সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যুরেকর্ডীয় সম্পত্তিতে জোর পূর্বক ঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধেতালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনআশাশুনিতে অবঃ শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম গঠনআশাশুনিতে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতিসাতক্ষীরা জেলা হিউম্যান রাইটস জার্নালিষ্ট নেটওয়ার্কের কমিটি গঠনসাতক্ষীরায় ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিদর্শন

বান কি-মুন চ্যান্সেলর, ডিগ্রি পাসে ভিসি!

দেশের খবর: প্রতিষ্ঠাতা সূত্রে নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।এফিডেভিট করা একটি ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে তা চূড়ান্তও করেছেন। নিজেই বানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আইন। শুধু তাই নয়, উপাচার্য নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চ্যান্সেলর নিয়োগ দিয়েছেন। সেই চ্যান্সেলর দেশের রাষ্ট্রপতি নন, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন!

শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়টি নোবেল পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছে বলে দাবি রাজশাহীর বাগমারায় অবস্থিত অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম ইসলামি ইউনিভার্সিটির স্বঘোষিত উপাচার্য রফিকুল ইসলামের।

তার দাবি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও বাংলাদেশ সরকার এর অবকাঠামো উন্নয়নে কোনো অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে না। এ কারণে গত ১৩ আগস্ট স্থানীয় ভবানীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় চিঠি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টির নামে মঞ্জুরকৃত এক হাজার ৩৫০ কোটি টাকা থেকে স্থানীয় ভবানীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক রাজশাহী শাখায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সঞ্চয়ী হিসাব নং-০১০২৪৮৬৩ এর অনুকূলে ৬০ লাখ টাকা জমা দেয়া হোক।’

ওই চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক, এমনকি সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়েও।

২০১৬ সালের মে মাসে রফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য বলে দাবি করেন। একই বছরের ২০ জুলাই একটি লিফলেটে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং তৎকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের ছবি ব্যবহার করেন তিনি।

একই বছরের ১২ জুন ইউজিসি’র পক্ষ থেকে রাজশাহী বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর চিঠি দিয়ে নামধারী বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বঘোষিত উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ২৮ জুলাই রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ইজিসিকে জানানো হয়, ‘গত ২১ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব কোনো অবকাঠামো পাওয়া যায়নি। তবে অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদরাসা নামে সাইনবোর্ড ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো দেখা গেছে।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সাধারণ মানুষের বরাত দিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘ওই প্রতিষ্ঠানটিকে অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম ইসলামি দাখিল মাদরাসা হিসেবে চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয়রা রফিকুল ইসলামের ভুয়া প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কথিত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১৪ সালের ২৩ আগস্ট জাতীয় সংসদে প্রাথমিক অনুমোদন পায়। একই সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকেও চিঠি দিয়ে অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম ইসলামি ইউনিভার্সিটি নামে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের কথা জানানো হয়। বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও জানানো হয়।’

এদিকে রফিকুল ইসলামের এমন প্রচারণা বন্ধ না হওয়ায় ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট ইউজিসি রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর এক চিঠিতে জানায়, অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম ইসলামি ইউনিভার্সিটি নামধারী প্রতিষ্ঠানটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নয়। প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম অবৈধ ও বেআইনি। প্রতিষ্ঠানটির এমন কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম ইসলামি ইউনিভার্সিটি আগে একটি মাদরাসা ছিল। ২০১১ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে ফাজিল ও কামিল মাদরাসাগুলোকে অ্যাফিলিয়েট ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কুষ্টিয়ায় অবস্থিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারে মাদরাসাকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। পরে আবেদন করায় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের মাদরাসাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। জাতীয় সংসদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদন দেয়ার পর সরকার ও বিশ্বব্যাংক ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিশ্ববিদ্যালয়টির নামে অনুদান দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অর্থ ছাড় করছে না।’

রফিকুল ইসলামের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি জানায়, প্রতিষ্ঠানটির স্বঘোষিত উপাচার্য রফিকুল ইসলামের কর্মকাণ্ডে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থায় নামধারী ওই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ এবং উচ্ছেদ করে কমিশনকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এরপর মঞ্জুরি কমিশনকে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে উচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গত বছরের ২২ অক্টোবর রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার বারবার এক চিঠিতে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইউজিসির পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়। একই বছরের ২২ অক্টোবর জাতীয় দৈনিকে তথাকথিত বিশ্ববিদ্যালয়টির অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে ইউজিসি।

চলতি বছরের ১৩ আগস্ট স্বঘোষিত উপাচার্য রফিকুল ইসলাম স্থানীয় ভবানীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখা বরাবর একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামে মঞ্জুরকৃত এক হাজার ৩৫০ কোটি টাকা থেকে স্থানীয় ভবানীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক রাজশাহী শাখার বিশ্ববিদ্যালয়টির সঞ্চয়ী হিসাব নং-০১০২৪৮৬৩ এর অনুকূলে ৬০ লাখ টাকা জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠির অনুলিপি দেয়া হয় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক, এমনকি সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়েও।
রফিকুল ইসলামের দাবি, ‘আমি এই মাদরাসার প্রিন্সিপাল ছিলাম, আমি ডিগ্রি পাস। যখনই এই মাদরাসাকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয় তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। আমি যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন নিয়ে গবেষণা করেছি তাই আমাকে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেন। আমি এখন আমার নামের পাশে ড. লিখতে পারি।’

‘মাদরাসাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়া এবং ডক্টরেট স্বীকৃতি দেয়াসহ সব ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করতে গিয়ে জেলও খেটেছি। আমাকে পুলিশ ধরেও নিয়ে যায়। পরে গত বছর ছাড়া পেয়ে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেই।’

তিনি দাবি করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেলেও আমাকে টাকা দেয়া হচ্ছে না। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণকাজ সম্ভব হচ্ছে না, শিক্ষার্থীও ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও ইউজিসি থেকে ছয়বার চিঠি দিয়ে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করে আড়াই মাস জেলেও রাখা হয়।’

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষার্থী আছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন তো ছাত্র-ছাত্রী নেই, কারণ অবকাঠামো নেই, বসার জায়গা নেই, শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন নেই; তাহলে কে ভর্তি হবে এখানে? সোনালী ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, দ্রুত আমাদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেয়ার জন্য। টাকা দিলে ৬০০ একর জায়গার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউজিসি আইন বোঝে না, কাগজপত্রও বোঝে না। যদি বুঝতো তবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বান কি-মুন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে পুলিশে দিতে পারতো না। বিষয়টি আমি লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতি ও বান কি-মুনকে জানিয়েছি। তারা এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনে সার্বিক সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

রফিকুল ইসলামের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম ইসলামি ইউনিভার্সিটি নামধারী প্রতিষ্ঠানটির স্বঘোষিত উপাচার্য রফিকুল ইসলাম নামে জনৈক ব্যক্তি ইউজিসিতে গত কয়েক বছর ধরে চিঠি দেয়। এটা একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান। এ নামে দেশে কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেই। দুই বছর আগে রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছিল। এরপর তারা একটি রিপোর্টও দেয়। সম্প্রতি আবার একটি চিঠি পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এরা সম্ভবত সংঘবদ্ধ কোনো চক্র। গত বছর তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য ইউজিসি পত্রিকায় একটি গণবিজ্ঞপ্তি দেয়। বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতারণার সম্ভাবনা থেকেই আমরা ওই বিজ্ঞপ্তি দেই। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাল থেকে দশ টাকা কেজি চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে

দেশের খবর: খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আগামীকাল সোমবার থেকে ৫০ লাখ পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম আজ সাংবাদিকদের বলেন, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটিসহ ৩ দিন বন্ধ থাকায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবে ৫০ লাখ পরিবার।

২০১৬ সাল থেকে পরিবারপ্রতি ৫জন হিসেবে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ বছরের ৫ মাস এই সুবিধা পেয়ে আসছেন। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর- অক্টোবর ও নভেম্বর এই ৫ মাস ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হয়ে থাকে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৮৪ লাখ মেট্টিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এরমধ্যে চাল ১৩ দশমিক ৩৪ লাখ মেট্টিক টন ও গম ২ দশমিক ৫০ লাখ মেট্টিক টন। সেপ্টেম্বর ,অক্টোবর ও নবেম্বর এই তিন মাসে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিক টন চাল প্রয়োজন হবে।

কামরুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে চাল বিক্রির জন্য উপকারভোগীর ৫০ লাখ কার্ড প্রদান করা হয়েছে। কার্ডধারী ব্যক্তিদের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করা হবে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০ লাখ দরিদ্র মানুষ বছরে পাঁচ মাসের জন্য এ কর্মসূচির সুফল পেয়ে আসছেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। কমিটিতে জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তাঁরাই হতদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা ঠিক করে তাদের কার্ড দেয়া হয়েছে। কার্ডধারীদের নীতিমালা অনুযায়ী চাল দেয়া হয়।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিরন্ন মানুষের জন্য ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নতুন রাজনৈতিক জোটকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত নতুন রাজনৈতিক জোটকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল দলের অংশগ্রহণেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে তো রাজনৈতিক দল দুইটি। একটি আওয়ামী লীগ অপরটি আওয়ামী লীগ বিরোধী। আওয়ামী লীগ বিরোধীদের তো একটা জায়গা লাগবে। এ জন্য তারা যে ঐক্য করেছে আমি তাদের সাধুবাদ জানাই যে, ঐক্যটা থাক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন এবং অন্যদের নিয়ে নতুন জোট গঠন সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তার দলও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য একটি ভালো বিরোধী জোট প্রত্যাশা করে।

অতীতে জোটের নেতৃবৃন্দের কেউ কেউ সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি আশা করবো তাদের জোট নির্বাচন বানচালের জন্য নয় বরং সংঘবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্যই হবে।

বিমসটেক সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পর সেই বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন হলেও আগামী নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার, খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং রোহিঙ্গা সমস্যার মত বিষয় সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থান করে নেয়।

শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে ইভিএম’র আংশিক ব্যবহারকে সমর্থন করে বলেন, জাতীয় নির্বাচনে এর ব্যাপক ব্যবহারের জন্য আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, কিন্তু বিএনপি ইভিএম পদ্ধতির বিরোধিতা করছে। কারণ কি তাদের জাল ভোট প্রদানের নীল-নকশা বানচাল হয়ে যাবে, এই ভয়ে।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যারা অতীতে ভোট চুরি ও ভোটের কারসাজিতে অভ্যস্ত ছিল তারাই কিনা এখন নির্বাচনের অনিয়মের বড় বড় কথা বলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ, জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেয়ার রাজনীতি আমরা করি না। জনগণ যদি ভোট দেয় তবেই আমরা ক্ষমতায় থাকবো, না হলে নয়। আর আমার বিশ্বাস থেকেই আমি কথাগুলো বলছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারো ক্ষমতা নেই এই নির্বাচনকে বানচাল করার। কারণ, এটাই দেশকে এগিয়ে নেয়ার একমাত্র পথ এবং জনগণও এটা জানে যে, দেশে কেবল গণতান্ত্রিক সরকার থাকলেই দেশ উন্নত হতে পারে।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রই যেন দেশে এক সময় একটা প্রচলিত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ’৭৫-এ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর। তাঁর নিজের ওপরও বেশ কয়েকবার প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে একটি সুবিধাবাদী মহল রয়েছে যাদের দেশে অগণতান্ত্রিক সরকার থাকলে বেশ সুবিধা হয়, তারা কদর পায়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভাগ পায়।

২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে সাংসদরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় দেশের সেই স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনের নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। কিন্তু নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন নিজেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েই জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

তিনি স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া নির্বাচনী আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন।

প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের জন্য কমিশন গঠন হতে পারে বলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের আত্মস্বীকৃত খুনীদের আমরা বিচার করেছি। কিন্তু এর ষড়যন্ত্রকারী যারা তাদের কোন তদন্ত হয়নি বা বিচার হয়নি এবং সেটা হওয়া উচিত এটা হলো বাস্তবতা। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক রিপোর্ট আছে, অনেক গবেষণা হয়েছে। তাই একটা সময় আসবে যখন দেখা যাবে এগুলোও বেরিয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ মাহমুদ আলী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবার বাসচাপায় পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা

দেশের খবর: ছয় দিন আগে চট্টগ্রামে রেজাউল করিম রনিকে বাস থেকে ফেলে চাপা দিয়ে হত্যার রেশ এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই রাজধানীতে বাসচাপায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে হত্যা করল এক চালক।

ওই এসআই’র নাম উত্তম কুমার সরকার (৩৪)। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রূপনগর থানায় কর্মরত ছিলেন।

রোববার বিকালে মিরপুরের রাইনখোলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বিকাল সোয়া ৪টার দিকে এসআই উত্তম কুমার মিরপুরের বেড়িবাঁধ থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাস জব্দ করে থানায় নিয়ে আসছিলেন। তিনি ছিলেন ওই বাসটির সামনে। বাসের চালক ইচ্ছে করেই বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিল। চালক বারবার মোটরসাইকেলের আগে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ আরও জানায়, বাসটির বেপরোয়া গতি দেখে এসআই উত্তম কুমার রাইনখোলা মোড়ে স্পিডব্রেকারে এসে বাসটির সামনে মোটরসাইকেল দিয়ে ব্যারিকেড দেন। এ সময় চালক ক্ষিপ্ত হয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। প্রায় ১০০ গজ পর্যন্ত মোটরসাইকেলটিকে হেঁচড়ে নিয়ে যায় চালক। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক বাসচালক বিল্লাল হোসেন ও তার সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ। ঈগল পরিবহনের ওই বাসটি (ঢাকা মেট্টো ব-১৪-৬৮২৮) জব্দ করা হয়েছে। এসআই উত্তম কুমারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

শাহ আলী থানা পুলিশ জানায়, চার দিন আগে ঈগল পরিবহনের বাসটি রূপনগর থানাধীন বেড়িবাঁধ এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ নিয়ে রূপনগর থানায় একটি অভিযোগ জমা পড়ে। এসআই উত্তম কুমার রোববার বাসটি খুঁজে পেয়ে জব্দ করেন। পরে তিনি বাসটিকে থানায় নিয়ে আসছিলেন। ঘটনার সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। ছুটির দিন হওয়ায় রাস্তা ছিল ফাঁকা।

পুলিশের দারুস সালাম জোনের এসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঈগল পবিহনের সামনে ছিল উত্তম কুমারের মোটরসাইকেল। পেছন থেকে বাসটি তাকে চাপা দিলে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ইব্রাহীম খলিল বলেন, আমি মিরপুর এলাকায় রিকশা চালাই। ঘটনাটি ঘটেছে আনুমানিক সোয়া ৪টার দিকে। আমি তখন ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলাম। মিরপুর-১ থেকে রাইনখোলার দিকে আসছিল মোটরসাইকেলটি। এর পেছনেই ছিল ঈগল পরিবহনের বাস। মোটরসাইকেলটি রাইনখোলা মোড় পৌঁছতেই পেছন থেকে বাসটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়।

পুলিশ জানায়, এসআই উত্তম কুমারের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে। তিনি পরিবার নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকতেন। দেড় বছর ধরে তিনি রূপনগর থানায় কর্মরত ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি এএসআই থেকে এসআই পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি পল্লবী এবং শাহ আলী থানাতে কর্মরত ছিলেন।

এদিকে রূপনগর থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ঘটনার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটে যান। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শাহ আলী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, বাসটি বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন চালক। বাসচালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এসআই উত্তম কুমারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির জন্মাষ্টমী পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলা আাইনজীবী সমিতির উদ্যোগে ভগবান শ্রী শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে।
রোববার রাত ৮টায় সাতক্ষীরা পুরাতন আইনজীবী ভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সহসভাপতি অ্যাড. গোলাম মোস্তফা-২। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোখলেছুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা সহকারি জজ আনারুল ইসলাম, কলারোয়া সহকারি জজ মেহেদী হাসান মোবারক মুনিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশিষ্ঠ আইনজীবী অ্যাড. সোমনাথ ব্যানার্জী, জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. ওসমান গনি, অ্যাড. প্রসাদ সরকার, অ্যাড. জামিনী কান্ত সরকার, অ্যাড. গোবিন্দ বল্লভ, অ্যাড. অরুন কুমার ব্যানার্জী, অ্যাড. নর নারায়ন ঘোষ, অ্যাড. মোঃ আনিছুল ইসলাম, অ্যাড. দুর্গাপদ সরকার, অ্যাড. সোম নাথ ব্যানার্জী, অ্যাড.প্রবীর মুখার্জী, অ্যাড অগ্রদূত, অ্যাড. শহীদ হাসান, অ্যাড. শামীমা পারভীন।
বক্তারা বলেন, মর্তে যখন নৈরাজ্য সৃষ্টি হয় তখন ভগবান যুগে যুগে দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের পালনের জন্য ধরাধামে অবতীর্ণ হন। দ্বাপর যুগে কংস বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভগবান শ্রী শ্রী কৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি শুধুমাত্র সনাতন ধর্মালম্বীদের অবতার নন। তিনি সকল জীবের মঙ্গল কামনায় কাজ করে গেছেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রতারক চেনার সহজ ৭টি উপায়

অনলাইন ডেস্ক: আপানার মনে হচ্ছে আপনি যাকে ভালোবাসেন বা যার সাথে আপনি আপনার জীবন পাড় করছেন সেই জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনি হয়তো পুরোপুরি সৎ নন। আপনার ধারণা সঠিক হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মিথ্যা কথা বলা একটি সহজাত ও স্বাভাবিক ব্যাপার। সবাই মিথ্যা বলে। আপনি আমি জীবনে চলতে যেয়ে কম বেশি মিথ্যা বলেছি আর বলছিও। কিন্তু যদি ব্যপারটা এমন মনে হয় যে আপনার সঙ্গীর অসততা আপনার সুখ ও বিশ্বস্ততার উপর হানা দিচ্ছে, তাহলে আপনার জন্য উচিৎ হবে তার অসততার প্রমাণ তার সামনে হাতেনাতে তুলে ধরা।
আপনার জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনি যদি একাধিক মানুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রাখেন তাহলে আপনার পক্ষে তা জানা সম্ভব নয় আর বিজ্ঞান তা আপনাকে বলে দিতে অক্ষম। এ ক্ষেত্রে একমাত্র উপায় হল প্রতারক জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনিকে হাতে-নাতে ধরা। এছাড়া বিকল্প কোনো উপায় আপনার কাছে থাকতে পারে না।
আপনার জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনি আপনার সঙ্গে প্রতারণা করছে কিনা তা বুঝতে পারার জন্য খুবই সাধারণ ৭টি উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যেগুলোর মাধ্যমে বুঝতে পারবেন আপনার প্রিয় মানুষটি প্রতারক কিনা-

১. কোনো বন্ধুকে জিজ্ঞেস করুন
অন্য লোকদের এমনকি অচেনা পথচারিরও কোনো নারী-পুরুষের সম্পর্কে গোলমাল আছে কিনা তা বুঝার এক অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে।
বিওয়াইইউ মনোবিজ্ঞানীরা কয়েকটি দম্পতিকে একসঙ্গে করতে হয় এমন কাজ করতে দিয়ে এই ধারণাটির সত্যতা নির্ণয়ে একটি পরীক্ষা চালান। প্রতিটি যুগলের একজনকে কাজটি কীভাবে করতে হবে সে সম্পর্কে আগে থেকেই দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। আর অপরজনকে সে ব্যাপারে অন্ধকারে রাখা হয়। এরপর পুরো বিষয়টি ভিডিওতে ধারণ করা হয়। কাজটি শুরু করার আগে প্রতিটি যুগলের সদস্যদেরকে আলাদা আলাদা ভাবে তাদের সম্পর্ক নিয়ে গোপনে কিছু প্রশ্ন করা হয়। তারা তাদের সঙ্গী বা সঙ্গীনির সাথে কখনো যৌন বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন কিনা তাও জিজ্ঞেস করা হয়।
এরপর গবেষকরা কয়েকজন অচেনা পথচারিকে ওই ভিডিও দেখিয়ে অনুমান করতে বলেন, কোন যুগলের সদস্যরা তাদের সঙ্গী বা সঙ্গীনির সাথে প্রতারণা করেছেন। অচেনা স্বেচ্ছাসেবিরা বিস্ময়করভাবে সঠিক অনুমানটিই করেছেন।
গবেষণায় প্রমাণিত হয়, একত্রে করতে হয় এমন কোনো কাজ কোনো দম্পতিকে করতে দিয়ে তাদের আচার আচরণ পর্যবেক্ষণ করেই বলে দেওয়া সম্ভব তারা অসুখি কিনা বা পরস্পরের সঙ্গে যৌন বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন কিনা।

২. অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময় বিষয়টি নিয়ে ভাবুন
কারো চরিত্র সম্পর্কে সচেতনভাবে বিচার বিশ্লেষণ করতে দিলে লোকে সাধারণত বেশিরভাগ সময়ই ভুল করেন। কিন্তু যখন আমরা অবচেতনে হুটহাট কারো তৎপরতার বিচার করি তখনই আমার সত্যটা অনুধাবন করতে পারি।
২০১৩ সালের একটি গবেষণায়ও তেমনটিই প্রমাণিত হয়েছে। ওই গবেষণায় মনোবিজ্ঞানীরা একদল শিক্ষার্থী বিচারককে লোকের সাক্ষ্য দেওয়া প্রত্যক্ষ করে কে সত্য বলেছেন আর কে মিথ্যা বলেছেন তা নির্ণয় করতে বলেন। যেসব শিক্ষার্থী খুবই অল্প সময়ের মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তারা মিথ্যবাদিদেরকে সহজেই শনাক্ত করতে পেরেছেন।
এই গবেষণা থেকে প্রমাণিত হয়, মানুষের মন সত্য এবং প্রতারণার মধ্যে পার্থ্যক্য করায় অক্ষম নয়। তবে অচেতনভাবেই শুধু মানুষের মন এই পার্থ্যক্য নির্ণয়ে সবচেয়ে বেশি সক্ষম থাকে।

৩. যেসব শব্দ ব্যবহার করে সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় যুক্তরাজ্যের সাউদার্ন মেথোডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জেমস ডব্লিউ পেনিবেকার একটি টেক্সট অ্যানালাইসিস প্রোগ্রাম থেকে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি এবং তার সহকর্মী ডিয়ানে বেরি ওই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।
গবেষণায় তারা দেখতে পান, ভাষার বিশেষ কিছু কাঠামো পর্যবেক্ষণ করে কেউ সত্য এড়িয়ে গেছেন কিনা তা অনুমান করা সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, মিথ্যাবাদিরা এই তিন ধরনের শব্দ খুব কমই ব্যবহার করেন:
প্রথম ব্যক্তি শব্দ: “আমি”, “আমাকে”, বা “আমার”। জ্ঞানীয় শব্দ: “উপলব্ধি” বা “চিন্তা”। বর্জনকর শব্দ: “কিন্তু” বা “ব্যাতীত”। তবে তারা এই ধরনের শব্দগুলো বেশি ব্যবহার করেন। নেতিবাচক আবেগ প্রকাশক শব্দ: “ঘৃণা”, “রাগ”, বা শত্রু
গতি ক্রিয়া: “হাঁটা”, বা “চলা”

৪. গলার স্বরের আকর্ষণীয়তা পর্যবেক্ষণ করুন
কানাডার গবেষকরা সম্প্রতি একটি গবেষণায় একদল স্বেচ্ছাসেবি লোককে একজোড়া গলার স্বর শুনতে দিয়ে কে কতটা আকর্ষণীয় আওয়াজ করছেন তার মূল্যায়ন করতে বলেন। এরপর গবেষকরা তাদেরকে ওই দুজনের প্রত্যেকে কোনো রোমান্টিক সম্পর্কে কতটা প্রতারণা প্রবণ হবেন তারও মূল্যায়ন করতে বলেন।
নারী সেচ্ছাসেবকদের বেশিরভাগই বলেছেন, নিচু আওয়াজের গলার স্বর সম্পন্ন পুরুষরা তাদের সঙ্গীনিদের সাথে যৌন বিশ্বাসঘাতকতা করবেন। আর পুরুষদের বেশিরভাগই অনুমান করেছেন যে, উঁচু আওয়াজের গলার স্বর সম্পন্ন নারীরা তাদের সঙ্গীর সাথে যৌন প্রতারণা করবেন।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে যেসব পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোন নিঃসরনের হার বেশি তাদের গলার স্বর অনেক বেশি গভীর এবং ভরাট হয়। আর যেসব পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমাণ বেশি তারা যৌন বিশ্বাসঘাতকতাও করেন বেশি।

৫. সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহারের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ
আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনি কি আপনার সাথে কথা বলার চেয়ে বরং স্নাপচ্যাট করেই বেশি সময় ব্যয় করেন? সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ফেসবুক এবং টুইটার এই দুটি সামাজিক গণমাধ্যমে বেশি সক্রিয় তারা সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহার সংশ্লিষ্ট সংঘাতে বেশি জড়ান। যার ফলে তাদের মধ্যে “যৌন অবিশ্বস্ততা”, “সম্পর্ক ভাঙ্গা” এবং বিয়ে বিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটার হারও বেশি দেখা যায়।

৬. আচার-আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করুন
মুখের অভিব্যক্তি থেকে শুরু করে কথা বলার ধরণসহ দেহভঙ্গিগুলোতে হঠাৎ পরিবর্তন প্রতারণাপূর্ণ চারিত্রিক বৈশিষ্টেরই লক্ষণ প্রকাশ করে। এমনটাই বলেছেন একসময় এফবিআইয়ে আচরণ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা গবেষক লিলিয়ান গ্লাস।
মিথ্যা বলার সময় স্নায়বিক দুর্বলতা ও টেনশনে ভোগার কারণে দেহভঙ্গিগুলোতে এই পরিবর্তন দেখা দেয়। লিলিয়ান গ্লাস তার লিখিত বই “দ্য বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অফ লায়ারস”-এ এ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

৭. নীরবতা, ব্যক্তিগত আক্রমণ, বা প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি
লিলিয়ান গ্লাস বলেন, মিথ্যা বলার একটি স্পষ্ট লক্ষণ হলো হঠাৎ করেই কথা বলায় অক্ষমতা। এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ঘটে। কারণ মিথ্যা বলার সময় যে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয় তার প্রতি আমাদের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র প্রায়ই মুখের ভেতর লালা নিঃসরণের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
প্রতারক চরিত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট হলো, জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বরং ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বসবে। সিআইএ সদস্য ফিলিপ হাউস্টন, মাইকেল ফ্লয়েড এবং সুসান কার্নিসেরো তাদের সাম্প্রতিক বই “স্পাই দ্য লাই”-তে এমনটাই বলেছেন।
২০১১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আর এডওয়ার্ড গিজেলম্যান দেখতে পান যারা মিথ্যা বলেন তারা কোনো প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে সে প্রশ্নটি পুনরাবৃত্তি করার প্রবণতা প্রদর্শন করেন। সম্ভবত মিথ্যা কোনো উত্তর তৈরি করতে নিজেদেরকে সময়-সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই তারা এমনটা করে থাকেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশের ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতে: শিক্ষার্থীদের  বি. চৌধুরী

দেশের খবর: সাবেক রাষ্ট্রপতি, যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী তুরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তোমরা বলেছো উই ওয়ান্ট জান্টিস, সারা বাংলাদেশ বলেছে ‘উই ওয়ান্ট জান্টিস’। আমরা বলেছি ‘উই ওয়ান্ট জান্টিস’। তোমাদের মতো করে দেশকে ভালোবাসার বোঝার হয়তো আমাদের ঘাটতি ছিল, সে ঘাটতি তোমারা পুষিয়ে দিয়েছো। আমারা তোমাদের কাছে কৃতজ্ঞ। যে ভাষায় দেশকে ভালোবাসতে হবে, আম জনতার সাথে থাকতে হবে- সেটা তোমরা ভবিষ্যতেও থেকো। দেশ তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে আজকে নিজেকে কৃতজ্ঞ মনে করছি। দেশের ভবিষ্য তোমাদের হাতে। ফিউচার লাইজ ইউরস।
প্রজন্ম বাংলাদেশ-এর ‘যুব প্রচার অভিযান’ প্ন্যান-বি কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তুরুণ প্রজন্মের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার এ অঙ্গীকার করেন তিনি। রবিবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ কনভেনশন হলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
প্ন্যান-বি কর্মসূচি তুলে ধরেন প্রজন্ম বাংলাদেশ-এর প্রধান মাহী. বি. চৌধুরী। অনুষ্ঠান শুরু হয় একটি প্রতিবাদী ব্যান্ড সঙ্গীত দিয়ে, যেখানে স্যালুলয়েডের পর্দায় দেশের নানা অসঙ্গতি ও সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়ক ও কোটা শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডা. এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী আরও বলেন, বয়স এখানে কোনো বিষয় নয়। কোন বয়সে আমরা মা’কে মা বলবো, বাবাকে বাবাকে বাবা বলবো, দেশকে দেশ বলবো, অধিকারকে অধিকার বলবো? আর সেই অধিকারে দেশ চালাতে পারবো কোন বয়সে? এসময় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলক আ স ম আবদুর রবকে দেখিয়ে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মান সম্মান যারা এনেছে তাদের অন্যতম ওনার তখন মাত্র ২৩ বছর বয়স ছিল। তার যৌবন এখন নেই। ইতিহাস তার সাক্ষী আছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ধর্মের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না : রাষ্ট্রপতি

দেশের খবর: ধর্মকে ব্যবহার করে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
আজ রোববার সকালে বঙ্গভবনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ‘কোনো ধর্মই জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ বা সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না, তাই ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে তা সামাজিকভাবেই প্রতিহত করতে হবে।’
সমাজের বিদ্যমান সম্প্রীতি ও মৈত্রীর বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে।’
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এসেছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিশিষ্টজন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest