স্কুলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের পদুচেরির একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই প্রধান শিক্ষকের বয়স ৪২ বছর।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট প্রথম শ্রেণিপড়ুয়া ওই শিশুটি সেথুর গ্রামে অবস্থিত বেসরকারি স্কুলটিতে পড়তে গিয়েছিল। ক্লাসশেষেও ওই শিশুটি ফিরে না আসায় বাবা-মা স্কুলে গিয়ে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় একটি পরিত্যক্ত কক্ষে পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, ধর্ষণের শিকার হয়েছে শিশুটি। আর জ্ঞান ফিরে আসার পর শিশুটি জানায়, প্রধান শিক্ষক তার ওপর নির্যাতন করেছে।

এর পর শিশুটির বাবা-মা ও এলাকাবাসী ওই প্রধান শিক্ষককে ধরে পুলিশে দেন। ওই শিশুকন্যার বাবা-মায়ের অভিযোগের পর পদুচেরির ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে গতকাল গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষক ওই ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে তোলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পদুচেরির এক পুলিশ কর্মকর্তা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাইড্রলিক হর্ন বন্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ

শব্দদূষণ রোধে ঢাকায় যানবাহনে হাইড্রলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কাজী রেজা উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ বুধবার রুলসহ কয়েকটি নির্দেশনা দেন। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

শব্দদূষণ রোধে হাইড্রলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল মঙ্গলবার রিটটি করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

আদেশের বিষয়টি জানিয়ে মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইড্রলিক হর্ন আমদানি বন্ধে ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজারে যেসব হাইড্রলিক হর্ন রয়েছে, তা সাত দিনের মধ্যে জব্দ করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ২৭ আগস্টের পর কোনো যানে হাইড্রলিক হর্ন ব্যবহার করা হলে তা জব্দে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কৃত্রিম চিনিতেও সর্বনাশ!

ওজন বৃদ্ধি বা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস রোগ যাতে না হয় এ জন্য আমাদের মধ্যে অনেকেই ডায়েট কোক বা কৃত্রিম চিনি অথবা কম ক্যালোরি আছে এমন খাওয়ারের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরেকবার ভেবে নিন। কারণ সম্প্রতি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার ফলফল আপনাকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে আরেকবার ভাবাবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের শরীরের মেটাবোলিজমে ক্যালোরি ছাড়া খাবার গ্রহণের পর বিশেষত কৃত্রিম চিনি দেওয়া কিংবা সাধারণ চিনি দেওয়া পানীয় গ্রহণের পর তেমন কোনও বিশেষ পার্থক্য দেখা যায় না। এছাড়া কৃত্রিম চিনি দেওয়া খাবার গ্রহণের পরও আমাদের ওজন বৃদ্ধি, কার্ডিওভাসকুলার রোগ এবং ডায়াবেটিস হয়েও পারে বলেও গবেষণা দেখা যায়।

গবেষণায় এই কৃত্রিম চিনি ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধেও ব্যর্থ বলেও উল্লেখ করা হয়।এই কৃত্রিম চিনি গ্রহণের চেয়ে নিয়মিত হাঁটা চলা এবং স্থাস্থ্যকর খাওয়ার গ্রহণ করাই ভালো বলে বলা হয়।

এছাড়া কৃত্রিম চিনি দেওয়া পানীয়তে থাকা এসপারটেম, সুক্রালোজ ও সেকারিন বরং আপনাকে ডায়াবেটিসের ঝুকিতে ফেলছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

তাই ডায়েট কোক বা ডায়েট পেপসি খাওয়ার আগে অবশ্যই ভেবে দেখুন এগুলো গ্রহণে আসলেই আপনার উপকার হচ্ছে কী?

সূত্র: বোল্ডস্কাই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অবশেষে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি পেলেন ‘বুড়ো’ আফ্রিদি!

বুড়ো হয়ে গেছে বলে যে আফ্রিদিকে পাকিস্তানের জাতীয় দল থেকে ছেটে ফেলা হল, সেই ৩৭ বছর বয়সী শহীদ আফ্রিদি পেলেন জীবনের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। ন্যাটওয়েস্ট টি-টুয়েন্টি ব্ল্যাস্টে আসরের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে রীতিমত ঝড় তুললেন সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়ক।
ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে হ্যাম্পশায়ারের হয়ে এদিন ৪২ বলে সেঞ্চুরি করে ‘বুম’ ‘বুম’ খ্যাত তার নামের প্রতি সুবিচার করলেন। ৪৩ বলে ১০১ রান আফ্রিদি এদিন অর্ধশতক হাঁকান ২০ বলে।

চলতি বছরের শুরুতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেকে বিদায় বলে দেন আফ্রিদি। পাকিস্তানের হয়ে ২৭ টেস্ট, ৩৯৮ ওয়ানডে ও ৯৮টি টি-টোয়েন্টি খেলা আফ্রিদির টি-টোয়েন্টিতে কোনো সেঞ্চুরি নেই। খেলেছেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে না হলেও অবশেষে এই সংস্করণে শতকের দেখাটা পেলেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৫০ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন দাখিল

রাজধানীতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়ে আগামী ৮ অক্টোবর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৫০ বারের মতো পেছাল।

বুধবার মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে থাকা র‌্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক নতুন এদিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি। এ ঘটনায় রুনির ভাই শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই)। পরে মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওপর ন্যস্ত হয়। দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাই কোর্টের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোনালদোর ৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বহাল

রেফারিকে ধাক্কা মারার শাস্তি হিসেবে চড়া মূল্য দিতে হলো ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে। কঠিন শাস্তি হিসেবে ৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই আপিল করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু দেশটির ক্রীড়া আদালত সেই আবেদনে আর সাড়া দেননি। আগের রায়ই বহাল রেখেছেন।

এরফলে ক্লাবের পরের তিন খেলায় নিষিদ্ধ থাকছেন রোনালদো। লা লিগায় পঞ্চম সপ্তাহে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে খেলতে পারবেন তিনি।

এদিকে ইন্সটাগ্রামে রায়ের পর ক্ষোভ এভাবেই ঝেরেছেন রোনালদো, ‘ধারণার বাইরে আরেকটা সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো। অবিচারের পর অবিচার।’

এর আগে ন্যু ক্যাম্পে সুপার কাপের প্রথম লেগে মুখোমুখি হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা-রিয়াল। উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচটিতে রিয়াল জেতে ৩-১ ব্যবধানে। যেখানে সফরকারীদের দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন রোনালদো। দুর্দান্ত গোল করে পর্তুগিজ তারকা বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন তার জার্সি খুলে। স্বাভাবিকভাবেই হলুদ কার্ড দেখেন এই অপরাধে। ৮০ মিনিটের ওই ঘটনার মিনিট দুয়েক পর রোনালদো বার্সেলোনার ডি বক্সে ‘ডাইভ’ দিলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সঙ্গে দেখেন লাল কার্ড। ব্যাপারটা মোটেও ভালো লাগেনি তার, ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন রেফারি রিকার্দো দি বারগোসকে হাত দিয়ে ধাক্কা মেরে। দ্বিতীয় এই অপরাধেই কঠিন শাস্তি মেলে রোনালদোর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্বের বৃহত্তম সিঙ্গারা তৈরি, ওজন ১৫৩ কেজি

বিশালকার সিঙ্গারা তৈরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়ল জনপ্রিয় এশিয়ান স্ন্যাক্স। ১৫৩.১ কেজি ওজনের সিঙ্গারাটি তৈরি করা হয়েছে লন্ডনে।

মঙ্গলবার মুসলিম এইড ইউকে চ্যারিটির ১২ জন স্বেচ্ছাসেবী প্রথমে বিশাল সেই সিঙ্গারা তৈরি করেন ও তারপর পূর্ব লন্ডন মসজিদের ভ্যাটে সেটি ডিপ ফ্রাই করেন।

গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তারা গোটা প্রক্রিয়ার তদারকি করে সিঙ্গারাটিকে বিশ্বের বৃহত্তম সিঙ্গারা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

এর আগের রেকর্ডটি ছিল ব্র্যাডফোর্ড কলেজের দখলে। ২০১২ সালের জুন মাসে উত্তর ইংল্যান্ডে ১১০.৮ কেজির সিঙ্গারা বানিয়েছিল তারা।

আয়োজক ফরিদ ইসলাম জানান, ‘আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল। খুব চিন্তা হচ্ছিল। সিঙ্গারাটা ভেঙে যাবে মনে হচ্ছিল। একটা ফাটল ধরা পড়তেই আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ‘

১৫ ঘণ্টা ধরে তৈরি বিরাট সিঙারাটিকে প্রায় শতাধিক গৃহহীন মানুষকে ভাগ করে খেতে দেওয়া হয়। সূত্র: এনডিটিভি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলকাতার গণমাধ্যমে নেই নায়করাজের মৃত্যুর সংবাদ!

বাংলাদেশ ও কলাকাতা। দুই বাংলাই খ্যাতি অর্জন করেছেন প্রয়াত নায়করাজ রাজ্জাক। শুধু খ্যাতি নয়, কলকাতাতেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন এই নায়করাজ। গত ২১ আগষ্ট (সোমবার) রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নায়করাজের মৃত্যুতে শোকাহত চলচ্চিত্র পরিবার। রাজ্জাকের মৃত্যুতে শোকাহত বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। অভিনয় জীবনে অনেক শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন এই অভিনেতা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক।

দেশভাগের সময় এপারে এসেছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেওয়া আব্দুর রাজ্জাক। যিনি স্বীয় মেধা আর শ্রমে এরপর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ হিসেবে, সবাই তাকে আদর আর শ্রদ্ধায় ডাকতো নায়করাজ! পরবর্তী সময়ে ঢাকার পাশাপাশি কলকাতার ছবিতেও দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলা সিনেমার এই কিংবদন্তী অভিনেতা রাজ্জাকের মৃত্যুর সংবাদ কলকাতার প্রথম সারির অধিকাংশ গণমাধ্যমে নেই বললেই চলে।

আনন্দবাজার পত্রিকা, এবেলা, বর্তমান, সংবাদ প্রতিদিন, কলকাতা২৪, প্রভৃতি গণমাধ্যমে নায়করাজের মৃত্যুর কোনো সংবাদ ছাপা হয়নি। কেবল আজকাল, সংবাদ প্রতিদিন-এ দুটি খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি অভিনেত্রী জয়া আহসানের লেখা। অবশ্য আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন সংস্করণে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

বরাবরই কলকাতার গণমাধ্যমে অবহেলিত বাংলাদেশের তারকা শিল্পীরা। যৌথ প্রযোজনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কলকাতার শিল্পীদের নিয়ে ঢাকার গণমাধ্যমে মাতামাতি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের আলোচিত তারকাদের বেলায়ও তারা থাকে নির্বিকার। কলকাতার পাঠক সমাজে প্রভাববিস্তারকারী বাংলা ভাষার জনপ্রিয় লেখক বাংলাদেশি হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যুর সংবাদও সেখানকার পত্রিকাগুলোতে গুরুত্ব পায়নি।

এবার নায়করাজের মৃত্যুর পর বিষয়টি ফের আলোচনায় এলো। প্রসঙ্গত, একবার হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে আনন্দবাজার পত্রিকায় লেখা হয়েছিল বাংলাদেশি প্রবন্ধকার হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন। অথচ, ওই সময়টায় আনন্দবাজারের পূজাবার্ষিকীগুলো হুমায়ূনের উপন্যাস ছাড়া কল্পনাও করা যেতো না- এ ঘটনায় তখন ব্যাপক প্রতিবাদ-সমালোচনা হয়েছিল।

এদিকে, নায়করাজের মৃত্যুতে ব্যক্তিগতভাবে কলকাতার শিল্পীদের কেউ কেউ ফেসবুকে শোক জানিয়েছেন। এদের মধ্যে অন্যতম প্রসেনজিৎ। তিনি রাজ্জাক সম্পর্কে লিখেছেন, “তার সঙ্গে আমি অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। তার আকস্মিক মৃত্যু শুধু সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে শূন্য করে দেয়নি, আমার হৃদয়কেও শূন্য করে দিয়ে গেছে। আমার মন ভেঙে যাচ্ছে তার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে। ওপারে ভালো থাকবেন রাজ্জাক সাহেব।

প্রসঙ্গত:- মঙ্গলবার বেলা ১১টার সময় নায়করাজ পৌঁছান তাঁর কর্মক্ষেত্র বিএফডিসিতে। ততক্ষণে তেতে উঠেছে রোদ্দুর। আলিফ মেডিকেল সার্ভিসের শীতল গাড়ি নায়ককে নিয়ে গিয়ে থামে এফডিসির প্রশাসনিক ভবনের সামনে। সেখানে প্রস্তুত মঞ্চ, শোকের কালো চাদরে ঢাকা। সেই মঞ্চে নামানো হয়নি নায়ককে। আজ তিনি পা রাখেননি কোথাও। মঞ্চে রাখা হয়েছে ফুল। শীতল গাড়িটি সামনে রেখেই জানাজায় দাঁড়িয়ে পড়েছেন চলচ্চিত্রের স্বজনেরা। অনেকের চোখেই জল।

শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরকে দেখা যায় নায়করাজকে জানানো শ্রদ্ধার ফুলগুলো সরিয়ে সরিয়ে রাখছিলেন। জায়গা করে দিচ্ছিলেন অন্য ফুলগুলোর জন্য। সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান সারি বেঁধে নায়করাজকে একপলক দেখার জায়গা করে দিচ্ছিলেন সবাইকে। বড় পর্দার শত-শত মুখ তখন সেখানে, একটি মুখ এক পলক দেখার জন্য উন্মুখ।

এফডিসিতে পড়ানো হয় নায়করাজের জানাজার নামাজ। এই প্রিয় অভিনেতাকে শেষ বারের শ্রদ্ধা জানাতে এফডিসি প্রাঙ্গনে ছুটে আসেন সর্বস্তরের লোকজন। নায়করাজের জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, খ্যাতিমান অভিনেত্রী শাবানা, অভিনেত্রী রজিনা, অভিনেত্রী ববিতা, বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, চিত্র নায়ক শাকিব খানসহ অন্যান্য শিল্পীরা।

এফডিসি থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয় নায়করাজকে। সেখানে নায়কের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ ও বিশিষ্টজনরা।

আওয়ামী লীগের পক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। বিএনপির পক্ষে আসেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। শহীদ মিনারে সংগঠনগুলোর মধ্যে আসে বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, অভিনয় শিল্পী সংঘ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, এনটিভি, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ টেলিভিশন, ওয়ার্কার্স পার্টি, দৃষ্টিপাত নাট্য সংসদ, মুক্তধারা সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, বাউল একাডেমি ফাউন্ডেশন, যুব সমিতি, সুবচন নাট্য সংসদ, দনিয়া সাংস্কৃতিক জোট, ডিরেক্টরস গিল্ড, এনটিভি, দেশ টিভি, প্রজন্ম ৭১, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিসহ আরও বেশ কিছু সংগঠন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest