বিনোদনের খবর: ‘মেরিল স্ট্রিপ পুরস্কার’ পাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। ‘উইমেন ইন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্ডিয়া’ প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার ঘোষণা করে। হলিউড ও বলিউডের সেরা নারী ব্যক্তিত্বকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
‘উইমেন ইন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন’ (ডব্লিউআইএফটি) বিশ্বব্যাপী একটি সংগঠন। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে নারীদের সহযোগিতা ও তাঁদের কাজ প্রচার করে থাকে। সংগঠনটিতে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ভারত। এবার তারা আয়োজন করে পুরস্কার দিচ্ছে। সেখানেই ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন পাচ্ছেন ‘মেরিল স্ট্রিপ এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড’। পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে ওয়াশিংটন ডিসির হায়েট রিজেন্সিতে। মেরিল স্ট্রিপ নিজেও ১৯৯৮ সালে এই সংগঠন থেকে ক্রিস্টাল অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার পান। ডব্লিউআইএফটি ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে হলিউড রিপোর্টার বলছে, বিনোদনশিল্পে নারীর ভূমিকাকে প্রসারিত করার সম্মানস্বরূপ এই পুরস্কার ঐশ্বরিয়াকে দেওয়া হবে।
শ্বরিয়া ছাড়াও এই আসরে সম্মানিত হচ্ছেন পরিচালক জোয়া আখতার, অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর ও প্রযোজক ক্যাথরিন হ্যান্ড। জোয়া আখতার ভূষিত হচ্ছেন ওয়াইলার অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স পুরস্কারে। পুরস্কারটি দেওয়া হচ্ছে অস্কারজয়ী পরিচালক উইলিয়াম ওয়াইলারের নামে, যিনি রোমান হলিডে ও বেন-হুর সিনেমার পরিচালক। জাহ্নবী কাপুর ভূষিত হচ্ছেন এমরালড অ্যাওয়ার্ডে। অভিষেক ছবিতে ভালো পারফরমেন্সের জন্য দেওয়া হচ্ছে এই পুরস্কার। এ ছাড়া ক্যাথরিন হ্যান্ডকে দেওয়া হচ্ছে প্রোডিউসার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড। আ রিংকল ইন টাইম চলচ্চিত্রের জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
‘উইমেন ইন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন’ নামে ডব্লিউআইএফটি ১৯৭৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী গণযোগাযোগের ক্ষেত্রে নারীর অনন্য দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে এবং এর প্রচার করে।
দেশের খবর: টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই সময়ে দলটির সাংসদদের কেউ কেউ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। কারও বয়স হয়েছে। কেউ কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে আছে দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। এ কারণে বিএনপি নির্বাচনে না আসায় গতবার ভোটে জেতা আওয়ামী লীগের জন্য যতটা সহজ ছিল, এবার জয়লাভ করা ঠিক ততটাই কঠিন হবে। এসব কারণে বর্তমান সংসদের সরকারদলীয় অনেক সাংসদের মনোনয়নই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তবে দলের দায়িত্বশীল নেতারা এও বলছেন, স্থানীয় বা জাতীয়ভাবে সুখ্যাতি না থাকলেও দলের প্রয়োজনে বেশ কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন-দৌড়ে টিকে যেতে পারেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য বলেছেন, তৃণমূল থেকে আসা নামের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে দলীয় প্রধান বিভিন্ন উৎস থেকে একটা ধারণা নিয়ে রেখেছেন। সেখানে সংসদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদ, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী স্থানীয়ভাবে দলে ও সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন বলে ধারণা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তা প্রমাণের জন্য মৌখিকভাবে বলে দিয়েছেন। নয়তো এঁরা মনোনয়ন পাবেন না।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য বলেন, তাঁদের দল ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। স্বাভাবিকভাবেই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নিয়েই বেশি সমালোচনা হবে। এ কারণে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব চাইছে প্রার্থী বাছাইয়ে অন্য দলগুলোর চেয়ে নিজেদের এগিয়ে রেখে ভোটের শুরুতেই মানুষকে চমক দেওয়া। সাধারণ মানুষকে এই বার্তা দেওয়া যে আওয়ামী লীগের যাঁরা জনবিচ্ছিন্ন, যাঁদের সম্পর্কে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে নেতিবাচক ধারণা আছে, আওয়ামী লীগ তাঁদের পছন্দ করছে না। ওই নেতা বলেন, এবার মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান মাপকাঠি ধরা হয়েছে স্থানীয়ভাবে প্রার্থীর ‘জনপ্রিয়তা’কে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় কিছু পেশাজীবীকে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। আর বিএনপি ভোটে এলে জোটের শরিকদের জন্য বেশ কিছু আসন ছাড়তে হবে। এ কারণে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ভোট করে জিতে আসা প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৮০ জন আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না। বাদ পড়ার তালিকায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীও থাকবেন বেশ কয়েকজন।
বর্তমান সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংসদ ২৩৩ জন। অন্যরা জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, বিএনএফ ও স্বতন্ত্র সাংসদ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ের সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী নির্বাচনে শরিকদের জন্য ৭০টির মতো আসনে ছাড় দেওয়া হবে। আর মনোনয়ন দেওয়ার মাপকাঠি হবে প্রার্থীরা জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু বা তাঁর জনপ্রিয়তা কেমন তার ওপর। গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে আসা প্রার্থীদের অনেকেই থাকবেন বেশি ঝুঁকিতে। অর্থাৎ মনোনয়ন না পাওয়ার তালিকায় এঁদের সংখ্যাই বেশি হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সাংসদ হয়েছেন—এমন ৮০ থেকে ১০০ জন নেতা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবেন না। এই তালিকায় বর্তমানে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার অনেকে আছেন। তাঁদের বাদ পড়ার মূল কারণ হতে পারে তাঁরা এলাকা এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। এলাকার জনগণের মধ্যে তাঁদের বিষয়ে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। এই নেতারা দলীয় এবং সরকারি কাজের চেয়ে ‘নিজেদের দিকে’ নজর দিয়েছেন বেশি, যার কারণে তাঁরা এবার মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন। এ ছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সাংসদদের নিজেদের সক্ষমতার পরীক্ষা দিতে হবে বলেও তাঁরা জানান। এক প্রশ্নের জবাবে সভাপতিমণ্ডলীর ওই সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিটি নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের মানদণ্ড থাকে। যে প্রার্থী নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের বদলে নতুন প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও সে রকম হতে পারে। তিনি বলেন, এবার নির্বাচনে বেশ কিছু তরুণকে প্রার্থী করা হবে। যাঁরা এবারই প্রথম ভোট করবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার জনপ্রিয় ব্যক্তিদের আনা হবে। তা ছাড়া বিএনপি ভোটে এলে জোটের আকার বাড়িয়ে শরিকদের জন্য কিছুটা ছাড় দিতে হতে পারে।
সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য বলছেন, ‘যাঁদের পজিশন খারাপ হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এটিই মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তিনি বলেন, এলাকায় যাঁদের দুর্নাম আছে, জনগণের সমর্থন নেই, তাঁরা মনোনয়ন পাবেন না। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলেও তিনি মনে করেন। সে ক্ষেত্রে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারেও অনেক বেশি হিসাব-নিকাশ হবে।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না, সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট করেনি দলটি। এ ছাড়া দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সাজাপ্রাপ্ত। তিনি বর্তমানে লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে বসবাস করছেন। বিএনপির দুটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতা দলে না থাকলেও বিএনপির নেতারা নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক। এর আগে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে এসেছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারের কাজ অনেক আগেই শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বিভাগীয় ও জেলা শহর সফর করেছেন। এসব সফরে তিনি দলের হয়ে জনগণের কাছে ভোট চেয়েছেন এবং আওয়ামী লীগকে আরেকবার ক্ষমতায় আনার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার আওয়ামী লীগে উত্তরাঞ্চল সফরকে ‘নির্বাচনী যাত্রা’ বলেই উল্লেখ করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার কারণে বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভেতরের বিভেদ অনেকটা প্রকাশ্য। কোনো কোনো জেলায় বিভেদ এত বেশি যে, সেসব জেলায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এড়িয়ে সাংগঠনিক কাজ করা, দলের সিদ্ধান্ত না মেনে দলের বিপক্ষে কাজ করা, দলের চাওয়া অনুযায়ী কাজ না করে নিষ্ক্রিয় থাকা—এসব বিষয় সামনে রেখে আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, এবার নির্বাচনে তিনি কাউকে পার করিয়ে আনতে পারবেন না। এ ছাড়া অনেক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও আছে। দুর্নীতির বিষয়ে আওয়ামী লীগ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কারণে এবার যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁরাও আর মনোনয়ন পাবেন না।
২০১৭ সালে ৭ মে সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির ভোটের দায়দায়িত্ব তিনি নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার নেবেন না। যারা আবার নির্বাচিত হতে চান তাদের নিজেদের যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
খেলার কবর: বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনন্য এক নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা। ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। চোটের সঙ্গে লড়াই করে বার বার জয়ী এই তারকা। যুদ্ধক্ষেত্রে কখনোই টিম বাংলাদেশকে ছাড়েননি অধিনায়ক মাশরাফি। এবার সেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘আস্থা’কে নিয়েই মুখ খুললেন টাইগারদের পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ।
শনিবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ালশ বললেন, ‘ম্যাশের অভিজ্ঞতা ও ওর স্কিলসেট অন্যদের থেকে অনেক আলাদা। আরও ভালো। বরাবরই সে দারুণ এক ফাস্ট বোলার। ইনজুরি না থাকলে এখনও হয়ত সে টেস্ট ক্রিকেট খেলত। আমি এখানে আসার পর প্রথমে ওকে এটাই বলেছিলাম, এখনও তো তুমি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারো! কিন্তু ইনজুরির কারণে সব সংস্করণ খেলতে পারছে না। অনেক বছর ধরেই বাংলাদেশের জন্য যে খুবই উঁচু মানের পেস বোলার।’
মাশরাফিকে সম্পর্কে ওয়ালশ আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, সে যতটা করতে পারে, তার পুরোটাই সে করতে চায়। তরুণদেরও এই ক্ষুধা থাকতে হবে। আমরা কেবল আড়াল থেকে কাজ করতে পারি। কিন্তু তরুণদের মাঠে নেমে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করতে হবে। ম্যাশ তার পারফরম্যান্সকে আত্মসম্মান হিসেবে দেখে। সেখানেই আমি মনে করি অন্যদের সঙ্গে বড় পার্থক্য। সে তার ক্ষুধাটা ফুটিয়ে তোলে, সে পারফর্ম করতে চায়, ভালো করতে চায়, লড়াই করতে চায়। ‘
খেলার খবর: আতহার আলী খান। বাংলাদেশের সাবেক তারকা ক্রিকেটার। বর্তমানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার তিনি। আসন্ন এশিয়া কাপে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ধারাভাষ্যে থাকবেন তিনি।
এশিয়া কাপের ১৪তম এ আসর আর মাত্র পাঁচ দিন পর মাঠে গড়াবে। এ আসরে অংশ নেবে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও হংকং।
১৫ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে পর্দা উন্মোচন হবে এই এশিয়া কাপের।
এই টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে টিভি চ্যানেল স্টার স্পোর্টস। এরই মধ্যে তারা টুর্নামেন্টের ১০ সদস্যের ধারাভাষ্য প্যানেল ঘোষণা করেছে।
এ প্যানেলে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার ও দেশবরেণ্য ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান। দেশের আরেক প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার শামীম চৌধুরীকে রাখা হয়নি এবারের প্যানেলে।
১০ জনের এই দলে ভারত থেকে দুজন, পাকিস্তান থেকে দুই, শ্রীলঙ্কা থেকে দুই, ইংল্যান্ড থেকে দুই ও অস্ট্রেলিয়া থেকে একজন রয়েছেন।
এশিয়া কাপের ধারাভাষ্য প্যানেল :
১. আতাহর আলী খান (বাংলাদেশ)।
২. আমির সোহেল (পাকিস্তান)।
৩. রমিজ রাজা (পাকিস্তান)।
৪. শিবরামকৃষ্ণ (ভারত)।
৫. ভিভিএস লক্ষণ (ভারত)।
৬. কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)।
৭. রাসেল আর্নল্ড (শ্রীলঙ্কা)।
৮. কেভিন পিটারসেন (ইংল্যান্ড)।
৯. ডিন জোনস (ইংল্যান্ড)।
১০. ব্রেট লি (অস্ট্রেলিয়া)।
বিদেশের খবর: বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। চলছে বাকযুদ্ধ আর পাল্টাপাল্টি হুমকি। এরই মাঝে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি দাবি করলেন, আলোচনায় বসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগতভাবে তেহরানকে বার্তা দিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে রুহানি বলেছেন, ‘একদিকে তারা ইরানের জনগণের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে আরেকদিকে তারা প্রতিদিনই বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছে যে, আমাদের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা উচিৎ।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘তারা বলে আমাদের এখানে আলোচনা করা উচিৎ, আমাদের সেখানে আলোচনা করা উচিৎ। আমরা বিষয়টির পুনরায় সমাধান করতে চাই। আমাদের কি আপনাদের বার্তা দেখা উচিৎ? নাকি আপনাদের নির্মম পদক্ষেপ দেখা উচিৎ?’
ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান অর্থনৈতিক, মানসিক ও প্রচারযুদ্ধ মোকাবেলা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই ইরানের প্রধান শত্রু বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে ছয় জাতিগোষ্ঠির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া গত মাসে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন।
আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের ১৫ নেতা কর্মীসহ ৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পযর্ন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
উদ্ধার করা হয়েছে, ৪টি ককটেল, ৩টি পেট্রোল বোমা ও ২০ পিচ ইয়াবাসহ বেশ কিছু মাদক দ্রব্য। এসময় তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে,সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১২ জন,কলারোয়া থানা থেকে ১০ জন,তালা থানা ৭ জন,কালিগঞ্জ থানা ৫ জন,শ্যামনগর থানা ৪ জন,আশাশুনি থানা ১১ জন,দেবহাটা থানা ২ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
জি.এম আবুল হোসাইন : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১৫টি সোস্যালাইজেশন সেন্টারে প্রতিনিয়তই খেলাধুলা, লেখাপড়া আর বিনোদনে মেতে ওঠে স্থানীয় শিশুরা।
সেভ দ্য চিলড্রেন’র সহযোগীতায় ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’র বাস্তবায়নে সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কুশখালি, বৈকারি, ঝাউডাঙ্গা, ফিংড়ি ও ভোমরা ইউনিয়নে “গুড কজ ক্যাম্পেইন” প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব ইউনিয়নে ১৫টি সোস্যালাইজেশন সেন্টারের অধীনে ৩০টি শিশু ক্লাব গঠন করা হয়েছে। এই ক্লাব গুলোতে কর্মএলাকার ৫৬৭৯ জন শিশুকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
সরেজমিনে ফিংড়ী ইউনিয়নের হাসনাহেনা শিশু কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে কেন্দ্রের কমিউনিটি মোবিলাইজার সোহরাব হোসেন জানান, কেন্দ্রটি এসব এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ৬থেকে ১৪বছর বয়সের এসব শিশুদের খেলাধুলা, লেখাপড়া আর বিনোদনের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে। এই কেন্দ্র গ্রামের শিশুদের মাঝে দ্যূতি ছড়াচ্ছে। এই কেন্দ্রে রয়েছে শিশুদের জন্য খেলাধুলার নানা সরঞ্জাম। লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে সেখানে সকাল বিকাল শিশুরা এসে হৈ হুল্লোড়ে মেতে ওঠে। উন্মুক্ত মাঠে খেলাধুলা করে। শিশুরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বরদের কাছে যেয়ে নিজেদের অধিকারের বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করে থাকে।
কথা হয় হাসনাহেনা শিশু ক্লাবের সভাপতি মুজিবুল বাশার, সদস্য মশিউর, মোহাব্বত, হাবিবুর রাজিয়া, শিউলি, হিরা ও সানজিদার সাথে। এখন ওরা নিয়মিত স্কুলে যায়, ক্লাস থেকে ঝরে পড়া দুরের কথা নিজেদের অধিকার আদায়ে বড়দের সাথে কথা বলে। পাচারের কবল থেকে নিজেদের রক্ষায় তারা এখন জোরালোভাবে সোচ্চার। এছাড়া চেয়ারম্যান, মেম্বরদের মাধ্যমে রাস্তা সংস্কার, এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সহযোগিতা লাভ করেছে। ছোট ছোট শিশুরা যাতে পাচার না হয়, কোনো বখাটে যুবক যাতে তাদের উত্ত্যক্ত করতে না পারে, কোনো ধরনের হয়রানি বা অনৈতিকতার মুখে না পড়ে, তারা যাতে অনিরাপদ অভিবাসনের শিকার না হয় সে জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বলতে পারছে।
আমি খেলি, আমি শিখি অনিরাপদ স্থানান্তর থেকে নিরাপদ থাকি। ”শিখবে শিশু হেসে খেলে শাস্তিমুক্ত পরিবেশ পেলে” এই সব স্লোগানে মুখরিত এসব কেন্দ্র।
গোবরদাঁড়ির হাসনাহেনা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোছা. আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ‘শিশুদের সামাজিকভাবে গড়ে তুলতে কাজ করছি আমরা। ওরা খেলে, বই পড়ে। সাংস্কৃতিক বিনোদনে মেতে ওঠে। স্কুল থেকে ঝরে পড়াদের সহযোগিতা দিয়ে ফের স্কুলে পাঠানো হয়। প্রয়োজনে তাদের পোশাক, বই খাতাপত্র সংগ্রহ করে দেওয়া হয়।
ফিংড়ী ইউনিয়নের সমাজ ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটির সভাপতি মোছা. আছিয়া খাতুন বলেন, শিশুরা যাতে কোনো ধরনের সন্ত্রাস মাদক ও জঙ্গিবাদের মতো অপরাধের সাথে জড়িত না হয় সে জন্য আমরা সচেতনতার সৃষ্টি করছি। দরিদ্র ও দূর্বল শিশুদের বিনাবেতনে প্রাইভেট পড়ার ব্যবস্থা করেছি। তাদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করেছি।
স্থানীয় অভিভাবক দলের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, শিশুরা যাতে পাচার ও বাল্যবিয়ের শিকার না হয় সেজন্য কাজ করছি আমরা।
শিশুদের ভালো কাজ কিংবা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখায় সমাজের দুষ্ট প্রকৃতির কিছু অর্থলোভী মানুষ। আমরা দুষ্ট প্রকৃতির এসব অর্থলোভী মানুষের প্রতারণা ও হয়রানী থেকে বাঁচতে বিভিন্ন তথ্য ও নির্দেশনা দিয়ে থাকি।
শনিবার সদরের ফিংড়ি ইউনিয়নের জোড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা সকালে সাক্ষরতা দিবসের র্যালিতে অংশ নিয়েছে। তারা স্কুল মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।
ফিংড়ির জোড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন কালে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে এখন সাক্ষরতার হার ৭২ শতাংশ পেরিয়ে গেছে। অল্প দিনের মধ্যে এদেশ সম্পূর্ণ নিরক্ষরমুক্ত হবে। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তারা শিশু শিক্ষা প্রসারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।
পুরস্কার বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও এনটিভির জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরী, স্থানীয় বাজার কমিটির সভাপতি মোনায়েম হোসেন, ইউপি সদস্য জাকিরুল ইসলাম, টিভি চ্যানেল ডিবিসি নিউজ ও ডেইলি অবজারভার’র সাংবাদিক এম. জিল্লুর রহমান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিশ্বনাথ সরকার, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’র জিসিসি প্রকল্পের মিল এন্ড ডকুমেন্টেশন অফিসার মো. খায়রুল হাসান, প্রোজেক্ট অফিসার আবদুল হক পাটোয়ারি প্রমুখ।
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি ইউনিয়নের এই এলাকাগুলোতে বেশি শিশুরা অনিরাপদ স্থানান্তর হয়ে থাকে। তাদের বাবা-মায়ের সাথে দেশের বিভিন্ন জেলা ও পার্শবর্তী দেশ ভারতে কাজ করতে যাওয়ার সময় শিশুকেও সাথে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকে। সেই শিশু জানেনা তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এবিষয়ে এখান থেকে তারা অনেক কিছু শিখতে, জানতে পারছে।
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’র সাতক্ষীরা অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার ও অফিস ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা শিশু সুরক্ষা ও শিশু অধিকার বাস্তবায়নে সেভ দ্য চিলড্রেন’র সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। শিশুরা শিক্ষা, খেলাধুলা, সুরক্ষা সহ তাদের অধিকার সম্পর্কে যাতে সচেতন হতে পারে সেজন্য আমরা প্রতিনিয়তই শিশু ও স্থানীয় দায়িত্ববাহকদের সাথে নিয়ে কাজ করছি। তিনি আরো বলেন, শিশুদের খেলাধুলার জন্য চাহিদা মত মাঠ নেই। তাদের বাবা মা যথেষ্ট সচেতন না হওয়ায় লেখাপড়া ফেলে তাদেরকে শিশুদের শ্রমে বিনিয়োগ করে। দারিদ্র্যের কারণে অনেক শিশু দেশের অভ্যন্তরে এমনকি দেশের বাইরেও পাচার হয়। তারা যৌন হয়রানির শিকার হয়। মাদকের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় শিশুরা চোরাচালানের মতো অপরাধেও পা বাড়ায়। শুধুমাত্র শিশুদের সচেতন করাই নয়, অভিভাবক বিশেষ করে বাবা ও মায়েদের সচেতন করতে তাদের সাথে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে।
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে খাল পরিষ্কার কার্যক্রমে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিয়েছেন বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান…
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে দেওয়া হতে পারে…
অনলাইন ডেস্ক : পেরুর বিখ্যাত ‘নাজকা লাইন’ দেখার সময় একটি ছোট পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানে থাকা ১১…