সর্বশেষ সংবাদ-
জামায়াত হারেনি- হারানো হয়েছে: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপিসংকটে শ্যামনগরের আইবুড়ি’ নদী, পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধনজেলা রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশনিং ওনার এসোসিয়েশনের সিনিয়র ডাইরেক্টর ডলপিন আর নেইআশাশুনিতে এক ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে হয়রানির অভিযোগTips and Tricks for Easy NV Casino Login and Account Management Onlineশ্যামনগরে মৎস্যঘের পানি উত্তোলনের সময় বিদ্যুস্পৃস্টে এক ব্যক্তির মৃত্যুA Cozy Night In: A Guided Tour of Online Casino Entertainment and Helpful Supportপাটকেলঘাটায় মব সন্ত্রাস করে পুলিশে সোপর্দ করা দু’সাংবাদিকের বিরদ্ধে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদনঝাউডাঙ্গায় পেরীফেরীভুক্ত জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মানের অভিযোগশহরের গড়েরকান্দায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

রক্তকে দূষণমুক্ত করতে ৯টি খাদ্য

আমাদের শরীরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি যদি ঠিক না থাকে, তাহলে শরীর ঠিক থাকবে কী করে বলুন! তাই তো রক্তকে সব সময় পরিষ্কার রাখাটা আমাদের প্রথম কর্তব্য। রক্ত যে আর শুদ্ধ নেই, তা অনেক ভাবে বোঝা সম্ভব, যেমন আপনার কি খুব ব্রণ হয়? এও কিন্তু রক্ত দূষিত হয়ে যাওয়ার একটা লক্ষণ। এছাড়া সোরিয়াসিস নামে এক ধরনের ত্বকের রোগও কিন্তু রক্ত দূষিত হয়ে গেলেই হয়ে থাকে। এখানেই শেষ নয়, রক্ত যেহেতু শরীরের প্রতিটি কোণায়, প্রতিটি অংশে পৌঁছে যায়, তাই রক্ত যদি ঠিক না তাকে তাহলে কিন্তু একে একে শরীরের বাকি অংশেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। তাই সাবধান!

এখানে এমন কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা প্রসঙ্গে আলোচনা করা হল, যা মেনে চললে রক্ত দূষিত হয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই পায় না। আর একবার রক্ত বিশুদ্ধ হয়ে গেলে দেখবেন ত্বকের রোগ তো দূরে থাকবেই, সেই সঙ্গে শরীরও একেবারে চাঙ্গা হয়ে উঠবে। তাহলে অপেক্ষা কীসের চলুন জেনে নেওয়া যাক রক্ত বিশুদ্ধ করার ঘরোয়া উপায়গুলি সম্পর্কে।

১. রসুন
এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ রক্তে জমা হওয়া নানাবিধ জীবাণুকে মেরে ফেলে শরীরকে বিষ মুক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি সার্বিকভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতেও রসুনের কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে।

২. করলা
আমার মতই আপনারা নিশ্চয় ছোট বেলা থেকে শুনে আসছেন তেঁতো খেলে শরীর ভাল থাকে! একথাটি বাস্তবিকই সত্যি যে করলা জাতীয় তেঁতো খাবার খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়, ফলে নানা রোগের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীর বেঁচে থাকে। প্রসঙ্গত, করলায় প্রচুর মাত্রায় ডিটক্সিফাই এজেন্ট রয়েছে, যা রক্ত থেকে ক্ষতিকর উপাদানকে টেনে টেনে শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে সোরিয়ায়িস এবং ব্রণের মতো ত্বকের রোগের প্রকোপ যেমন কমে, তেমনি নানা ধরনের জটিল শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

৩. গাজর
রক্ত দূষিত হয়ে যাওয়ার কারণে সরিয়াসিস সহ যেসব ত্বকের রোগ হয়, সেগুলির প্রকোপ কমাতে গাজরের কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। প্রসঙ্গত, গাজরে রয়েছে গ্লুটেথিয়ান নামে একটি উপাদান, যা একপ্রকার ক্লিনজিং এজেন্ট, অর্থাৎ রক্তকে পরিষ্কার করতে এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া এই সবজিটিতে রয়েছে বিপুল পরিমাণে ভিটামিন- এ, বি, সি এবং কে এবং পটাশিয়াম। এই সবকটি উপাদানই শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে দারুন কাজে আসে। তাই যখনই বুঝবেন রক্ত দূষিত হতে শুরু শুরু করেছে, গাজর খাওয়া শুরু করবেন, দেখবেন দারুন ফল পাবেন।

৪. জাম
রক্ত শুদ্ধ করতে এই ফলটির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতিতেও এই ফলটি দারুন কাজে আসে। ফলে সার্বিকভাবে যদি শরীর সুস্থ রাখতে চান তাহলে প্রতিদিন খেতেই হবে এই গুস বেরি।

৫. গুড়
রক্তকে পরিশুদ্ধ করতে গুড় নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। আসলে এতে থাকা ফাইবার, পাকস্থলিতে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরে জমতে থাকা বর্জ্য পদার্থদের দেহের বাইরে বের করে দিতেও এটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, এখন তো বাজারে নানা ধরনের গুড় পাওয়া যাচ্ছে। তাই রক্তকে বিষ মুক্ত করে শরীরকে যদি চাঙ্গা রাখতে চান, তাহলে নিয়মিত অল্প পরিমাণ গুড়, দুধে গুলে খেতে ভুলবেন না যেন!

৬. বিটরুট
এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রপার্টিজ, যা শরীরকে নানা ক্ষতিকর উপাদানের হাত থেকে রক্ষা করে। শুধু তাই নয়, লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিটরুট দারুন কাজে আসে। আর একবার লিভার চাঙ্গা হয়ে গেলে শরীর থেকে বিনা বাঁধায় ক্ষতিকর সব বিষাক্ত উপাদানগুলিও খুব সহজে বেরিয়ে যায়।

৭. ব্রকলি
এতে প্রচুর মাত্রায় ডিটক্স এজেন্ট বা ময়লা বের করে দেওয়ার উপাদান রয়েছে। তাই তো প্রতিদিন এই সবজিটি খেলে রক্ত ময়লা হয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কাই থাকে না। প্রসঙ্গত, রক্তের কোণায় কোণায় লুকিয়ে থাকা ময়লাকে টেনে বের করতে ব্রকলি দারুন কার্যকরী, তাই তো রক্ত বিশুদ্ধ করতে ব্যবহৃত ঘরোয়া চিকিৎসাগুলির মধ্যে এটি এত জনপ্রিয়।

৮. লেবু
শরীরে ক্ষতিকর টক্সিনের মাত্রা যত বৃদ্ধি পাবে, তত রক্ত দূষিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। লেবু নানাভাবে শরীর থেকে এইসব বিষগুলিকে বের করে দেয়। ফলে রক্ত খারাপ হয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই পায় না। এখানেই শেষ নয়, লেবুর মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীরে উপস্থিত বিশেষ কিছু এনজাইমের কর্মক্ষতা বৃদ্ধি করে। এই এনজাইমগুলি শরীরে উপস্থিত টক্সিনগুলিকে দ্রবণীয় উপাদানে পরিবর্তিত করে দেয়। ফলে সেগুলি সহজে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। আর যেমনটা আগেই বলেছি, শরীরে টক্সিনের মাত্রা যত কমবে, তত রক্ত বিশুদ্ধ থাকবে।

৯. আদা
এই মশলাটি সেই আদি কাল থেকে নানা রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে কার্কিউমিন নামে এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রচুর মাত্রায় রয়েছে, যা রক্তকে শুদ্ধ করার পাশাপাশি একাধিক রোগের প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো প্রতিদিন যদি অল্প করে হলুদ খাওয়া যায়, তাহলে কিডনির কর্মক্ষমতা এবং হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, ফলে শরীর থেকে টক্সিন বেশি মাত্রায় বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দাঁতের ক্ষতি এড়াতে…

দাঁতের ক্ষতি এড়াতে…

কর্তৃক Daily Satkhira

দাঁতের জন্য কিছু খাবার ও পানীয় অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব খাবার হয় বাদ দিতে হবে অথবা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

মিষ্টি চা-কফি

বাড়তি দুধ ও চিনি দিয়ে যারা নিয়মিত চা বা কফি পান করেন, তাদের দাঁতের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। কারণ মুখে দুধ ও চিনির অবশিষ্টাংশ দীর্ঘক্ষণ থেকে যায়, যা দাঁতের ক্যাভিটির জন্য দায়ী। তাই মিষ্টি চা-কফির পর অবশ্যই মুখ পরিষ্কার করতে হবে।

আরো পড়ুন : ইন্টারনেটের গতি কমানোর উদ্যোগ কতটা সফল হবে?

পপকর্ন

পুষ্টিগুণের দিক দিয়ে পপকর্ন খারাপ নয়। তবে এতে প্রায়ই শক্ত দানা থেকে যায়। এসব দানায় কামড় দিয়ে দাঁত ভেঙে ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হতে হয় অনেককে। এ কারণে পপকর্ন খেতে বাড়তি সতর্ক থাকা উচিত।

লেবুপানি

উষ্ণ লেবুপানি পান করতে অনেকেই পছন্দ করেন। তবে ডেন্টিস্টরা বলেন, এর এসিড দাঁতের এনামেল দ্রুত ক্ষয় করে।

বরফ

বরফ মুখে নেওয়া ও চিবানো দাঁতের জন্য মোটেই ভালো না। এটি দাঁত ভাঙার কিংবা দাঁতের এনামেল নষ্ট করার কারণ হতে পারে।

এনার্জি ও স্পোর্টস ড্রিংকস

এনার্জি ড্রিংকস এসিডিক। এ ছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। নিয়মিত এনার্জি ড্রিংকস পান করলে তা দাঁতে মারাত্মক ক্যাভিটির কারণ হয়।

চকোলেট ও ক্যান্ডি

চকোলেটের চিনি ও অন্যান্য উপাদান দাঁতে আটকে থাকে। এতে দাঁতে ক্যাভিটি তৈরি হয়। একই ধরনের ক্ষতি করে ক্যান্ডি এবং এ ধরনের অন্যান্য খাবার। শিশুদের দাঁতের ক্যাভিটির জন্য এসব খাবারকেই সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়।

কৌটাজাত ফলমূল

নানা ধরনের ফলমূল শিল্প-কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে কৌটায় ভরে বিক্রি করা হয়। এ ধরনের প্রক্রিয়াজাত ও কৌটাজাত ফলমূলে প্রচুর চিনি ও নানা রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হয়, যা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে বই খুলে পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে: শিক্ষাসচিব

আগামীতে এসএসসির মত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র না ছাপিয়ে বই খুলে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন। তিনি বলেন, পরীক্ষার বর্তমান পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া রোধ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র না ছাপিয়ে বই খুলে পরীক্ষা নেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি ) ঢাকায় জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) অডিটোরিয়ামে শিক্ষাথাতে উচ্চতর গবেষণা সহায়তা কর্মসূচি বিষয়ক কর্মশালা ও চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এসএসসি কিংবা এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সামনে ছাপানো কোনো প্রশ্ন নেই! বরং পরীক্ষার হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া প্রশ্নে শিক্ষার্থীরা বই খুলেই উত্তর লিখতে পারছে! এমন অপরিচিত পরীক্ষা পদ্ধতি অনেকের কাছে অদ্ভুত শোনালেও আগামীতে এভাবে পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না, সেটাই এখন চিন্তা করতে হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভয়াবহ প্রেক্ষাপটে।

এ প্রসঙ্গে সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘ভিন্ন পদ্ধতিতে যাতে প্রশ্ন ছাপানোর প্রয়োজন না হয় সেই রকম কোনো কিছু করা যায় কি না সেজন্য তিন-চারটা কমিটি কাজ করছে এবং মন্ত্রণালয় থেকেও ভিন্নভাবে চিন্তা করা হচ্ছে এমন কিছু করা যায় কি না যে প্রশ্ন ছাপানোর প্রয়োজনীয়তা নেই। প্রশ্ন ওপেন থাকতে পারে, ওপেন বুক এক্সাম হতে পারে বা আরো অনেক কিছু আমরা চিন্তাভাবনা করছি।’

সোহরাব হোসাইন আরো বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় প্রশ্নপত্র আউট বন্ধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি এবং মনে করি।’

শিক্ষাসচিব আরো বলেন, ‘২০ লাখ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দেয়। একটি প্রশ্ন ছাপাতে চার-পাঁচদিন সময় নেয়। একজন মানুষ যদি অসৎ হয়, সে যদি মনে করে আমি প্রতিদিন একটা বা দুইটা করে মুখস্থ করে যাব, বাইরে গিয়ে লিখেই রাখব। তার পর একসাথে করব, একটি প্রশ্ন হবে। এটি কীভাবে ঠেকাব? আমি ২০১৪ খ্রিস্টাব্দেই বলেছি এ পদ্ধতিতে প্রশ্ন আউট রোধ করা সম্ভব নয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়াধীন ইউনিয়ন পরিষদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্য গ্রাম পুলিশের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারিদের ন্যায় সমস্কেলের বেতন বাস্তাবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ কর্মচারি ইউনিয়ন সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসুচিটি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ কর্মচারি ইউনিয়ন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান, কালিগঞ্জ শাখার সভাপতি আব্দুল মাজেদ, কলারোয়া শাখার সভাপতি এজাহার আলি, শ্যামনগর শাখার সভাপতি আব্দুল জলিল, তালার সভাপতি জালাল উদ্দিন, পাটকেলঘাটার সভাপতি শীবপদ দাস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ৪৬ হাজার ৮’শ ৭০ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য স্থানীয় আইন শৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে। বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমরা বিরামহীন ভাবে কাজ করলেও এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অধিনস্থ কর্মচারি হওয়া স্বত্ত্বেও অদ্যবধি কোন বেতন স্কেল আমাদের বাস্তবায়ন হয়নি। বক্তারা অবিলম্বে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারিদের ন্যায় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি পেশ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রূপা ধর্ষণ-হত্যার দায়ে চারজনের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণের পর হত্যার মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডসহ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়া গতকাল সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানার অর্থ থেকে বাদীর মামলা পরিচালনার প্রকৃত ব্যয় বাদে বাকি টাকা রূপার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনের কাজে ব্যবহৃত ‘ছোঁয়া পরিবহন’-এর বাসটির মালিকানা পরিবর্তন করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে রূপার পরিবারকে দিতে নির্দেশ দেন আদালত।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত রূপার পরিবারের সদস্য ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তাঁরা। অন্যদিকে প্রত্যাশিত রায় না পাওয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।
এই মামলায় অভিযোগ গঠন থেকে রায় পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৪ কার্যদিবস। মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে ১৭১ দিনের মধ্যে সেটি নিষ্পত্তি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ। তিনি বলেছেন, এভাবে মামলা নিষ্পত্তি হলে আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। এতে করে কেউ আর এমন ঘৃণ্য অপরাধ করার সাহস পাবে না। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সহায়ক হবে।
গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে যাওয়া হয়। ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজের ছাত্রী রূপা (২৭) একটি প্রতিষ্ঠানে বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ নভেম্বর এই মামলার পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এরপর গত ৩ জানুয়ারি মামলার বাদী মধুপুরের অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্য নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব। পরে আট কার্যদিবসে বিচার বিভাগীয় হাকিম, চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চার কর্মদিবসে আসামিদের পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো ছোঁয়া পরিবহনের বাসের হেলপার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার নন্দিবাড়ী গ্রামের শামীম মিয়া, মির্জাপুর গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে আকরাম হোসেন (হেলপার), একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (হেলপার) এবং বাসের চালক হাবিব মিয়া। বাসের সুপারভাইজার ময়মনসিংহের মির্জাপুর গ্রামের সফর আলী ওরফে গেন্দুকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট নাছিমুল আক্তার জানান, গতকাল সকাল ১১টার দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। পাঁচ আসামি ওই সময় আদালতে উপস্থিত ছিল। এজলাসে বসার পর বিচারক আবুল মনসুর মিয়া ৭৩ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়ে শোনান। চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা শেষ হয় সকাল ১১টা ২০ মিনিটে। রায়ে বাসের চালকসহ চার শ্রমিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়। সুপারভাইজারকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত ছোঁয়া পরিবহনের বাসটি ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিহত রূপার পরিবারকে দেওয়ার আদেশ দেন আদালত। ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ছোঁয়া পরিবহনের বাসটির মালিকানা নিহত রূপার পরিবার বরাবর পরিবর্তন করে একই ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করতে মধুপুর থানা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন বিচারক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাছিমুল আক্তার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতের কাছে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেছিলাম। আমরা সে রায় পেয়েছি। এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বাদীপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। এখন এই রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।’
নিহত রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। তবে রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি এখন আমাদের।’
রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলাটি প্রমাণ করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তার পরও এমন রায়ে আমরা বিস্মিত। আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। সেখানে অবশ্যই ন্যায়বিচার পাব এবং আসামিরা বেকসুর খালাস পাবে বলে আশা রাখি।’
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তা করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস আকবর খান, সিনিয়র আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট এম এ করিম মিঞা এবং মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ। আসামিপক্ষের আইনজীবীকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকার বনাঞ্চলের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে মধুপুর থানার পুলিশ। পরে পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে রূপার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে নিহত নারী তাঁর বোন রূপা বলে শনাক্ত করেন। হাফিজুরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে ৩১ আগস্ট রূপার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁর লাশ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে তাঁর বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কে চলাচলকারী ছোঁয়া পরিবহনের বাসের চালক হাবিবুর, সুপারভাইজার সফর আলী, হেলপার শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীরকে ২৮ আগস্ট গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
গত ২৯ আগস্ট আসামিরা টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দিতে জানায়, ঘটনার দিন রূপা ছাড়াও পাঁচজন যাত্রী ছিল বাসে। তারা সিরাজগঞ্জ মোড় থেকে কালিহাতী পর্যন্ত রাস্তায় নেমে যায়। এরপর বাসটি কালিহাতী পার হলে চালকের সহকারী শামীম রূপাকে জোর করে পেছনের আসনে নিয়ে যায়। ওই সময় রূপা তার কাছে থাকা পাঁচ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনসেট শামীমকে দিয়ে তাঁকে নির্যাতন না করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু শামীম কোনো কথাই শোনেনি। পরে শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর তাঁকে ধর্ষণ করে। রূপা কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করলে তারা মুখ চেপে ধরে। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যা করে। পরে মধুপুর উপজেলা সদর অতিক্রম করে বন এলাকায় রাস্তার পাশে লাশ ফেলে তারা চলে যায়।
গত ১৫ অক্টোবর এই পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলার চার্জশিট দেয় পুলিশ। মামলাটি বিচারের জন্য পরদিন ১৬ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়। গত ২৫ অক্টোবর আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মোট ২৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিএনপিকে ব্যস্ত রেখেই ভোটে যাবে আওয়ামী লীগ

অনলাইন ডেস্ক: বিএনপিকে ব্যস্ত রেখেই আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের নেতারা সেভাবেই কাজ শুরু করেছেন। বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা এখন দল গোছানোয় মনোযোগী হয়েছেন। জেলায় জেলায় চলছে সাংগঠনিক সফর। একই সঙ্গে বিরোধ কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলীয় প্রার্থী তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায়ও কাজ করছে সরকারের একাধিক সংস্থা। বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হবে ভোট থেকে। প্রাধান্য দেওয়া হবে নবীনদের। জানা গেছে, বিএনপিকে মামলায় ব্যস্ত রাখতে চায় সরকারি দল। সিনিয়র নেতাদের অনেকেই মনে করেন, মামলায় ব্যস্ত থাকলে তারা আর ভোটে না-ও আসতে পারেন। এলেও সুবিধা করতে পারবেন না। এ সুযোগই কাজে লাগাতে চায় সরকার। এর মধ্যে ভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেছে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেলগুলো। চলছে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজও। আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট শেষ করতে চায় আওয়ামী লীগ। সেভাবেই এগিয়ে চলছে সব প্রস্তুতি। দলের একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মামলা মোকাবিলায় ব্যস্ত রয়েছেন। এতে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে জাতীয় সংসদের সাবেক এই বিরোধী দল। আর একেই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা। অন্যদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজা হওয়ার পর দলটির ভিত্তি নড়ে গেছে। খালেদা জিয়ার মাথার ওপর ঝুলছে জিয়া চ্যারিটেবলসহ ৩৫ মামলা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ও শিগগিরই হবে বলে মনে করছেন তারা। ফলে মামলা নিয়ে এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে বিএনপি। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত দলের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যস্ত সময় পার করতে হবে দলটিকে। কিন্তু বিএনপির জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না। আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে দলীয় নিবন্ধন টিকিয়ে রাখার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও মাঠ গোছানোর মতো সময় তাদের হাতে থাকবে না।

অবশ্য দলগতভাবে আওয়ামী লীগ বা সরকার নয়, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য সেই দলটিই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ। বিএনপির অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে অংশ নেয়নি। বিএনপি নেত্রীকে নির্বাচনে আনার জন্য সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাও অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি আসেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন করে সরকার গঠন করেছি। এ নিয়ে অনেক কথাও হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও সংবিধান মেনে নির্বাচন করেছে। এখন আবার সামনে নির্বাচন। আমরা চাই সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। নির্বাচনে বিএনপি আসবে এটা আমাদের বিশ্বাস।’ তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী জেলে। এখানে আওয়ামী লীগ বা সরকার দায়ী নয়। এ ছাড়া আইনের অনেক ধাপ এখনো সামনে রয়েছে। তারা আইনি পথেই এগোবেন। এখনো নির্বাচনের প্রচুর সময় বাকি। তাই কে নির্বাচনে আসবে কে আসবে না, এ ব্যাপারে আগাম মন্তব্য করা ঠিক নয়। আওয়ামী লীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এ ব্যাপারে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন হবে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর অধীনে সেই নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে। আর আওয়ামী লীগ বা সরকার কোনো রাজনৈতিক কৌশলে বিএনপিকে ব্যস্ত রাখেনি। বিএনপি তাদের অপকর্মের ফল ভোগ করছে।’
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মুন্সীগঞ্জে ক্ষুদ্র কৃষক ও বর্গাচাষীদের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণ

আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুন্সীগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধিঃ অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, সুন্দরবন শাখা, সাতক্ষীরা’র উদ্যোগে “প্রকৃত ক্ষুদ্র কৃষক ও বর্গাচাষীদের মধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কৃষিঋণ বিতরণ অনুষ্ঠান-২০১৮” অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০ টায় শাখা ব্যবস্থাপক মো: হাফিজ আল আসাদ এর সভাপতিত্ত্বে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ৭ নং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: আকবর হোসেন পাড়।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বনশ্রী শিক্ষানিকেতনের প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল করিম, হরিনগর হাটখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুর রব, ইউপি সদস্য জনাব মোস্তফা শেখ, মো: আনারুল ইসলাম। এছাড়াও উক্ত অনুষ্টানে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ কৃষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন বক্তা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, সুন্দরবন শাখা, সাতক্ষীরা কর্তৃক বিতরণকৃত কৃষি ঋণের বিষয়ে শাখা কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার ভূয়ষী প্রশংসা করেন। কৃষকবৃন্দ উল্লেখ করেন যে কৃষি ঋণ পেতে তাদের কোন প্রকার হয়রানির সম্মুক্ষীন হতে হয়নি । সভ্যবৃন্দ কৃষকদের কৃষিঋণ গ্রহনসহ তা নিয়মিত ভাবে পরিচালনা করার উপর গুরুত্তারোপ করেন। শাখা ব্যবস্থাপক মহোদয় কৃষকদের যে কোন প্রয়োজনে তার সাথে সরাসরি যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তাছাড়া এ এলাকায় কৃষিঋণের আদায় সন্তোষজনক হওয়ায় তিনি কৃষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শাখার কর্মকর্তা জনাব শিবাশীষ সরদার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি সভাপতি মহোদয়ের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসি রুমে, ফ্যানগুলো অচল থাকে ৫০ টাকার অভাবে! প্লাস্টার খসে দুর্ঘটনার আশংকা

মীর জাকির হোসেন, তালা: তালা উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষ ও পার্শ্ববর্তী পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলা সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা গ্রহনের অন্যতম মাধ্যম তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র নানান সম্ভাবনা, সমস্যা ও দূর্নীতি বিষয়ে সার্বিক অবস্থা সরজমিনে দেখার পর ইতোমধ্যে গনমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ৩ পর্বের রিপোর্টের আজ দ্বিতীয় পর্ব।
৫০ শয্যা বিশিষ্ট তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী সংকট রয়েছে অকল্পনীয়! একইসাথে এখানকার অ্যাম্বুলেন্স, এক্সরে, ইসিজি ও আল্ট্রাসনো ম্যাশিন অচল রয়েছে দীর্ঘদিন। তার সাথে অত্যাধুনিক অপারেশন রুম থাকলেও অ্যানেস্থিসিয়া ও সার্জন না থাকায় রোগীদের অপারেশন করানো যাচ্ছেনা।
সরজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা রোগীদের ওয়ার্ডের ফ্যানগুলো মাসের পর মাস অচল থাকায় রোগীদের চরম ভোগান্তীতে থাকতে হয়। অধিকাংশ ফ্যানগুলো সামান্য ২০ বা ৫০ টাকা ব্যয় করলেই সচল হবে। কিন্তু স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিলাস বহুল এসি রুমে বসে অফিস করায় রোগীদের দুরাবস্থা দেখার সুযোগ তিনি পাননা! পরিচ্ছন্ন কর্মী সংকটের কারনে হাসপাতালের পুরুষ, মহিলা ও কেবিনের বাথরুমগুলো ব্যবহারে সম্পূর্ন অনুপযোগী হয়ে রয়েছে দীর্ঘ বছর ধরে। কোন সুস্থ্য বা অসুস্থ্য মানুষ বাথরুমে গেলে সেখানকার নোংরা ও দূর্গন্ধযুক্ত পরিবেশের কারনে তাকে অধিকতর অসুস্থ্য হতে হয়। হাসপাতালে রোগীদের জন্য সরবারহ করা খাদ্য’র মান ও পরিমান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে সবসময়। হাসপাতালের ভিতরে বিড়াল আর বাহিরে রয়েছে কুকুরের অবাদ বিচরন। পুরাতন ভবনের ভিতরে, বাহিরে, ওয়ার্ডে দেওয়ালের ও ছাদের প্লাষ্টার খসে পড়ছে। নতুন ভবনের একাধিক স্থানেও একই অবস্থা হওয়ায় যে কোনও সময় দূর্ঘটনার আশংকা বিদ্যমান রয়েছে। রোগীদের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ন এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ায় ভোগান্তীর শেষ নেই আগত সেবা গ্রহিতাদের। মেশিনটি ঠিক করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার আবেদন করলেও, সমস্যা সমাধানে আজ পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র “স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন” নামের একটি কমিটি থাকলেও তার মিটিং হয়না বছরের পর বছর। ফলে সমস্যাগুলো চিহ্নিত হচ্ছেনা এবং কার্যকরি সমাধান হচ্ছেনা। ফলে তালাবাসীর স্বাস্থ্য সেবা এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিব সরদার হাসপাতালের নানান সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, রোগী ওয়ার্ডে যে সকল ফ্যান অচল রয়েছে তা’ গরম পড়ার আগেই ঠিক করা হবে। তাছাড়া, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্ন কর্মীর অভাবে হাসপাতালের বাথরুম ও ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নত করা যাচ্ছেনা। তিনি বলেন, হাসপাতালের জন্য ৫টি পরিচ্ছন্ন কর্মীর পদ থাকলেও মাত্র ১টি পদে কর্মী আছে। ৪টি পদ শূণ্য থাকায় বিল্লাল ও পারভীন নামের দুজনকে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ দিয়ে কোনও ভাবে কাজ করানো হচ্ছে। আরও এই দুটি পদের কর্মীদের বেতনের টাকা প্রতি মাসে হাসপাতালের কয়েকজন ডাক্তার ও কর্মচারী এবং এখানকার একটি এনজিও এর কাছ থেকে নিয়ে পরিশোধ করা হয়।
ডাক্তার রাজিব সরদার জানান, হাসপাতালে আগত মায়েদের প্রসব পরবর্তী ও পূর্ববর্তী আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ায় এখান থেকে প্রতি সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মায়েরা চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। কিন্তু অন্য রোগীদের জন্য অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। প্রাপ্তি কম হওয়ায় হাসপাতালে আগত রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী ওষুদ সরবারহ করা যাচ্ছেনা। তাছাড়া ৫টির মধ্যে ১টি অক্সিজেন ফ্লোমিটার ভাল থাকায় মূমূর্ষ রোগীদের অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয়ে উঠছেনা। তাছাড়া এখানে কর্মরত ডেন্টিস্ট সুমাইয়া বিনতে মুছা ও অর্থোপেডিক্স ডাক্তার জাহিদ ফেরদৌস ডেপুটেশনে যথাক্রমে সাতক্ষীরা সদর ও ঢাকার কুর্মীটোলা হাসপাতালে রয়েছে। যেকারনে সংশ্লিষ্ট রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে। হাসপাতালের এক্সরে ও অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করাসহ সকল সংকট সমাধানের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। অবিলম্বে সকল সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest