সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যুরেকর্ডীয় সম্পত্তিতে জোর পূর্বক ঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধেতালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনআশাশুনিতে অবঃ শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম গঠনআশাশুনিতে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতিসাতক্ষীরা জেলা হিউম্যান রাইটস জার্নালিষ্ট নেটওয়ার্কের কমিটি গঠনসাতক্ষীরায় ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিদর্শন

শিক্ষা ক্যাডা‌রে শীঘ্রই বড় ধর‌নের প‌দোন্ন‌তি আস‌ছে

অনলাইন ডেস্ক: বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে শিগগিরই বড় ধরনের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর-মাউশি। এ তালিকা নিয়ে আগস্টের শেষ সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে শিক্ষা ক্যাডারের ‘বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি’র (ডিপিসি) সভা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। শিগগিরই আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এবার প্রায় এক হাজার কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। যদিও এই ক্যাডারে এ মুহূর্তে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তা রয়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার।
এ ব্যাপারে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে শিগগিরই ডিপিসি সভায় বসে এ বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে, পদোন্নতির খবরে সারাদেশের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষকরা নড়েচড়ে বসেছেন। দীর্ঘদিন পর তারা পদোন্নতির খবর পেয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন।

পদোন্নতির তালিকা নিয়ে অভিযোগ: শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা জানান, তিনভাবে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়োগ পান। সরাসরি বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে, বেসরকারি কলেজ থেকে আত্তীকরণ এবং রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায়। এই ক্যাডারের কর্মকর্তারা সরকারি কলেজে সরাসরি শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ সার্ভিস রুল ১৯৮১-এর ৫, ৬ ও ৭ বিধি অনুযায়ী, শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদোন্নতির জন্য পাঁচ বছর, সহযোগী অধ্যাপকের জন্য তিন বছর এবং অধ্যাপক পদের জন্য দুই বছর অর্থাৎ ফিডার পদে ১০ বছর থাকতে হবে। ফিডার সার্ভিস বলতে শিক্ষা ক্যাডারের মূল পদ সরকারি কলেজে কর্মরত থাকতে হবে। এ ছাড়াও সব ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের শুরুতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, বিভাগীয় পরীক্ষায় পাস ও শিক্ষানবিশকাল শেষ করে চাকরি স্থায়ীকরণ বাধ্যতামূলক। পদোন্নতির জন্য পরীক্ষায় পাসও বাধ্যতামূলক। যারা এসব যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হবেন, তাদের চাকরির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে পরীক্ষা প্রমার্জন সাপেক্ষে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হবেন। কিন্তু এসব আইন ভঙ্গ করে ২০০৬ সাল থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষা ক্যাডারে চরম অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। আদালতে মামলা পর্যন্ত হয়েছে। তার পরও মাউশি আবারও বিধি লঙ্ঘন করে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগস্টের শেষ সপ্তাহে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে ‘বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভা হয়। সেখানে প্রস্তাবিত তালিকা থেকে বিষয়ভিত্তিক ২০ শতাংশ সহযোগী অধ্যাপককে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তালিকায় পদার্থবিদ্যার ৪৯, পরিসংখ্যানে দুই, প্রাণিবিদ্যায় ৬৩, বাংলায় ৮০, ব্যবস্থাপনায় ৬৯, ভূগোলে সাত, মৃত্তিকা বিজ্ঞানে তিন, মনোবিজ্ঞানে চার, রসায়নে ৪২, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৭৮, সমাজবিজ্ঞানে ১৩, সমাজকল্যাণে ২৯, সংস্কৃতে এক, হিসাববিজ্ঞানে ৬৩, অর্থনীতিতে ৮১, আরবিতে আট, ইসলামী শিক্ষায় ২৭, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ৭২, ইংরেজিতে ৭৯, ইতিহাসে ৭৯, উদ্ভিদবিদ্যায় ৭৮, গার্হ্যস্থ অর্থনীতিতে ছয়, গণিতে ৫৯ এবং দর্শনে ৮৫ জন রয়েছেন। এ ছাড়া টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ইতিহাসে একজন, ভূগোলে একজন, বিজ্ঞানে একজন, শিক্ষা নয়জন, গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সিলিং বিষয়ে একজন রয়েছেন।

মাউশি জানায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অধ্যাপকদের অবসরে যাওয়ার তালিকা হিসাব করে ১৯টি বিষয়ের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য এক হাজার ৯১ জনের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সারাদেশের সরকারি কলেজের বর্তমানে ৯৮টি অধ্যাপক পদ শূন্য রয়েছে। আর ডিসেম্বরে আরও ৮০ জন অবসরে যাবেন। মাউশির হিসাব মতে, ১৭৮টি পদে অধ্যাপকের পদোন্নতি যোগ্য। তবে গত বছরের ১০ নভেম্বর ২৭৪ জনকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৫৮ জন আগের পদে বহাল আছেন।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা ক্যাডারে বিসিএস পরীক্ষায় পাস না করেও আত্তীকৃত শিক্ষক, পরিদর্শক থেকে পদোন্নতিসহ বিভিন্নভাবে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। বিধি অনুযায়ী, শিক্ষা ক্যাডারের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে যোগদানের তারিখ থেকে। পদোন্নতির খসড়া তালিকা করার ক্ষেত্রে এ বিধানও মানা হয়নি। নিয়ম মেনে পদোন্নতি না দেওয়ায় ৭ম থেকে ১৪তম বিসিএস পর্যন্ত শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। এবারের পদোন্নতির তালিকায় বিভাগীয় পরীক্ষায় পাসসহ নিয়মিত পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও মেধাবীদের নাম রয়েছে অপেক্ষাকৃত নিচের দিকে। এতে করে তারা পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। মাউশির এক শ্রেণির কর্মকর্তারা অর্থের বিনিময়ে অযোগ্যদের তালিকার শীর্ষে রাখছেন বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।

এ ব্যাপারে মাউশির মহাপরিচালক বলেন, কিছু ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। পদোন্নতির যোগ্যতায় কারও ঘাটতি থাকলে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হবে না। পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো রকম অনিয়ম হবে না।

চাকরিবিধি ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে গত সাত বছরে প্রায় এক হাজার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষায় ফেল করেছেন। কারও আবার চাকরিই স্থায়ী হয়নি। তবুও অধ্যাপক হয়েছেন। এসব পদোন্নতির ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির একটি সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কলকাঠি নেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে অবৈধভাবে পদোন্নতি দিতে গিয়ে বলি দেওয়া হয়েছে পদোন্নতিযোগ্য প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তাকে।

২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জ্যেষ্ঠতা তালিকা, ফিট লিস্ট বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ও ২৩ অক্টোবর দুই দফায় ৫৮৭ পদোন্নতিপ্রাপ্ত অধ্যাপকের মধ্যে ১৫৪ জন বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষায় ফেল করা। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৩৬৭ অধ্যাপকের মধ্যে দুই শতাধিক ফেল করা ও ১৪৮ জন পদোন্নতির অযোগ্য ছিলেন। শর্ত পূরণ না করায় তাদের চাকরিও স্থায়ী হয়নি। তবুও তারা অধ্যাপক হয়েছেন।

কারা পাবেন পদোন্নতি: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ হলো, পদোন্নতিযোগ্য যত বেশি কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া যায়, দিতে হবে। সে লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ উইং থেকে জানা গেছে, তদবিরের চাপ এড়াতে এবার পদোন্নতি আদেশের সঙ্গে সঙ্গেই পদায়নও করা হবে। অধ্যাপক পদে বিভিন্ন বিষয়ে এবার প্রায় আড়াইশ’ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হবে। যদিও মাউশি এক হাজার ৮১ জনের একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেছে। এর বাইরে রিজার্ভ পদের বিপরীতেও পদোন্নতি দেওয়া হবে। অধ্যাপক পদের জন্য বিসিএসের ১৪তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের এবার বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এই ব্যাচে প্রায় ১৮০০ কর্মকর্তা থাকলেও ১১৭০ জন পদোন্নতিযোগ্য। তবে এই ক্যাডারে বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের বিপরীতে পদোন্নতি দেওয়া হয় বিধায় মাউশির তৈরি করা পদোন্নতিযোগ্য এই ১১৭০ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০০ জনের ভাগ্যের শিকে ছিঁড়তে পারে।

উল্লেখ্য, এই ব্যাচের বেশিরভাগ কর্মকর্তা ২০১৩ সাল থেকে অধ্যাপকের স্কেলে বেতন পাচ্ছেন। তাদের পদোন্নতি দেওয়া হলে সরকারের কোনো ব্যয় বাড়বে না। আর সহযোগী অধ্যাপক পদে প্রায় ৩০০ জন এবার পদোন্নতি পাবেন। সহযোগী অধ্যাপক পদে এবার বিসিএসের ১৭, ১৮ ও ২০, ২১ ও ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ডিপিসির বিবেচনায় রয়েছেন।

অন্যদিকে, প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে এবার প্রায় ৫০০ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সহকারী অধ্যাপক হওয়ার জন্য এবার বিসিএসের ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা বিবেচিত হচ্ছেন। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত করা হলে সেদিনই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের এবারের পদোন্নতি সম্পর্কে এই কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি’র সভাপতি অধ্যাপক আইকে সেলিমউল্লাহ খন্দকার বলেন, তাদের ক্যাডারের প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মকর্তা বিভিন্ন স্তরে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করে বসে আছেন। তাদের কারও কারও পদোন্নতি দেওয়া হলে তাতেও সরকারের ব্যয় বাড়বে না। অথচ পদশূন্যতার অভাবে তাদের পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছে না। এজন্য নতুন পদ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এনাম কমিটির সুপারিশ অনুসারে তাদের ক্যাডারে আরও সাড়ে ১২ হাজার পদ প্রাপ্য রয়েছে। এসব পদ সৃষ্টির জন্য তারা সরকারের কাছে দাবি করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে এই প্রস্তাবও সরকারের সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজের শিক্ষকরা জানান, তাদের একই পদে ১২ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত চাকরি করতে হয়। পদোন্নতির জন্য আর কোনো ক্যাডারে এভাবে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় না। এ বিষয়ে সেলিমউল্লাহ খন্দকার বলেন, ১৪তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা ২৫ বছর ধরে চাকরি করেও এখনও অধ্যাপক হতে পারেননি। এই বঞ্চনা সহ্য করার মতো নয়।
জানা গেছে, শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চনা চলছে। অন্যসব ক্যাডারে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি দেওয়া হলেও এই ক্যাডারে বিষয়ভিত্তিক পদোন্নতি দেওয়া হয়। ফলে বিভিন্ন কলেজে জুনিয়ররা চাকরিতে সিনিয়রদের ওপরে উঠে গেছেন।

মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, দেশের ৩২৭টি সরকারি কলেজসহ সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৫ হাজার ১১২টি। এর মধ্যে বর্তমানে শূন্য রয়েছে প্রায় তিন হাজার পদ। এর প্রায় সবই ঢাকার বাইরের উপজেলা ও মফস্বল এলাকার কলেজের। এর বাইরে সম্প্রতি আরও ২৭৬টি বেসরকারি কলেজকে সরকারিকরণ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শহিদুলের জামিন শুনানিতে বিব্রত হাইকোর্ট

দেশের খবর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের জামিন শুনানি শুনতে বিব্রতবোধ করেছেন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ।

মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিব্রতবোধ করেন।
আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন দেওয়ান।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছাত্র হত্যা ও ছাত্রী ধর্ষণের গুজব ছড়ানো হয় পরিকল্পিতভাবে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এই গুজব ছড়িয়ে যে পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা ছিল তা অবশ্য সফল হয়নি।

এই গুজব ছড়ানোর ঘটনায় পাঁচ নারী, শিক্ষার্থীসহ বহুজন আটক হয়েছে। আটকদের মধ্যে আছেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।
গত ৫ আগস্ট রা‌তে ধানমন্ডির বাসা থেকে শ‌হিদুল আলম‌কে তুলে নেয় ডিবি। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ‘উস্কানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখা‌নো হয়। প‌রদিন এই মামলায় শহিদুল আলমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এরপর গত ১২ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় শহিদুল আলমের জা‌মিন আবেদন নামঞ্জুর ক‌রে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

১৪ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করা হলে ১১ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এরপর ১৯ আগস্ট শুনানির তারিখ এগোনোর জন্য আবেদন করা হলে তা গ্রহণ করেননি আদালত। ২৬ আগস্ট শহিদুল আলমের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চাইলে ওই আদালত শুনানির জন্য তা গ্রহণ করেননি। এ অবস্থায় ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে তার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। ২৯ আগস্ট আবেদনটি শুনানির জন্য আরজি জানানো হয়। আদালত এ ধরনের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত দাখিল করতে বলেন।
গতকাল শহিদুল আলমের পক্ষে জামিনের আবেদন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় থাকলেও জামিন শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমারে বন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জাতিসংঘের

বিদেশের খবর: মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দণ্ডিত রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের নতুন মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট।
সেই সঙ্গে মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য যে সাংবাদিকদের আটক রাখা হয়েছে, তাদের সবাইকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় গ্রেপ্তার রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) এবং কিয়াও সো ওকে (২৮) সোমবার দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ইয়াংগনের একটি আদালত।
রাখাইনের সেনা অভিযানের সময় ইনদিন গ্রামে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে লাশ পুঁতে ফেলার একটি ঘটনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছিলেন ওই দুই সাংবাদিক।

বরাবরই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসা এই দুই সাংবাদিক মামলার বিচারের সময় আদালতকে বলেছিলেন, গত ১২ ডিসেম্বর ইয়াংগনের এক রেস্তোরাঁয় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে দুই পুলিশ সদস্য তাদের হাতে কিছু মোড়ানো কাগজ ধরিয়ে দেন এবং তার পরপরই সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার এক বিবৃতিতে মিশেল ব্যাশেলেট বলেন, যে আইনি প্রক্রিয়ায় ওই দুই সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাতে স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক মানের বত্যয় ঘটেছে।

“এই রায় মিয়ানমারে দায়িত্বরত সব সাংবাদিককে এটাই বলছে- তারা সেখানে নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন না। হয় তাদের ঘটনা চেপে যেতে হবে নইলে কারাগারে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে “

গতবছরের ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েক ডজন নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার জবাবে সেনাবাহিনী ওই নির্মম দমন অভিযান শুরু করে। জাতিসংঘ বলছে, সেনাবাহিনীর ওই অভিযানে এ পর্যন্ত দশ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
রাখাইনে সেনাবাহিনীর ওই দমন-পীড়নের মুখে গতবছর অগাস্ট থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেখা হচ্ছে দক্ষিণ এ অঞ্চলের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা শরণার্থী সঙ্কট হিসেবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
উত্তরপাড়ার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই- ড. কামাল

দেশের খবর: বাংলাদেশে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট এবং তাদের নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে যেভাবে ঠাট্টা তামাশা করেছেন – তা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তফ্রন্ট নামে সদ্য-গঠিত ঐ জোটের নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে পত্র-পত্রিকায়, সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ চর্চা চলছে।
যেমন নতুন জোটের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন — তিনি যখন গরম বক্তৃতা দেবেন, তখন ধরে নেবেন তার প্লেন রেডি।
তার এবং তাদের জোট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্যকে তিনি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এসব নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে চান না।
তবে তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা যে নতুন জোটকে স্বাগত জানিয়েছেন সেটা ইতিবাচক।
জনগণের কাছে নতুন এই জোটের গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে যে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন সে বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা তো ওনার সমর্থনে কিছু করিনি, স্বাধীনভাবে করেছি, তাই এবিষয়ে তো তিনি প্রশ্ন তুলতেই পারেন।”

ড. কামাল হোসেন বলেন, “মানুষ এটা ভালোভাবেই জানে যে ২০০৮ সালে আমরা কী করেছিলাম। আমাদের জোটে যারা আছেন, ২০০৮ সালে নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে তাদের কী অবদান সেটা সবাই জানেন।”
“ভোটার তালিকা বাতিল করার জন্যে আমি মামলা করেছিলাম। তখন এক কোটি ৪৪ লাখ ভোট বাতিল করা হলো। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করালাম। ইয়াজউদ্দিন আহমদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের পদ থেকে সরালাম। তখন আমাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা হলো। এসব অবদানের কথা তো অনস্বীকার্য,” বলেন তিনি।

যুক্তফ্রন্টের এই নেতা বলেন, তাদের নতুন জোট চাইছে বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে। “যদি জনমত নেওয়া যায় তাহলে দেখবেন যে ১০০% সমর্থন এর পক্ষে আছে।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত চার/পাঁচ বছরে গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে কিন্তু সেরকম কিছুই করা হয়নি। “মনোনীত লোকজনদের নিয়ে সংসদ বানানো হয়েছে কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রের নাম গন্ধ কেউ পায় নি।”
এটা করার জন্যে নতুন জোটের সেই শক্তি কি আছে- এই প্রশ্নের জবাবে ড. হোসেন বলেন, “আমাদের শক্তি শূন্য বলে ধরে নিচ্ছি কিন্তু জনগণের সেই শক্তি আছে। আমাদের কথাবার্তা তো জনগণের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। জনমত যাচাই করে দেখেন তারা পরিবর্তন চাচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন এই জোটের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেছেন। তাদের নিয়ে ছড়াও কেটেছেন।
যুক্তফ্রন্টের নেতাদের ইঙ্গিত করে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বাংলাদেশে কিছু মানুষ আছে যারা গণতন্ত্রের কথা বলেন কিন্তু তারা অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করেন। তারা উত্তর পাড়ার (ক্যান্টনমেন্ট) দিকে তাকিয়ে থাকেন- এই মন্তব্যের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, এই বক্তব্য তাদের ব্যাপারে প্রযোজ্য নয়।

শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “আদৌ নির্বাচন হবে কিনা যারা বলেন তারা হয়তো বসে আছেন…কোন কিছু হলে সব উত্তর পাড়ার দিকে তাকিয়ে বসে থাকে। এটাই তো বাস্তবতা। যেমন আমার বাবাকে হত্যা করেছে। যিনি এই দেশটা স্বাধীন করে দিয়ে গেলেন তাকে যারা খুন করতে পারে তো সেদেশে কীনা হতে পারে!”
এর জবাবে কামাল হোসেন বলেছেন, “২০০৮ সালে আমরা যা করেছি সেটা তো গোপনে করিনি। আমি মামলা করে সব ভুয়া ভোটার বাতিল করলাম, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করলাম- এসব উত্তর পাড়ার কোন ব্যাপার নয়। তাদের সাথে আমাদের কোনদিন সম্পর্ক ছিল না।”

বিএনপির সাথে যুক্তফ্রন্টের কোন রাজনৈতিক ঐক্য হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, এবিষয়ে বিএনপির সাথে তাদের কোন কথা হয়নি। তবে এবিষয়ে নীতিগত ইস্যুতে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
“যদি হয় তখন দেখা যাবে,” বলেন তিনি। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মর্মাহত লতা মঙ্গেশকর

মর্মাহত লতা মঙ্গেশকর

কর্তৃক daily satkhira

বিনোদনের খবর: হিন্দি গানের রিমিক্স ভার্সান নিয়ে এর আগেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। আবারও বলিউডি গানের রিমিক্স স্টাইল নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। তাঁর গাওয়া এক কালজয়ী গানের রিমিক্স ভার্সান নিয়ে তিনি যে একেবারেই খুশি নন, তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন।
কিংবদন্তিসম ‘পাকিজা’ ছবির ‘চলতে চলতে’ গানই নতুন করে গেয়েছেন আতিফ আসলাম। ‘মিত্র’ নামের একটি নতুন বলিউডি ছবির জন্যই এই গান গেয়েছেন আতিফ। যা আপনার শ্রবণের পীড়া বাড়াবে।
আতিফের ওই গান না শুনলেও এ নিয়ে সরব হয়েছেন লতা। তিনি বলেছেন, তিনি শুনতে চান না ওই গান। পুরনো গানের এই রিমিক্স করার ট্রেন্ড তাঁর খারাপ লাগে। তিনি আরো বলেছেন, তিনি শুনেছেন গানের কথাও বদলে দেওয়া হয় রিমিক্স ভার্সানে। কার অনুমতিতে এসব হয় সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুরসম্রাজ্ঞী। সুরকার এবং গীতিকারদের সৃজনশীলতা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই বলেও আওয়াজ তুলেছেন প্রবাদপ্রতিম এই সংগীতশিল্পী।
এ প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন সংগীতশিল্পী তথা বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ও। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, আতিফ আসলামকে সম্মান জানিয়েই বলছি, একজন গায়ক হিসেবে এ ব্যাপারে মন্তব্য করার চেয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করব বরং। কবি-শিল্পীদের স্বাধীনতাও যে আজ বিলুপ্তির পথে, সে ব্যাপারেও মন্তব্য করেন বাবুল।

‘সত্যমেব জয়তে’ ছবিতে বলিউডের আরেক সংগীতশিল্পী অলকা ইয়াগনিকের গাওয়া ‘দিলবর দিলবর’ গানটি রিমিক্স করা হয়েছে। এ নিয়ে অলকা বলেন, কেন ওঁরা নতুন কোনো গান বানান না…..একটা সুপারহিট গানকে ব্যবহার করে তা বিকৃত করে গান বানান…..এবং বলেন যে, কত জনপ্রিয় হয়েছে গান?
তিনি আরো বলেন, তাঁদের পুরনো গান নিয়ে এসব করা হচ্ছে…..কিন্তু নতুনদের ‘ঔদ্ধত্য’ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখন ওঁরা লতাজির গানের সঙ্গেও এমনটা করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাজনীতি উত্তপ্ত; নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আন্দোলনের কৌশল দু’পক্ষে

দেশের খবর: আসছে ভোটের দিন। আর সেই আবহ ক্রমশ উত্তাপ বাড়াচ্ছে রাজনীতির অঙ্গনে। চলতি মাসেই নানা নির্বাচনমুখী কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মিত্র জোট সম্প্রতি আগামী জাতীয় নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতির পাশাপাশি মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচনের তফসিল হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। সরকারবিরোধীদের সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবেলার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।

অন্যদিকে, রাজপথের সরকারবিরোধী প্রধান দল বিএনপি এবং তার জোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ‘কঠোর আন্দোলনের’ হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার’ গঠন এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সংলাপের দাবি আদায় না হলে আগামী নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সতর্কবার্তাও দিচ্ছে তারা। এ ছাড়া নির্বাচন কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় পক্ষের জোট-মহাজোটের নানা সমীকরণ মেলানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজনীতিতে এখন বেশ গরম হাওয়াই বইতে শুরু করেছে। সামনের দিনগুলোতে যা আরও গনগনে হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন বিশ্নেষকরা।

এমন প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে ‘ডিজিটাল কারচুপি’র শঙ্কা জানিয়ে বিরোধিতা করছে বিএনপি। বামপন্থি দলগুলোর একটি বড় অংশও ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা থেকে সরে না এলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। এ ইস্যুতেও রাজপথ গরম হতে পারে।

অবশ্য রোববারের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন হবেই। এই নির্বাচন ঠেকানোর শক্তিও কারও নেই। বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে না কিংবা অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বাধাও দেবে না। বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ কিংবা আলোচনা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে অক্টোবরের শেষ ভাগ অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তফসিল ঘোষণার পরপরই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ছোট আকারের ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ হবে বলে জানানো হয়েছে সরকারের দায়িত্বশীল মহলের পক্ষ থেকে। সে ক্ষেত্রে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন হতে পারে বর্তমান সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন। এসব কারণে সেপ্টেম্বর মাসকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নামার ‘যথার্থ সময়’ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকারি দল। একই বিবেচনায় আন্দোলনে নামার জন্যও এ মাসকে ‘উপযুক্ত সময়’ হিসেবে মনে করছে বিরোধী মহল। ফলে একদিকে নির্বাচনী প্রস্তুতি, অন্যদিকে আন্দোলনের হুমকি বনাম তা মোকাবেলার পাল্টা হুমকি মিলিয়ে চলতি মাসকে আগামী দিনের রাজনীতির ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে সব মহল থেকেই।

আওয়ামী লীগে আন্দোলন মোকাবেলা ও নির্বাচনের প্রস্তুতি: আওয়ামী লীগে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে আলাদা নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপন করে প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই বঙ্গবন্ধু এভিনিউর নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও আলাদা নির্বাচনী সেল কাজ শুরু করবে। দলের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া নির্বাচনে জনমত দলের পক্ষে আনতে মানুষের মধ্যে প্রচারের লক্ষ্যে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের নাশকতার চিত্রসংবলিত পুস্তিকা, তথ্যচিত্র ও ভিডিওচিত্র তৈরির কাজও চলছে।

ক্ষমতাসীন দলের আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইকাজও এগিয়েছে অনেকটা। ৩০০ আসনেই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও জয়ী হতে সক্ষম প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে দল ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে দফায় দফায় জনমত জরিপ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ থেকে এর মধ্যেই জোট-মহাজোট শরিকদের ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছাড় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সূত্রগুলো বলছে, আগামী নির্বাচনের ধরন নিয়েও সরকারি মহলে নানা আলোচনা রয়েছে। বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো নির্বাচন বর্জন করলে মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টিকে দিয়ে ৩০০ আসনে আলাদাভাবে এবং জোট-মহাজোটের বাইরের দলগুলোকে অধিক সংখ্যায় নির্বাচনে নিয়ে আসার কথা ভাবা হচ্ছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও ঘোষণা দিয়েছেন, বিএনপি না এলে ৩০০ আসনে এককভাবে এবং বিএনপি এলে মহাজোটগত সমঝোতায় নির্বাচনে যাবে তার দল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে দলের একটি অংশ বেরিয়ে নতুন আলাদা দল গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

বিএনপি অংশ না নিলে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অধিকসংখ্যক দলকে নির্বাচনে আনার চেষ্টাও চলছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরই মধ্যে বামপন্থি আটটি দলের নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক বাম জোটের’ শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এই জোটের শরিক সিপিবি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি তিনি টেলিফোনে কথা বলেছেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানের সঙ্গে। বৈঠক অথবা ফোনালাপ করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবসহ অন্যদের সঙ্গে। গণতান্ত্রিক বাম জোট নেতারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখনও পরিস্কার করেননি। তবে তারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতৃত্বাধীন কোনো জোটেই তারা যুক্ত হবেন না।

নির্বাচনের মাঠে দল ভারী করতে ১৪ দলীয় জোট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সমমনা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন দলকে জোটে আনার চেষ্টাও চলছে। বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল এলায়েন্স (বিএনএ) তথা জাতীয় জোটসহ নয়টি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে ১৪ দলের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠক করে সরকারের শরিক হিসেবে থাকার আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে ১৪ দলের বর্তমান শরিকদের এতে আপত্তি থাকায় দলগুলোকে মহাজোটে যুক্ত করা হতে পারে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি দলীয় ফোরামের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রস্তুতির পুরো কার্যক্রম সেপ্টেম্বরের প্রথমেই শুরু হয়ে মাসের শেষদিকে চূড়ান্ত রূপ পাবে। বড়জোর তা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, জোট শরিকদের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে!

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তালিকা প্রায় প্রস্তুত। তিনি বলেছেন, বিএনপি ২০১৪ সালের মতো এবারও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশ-জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সেটা তাদের জন্য মারাত্মক ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ চক্রান্ত আবারও শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে।

বিএনপি ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবেলার কৌশল প্রণয়ন প্রক্রিয়াও চলছে সরকারি দলে। এক্ষেত্রে সরকারবিরোধীরা মাঠে নেমে নাশকতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালালে আইনগত প্রক্রিয়ায় এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় রাজনৈতিকভাবে মাঠ দখলের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ দেশজুড়ে সভা-সমাবেশ, জনসভাসহ নানা কর্মসূচি নেবে। রাজপথে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানের কর্মসূচিও ঘোষণা করতে পারে। ১৪ দলের সর্বশেষ বৈঠকে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন, নির্বাচন নিয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে ১৪ দল ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত মাঠে থাকবে।

বিএনপির টার্গেট কঠোর আন্দোলন: এদিকে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে বিএনপিতে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে দলকে পুরোপুরি সংগঠিত করার পাশাপাশি সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে দলটি। এসব কার্যক্রম শেষে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কিংবা পরপরই রাজপথে কঠোর আন্দোলনে যেতে চাইছে দলটি। আর এ আন্দোলন শুরুর জন্য মধ্য সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবরকে নিজেদের ‘ভাগ্য নির্ধারণের মাস’ হিসেবে গণ্য করছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আগামী আন্দোলন আর জাতীয় নির্বাচনকে তারা বাঁচা-মরার লড়াই হিসেবে দেখছেন। সরকারের মনোভাবের ওপর নির্ভর করে কর্মকৌশল নির্ধারণ করার কৌশল নিয়েছে দলীয় হাইকমান্ড। সরকারের ফাঁদে যাতে পা না পড়ে, সে জন্য প্রতিদিনই নিজেদের মধ্যে আলোচনা আর বৈঠক করে কর্মকৌশল নির্ধারণ করছেন তারা। এরই অংশ হিসেবে দলটি ধাপে ধাপে আন্দোলনে যাওয়ার কৌশল থেকে নির্দিষ্ট সময়ে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক সপ্তাহ থেকে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে আন্দোলনের গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা।

এর আগে ক্ষমতাসীন দলকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্যও পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায়ই বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন দলের নীতিনির্ধারক নেতারা। অন্যদিকে আগামী আন্দোলন সফল করতে ২০ দলীয় জোট শরিকদের আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ চলছে। শরিক জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচিয়ে তাদের আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় করার প্রক্রিয়াও শেষ করেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, এর আগে ধাপে ধাপে আন্দোলনে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণার উদ্যোগও ছিল তাদের। গত শনিবার দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভা থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। এ কর্মসূচির অজুহাতে সরকারকে হার্ডলাইনে যাওয়ার সুযোগ দিতে চান না বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি নেতারা। একই বিবেচনায় আন্দোলনে যাওয়ার আগে ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ার বিষয়টিকেও প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছেন তারা।

এ ক্ষেত্রে সরকারের বাইরে থাকা দল, সংগঠন ও ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক অথবা আলোচনা চলছে বিএনপির। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টিসহ সরকারের বাইরে থাকা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। কয়েকটি দল জাতীয় ঐক্যে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত না হলেও যাতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকে- এমন কৌশলও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বামপন্থি দলগুলোর নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক বাম জোট’ ছাড়াও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মতো দলও রয়েছে।

এদিকে চলতি মাসের মধ্যেই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে বেগবান করতে পুরো মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছেন সংশ্নিষ্ট নেতারা। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ করার পরিকল্পনাও নিয়েছেন তারা। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের সমাবেশের পর চাঁদপুরে একটি সমাবেশের চিন্তা রয়েছে তাদের। বিএনপির অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলেও এসব কর্মসূচিতে তারাও সমর্থন দেবেন। আর ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর এক প্ল্যাটফর্মে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের এক নেতা।

অন্যদিকে, আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার কাজও চলছে। দ্রুত দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গকরণসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, তফসিলের আগে সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ইসি পুনর্গঠন তাদের ন্যায্য দাবি। এসব দাবি পূরণে তারা সর্বাত্মক আন্দোলনে নামবেন। দাবি পূরণে সরকারকে বাধ্যও করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিফা বর্ষসেরা কোচের তালিকায় দেশ্যম, দালিচ ও জিদান

খেলার খবর: ২০১৮ সালের ফিফার বর্ষসেরা কোচের তালিকায় রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রভাব পড়েছে। যেখানে সংক্ষিপ্ত ৩ জনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশ্যম ও ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে নিয়ে আসা জ্লাতকো দালিচ। তবে ক্লাব ফুটবলে রিয়ালকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো আরেক ফরাসি তারকা জিনেদিন জিদানও জায়গা করে নিয়েছেন।

জিদান গতবার এই পুরস্কারটি পেয়েছিলেন। এবারও রয়েছেন তালিকায়। যেখানে ইতিহাসের প্রথম কোনো কোচ হিসেবে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি জিতেছেন তিনি। সর্বশেষ লিভারপুলকে হারিয়ে ট্রফিটি জেতেন।
ফরাসি এ তারকা গত আসরে চেলসির সে সময়ের কোচ অ্যান্তোনিও কোন্তে ও জুভেন্টাসের কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালিগ্রিকে হটিয়ে পুরস্কারটি ঘরে তোলেন।
এদিকে বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে দেশ্যম অধিনায়ক ও কোচ হয়ে বিশ্বকাপ জেতার অনন্য কীর্তি অর্জন করেন। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দলে নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। সেবার আবার সতীর্থ হিসেবে ছিলেন জিদান। আর এবারের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে তারকা শিষ্যরা শিরোপায় চুমু খায়।
এদিকে একটি সাধারণ দলকে বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলিয়ে ফাইনালে নিয়ে যান ক্রোয়েট কোচ দালিচ। এরই পুরস্কার হিসেবে তালিকায় জায়গা করে নিলেন।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে ফিফার অনুষ্ঠানে সেরা কোচের পুরস্কার দেয়া হবে। একই দিন বর্ষসেরা ফুটবলার, সেরা গোলরক্ষক ও সেরা গোলের পুরস্কার দেয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিফা বর্ষসেরা গোলরক্ষের তালিকায় কুর্তোয়া, লোরিস, ক্যাসপার

খেলার খবর: রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচেই দাপট দেখিয়েছে গোলরক্ষরা। প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকারদের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দীতা গড়ে তুলেছেন তারা। দারুণ সব গোল ঠেকিয়ে নজর কেড়েছেন অনেকেই। আর এদের মধ্যেই ফিফা বর্ষসেরা গোলরক্ষকের সেরা তিন জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হলো। এরা হলেন বেলজিয়ামের থিবাউ কুর্তোয়া, ফ্রান্সের হুগো লোরিস ও ডেনমার্কের ক্যাসপার স্মাইকেল।
ইতোমধ্যে রাশিয়া আসরের গোল্ডেন গ্লাভস জিতে নিয়েছেন কুর্তোয়া। এছাড়া জাতীয় দলকে তৃতীয় করে ব্রোঞ্জ জয়ে সাহায্য করেছেন। পাশাপাশি, ক্লাব চেলসির হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ১৫ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি তিনি।
রাশিয়ায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন লোরিস। বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। আর দলকে ফাইনালে নিতে চার ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি। এছাড়া টটেনহ্যাম হটস্পারসদের হয়ে ১৫টি ম্যাচে অপরাজিত ছিলেন।
রাশিয়া বিশ্বকাপে গোল পোস্টের আরেক চমকের নাম ক্যাসপার। নিচে ৯১ শতাংশ শট সেভ করেন ডেনমার্কের এই গোলরক্ষক। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তিনটি পেনাল্টি শট সেভ করেছেন। জাতীয় দল ডেনিশদের হয়ে ৫৭২ মিনিট অপরাজিত থেকে রেকর্ড গড়েন।
লন্ডনে ফিফার অনুষ্ঠানে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার দেয়া হবে। একই দিন বর্ষসেরা ফুটবলার সেরা কোচ ও সেরা গোলের পুরস্কার দেয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest