ডেস্ক রিপোর্ট : কেবল সার্কিট হাউসে ভাড়া বকেয়া নয়, বিনা ভাড়ায় লঞ্চে যাতায়াতের কথা ফাঁস হয়েছে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আলী হোসাইনের বিরুদ্ধে। যাত্রী চাপ থাকায় ঈদুল ফিতরে পছন্দের বিনা ভাড়ার সিটের টিকেট দিতে বিলম্ব হওয়াতে গ্রীন লাইন ওয়াটারওয়েজের কর্মকর্তা মো. লিপটনকে পুলিশ দ্বারা ডাকিয়ে নেওয়া হয়েছিল। একথার সত্যতা স্বীকার করেন কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আওলাদ হোসেন। বিচারকরা প্রভাব খাটিয়ে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করলে এটা নৈতিকতার পরিপন্থি বলে জানালেন নাগরিক সমাজের নেতৃস্থানীয়রা।
গ্রীন লাইন ওয়াটারওয়েজের কর্মকর্তা মো. লিপটন বলেন, প্রায় আড়াই বছর আগে বরিশাল টু ঢাকা রুটে নদীপথে তাদের গ্রীন লাইনের যাত্রা শুরু হয়। এর মাস কয়েক পরই চিফ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার মো. সুমন হাওলাদার তাদের বিচারক মো. আলী হোসাইনের জন্য টিকেট নিতে আসেন। বিনা ভাড়ায় টিকেট চাইলে অপারগতা প্রকাশ করলে নানা ধরনের হয়রানির ভয় দেখায়। এরপর টিকেট দিতে রাজি হলেও তাও আবার সৌজন্য লেখা যাবে না বলে আপত্তি তোলেন পেশকার সুমন। অবশেষে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে চাহিদা অনুযায়ী টিকেট দিতে বলেন। প্রতি বৃহস্পতিবার চিফ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হোসাইন বরিশাল থেকে ৩টার লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। মাস ছয়েক হলো তার সাথে আরো যুক্ত হয়েছেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গোলাম ফারুকের জন্য বিনা ভাড়ায় টিকেট নেওয়া। এই দুই বিচারককে তাদের পছন্দের ছিট দিতে হয়।
গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, এবার ঈদুল ফিতরে দুই বিচরকের পছন্দের সিট দিতে না পারায় বরিশাল কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাকে ডেকে নিয়েছিলেন। অবশ্য পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে তার সাথে খারাপ কোন আচরণ করেননি।
এনিয়ে কথা বলার জন্য চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বা পেশকারকে মুঠোফোনে বার কয়েক কল দিলেও তারা রিভিস করেননি। তবে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, তাদের কাছে বলায় গ্রীন লাইনের কর্মকর্তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন মাত্র।
অপরদিকে ২০১৫ সালে ২৭ অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত সার্কিট হাউজের ৭ নম্বর কক্ষে বাস করে মাত্র ৫ দিনে ৩৯০ টাকা ভাড়া প্রদান করেছেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন। তার কাছে ৯৩ হাজার ৯৫০ টাকা পাওনা আছে বলে ৪ আগস্ট ২০১৬ তারিখ ওই সময়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর কল্যাণ চৌধুরী চিঠি দিয়েছিলেন। সার্কিট হাউসের দায়িত্বে থাকা এনডিসি মোহাম্মদ নাহিদুল করিম বলেন, বকেয়া ভাড়া এখন পর্যন্ত পরিশোধ করেননি চিফ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
লঞ্চে বিনা ভাড়ায় টিকেট নেওয়া সার্কিট হাউসের ভাড়া পরিশোধ না করার বিষয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর গিয়াস উদ্দিন কবুল বলেন, তিনি জানতেন লঞ্চে তাদের কোটায় থাকা সিটে ভাড়া পরিশোধ করে বিচারকরা যাতায়াত করেন। ভাড়া না দিয়ে যাতায়াত করে থাকলে এটা নৈতিকতা বিরোধী। এ নিয়ে সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম ইকবাল বলেন, বিচারকদের পরিচ্ছন্ন মনোভব থাকা আমাদের কাম্য। এ বিষয়গুলো সমাজের মানুষ জানতে পারলে তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিবে এটাই স্বাভাবিক।
উল্লেখ্য, দেশব্যাপী আলোচিত চলমান ঘটনা শিশুদের আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি দাওয়াতপত্রে ব্যবহার করায় আগৈলঝাড়ার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী তারিক সালমানের বিরুদ্ধে ৭ জুন ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানি মামলা হয়েছিল। চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে এই মামলাটিরবাদী হলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। বর্তমানে বরগুনা সদর উপজেলায় কর্মরত ইউএনও গাজী তারিক সালমান ১৯ জুলাই আদালতে হাজির হলে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। তবে এর দুঘণ্টা পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জামিন মেলে। এঘটনায় মামলার বাদী জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে দল থেকে সময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় কমিটি।

ন্যাশনাল ডেস্ক : মাত্র ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ থেকে দুই বছরে প্রায় ১৩ কোটি টাকা লভ্যাংশ নিয়ে গেছে ভারতীয় কোম্পানি হাঙ্গামা। এই টাকা কোম্পানিটির মূলধনের প্রায় ৩২০ গুণ। বিষয়টিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘অস্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকা-’ হিসেবে দেখছে। এই বিষয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানকে ‘হাঙ্গামা (বাংলাদেশ) প্রাইভেট লিমিটেডের অনিবাসী শেয়ার হোল্ডারদের অনুকূলে মাত্রাতিরিক্ত লভ্যাংশ প্রেরণ প্রসঙ্গে’ কয়েকটি বিষয়ে অভিমত চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক দুই বার চিঠি দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির সচিব মো. সরওয়ার আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে জানতে চেয়ে বিটিআরসিতে চিঠি দিয়েছে। এ বিষয়ে অপারেটরদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম.শাহীন গোলদার : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ০৫পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল সিএমএম আদালতে দায়িত্বরত ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। গত ১৯ জুলাই বরিশালের সিএমএম আদালতে জামিনের আবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারেক সালমন। জামিন মঞ্জুর না করে বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এসময় আদালতে দায়িত্বে থাকা পুলিশের ছয় সদস্য তারেক সালমনকে তাড়াহুড়ো করে গারদে নিয়ে যান।
শ্যামনগর প্রতিনিধি : শনিবার সকাল ১১ টায় শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের সর্বচ্চ বিদ্যাপীঠ নওয়াবেঁকি মহাবিদ্যালয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠান। নওয়াবেঁকি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) একরামুল কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শ্যামনগর সদর ইউপি চেয়ারম্যান এড. জহুরুল হায়দার বাবু। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক জুলফিকার আল মেহেদী লিটন, নকিপুর এইচ সি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. আব্দুল মান্নান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নজরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস সহ মহাবিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ছিলো নতুন প্রাণের স্পর্শে স্পন্দিত ও আনন্দ হিল্লোলে মুখরিত। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন “তোমাদেরকে এই সোনার বাংলায় সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই জন্য তোমাদেরকে সক্ষম ও সৎ চরিত্রবান হতে হবে”। তিনি আরো বলেন, বিদ্যার সাথে বিনয়, শিক্ষার সাথে দীক্ষা, কর্মেরসাথে নিষ্ঠা, জীবনের সাথে দেশপ্রেম এবং মানবীয় গুণাবলীর সংমিশ্রণ ঘটাতে পারলে সত্যিকারের আদর্শবান মানুষ হওয়া যায়। তিনি শিক্ষকদেরকে বলেন, আমাদের সন্তানদের মধ্যে যে শক্তি লুকিয়ে আছে তা জাগিয়ে তুলতে হবে। তিনি ছাত্র ছাত্রীদেরকে আরো বলেন, তোমরা তরুণ সমাজ এদেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার এ দেশ তোমাদেরকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।অনুষ্ঠান শেষে ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
মোস্তাফিজুর রহমান : আশাশুনিতে পারিবারিক অশান্তি, পিতা-মাতার উপর অভিমান ও সামাজিক নানা অসঙ্গতির কারনে দিন দিন অপমৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আর এ আতœহত্যার মিছিলে উঠতি বয়সীদের সংখ্যাই বেশি। গত ৭ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই-২০১৭ সময়ে (১৩ দিন) এ মিছিলে যোগ দিয়েছে ৪ জন। যাদের ২জন মাধ্যমিকের ছাত্রী, ১জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ও ১জন নব-বধু। জানা গেছে, এ অপমৃত্যুগুলো হয়েছে গলায় ফাঁস দিয়ে। গত ৭ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যায় কুঁন্দুড়িয়া গ্রামের রিক্সা চালক শওকত গাজীর কন্যা ও কুঁন্দুড়িয়া পি এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ফাতিমা খাতুন গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করে। পিতা-মাতা জানায়, তাদের মেয়ে ফাতিমা ছোট বেলা থেকে মানষিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। অভাবের সংসারে মেয়ের স্কুলের খরজসহ অন্যান্য খরজের টাকা ঠিক মত দিতে না পারায় মায়ের সাথে অভিমান চলছিল। সর্বশেষ ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তার মা প্রতিবেসির নিকট থেকে টাকা ধার নিতে গিয়েছিল। টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরে দেখে তার আদরের মেয়েকে তার পড়ার ঘরের আড়ায় বাধা রশ্মি থেকে নামাচ্ছে। রশ্মি থেকে নামানোর পরেও ফাতিমা জীবিত ছিল কিন্তু ডাঃ আসার আগেই তার মৃত্যু হয়। থানার এস আই শাহ মোঃ আব্দুল আজিজ সঙ্গিয় ফোর্স ঘটনা স্থান পরিদর্শন কালে প্রতিবেদককে জানান, কারো কোন অভিযোগ না থাকায় এবং উপর মহল থেকে দাফনের অনুমতি নিয়ে আসায় ময়না তদন্ত ছাড়াই তার দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।
কেএম রেজাউল করিম : ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টার একজন আদর্শ শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজ সংস্কারক। তিনি ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক। প্রতিবছর ২৩ জুলাই সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান, মহান স্বাধীনতা গ্রামের বীর সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধে ৯ নং সেক্টরের প্রতিষ্ঠাতা, সাব-সেক্টর কমান্ডার, জেলা জাসদের প্রতিষ্ঠাতা, দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, টাউনশ্রীপুর শরৎচন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক প্রয়াত ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের ২৪তম মৃত্যুবাষির্কী টাউন শ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে রবিবার। প্রয়াত এই নেতার স্বরণে দেবহাটা টাউনশ্রীপুর শরৎচন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি ১৯৩৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি টাউন শ্রীপুরের বিখ্যাত মিস্ত্রি বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন বৃটিশ শাসন আমলে সাত জমিদারের বসতি ও বাংলাদেশের প্রথম পৌরসভা টাউনশ্রীপুর গ্রামের মুন্সী খিজির মিস্ত্রির পুত্র। তের ভাই-বোনের মধ্যে একমাত্র তিনিই বেঁচে ছিলেন। তার পিতা অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। ধর্ম পরায়ন ব্যক্তি হিসাবে এলাকায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। হিন্দু জমিদার শাসিত টাউনশ্রীপুর প্রাইমারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর টাউনশ্রীপুর শরৎচ্চন্দ্র হাইস্কুলে ভর্তি হন। তিনি নবম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় মাতৃভাষা রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। তিনি তাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভাষার প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজ বিদ্যালয়ে ৪০জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন। সেখানে জ্বালাময়ী বক্ততা দেওয়ার পর তিনি সকলের নজর কাড়েন। ১৯৫৪ সালে তিনি উক্ত বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। পরে সাতক্ষীরা মহাকুমার একমাত্র কলেজে আইকম ক্লাসে শাহজাহান মাস্টার ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি আই.কম পাশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে কুষ্টিয়া ডিগ্রী কলেজ থেকে বি.কম পাশ করেন। একই বছরে সাতক্ষীরা পদ্মশাখরা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ১৯৫৯সালে শ্যামনগর থানার ভেটখালী হাইস্কুলে একই পদে যোগদান করেন। সাথে সাথে ১৯৬২ সালে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড পাশ করেন এবং শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করেন। পরবর্তীতে টাউনশ্রীপুর ও সখিপুর হাইস্কুলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পদ্মশাখরা স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বকালীন সময়ে হাড়োদ্দাহ নিবাসী মো. আজিজুর রহমানের কন্যা রাবেয়া খাতুন কে বিবাহ করেন। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাকিস্তানী মিলিটারী পরিচালিত মুজাহীদ বাহিনীতে যোগদান করেন। তার দক্ষতার ফলে পাকিস্তান সরকার তাকে সাতক্ষীরা মহাকুমা মুজাহিদ বাহিনীর দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকার তাকে ক্যাপ্টেন উপাধিতে ভূষিত করেন। একারণেই তিনি ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টার নামে পরিচিত হন। ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ রক্ষার্থে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি স্থানীয় যুবকদের নিয়ে নিজ এলাকায় মুক্তি বাহিনী গঠন করেন। দেবহাটা থানায় পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে জয় বাংলার পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দেন। বিওপির ৬ জন পাকিস্তানী ইপিআরদের বন্দী করে তাদের কাছ থেকে চায়না রাইফেল ছিনিয়ে নেন। যুদ্ধকালীন সময়ে ৯নম্বর সেক্টরের মুক্তিবাহিনীর ট্রেনিং ক্যাম্প টাউনশ্রীপুর হাইস্কুলে স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টার ভরতের টাকীতে মুক্তি বাহিনীর প্রথম ক্যাম্প স্থাপন করেন। যেটি শেষ পর্যন্ত নয় নম্বর সেক্টরের মর্যাদা পায়। একারণে তাকে নয় নম্বর সেক্টরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। দীর্ঘ নয় মাসে যুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলার নিজ এলাকায় ফিরে এসে পুনরায় শিক্ষাকতায় যোগদেন। তিনি ইংরেজি ১৯৮৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে বাংলাদেশে প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং তিনি দেবহাটার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে তিনি নিজের শরীরের মূল্যবান অংশ দুইটি চক্ষু রেজিস্ট্রির মাধ্যমে আই ব্যাংকে দান করেন। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই সখিপুর হাইস্কুলে ক্লাস নেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাথে সাথে তাকে সখিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে দুপুর ১২.৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। পর দিন ২৪ জুলাই টাউনশ্রীপুর হাইস্কুল প্রাঙ্গনে বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটা উপজেলা সদরের দেবহাটা বাজারের মধ্যে অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে ফার্নিচারের ঘর। বিষয়টি বাজার কমিটি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দেবহাটা বাজারের মধ্যে সবজি, মাংস ও মাছ বিক্রির জন্য পৃথক নির্ধারিত স্থান তৈরি করা আছে। মাছ বিক্রির জন্য বিক্রেতারদের জন্য টিনের সেড দিয়ে আলাদা জায়গা আছে। কিন্তু ঐ মাছ বিক্রির সেডটির অর্ধেক জায়গা অবৈধভাবে দখল করে সেখানে মোহাম্মাদ আলী নামের এক ব্যক্তি ফার্নিচারের দোকান বানিয়েছে। কয়েক বছর আগে থেকে মাছ বাজারের মধ্যে ফার্নিচারের দোকানটি বানানো হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া বা ফার্নিচারের দোকানটি সরিয়ে দেয়ার কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় মাছ বাজারের অর্ধেক জায়গা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দেবহাটা বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রউফের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, পূর্বের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সময়ে সেখানে ঐ ফার্নিচারের দোকানটি তৈরি করা হয়। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাবেন। বর্তমানে দেবহাটা বাজারের মধ্যে মাছ বাজারের জায়গা অর্ধেক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার বিষয়টি সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাজার কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।