সর্বশেষ সংবাদ-

সাতক্ষীরায় ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি, লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। ডাকাত দলের সদস্যরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দু’ ভরি সোনার গহনা, নগদ ৩৮ হাজার টাকাসহ দু’ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করেছে। বুধবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের মফিজ সরদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
গৃহকর্তা মফিজ সরদার জানান, বুধবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে সাত আট জনের একদল ডাকাত ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাদেরকে ঘরের দরজা খুলতে বলে। দরজা না খোলায় তারা বাড়ির পাশের আম গাছ বেয়ে ছাদে ওঠে। পরে তারা সিঁড়ি বেয়ে ঘরের বারান্দায় এসে দরজা খুলতে বাধ্য করে। তারা ঘরের মধ্যে ঢুকে তাকেসহ পরিবারের সদস্যদের পিস্তলের মুখে জিম্মি করে শোকেস ভেঙে দু’ ভরি সোনার গহনা, নগদ ৩৮ হাজার টাকাসহ দু লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে চলে যায়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ আহম্মেদ জানান, এটা ডাকাতি নয়, দস্যুতা। লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবারের বিসিএস-এ পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম ডা. সুবর্ণা

৩৬তম বিসিএস পরীক্ষার পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ডা. সুবর্ণা শামীম আলো। ডা. সুবর্ণা শামীম আলো রাজধানী ঢাকার ‘স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের’ ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

২০১৩ সালে এমবিবিএস পাসের পর বিসিপিএস থেকে শিশু বিভাগে এফসিপিএস-পার্ট ১ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিশু বিভাগে এমডি কোর্সে অধ্যয়নরত। তিনি এবারই প্রথম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন।

 ডা. আলো কুমিল্লার হোমনা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল হক মোল্লার ছোট মেয়ে।

প্রসঙ্গত, গতকাল (১৭ অক্টোবর) ৩৬তম বিসিএস’র চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। এতে ২ হাজার ৩২৩ জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।

বিভিন্ন ক্যাডারে দুই হাজার ১৮০ জনকে নিয়োগ দিতে ২০১৫ সালের ৩১ মে ৩৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। গত বছরের ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় দুই লাখ ১১ হাজার ৩২৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি, যাতে উত্তীর্ণ হন ১৩ হাজার ৮৩০ জন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ পেল ১০২৭ ভোট, মিয়ানমার ৪৭

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর গণহত্যার বিষয়টি ১৩৭তম ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) সম্মেলনে ইমারজেন্সি আইটেম হিসেবে গৃহীত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে চলমান আইপিইউ সম্মেলনের সাধারণ সভায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হয়।

এর আগে সোমবার আইপিইউ সম্মেলনে ইমারজেন্সি আইটেম হিসেবে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত রোহিঙ্গা ইস্যুটি ভোটাভুটিতে ১০২৭ ভোট পেয়ে গৃহীত হয়। এর বিপরীতে মিয়ানমার পায় মাত্র ৪৭ ভোট। বুধবার জাতীয় সংসদের গণসংযোগ অধিশাখা থেকে পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইপিইউ সাধারণ সভায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি গৃহীত হওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহল দেখছে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে। জাতিসংঘের চেয়ে বয়সে পুরনো, সারাবিশ্বের ১৭৩টি দেশের ৬৫০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল সর্ববৃহৎ সংসদীয় ফোরামে রোহিঙ্গা ইস্যুটি গৃহীত হওয়ার বিষয়টি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমতের প্রতিফলন বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আইপিইউ সম্মেলনে ইমারজেন্সি আইটেম হিসেবে বাংলাদেশের কোন প্রস্তাবনা গৃহীত হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। আজ সমাপ্ত আইপিইউ সম্মেলনে ২০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি।

এদিকে আইপিইউ সম্মেলন চলাকালে বাংলাদেশ সংসদীয় দলের সঙ্গে রাশিয়ার সংসদীয় দলের এক দ্বি-পাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপিসহ অন্য সংসদ সদস্যরা। রাশিয়া সংসদীয় দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের ডেপুটি স্পিকার ইলিয়াস উমা খান। আলোচনাকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মিয়ানমারের জাতিগত নিধনের ভয়াবহতা রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরেন। মানবিক এ সমস্যার সমাধানে রাশিয়া ভূমিকা রাখবে বলে রাশিয়ার ডেপুটি স্পিকার বাংলাদেশ সংসদীয় দলকে আশ্বস্ত করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়া

তিন মাসেরও বেশি সময় পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ বুধবার বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান খালেদা জিয়া।

বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়া গুলশানে বাসভবনের দিকে রওনা দিয়েছেন।

এর আগে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি পান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, দেহরক্ষী মাসুদ রানা ও গুলশানের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের কর্মচারী জসিম।

এর আগে লন্ডনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিট) খালেদা জিয়াকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বিমানটি (ইকে-৫৮৬) হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে ছাড়ে।

বিমানে ওঠার আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। ভিআইপি টার্মিনাল থেকে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে এই বক্তব্য দেন তিনি। নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরের বাইরে দাঁড়িয়ে দলীয়প্রধানের বক্তব্য শোনেন।

পরে দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন খালেদা জিয়া। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এমন একসময়ে দেশে ফিরছেন, যখন তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
বাসে পেট্রলবোমা হামলার মামলায় গত ৯ অক্টোবর বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন বেগম। এ ছাড়া ১২ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঢাকায় দুটি আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মানহানির মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নবী এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান এ দুটি পরোয়ানা জারি করেন।

বিএনপি মনে করে, রাজনৈতিক কারণেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপরদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১৫ জুলাই চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন। বড় ছেলে ও দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগে থেকেই লন্ডনে অবস্থান করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ষাটোর্ধ বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ, নজরদারিতে স্ত্রী

আব্দুল জলিল : গলায় নায়লনের রশির ফাঁস লাগিয়ে ঘরের বৈদ্যুতিক ফ্যানে ঝুলন্ত এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় ঘটনাটি ঘটে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাড়দ্দহা গ্রামে। বুধবার সকালে সদর থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। নিহত ব্যক্তির নাম আবদুল হাকিম। তার বয়স ৬২ বছর।
প্রতিবেশী ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম জানান, আবদুল হাকিম নিঃসন্তান হওয়ায় পরপর তিনটি বিয়ের পর পাঁচ বছর আগে তিনি আনোয়ারা খাতুন রুনা নামের এক নারীকে দুটি সন্তানসহ বিয়ে করেন। বিয়ের সময় কথা ছিল তিনি তাদের নামে তার সম্পত্তি লিখে দেবেন। কিন্তু সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় স্ত্রী রুনার সাথে তার ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। এরই এক পর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, আবদুল হাকিম কিছুদিন আগে হজ্ব করেছেন। তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন দাবি করে ইউপি সদস্য আরও বলেন ‘গলায় ফাঁস লাগানো আবদুল হাকিমের লাশ এমনভাবে ঝুলন্ত ছিল যে দেখেই মনে হবে তিনি দাঁড়িয়ে রয়েছেন।’
ঘটনাস্থল থেকে সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্যামাপ্রসাদ জানান, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন ‘এ ঘটনা একটি পরিকল্পিত হত্যা এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত কেউ করেনি’। ময়না তদন্ত শেষে তার মৃত্যুর রহস্য পরিষ্কার হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রীকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ঐতিহ্যবাহী দাড়িয়াবান্ধা টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

আব্দুল জলিল : সাতক্ষীরায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী আট দলীয় দাড়িয়াবান্ধা (গাদন) টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উত্তর তলুইগাছা মাঠ পাড়ায় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনালে অংশ নেয় পাচালি দল ও জোরদিয়া দল। তবে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ ফাইনাল ম্যাচ পাচালি দল ১-পয়েন্টে জোরদিয়া দল (গাদনে) পরাজিত করে। ফাইনালে ম্যাচ রেফারি ছিলেন যুবলীগনেতা আব্দুল খালেক। খেলায় বিজয়ী দলকে একটি ২১” টিবি ও পরাজিত দলকে ১৪” টিভি দেওয়া হয়। খেলায় সেরা খেলোয়ার নির্বাচিত হন জোরদিয়া দলের বাবলা হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, তলুইগাছা গাদন কমিটি প্রতিবছর এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। গ্রাম বাংলার মানুষের বিনোদনের খোরাক এই খেলা আগে অনেক এলাকায় হলেও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার।
এবারের আয়োজনও সার্থক হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ ফাইনাল ম্যাচ দেখতে এসেছে এবং বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে খেলা উপভোগ করেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তুলসীর অজানা রহস্য!

হরেক রকমের রোগ দূর করতে তুলসী পাতার জুড়ি মেলা ভার। একাধিক প্রাচীন পুঁথি ঘেঁটে জানা গেছে, যে বাড়িতে তুলসি গাছ রয়েছে সেখানে রোগ-ভোগের প্রবেশ নিষেধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে সুখ শান্তির অভাব কোনও দিন হয় না। এমনকি এমনও বিশ্বাস আছে যে তুলসি গাছ দোর গোড়ায় রাখলে মৃত্যুরও পায়েও শিখল পরে যায়।

শুধু ঠাণ্ডা বা সর্দি কমাতে নয়, আরও অনেক কাজে তুলসী অনেক বেশি উপকারী। আসুন জেনে নেয়া যাক, তুলসী পাতা সম্পর্কে অজানা কিছু রহস্য-

১. বাস্তু শাস্ত্র মতে বাড়িতে কোন দোষ থাকলে তুলসি গাছে এনে রাখা উচিত। এমনটা করলে সমস্ত দোষ কেটে যায়। সেই সঙ্গে সুখ-সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হয়।

২. এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে যত আমরা নেগেটিভ এনার্জির থেকে দূরে থাকবো, তত খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কা কমে। কিন্তু এমনটা তো বোঝা সম্ভব নয় যে আমাদের আশেপাশে নেগেটিভ এনার্জির নিজের জাল বিছচ্ছে কিনা। তাই বাড়িতে তুলসি গাছ রাখা মাস্ট! কারণ তুলসি মা সব রকমের নেগেটিভ এনার্জিকে দূরে রাখে। ফলে খারাপ কিছু হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে শূন্যে এসে দাঁড়ায়।

৩. বাড়িতে রাখা তুলসি গাছ শুকিয়ে গেলে ভুলেও তা বাড়িতে রাখে দেবেন না। বরং তা জলে ভাসিয়ে দেবেন। কারণ শুকিয়ে যাওয়া তুলসি গাছ বাড়িতে রাখলে মারাত্মক কিছু ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৪. একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন যদি ১-২ টো করে তুলসি পাতা খাওয়া যায়, তাহলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে কোনও ধরনের সংক্রমণই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৫. অনেকেই শারীরকে চাঙ্গা রাখতে প্রতিদিন তুলসি পাতা খেয়ে থাকেন। এই অভ্যাসে কোনও ভুল নেই। কিন্তু আপনাদের কি জানা আছে তুলসি পাতা খাওয়ার সময় ভুলেও তা চিবতে নেই! কারণ এতে উপস্থিত অ্যালোয়িস নামে একটি উপাদান দাঁত এবং মাড়ির স্বাস্থ্যের পক্ষে একেবারেই ভাল নয়। তাই ভুলেও এবার থেকে তুলসি পাতা চিবতে যাবেন না যেন!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পোল্ট্রি শিল্পে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

পোল্ট্রি শিল্প বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে এ শিল্প থেকে। প্রাণীজ আমিষের প্রায় এক তৃতীয়াংশ আসে এই পোল্ট্রি শিল্প থেকে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সবার জন্য পুষ্টির সরবরাহ নিশ্চিত করণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ শিল্প।

বর্তমানে দেশের পোল্ট্রি শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে অগ্রগতির পাশাপাশি দেশের বেকারত্ব সমস্যাও সমাধান হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ লাখ মানুষ তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্প দুই ভাগে বিরাজমান। একটি পারিবারিক অন্যটি বাণিজ্যিক। পারিবারিক খামারগুলোর বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও দিনে দিনে এ শিল্পে এগিয়ে যাচ্ছে। এমনকি গ্রামের স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষিত তরুণদের অনেকেই ব্যবসা করছে। এদিকে বাংলাদেশে আশি এর দশক থেকেই ব্যবসায়িক ভিত্তিতে পোল্ট্রি খামারের উত্থান ঘটেছে। নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছেন বড় বড় খামার। তারা বিপুল অংকের টাকা বিনিয়োগ করছেন। অনেক বেকার যুবক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে ছোট ও মাঝারি গোছের পোল্ট্রি খামার। আর এভাবেই দেশে দ্রুততার সাথে সম্প্রসারণ ঘটছে পোল্ট্রি শিল্পের।

বর্তমানে বাংলাদেশে ডিমের দৈনিক উৎপাদন ২ কোটি ২০ লাখ আর মুরগীর মাংসের উৎপাদন দৈনিক প্রায় সাড়ে ১৮শ টন। দেশের পোল্ট্রি শিল্পের এত সফলতার পরও খামারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বিভিন্ন দিক থেকে। ইতোমধ্যে এ দেশের পোল্ট্রি শিল্পে বিদেশী পুঁজি আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে নিয়োজিত ৭টি বিদেশী কোম্পানীর ৫টি ভারতের আর চীন ও থাইল্যান্ডের ১ টি করে। দেশের প্রায় ৩০ ভাগ পুঁজি নিয়ন্ত্রণ করছে এসব বিদেশী কোম্পানী। ফলে এদের সাথে যেন এক অসম প্রতিযোগিতা লেগেই আছে দেশী খামারগুলোর। ঝরে পড়ছে ছোট খামারগুলো। অথচ সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে বরাবরই ব্যর্থ হচ্ছে।

পোল্ট্রি উৎপাদনে যে খরচ হয় তার ৬৮ শতাংশ খাদ্য খরচ, ১৮.৫ শতাংশ বাচ্চা কেনার খরচ, ৫ শতাংশ ওষুধের খরচ, ৪ শতাংশ শ্রমিকের মজুরী এবং বাকি অন্যান্য খরচ। সারাবিশ্বে পোল্ট্রির খাদ্যের অন্যতম উপকরণ ভুট্টার উৎপাদন কমায় দাম বেড়েছে। অন্যদিকে বাচ্চা কেনার খরচ অনেক বেশী হলেও সরকার নীতিমালা সংশোধনেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ব্রয়লারের এক দিনের বাচ্চার দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা আর লেয়ারের বাচ্চার দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। অথচ ব্রয়লারের একদিনের বাচ্চার উৎপাদন খরচ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা আর লেয়ারের বাচ্চার ৩৫ টাকার কাছাকাছি। বাজারে এইসব বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ দামে। এছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে এ শিল্পের কর অব্যাহতি সুবিধা তুলে নিয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়। তাই মুনাফা কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারীদের। বর্তমানে মুনাফা কম হওয়ায় সরকারের উচিত এ শিল্পের আয় করমুক্ত করা। এত খামারীরা উৎপাদন ও নতুন খামার তৈরিতে উৎসাহিত হবে।

অপরদিকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ও সচেতনতার অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে গ্রামীণ পারিবারিক খামারগুলোতে। দেশের জৈব পোল্ট্রি উৎপাদনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হল রোগ নিয়ন্ত্রণ করা। বালাইয়ের মধ্যে ভাইরাসজনিত (রাণীক্ষেত, গামবোরো, ডাক প্লেগ, এভিয়ান ইনফ্লয়েঞ্জা), ব্যাকটেরিয়া জনিত (ফাউল কলেরা, ফাউল টাইফয়েড), পরজীবি জনিত (রক্ত আমাশয়, কৃমি) রোগ উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক বিষাক্ত পদার্থ, নিন্ম মানের খাদ্য, আবহাওয়া ইত্যাদির কারণেই এই সমস্যা গুলো প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। এজন্য একদিন বয়সী বাচ্চা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের পোল্ট্রিকে টিকা প্রদান করতে হবে। জীবাণুনাশক ঔষধ দিয়ে নিয়মিত বাসস্থান, খাবার পাত্র ও পানির পাত্র, যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়াও কৃমিনামক ঔষধ, খাদ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ ককসিডিওষ্ট্যাট নামক ঔষধ সরবরাহ করতে হবে। খামার ঘরে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং খামারের জীব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আর রোগ সংক্রামক এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে দেশের পোল্ট্রি খামারীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত।

পোল্ট্রি শিল্পে যে খাদ্য ব্যবহার করা হয় তাতে ক্ষেত্র বিশেষে ক্ষতিকর ক্রোমিয়াম থাকে। মৎস্য ও পোল্ট্রি খাদ্যে আমিষের উৎস্য হিসেবে ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার এর মূল কারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের এক পরীক্ষায় প্রতি কেজি মুরগীর মাংসে ২৪৯ মাইক্রোগ্রাম থেকে ৪৫৬১ মাইক্রোগ্রাম ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ক্ষতিকর ধাতু মাংস ও ডিমের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসার সহ বিভিন্ন রোগ তৈরি হতে পারে। তাই ট্যানারি বর্জ্যরে ব্যবহার বন্ধ করার কোন বিকল্প নেই।

মানুষের আয় বৃদ্ধি ও জীবন মানের উন্নয়নের সাথে পাল্লা দিয়ে পোল্ট্রির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই চাহিদা মেটানোর জন্য পোল্ট্রি উৎপাদনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা দরকার। আর এ জন্যই দরকার পোল্ট্রি শিল্পের সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার এর পৃষ্ঠপোষকতার বিকল্প নেই। এ শিল্পের মালিক ও শ্রমিকদেরও উচিত দক্ষতার সাথে উৎপাদন পরিচালনা করা। তাতে উৎপাদন খরচ কমবে, বাজার সম্প্রসারিত হবে, বাড়বে মুনাফা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest