কেএম রেজাউল করিম : সারাদেশ ব্যাপী হতরতাল-অবরোধে ২০১৪ সালের সহিংসতায়-নাশকতা হামলা চালিয়ে হত্যা ও আহত করে দেওয়া হয় বহু আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীকে। এতে করে অনেকে জীবন হারিয়েছেন। আবার অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন। সে সময়ে হামলার শিকারের অনেক আজ অসহায় ভাবে দিন কাটালেও কেউই তাদের খবর রাখে না এমন অভিযোগ অনেকের। তেমনি একজন হামলার শিকার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের আস্কারপুর গ্রাামের রুস্তম আলী মোড়লের পুত্র ওমর আলী মোড়ল। সে একজন গরিব কাঠ মিস্ত্রী। তিন কন্যা সন্তানের লেখা-পড়া, ভরন-পোষণসহ পরিবারের পাঁচ জনের সংসার চলে একজনের আয়ে। তিনি নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। তাই বিগত ২০১৩ সালের ০২ মার্চ সকালে জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীরা অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সখিপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে স্ব-জনরা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল। পরে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল সর্বশেষে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরে কিছুটা সুস্থ্য হলে তাকে পূনরায় আর্থিক সমস্যার কারণে সখিপুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরায় এসে নিহত, আহত এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নেতা কর্মীর পরিবারদের মাঝে যে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন তাতে সে দুই লক্ষ টাকার চেক পেয়েছিলাম, তাছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলহাজ্ব ডা. আ ফ ম রুহল হক এমপির সার্বক্ষণিক তদরকি এবং তারও আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াও দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ চিকিৎসার সহযোগিতা প্রদান করেন। তারপর থেকে তেমন কোন খবর নেননা কেউই বলে জানিয়েছেন আহত ওমর আলী। কিন্তু আমার আহত শরীর নিয়ে একার পক্ষে সংসার চালানো এবং চিকিৎসা চালিয়ে যেতে খুব কষ্ট সাধ্য হয়ে পরে। এরপরেও কারোর কোন সহযোগীতা ছাড়াই সংসার পরিচালনা করে আসছিলাম। কিন্তু গত কয়দিন ধরে অসুস্থতার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বুধবার অধিকমাত্রায় অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা কিংবা দেশের বাহিরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করছেন। বর্তমান অবস্থায় তার পক্ষে উন্নত চিকিৎসার খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় সরকারি ভাবে চিকিৎসা সহায়তা এবং ব্যক্তি সহযোগীতা পেয়ে চিকিৎসা নিয়ে যাতে সুস্থ হতে পারে সে ব্যাপারে সকলের নিকট আবেদন জানিয়েছেন তিনি। আহত ওমর আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে আতœমানবতার সেবায় সকলকে এগিয়ে আসার জন্য ব্যক্তিগত ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে ০১৭২৮৪৯৪৪৩৯ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

চুলের রং তখনই বদলাতে শুরু করে যখন তার মধ্যে থাকা পিগমেন্টের উৎপাদন কমে যায় বা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ এই পিগমেন্টের কারণেই চুলের রং কালো হয়। অনেক কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। যেমন- বার্ধক্য, স্ট্রেস, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, হাইপোথাইরয়েডিজম, ভিটিলিগো, ধূমপান, পুষ্টির ঘাটতি, পার্নিসিয়াস অ্যানিমিয়া, পরিবেশ দূষণ এবং চুলের যত্ন ঠিক মত না নেয়া প্রভৃতি।

তবে পরিসংখ্যান বলছে ৩০ বছর বা তার কম বয়সে চুল পেকে যাওয়ার পিছনে স্ট্রেসই বেশি পরিমাণে দায়ি থাকে। কারণ এই বয়সিদের স্ট্রেস লেভেল বাকিদের তুলনায় অনেক অনেক বেশি হয়। ইতিমধ্যেই যাদের চুল পেকে গেছে, তারা নিচে আলোচিত ঘরোয়া পদ্ধতিগুলিকে কাজে লাগাতে পারেন।

এক্ষেত্রে যে যে ঘরোয়া পদ্ধতিগুলি দারুন কাজে আসে সেগুলি হলঃ

১। আমলকীঃ সময়ের আগে পেকে যাওয়া চুলকে পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আমলকীর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এক্ষেত্রে একটা বাটিতে অল্প করে নারকেল তেল এবং কয়েক টুকরো আমলকী নিয়ে গরম করুন। তারপর সেই তেলটা ধীরে ধীরে সারা চুলে লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। আমলকীতে উপস্থিত বিশেষ কিছু উপদান পিগমেন্টের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সাদা চুল কালা হতে শুরু করে।

২। আদাঃ এক চামচ মধুর সঙ্গে পরিমাণ মত আদা মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেটি প্রতিদিন চুলে লাগান। এই ঘরোয়া মিশ্রনটি চুলকে দীর্ঘসময় কালো রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩। নারকেল তেলঃ চুলের যত্নে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এক্ষেত্রে একটা বাটিতে পরিমাণ মত নারকেল তেল এবং লেবুর রস নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রনটা স্কাল্পে লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। এই পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নিলে চুল তো পাকেই না। সেই সঙ্গে চুলের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্যও ফিরে আসে।

৪। হেনাঃ একটা বাটিতে দুই চামচ হেনা পাউডার, এক চামচ মেথি বীজ, দুই চামচ তুলসি পাতার পেস্ট, তিন চামচ কফি পাউডার, তিন চামচ মিন্ট পাতার জুস এবং এক চামচ দই মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেটি প্রতিদিন চুলে লাগাতে শুরু করুন। এমনটা করলে সাদা চুল নিয়ে আর চিন্তায় থাকতে হবে না।

৫। নিম তেলঃ এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ স্কাল্পে জন্ম নেওয়া ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে চুলের একাধিক সমস্যার সমাধান করে, তেমনি চুল পড়া এবং সাদা চুলের সংখ্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ : কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাগর গাজী (১৭) নামে এক শিশু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের এবাদুল গাজীর ছেলে। কালিগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক মুরাদ হোসেন জানান, গতকাল সকাল থেকে আশাশুনির নৈকাটি গ্রামে জনৈক মোজাম হোসেনের বাড়িতে বিদ্যুতের ওয়ারিংয়ের কাজ করছিল বিদ্যুৎ শ্রমিক সাগর গাজী। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মূল সঞ্চালন লাইন থেকে মিটারে সংযোগ দেয়ার সময় তারে লিকেজ থাকায় সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। আশংকাজনক অবস্থায় সাগর গাজীকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার সময় বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ : কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর কুশলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান গতকাল বুধবার সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠিত হয়। কুশলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু রাইহান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এম.পি এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রাণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য স.ম জগলুল হায়দার। তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। ভাল ভাবে শিক্ষা জীবন শেষ করে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়ে দেশ সেবা করতে হবে। তিনি শিক্ষাখাতসহ সরকারের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকা-ের বর্ণনা দিয়ে আগামী দিনে উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
সমাজকর্ম বিষয়ের প্রভাষক আনিছুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কালিগঞ্জ ইউনিটের কমান্ডার আলহাজ্জ্ব শেখ ওয়াহেদুজ্জামান, কুশলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও কুশলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী কাহফিল অরা সজল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মুহাইমিনুর রহমান রেজা, প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম প্রমুখ। নবীন বরণ শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা আট মাসের অন্তস্বত্তা গৃহবধূ মনজিলা খাতুনসহ তার স্বামী ও বৃদ্ধা দাদিকে ব্যাপক মারিপট করে আহত করেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের বেতলা গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। আহত অন্তস্বত্তা গৃহবধু ও তার বৃদ্ধা দাদিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গৃহবধুর বাবা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বেতলা গ্রামের আনছার আলী সরদারের ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলাম বাদি হয়ে সদর থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন।
বাদির এজাহারে বর্ণিত অভিযোগে জানা যায়, জমি জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী মাঃ আতাউর হক গংদের সঙ্গে মনিরুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ৪ জুলাই দিবগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেতলা গ্রামের মৃতঃ অলেক সরদারের ছেলে মোঃ আতাউর হক ও তার ছেলে কামরুল ইসলাম, ইব্রাহিমের ছেলে মগরব আলী, আতাউর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলাম, মৃতঃ টেটে সরদারের ছেলে ইব্রাহিম, কাশেমপুর গ্রামের মাহরমের ছেলে বিল¬াল হোসেন, ইছাহাক মোল¬ার ছেলে মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এবং নলকুড়া গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মোঃ হাবিবসহ তাদের সহযোগী আরও অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন আসামী বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে লাঠি, লোহার রড, শাবল, কুড়াল ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহকারে বাদির ভোগদখলকৃত ভিটাবাড়ীর জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে বসতঘর ভাংচুর করতে থাকে। এসময় বাধা দিলে আসামীরা আমিসহ আমার মেয়ে মনজিলা খাতুন (২৫), বৃদ্ধ মা জোহরা খাতুন (৬৫) এবং জামাতা হাফিজুল ইসলামকে মারপিট করতে থাকে। আমার মেয়ে মনজিলা ৮ মাসের অন্তস্বত্তা। আসামী বিল¬াল হোসেনের হুকুমে আতাউর হক আমার মেয়ের গলায় শাড়ি পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় কামরুল ও বিল¬াল লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আমার অন্তস্বত্তা মেয়ের পেটেসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে এলোপাতাড়ী ভাবে পিটিয়ে কাটা ফোলা রক্তাক্ত জখম করে। কামরুল আমার তিন বছরের নাতি ছেলে আমির হামজাকে মাটিতে আছাড় মেরে জখম করে। হাবিব আমার মেয়ের পরনের কাপড় টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানী ঘটায়। তারা আমার বৃদ্ধ মা’কেও মারপিট করে আহত করে।
পরে আসামী ঘরে ঢুকে ড্রয়ারের তালা ভেঙ্গে নগদ ৪০ হাজার টাকা নেয় এবং বসতঘরসহ অন্যান্য মালামাল ও জিনিসপত্র ভাংচুর করে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। যাওয়ার সময় আসামীরা আমাকেসহ আমার মা, মেয়ে ও জমাতাকে বিষয়টি নিয়ে থানা বা কোর্টে মামলা না করার হুমকি দেয়। এমনকি আসামীরা আমাদের ভোগদখলকৃত ভিটাবাড়ীর জমি জোর পূর্বক দখল করে নিবে, আমাদের নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে গ্রাম ছাড়া করবে ও ভিটা ছাড়া করবে ইত্যাদি হুমকি দিয়ে চলে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অন্তস্বত্তা মেয়ে ও আমার মা’কে জখম অবস্থায় চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। আমি ও আমার জামাতা স্থানীয় ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেছি। তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কলারোয়া ডেস্ক : কলারোয়া সরকারি কলেজের সুযোগ্য অধ্যক্ষ প্রফেসার বাসুদেব বসু বলেছেন. জঙ্গিবাদীরা ইসলামের ভুল ব্যাখা দিয়ে আমাদের কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের বিপদগামী করছে। এরা জাতিকে সর্বনাশের পথে চালিত করার চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েদের জঙ্গিবাদের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করতে হবে। প্রফেসার নতুন প্রজন্মকে জাতির প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, নতুন প্রজন্মকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। জাতির প্রত্যাশা পূরণে তোমাদেরকে অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। কলারোয়া সরকারি কলেজের (২০১৭-১৮) শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত ছাত্র/ছাত্রীদের নবীর বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধান অতিথি’র বক্তবে এসব কথাগুলো বলেন। পবিত্র কোরআন তেলোয়াত ও গীতা পাঠদানের মাধ্যমে বুধবার সকালে সরকারি কলেজের আয়োজনে বিজ্ঞান ভবনের ১১নং কক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু। শিক্ষা হোক সমাজ জাগরণের হাতিয়ার, সুশিক্ষা শিক্ষিতরা পারে সমাজ আর জাতিকে পরিবর্র্তন করতে। কলেজের পরিবর্র্তনের কথা তুলে ধরে এসো তুলি ধরি শিক্ষার মশাল, দুর করি সমাজের অন্ধকার। অন্তর মম বিকাশিত কর, অন্তরতর হে- এই স্লোগানকে সামনে রেখে কলেজে পড়–য়া ছাত্র/ছাত্রীদের উদ্দ্যেশে প্রধান অতিথি প্রফেসার বাসুদের বসু আরও বলেন, মন্দ কিছু বলোনা, মন্দ কিছু করোনা, এই হোক জীবনের গান। তোমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে পিতা-মাতার কথা মেনে চলা। তোমরা ছাত্র তোমরাই পার শিক্ষককে আগলে রাখতে। শিক্ষক হচ্ছে শ্রেষ্ঠ, শিক্ষক হচ্ছে শ্রেষ্ঠ সবার সুতারাং তোমাদের বিনয়ী হতে হবে। কিসের বন্দ কিসের ছুটি, কলেজ জীবন ফাটাফাটি। এই সরকারি কলেজ থেকে বহু ছাত্র/ছাত্রীরা বাংলাদেশসহ বিশ্বের মান উজ্জ্বল করেছে। এখান থেকে তোমাদের যাত্রা শুরু হবে আগামীর পথচলা। সর্বপরি দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বদলে গেছে বাংলাদেশ। বদলে যাওয়া দেশের সাথে নিজেদের আতœমর্যাদা বৃদ্ধিও বাড়াতে হবে। কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র শাহেদ আহম্মেদ শাওন ও ছাত্রী শামীমা আফরোজের যৌথ পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সরকারি মাইকেল মধুসুদন কলেজের প্রাক্তন উপাধ্যাক্ষ প্রফেসার নজরুল ইসলাম, কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসার আবু নছর, তালা সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসার আবু বক্কর ছিদ্দিক, কলেজের প্রাক্তন উপাধ্যাক্ষ আব্দুল মজিদ, অধ্যাপক প্রাক্তন বিদ্যালয় পরিদর্শক এম এ ফারুক, কলেজের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ স্বরজিত কুমার বিশ্বাস, প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ অহিদুল আলম মন্টুসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারি অধ্যাপক আব্দুর সবুর, সহকারী অধ্যাপক ফারুক হোসেন, কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র কাজী আবিদ ও পূজা শেঠসহ কলেজের সকল শিক্ষক ছাত্র/ছাত্রীবৃন্দ। এদিকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথি’দের ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় কলেজের নবীন ছাত্র-ছাত্রীরা। এ সময় অতিথিদের পক্ষ থেকেও উপস্থিত সকল ছাত্র-ছাত্রীদের গোলাপ ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। আলোচনা সভা শেষে দুপুরে নবীর/প্রবীণদের নিয়ে এক মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুুদেব বসুসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃৃন্দ এবং কলেজের ছাত্র/ছাত্রীরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করে টাকা গ্রহণ করে পরে ফেরৎ দিতে অস্বীকার করায় কুলিয়ার অচিন্ত মন্ডল নামের এক ইউপি সদস্যকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে। তিনি কুলিয়া ইউনিয়ন পরিদের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

ঘটনার সময় উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীরা কেউ কেউ ইউপি সদস্যদের দ্বারে দ্বারে যেয়ে ভোট চাওয়া ও ভোটারদের মন জয় করার জন্য উপহার হিসাবে মিষ্টি, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে জানজানি হয়ে যায় যে, একজন ভোটার একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা পয়সাসহ বিভিন্ন উপহার গ্রহণ করেছে। এদের কাউকে কাউকে ভোটের পরে পরাজিত প্রার্থীদের ভোটারদের কাছে যেয়ে টাকা ফেরত চাইতেও দেখা গেছে। কিন্তু অচিন্ত্য একাধিক প্রার্থীর কাছে ভোট দেওয়ার অঙ্গিকার করলেও ভোট না দেয়ায় পরাজিত প্রার্থীরা তার কাছে টাকা ফেরত চান। অচিন্ত সব প্রার্থীকে একই কথা বলে যে আমি তোমাকে ভোট দিয়েছি, কাজেই আমি আমি টাকা ফেরৎ দিতে পারবো না। গত ৪/৭/১৭ তারিখ মঙ্গলবার ইউপি সদস্য অচিন্ত মন্ডল মাছ কেনা-বেচার জন্য পারুলিয়া সেটে যান। সেখানে সখিপুর কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সাথে দেখা হয়। এসময় জেলা পরিষদের পরাজিত প্রার্থী শাপলার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয় নিয়ে সাইফুল ও অচিন্ত মন্ডলের মধ্যে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা উপস্থিত হলে দু’জনই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এবিষয়ে ইউপি সদস্য অচিন্ত মন্ডল বলেন, “আমিও নিজের ভোটের সময় টাকা পয়সা খরচ করেছি। কিন্তু ভোটের পরে যারা আমাকে ভোট দেয়নি তাদের কাছেতো আমি টাকা চাইতে যাইনি।”
তিনি আরো বলেন, “আমি মঙ্গলবার সকালে পারুলিয়া মৎস্য সেটে গেলে সাইফুল ইসলামের সাথে দেখা হয়। সেখানে শাপলার ভোটের টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে এক পর্যায়ে সাইফুলসহ কয়েকজন আমাকে মারপিট করেন। এসময় স্থানীয়রা উপস্থিত হলে সবাই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আমি উক্ত ঘটনায় প্রচ- আহত হয়ে ডাক্তারের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে যাই।”

এবিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি শুধু শাপলার কাছ থেকে তাকে টাকা নিতে দেখেছি। এজন্য শাপলা অচিন্তের কাছে টাকা চাইলে অচিন্ত আমার কাছে টাকা ফেরৎ দেওয়ার কথা বলে কয়েকবার সময় নেয়। কিন্তু সে আমার কাছে টাকা ফেরৎ না দিয়ে ঘোরাতে থাকে। গত মঙ্গলবার আমার সাথে অচিন্তের দেখা হওয়ায় আমার সাথে অচিন্তের দেখা হলে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে অচিন্ত আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন সেখানে উপস্থিত হলে কুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম অচিন্তকে নিয়ে চলে যায়। এছাড়া অচিন্তের সাথে আমার কোন প্রকার মারমারির ঘটনা ঘটেনি।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া ইউনিয়নের কোন না কোন জায়গায় প্রতি রাতেই বসছে জমজমাট জুয়ার আসর। এতে এলাকার পরিবেশ মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চুরি-ডাকাতিসহ এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৫ দিন যাবত সরুলিয়া এলাকায় জমজমাট জুয়ার আসর বসলেও স্থানীয় প্রশাসন কোন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় কয়েক জন জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে এলাকার একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী ওই জুয়ার আসর বসাচ্ছে। প্রতিরাতে লাখ লাখ টাকার খেলা হচ্ছে সেখানে। এই এই টাকার ভাগ পাচ্ছে আইনের রক্ষকরা। তাহলে কে রুখবে এই জুয়ার আসর?
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টা থেকে ভোর রাত ৪ টা পর্যন্ত সরুলিয়া স্লইজ গেট (জিল্লার বাড়ির পাশে) এলাকায় বসে জুয়ার আসর। সরুলিয়া ইউনিয়নের খোদ্দ গ্রামের জনৈক আলম, একই গ্রামের শফি ও পাশ্ববর্তী চৌগাছা গ্রামের বারী ওই জুয়ার বোর্ড চালাচ্ছে বলে জানাগেছে। তারা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে পাচ্ছে না। তারা জানান, যশোর, খুলনা, কলারোয়া, শার্শা, মনিরামপুর,কেশবপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়া খেলার জন্য মানুষ আসছে।
এলাকাবাসী আরো জানান, মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার ও পাটকেলঘাটা থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করার পরেও কোন ফল হয়নি। প্রতিরাতের ন্যায় চলেছে জুয়ার জমজমাট আসর। ফলে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বেড়ে গেছে।
সম্প্রতি পাশ্ববর্তী কাটাখালি, কুমিরাসহ ওই এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতি ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। আইন-শৃঙাখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হলেও জুয়া বন্ধে থানা পুলিশ কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না তাদের অভিযোগ। তারা জানান, বর্তমান পাটখেলঘাটা থানার ওসি মহিবুল ইসলাম কাউকে কেয়ার করেন না। কারো কথা তিনি শুনতে বা মানতে চান না। যা ইচ্ছে তাই করছেন।
অভিযোগ রয়েছে থানা পুশিলকে ম্যানেজ করে এ ধরনের জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে পাটকেলঘাটার কোন না কোন জায়গায়।
এ ব্যাপারে সরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, কয়েক দিন ধরে শুনছি এলাকায় না-কী জুয়ার আসর বসছে। আমি পাটকেলঘাটা থানার ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কিন্তু দেখছি এখনও বন্ধ হয়নি। জুয়ার আসর যাতে আর না বসে সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওই জনপ্রতিনিধি।
পাটখেলঘাটা থানার ওসি মহিবুল ইসলাম জানান, শুনেছি জুয়ার আসন না-কি বসছে। দেখি, খোঁজ-খবর নিচ্ছি। জুয়ার আসর বসলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে বুধবার সন্ধ্যায় কথা হয় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো: আলতাফ হোসেনের সাথে। তিনি জানান, “বিষয়টি আমার নলেজে নেই। এলাকার সচেতন মহল মঙ্গলবার রাতে আপনার সাথে এনিয়ে কথা বলেছিলেন কী-না জনাতে চাইলে তিনি বলেন, কথা বললে কি আর জুয়ার আসর বসতো। ঠিক আছে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো: মহিউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার রাতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে এ বিষয়ে ফোন করেছিল। তিনি বলেন, আগেও আমার কাছে খবর আসার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আবারও ওই এলাকায় বসছে জুয়ার আসর। এর সাথে স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত বলে জানতে পেরেছি। পুলিশ সবই জানে। আমি তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি। আজ থেকে এলাকায় জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলবে। তিনি আরও বলেন, এরপরেও বন্ধ না হলে আমি বিষয়টি পরবর্তী জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উথ¥াপন করবো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest