শ্যামনগরে রাতারাতি গড়ে উঠছে ভুঁইফোড় অবৈধ ক্লিনিক

শ্যামনগর থেকে : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একের পর এক গড়ে উঠছে ভুঁইফোড় ক্লিনিক। যেখানে নেই কোন এম বি বি এস ডাক্তার। গ্রাম্য ডাক্তারদের জোটগতভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠছে ক্লিনিকগুলো। এ যেনো চিকিৎসার নামে মানুষ ঠকানোর হলি খেলা। সুচিকিৎসার নামে অসুস্থ মানুষদের জবাই করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। অথচ প্রসাশানিক ভাবে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেই। এসকল ক্লিনিক ব্যবসায়ী নামধারী প্রতারকদের অবৈধ ক্লিনিকের প্রাথমিক লাইসেন্স দেওয়া নিয়ে উঠেছে নানা গুঞ্জন। একটি ক্লিনিক বৈধভাবে চলতে গেলে তার প্রথম শর্ত হলো স্বাথ্যসম্মত একটি বিল্ডিং ও উন্নত মানের যন্ত্রপাতি থাকা সহ সার্বক্ষণিক একজন এম বি বি এস ডাক্তার ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুই জন নার্স থাকতে হবে। অথচ রাতারাতি গড়ে ওঠা ওই সকল ক্লিনিক গুলোর উপরের কোন টাই নেই।
তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রের বাবলা তলা মোড় সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করে ক্লিনিকের অনুপযোগী একটি বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে কালিগঞ্জের নাইম ক্লিনিকের পরিত্যক্ত কিছু যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয় করে শ্যামনগরের মামুন মাস্টার, গ্রাম্য ডাক্তার আব্দুল আজিজসহ কতিপয় ব্যক্তি ন্যাশনাল হাসপাতাল ডায়াগ্রোনিক সেন্টার নামের একটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসা চালাতে তারা সকল প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন। দুই এক দিনের মধ্যেই ওই কসায় খানায় কাটাকটি শুরু হবে। সুন্দরবন উপকুলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা শ্যামনগর হাসপাতালের ডাক্তার সংকটের কারনে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। সরকারি হাসপাতালের সার্জনরা তাদের দায়িত্বে অবহেলা করে এসমস্ত ভুঁইফোড় ক্লিনিকে মানুষ ঠকানোর কাজে রীতিমত ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘ দিন হাসপতালে প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকার কারণে সাধারণ রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেনা। দুই একজন ডাক্তার থাকলেও তারাও ক্লিনিক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছে। আর এ কারনেও গড়ে ওঠছে একের পর এক অবৈধ ক্লিনিক। বেপরোয়া হয়ে পড়েছে স্বাথ্য সেবা দেয়ার নামে এক শ্রেণির ক্লিনিক প্রতারকরা। শ্যামনগরের সচেতন মহল অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের লাগাম টানতে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ও জেলা প্রসাশনসহ শ্যামনগর উপজেলা প্রসাশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস উপলক্ষে সব্যসাচী আবৃত্তি সংসদের আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস উপলক্ষে নিবেদিত কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সব্যসাচী আবৃত্তি সংসদের আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টায় মর্নিং সান প্রি-ক্যাডেট স্কুলে এ আলোচনা অনুষ্ঠি হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সব্যসাচী আবৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ছট্টু। হেনরি সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, তৃপ্তি মোহন মল্লিক। দিলরুবা রোজের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা ওয়ার্কাস পার্টির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এড. ফাহিমুল হক কিসলু। বক্তব্য রাখেন, মঞ্জরুল হক, মিলি আফরোজ, নিশিকান্ত, সায়েম ফেরদৌস মিতুল। কবিতা পাঠ করেন, নুরুজ্জামান সাহেব, শুভ্র আহমদে, স.ম তুহিন, শেখ আমিনুর রহমান কাজল, নাজমুল হক পল্টু, পলাশ রহমান, মুন্না প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ইউনুস আলী নাটক পরিবেশন করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আবাহনী মাঠ মাতাবেন বিদ্যা বালান

বালানকে দেখা হয়েছে ঢের। বলিউড ছবি কিংবা টেলি পর্দার এ নায়িকাকে এবার সামনাসামনি দেখার মওকা আসছে ঢাকার দর্শকের জন্য। আর তা ঘটতে যাচ্ছে ১৯ জানুয়ারি।

বিনোদনভিত্তিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল হ্যাপিনেস-এর উদ্বোধনে তিনি ঢাকায় পা দেবেন। জাঁকজমকপূর্ণ এ অনুষ্ঠানটির প্রধান আকর্ষণ তিনি। এটি হবে ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে।
বিষয়টি জানিয়েছেন চ্যানেলটির চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মিন্টু। বেশ কিছুদিন ধরেই টিভিটির কারিগরি প্রস্তুতি চলছিল। শনিবার (৯ ডিসেম্বর ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ তথ্য দেন তিনি।
জহিরুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‌‘অত্যন্ত জমকালোভাবে এটি করতে চাই। তাই ১৯ জানুয়ারি ধানমন্ডির আবাহনী মাঠটি আমরা বেছে নিয়েছি।’
তিনি জানান, শুধু বিদ্যাই নন, অনুষ্ঠানে কলকাতার গায়ক নচিকেতা ও অভিনেত্রী শুভশ্রীসহ আরও অনেকে উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, বিদ্যা বালান বলিউড চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলা, তামিল, মালয়ালম ও হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তরুণ বয়সেই চলচ্চিত্রের সাথে তার সম্পৃক্ততা ঘটে এবং ১৯৯৫ সালে ‘হাম পাঞ্চ হিন্দি সাইটকম’-এর মাধ্যমে তার আগমন।
‘‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’, ‘দ্য ডার্টি পিকচার’, ‘কাহানি’খ্যাত এ তারকা ২০১৪ সালে ভারত সরকার কর্তৃক দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পদক পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি দেশটির সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনেরও (সেন্সর বোর্ড) সদস্য।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাল্যবিবাহ নিরোধ কার্যক্রমে তৃণমূল পর্যায়ের সম্পৃক্ততা ও দক্ষতা উন্নয়নে কর্মশালা

তোষিকে কাইফু/তরিকুল ইসলাম লাভলু : বাল্য বিবাহ সমাজের নিরব ঘাতক। স্বাস্থ্যর উন্নতি, পরিবার, সমাজ তথা দেশের উন্নয়নে সবার আগে বাল্যবিবাহ নিরোধ করা জরুরী। এজন্য প্রয়োজন দেশের প্রতিটি গ্রামে-গ্রামে কমিটি গঠন করে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সাথে নতুন প্রজন্মকে এ বিষয়ে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জাতীয় সংসদ ও ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় বাল্যবিবাহ নিরোধ কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে সম্পৃক্ততা ও দক্ষতা উন্নয়ন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব আইইএম গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্জ অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ইন্টার পার্লামেন্টরি ইউনিয়ন হেল্থ এ্যাডভাইসরি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সিরাজগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম জগলুল হায়দার, সাতক্ষীরা সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রিফাত আমিন, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দীন, পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান, মোঃ মোস্তাক গাওছুল হক (বিপিএস), প্রফেসর বায়োজিদ খুরশিদ রিয়াজ(পরিচালক নিক্সন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার দেশনেত্রী শেখ হাসিনার সরকার নারী শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাল্য বিবাহকে রোধ করে দেশের উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণে দেশকে উন্নতশীল দেশে উন্নত করার স্বপ্ন দেখেন। এজন্য তিনি বাল্যবিবাহ নিরোধ কার্যক্রমে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, উদ্বুদ্ধকরণ ও দক্ষতা উন্নয়নে নারীদের এগিয়ে আশার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরোও বলেন, বাল্য বিয়ে সমাজের নিরব ঘাতক, বাল্য বিয়ে দিলে গর্ভধারনে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যু উভয় সংকট দেখা দেয়, শিশু ও মা দু’জনেই পুষ্টিহীনতায় ভোগে। আর পুষ্টিহীন শিশু সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতি ও দেশের উন্নয়নের প্রতি বাঁধা। স্বাস্থ্যও উন্নতি, পরিবার, সমাজসহ দেশের উন্নয়নে সবার আগে বাল্যবিবাহ নিরোধ করা জরুরী। এজন্য দেশের প্রতিটি গ্রামে বাল্য বিবাহ নিরোধে নতুন প্রজন্মকে এ বিষয়ে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে।
কর্মশালায় মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বাল্য বিবাহ রোধে করণীয় বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাল্যবিবাহ রোধে করনীয় শীর্ষক এক রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদেরও মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন তওহীদুর রহমান, কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যন আলহাজ্জ শেখ ওয়াহেদুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মীর্জা সালাউদ্দীন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য এস.এম আসাদুর রহমান সেলিম ও শাহানাজ পারভীন মিলি, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকবৃন্দ, ইমামবৃন্দ, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ ও সুধীবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নৌ মন্ত্রণালয়ের ভা. সচিব আব্দুস সামাদের ভোমরা স্থলবন্দর পরিদর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ আব্দুস সামাদ ভোমরা স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন। শনিবার দুপুরে তিনি ভোমরা স্থল বন্দরের জিরো পয়েন্ট, কাস্টস্রে কার্যালয় ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়সহ ইয়ার্ড, স্কেল রোড-আনলোড এলাকা ঘুরে দেখেন।

পরে তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কাস্টমস কর্মকর্তাবৃন্দ, বন্দর কর্তৃপক্ষের অফিসারবৃন্দ, সিএন্ডএফ কর্মকর্তা ও আমদানিকারক ওরপ্তানিকারকদের সাথে ভোমরা বন্দরের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনা সভায় সমস্যা ও সম্ভাবনার উপর বক্তব্য রাখেনে, কাস্টমসের পক্ষে ভোমরা স্থল বন্দরের সহকারী কমিশনার মোঃ রেজাউল হক, বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক আব্দুল জলিল, সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দেলোয়ার রাজু, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাছিম।
সচিব পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভোমরা বন্দরের সমস্যা ও সম্ভাবনার দিক ঘুরে দেখে সন্তাষ প্রকাশ করে বলেন, আমদানি-রপ্তানির গতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাস্তা ও ব্রিজ সংস্কারসহ নতুন ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘মজুর আর মুসলমান’ এই ছিল আফরাজুলের অপরাধ

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানে এক মধ্যবয়সী মুসলমান ব্যক্তিকে গত বুধবার নৃশংসভাবে হত্যার পর তার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আরেকটি ভিডিওতে অভিযুক্ত হত্যাকারীকে হামলার স্বপক্ষে যুক্তি দিতে শোনা যায় ”মুসলিমদের হাত থেকে হিন্দুদের সম্মান রক্ষার খাতিরে এই হামলা।” বিবিসি হিন্দির সাংবাদিক দিলনাওয়াজ পাশা গিয়েছিলেন নিহত মুহম্মদ আফরাজুল রাজস্থানের যে বাড়িতে থাকতে সেখানে।

মাটির বড় উনুনটা কয়েকদিন ধরে নিভেই আছে। যে বড় পাত্রটায় রান্না হত, সেটাও ঠাণ্ডা হয়ে গেছে আগেই।

পাশেই পড়ে রয়েছে কোদাল, শাবল – ঠিক যে ভাবে বুধবার সকালে রাখা ছিল, সেভাবেই রাখা।

ছোট্ট ঘুপচি ঘরের তক্তপোষে পড়ে ছিল হিসাবের খাতাটা – যিনি হিসাব কষছিলেন, তিনি যেভাবে ছেড়ে গিয়েছিলেন, সেভাবেই খোলা পড়ে রয়েছে ওটা।

একটা পুরনো বাক্সের ওপরে টি ভি রয়েছে – সেটাও বন্ধ। পাশেই এক বস্তা আলু। অনেকের খাবার রান্না হতো এই ঘরেই।

ঘরের বাইরে একটা থালায় পড়ে ছিল দুটো মোটা মোটা রুটি। দেখে মনে হচ্ছিল কাজ থেকে ফিরে এসে কেউ রুটি খাবে, তারই অপেক্ষা।

দরজার বাইরেই বেশ কয়েক জোড়া জুতো-চপ্পল পড়ে আছে, যেন কেউ তাড়াহুড়োয় চটি পড়তে ভুলে গেছে।

এটাই মালদার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা আফরাজুলের বাসস্থান।

এখানেই বছর পঞ্চাশেকের আফরাজুল তার ভাগ্নে ইনামুল, জামাই মুশারফ শেখ ছাড়া গ্রামের আরও কয়েকজনের সঙ্গে থাকতেন – গত বুধবার পর্যন্ত।

সেদিনই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় আফরাজুলকে, আর গোটা হত্যাকাণ্ড ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পরেই ওই ঘরের অন্য বাসিন্দাদের মধ্যে কয়েকজন তো পশ্চিমবঙ্গে চলে গেছেন আফরাজুলের মরদেহ নিয়ে। আর যারা রয়ে গেছেন রাজসমুন্দে, তারাও অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন।

তাদের আর সাহস হচ্ছে না এই ঘরে ফিরে আসার।

বাড়ির মালিক পণ্ডিত খেমরাজ পালিওয়ালকে থাকতেই হচ্ছে ওই বাড়িতে। চোখের জল সামলিয়ে তিনি শুধু এটুকুই বলতে পারলেন যে এরকম নিরীহ একজন মানুষের সঙ্গে এই নৃশংসতা!!

অটোরিকশা চালক রামলাল গত নয়-দশ বছর ধরে আফরাজুল আর তার সঙ্গী-সাথীদের নিজের গাড়িতে চাপিয়ে কাজের জায়গায় পৌঁছিয়ে দিতেন।

“খুবই ভদ্র আর ভালমানুষ ছিলেন আফরাজুল। চা খেতে ভালবাসতেন। আমাকেও বারে বারে চা খাওয়াতেন।”

আফরাজুলের হত্যার ভিডিওটা সাহস করে দেখতে পারেন নি রামলাল।

রাজসমুন্দে ১২-১৩ বছর আগে এসেছিলে আফরাজুল – দিন মজুরীর কাজ করতে।

ধীরে ধীরে দিন মজুর থেকে ঠিকাদার হয়ে উঠেছিলেন তিনি। রাস্তা তৈরির ঠিকাদারি করতেন তিনি – অন্য ঠিকাদারদের থেকে কাজ নিয়ে কিছুটা কম মজুরিতে করিয়ে দিতেন তিনি।

কাজের সুবিধার জন্য একটা মোটরসাইকেল কিনেছিলেন – যার নম্বর প্লেটের শেষ তিনটে সংখ্যা ছিল ৭৮৬।

হাজার বিশেক টাকা দিয়ে সম্প্রতি একটা স্মার্ট ফোন কিনেছিলেন আফরাজুল – যেটা তার নিথর দেহের সঙ্গেই জ্বালিয়ে দিয়েছে হত্যাকারী শম্ভূলাল।

আফরাজুলের দুই বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় জামাই মুশারফ শেখ শ্বশুরের সঙ্গেই থাকতেন।

“মঙ্গলবার বৃষ্টি হচ্ছিল, তাই আমরা আধা-দিন কাজ করেই ফিরে এসেছিলাম। বুধবারও হাল্কা বৃষ্টি পড়ছিল, তাই কাজ শুরু করতে পারি নি আমরা। দু’জন মজদুর রান্না করেছিল, আমরা সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করেছিলাম। উনি চা খাওয়ার জন্য বাইরে বেরিয়েছিলেন। বেলা সাড়ে দশটার দিকে ফোন করে শ্বশুর মশাই বলেন যে হিসাব করে যেন শ্রমিকদের পাওনাগণ্ডা মিটিয়ে দিই, উনি একটু পরে ফিরছেন,” বলছিলেন মুশারফ শেখ।

তিনি আরও জানাচ্ছিলেন, “ফের সাড়ে এগারোটা নাগাদ ফোন করে বকা দিলেন যে সারাদিন শুয়ে বসে থাকলে মজুরদের পয়সা কে দেবে! তারপরে উনার সঙ্গে আর কোনও কথা হয় নি। বলেছিলেন মিনিট দশেকের মধ্যেই ফিরবেন। উনি ফেরেন নি। আমি ঘরেই শুয়েই ছিলাম।”

দুপুরবেলা মুশারফকে এক পরিচিত লোক ফোন করে জানায় যে আফরাজুলের অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। প্রথমে মুশারফ ভেবেছিলেন যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।

কিন্তু যখন সেখানে পৌঁছলেন, তখন অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অবস্থা তার।

“প্রথমে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না যে কী করে ওরকম হল! হাউ মাউ করে কেঁদে ফেলেছিলাম ওখানে বসেই,” বলছিলেন আফরাজুলের জামাই মুশারফ।

পরে তিনি ভিডিওটাও দেখেছেন, আর তখন থেকে মুখে কিচ্ছু তুলতে পারেন নি।

এতোটাই ভয় পেয়ে গেছেন তিনি যে বাড়ির মালিকের ভরসা সত্ত্বেও ওই ঘরে আর থাকতে পারেন নি এক মুহূর্তের জন্যও। অন্য এলাকায়, গ্রামের মানুষের সঙ্গে থাকছেন তিনি।

আফরাজুলের ভাগ্নে ইনামুল বলছিলেন, “পেটের টানে এখানে কাজ করতে আসি আমরা। পেটের জ্বালায় ঘর ছেড়ে এতদূর এসে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বড়জোর ৮-১০ হাজার টাকা রোজগার করি। ভারতের মানুষ দেশের যে কোনও জায়গায় গিয়েই তো কাজ করতে পারে। কিন্তু সরকার যদি এরকম ঘটনা বন্ধ না করতে পারে, তাহলে কিসের ভরসায় মানুষ কাজ করতে অন্য জায়গায় যাবে?”

এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রশ্নে ইনামুল বলেছেন, “আমাদের শরীর মন অবশ হয়ে গেছে ওটা দেখে। আমরা কীভাবে বিচার করবো? গরীব, কমজোর মানুষ আমরা। বিচার করা তো সরকারের দায়িত্ব। যদি ওই লোকটাকে ফাঁসি দিতে পারে সরকার, তাহলেই আমরা ভরসা পাব, নিরাপদ মনে হবে নিজেদের। আর যদি সে জামিন পেয়ে যায়, কী করব আমরা? গ্রামে ফিরে যাব!”

আফরাজুলকে যে কেন হত্যা করা হল, তা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না মুশারফ, ইনামুল বা বরকত আলিরা।

‘লাভ জিহাদ’ শব্দটাও তারা নতুন শুনছেন।

বরকত আলি মালদায় আফরাজুলের গ্রামের কাছেই থাকেন আর তার সঙ্গে মজদুরি করতেই রাজস্থানে গেছেন। বলেন, “আমরা দু’বেলা দুটো খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য বাড়ি ছেড়ে হাজার কিলোমিটার দূরে থাকি। এখানে কে প্রেম করতে আসে আর কে-ই বা জেহাদ করতে আসে! পেটের খিদের থেকে বেশী কিছু আমাদের চিন্তাতেই আসে না।”

রাজসমুন্দের যে মেহতা মঙ্গরী এলাকায় আফরাজুলের বাসা, সেখানকার কয়েকজন স্থানীয় যুবকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল।

এক হিন্দু যুবক বলছিলেন, “যদি মেনেও নিই যে তিনি কোনও ভুল কাজ করেছিলেন, কিন্তু এই ভাবে তাকে মেরে ফেলার অধিকার কারও নেই। পুলিশ প্রশাসন ছিল তো, তাদের কাছে অভিযোগ জানানো যেতো।”

বাড়ির মালিক খেমরাজ পালিওয়ালের মেয়ে বি এ পড়ছে।

তার কথায়, “কেউ কোনও দোষ করে থাকলে তার জন্য তো পুলিশ আছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কে দিয়েছে?”

কিন্তু আফরাজুলের দোষটা কী ছিল?

“তার দোষ বোধ হয় এটাই যে সে সহায়সম্বলহীন ছিল, মজদুরি করতো আর মুসলমান ছিল।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জেরুজালেম ইস্যু; হোয়াইট হাউজের সামনে জুমার নামাজ আদায়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাসভবন হোয়াইট হাউজের সামনে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেছে মুসলিমরা। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদ জানাতে হোয়াইট হাউজের সামনের পার্কে মুসলিমরা নামাজ আদায় করেন। আমেরিকার মুসলিম সংগঠনগুলো এ অভিনব প্রতিবাদের ডাক দেন।

এসময় মুসলিমরা ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী কাপড়, আবার কেউ কেউ ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক পরেন। তারা পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। সূত্র : দ্য স্ট্রেইট টাইমস

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আলোচনায় কলকাতায় জন্ম নেয়া ‘মৎস্যকন্যা’

জন্ম নেয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়েছে কলকাতার ‘মৎস্যকন্যা’। কিন্তু চার ঘণ্টা পর আর বাঁচানো জায়নি শিশুটিকে। সাধারণত এক লাখে এমন একটি শিশুর জন্ম হয়ে থাকে। রূপকথায় বর্ণিত মৎস্যকন্যাদের মতো কোমর থেকে শরীরের নিচের অংশ একত্রিত হয়ে থাকায় শিশুটির লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়নি।

কলকাতায় মুসকুরা বিবি নামের যে নারী ওই শিশুটির জন্ম দিয়েছেন তিনি আগে আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করাননি। তাই নিজের সন্তানের অবস্থাও জানতে পারেননি। চিকিৎসকরা শিশুটির এই অবস্থার নাম দিয়েছেন ‘সিরিনোমেলিয়া’ যা মারমেইড (মৎসকন্যা) সিনড্রোম হিসেবে পরিচিত।

বুধবার সকালে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়। হাসপাতালের অবসটেট্রিকস ও গাইনোকলজি স্পেশালিস্ট ড. সুদীপ সাহা বলেন, অনাগত সন্তানের যত্ন নিতে বিবি ও তার স্বামীর কাছে যথেষ্ট অর্থ ছিল না। এই জন্য শিশুটি এ অবস্থায় জন্ম নিয়েছে।

গত বছরও ভারতের উত্তর প্রদেশে এমন একটি শিশু জন্মেছিল।
মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় শিশুটি মারা যায়। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest