সর্বশেষ সংবাদ-
ইছামতি নদীতে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা রেজাউলের জীবন যুদ্ধগণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের মিছিল ও সমাবেশসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা : গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণশ্যামনগরে নদীর চরে গাছ হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনকালিগঞ্জে চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়লের বাড়ি থেকে ১২শ লিটার ডিজেল উদ্ধারকলারোয়ায় সাপের কামড়ে তরুণীর মৃত্যুজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাআঙ্গুল : গার্লস স্কুলে ভর্তি নিচ্ছে না প্রধান শিক্ষকজাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা ইউনিটের সদস্য সচিব এবং সদস্য -এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিবৃতিদিবা-নৈশ কলেজের অধ্যক্ষের বাগান বাড়ির চার শতাধিক গাছ কেটে ক্ষতিসাধনআগামীকাল রবিবার থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৩ দিনের ছুটি

মিথ্যা সাক্ষী সাজানোর অভিযোগে ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশির দণ্ড

মিথ্যা সাক্ষী সাজানোর অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন ফিনল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশি কামরুল হাসান জনি। গত ১২ অক্টোবর ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি জেলা কোর্ট তার বিরুদ্ধে ওই রায় দেয়।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, ফিনল্যান্ডের বেসরকারি খাতে একজন কর্মীর গড় মাসিক আয় সাড়ে তিন হাজার ইউরো। তবে ফিনিশ আয়কর বিভাগের হিসাবে প্রবাসী জনির প্রতিদিন আয় মাত্র ৬ ইউরো।

মিথ্যা সাক্ষ্য সাজানোর দায়ে প্রবাসী কামরুল হাসান জনিকে ২০ দিনের আর্থিক উপার্জন জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিদিন ৬ ইউরো ধরে মোট ১২০ ইউরো তাকে পরিশোধ করতে হবে।

রায়ে একইসঙ্গে আদালতে খরচ ও বাদীর আইনজীবীর যাবতীয় ফি পরিশোধ করতে বলা হয়েছে দোষী সাব্যস্ত জনিকে।

তবে আদালতে তার দাখিল করা কাগজপত্র অনুযায়ী আর্থিক দীনতা বিবেচনায় নিয়ে আইনজীবীর ওই অর্থ প্রাথমিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।

জনির ওই মিথ্যা সাক্ষী সাজানোর ঘটনাটি কয়েক বছর আগের। ইতালী প্রবাসী এক নারীকে বিয়ে করে নিয়ে ঘর-সংসার করেন। কিন্তু ফিনিশ আইন অনুযায়ী স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করায় কামরুল হাসান জনির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ওই নারী।

পরে ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল ধর্ষণের ওই মামলায় জনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মামলা হওয়ার পর এক ব্যক্তিকে (ফিনিশ আইনে বিধিনিষেধ থাকায় নাম প্রকাশ করা গেল না) সাক্ষী সাজিয়ে ওই নারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য প্ররোচনা দেন জনি। পরে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগের সদস্যদের জেরার মুখে জনির ‘সাজানো সাক্ষী’ যাবতীয় সঠিক তথ্য দেন।

ওই সাক্ষ্য দেওয়ার জের ধরেই গত ৬ অক্টোবর শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে হেলসিংকির বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় তাণ্ডব চালান কামরুল হাসান জনি ও তার অনুসারীরা। সেদিন হামলায় চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করার পর জনিসহ পাঁচজন গ্রেফতার হয়েছিলেন। দুই দিন পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও হামলার তদন্ত চলছে।

মসজিদ এলাকায় তাণ্ডবের ঘটনায় হেলসিংকি পুলিশর গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, একইসঙ্গে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর কথাও শুনেছেন। ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজনের মুঠোফোনে ভিডিও চিত্র ও আশেপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরাগুলিতে থাকা এই পুরো ঘটনার রেকর্ডকৃত ভিডিও পুলিশ সংগ্রহ করেছে।

উল্লেখ্য, রায়ের একটি অনুলিপি এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কোন গুজবে কান দিবেন না : অপু বিশ্বাস

আমি অপু বিশ্বাস, একজন পেশাদার অভিনেত্রী। অভিনয় আমার পেশা এবং নেশা।
আমি দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত কারণে চলচ্চিত্র থেকে দূরে ছিলাম।

খুব শীঘ্রই আমি আবার চলচ্চিত্রে ফিরছি। যেহেতু অভিনয় আমার পেশা সে কারণে অনেকেই আমার কাছে আসছে। নতুন চলচ্চিত্র নিয়ে কথা হচ্ছে। আমি আগ্রহ সহকারে গল্প শুনছি।

ব্যাটে বলে মিলে গেলে খুব তাড়াতাড়ি নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আবার আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে আপনাদের মাঝে ফিরে আসবো।

আপাতত কোন গুজবে কান দিবেন না, সবাই ভালো থাকুন।

(নায়িকার ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট; হুদার বিরুদ্ধে আ’লীগ নেতা সাহাদাতের এজাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেইসবুকে আপত্তিকর পোস্টে শেয়ার করায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর কলেজের শিক্ষক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোদাচ্ছেরুল হক হুদাকে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিনি একজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানও ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে বেশ কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্টে শেয়ার করেছেন নিজের ফেইসবুক আইডি থেকে। শুধু প্রধানমন্ত্রী নন তার ফেইসবুক আইডিতে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিয়েও গালিগালাজের কমতি করেননি। প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি আপলোড করা পোস্টেও তিনি শেয়ার করেছেন। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামীরীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বাদি হয়ে সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ হেড কোয়াটারের নির্দেশ পেলেই মামলাটি রেকর্ড করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জানা গেছে, আল জাহিদ নামের একটি ফেইসবুক আইডি থেকে আপলোড করা পোষ্টে মোদাচ্ছেরুল হক হুদা শেয়ার করে এই অপকর্মগুলি অনায়াসে চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে আপত্তিকর কথা লিখে শেয়ার করছেন। Modasserul Haque Huda নামের আইডি থেকে বিএনপি অনলাইন উইং, বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠী, ইরা চৌধুরী আইডি থেকে সরকার বিরোধী ও দেশ বিরোধী আপলোড করা ছবিসহ বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করে আসছেন। সমাজের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসাবে তিনি কেন এ সব অশ্লীলতা চালিয়ে যাচ্ছেন তা কারও বোধগম্য নয়। অনেকে বলছেন, হুদার বেহুদা কারবারের সমুচিত জবাব দেওয়া উচিত। এ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ইতিমধ্যে হুদার এ বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে তিনি প্রশাসন থেকে সরকার দলীয় বিভিন্ন নেতাকার্মীদের কাছে নিজেকে বাঁচাতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। তবে, সচেতন মহলের দাবি হুদাকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার করা হোক।

এ বিষয়ে কলেজ শিক্ষক অধ্যাপক মোদাচ্ছেরুল হক হুদা জানান, আমি অনেক সময় কলেজে ক্লাস নেয়ার সময় মোবাইল ফোনটি অফিস রুমে রেখে যায়। এ সময় কেউ আমার মোবাইল ফোন থেকে শেয়ার করেছে কিনা তা আমি বলতে পারবোনা।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ জানান, পৌর আওয়ামীরীগের সাধারন সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বাদী হয়ে শনিবার রাতেই সদর থানায় বিএনপি নেতা হুদার বিরুদ্ধে একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশ পেলেই এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খুলনায় বাবাকে বখাটেদের মারধর, স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা!

ন্যাশনাল ডেস্ক : বখাটেরা বাড়িতে ঢুকে বাবাকে মারধর করছিল -খুলনার স্কুলছাত্রী শামসুন নাহার চাঁদনী এ দৃশ্য দেখে আত্মহত্যা করেছে। সে সরকারি করনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বখাটেরা বাড়িতে ঢুকে মারধর করছিল স্কুলছাত্রী শামসুন নাহার চাঁদনীর বাবা মো. রবিউল ইসলামকে। বাবাকে হেনস্তার এই দৃশ্য দেখে আত্মহত্যা করেছে মেয়ে। শুক্রবার রাতে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার হরিণটানা এলাকার দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খুলনা নগরের সরকারি করনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল শামসুন নাহার চাঁদনী (১২)। তার বাবা মো. রবিউল ইসলাম একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল চাঁদনী।
রবিউল ইসলাম বর্তমানে এক্সিম ব্যাংকের যশোর শাখায় কর্মরত আছেন। চাঁদনীর বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তার ভাই ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। বাড়িতে মূলত থাকতেন চাঁদনী ও তার মা ফিরোজা পারভীন। প্রতি শুক্রবার বাড়িতে আসতেন বাবা রবিউল।

এলাকাবাসী ও চাঁদনীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে চাঁদনীকে উত্ত্যক্ত করছিল হরিণটানা মধ্যপাড়া এলাকার শাহ আলমের ছেলে শুভ। সে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। চাঁদনীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল সে। এ ঘটনা মাকে জানিয়েছিল চাঁদনী। এরপর রবিউল শুভর বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে ঘটনাটি জানান। তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত না করার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে যশোর থেকে বাড়িতে আসেন রবিউল। সন্ধ্যার দিকে শুভ আরও কয়েকজনকে নিয়ে ওই বাড়ি ঘিরে রাখে। কিছুক্ষণ পর মাফিয়া কবির নামের এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে শুভর বাবা চাঁদনীদের বাড়ি যান। সঙ্গে শুভ ও তার সঙ্গীরাও ছিল। এ সময় মাফিয়া কবির রবিউলকে বলেন যে চাঁদনীর সঙ্গে শুভর প্রেমের সম্পর্ক আছে।
রবিউলের অভিযোগ, চাঁদনী প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করার সঙ্গে সঙ্গে মাফিয়া মেয়ের গালে থাপ্পড় মারেন। এর প্রতিবাদ করলে শুভ ও তার সঙ্গীরা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে রবিউলকে মারধর শুরু করে। এ ঘটনা দেখে চাঁদনী ঘরে ঢুকে দরজা আটকে দেয় এবং গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। চাঁদনীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে তার মা চিৎকার করে উঠলে শুভ ও তার সঙ্গীরা পালিয়ে যায়।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুভর বিরুদ্ধে ওই এলাকায় আরও অনেক মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে মধ্যপাড়া এলাকার দশম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করায় এলাকায় তাকে নিয়ে সালিস হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্ত্যক্তের শিকার ওই শিক্ষার্থীর মা অভিযোগ করে বলেন, ওই এলাকায় আসার পর থেকেই শুভ তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করছিল। পরে সালিস ডেকে শুভকে সতর্ক করা হয়।
এদিকে ঘটনার পর শুভদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। সেই বাড়ির ভাড়াটিয়া মাছুরা বেগম বলেন, শুক্রবার রাত নয়টার দিকে শুভর মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে কাউকে না পেয়ে বাড়িতে তালা লাগিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে মাফিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে শুভর বিরুদ্ধে আগে কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জীবনযুদ্ধে জয়ী বড় ছেলের বিসিএস ক্যাডার হয়ে ওঠার গল্প

সাত ভাইবোনের মধ্যে পরিবারের বড় ছেলে তিনি। জীবনের শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ একজন সফল মানুষ। বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক। ৯ সদস্যের বড় পরিবারে বাবার একার আয় ছিল খুবই অপ্রতুল। অার তাই ছোট বেলাতেই ধরতে হয়েছে সংসারের হাল। প্রত্যন্ত গ্রামে বিদ্যুতের আলো না থাকায় হারিকেনের আলোয় করেছেন পড়াশোনা। এর মাঝেই এসএসসি, এইচএসসিতে করেছেন বোর্ড স্ট্যান্ড। টিউশনি করে ছোট ভাই-বোনদের স্বাচ্ছন্দ্যের সব ব্যবস্থা করলেও নিজে একই শার্ট গায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ায় হয়েছেন বন্ধুদের তিরস্কারের শিকার। তবে সবকিছুকে জয় করে, জীবনের সকল বাঁধা অতিক্রম করে তিনি একজন সফল মানুষ। নাম মো. রবিউল ইসলাম। কর্মরত অাছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারি পুলিশ কমিশনার হিসেবে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন জীবনের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর গল্প।
৩৩তম বিসএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এ কর্মকর্তার গ্রামের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া ইউনিয়নের দীননাথ পাড়া গ্রামে। দুরন্ত শৈশব আর কৈশোর কেটেছে সেখানেই। স্কুলে বরাবরই প্রথম ছিলেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। এরই ধারাবাহিকতায় মেধাতালিকায় বৃত্তি পান পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে। তবে বিপত্তি বাঁধে অষ্টম শ্রেণি পাশের পর। সেসময় কমার্সে পড়ার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। তবে তাদের গ্রামের স্কুলে কমার্স না থাকায় বাড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দুরের এক স্কুলে ভর্তি হন। যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত অনুন্নত থাকায় রোদ-বৃষ্টি-ঝড় মাথায় করে মাইলের পর মাইল কাঁদামাটির পথ ভেঙ্গে যেতে হতো স্কুলে। এরমধ্যেও এসএসসিতে সম্মিলিত মেধা তালিকায় যশোর বোর্ডে হয়েছেন দশম।

১৯৯৮ সালে এসএসসি পাশের পর মেধার জোরে ভর্তি হন ঢাকা কমার্স কলেজে। সেখান থেকে প্রতি মাসে স্কলারশিপ বাবদ পেতেন ৯০০ টাকা। তখন থেকেই শুরু টিউশনির। অনেকগুলো টিউশনি করাতেন সেসময়। সেখান থেকে প্রতিমাসে বাবার হাতে তুলে দিতেন টাকা। এর ফলে অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে সংসারের।

এইচএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় ঢাকা বোর্ড থেকে ১৬তম স্থান অধিকার করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করাটা তার কাছে ছিলো বিলাসিতার নামান্তর। তাই বই কিনে নিজে নিজেই করেছেন পড়াশোনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে পড়াকালে বন্ধুদের দেখে অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে অংশ নেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের নির্বাহী অফিসার পদের পরীক্ষায়। সেখানে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। ঘুরে যায় জীবনের মোড়। হলে থেকেই করতে থাকেন চাকুরি। পাশাপাশি চালিয়ে যান পড়াশোনা। এর মাঝেই ঢাকা ব্যাংকের প্রবেশনারি পদের সার্কুলার হয়। সেখানের পরীক্ষায়ও সফল হন। বেতন ভালো হওয়ায় যোগ দেন সেখানে। এরই মাঝে ঢাকায় বাসাভাড়া করে ভাই-বোনদের নিয়ে আসেন ঢাকাতে। ভর্তি করিয়ে দেন বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

বিসিএসের প্রতি কখনোই তেমন আগ্রহ ছিলোনা মেধাবী এ পুলিশ কর্মকর্তার। তবে ঢাকা ব্যাংকে চাকুরি করাকালে ক্রমশই হাঁপিয়ে উঠছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল। তিনি বলেন: ব্যাংকে প্রবেশ করার পর থেকে বের হবার আগ পর্যন্ত বাইরের পৃথিবী থেকে থাকতে হতো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। রোদ-ঝড় বৃষ্টি কিছুই টের পেতাম না সেসময়। আর তখনই মনে হতে থাকে জীবন এভাবে চলতে পারে না।

এরই মাঝে প্রজ্ঞাপণ জারি হয় ২৯তম বিসিএসের। তবে আবেদন করার পর পুরোপুরি ভুলেই গেছিলেন সে কথা। হঠাৎ একদিন শুনতে পান আগামী শুক্রবার বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞাণ ও গণিতের ভিতটা ছোট থেকেই ভালো হওয়ায় মোটেও বেগ পেতে হয়নি তাকে। সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন সেখানে।

তবে বিড়াম্বনার মুখে পড়েন লিখিত পরীক্ষার আগে। ব্যাংক থেকে মঞ্জুর হয় না ছুটি। অার তাই খানিকটা রাগ করেই পরীক্ষার আগের দিন ম্যানেজার স্যারের কাছে গিয়ে বলেন: ‘স্যার যা পারেন করেন, আমি চলে গেলাম।’ এই একটি সিদ্ধান্তই আমূল পরিবর্তন এনে দেয় এ কর্মকর্তার জীবনে। আনসার ক্যাডারে চতুর্থ স্থান অধিকার করেন তিনি। এরপর ট্রেনিং করে চাকুরিতে যোগদান করতে করতে চলে যায় ৩০ ও ৩১তম বিসিএস।

৩৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপণ জারি হলে রবিউলের এক বন্ধু অনলাইনে তার ফরমটি পূরণ করে দেন। সেখানেও প্রিলিমিনারিতে সফল হন তিনি। সৌভাগ্যবশত লিখিত পরীক্ষার আগে অফিস থেকে পেয়ে যান লম্বা ‍ছুটি। সেজন্য প্রয়োজন হয় না আলাদা করে অফিসকে জানিয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমতির। আর এতেই ঘটে বিপত্তি। মৌখিক পরীক্ষার সময় অফিস থেকে ছাড়পত্র চাইতে গেলে দেয়া হয় না ছাড়পত্র।

মৌখিক পরীক্ষা ছিলো সোমবার। পূর্বেই অবেদন করে রাখার পরও বৃহস্পতিবার অফিসে যেয়ে মেলে না ছাড়পত্র। সেদিনই অফিস করে চলে আসেন ঢাকায়। অপেক্ষায় থাকেন রোববারের। রোববার সকালে চলে যান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সেখানে সারাদিন অপেক্ষার পর বিকেলে মেলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি। এরপর ৩৩তম বিসিএসে ৩৩তম হয়ে যোগ দেন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে। বর্তমানে কর্মরত অাছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারি পুলিশ কমিশনার হিসেবে।

বাবাকে হারিয়েছেন ৫ মাস আগে আর তাই মায়ের মুখের হাসি আর ভাইবোনদের সুখই তার এখন একমাত্র চাওয়া। ভাইবোনের নিমিত্তে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া পুলিশ কর্মকর্তা রবিউলের প্রার্থনা, ভাই-বোনগুলো যেন বেড়ে ওঠে প্রকৃত মানুষ হয়ে আর সৎভাবে যেন করতে পারে জীবন নির্বাহ। তিনি বিশ্বাস করেন, সদিচ্ছাই বদলে দিতে পারে সবকিছু।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

শীত এসে যাবে আর কিছুদিন পরেই। এখনই বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া শুরু করেছে। সেই সাথে ত্বকেও শুষ্কতা দেখা দিয়েছে। এই আবহাওয়াতে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন নারকেল তেল। কেবল চুল নয়, ত্বকের যত্নেও নারকেল তেল দারুণ কার্যকরী। জেনে নিন ত্বকের যত্নে নারিকেল তেলের কিছু ব্যবহার।

মেকআপ তুলতে
দিন শেষে মেকআপ ঠিক মতো না তুললে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেয়। মেকআপ তোলার জন্য ব্যবহার করতে পারেন নারকেল তেল। যে কোনো দামি মেকআপ রিমুভারের চাইতে কোনো অংশে কম কার্যকরী নয় নারকেল তেল। নারকেল তেল ত্বকের গভীর থেকে মেকআপ এবং ময়লা তুলে আনবে এবং ত্বককে মসৃণ রাখবে।

ময়েশ্চারাইজার
নারকেল তেলে প্রচুর ফ্যাটি এসিড এবং ভিটামিন ই আছে। ত্বকের শুষ্কতায় মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে কয়েক ফোটা নারকেল তেল পুরো মুখের ত্বকে লাগিয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের দাগ দূর হবে এবং ত্বক কোমল থাকবে।

ব্রণ কমাতে
নারিকেল তেলে আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রোপার্টি। যাদের ত্বকে ছোট ছোট ব্রণ বা ফুসকুড়ির সমস্যা আছে তারা নিয়মিত নারকেল তেল ব্যবহার করলে এই সমস্যা দূর হবে। সেই সঙ্গে ব্রণের গর্তও কমে যায় অনেকটা।

ঠোটের শুষ্কতা কমাতে
বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকলে কিংবা শীতের শুরুতে অনেকেরই ঠোঁট ফাটে। এই সমস্যার দারুণ সমাধান হতে পারে নারকেল তেল। ঠোট শুকালেও এক ফোটা নারকেল তেল শুষ্ক ঠোঁটে লাগিয়ে নিন। রাতে ঘুমানোর আগেও ঠোটে নারকেল তেল লাগান। নিয়মিত ব্যবহার ঠোঁট কোমল থাকবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সোশ্যাল মিডিয়ায় এবার ট্রোলিংয়ের শিকার শ্রদ্ধা

সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের সমালোচনা করাটা এখন ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে। কয়েকদিন আগেই জুহি চাওলাকে এমনই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।
কারণ তিনি দিল্লিতে শব্দবাজির উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ডিজাইনার মাসাবা গুপ্ত, ফাতিমা সানা শেখও সম্প্রতি সমালোচিত হয়েছেন তাঁদের পোশাকের জন্য। এবার সেই তালিকায় ঢুকে পড়লেন শ্রদ্ধা কাপুর।

ইনস্টাগ্রামে সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করেন শ্রদ্ধা। আর তাতেই হয়েছে সমস্যা। আসলে পশুপ্রেমী হিসেবে শ্রদ্ধা তার ইনস্টাগ্রাম পেজের ভিডিওটিতে একটি বিশেষ আবেদন করেছিলেন। তার ফ্যানদের কাছে তিনি বলেছেন, এই দিওয়ালিতে শব্দবাজি বা আতসবাজির ব্যবহার না করতে। কারণ তিনি মনে করেন, এতে শুধু পরিবেশ দূষণ নয়, পশুদেরও খুব কষ্ট হয়। বাজির আওয়াজে ভয় পায় পশুপাখিরা।

সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এই ভিডিও পোস্ট করতেই সমালোচিত হয়েছেন শ্রদ্ধা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার এমন পোস্টে নাকি তিনি কতটা ভণ্ড সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন নায়িকা। কেউ কেউ আবার পাল্টা ছবির প্রচারে গিয়ে শ্রদ্ধার আতসবাজি জ্বালানোর ছবিও পোস্ট করেছেন। যদিও এ নিয়ে এখনও মন্তব্য করেননি ‘আশিকি গার্ল’।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
লাভজনক পানিফল চাষে আগ্রহ বেড়েছে দেবহাটার চাষীদের

কেএম রেজাউল করিম : পানিফল। যার বহুল অংশ চাষ হয় সাতক্ষীরার দেবহাটায়। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এ ফল সারা দেশে ফল হিসেবে পরিচিতি না থাকলেও দিনে দিনে এর চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। পানি ফলের বাম্পার ফলন ও লাভজনক হওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে চাষীদের। হাটবাজার ও ফুটপাত ছাড়াও ক্ষেত থেকে তুলে মহাসড়কের ধারে পানিফল বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের। প্রতি কেজি পানিফল স্থান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ টাকায়। স্থানীয়ভাবে ফলটি উৎপাদন বেশি হওয়ায় জনপ্রিয় চাষ হয়ে উঠেছে। সুস্বাদু ও পুষ্টি গুণসম্পন্ন এ ফলটির চাষ সাতক্ষীরা জেলায় বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে।
ফলচাষ শুরু হয় ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এবং ফল সংগ্রহ করা হয় অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে। পানিফল কচি অবস্থায় লাল, পরে সবুজ এবং পরিপক্ক হলে কালো রং ধারন করে। ফলটির পুরু নরম খোসা ছাড়ালেই পাওয়া যায় হৃৎপিন্ডাকার বা ত্রিভুজাকৃতির নরম সাদা শাসঁ। কাঁচা ফলের নরম শাসঁ খেতে বেশ সুস্বাদু। প্রতি ১০০ গ্রাম পানিফলে ৮৪.৯ গ্রাম পানি, ০.৯ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ২.৫ গ্রাম আমিষ, ০.৯ গ্রাম চর্বি, ১১.৭ গ্রাম শর্করা, ১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৮ মিলিগ্রাম লৌহ, ০.১১ মিলি গ্রাম ভিটামিন বি-১, ০.০৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২ ও ১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। তাছাড়া এ ফলে ৬৫ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি থাকে। পানিফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে। দেহের প্রয়োজনীয় খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়াম অন্যতম। ফসফরাসের সহযোগিতায় শরীরের হাড় ও দাঁতের গঠন এবং মজবুত করা ক্যালসিয়ামের প্রধান কাজ। লৌহ অত্যন্ত জরুরি একটি খনিজ লবন। লৌহের অভাবে মানবদেহে অপুষ্টিজনিত রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়। ছোট ছেলেমেয়েরা এবং গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা অতি সহজে রোগের শিকার হয়। পানি ফলে যথেষ্ট পরিমাণে লৌহ পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম পানি ফলে ভিটামিন ‘সি’ এর পরিমান ১৫ মিলিগ্রাম আর শসাতে আছে ভিটামিন ‘সি’ মাত্র ৫ মিলিগ্রাম । ভিটামিন ‘সি’ শরীরে চামড়া, দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষায় অপরিহার্য। তাছাড়া ভিটামিন ‘সি’ অস্ত্রে লৌহ শোষণে সাহায্য করে। বাংলাদেশের শতকরা ৯৩ ভাগ পরিবার ভিটামিন ‘সি’ এর অভাবে ভুগছে। খাদ্যে ভিটামিন ‘সি’ এর ঘাটতি বিবেচনা করে এ ফলের প্রতি আমাদের অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পানি ফল কাঁচা খাওয়া হয়, তবে সিদ্ধ করেও খাওয়া যায়। কাঁচা পানিফল বলকারক দুর্বল ও অসুস্থ মানুষের জন্য সহজপাচ্য খাবার। ফলের শুকনো শাঁস রুটি করে খেলে এলার্জি ও হাত-পা ফোলা রোগ উপশম হয়। পিওপ্রদাহ, উদরাময় ও তলপেটের ব্যথ্যা উপশমে পানিফল খাওয়ায় প্রচলন রয়েছে। বিছাপোকা কামড়ের যন্ত্রনায় থেঁতলানো কাঁচা ফলের প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। পানিফল খুব লাভজনক একটি ফসল। এর উৎপাদন খরচ খুব কম। সাতক্ষীরা জেলার সদর, কলারোয়া, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি, সদরের আংশিক ও শ্যামনগর উপজেলায় জলাবদ্ধ এলাকার চাষিরা পানিফল চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছেন। ফলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ ফলের চাষ। সেই সাথে বাড়ছে ফলটির জনপ্রিয়তা।
জেলার সিংহাভাগ পানিফল চাষ হয় সাতক্ষীরার দেবহাটায়। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এ ফল সারা দেশে ফল হিসেবে পরিচিতি না থাকলেও দিনে দিনে এর চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। পানি ফলের বাম্পার ফলন ও লাভজনক হওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে চাষীদের। পানি ফল বা পানি স্যাংড়া নামের ফল চাষে অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় দেবহাটাসহ সাতক্ষীরা জেলার চাষীরা আগ্রহী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে ফলটি উৎপাদন বেশি হওয়ায় জনপ্রিয় চাষ হয়ে উঠেছে। সুস্বাদু ও প্রিয় মৌসুমে ফল হিসেবে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে ব্যাপক পরিমান চাষ হচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় দেবহাটাতে ১৪ হেক্টর জমিতে হেক্টর প্রতি ৩২ মেট্রিকটন ফলন হয়েছে। উপজেলার সখিপুর, গাজিরহাট, কামটা, কোঁড়া, দেবহাটা, পারুলিয়া, কুলিয়া, বহেরাসহ বিভিন্ন এলাকায় চাষ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ চাষ ফসল চাষের জমি হিসেবে ডোবা, খানা, মৎস্য ঘেরে সুবিধাজনক। সামান্য লবণাক্ত ও মিষ্টি পানিতে চাষ করা যায়। তাছাড়া পানি ফল গাছ কচুরিপানার মত পানির উপরে ভেসে থাকে, পাতার গোড়া থেকে শিকড়ের মত ডগা বের হয়ে বংশ বিস্তার করে এবং তা থেকে ফল ধারণ করে। পানিফল চাষে খুব বেশি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না। সার ও কীটনাশকের পরিমান কম লাগে।
দেবহাটার সখিপুর গ্রামের পানিফল চাষি জিয়াদ আলীর পুত্র আকবর আলী বলেন, এ বছর তিনি একটি ২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে পানি ফলের চাষ শুরু করেছেন। শুরুতেই এই চাষ লাভের আশা দেখিয়েছেন তাকে। তিনি আগামী বছর আরও বেশি জমি নিয়ে চাষ করবেন বলেও জানান। আরেক পানিফল চাষি দক্ষিণ সখিপুর গ্রামের মৃত এজাহার আলীর পুত্র ইসমাইল হোসেন ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে পানিফল চাষ করে আসছেন। এবছর তিনি ১৫ বিঘা জমিতে এ চাষ করেছেন। তিনি ১৩/১৪ দিন পর পর ফল উত্তোলন করেন। যার বিঘা প্রতি ১২/১৫ মন ফলন পাচ্ছেন। যার প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে পাইকারি বিক্রয় করে লাভবান হচ্ছেন।
সখিপুর ও ডেল্টা মোড় এলাকার খুচরা পানিফল ব্যবসায়ী জামাল উদ্দীন ও আনছার আলী জানায়, বর্তমানে ২০ টাকা দরে পানিফল বিক্রয় করছেন। দিনে গড়ে ২০/৩০ কেজি ফল বিক্রয় করে ১০০/১৫০ টাকা লাভ করে। তাদের এটি মৌশুমী ব্যবসা।
পাইকারি পানিফল ব্যবসায়ী কামটা গ্রামের মৃত আব্দুল ছালেকের পুত্র খোকন বাবু সরদার বলেন, চাষের মৌসুম আসার আগে তিনি অর্ধ শতাধিক চাষীর মাঝে অর্থ বিনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে ফলন আসার পরে বাজার দর অনুযায়ী উৎপাদিত ফসল ক্রয় করেন। এভাবে ২০ বছরের বেশি সময় তিনি পানিফল ব্যবসায় নিয়োজিত আছেন। প্রতিদিন তিনি ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, বরগুনা, চিটাগাং, সিলেট, রাজশাহী, বেনাপোল, যশোর, নাটোর, বগুড়া, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ ফল রপ্তানি করেন। বর্তমান জেলার বাইরের বাজার ভেদে পাইকারীভাবে বিক্রি করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার জসীমউদ্দীন বলেন, পানিফল চাষ কৃৃষি খাতে চাষ হিসেবে ধরা না হলেও এটি অতিদ্রুত চাষের খাতে আনা হতে পারে। তাছাড়া গত বছরের তুলনায় এর আবাদ বেড়ে চলেছে। কৃষি অধিদপ্তর থেকে কোন প্রকার বরাদ্দ না থাকলেও রয়েছে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা। এ অবাঞ্চিত ফলটি দেখতে স্বাদে সুস্বাদু ছোট বড় সব বয়সীদের নিকট জনপ্রিয়, দামেও সস্তা। তাছাড়া একদিকে কম খরচ অন্যদিকে অল্প পরিশ্রমে বেশ লাভবান হওয়ায় চহিদা বেড়েছে পানি ফল চাষিদের।

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest