সর্বশেষ সংবাদ-
ঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিতআশাশুনিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলার তদন্তে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারদেবহাটায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের মতবিনিময়৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়াসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভাতালা থেকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ পাইকগাছায় উদ্ধারসাতক্ষীরা জেলা এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর এসোসিয়েশনের সভাসাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইড কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময়৯০ দশক ছাত্রদল প্লাটফর্ম এর সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠনসাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান চেয়ারম্যান আলিমের

সাতক্ষীরা-৩ ও ৪ বহাল রেখে ২৫ সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন

অনলাইন ডেস্ক: সাতক্ষীরা-৩ ও ৪ সংসদীয় আসনের ২০0৮ সালের পুনর্নির্ধারিত সীমানা বহাল রেখে জাতীয় সংসদের ২৫টি আসনের সীমানা পরিবর্তন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৩০ এপ্রিল) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়েছে।

এর ফলে সাতক্ষীরা ৩ আসনের দেবহাটা উপজেলা, আশাশুনি উপজেলা ও কালিগঞ্জের ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে এবং সাতক্ষীররা ৪ আসনের শ্যামনগর উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলার ইট ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সীমানা বহাল থাকল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রশাসনিক অখণ্ডতা ও স্থানীয় জনগণ এবং সংসদ সদস্যদের (এমপি) চাহিদার ভিত্তিতে সংসদীয় ২৫টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনেছে কমিশন।
পরিবর্তন আনা সংসদীয় আসনগুলো হচ্ছে- নীলফামারী-৩ ও ৪, রংপুর-১ ও ৩, কুড়িগ্রাম-৩ ও ৪. সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, খুলনা-৩ ও ৪, জামালপুর-৪ ও ৫, নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫, সিলেট-২ ও ৩, মৌলভীবাজার-২ ও ৪, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-৫ ও ৬, কুমিল্লা-৬, ৯ ও ১০ এবং নোয়াখালী-৪ ও ৫।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবর্তিত সংসদীয় আসনগুলো বেশির ভাগই ২০০৮ সালে নির্বাচনের সময়ের সীমানায় ফিরে গেছে। আর বাকি ২৭৬টি আসন দশম নির্বাচনের সময়ের মতো রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতি সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন আদমশুমারি রিপোর্টের ভিত্তিতে জনসংখ্যার অনুপাত, প্রশাসনিক সুবিধা, ভৌগলিক অখণ্ডতা বিবেচনায় নিয়ে সংসদীয় আসেন সীমানা পরিবর্তন করে থাকে। সে অনুযায়ী এবার আদমশুমারি রিপোর্ট প্রকাশিত না হলেও এমপি ও স্থানীয় জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে এসব আসনের সীমানায় এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগে ৪০টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনার কথা বলে নির্বাচন কমিশন। তবে ওই সময় কমিশনের খসড়া তালিকার ওপর ৬০টি দাবি আপত্তি ও সুপারিশ জমা পড়ে। সেগুলোর উপর শুনানি শেষে সোমবার চূড়ান্তভাবে ২৫টি আসনের সীমানা পরিবর্তন আনলো ইসি।
তবে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ ও সাভারের সীমানা পরির্বতন আনতে চাইলেও সরকারের আপত্তির কারণে তা আনা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অক্টোবরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল

আগামী অক্টোবর মাসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। বিস্তারিত আসছে…

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মৃত্যুকূপের সন্ধান লাভ!

সম্প্রতি গবেষকেরা ওমান উপসাগরে বিশাল একটি মৃত্যুকূপের সন্ধান পেয়েছেন। গবেষকদের দাবি, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মৃত্যুকূপ। এর আয়তন স্কটল্যান্ডের চেয়েও বেশি। লন্ডনের ইস্ট অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউইএ) গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ওমানের সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয় ওই গবেষণায় সহযোগিতা করেছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, ওমান উপসাগরের ওই বিশাল জায়গায় কোনো প্রাণী টিকতে পারছে না। আরব সাগরের অংশ ওই জায়গা আগে অপেক্ষাকৃত ছোট থাকলেও ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। জলদস্যু ও সাগরের ওই অংশের মালিকানা নিয়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব থাকায় এত দিন ওই এলাকা নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি।

সম্প্রতি গবেষকেরা এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদন বলছে, ওমান উপসাগরের প্রায় অক্সিজেনশূন্য ওই এলাকা স্কটল্যান্ডের চেয়ে বড়। ওই এলাকার আয়তন ৭৮ হাজার বর্গকিলোমিটারের চেয়েও বেশি, যা দিন দিন আরও বাড়ছে।

ওই অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহে সিগ্লাইডার্স নামের রোবট ব্যবহার করেছেন গবেষকেরা। এই রোবট পানিতে এক হাজার মিটার গভীর পর্যন্ত যেতে পারে। এই রোবটে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার থাকে, যা তথ্য বিশ্লেষণে বেশ দক্ষ। গবেষকেরা বলছেন, মৃত্যুকূপে এমনও জায়গা আছে যেখানে রোবট তেমন কোনো অক্সিজেনই পায়নি।

গবেষকেরা বলছেন, পরিবেশগত এই বিপর্যয় শুধু সেখানকার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্যই হুমকি নয়। সেখানকার সমুদ্রের ওপর জীবন-জীবিকার জন্য নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্যও হুমকি।

গবেষক দলের প্রধান বাসতিন কুইস্ট বলেন, ওমান উপসাগরের এই এলাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মৃত্যুকূপ। এর জন্য দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন। বিশ্বের যেকোনো সাগরে ২০০ থেকে ৮০০ মিটার গভীরতায় অক্সিজেন কম থাকে। কিন্তু মৃত্যুকূপে পানির এই গভীরতায় অক্সিজেনের পরিমাণ আরও কম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
লা লিগার পুনরুদ্ধার করলো মেসির বার্সেলোনা
লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে দেপোর্তিভো লা করুনাকে হারিয়ে লা লিগা শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো বার্সেলোনা। রবিবার রাতে দেপোর্তিভোকে তাদেরই মাঠে ৪-২ গোলের জয় পেয়েছে এরনেস্তো ভালভারদের দল।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন ব্রাজিল তারকা ফিলিপ কুতিনহো। সেই এগিয়ে থাকার স্বাদ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বার্সেলোনা। ৩৮তম মিনিটে সুয়ারেজের পাঠানো বল দুরূহ কোণ থেকে প্রতিপক্ষের জালে জড়ান মেসি। এর দুই মিনিট পরেই ব্যবধান কমায় দেপোর্তিভো। লুকাস পেরেসের নীচু শট সহজেই পরাজিত করে টের স্টেগানকে। ৬৪তম মিনিটে ম্যাচে সমতা টেনে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসায় দেপোর্তিভো। দারুণ এক পাসিং আক্রমণে গোলটি করেন তুরস্কের মিডফিল্ডার এমরে কোলাক। ৮০ মিনিট পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন মেসি। তিন মিনিটের ব্যবধানে আরো দুটি গোল করে দলকে এনে দেন বড় জয়।
এই নিয়ে মোট ২৫ বার লা লিগা চ্যাম্পিয়ন হলো বার্সেলোনা।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আম্বার রাড পদত্যাগ করেছেন। ‘উইন্ডরাশ জেনারেশন’ বিতর্কে সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন তিনি। অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার বিষয়ে সরকারি কমিটিকে ‘অসাবধানতাবশত বিভ্রান্ত’ করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত ২৪ এপ্রিল যুক্তরাজ্যে আসা কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নাগরিকদের কোনো ডকুমেন্ট ছাড়াই ন্যূনতম ফি’র বিনিময়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন আম্বার রাড। তিনি অভিবাসন সংক্রান্ত সরকারি কমিটিকে জানান, এ বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান ছিল না। অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা দ্য গার্ডিয়ানকে রাড বলেছিলেন, ‘অভিবাসন কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কমনওয়েলথভুক্ত ক্যারিবীয় দেশগুলো থেকে আসা উইন্ডরাশ জেনারেশনের ল্যান্ডিং কার্ড ধ্বংসের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার। এ জন্যে উইন্ডরাশ জেনারেশনের কাছে ক্ষমাও চাইতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মে’কে।

উইন্ডরাশ জেনারেশন বিষয়ে সরকার ঘোষণা দেয় যে, ১৯৪৮ থেকে ১৯৭৩ সাল সময়ে যুক্তরাজ্যে কর্মজীবন কাটিয়ে যারা নিজ দেশে ফেরত গেছেন তারাও চাইলে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিতে পারবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মোদিবিরোধী প্রথম র‌্যালি রাহুলের; ‘মোদির মুখোশ খুলে গেছে’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির মুখোশ খুলে গেছে। মানুষ বুঝে গেছেন তার কথা আর কাজে কোনো মিল নেই। ২০১৯ সালে কংগ্রেস জিতছেই! কংগ্রেস তার শক্তি দেখিয়ে দেবে।’ রবিবার নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সেখানে রাহুল ছাড়া বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মননোহন সিং, সোনিয়া গান্ধী। খবর এনডিটিভির।

জনসভায় রাহুল আরো বলেন, মোদি যেখানেই যান দুর্নীতি দূর করার প্রসঙ্গ তোলেন। কিন্তু কাজে কতটা কী করেন তা সবাই দেখতে পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি বড় বড় শিল্পপতির ঋণ মওকুফ করে দেন, কিন্তু কৃষকদের এক পয়সাও ছাড়েন না। দেশে একের পর এক কৃষক আত্মহত্যা করছেন অথচ মোদি সে বিষয়ে একটি শব্দও খরচ করলেন না।

শুধু তাই নয়, নীরব মোদি যে এত বড় কাণ্ড ঘটিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল তা নিয়েও দেশের ‘চৌকিদার’ চুপ।’ কেমন প্রধানমন্ত্রী তিনি, এমন প্রশ্নও তোলেন রাহুল। উন্নাও এবং কাঠুয়া কাণ্ড নিয়েও নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করেন রাহুল।

জনসভার আগে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে রবিবার নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে র‌্যালি করেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সমালোচনা সত্ত্বেও নতুন আন্তর্জাতিক জরিপে বিএনপি’র চেয়ে জনপ্রিয় আ. লীগ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ, বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির তুলনায় বাংলাদেশে বেশি জনপ্রিয় বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউট (আইআরআই)। বেশ কিছু ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনের (এফজিডি’র) মাধ্যমে ২০১৭ সালের মধ্যবর্তী সময় থেকে চলা পর্যালোচনা শেষে গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।
এর বিপরীতে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী বিএনপি ও দলটির প্রধান খালেদা জিয়া, বিএনপি’র বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন ও পলাতক আসামি তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। বিএনপির এই দুই নেতা ও জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির তুলনায় বর্তমানে সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টির সম্পর্কে বেশি ইতিবাচক মনোভাব প্রদান করেছে অংশগ্রহণকারীরা।
এফজিডি-তে অংশ নেয়া অধিকাংশরাই জানিয়েছে সামনের নির্বাচনে বড় প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থাকবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। সহিংসতা, স্বৈরশাসন এবং ধর্মীয় চরমপন্থার জন্য তারা নির্বাচনে পিছিয়ে থাকবে বলে জানা যায়। আইআরআই তাদের ওয়েবসাইটে (www.iri.org) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, এফিজিডিতে অধিকাংশরাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বিষয়ে ইতিবাচক মতামত প্রদান করেছেন। তাদের মতে, দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা এবং বর্তমানে ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশের উন্নয়নে নেয়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যক্রমের কারণেই এই ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অধিকাংশই নিজেদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে তাদের বেশির ভাগ এই আর্থিক দুরবস্থার জন্য সরকারকে দায়ী করেননি। অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতিকে ‘গুরুতর’ সমস্যা বলে চিহ্নিত করেন। তারা অভিমত দেন, এই দুর্নীতিই মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করছে। অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনে জালিয়াতি এবং সহিংসতার ব্যাপারে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত মান নিয়ে সমালোচনা করেন। তারা আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে চান। পাশাপাশি প্রায় সবাই নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাকরাইল মসজিদ ঘিরে আতঙ্ক, আবারো সংঘর্ষের আশঙ্কা
বাংলাদেশের তাবলিগের মারকাজ কাকরাইল মসজিদ ঘিরে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তাবলিগে আধিপত্য ও দিল্লির মুরব্বি বিতর্কিত মাওলানা সা’দ কান্ধলভিকে নিয়ে শনিবার দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর কাকরাইল মারকাজে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জামাতের আগমন কমে গেছে। দূর দূরান্ত থেকে আসা ওলামা, তলাবা, মুবাল্লিগদের দেখা মেলেনি। যাদের চিল্লা শেষ হয়েছে তারাও রিপোর্ট করতে আসেনি এই মসজিদে। সবাই সহিংসতার আতঙ্কে রয়েছে। বাংলাদেশের দুই মুরব্বি ও শুরা সদস্য মাওলানা যুবায়ের আহমদ ও প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের আধিপত্য নিয়ে পুরো তাবলিগ জামাত প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সারাদেশের সাথিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে প্রশাসনের নির্দেশে তাবলিগের হেফাজাতে ইসলাম গ্রুপের প্রধান মাওলানা যুবায়ের আহমদ ও মাওলানা সা’দ গ্রুপের প্রধান সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম রবিবার কাকরাইল মারকাজে আসেননি। মাওলানা যুবায়ের আহমদ রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসায় এবং সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ধানমণ্ডী ৭-এর বাসায় ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মুকিম [মারকাজে অবস্থানকারী] জানান, কাকরাইল মসজিদে স্বাভাবিক কাজ কর্ম চললেও সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, আগের মতো বাইরের কেউ এসে ঝামেলা করে কিনা তা নিয়ে তটস্থ।। মাওলানা যুবায়ের আহমদ ও সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম মারকাজে ফিরলে আবারও সংঘর্ষ হতে পারে। তাদের দুই গ্রুপের লোকজন এখনও মারমুখী অবস্থায় রয়েছে। এবার মারামারি হলে বড় রক্তারক্তির মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
তাবলিগের সাধারণ সাথিরা দাবি করেছেন, মাওলানা যুবায়ের আহমদ ও সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামকে তাবলিগের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে অপসারণ করে প্রকৃত আলেমদের ভেতর থেকে কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা। এই দুই গ্রুপ এ পর্যন্ত চারদফা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। কাকরাইল মসজিদে রক্তারক্তি হয়েছে। একজনকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে।
মাওলানা যুবায়ের আহমদের ছেলে মাওলানা হানযালা বলেন, আব্বাজানের একটাই বক্তব্য, আমি ফেতনা ও ঝগড়ার তাবলিগ করবো না। যতদিন পর্যন্ত তাবলিগের এ অস্থিরতা না কাটবে ততদিন কাকরাইলেও যাবো না। বাসার পাশে মাদরাসা আছে সেখানে পড়াবো। মহল্লার সাথীদের সাথে দাওয়াতের কাজ করবো। অপরদিকে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নফল নামাজ পড়ছি, কুরআন তেলাওয়াত করছি, সাথীদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। সাথীরাও সাক্ষাতে বা ফোনে যোগাযাগ রক্ষা করছেন। হেফাজাত সমর্থকদের দাবি প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম কোন আলেম না হয়েও জোর করে কাকরাইল মারকাজ দখল করে আছেন। তার গ্রুপে কোন প্রসিদ্ধ আলেম নেই। সবাই জেনারেল শিক্ষিত। অপরদিকে ওয়াসিফুল গ্রুপের দাবি হেফাজাতে ইসলাম তাবলিগকে কুক্ষিগত করতে চায়। তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে লিপ্ত।
কাকরাইল মসজিদে ফের দুই গ্রুপের মারামারির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নির্দেশে দুই গ্রুপের শীর্ষ মুরব্বিরা ১মে পর্যন্ত কাকরাইল মসজিদে ঢুকতে পারবেন না। ইতিপূর্বে সংঘাতের পর তাদের বিরোধ মেটাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ভূমিকা রেখেছিলেন। এবার তিনি দেশে না থাকায় তার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে দুই গ্রুপের সদস্যদের।
সূত্র জানায়, কাকরাইল মারকাজে শুরা সদস্য রয়েছেন ১১ জন। এরমধ্যে দিল্লির মুরব্বি মাওলানা সা’দ কান্ধলভির পক্ষে রয়েছেন সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, খান সাহাবুদ্দিন নাসিম, মোশাররফ হোসেন, ইউনুস শিকদার, শেখ নুর মোহাম্মদ। অন্যদিকে, মাওলানা সা’দ কান্ধলভি বিরোধী অবস্থানে রয়েছেন মাওলানা যোবায়ের আহমেদ, মাওলানা রবিউল হক, মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন, মাওলানা ওমর ফারুক। একজন আছেন নিরপেক্ষ। তিনি হলেন মাওলানা মোহাম্মদ ফারুক।
সূত্র জানায়, গত বছর নভেম্বর মাসে সংকট নিরসনে পাঁচজন কওমি আলেমকে তাবলিগ জামাতের পরামর্শক ও উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয়। তারা হলেন- কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রকারী সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম ও গুলশান সেন্ট্রাল (আজাদ) মসজিদের খতিব মাহমুদুল হাসান, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুছ, শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব ফরীদ উদ্দিন মাসউদের প্রতিনিধি মুফতি মুহাম্মদ আলী, মারকাজুদ দাওয়াহ বাংলাদেশের আমিনুত তালিম মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক। কওমি আলেমদের পাঁচ সদস্যের এই উপদেষ্টা কমিটিকে প্রথমে মেনে নিলেও পরবর্তীতে তাদের প্রত্যাখ্যান করেন প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের অনুসারীরা। এরপর বিরোধ জটিল হয়। গত শনিবার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে দু’পক্ষকে নিয়ে কাকরাইল মসজিদে বৈঠকে বসেন রমনা জোনের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ১মে পর্যন্ত সৈয়দ ওয়াসিফুল ও তার গ্রুপের সক্রিয় সদস্য আব্দুল্লাহ মনছুর ও দৈনিক ভোরের পাতার মালিক ড. এরতেজা হাসান এবং মাওলানা জুবায়ের ও তার গ্রুপের সদস্য মাহফুজ হান্নান ও ড. আজগর কাকরাইলের বাইরে থাকবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফেরার পর বৈঠকে বসে সংকটের সমাধান করা হবে।
তাবলিগের একজন মুরব্বী ইত্তেফাককে বলেন, বিবাদমান দুই গ্রুপের প্রধান মাওলানা যুবায়ের আহমদ এবং সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামকে তাবলিগের নেতৃত্ব থেকে অপসারণ না করা হলে খুনোখুনির ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দীর্ঘকাল ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। এখন স্বেচ্ছাচার হয়ে গেছে। কাকরাইল মারকাজকে বাসাবাড়ি বানিয়েছে। তাবলিগের মালিক মনে করেন নিজেদের।
তিনি বলেন, দু’পক্ষ গত এক বছরে অন্তত চারবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল তার মন্ত্রণালয়ে কয়েকবার বৈঠকও করেছেন। এরপরও দু’পক্ষকে সমঝোতায় আনা সম্ভব হয়নি। এর আগেও তাবলিগ জামাতের বিরোধ নিয়ে এই দু’পক্ষের মধ্যে মামলা-পাল্টা মামলা হয়েছে। এর একমাত্র সমাধান দুই গ্রুপের শীর্ষ নেতাদের বুঝিয়ে থামানো।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest