গাজা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ফিলিস্তিনের গাজায় নিহতের ঘটনায় ‘স্বাধীন ও নিরপেক্ষ’ তদন্তের প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কুয়েতের উত্থাপিত প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র এ ভেটো দেয়।

দখল করা ভূখণ্ডে অধিকার ফিরে পেতে গত শুক্রবার ছয় সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। প্রথম দিন ইসরায়েলের হামলায় ১৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। আহত হয় দেড় হাজারের বেশি মানুষ, যাদের ৭৫৮ জন আহত হয়েছে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে।

নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের এ সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘স্বাধীন ও নিরপেক্ষ’ তদন্তের দাবিতে গত শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করে কুয়েত। পরদিন শনিবার পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের প্রত্যেকেরই ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। ইসরায়েলকে বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্র গত শনিবার সেই ক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে।

কুয়েতের প্রস্তাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত করার পাশাপাশি ইসরায়েল-গাজা সীমান্তের পরিস্থিতির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারের’ কথা উল্লেখ করা হয় এবং ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এসবের পাশাপাশি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের আচরণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ক্ষোভ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের মধ্যে ইসরায়েল-গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের কর্মসূচি অব্যাহত আছে। তবে প্রথম দুই দিনের তুলনায় গত রবিবার সীমান্তে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কিছুটা কম ছিল। গত শুক্রবার নিহত ১৬ ফিলিস্তিনির দাফনে হাজার হাজার মানুষ যোগ দিতে যাওয়ায় মূল বিক্ষোভে লোকসমাগম খানিকটা কম হয়।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজন গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের সশস্ত্র শাখার সদস্য ছিল বলে জানিয়েছে হামাস। ‘প্রত্যাবর্তনের মহান যাত্রা’ শিরোনামের ছয় সপ্তাহব্যাপী ওই কর্মসূচিতে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি হামাসের সশস্ত্র শাখার ওই সদস্যরাও যোগ দেয়।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী গত শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ১০ জন হামাসের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত ছিল বলে তাদের কাছে রেকর্ড আছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর সময় তাদের হত্যা করা হয় বলে ইসরায়েলের দাবি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সরকারি কলেজে শিক্ষক নিয়োগে আসছে বিশেষ বিসিএস

সরকারি কলেজের শিক্ষক সঙ্কট নিরসনে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) চাহিদা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সঙ্কট চরম পর্যায়ে রূপ নেয়ায় শিক্ষা ক্যাডার পদে এই নিয়োগ দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। রবিবার মন্ত্রণালয়ে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সারা দেশে সরকারি কলেজগুলোতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় দুই হাজার প্রভাষক পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও শিক্ষক শূন্যতায় নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছে কলেজের শিক্ষাকার্যক্রম। সাধারণ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে যে পরিমাণ শিক্ষক নিয়োগ পাচ্ছেন তা দ্বারা শিক্ষক সঙ্কট দূরীকরণ সম্ভব হচ্ছে না।

এ কারণে স্বাস্থ্য ক্যাডারে চিকিৎসক নিয়োগে বিশেষ বিসিএস আয়োজনের মতো শিক্ষক নিয়োগ দিতেও রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হয়। শিক্ষা ক্যাডারে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাবের ওপর সভায় নীতিগত সিদ্ধান্তে সবাই একমত পোষণ করেছেন। সভায় সভাপত্বিত করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন। এছাড়াও মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ শামছুল হুদা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অনেক সরকারি কলেজে প্রভাষক পদে শিক্ষক সঙ্কট নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ করণে শিক্ষা ক্যাডারে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার আয়োজন করতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) চাহিদা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চলতি মাসেই এ চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, পিএসসির আয়োজিত সাধারণ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে যে সংখ্যাক শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ আসে তাদের নিয়োগ দিয়ে এ সমস্যা দূরীকরণ সম্ভব হচ্ছে না। এখনো অনেক কলেজে বিষয়ভিত্তিকে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পার্শ্ববর্তী কলেজের শিক্ষক ধার করে এনেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ বিসিএস আয়োজন করা হলে এসব সমস্যা লাঘব করা সম্ভব হবে।

আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যেই শিক্ষকদের জন্য বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করতে শিগগিরই পিএসসিকে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে সরকারি কলেজে নিয়োগের জন্য এক থেকে দেড় হাজার প্রভাষক নির্বাচনের জন্য সুপারিশ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, আলিয়া মাদরাসাসহ ৩২৯টি সরকারি কলেজ রয়েছে। এসব কলেজে মোট ১৬ হাজার ৫৫৪টি শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে অধ্যাপকের পদ রয়েছে ৫০৭টি, সহযোগী অধ্যাপক দুই হাজার ২২১, সহকারী অধ্যাপক চার হাজার ২৮৪ এবং প্রভাষক পদে আট হাজার ২৬টি পদ রয়েছে। দেশের ২১৫টি সরকারি কলেজে শিক্ষক সঙ্কট সবচেয়ে বেশি। প্রায় চার হাজার শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। সবচেয়ে বেশি শূন্য প্রভাষকের পদ। এ পদ খালি আছে প্রায় দুই হাজারটি।

শিক্ষা ক্যাডারে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারি কলেজ উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হলেও সেখানে চরম শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমেই এ সঙ্কট নিরসন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের জন্য বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের জন্য অফিসিয়াল আবেদন পাইনি। সেটি পেলে আইন পরিবর্তনসহ এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।

জানা গেছে, এই বিশেষ বিসিএস আয়োজন করার ক্ষেত্রে পিএসসির চলমান আইনে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। এ আইন পরিবর্তনের জন্য খসড়া আকারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। সেখান খসড়া আইন চূড়ান্ত করে তা গ্রেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এরপর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করতে পারবে পিএসসি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খালেদার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ঢামেকের বিশেষ বোর্ড গঠন

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের চার অধ্যাপক নিয়ে বিশেষ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। রবিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে প্রায় এক ঘণ্টা বোর্ড সদস্যরা কারাগারে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

প্রফেসররা হলেন- অধ্যাপক মো. শামছুজ্জামান (অর্থোপেডিক্স) মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন), সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আগামীকাল বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং বাকি আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড কারাদণ্ড দেন আদালত।রায়ের পর খালেদা জিয়াকে ঢাকার পুরাতন কারাগারে রাখা হয়েছে।

গত ৫মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনুমতি পেতে বিএনপিপন্থী ১২ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল নাজিমুদ্দিন রোডের পুরান কারাগারে গেলে অনুমতি মেলেনি।ওইদিন এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সার্বিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের ফোরাম ‘সচেতন চিকিৎসক সমাজ’। একই সাথে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কারাগারে মেডিকেল টিম পাঠানোর দাবি জানিয়েছে তারা।

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কারেগারে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার অনুমতি চেয়েছিল বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা। তারা ওইদিন দুপুরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে অনুমতি চাইতে কারাফটকে যান। কিন্তু অনুমতি না পেয়ে বেলা আড়াইটার দিকে তারা কারাফটক ত্যাগ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, মামলা ৭৫ পিসের; ওসি ও এসআইয়ে বক্তব্য গ্রহণ করেননি আদালত

‘পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর মামলা হয়েছে ৭৫ পিসের’ এ সংক্রান্ত পুলিশের তদন্ত কমিটি ও পল্লবী থানার ওসি এবং এসআই এর বক্তব্য গ্রহণ করেনি আদালত। তবে এ বিষয়ে ফের আরও তদন্তে জন্য পুলিশের মিরপুর জোনের ডিসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জিয়ারুল ইসলাম পুলিশেল ওই প্রতিবেদন নাকচ করে আগামী দেড় মাসের মধ্যে আরও তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন।
আদেশে বলা হয়, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বাদী এসআই কাওছার ও ওসি দাদন অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করে তাদের আইনানুগ কর্তব্য থেকে বিচ্যুতি হয়েছে। ওই অভিযোগের আলোকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কামাল হোসেন এবং এসি পল্লবী জোন পদন্নতিপ্রাপ্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এবিএম জাকির হোসেন তদন্ত করেন। যারা গত ২৭ মার্চ প্রতিবেদন দাখিল করেন। যেখানে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সেখানে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার সত্যতা নিরূপন করা সম্ভব হত। তদন্ত কমিটি যাদের সাক্ষ্য নিয়েছেন তারা অধিকাংশ পুলিশ সদস্য। দুই একজন অসাধু ব্যক্তির জন্য এমন আইন বহির্ভুত কাজ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। প্রকৃতপক্ষে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না বা এ বিষয়ে এসআই কাওছার ও ওসি দাদনের কোনো অবহেলা ছিল কি না তা আরও বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে, এ সংক্রান্ত গত ১৪ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে গত ১৯ মার্চ ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পল্লবী থানার ওসি মো. দাদন ফকির এবং এসআই এসএম কাওছার সুলতানকে শশরীরে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেন একই আদালত। আদালতের ওই আদেশের প্রেক্ষিতে রবিবার তারা ঢাকার মুখ্য মহানগর হকিম আদালতে হাজির হয়ে লিখিতভাবে বক্তব্য তুলে ধরেন।
গত ১৪ মার্চ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল গত ১২ মার্চ আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১০, এ ব্লকে অবস্থিত ‘নিউ ঢাকা বিরিয়ানি হাউস’ ও স্থানীয় মসজিদের মাঝামাঝি স্থানে পুলিশের একটি টহল গাড়ি থামে। এরপর এসআই কাউসার সুলতান তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিরানির দোকানের পেছনেই অবস্থিত চান্দার বাসায় যান। প্রায় আধা ঘণ্টা পর একটি ব্যাগে রাখা নীল রঙের প্যাকেটে জড়ানো কমপক্ষে ৫ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চান্দা, ফেরদৌস ও দুই নারীকে আটক করে রাস্তায় এসে দাঁড়ান তারা। এ সময় গাড়ি ঘিরে ভিড় জমে যায় উৎসুক জনতার। এরপর গাড়িতে উঠিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যান এসআই কাউসার সুলতান। পুলিশ পরে দুই নারীকে ছেড়ে দেয়। এরপর ৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে মামলা দেওয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডিগ্রিধারী বা নিবন্ধিত চিকিৎসক ছাড়া সিজারিয়ান করলে শাস্তি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় ডিগ্রিধারী অথবা নিবন্ধিত চিকিৎসক ছাড়া সিজারিয়ান করলে শাস্তি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে আজ সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় এ সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, মো. আব্দুল ওদুদ এবং সেলিনা বেগম সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানী লিমিটেড (ইডিসিএল) গোপালগঞ্জ প্রজেক্টের ‘ইনজেক্টবল মেনুফ্যাকচারিং মেসিনারি’ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কারিগরী মূল্যায়ন সম্পন্ন এবং মে মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পটি উদ্বোধন করার জন্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয়া হয়।

কমিটি অটিজম ও স্নায়ু রোগীদের চিকিৎসার্থে গ্র্যাজুয়েট অকুপেশনাল থেরাপিস্ট পদ সৃষ্টির জন্য জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সভা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাশ্মীরে গোলাগুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০

ভারত নিয়ন্ত্রিত জুম্মু কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন জঙ্গিসহ ২০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ সেনা সদস্যও রয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে ৪ সাধারণ নাগরিকেরও।

উপত্যকার সোপিয়ান জেলার ড্রাগড় ও কাচদুড়া এবং অনন্তনাগ জেলার দিয়ালগাম এলাকায় তিনটি জায়গায় সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে এদিন জঙ্গিদের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদেরও সামলাতে হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীকে। দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা যখন ইঁট-পাথর ছোঁড়ে তখন নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকেও ফাকা গুলি ছোঁড়া হয় এবং পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। এতে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়।

পুলিশ সূত্রের খবর শনিবার মধ্য রাত থেকে অনন্তনাগের পেঠ দিয়ালগাম এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলা বর্ষণ শুরু হয়, তা চলে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। জঙ্গিদের অবস্থানের কথা জানার পরই ওই তিন জায়গায় যৌথ অভিযান চালায় জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)-এর সদস্যরা। দিনের শেষে ১৩ জন জঙ্গি সহ বিশ জন নিহত হয়। অনন্তনাগের দিয়ালগাম এলাকা থেকে এক জঙ্গিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন নিহত ১৩ জঙ্গির মধ্যে সোপিয়ান জেলার ড্রাগড়ে সাত জন এবং ওই জেলারই কাচদুড়া এলাকায় পাঁচ জন এবং বাকীজন নিহত হয়েছে অনন্তনাগ জেলার দিয়ালগামে। সংঘর্ষে তিন সেনাসদস্যও শহীদ হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে বহু মানুষ ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসার কারণে ড্রাগড়ে একজন এবং কাচদুড়াতে তিন জন সাধারণ নাগরিক গুলি বিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

সন্ধ্যায় পুলওয়ামায় অবন্তীপোরাতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে সেনাবাহিনীর শ্রীনগর ভিত্তিক ১৫ কর্পসের কমান্ডার লে. জেনারেল এ.কে.ভাট জানান ‘আজকের দিনটি আমাদের সকল নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বিশেষ দিন’।

এদিকে ১৩ জঙ্গি ও ৪ সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় আগামীকাল উপত্যাকায় হরতালের ডাক দিয়েছে উপত্যাকার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি। এদিন সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে হুরিয়ত সংগঠনের মুখপাত্র জি.এ.গুলজার জানান ‘দক্ষিণ কাশ্মীরে নিহত ও মানুষের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় আগামীকাল আমাদের যৌথ নেতৃত্ব সম্পূর্ণ বন্ধের ডাক দিয়েছে। বুলেট ও পেলেট গানে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে’।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যুবলীগ নেতা মান্নানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ সাতক্ষীরা জেলা আহবায়ক আব্দুল মান্নানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেছে সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের সকল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
৩১ মার্চ সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের ৭ উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে মান্নানের মুক্তির দাবিতে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত ২৬ মার্চ সাতক্ষীরা নিউ মার্কেটে পৌর আওয়ামীলীগের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য প্রদানের জন্য পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নানের নাম প্রস্তাব করেন। এসময় পিছন দিক থেকে কতিপয় নেতা উস্কানী ও কুটুক্তিমূলক কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে আব্দুল মান্নানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এর জের ধরে দু-গ্র“পের নেতাকর্মীদের মধ্যে চেয়ার ছুড়াছুড়ি হয়। এসময় পৌর যুবলীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন অনু, সাধারণ সম্পাদক তুহিনুর রহমান তুহিন, মিলন, ইয়ারুলসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। সেখানে ককটেল বা কোন কিছু বিস্ফোরণের ঘটনার কোন প্রমাণ নেই। যা নিউ মার্কেট মোড়ের সিসি টিভির ফুটেজ দেখলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। এছাড়া ধীরে ধীরে পত্রিকায় ওই দিনের সত্য ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে। উক্ত ফুটেজ দেখে এবং তদন্তপূর্বক জেলা যুবলীগের আহবায়ক মান্নানকে মুক্তিসহ সকল নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন, শ্যামনগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি গোলাম মোস্থফা সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, কালিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিজয় ঘোষ, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সাধারন সম্পাদক প্রভাষক মইনুল ইসলাম, কলারোয়া যুবলীগের সভাপতি কাজী সাহাজাদা, তালা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার জাকির ও কাজী সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হিল্ললসহ সকল উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিশা-পূর্ণিমার সেই ‘ধর্ষণ’ প্রসঙ্গ ভাইরাল

ধর্ষণের মতো গুরুতর সামাজিক অপরাধ নিয়ে বরাবরই সোচ্চার বলিউড শিল্পীরা। কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পীদের ক্ষেত্রে এটি দেখাই যায় না। সম্প্রতি ‘ধর্ষণ’ প্রসঙ্গে আলোচনায় আসেন ঢালিউডের একসময়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা। তিনি কারও হয়ে প্রতিবাদ করেননি। কোনো অসহায়ের পাশে দাঁড়াননি। স্রেফ মজা করার জন্য তিনি এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন মিশা সওদাগরকে।

‘এবং পূর্ণিমা’ নামের একটি সেলিব্রেটি শোতে পূর্ণিমার করা সেই প্রশ্ন নিয়ে এখনো চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। একজন শিল্পীর দায়িত্ববোধ থাকে। তবে সেটি যদি হয় নায়িকা পূর্ণিমার ক্ষেত্রে তবে সেটি আরও বড়। সেই পূর্ণিমাই স্রেফ মজা করার জন্য এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। যদিও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এ বিষয়ে তিনি কখনই সোচ্চার ছিলেন না।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপক পূর্ণিমা ঢালিউডের জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা সওদাগরকে প্রশ্ন করেন, ‘কার সাথে ধর্ষণ দৃশ্যে অভিনয় করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন আপনি?’ উত্তরে মিশা সওদাগর জানান, ‘মৌসুমী ও পূর্ণিমার সাথে’। এটা শুনে উপস্থাপিকা পূর্ণিমা হা হা হা করে হেসে ওঠেন। পূর্ণিমা পরে বলেছেন মজার করার জন্যই এমনটা করেছেন। কিন্তু শিল্পীদের দায়িত্ব শুধু মজা করা কিংবা মজা দেয়া নয়। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে ‘ধর্ষণ’ এর মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি নিয়ে তাদের সোচ্চার হওয়া উচিত- এমনটাই দাবি নেটিজেনদের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest