নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলাধীন দীঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ হামলার শিকার হন তিনি। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, লতিফুর রহমান পলাশ দুপুরে লোহাগড়া নির্বাচন অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এসময় মোটরসাইকেল করে দুজন এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান। তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিহতের নাম লতিফুর রহমান পলাশ (৪৭)। তিনি আট নম্বর দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কুমড়ি গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে। লতিফুল লোহাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটা মিটিং শেষে ফেরার পথে উপজেলা চত্বরে তার উপর হামলা হয়। দুর্বৃত্তরা তাকে উদ্দেশ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালায়। পরে ধারালো অস্ত্রদ্বারা উপর্যুপরি কুরিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

নির্যাতিত এতিম ছাত্র আব্দুল করিম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদেরকে বিনা দোষে আমাদের ছাত্রজীবনকে নষ্ঠ করে দিয়ে যারা আমাদের উপরে যারা নির্যাতন, নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি করলো তাদেরকে রক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসক আমাদেরকে বহিষ্কার করেছেন। আমরা আমাদের ছোটভাইদের উপর যখন যৌন নিপীড়ন করা হয়েছিল তখন ডিসি স্যারকে এ বিষয়ে বলতে চাইলে তিনি আমাদের ভর্ৎসনা করেছিলেন এবং সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলার জন্য অসন্তষ্ট বলে জানিয়েছিলেন। আর এখন আমাদেরকেই উল্টো বের করে দেয়া হয়েছে। আমরা এতিমখানাতে ফিরে যেতে চাই।” সে আবেগতাড়িত কণ্ঠে আরো বলে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন এতিম শিশুদেরকে রক্ষা করা জন্যে তাদের জীবনÑজীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ঠিক সেই সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাতৃস্নেহ থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করা হলো। আমরা অবিলম্বে সাতক্ষীরা সরকারি শিশু পরিবারে ফিরে যেতে চাই। আমাদের অবৈধ বহিস্কারাদেশ তুলে নেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী’র হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
