সর্বশেষ সংবাদ-
সাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়নে কাজ করা হবে- হাবিবুল ইসলাম হাবিবসাতক্ষীরা জেলা নাগরিক ঐক্যের সভাপতির নেতৃত্বে ২১৭ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদানচ্যানেল -নাইন এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রকৌশলী মাহমুদ হাসানসাতক্ষীরায় চাকুরী মেলায় চাকুরী পেলেন ৮ জনসাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের বিজয় নিশ্চিত করতে গণসংযোগ ব্যস্ত সময় পারছেন দলীয় নেতাকর্মীরাসাতক্ষীরা-২ আসনের অলিগলিতে ঘুরে ভোট চাচ্ছেন সাবেক এমপি আশুWie man bei Cipherwins Casino sicher ein- und auszahltনির্বাচনীয় জনসভায় বক্তব্য চলাকালিন সময় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবেক এমপি হাবিবসাতক্ষীরায় বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি প্রকল্প পরিদর্শণে জেলা প্রশাসকসাতক্ষীরায় বাস শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত সদস্যদের পরিবারে নগদ অর্থ সহায়তা

সারা দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৭ বছরের বেশি সময় ধরে বিনা বিচারে আটক থাকা ১৩৯ বন্দীর বিচার কার্যক্রম আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নির্দেশিত সময়ের মধ্যে বিচার কার্যক্রম শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হার্টের সমস্যা কমায় দই!

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, নিয়মিত দই খেলে হার্টের কোনও ক্ষতি হয় না, বরং নানারকম হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।বস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে দইয়ের মধ্যে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়া এবং আরও সব উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর ধীরে ধীরে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে শুরু করে।

নিয়মিত দই খেলে শুধুমাত্র হার্টের ক্ষমতাই বাড়েএমন নয়,এছাড়াও নানাবিধ শারীরিক উপকার পাওয়া যায়। যেমন-

১) রক্তে খারাপ কোলেস্টরল এর মাত্রা কমানোর পাশাপাশি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয় দই। তাই নিয়মিত দুগ্ধজাত খাবারটি খেলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে। পরিবারে যদি কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত দই খেতে পারেন।

২) গবেষণায় দেখা গেছে দই খাওয়ার পর আমাদের মস্তিষ্কের ভেতর এমন কিছু পরিবর্তন হয় যে মানসিক চাপ এবং অ্যাংজাইটি কমতে শুরু করে। বর্তমান সময়ে যেসব মরন রোগগুলির কারণে সব থেকে বেশি সংখ্যক মানুষের প্রাণ যাচ্ছে,তার প্রায় সবকটির সঙ্গেই স্ট্রেসের যোগ রয়েছে। তাই তো নিয়মিত দই খাওয়ার প্রয়োজনয়ীতা বেড়েছে।

৩) ভুঁড়ি কমাতে দইয়ের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির গবেষকদের করা একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে নিয়মিত দই খাওয়া শুরু করলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে,সেই সঙ্গে কর্টিজল হরমোনের ক্ষরণও কমে যায়। ফলে ওজন হ্রাসের সম্ভাবনা প্রায় ২২ শতাংশ বেড়ে যায়।

৪) দইয়েও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস এবং ক্যালসিয়াম। এই দুটি উপাদান দাঁত এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই বয়স শেষেও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো রোগ আক্রান্ত হওয়ার কোন সম্ভবনা থাকে না।

৫) দইয়ে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা পাকস্থলিতে হজমে সহায়ক ভাল ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। সেই কারণেই তো বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমাতে দই খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। গবেষণায় দেখা গেছে পেপটিক আলসার হওয়ার পিছনে দায়ি এইচ পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে দই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

গুঞ্জন কিছুটা হলেও সত্যি হলো। আবারও বিয়ে করলেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল তেহরিক ই ইনসাফ-এর প্রধান ইমরান খান। রবিবার লাহোরের একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁরই ধর্মীয় পরামর্শ সেই বুশরা মানেকাকে বিয়ে করেছেন দেশটির সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার। খবর এনডিটিভির।

পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ এ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছে। দলটির জানিয়েছে, বুশরা মানেকার ভাইয়ের বাড়িতে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। পিটিআইয়েরই এক নেতা নিকাহ সম্পন্ন করিয়েছেন।

এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মানেকাকে ইমরান খান বিয়ে করেছেন বলে গুজব ছড়ায়। তবে এ সময় পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে এ কথা অস্বীকার করা হয়। এবার সত্যিই বিয়ের পিঁড়িয়ে বসেন ইমরান খান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিয়ের বেশ কিছু ছবিও ভাইরাল হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইমরান খান ১৯৯৫ সালে ব্রিটিশ কোটিপতির মেয়ে জেমিমা গোল্ডস্মিথকে বিয়ে করেন। এই পক্ষে ইমরান খানের দুটি ছেলে রয়েছে। এরপর ২০০৪ সালের তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর ২০১৫ সালে টেলিভিশন সঞ্চালক রেহাম খানকে বিয়ে করেন। সেই বিয়েও বেশি দিন টিকেনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাশিয়ায় বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৫

অনলাইন ডেস্ক:
রাশিয়ার একটি চার্চে বন্দুকধারীর হামলায় কমপেক্ষ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন এক নারী, দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত চারজন।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানায়, কিজলার শহরের চার্চটিতে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় প্রার্থনা শেষে বের হওয়ার সময় বন্দুকধারী অতর্কিতে গুলি ছোড়া শুরু করে। পরে পুলিশের গুলিতে বন্দুকধারী নিহত হন। যদিও তাঁর পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের শহর কিজলারে মূলত নানা সম্প্রদায়ের লোকের বসবাস। তবে অন্য সম্প্রদায়ের চেয়ে এখানে মুসলিমদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে ১১৫৬ জনকে নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক:
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরাধীন চতুর্থ এইচপিএনএসপি অন্তর্ভুক্ত কমিউনিটি বেজড হেলথ কেয়ার (সিবিএইচসি) অপারেশন প্ল্যানের আওতায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। মোট এক হাজার ১৫৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে চাকরির মেয়াদ (জানুয়ারি-২০১৭ থেকে জুন-২০২২) সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
পদের নাম : কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)
যোগ্যতা: উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে কম্পিউটার পরিচালনায় বেশ দক্ষতা থাকতে হবে। বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা http://www.communityclinic.gov.bd/ ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের সময়সীমা: আগামী ১২ মার্চ-২০১৮ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাইগ্রেনে হৃদরোগের ঝুঁকি

জীবন যাপন:
খুব একটা পাত্তা না দিয়ে হুটহাট ওষুধ খেয়ে নেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। দিনের পর দিন মোড়ের দোকানের ওষুধেই ভরসা করি আমরা। কিন্তু গবেষণা বলছে, মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে।
ডেনমার্কের আরহুস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ও আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, বিশ্বে প্রায় একশ কোটি মানুষ মাইগ্রেনের ব্যথ্যায় ভোগেন।
মাথাব্যথায় আমারা হরহামেশাই ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকি। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ওষুধ খাওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়াও রক্তনালী ব্লক হয়ে যেতে পারে।
মাইগ্রেনে আক্রান্ত নারী-পুরুষ উভয়েই একই ঝুঁকিতে থাকেন। ডেনমার্কে পরিচালিত একটি গবেষণা অনু্যায়ী এক হাজার জন মাইগ্রেনের রোগীর মধ্যে ২৫জনের হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থাকে। আর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কা তৈরি হয় অন্তত ৪৫জনের।
কাজেই যখন তখন অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া বন্ধ করুন।
মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে যা করতে পারেন-
• ঘরের লাইট বন্ধ করে ঘুমান।
• আইস প্যাক অথবা হিট প্যাক কপালে লাগান।
• ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় যেমন চা, কফি খাওয়া যেতে পারে।
• ঘুমানোর রুটিন অনুসরণ করুন। প্রতিদিন একই সময় ঘুমান এবং একই সময় উঠুন।
• বেশিক্ষণ ক্ষুধা নিয়ে থাকবেন না
• চিজ, চকলেট, অ্যালকোহল জাতীয় খাবার মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ায়।
যেকোনো ধরনের ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

‘বসন্ত, তুমি এসেছ হেথায়, বুঝি হল পথ ভুল। এলে যদি তবে জীর্ণ শাখায়, একটি ফোটাও ফুল’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ’র উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার সকালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে অধ্যক্ষ প্রফেসর বিশ্বাস সুদেব কুমারের সভাপতিত্বে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ’র উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সরকারি মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সরকারী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুকুমার দাশ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ-২০১৭ উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক মো. আমানউল্লাহ আল হাদী, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম আফজাল হোসেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগীয় প্রধান আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক মহাদেব চন্দ্র সিংহ, অধ্যাপক আবু হাশেম, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক শাহিনুর রহমান, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আবুল কালাম আযাদ, প্রভাষক মফিজুল ইসলাম, নিগার সুলতানা, মাহমুদা খাতুন, অরুণাংশ কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন- সাহিত্য ও সাংস্কৃতি সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাহিত্য সাংস্কৃতির উন্নয়ন ছাড়া কোন জাতি সামনের দিকে এগিতে যেতে পারে না। জাতিকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে হলে নিজস্ব সাংস্কৃতিকে লালন করতে হবে।

প্রতিযোগিতায় ক্বেরাত, গীতা পাঠ, দেশাত্ববোধক গান, ভক্তিগীতি, কবিতা আবৃত্তি (বাংলা), জ্ঞান জিজ্ঞাসা, নজরুল ও রবীন্দ্র সংগীত, বিতর্ক (বাংলা ও ইংরেজি), আধুনিক গান, একক ও দলীয় অভিনয় ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নেয়।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অধ্যাপক আনম গাওছার রেজা।

উল্লেখ্য, আগামি ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টায় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ’র সমাপনী ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি থাকবেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবু, উপাধ্যক্ষ এসএম আফজাল হোসেন। সমগ্র অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সকলের স্ববান্ধব উপস্থিত হওয়ার জন্য জানিয়েছেন আহবায়ক মো. আমানউল্লাহ আল হাদী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আঞ্চলিক ও জেলা শিক্ষা দপ্তর অনিয়মে ভরা

অনলাইন ডেস্ক: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনস্থ আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে চলছে মিলেমিশে অনিয়ম-হয়রানি। এই অফিসের উপ-পরিচালক থেকে শুরু করে শিক্ষা অফিসার, অফিস সহকারি, স্টেনোটাইপিস্ট এমনকি নৈশ প্রহরীও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ নানা কাজে হয়রানি করছেন শিক্ষক-কর্মচারীদের। দেশের চারটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ৩৮টি জেলা শিক্ষা অফিসে নানা অনিয়ম, হয়রানির ভয় দেখিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব দপ্তরের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। একটি দায়িত্বশীল তদন্তকারী সংস্থা প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রনালয় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে।

উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান গতকাল রবিবার বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেককে বদলি করা হয়েছে। আরো করা হবে। তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরণের শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বদলি কোন শাস্তি হতে পারে না। বদলি চাকরির একটি অংশ। অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা এবং অভিযোগ গুরুতর হলে চাকরিচ্যুতির ব্যবস্থা আইনে থাকলেও, সে ব্যবস্থা কেনো নেওয়া হচ্ছে না সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল খালেক। দীর্ঘদিন ধরে এমপিও কেলেংকারির সঙ্গে জড়িত তিনি। অন্যায়ভাবে তিনি অনেকের এমপিওভুক্তির ফাইল আটকে রেখেছেন। কাগজপত্র ঠিক থাকা স্বত্ত্বেও হয়রানির উদ্দেশ্যে টাঙ্গাইলের এক শিক্ষকের কাগজপত্রে ভুল ধরার চেষ্টা করেন এই কর্মকর্তারা। তদন্তকারী ওই সংস্থা আব্দুল খালেকের অনিয়মের সত্যতার প্রমাণ পায়। টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানম এবং অফিস সহকারি আব্দুল আজিজও অনিয়মে জড়িত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। নেত্রকোনা সদরের শিক্ষা অফিসার আব্দুল বাতেন শাহ সুলতান ডিগ্রী কলেজের এক শিক্ষকের কাছ অনিয়মিত সুবিধা নিয়েছেন। অথচ অন্যায্য দাবি না মানায় ওই শিক্ষকের এমপিওভুক্তির সুপারিশ করেনি আঞ্চলিক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা। নেত্রকোনার লেঙ্গুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছ অন্যায্য সুবিধা নিয়েছেন নেত্রকোনার কলমাকান্দার শিক্ষা অফিসার আব্দুল ওয়াজেদ।

জামালপুরের একটি স্কুলের সহকারি গ্রন্থাগারিক তাকে এমপিওভুক্ত করতে সুবিধা দিয়েছেন ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালককে। এছাড়া স্টেনোটাইপিস্ট আবুল কালাম আজাদ এবং নৈশ প্রহরী নুর হোসেনকেও তিনি সুবিধা দিয়েছেন বলে প্রমাণ মিলেছে।

জামালপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আফরোজা বেগম, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর মোমিনুল ইসলামকে সুবিধা দিয়েছেন জামালপুরের একটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক।

কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন। তদন্ত সংস্থার তথ্য মতে, এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করলেও বিভিন্ন অযুহাতে তিনি শিক্ষকদের হয়রানি করেন, অনেক ক্ষেত্রে দরখাস্ত বাতিল করেন। এখান থেকে রক্ষা পেতে আবেদনকারীদের অবৈধ সুবিধা দিতে হচ্ছে।

তদন্ত সংস্থার তথ্যমতে, একই রকম অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ফেনী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ওয়ালীউল্লাহ, ফেনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুরুল আমিন, ছাগলনাইয়ার শিক্ষা অফিসার এ কে এম আলী জিন্নাহ, পরশুরাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল করিম, ফুলগাজীর মো:এনামুল হক, সোনাগাজীর আল আমিন, দাগনভুয়ার দেওয়ান মো: জাহাঙ্গীর ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষা অফিসার সভ্রত রায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শারমীন ফেরদৌস চৌধুরী এমপিওভুক্তির জন্য গোপন সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এই সিন্ডিকেটে রয়েছে অফিস সহকারি আজিজ ও আওয়াল। অবৈধ সুবিধার জন্য দরকষাকষি করেন।

অভিন্ন অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর শিক্ষা অফিসার সামছুল কবির, তানোরের শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম, বোয়ালিয়ার শিক্ষা অফিসার জাহিদ হোসেন, কম্পিউটার অপারেটর উজ্জ্বল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী আব্দুল মুকিমের বিরুদ্ধে। রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোস্তাক হাবিবের অনিয়মের সহযোগী ড্রাইভার মহব্বত। ভোলা জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার প্রাণ গোপাল দে, চরফ্যাশন উপজেলার শিক্ষা অফিসার সামালগীর, চট্টগ্রামের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হুদা সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শ্রম, অর্থ ও সময় বাঁচানোর পাশাপাশি দুর্নীতি কমানোর লক্ষ্যে বিকেন্দ্রীকরণ করে অনলাইনে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু করে শিক্ষামন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক আদেশে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এমপিওভুক্তির কাজ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠ প্রশাসনের ৯টি আঞ্চলিক কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের হাতে ছেড়ে দেয়। এরপর থেকেই শুরু হয় অনিয়ম, দুর্নীতি ও শিক্ষক হয়রানি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest