সর্বশেষ সংবাদ-
কলারোয়ায় মিনি স্টেডিয়াম ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি হাবিবুল ইসলাম হাবিবেরসাতক্ষীরার ৩২৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারশ্যামনগরে জনসভা- গণমিছিলের মধ্য দিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুতালা–কলারোয়ার উন্নয়নে ঐক্যের ডাক হাবিবুল ইসলাম হাবিবেরআদালত চত্বরে কেরোসিন ঢেলে মাটি চাপা দেওয়া হলো জব্দকৃত হরিণের মাংসসাংবাদিক আকরামুলের উপর হামলা : সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দাপাইকগাছায় বাসস চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীনের উদ্যোগে দশ গ্রামের দুস্থদের মাঝে তিন সহস্রাধিক কম্বল বিতরণবিএনপি থেকে ডা: শহীদুল আলম বহিস্কারসংগ্রামের গল্পে ঢাবি জয় দিহানেরতালায় লার্নিং শেয়ারিং ওয়ার্কশপ

সাতক্ষীরায় হিফ্জুল কুরআন প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘পবিত্র কুরআনের আলো, ক্ষুদে প্রতিভার সন্ধানে’ স্লোগানে হিফ্জুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা তুফান কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় ইমাম সমিতি জেলা শাখার ব্যবস্থাপনায় এ প্রতিযোগিতায় বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দন্ত চিকিৎসক আলহাজ্ব ডা. মো. আবুল কালাম বাবলা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ। প্রধান অতিথি বলেন, ‘ক্ষুদে হাফেজরা যেভাবে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেছেন তা অসাধারণ প্রতিভার উদ্ভব। ছোট হাফেজদের পড়া শুনে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। আমরা চাই আগামী দিনে তোমরা জাতীয় পর্যায়ে সম্মান লাভ করবে।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন, খুলনার সহ-সভাপতি হাফেজ মাও. কবির হুসাইন। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ইমাম সমিতির জেলা শাখার সভাপতি মাও. আব্দুর রশিদ, সেক্রেটারি হাফেজ মাও. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাও. শাহাদাৎ হোসাইন, হাফেজ মাও. জাহাঙ্গীর আলম জিয়া, হাফেজ মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। প্রতিযোগিতায় ৫ জন হাফেজ ছাত্রকে খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য ইয়েস কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ইয়েস কার্ড প্রাপ্ত ছাত্ররা হলেন হাফেজ মো. তৌহিদুজ্জামান, হাফেজ মো. আলী হাসান মুজাহিদ, হাফেজ মো. আবু বক্কর ছিদ্দীক, হাফেজ ইমরান হোসাইন ও হাফেজ মো. সাদ হোসেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবার রাজধানীর খামারবাড়ি মোড়ে রিকশাচালকদের ডাব খাওয়ালেন জগলুল হায়দার

নি জস্ব প্রত‌িবেদক: অাজ ১৩ মার্চ দুপুর ১২.৩০ টায় সাতক্ষীরা – ৪ অাসনের সংসদ সদস্য জনাব এস, এম জগলুল হায়দার রাজধানী ঢাকার খামারবাড়ি মোড় অতিক্রম করার সময় প্রচণ্ড রোদে যাত্রী পাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা হতদরিদ্র রিকশাচালকদের গরমে কষ্ট পেতে দেখেন। তাদের শরীর থেকে তখন ঘাম ঝরছিল। এমপি তাদের পাশে যান এবং পকেট থেকে নিজের ব্যবহৃত রুমাল বের করে তা দিয়ে তাদের শরীরের ঘাম মুছিয়ে দেন। তাপদাহে পিপাসার্ত শতাধিক রিকশাচালকের পিপাসা নিবারণ করতে নিজ খরচে ডাব নিয়ে অাসার জন্য সাথে থাকা ব্যক্তিগত সহকারীকে নির্দেশ দেন। ডাব নিয়ে অাসলে মানুষগুলোকে নিজ হাতে ডাবের পানি পান করান এমপি জগলুল হায়দার। তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার কিনে নিয়ে যাওয়ার জন্য নগদ অার্থিক সাহায্য প্রদান করেন। সেখানে উপস্থিত সকলের কাছে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া চান জগলুল হায়দার এমপি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গ্রাহকদের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সেবা দিতে ও লোড শেডিং মুক্ত করতে চাই- নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : ওয়েস্টজোন পাওয়ার ড্রিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড সাতক্ষীরা (বিদ্যুৎ কেন্দ্র) এর নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান যোগদান করেছেন। গত কয়েকদিন আগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাতক্ষীরা থেকে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালিদ হোসেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তার স্থলে ১৩ মার্চ মঙ্গলবার নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান যোগদান করেন। তিনি ওয়েস্টজোন পাওয়ার ড্রিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড বরগুনায় কর্মরত ছিলেন। ২০০২ সালে বগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে এজিএম হিসেবে যোগদান করেন। তিনি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার সোনাপুকুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম নজরুল ইসলাম। নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি পুর্বের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করে সাতক্ষীরা শহরের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সেবা দিতে বদ্ধ পরিকর। গরমকালে সাতক্ষীরা শহরকে লোড শেডিং মুক্ত করে উন্নতমানের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। গ্রাহকরা যেন কোন প্রকার হয়রানীর শিকার না হয় সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবো। তিনি সেবার মান বৃদ্ধি ও লোড শেডিং মুক্ত সাতক্ষীরা করতে আমার অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় এক ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

এম. বেলাল হোসাইন: সাতক্ষীরার দেবহাটায় গলায় ওড়না পেচিয়ে এক ব্যবসায়ি আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার গভীর রাতে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতের নাম কিশোরী মোহন দাশ (৫০)। তিনি দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের সনৎ দাশের ছেলে।
ভোমরা বন্দরের সিএণ্ডএফ এজেন্ট রিয়া এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী ধ্র“ব দাশ জানান, তার ভাই কিশোরী মোহন দাশ ভোমরা বন্দরে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার তিন সন্তানের মধ্যে দু’ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। একমাত্র ছেলে ব্যবসা করে।
মঙ্গলবার রাতে তাদের এক আত্মীয়ার বিয়ে উপলক্ষে বাবা সনৎ দাশ ছাড়া সকলে সেখানে যায়। সকালে ডাকাডাকি করে তার সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙে ঢুকে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। তবে তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। তবে মৃতের পা দু’টি মেঝেতে লেগে ছিল।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানার জন্য খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বরিশালে সাংবাদিককে নির্যাতনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

আসাদুজ্জামান: বরিশালে ডিবি পুলিশ কর্তৃক বে-সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি’র ফটো সাংবাদিক সুমন হাসানকে নির্যাতনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচিটি পালিত হয়।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহম্মেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, সিনিয়র সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরি, আনিসুর রহিম, আবুল কালাম আজাদ, আশেক-ই-এলাহী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শুধু বরিশাল নয়, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ ও সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের নানাভাবে মিথ্যা মামলা, হামলা নির্যাতনসহ হয়রানি করা হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীকে এ সময় হুশিয়ারি করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, বরিশালে ডিবিসি’র ফটো সাংবাদিক সুমন হাসানকে নির্যাতনকারী ডিবি পুলিশসহ সারা দেশের দূর্নীতিবাজ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ গ্যাংস্টার গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক: ভারতে দিল্লি ও উত্তর প্রদেশ পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ গ্যাংস্টারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ অপারেশনে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ওই অপরাধীর নাম আনওয়ার৷ গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায়, আমরোহা হাউজে লুকিয়ে রয়েছে আনওয়ার৷ তার স্ত্রী সেখানে তার সঙ্গে দেখা করতে যেতো৷

পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পি এস খুশওয়া জানান, পুলিশের কাছে খবর আসে, আনওয়ার খুব শিগগিরই দিল্লি যাচ্ছে৷ সেখানে একটি সাদা স্যান্ট্রো গাড়ি নিয়ে একটি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটাবে সে। টিপি নগর ও আমরোহায় নজরদারী বাড়ায় পুলিশ। বিকেল ৪টায় ওই সাদা স্যান্ট্রো গাড়িটি আসতে দেখে পুলিশ৷ গাড়ির চালকের আসনেই বসেছিল আনওয়ার৷ পুলিশ দেখে পালানোর চেষ্টা করলে তার গাড়ির পেছনে ধাওয়া করে পুলিশ৷ চারদিক থেকে তার গাড়ি ঘিরে ফেলা হয়৷ তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়৷ কিন্তু আনওয়ার ও তার সহকর্মীরা গুলি চালাতে শুরু করে৷ এতে ইন্সপেক্টর ধর্মেন্দ্র আহত হন৷

খুশওয়া জানান, আনওয়ারকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও তার সহকর্মীদের আটক করা যায়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
টাইগার একাদশে যোগ দিতে লঙ্কায় সাকিব

অনলাইন ডেস্ক: বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক্স ডাক্তার ও উন্নত চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছিলো টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে। অস্ট্রেলিয়া থেকে চিকিৎসা শেষ করে রবিবার (১১ মার্চ) দেশে ফিরেছেন সাকিব। দেশে ফিরেই সোমবার (১২ মার্চ) অনুশীলনে যোগ দেন তিনি। মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র একাডেমি জিমনেশিয়াম ভবনে অনুশীলনে ব্যস্ত দেশ সেরা এই অলরাউন্ডার।

সাকিব আল হাসনের সুস্থ হবার বিষয়ে গত ১১ মার্চ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াতে তার চিকিৎসা শেষ। সেখানকার চিকিৎসকরা তার আঙুলের ক্ষত সারাতে একটি ইনজেকশন দিয়েছেন। তাদের মতে আশা করা যায় আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই সে সুস্থ হয়ে উঠবে এবং তাড়াতাড়িই সে খেলায় ফিরতে পারবে।’

নিদাহাস ট্রফির আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র সিদ্ধান্ত ছিল, সাকিব দলের সঙ্গে কলম্বোয় থাকবেন। অন্তত শেষ এক-দুটি ম্যাচ খেলবেন। কিন্তু চোটের অগ্রগতি না হওয়ায় সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। সাকিবের জায়গায় অধিনায়কত্বের ভার দেওয়া হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।

তবে সাকিব পুরোপুরি সেরে উঠেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানান, নিদাহাস ট্রফিতে দলের সাথে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছেন সাকিব। সব ঠিক থাকলে সাকিব খেলছেন নিদাহাস ট্রফির আগামীকালের সেমিফাইনালে!

উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে লঙ্কার বিপক্ষে ফিল্ডিং করার সময় হাতের আঙুলে চোট পেয়েছিলেন সাকিব

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রহর শেষের আলোয় রাঙা আজ চৈত্র মাস

অনলাইন ডেস্ক: কবির ভাবনার ‘সেদিন’ নয়, আজ বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) ফাল্গুন পেরিয়ে অফিসিয়ালি শুরু হয়েছে বসন্ত ঋতুর দ্বিতীয়-পর্ব চৈত্র মাস। কবিগুরু বলেছিলেন, ‘প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্র মাস/তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।’ চৈত্রের প্রখর খর দাহ ও ঝড়ের তাণ্ডবে সর্বনাশের বাঁশি কখন যে বেজে ওঠে, কে জানে!
এ বছর ফাল্গুনী বাহারে চঞ্চল মধ্য ও শেষ দিনগুলোতেই থাবা হেনেছে চৈতালী উন্মত্ততা। ঝড়ো হাওয়ায় শিলাবৃষ্টি তছনছ করেছে ঢাকাসহ সারাদেশ। ভিজে গিয়েছিল বইমেলা, নাগরিক জীবন, নান্দনিক বিন্যাস। প্রকৃতিতে তাণ্ডবের প্রচ্ছন্ন ছাপ ফেলে ঝরে গেছে নব-অঙ্কুরিত আমের মুকুল, কচি শাখা, সতেজ পত্রালি। প্রকৃতি ও পরিবেশের আবহমানতায় বাংলাদেশে চৈত্র মাস রুদ্র বৈভব নিয়ে আসে।
রূপ-রঙ-সৌরভের স্মৃতিময় ফাল্গুনকে বিদায় জানিয়ে তাপ ও দহনের গতিবেগে আসে চৈত্র। চৈত্র জানান দেয় কালবৈশাখীর আগাম বার্তা। দিগন্ত ছেয়ে কালো মেঘের আনাগোনায় ঘোষণা করে নতুন বছরের নতুন মাস বৈশাখের পদধ্বনি। চৈত্রের দাপটে ক্রমেই শেষ হয় মৃদুমন্দ উদাসী হাওয়ার মখমল-পেলব বসন্তদিন, স্বপ্নমেদুর রাত্রি আর রঙিন উৎসবময়তার চালচিত্র।
দিন আর রাত্রে দামাল বাতাসের ছন্নছাড়া প্রতাপে চৈত্র অস্থির করে যাপিত জীবন। তপ্ত ও নিঃসঙ্গ দুপুরের ক্যানভাসে খাঁ খাঁ করে চরাচর। ফেটে চৌচির হয় ভূমিতল। হঠাৎ ঝড়ো-বৃষ্টির ছোঁয়ায় কিছুটা জলমগ্ন হলেও নিজের রুক্ষতাকে মোটেও আড়াল
করে না চৈত্র। মধ্যাহ্নে একেলা পাখিটিও স্তব্ধ হয়ে ভুলে যায় কূজন। চারিদিকের গুমোট পরিবেশে না বলে চলে আসা ঝড়ের হাতছানিতে মনে পড়ে ভয়ঙ্কর সুন্দরকে। হলদে ধূসর শূন্যতার মাঝে কাটে চৈত্র-তাপিত বিষণ্ন জীবন। তাপদগ্ধ পাণ্ডুর অবয়বে চৈত্র টেনে নেয় প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীবনকে; জীবনের যাবতীয় সবুজ ও সৌরভ।
চৈত্র যেন শুষে নিতে চায় জলমগ্ন জীবনের সজল সুষমা। খাল, বিল, নদী, নালা আসন্ন বর্ষায় ভরপুর হওয়ার আগে নিঃশেষ হয় চৈত্রের দহনে। কখনো তীব্র খরার করাল গ্রাসে গ্রামবাংলার সামান্য সবুজ আর শ্যামলকেও রেহাই দিতে চায় না। ঘর্মাক্ত শরীরে মানুষ এবং দূরতম নীলিমার হাহাকার-চিল তাকিয়ে দেখে প্রকৃতির সর্বনাশা তাণ্ডব।
রবীন্দ্রনাথের ‘চার অধ্যায়’-এ উল্লেখিত যে বিখ্যাত উক্তি শুরুতে দেওয়া হয়েছে, কে জানে, ভরাচৈত্রে প্রেয়সীর চোখে কোন সর্বনাশের ছবি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest