে কৃষ্ণনগর বাজার এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে গেলে স্থানীয় জনগন তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্য্ াকরে।
প্রত্যক্ষদর্শী সামছুর রহমান ও ছবেদ আলী জানান, চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে কৃষ্ণনগর হাইস্কুল মাঠে জনসভা চলছিল। এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামী কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জলিলকে নিয়ে পুলিশ কৃষ্ণনগর বাজারে গেলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। তবে ঘটনাস্থলে বেশ কয়েক রাউণ্ড গুলির শব্দ শোনা যায়।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান জানান ঘটনাস্থলে লাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সেখানে এখনও বিক্ষুব্ধ জনতা অবস্থান করছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে জাপা নেতা কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম মোশাররফ হোসেনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় তার বড় মেয়ে সাদিয়া পারভিন ১৯জনসহ অজ্ঞাতনামা ২০ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত এ মামলায় গ্রেফতারকৃত আটজনের মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দহন সিনেমার জন্য গাইলেন নায়ক সিয়াম

বিনোদনের খবর: ‘পোড়ামন ২’ তে পূজা চেরির সঙ্গে সিয়ামের ছবি দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ব্যবসায়িক দিক দিয়েও ছবিটি সাফল্য পায়।
সেই ধারাবাহিকতায় সিয়াম আসছেন তার নতুন ছবি ‘দহন’ নিয়ে। এই ছবিতেও তার নায়িকা পূজা চেরি। পরিচালক হিসেবেও আছেন ‘পোড়ামন ২’র রায়হান রাফি। ছবির শুটিং শেষ প্রায়। বর্তমানে চলছে গানের দৃশ্যায়ন। এমনই সময়ে ‘দহন’ ছবিতে গান গেয়ে সবাইকে চমকে দিলেন সিয়াম। নায়ক পরিচয়ের সাথে এবার জুটল গায়ক পরিচয়। প্রথমবারের মত কণ্ঠ দিলেন তিনি তার নিজের অভিনীত ছবি দহনে। গানটির শিরোনাম ‘মাতাল’।
গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন কলকাতার আকাশ সেন। গানটির মূল ভোকালে থাকছেন বাংলাদেশি আইডল খ্যাত আরিফ। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ফেসবুক লাইভে এসে সিয়াম নিজেই বিষয়টি জানান।
সিয়াম বলেন,‘আজ আমার জন্য বিশেষ দিন। জীবনে প্রথম কোনো গানে কণ্ঠ দিলাম। যেটা অসম্ভব ঘটনা। তবে আপনারা ভয় পাবেন না, কারণ আপনাদের পুরো গান শুনতে হবে না। আমি কেবল গানের র্যাপ অংশ গেয়েছি। এই গানের মাধ্যমেই ‘দহন’ ছবিতে ‘তুলা’ চরিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে।’
‘দহন’ ছবিতে সিয়াম ও পূজা চেরি ছাড়া আরো অভিনয় করছেন জাকিয়া বারী মম। ছবিটি প্রযোজনা করছে জাজ মাল্টিমিডিয়া।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১১ দাবি নিয়ে মানববন্ধনে যশোরবাসী

অনলাইন ডেস্ক: যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ, বৃহত্তর যশোরের চার জেলায় চারটি অর্থনৈতিক জোন তৈরিসহ ১১ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে যশোরের সর্বস্তরের মানুষ।
বৃহত্তর যশোর উন্নয়ন ও যশোর বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে আজ শনিবার সকাল ১০টায় স্থানীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়।
ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে যশোরের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতারা ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন।
তাদের দাবিগুলো হলো ১. যশোর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ, ২. নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও যশোরে চারটি অর্থনৈতিক জোন, ৩. যশোরকে পৃথক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন ঘোষণা ও বাস্তবায়ন, ৪. পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, লালন ও মধুসূদনের নামে সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়, মহিলা ক্যাডেট কলেজ, নড়াইল ও ঝিনাইদহে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, ৫. বেনাপোল স্থলবন্দর আধুনিকায়ন, ৬. দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা টানেল অথবা পদ্মাসেতু নির্মাণ এবং দৌলতদিয়া-যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, ৭. চার জেলায় আন্তঃজেলা রেল যোগাযোগ, ঢাকা-খুলনা চলমান রুটে নতুন একটি রেল চালু এবং খুলনা-কলকাতা ট্রেন যশোরে যাত্রাবিরতি, ৮. যশোরের চারটি জেলায় গ্যাস সরবরাহ, ৯. যশোরে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ, ১০. বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা স্থাপন, ১১. পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে একটি পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ।
এ সময় তাঁরা দাবিগুলোর পক্ষে নানা রকম যুক্তি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে বলা হয়, ১৭৮১ সালে বাংলার অন্যতম প্রাচীন জেলা যশোর দেশ ও জাতির উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখে চলেছে সেই হিসেবে এই অঞ্চল উন্নয়নের দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে। বেনাপোল বন্দর থেকে প্রতি বছর পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পায় সরকার। এ ছাড়া কৃষি ও শিল্প খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা আয় হয়। বৃহত্তর যশোর থেকে অর্জিত এই অর্থ এ অঞ্চলের উন্নয়নে খুব সামান্যই ব্যয় করা হয়। শুধু উন্নয়নের দিক দিয়েই যশোর পিছিয়ে নেই, সরকারের মন্ত্রিপরিষদে বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও এ অঞ্চলের মানুষের গুরুত্ব সব সময় কম থাকে। এ অঞ্চলের উন্নয়নের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা ব্যক্তির অভাব রয়েছে।
সম্মেলনে আরো বলা হয়, কলকাতা ও হাওড়ার পরেই যশোর পৌরসভার স্থান ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই জেলাটি ভারত বিভক্তের পর থেকে নানাভাবে পিছিয়ে পড়ে। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর ঈদগাহ ময়দানের এক জনসভায় বলেছিলেন, ‘যশোর একটি পুরোনো শহর। আমরা যদি আগামীবার ক্ষমতায় আসতে পারি, তাহলে যশোরকে সিটি করপোরেশন করব। সেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি।’ গত ছয় বছরে যশোরবাসীর সেই আশা পূরণ হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর যশোর উন্নয়ন ও বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) হাসান ইকবাল, যশোর কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক, সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ পড়েন বৃহত্তর যশোর উন্নয়ন ও বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদ যশোর কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের ঢাকা কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শৈলেন্দ্রনাথ সাহা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest