মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার প্লাটফর্ম চালানো ২ যুবক সাতক্ষীরায় গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি : অনলাইন ক্যাসিনো সম্রাট মোরশেদুল আলম লিপুসহ দুই ব্যক্তিকে সাতক্ষীরায় আটক করেছে পুলিশ।  বৃষ্পতিবার মধ্যরাতে মন্টু মিয়ার বাগানবাড়িতে আসার পথে বাইপাস সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।এসময় তাদের কাছ থেকে অনলাইনে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত ১৬টি মোবাইল ফোন ও ৩টি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, মেহেরপুর জেলার শিবপুর গ্রামের মোঃ জিনারুল ইসলামের ছেলে।মোরশেদুল আলম লিপু গাজী (২৮) ও একই জেলার বামনপাড়া গ্রামের মাসুদুল আলমের ছেলে মুছাঈদ আলম (৩০)।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম শনিবার দুপুরে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে ডিবি ও সদর থানা পুলিশের যৌথ দল খানপুর থেকে বাইপাসগামী খড়িবিলা মোড়ে চেকপোস্ট বসায়। এসময় সন্দেহভাজন একটি অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালালে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। তাদের পরিচালনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় ছিল একাধিক জুয়ার প্ল্যাটফর্ম। এছাড়া তারা দেশের অর্থ বিদেশে অবৈধভাবে পাচার করছিল। লিপুর বিরুদ্ধে ২০২১ সালে ঢাকার পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আেইনে একটি মামলা রয়েছে,যেটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ তদন্ত করছে। লিপু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

উল্লেখ্য, মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় লিপুসহ অনলাইন জুয়ার শীর্ষ ১৯ এজেন্টদের গতিবিধি নজরদারি করছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। ওই জুয়া এজেন্টরা বর্তমানে অঢেল সম্পত্তির মালিক বলে জানা গেছে। এছাড়া অনলাইন জুয়ার এজেন্টদের মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। মেহেরপুরে গ্রেপ্তার এড়াতে লিপু তার সহযোগীকে নিয়ে সাতক্ষীরায় পালিয়ে আসছিল  বলে পুলিশের একটি সুত্র দাবি করেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সাতক্ষীরা জেলা কমিটি পুর্নগঠন

নিজস্ব প্রতিনিধি : আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সাতক্ষীরা জেলা কমিটি পুর্নগঠন করা হয়েছে। শুক্রবার ম্যানগ্রোভ সভাঘরে কমিটি পুর্নগঠন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল।

মো: আলমগীর হুসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ ইয়ামিনুর রহমান, এবি যুব পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাদীউজ্জামান খোকন, ঝিনাইদহ জেলার আহবায়ক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো: মতিয়ার রহমান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, জেলা ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মনঞ্জুরুল আলম রিপন, পৌর আহবায়ক মো: কামরুজ্জামান লিটন, সদর উপজেলা পার্টির আহবায়ক জি এম সালাউদ্দিন শাকিল, সদরের যুগ্ম আহবায়ক হাকাম নাজমুস সামাদ, দেবহাটা উপজেলার আহবায়ক মো: আজহারুল ইসলাম, শ্যামনগর উপজেলার সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার শেখ আবিদ হোসেন, জেলা মহিলা পার্টির আহবায়ক জেসমিন নাহার কমলা, পৌর মহিলা পার্টির আহবায়ক মোছা: তাজিনুর খাতুন উমি।

সভার শুরুতে এবি পার্টির প্রয়াত জেলা আহবায়ক আব্দুল কাদেরের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং তার স্মৃতিচারন করেন পার্টির সদস্যরা।

সভায় পূর্বের জেলা কমিটি ভেঙে দেন সভাপতি। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের গোপন ভোটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সাতক্ষীরা জেলা কমিটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেন।

নতুন আহবায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন মো: আলমগীর হুসাইন, যুগ্ম আহবায়ক আসিফ মোহাম্মাদুল্লাহ লায়ন, সদস্য সচিব জি এম সালাউদ্দীন শাকিল, যুগ্ম সদস্য সচিব মো: আজহারুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ার শেখ আবিদ হোসেন।
উল্লেখ্য গত ২১ জুন আকস্মিকভাবে মারা যান এবি পার্টির জেলা আহবায়ক আব্দুল কাদের। এর থেকেই জেলা পার্টির আহবায়কের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। ফলে জেলা কমিটির কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য কমিটি পুর্নগঠন জরুরী হয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি পুর্নগঠন করা হয়।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিশুদের ‘নোবেল’ পুরস্কারে মনোনীত সাতক্ষীরার সুদীপ্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি: শিশুদের ‘নোবেল’ খ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার–২০২৫ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন সাতক্ষীরার তরুণ সমাজকর্মী সুদীপ্ত দেবনাথ (১৫)। তিনি শিশু সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও শিক্ষার প্রসারে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই মনোনয়ন পেয়েছেন।

সুদীপ্ত দেবনাথ সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালে এসএসসি পাস করে বর্তমানে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছেন। তিনি শহরের মাস্টারপাড়ার যামিনী কুমার দেবনাথ ও সেজুতি দেবনাথ দম্পতির সন্তান।

নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অবস্থিত শিশু সহায়তা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা কিডসরাইটস ফাউন্ডেশন প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা শিশুদের এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়ে থাকে।

গত তিন বছর ধরে উপকূলীয় অঞ্চলে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছেন সুদীপ্ত। তিনি বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিক্ষাবঞ্চনার মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে গ্রামীণ ও অনলাইন—দুই মাধ্যমে সচেতনতা গড়ে তুলেছেন। তাঁর উদ্যোগে একাধিক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ হয়েছে এবং বহু পরিবার শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়েছে।

সুদীপ্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওয়েবিনার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচারণা ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে হাজারো মানুষের কাছে শিশু অধিকার সম্পর্কিত বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কর্মশালা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যেখানে শিশু সুরক্ষা, অনলাইন নিরাপত্তা ও শিক্ষার প্রতি উৎসাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে আমার। ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনিতে পরিচর্চাকারীদের পজেটিভ প্যারেনটিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ
আশাশুনি প্রতিনিধি:
আশাশুনিতে প্রতিবন্ধীদের পরিচর্চাকারীদের পজেটিভ প্যারেনটিং বিষয়ক তথা পিতামাতা ও যত্নশীলদের সক্ষমতাবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক অভিভাবকত্বের উপর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে ৩ দিনের এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
লিলিয়ানা ফন্ডস এর অর্থায়নে সিডিডি এর সহায়তায় আইডিয়ালের আয়োজনে গত ৭ অক্টোবর প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করা হয়। ৩ দিনের প্রশিক্ষণে প্রতিবন্ধীদের পরিচর্চাকারী পিতামাতা ও পরিচর্চাকারী ২৫ জন অংশ গ্রহন করে।
প্রশিক্ষণ প্রদান করেন, ম্যাগ ইন সিবিআর প্রকল্পের সিবিআর অফিসার সুব্রত বাছাড় ও ফিল্ড ট্রেইনার আপ্তাবুর জামান। অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ও পজেটিভ প্যারেনটিং সহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা মুক্তির একমাত্র পথ টিআরএম: আলোচনায় বক্তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকায় কমিউনিটি ভিত্তিক জোয়ারাধার (টিআরএম) বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে। বক্তাদের দাবি, টিআরএম ছাড়া সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা মুক্তির সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মোবারকপুরে উত্তরণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় “কমিউনিটি ভিত্তিক টিআরএম পরিকল্পনা” শীর্ষক আলোচনা সভা।

‘জোয়ার বদলাচ্ছে: দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের জোয়ারনদীগুলোর প্রতিবেশভিত্তিক অভিযোজন প্রসারে জনগণের পরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ এ সভার আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরণের পরিচালক শহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা–১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ্। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উত্তরণের প্রকল্প সমন্বয়কারী জাহিদ আমিন শ্বাশ্বত।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা সেক্রেটারি আজিজুর রহমান, তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, তালা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শেখ শফিকুল ইসলাম এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)–এর পানি সম্পদ প্রকৌশলী এটিএম সামসুল আলম।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন শোভনালি ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, বল্লী ইউপি চেয়ারম্যান মহিতুর রহমান, পাখিমারা টিআরএম বিল কমিটির সহ-সভাপতি গোলদার আশরাফুল হক, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, গোলাম সরোয়ার প্রমুখ।

সভায় মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে সিইজিআইএস-এর প্রকৌশলী সিয়াম আলম ও পরামর্শক ড. মাহমুদা মোতাহারা বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকার বর্তমান অবস্থা, সীমানা নির্ধারণ, এবং টিআরএম বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সুফল ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

বক্তারা জানান, টিআরএম বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর প্রায় ৭৫ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব। এতে জলসম্পদের উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন ও মৎস্য আহরণ বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। শুধু কৈখালী ও তেঁতুলিয়া বিল থেকেই প্রায় ৩০ কোটি টাকার অতিরিক্ত কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন সম্ভব বলে তারা উল্লেখ করেন।

তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেতনা নদী খনন করা হলেও টিআরএম বাস্তবায়ন না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই নদীটি আবারও পলি জমে ভরাট হয়ে যাবে। জোয়ার-ভাটার প্রাকৃতিক প্রবাহের মাধ্যমে নদীর পলি নিচু বিলাঞ্চলে সরিয়ে নদীর নাব্যতা রক্ষা ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধি—এই দুই লক্ষ্যই টিআরএম পদ্ধতির মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।

বক্তাদের মতে, সরকারের ডেল্টা প্ল্যান–২১০০-তেও জোয়ার-ভাটার নদী ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে টিআরএম বাস্তবায়নের সুপারিশ রয়েছে। তাই শুধু খনন বা অবকাঠামো নির্মাণ নয়, টিআরএম-ই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের একমাত্র টেকসই সমাধান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় তরুণ নেতৃত্বে নির্বাচনী সংলাপ: জনগণকেন্দ্রিক ইশতেহারে স্থানীয় উন্নয়নের চাহিদা উপস্থাপন
নিজস্ব প্রতিনিধি : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ নেতৃত্বে জনগণকেন্দ্রিক নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের লক্ষ্যে এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় উন্নয়ন চাহিদা ও জনগণের প্রত্যাশাকে নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নাগরিক কমিটির সদস্য, এনজিও ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহরের তুফান কনভেনশন সেন্টার (লেকভিউ)-এ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিডো’র আয়োজনে ও একশনএইড বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় ‘এফরটি প্রকল্পের আওতায় নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৫: সাতক্ষীরার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় উন্নয়নে চাহিদা নিরূপণ’ শীর্ষক জেলা পর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিডো সাতক্ষীরার প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস। সংলাপে সাতক্ষীরার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় উন্নয়ন ও নাগরিক চাহিদা নিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদি, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, শহর জামায়াতের নায়েবে আমির ফকরুল হাসান লাভলুসহ অন্যান্যরা।
প্রধান আলোচক হিসেবে একশনএইড বাংলাদেশ-এর ডেপুটি ম্যানেজার (প্রোগ্রাম অ্যান্ড পার্টনারশিপ) আরিফ সিদ্দিকী বলেন, “বাংলাদেশ বরাবরই তরুণদের ক্ষমতায়ন, গণতান্ত্রিক চর্চা ও ন্যায্য উন্নয়নের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এই সংলাপের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের মতামত জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় যুক্ত হবে।”
সংলাপে সাতক্ষীরা ইয়ুথ হাবের সভাপতি সাকিব হাসান তরুণ নেতৃত্বে প্রস্তুতকৃত ‘স্থানীয় উন্নয়ন চাহিদা নিরূপণ প্রতিবেদন’ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এফজিডি ও কেআইআই সভার মাধ্যমে জনগণের বাস্তব দাবিগুলো চিহ্নিত করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের পরামর্শ সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহ ছিল—
দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জরুরি সাড়াপ্রদান, নিরাপদ পানীয় জল, দুর্যোগ সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো, জলবায়ু সহনশীল টেকসই কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তি, দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সংহতি, সাইবার নিরাপত্তা, সম্পদ বণ্টন ও জবাবদিহিতা, সর্বজনীন ও সমতাভিত্তিক শিক্ষা, ন্যায্য ও নবায়নযোগ্য শক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রাস্তাঘাটের সংস্কার, সুন্দরবন কেন্দ্রিক টেকসই ইকোটুরিজম প্রতিষ্ঠা, সুন্দরবনের পরিবেশ ও সম্পদ সংরক্ষণ, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, সাতক্ষীরাকে দেশের রেল নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করা, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ, সীমান্তে মাদক প্রতিরোধে প্রযুক্তি-নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ভোমরা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের বন্দরে উন্নীত করা, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যকর পৌর প্রশাসন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উন্নয়নে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, সুন্দরবন বাঁচাতে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংযোজন, জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনা, সবুজ উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণাগার স্থাপন এবং প্রাণ সায়র খালের দুই ধার সৌন্দর্যবর্ধন ও সংরক্ষণ।
সভা সঞ্চালনা করেন বেতনা যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মাসুদ রানা। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার, ইয়ুথ পিয়ার গ্রুপ ফ্যাসিলিটেটর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, নাগরিক কমিটির সদস্য, ব্যবসায়ী ও এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ।
সংলাপে বক্তারা বলেন,“জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তরুণদের চিন্তা, উদ্যোগ ও নেতৃত্বই আগামী দিনের রাজনীতিকে ইতিবাচকভাবে বদলে দেবে।”
সংলাপ শেষে স্থানীয় তরুণদের প্রস্তাবনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে “সাতক্ষীরা জেলা উন্নয়ন চাহিদা সনদ” তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় প্রেরণ করা হবে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটার টাউনশ্রীপুর হাইস্কুলের শিক্ষক ও আয়াকে অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটার টাউনশ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব কুমার ব্যানার্জী ও একই স্কুলের আয়া জান্নাতুল ফেরদৌসের অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে তাদের অপসারনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর আয়োজনে বৃহস্পতিবার ৯ অক্টোবর সকাল ১০টায় স্কুলের সামনে দেবহাটা-টাউনশ্রীপুর সড়কে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গত কিছুদিন আগে উক্ত শিক্ষক ও আয়া অনৈতিক কর্মকান্ডের সময় কুলিয়া এলাকায় এলাকাবাসীর মাধ্যমে আটক হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়। এ ঘটনায় স্কুলের সুনাম নষ্ট ও শিক্ষার পরিবেশে মারাত্মকভাবে প্রভাব পড়ে।

একারনে তাদেরকে অপসারন ও কঠিন শাস্তির দাবিতে দীর্ঘ সময় মানববন্ধন পরবর্তী সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম, সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব বুলবুল, সাংবাদিক ফারুক মাহবুবুর রহমান, সমাজসেবক শাহেন শাহ আলম, সাবেক শিক্ষার্থী নাসিম হোসেন, ইউনিয়ন জামায়াতের প্রশাসনিক সম্পাদক ফয়েজুল ইসলাম, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দেবহাটার সাবেক আহবায়ক মুজাহিদ বিন ফিরোজ প্রমুখ।

মানববন্ধনে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকবৃন্দ, সর্বশ্রেণী পেশার মানুষ ও স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রী ও বর্তমান স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং উক্ত শিক্ষক ও আয়াকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করার দাবী জানান। পরে এলাকাবাসী মিছিল সহকারে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের সাথে সিভিল সার্জনের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সার্বিক কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় সদর হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম।

সভায় তিনি বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছি। হাসপাতালের পরিবেশ, চিকিৎসা সেবা ও রোগী ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে। কিন্তু কিছু অসাধু চক্র ও দালাল সিন্ডিকেট আমার এই প্রচেষ্টায় বাধা দিচ্ছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সদ্য বদলিকৃত সাবেক আরএমও ডা. ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে হাসপাতালের দালাল চক্র ও কিছু অসাধু ব্যক্তি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমার ও হাসপাতালের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা নিজেদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অপপ্রচার শুরু করেছে।”

ডা. সালাম আরও বলেন, “সদর হাসপাতালে দালালমুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে আমি কঠোর অবস্থান নিয়েছি। রোগীরা যাতে বিনা হয়রানিতে সেবা পায়, সেদিকে প্রশাসন সম্পূর্ণ সচেষ্ট। কোনো অসাধু ব্যক্তি বা চক্রের দৌরাত্ম্য বরদাস্ত করা হবে না।”

এসময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং হাসপাতালের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা ও রোগীসেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. মো. বিয়াদ হাসান, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান, ডেন্টাল সার্জন ডা. জি এম নুরুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত সরকার, ডা. ইসমত জাহান সুমনা, ডা. ডালিয়া আক্তার সাম্মী, ডা. পার্থ কুমার দে, ডা. মো. সাইফুল আলম, ডা. মো. আব্দুর রহমান প্রমুখ।

সভায় বক্তারা হাসপাতালের অনিয়ম, দালাল সিন্ডিকেট ও মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest