ভালোবাসা এবং ভালোবাসা মুহম্মদ জাফর ইকবাল

মার্চ মাসের ৩ তারিখ শনিবার বিকালে আমি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের তৈরি করে আনা রোবটদের যুদ্ধ দেখছি, হঠাৎ করে মনে হলো আমার মাথায় বুঝি ‘আকাশ ভেঙে’ পড়েছে। বড় কোনো দুঃসংবাদ পেলে আমরা বলি মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে, তবে এটি পুরোপুরি আক্ষরিক। মনে হচ্ছে মাথার ওপর সত্যি কিছু ভেঙে পড়েছে একবার, দুবার, বারবার। কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না। মানুষের চিৎকার হৈচৈ তার মাঝে আমি উঠে দাঁড়ালাম। বুঝতে পারলাম যেটাই ঘটে থাকুক সেটা শুধু আমাকে নিয়ে। মঞ্চ থেকে আমি নিচে তাকিয়েছি, ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কিত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়েছে। একজন ছাত্রীর চোখে অবর্ণনীয় আতঙ্ক, সে দুই হাতে মুখ ঢেকে চিৎকার করছে।

আমি তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলাম। হাত নেড়ে বললাম, ‘আমার কিছু হয়নি, আমি ঠিক আছি’— কিন্তু আমার কথায় কোনো কাজ হলো না। নিচে দাঁড়ানো ছেলেমেয়েরা চিৎকার করতেই থাকল। আমি মাথায় হাত দিলাম এবং রক্তের উষ্ণ ধারা অনুভব করলাম। হঠাৎ করে বুঝতে পারলাম ভয়ানক কিছু একটা ঘটে গেছে, কেউ একজন আমাকে মেরে ফেলার জন্য আক্রমণ করেছে।

সেই মুহূর্তের অনুভূতিটি আমি কখনো ভুলব না। অনুভূতিটি ভয়ের নয়, অনুভূতিটি যন্ত্রণার নয়, অনুভূতিটি হতাশা কিংবা ক্রোধেরও নয়, অনুভূতিটি ছিল লজ্জার অনুভূতি। আমি বিস্ময়কর এক ধরনের লজ্জায় কুঁকড়ে উঠেছিলাম। আমার মনে হলো এ পৃথিবীতে এমন মানুষ আছে যে আমাকে এত ঘৃণা করে সে আমাকে প্রকাশ্য দিবালোকে মেরে ফেলতে চায়? আমি কী করেছি?

চারপাশে কী হচ্ছে আমি বোঝার চেষ্টা করছিলাম। মঞ্চের এক পাশে একজনকে অনেকে মিলে মারছে, কাছে একটা চাকু পড়ে আছে। আমি দুর্বলভাবে তাকে না মারতে বললাম। আমার কথা কেউ শুনতে পেল কিনা জানি না। আমার ছাত্র আর সহকর্মীরা ততক্ষণে আমাকে জাপটে ধরে টেনে সরিয়ে নিতে থাকে। পুলিশের অনুসরণ করতে থাকে এবং এতদিন যেটাকে আমি পুলিশ বাহিনীর একটা অর্থহীন কাজ বলে ভেবে এসেছি হঠাৎ করে সেটি আমার জীবন বাঁচানোর কাজে লেগে গেল। একটা ছেলে তার শার্ট খুলে আমার মাথায় চেপে ধরে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করতে থাকে। অন্যরা আমাকে রীতিমতো পাঁজাকোলা করে মাইক্রোবাসে তুলে নিল এবং মুহূর্তের মধ্যে মাইক্রোবাসটি আমাকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে ছুটে যেতে থাকে।

প্রথম আমার যে কথাটি মনে হলো সেটি হচ্ছে— আমি এখনো জ্ঞান হারাইনি, কাজেই আমাকে আমার স্ত্রী এবং কন্যার সঙ্গে নিজে কথা বলতে হবে যেন তাদের খবরটি অন্য কারও কাছ থেকে পেতে না হয়। সাধারণত আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনে সবসময় একসঙ্গে থাকি কিন্তু আজকে এ মুহূর্তে সে ঢাকায়। প্রথমে আমার মেয়ের সঙ্গে, তারপর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে যতটুকু সম্ভব শান্তভাবে তাদের খবরটি দিলাম। বললাম, এখনো জ্ঞান আছে এবং এখনো চিন্তা করতে পারছি তবে যেহেতু অনেক রক্ত পড়ছে তাই পরে কী হবে জানি না। আমি আমার ছেলে, ভাইবোন সবাইকে খবরটা দিতে বললাম। এ ধরনের খবর টেলিভিশন থেকে পেতে হয় না। মনে হলো ভাগ্যিস আমার মা বেঁচে নেই, না হলে তাকেও এ খবরটি দিতে হতো!

মাইক্রোবাস মোটামুটি ঝড়ের বেগে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে এবং তখন আমি একটু বোঝার চেষ্টা করলাম আমার আঘাত কতটুকু গুরুতর। পুরো শরীর রক্তে ভিজে যাচ্ছে, আমি ভেবেছিলাম আমার আঘাত মাথায়, তাই একটা শার্ট দলামোচা করে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু পিঠেও একটা অনেক বড় আঘাত আছে আমি যেটার কথা তখনো জানি না। আমার একমাত্র সম্বল আমার মস্তিষ্কটি, মাথার আঘাতে সেটার কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা কে জানে? আমি ভাবলাম পরীক্ষা করে দেখি মস্তিষ্কটি ব্যবহার করতে পারি কিনা। তাই ফিবোনাচি সিরিজটি বের করার চেষ্টা করলাম। গোটা দশেক পদ বের করে আমি বুঝতে পারলাম এখনো হিসাব করতে পারছি। তখন আমি আমার ১ যোগ ১ সমান ২, ২ যোগ ১ সমান ৩, ২ যোগ ৩ সমান ৫…’

জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতাটি আমার খুব প্রিয় কবিতা। মনে মনে তার প্রথম কয়েকটা লাইন আওড়ে গেলাম— ‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে…’ যখন দেখলাম বনলতা সেন কবিতাটি মনে আছে তখন নিজেকে নিজে বোঝালাম মস্তিষ্কের সম্ভবত গুরুতর ক্ষতি হয়নি।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানে বিশাল হৈচৈ শুরু হয়ে গেল। এত দ্রুত কীভাবে খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং এত দ্রুত কীভাবে হাসপাতাল লোকারণ্য হয়ে যায় সেটি আমার জন্য একটি রহস্য! আমাকে প্রথমে হুইল চেয়ারে, তারপর একটি ট্রলিতে শুইয়ে হাসপাতালের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গাতে নিয়ে যাওয়া হতে থাকল। একটি ট্রলি দুজনই ঠেলে নিতে পারে কিন্তু আমি দেখলাম কয়েক ডজন ছাত্র-শিক্ষক এবং অপরিচিত মানুষেরা আমার ট্রলিটি ঠেলে হাসপাতালের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। তার মাঝে বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়িয়ে টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যানরা ছবি নেওয়ার চেষ্টা করছে। দেখলাম কম বয়সী একজন একটা ক্যামেরা নিয়ে ভিড়ের মধ্যে অনেক ঠেলাঠেলি করে একটা মোক্ষম ছবি তোলার চেষ্টা করছে! আমার কী মনে হলো কে জানে, সকৌতুকে ছেলেটিকে ডেকে বললাম, ‘এসো, একটা সেলফি তুলে ফেলি!’ ছেলেটি লজ্জা পেয়ে সরে গেল, এখন মনে হচ্ছে ছেলেটাকে এভাবে লজ্জার মাঝে ফেলে দেওয়া ঠিক হয়নি কিন্তু তখন আমি যথেষ্ট সন্তুষ্টি অনুভব করেছিলাম। মনে হয়েছিল যেহেতু এরকম অবস্থাতেও আমার সেন্স অব হিউমার অক্ষত আছে তার মানে আমার মস্তিষ্কটিও নিশ্চয়ই অক্ষত আছে! হাসপাতালের নানা জায়গা ঘুরে আমাকে অপারেশন থিয়েটারে আনা হলো। ততক্ষণে ডাক্তার এবং নার্সরাও চলে এসেছেন।

শুধু ডাক্তার এবং নার্স নয়, তার সঙ্গে অসংখ্য মানুষ, ক্যামেরাসহ সাংবাদিক, ছাত্র, শিক্ষক, সহকর্মী, পুলিশ এবং অসংখ্য কৌতূহলী দর্শক! আমার অনেক সহকর্মী এবং পরিচিত মানুষ ভেঙে পড়ে কান্নাকাটি করছেন এবং আমি তাদের নানাভাবে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছি! আমি ডাক্তার নই কিন্তু কমনসেন্স থেকে বুঝতে পারছি আমার রক্তপাত বন্ধ করতে হবে এবং রক্ত দিতে হবে। অপারেশন থিয়েটারের এ বাজারের ভিতর সেটা কেমন করে করা হবে আমি জানি না। এর মাঝে আমার রক্তের গ্রুপের কথা বলা হয়েছে (শুনে অনেকে বিশ্বাস নাও করতে পারেন, আমি আমার রক্তের গ্রুপ জানি, এ পজিটিভ!) আমি যদিও এ পজিটিভ বলেছি, অপারেশন থিয়েটারে শুয়ে মনে হলো উৎসাহী কেউ কেউ সেটাকে ও পজিটিভ শুনতে পেয়েছে! যে ডাক্তার আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাকে বললাম, ‘রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা না করে আমাকে রক্ত দেবেন না, প্লিজ! ‘ডাক্তার আমাকে অভয় দিলেন, বললেন, রক্তের গ্রুপ না মিলিয়ে কখনো রক্ত দেওয়া হয় না।

অপারেশন থিয়েটারবোঝাই মানুষজনের মাঝেই ডাক্তাররা কাজ শুরু করে দিলেন। আমাকে জানালেন, আমার আঘাতটা যাচাই করে চিকিৎসা শুরু করার আগে আমাকে জেনারেল এনেসথেসিয়া দিতে হবে। ঠিক কী কারণ জানা নেই আমার, মনে হচ্ছিল আমাকে অজ্ঞান করা হলে আমি বুঝি আর জ্ঞান ফিরে পাব না। মাঝে মাঝেই আমার মনে হচ্ছিল আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলব কিন্তু আমি দাঁতে দাঁত চেপে জ্ঞান ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। আমি অবুঝের মতো ডাক্তারদের সঙ্গে তর্ক করতে শুরু করেছি, তাদের বলতে শুরু করেছি আমাকে অজ্ঞান না করে চিকিৎসা শুরু করেন। ডাক্তাররা বললেন, তাহলে আপনার এত যন্ত্রণা হবে যে সেই যন্ত্রণাতেই আপনি অজ্ঞান হয়ে যাবেন। আমি তাতেই রাজি-কিন্তু ডাক্তাররা আমার মতো অবুঝ মানুষের ছেলেমানুষী আচার মেনে নিশ্চয়ই চিকিৎসা করতে আসেননি। তাই আমি নিজেও জানি না কখন আমি জ্ঞান হারিয়েছি।

এরপর আবছা আবছাভাবে যখন আমার জ্ঞান হলো তখন মনে হলো আমাকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যতক্ষণ জ্ঞান ছিল ততক্ষণ নিশ্চয়ই আমার শরীরে এড্রেনেলিনের বন্যা বইছিল, তাই সবকিছুতেই সজাগ হয়েছিলাম। এখন আমি পুরোপুরি নির্জীব। কোনো কিছুতেই আর কিছু আসে যায় না। এক সময় চোখ খুলে তাকাতেই মনে হলো আমাদের শিক্ষামন্ত্রী আমার ওপর ঝুঁকে পড়ে কিছু একটা বলছেন। আমি শোনার চেষ্টা করলাম, মনে হলো তিনি বলছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার জন্য আমাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি যেন কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা না করি।

তখন আমার চিন্তা করার বিশেষ ক্ষমতা নেই। চেতনা এবং অচেতনার মাঝে ঝুলে আছি। হেলিকপ্টারে আমার এক-দুজন সহকর্মীকে দেখতে পেলাম। এক সময় হেলিকপ্টার উড়তে শুরু করল। কতক্ষণ উড়েছে জানি না, মনে হলো বুঝি অনন্তকাল পার হয়ে গেছে। এক সময় হেলিকপ্টার থেমেছে, আমাকে স্ট্রেচারে করে নামানো হলো, সবাই আমাকে নিয়ে ব্যস্ত, তাই কেউ উপরে আকাশের দিকে তাকায়নি। শুধু আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি— নির্মেঘ বিশাল একটি আকাশ, তার মাঝে ভরা একটি চাঁদ স্নেহভরে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি শিহরণ অনুভব করলাম, পৃথিবী এত সুন্দর? এ সুন্দর পৃথিবীতে আমি আরও কিছু দিন বেঁচে থাকতে পারব।

আমাকে অ্যাম্বুলেন্সে সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হলো। সেখানে আমার সব আপনজনেরা অপেক্ষা করছে। কেউ কাছে আসছে না, সবাই দূর থেকে দেখছে। ডাক্তাররা আমাকে পরীক্ষা করলেন, আমার স্ত্রী এসে একটু কথা বলল, তারপর আবার আমাকে সরিয়ে নেওয়া হলো। কিছুক্ষণের মাঝে সিসিইউয়ের অসংখ্য জটিল যন্ত্রপাতির মাঝে আমি আটকা পড়ে গেলাম। আবছা আবছাভাবে মনে পড়ে কোনো এক সময় ডাক্তারদের কাছে চিঁ চিঁ করে জানতে চাইলাম, আমার অবস্থা কেমন? তারা বললেন, ভালো। আমি জানতে চাইলাম সবাইকে কি এটা জানানো হয়েছে? তারা বলেছেন, হ্যাঁ, জানানো হয়েছে, আমার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। আমি একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। আমি এখনো জানি না কারণটা কী, কিন্তু আমি অনুভব করতে পারি এ দেশের অসংখ্য ছেলেমেয়ের আমার জন্য এক ধরনের ভালোবাসা আছে, ‘ধুম’ করে মরে গিয়ে তাদের মনে কষ্ট দেওয়ার আমার কোনো অধিকার নেই।

বাইরে কী হচ্ছে আমি কিছু জানি না। ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর শুনতে পারলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেখতে আসবেন। অবিশ্বাস্য ব্যাপার— আমি কে? আমাকে দেখার জন্য এ দেশের প্রধানমন্ত্রী চলে আসবেন?

সত্যি সত্যি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেখতে এলেন। ডাক্তাররা আমার সম্পর্কে রিপোর্ট দিলেন। সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ডাক্তাররা অবিশ্বাস্য চাপের মাঝে থেকেও কী অসাধারণভাবে আমাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছেন সেটা বললেন। প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বললেন, খোঁজখবর নিলেন। চলে যাওয়ার সময় আমি কুণ্ঠিত স্বরে বললাম, আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে, ১৬ কোটি মানুষের দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী আমার মতো একজনকে দেখতে চলে এসেছেন।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার দিকে তাকিয়ে আপনজনের মতো হেসে বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কোনো বড় কিছু না, আজ আছি কাল নেই। কিন্তু এটা সত্যি যে, আমি হচ্ছি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে! এটা আমার অনেক বড় অহংকার, কেউ এটা আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না।’

আমার মনে হলো এরচেয়ে বড় সত্যি কথা আর কী হতে পারে? সঙ্গে সঙ্গে আমার এটাও মনে হলো যে, আমার কত বড় সৌভাগ্য যার ধমনীতে বঙ্গবন্ধুর রক্ত তিনি আমাকে দেখতে চলে এসেছেন। কী অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার।

যাই হোক, আমি আমার জীবনে এভাবে এর আগে কখনো হাসপাতালে থাকিনি। হাসপাতালে থাকার অভিজ্ঞতাটুকু খুবই বিস্ময়কর। কাউকে যদি বলতে হয় আমাকে শুধু একটি কথা দিয়ে বোঝাতে হবে— সেটি হচ্ছে ভালোবাসা। যে মেয়েটি আমার ঘরের মেঝেটি মুছে দিয়েছে সেখান থেকে শুরু করে যার নেতৃত্বে এ বিশাল প্রতিষ্ঠানটি চলছে সবাই আমার জন্য যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন আমি কোনো দিন তার প্রতিদান দিতে পারব না। কথা প্রসঙ্গে আমি তাদের বলেছি যদি কোনোভাবে আমার এ হাসপাতালের অভিজ্ঞতাটুকু আগে হতো তাহলে আমি নিশ্চিতভাবে আমার অগ্রজ হুমায়ূন আহমেদকে তার চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে না গিয়ে এখানে চিকিৎসা করার জন্য বলতাম। আমার জন্যই সবার বুকের ভিতর এত ভালোবাসা, হুমায়ূন আহমেদকে তারা সবাই না জানি কত গভীর মমতা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করতেন।

আমার এ ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর শুনেছি সারা দেশে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছে, দেশের অনেক মানুষ নানাভাবে আমার জন্য তাদের ভালোবাসাটুকু প্রকাশ করেছেন। আমি সে দিনগুলোর খবরের কাগজ দেখিনি, টেলিভিশনের খবর শুনিনি তারপরও আমি সবার ভালোবাসাটুকু অনুভব করতে পারি। সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের অস্থিরতার খবর জানতাম বলে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাসায় না এসে সরাসরি এয়ারপোর্ট গিয়েছি, একটা প্লেন ধরে সিলেট গিয়েছি। যে মুক্তমঞ্চে বিভ্রান্ত ছেলেটি আমাকে আক্রমণ করেছিল সেই একই মুক্তমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কথা বলেছি। মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় আমার ঘুরেফিরে অভিজিৎ, অনন্ত, নিলয়, ওয়াসিক দীপন এরকম সবার কথা মনে পড়ছিল যারা কেউ বেঁচে নেই। আমি কীভাবে বেঁচে গেছি কেন বেঁচে গেছি এখনো জানি না। যখন এ লেখাটি লিখছি তখন আমার প্রিয় ছাত্র মাহিদ আল সালামের কথা মনে পড়ছে। শাহবাগে আমার ওপর আক্রমণের প্রতিবাদ সভায় সে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেছে অথচ দুর্বৃত্তের আক্রমণে দুই দিন আগে একেবারে হঠাৎ করে তাকে জীবন দিতে হলো। কে জানে পৃথিবীটা কেমন করে এত নিষ্ঠুর হয়ে যেতে পারে।

দেশের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য আমি এ লেখাটা লিখছি। অসংখ্য মানুষ আমাকে ভালোবাসা জানিয়ে চিঠি লিখেছেন, তাদের সবার জন্য ভালোবাসা। যারা আমাকে লিখেছে আলাদা করে আমি তাদের সবার কথা উল্লেখ করতে পারব না, শুধু ছোট একটা মেয়ের কথা লিখি। যে আমাকে সাহস দিয়ে লিখেছে— একটু বড় হয়েই সে কারাটে ক্লাসে ভর্তি হয়ে যাবে। তারপর ব্ল্যাক বেল্ট হয়ে আমার বডিগার্ড হয়ে বাকি জীবন আমাকে পাহারা দিয়ে বেড়াবে যেন আর কেউ কখনো আমার ওপর আক্রমণ করতে না পারে।

আমার ওপর এ আক্রমণটি না হলে আমি কি কখনো জানতে পারতাম কতজনের বুকের ভিতর আমার জন্য কত ভালোবাসা জমা হয়ে আছে?

লেখক : অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এতিমের টাকা যিনি মেরে খান তার জন্য কিসের আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে টাকা আনা হয়। এর একটি টাকাও এতিমদের দেয়া হয়নি। নিজেরা মেরে খেয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই অর্থ আত্মসাতের মামলা দেয়। মামলায় আদালত সাজা দিয়েছে। এখন আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। যে এতিমের টাকা চুরি করে তার জন্য কিসের আন্দোলন?
বিএনপি নেত্রীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তারা তো দুর্নীতি ও লুটপাটেই ব্যস্ত। ৯৮০ কোটি টাকা তার ছেলেরা ব্যাংক থেকে লুট করে নিয়ে গেছে। এর এক টাকাও ফেরত দেয়নি।
বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে ঠাকুরগাঁও জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০ প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৩৩টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন। পরে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে নৌকায় ভোট দেয়ার দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নৌকায় ভোট দিন, আমরা সোনার বাংলা উপহার দেবো। এ সময় তিনি বলেন, আপনারা ওয়াদা করেন, হাত তুলে ওয়াদা করেন নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। তখন উপস্থিত লাখো জনতা হাত তুলে স্লোগান দিয়ে নৌকায় দেয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমাদের দায়িত্ব স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেক ঘরে পৌঁছে দেয়া। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের জীবনকে সুন্দরভাবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আমরা যেহেতু ২০০৮-এর সরকারের এসেছি, ২০১৪তে পুনরায় সরকারে এসেছি- সরকারের ধারবাহিকতা রয়েছে বলেই আজকে উন্নয়নের ছোঁয়া প্রতিটি এলাকায়- গ্রামে গ্রামে যাচ্ছে। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নৌকা মার্কায় আমি আপনাদের কাছে ভোট চাই। কারণ, নৌকা মার্কাই দেবে উন্নতি, নৌকা মার্কাই দেবে আপনাদের শান্তি, নৌকা মার্কাই করবে আপনাদের জীবনমান উন্নত।’
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। আমরা জনগণের সেবক। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। জনগণকে দিতে এসেছি। দেশকে উন্নয়ন করা, দেশের ভাগ্য উন্নয়ন করা এটাই আমাদের কাজ। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা মানুষ শান্তিতে খেয়ে-পড়ে বসবাস করবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকতে পাঁচবার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কেন হয়েছিল? তারা তো পুরো দেশটাকেই ধ্বংস করে দিয়েছিল। খালেদা জিয়া ও তার ছেলেরা অর্থসম্পদ লুটপাট করে পাচার করেন। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সেই তথ্য বের করেছে, সিঙ্গাপুরে সেটা ধরা পড়েছে। আমরা সেই টাকা ফেরত পর্যন্ত এনেছি। সেই টাকা এখন জনগণের কাজে লাগাচ্ছি।
তিনি বলেন, তারা ধ্বংস করতে পারে, সৃষ্টি করতে পারে না। এরা মানুষেরটা লুটপাট করে খেতে জানে, মানুষকে দিতে জানে না।
প্রধানমন্ত্রী তার ৩৮ মিনিটের বক্তৃতায় আরো বলেন, ‘বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারা দিন কথা বলেন। দিন-রাত মিথ্যা কথা বলতে বলতে তার গলা ব্যথা হয়ে যায়। কিন্তু মিথ্যা বলারও একটা সীমা আছে। এত মিথ্যা বললে আল্লাহও নারাজ হয়।’
তিনি বলেন, ‘তিনি (মির্জা ফখরুল) তো এক সময় বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু বিমানের কী উন্নয়ন করেছিলেন? আমরা ক্ষমতায় এসে দেখলাম বিমান চলে না। সব টাকা পয়সা লুটপাট করে নেয়া হয়েছে, বিমানকে ধ্বংস করে রেখে গেছে। বিমানের প্লেন ঝরঝরে। রাডার নষ্ট। এখান থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর। সেই বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখানকার বিমান প্রতিমন্ত্রী, অথচ এখানকার এয়ারপোর্টই বন্ধ করে দেন। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে এই বিমানবন্দর চালু করে দিয়েছি। এখান থেকে এখন সব মানুষ আকাশ পথে যাতায়াত করতে পারছে। তারা রাজশাহী, বরিশাল বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল, আমরা তাও চালু করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দেশ এগিয়ে যাক, উন্নত হোক। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ মর্যাদার আসনে চলুক সেটাই আমরা চাই। ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, স্পেশাল ইকনোমিক জোন স্থাপন, আন্ত:নগর ট্রেন চালু, আইটি পার্ক, ভূল্লী থানা, কর্মজীবী মহিলাদের হোস্টেলসহ সকল উপজেলায় একটি করে স্কুল-কলেজ সরকারি করে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য যা যা উন্নয়ন দরকার তা আমরা করেছি। তারপরেও যেসব উপজেলায় সরকারি স্কুল কলেজ নেই সেখানে আমরা প্রতিষ্ঠান করে দেব। ঠাকুরগাঁও জেলায় যেনও একটা বিশ্ববিদ্যালয় হয় সে ব্যবস্থা আমরা করব।
তিনি বলেন, এই জেলায় কর্মস্থানের জন্যে, আমি জানি এই জেলা খাদ্য উদ্বৃত্তের এখানে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের অঞ্চল যেন গড়ে উঠে তার ব্যবস্থা আমরা করব। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করব। গুল্লি থানা করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, রানী শৈঙ্কল, হরিপুর পাকা রাস্তা যাতে প্রশস্ত হয় তার ব্যবস্থা করে দেব। ঠাকুরগাঁও যাতে আইটি পার্ক হয় তার ব্যবস্থা করে দেব। কর্মচারী মহিলাদের জন্যে হোস্টেল করে দেব যাতে তারা থাকতে পারে। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার যত ড্রেন, রাস্তা সেগুলোর উন্নত করার ব্যবস্থা করব। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ যাতে বিশুদ্ধ পানি পায় তার জন্যে ওভার হেড ওয়াটার ট্যান্ক করে দেব। প্রত্যেক উপজেলায় একটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার করে দেব। ইসলাম ধর্মের নামে কেউ যাতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করুক তা আমরা চাই না।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ধুলিহরের ৪ গ্রামে বিদ্যুতায়ন

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ: সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়নের কাশিনাথপুর, দৌলতপুর, পূর্ব শুকদেবপুর ও আহসানডাঙ্গা গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাম শুভ বিদ্যুতায়নের উদে¦াধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ০৮নং ধুলিহর ইউনিয়নের ০৬ ওয়ার্ডের দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারে ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান (বাবু সানা)’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে স্লুইচ টিপে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার রবীন্দ্রনাথ দাস, জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ, জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মকসুমুল হাকিম, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম কম মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ধুলিহর ইউনিয়নের কাশিনাথপুর, দৌলতপুর, পূর্ব শুকদেবপুর ও আহসানডাঙ্গা গ্রামে ৭. ৫৩০ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করে ৯৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩শ৩০টি পরিবারের মাঝে এ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঝাউডাঙ্গায় গাঁজাসহ ১৪ট মামলার আসামি মাদক সম্রাট মুকুল আটক

মাষ্টার মফিজুর রহমান : সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর দেবনগরে পুলিশের অভিযানে ২শত গ্রাম গাঁজা সহ এক মাদক সম্রাটকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর দেবনগর গ্রামের মৃত আনছার আলী সরদারের ছেলে জামাত কর্মী মুকুল হোসেন (৫২)।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঝাউডাঙ্গা বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদর থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে সহকারী উপ-পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দেবনগর থেকে বুধবার রাতে ২শত গ্রাম গাঁজা সহ মুকুলকে আটক করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহমান জানান, মুকুল ১৪টি নাশকতা ও মাদক মামলার অাসামি। সে একজন চিহ্নিত গাঁজা ও ফেনসিডিল ব্যবসায়ী এবং নাশকতা মামলার পলাতক আসামী। তাকে আটকের পর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মাদক দ্রব্য নির্মূলে তিনি বদ্ধপরিকর। মাদকের সাথে কখনোই আপস নয়। মাদক ও আসামী আটকের পর যারা তাদেরকে ছাড়াতে জোর তদ্বির করছেন, তাদেরকেও ছাড়া হবে না। কিছু চিহ্নিত দালালের কারণে পেশাগত দায়িত্ব পালনে পিঁছপা হবেন না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেখ হাসিনার অবদানে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ- ডা. রুহুল হক এমপি

মোস্তাফিজুর রহমান : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা দেশ নেতৃ শেখ হাসিনার অবদানে আজ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়শীল দেশে উত্তরন হয়েছে। দেশনেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতীতে বাংলাদেশের উন্নয়ন চলছে। কারা এ উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে চায় আপনারা সবাই সেটা জানেন। এ উন্নয়নকে কোন ভাবেই বাধাগ্রস্থ করতে দেয়া যাবে না। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে এক হয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করতে হবে। আশাশুনির বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাকে অব্যহত রাখতে আমাদেরকে নৌকার সাথে থাকতে হবে। দেশ নেত্রী শেখ হাসিনা এমনই একজন মানুষ যিনি দেশের সব মানুষের কথা ভাবেন। আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন শেষে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় শ্রীউলা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হওয়া উপলক্ষে আলোচনা সভায় সাতক্ষীরা ০৩ আসনের জাতীয় সাংসদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা: আ ফ ম রুহুল হক উপরোক্ত কথা গুলো বলেন। জেলা মুক্কিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আমির হোসেন জোয়াদ্দারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম, সিভিল সার্জন অফিসার তৌহিদুর রহমান, এমপি প্রতিনিধি শম্ভুজিত মন্ডল, থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান, আশাশুনি উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আঃ হান্নান, আ’লীগ নেতা মোল্য্ ারফিকুল ইসলাম, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা এমদাদুল হক, চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল, আ ব ম মোছাদ্দেক, উপজেলা যুব মহিলালীগ সভানেতৃ সীমা সিদ্দিকীসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রইচপুরে সরকারি সম্পত্তিতে ভেড়িবাঁধ নির্মাণ,সাইনবোর্ড ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন কর্তৃক উদ্ধারকৃত শহরের রইচপুরে ১০০.৩৩ একর জমি সীমানা নির্ধারণ করা পিলিয়ার ও সাইবোর্ড ভাংচুর করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহষ্পতিবার সকালে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র জানায়, গত শুক্রবার বিকালে সদর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা বাবু কান্তিলাল সীমানা নির্ধারণ করে সাইবোর্ড সিমানা পিলিয়ার স্থাপন করেন। এসময় ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সীমানা নির্ধারণের এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই জমির একাংশের সাইনবোর্ড ও সীমানা পিলিয়ার উধাও হয়ে গেছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের নিষেধাঙ্গা অমান্য করে সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে জোরপূর্বক ভেড়িবাঁধ দিচ্ছে কতিপয় ব্যক্তি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানায়, বৃহষ্পতিবার সকালে রইচপুর এলাকার মাহাজন হাজীর ছেলে নূরুল আমিন, ইয়াছিন আলীর ছেলে একাধিক নাশকতা মামলার আসামী আবু জাহের, মালেক মোড়লের ছেলে জামায়াত কর্মী মুজিবর, মিজানুর রহমান, শফিকুর রহমান, রাফিকুর রহমান পাতলা, জুলফিকার গং, বিএনপি নেতা গোলাম সরোয়ার, সামসোদ্দীর ছেলে গোলাম সরোয়ার, মুজিবর মোড়লের ছেলে রাশেদ, খালেক মন্ডলের ছেলে বাবু, মৃত ইমান আলী মোড়লের ছেলে সুমোন, মামুন, একই এলাকার মহাদেব মাখালসহ ৭/৮ জন অবৈধ ভাবে দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছে। গত কাল বৃহষ্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসনের নিষেধাঙ্গা অমান্য করে সীমানা পিলিয়ার ভাংচুর, সাইবোর্ড ভাংচুর করে, ভেড়িবাঁধ নির্মান করছে।
এব্যাপারে রইচপুর এলাকার মোশারফ জানায়, বৃহষ্পতিবার সকালে আমি আমার নিজ জমিতে কাজ করার জন্য আসি। এসময় ১২৮০ দাগসহ অন্যান্য দাগের জমিতে জেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ড কতিপয় ব্যক্তি ভাংচুর করছে।
এদিকে নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ ইফতেখার হোসেন গত ১৬মার্চ বিকালে উদ্ধার করা সরকারি সম্পত্তি পরিদর্শন করেন এসময় তিনি জমি খালি করার জন্য ১মাস সময় বেঁধে দেন। উলে¬খ্য : বিগত কয়েক বছর ধরে পলাশপোল মৌজায়, বিল আবাদালি জে এল নং- ৯৪, ডি এস খতিয়ান ১৯৯৪, দাগ নং- ৪২৩১ জমির পরিমাণ ৫২ শতক, ৪২৩৮ দাগে ৭৪ এ কর ৩৪ শতক, ১২৮০ দাগে ১১৮ একর ৪ শতক ৩টি দাগে ১৯২ একর ৯০ শতক সম্পত্তি। ভূমিদস্যুরা স্বাধীনতার পর থেকে সরকারি জমি দখলে নিয়ে লক্ষ-লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে সরকারকে বঞ্চিত করছিলো এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে পৌর ৭নং ওয়ার্ডস্থ রইচপুর সাতক্ষীরা মৌজা এলাকা থেকে ভূমিদস্যুদের কবল থেকে সরকারি জমি উদ্ধার করেন সীমানা নির্ধারণ করে দেন। এসময় ১নং খাস খতিয়ানের ৩০০ বিঘা জমি মাপ যোগ করে লাল পতাকা ও সাইনবোর্ড উত্তোলন করা হয়।
এ ব্যাপারে পৌর ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালু জানান, নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ ইফতেখার হোসেন গত ১৬মার্চ বিকালে উদ্ধার করা সরকারি সম্পত্তি পরিদর্শন করেন এসময় তিনি জমি খালি করার জন্য ১মাস সময় বেঁধে দেন। নিষেধাঙ্গা অমান্য করে যদি কেউ সরকারি সম্পদ নষ্ট করে তাহলে জেলা প্রশাসন ব্যাবস্থা নেবে। সাইনবোর্ড ভাংচুরের কথা আমিও শুনেছি। তবে এব্যাপারে কারা জড়িত সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।
অপরদিকে সরকারি সম্পত্তি যেন অবৈধ দখল না হয় সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের আশু হস্থক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনিতে বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন ডা. রুহুল হক এমপি

মোস্তাফিজুর রহমান : আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন সাতক্ষীরা ০৩ আসনের জাতীয় সাংসদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা: আ ফ ম রুহুল হক। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীউলা ইউনিয়নের নবনির্মিত উত্তর পুইজালা সরকারি প্রাাথমিক বিদ্যালয় কাম-সাইক্লোন শেল্টার ভবনের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ডা: আ ফ ম রুহুল হক এমপি। এসময় উত্তর পুইজালা সরকারি প্রাাথমিক বিদ্যালয় কাম-সাইক্লোন শেল্টার চত্বরে শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা: আ ফ ম রুহুল হক এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা দেশ নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতীতে বাংলাদেশের উন্নয়ন চলছে। কারা এ উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে চায় আপনারা সবাই সেটা জানেন। এ উন্নয়নকে কোন ভাবেই বাধাগ্রস্থ করতে দেয়া যাবে না। এজন্য দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে এক হয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করতে হবে। আশাশুনির বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাকে অব্যহত রাখতে আমাদেরকে নৌকার সাথে থাকতে হবে। দেশ নেত্রী শেখ হাসিনা এমনই একজন মানুষ যিনি দেশের সব মানুষের কথা ভাবেন। তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগের কথা মাথায় রেখে এলাকায় ৪টি আধুনিক মানের সাইক্লোন শেল্টার নির্মান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আশাশুনিতে আরও সাইক্লোন শেল্টার নির্মান করা হবে। এরপর প্রধান অতিথি সাইক্লোন শেল্টারের সামনের প্রায় ১১ কিলোমিটার কানেকটিং রাস্তার উদ্বোধন করেন এবং রাস্তার কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। উল্লেখ্য: ইতোমধ্যেই রাস্তাটির ৯ কিলোমিটার কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরে শ্রীউলা ইউনিয়নের নবনির্মিত বকচর সরকারি প্রাাথমিক বিদ্যালয় কাম-সাইক্লোন শেল্টার, প্রতাপনগরের কোলা সরকারি প্রাাথমিক বিদ্যালয় কাম-সাইক্লোন শেল্টার এবং সর্বশেষ নছিমাবাদ সরকারি প্রাাথমিক বিদ্যালয় কাম-সাইক্লোন শেল্টার ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। সাংবাদিক অসীম বরুন চক্রবর্তীর পরিচালনায় উপজেলার ৪টি প্রাাথমিক বিদ্যালয় কাম-সাইক্লোন শেল্টার ভবনের উদ্বোধন কালে পৃথক পৃথক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম, জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশুলী সামসুজ্জামান, সড়ক ও জনপদ বিষয়ক নির্বাহী প্রকৌশুলী মনজুরুল কবির, সিভিল সার্জন অফিসার তৌহিদুর রহমান, এমপি প্রতিনিধি শম্ভুজিত মন্ডল, থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান, আ’লীগ নেতা মোল্য্ ারফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুব মহিলালীগ সভানেতৃ সীমা সিদ্দিকী, চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন, আ ব ম মোছাদ্দেক, শাহনেওয়াজ ডালিম, আলমগীর আলম লিটন, দিপংকর সরকার, শেখ মিরাজ আলী, আঃ আলীম মোল্যসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের  মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের আয়োজনে কলেজ প্রাঙ্গণে পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় তিনি বলেন, ‘মান-সম্মত ও যুগোপযোগি শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ্যে উজ্জীবিত হয়ে লেখা-পড়ার পাশা পাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশ ঘটাতে হবে।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা ৩৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্ণেল সরকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ, জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মকসুমুল হাকিম, শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ দীপক কুমার মল্লিক, শিক্ষক পর্ষদ সম্পাদক আব্দুর রহিম, প্রভাষক আলমগীর কবির, বাংলা বিভাগের প্রভাষক তপন কুমার ঘোষ ও জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক তহমিনা ইসলাম প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রভাষত ইমামুল হক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest