আশাশুনি ব্যুরো: পুরাতন কমিটিতে নাশকতা কর্মকা-ে দুই আসামি মোশারফ ঢালি ও আবুল কালাম সহ সকল সদস্যকে বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠণের দাবিতে আশাশুনির বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মানববন্ধন পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্র-ছাত্রীরা, অভিভাবক, মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামীলীগ, যুবলীগসহ শতশত এলাকাবাসী মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল হাকিম মোড়লের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, আনুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন। বিশেষ অতিথি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোক্তার আলী মোড়ল, মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ রশিদুল আলম, আব্দুস সামাদ সানা, হাকিম গাজী। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইউপি সদস্য জিয়ারুল ইসলাম, শওকত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আনন্দ কুমার দাশ, আলমগীর হোসেন, শাহবুদ্দীন প্রমুখ। এসময় প্রধান অতিথি বলেন, বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন মুক্তিযোদ্ধা চেতনায় পরিচালনা হয়ে আসছিল। কিন্তু ২০১৩ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারির পর এলাকায় যারা রাস্তায় বেরিগেট, অগ্নিসংযোগ সহ নাশকতা মূলককর্মকা- চালিয়ে ছিল তারা সে সময় স্বাধীনতা বিরোধীর পক্ষে একটি কমিটি দাঁড় করায়। এই কমিটির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জজকোটে ১৯/১৪ নং মামলা হলেও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ভূয়া কমিটি দেখিয়ে বিদ্যালয়টি ধ্বংস করতে চায়। আমরা সকল মুক্তিযোদ্ধ ও সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এক সাথে প্রতিহত করব।
বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) এম আব্দুল্যাহ জানান, আমার স্বাক্ষর জাল করে যশোর মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে নাশকতার দুই আসামির নাম রেখে একটি নতুন কমিটি জমা দেন সাবেক প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান। বিষয়টি জানাজানি হলে আমিসহ অভিভাবক সদস্য মোক্তার হোসেন, মোক্তার সরদার, শিক্ষক প্রতিনিধি শান্তি রঞ্জন ও বিকাশ চন্দ্র মন্ডল পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছি। পুণরায় এডক কমিটির মাধ্যমে নির্বাচনের জন্য যথাযত কর্র্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি।

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ: কালিগঞ্জের মৌতলা ইউনিয়নে ভিজিএফ’র গম বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং রশিদ বিহীন হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আদায়ের ঘটনায় ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনার প্রতিকার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছেন ৬৫ জন ভুক্তভোগী দুঃস্থ ব্যক্তি। সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কালিগঞ্জ ব্যুরো : কালিগঞ্জÑশ্যামনগর (আংশিক) সাতক্ষীরা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি নেতা আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেছেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীতাবাদী দল (বিএনপি) শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ দলীয় মনোয়নের প্রত্যাশায় কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। মঙ্গলবার দুপুরে নলতার খানবাহাদুর আহছানউল্লার মাজার জিয়ারত শেষে মাজার শরীফের খাদেম মৌলভী আনছার উদ্দিনের সাথে মতবিনিময়কালে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে দোয়া প্রার্থনা করেন। এসয়ম তার সফর সঙ্গী ছিলেন শ্যামনগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক খান আব্দুস সবুর, উপজেলা ছাত্র দলের দপ্তর সম্পাদক গাজি জহিরুল ইসলাম, কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি‘র সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মোহাম্মাদ আলী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ লুৎফার রহমান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু, ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান মনি ও যুবনেতা মনিরুল ইসলাম মনি প্রমুখ। সন্ধ্যায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরে মৌতলা ও শ্যামনগর বিএনপির নেতা কর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা মতবিনিময় করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় বিটিভির ক্যামেরা পার্সন মীর মোস্তফা আলীর মাতা মলুদা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা -০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। শোক বার্তার তিনি বলেন, “মঙ্গলবার রাতে বার্ধ্যক্য জনিত কারণে তিনি নিজস্ব বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠক জীবদ্দশায় অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিক হিসাবে সমাজ পরিবর্তনের ও দূর্ণীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিপ্লবী আদর্শের বীর সৈনিক রুপে স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর আদর্শ ও জীবনাচরণে সকলকে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করবে। ৭১’র অকুতোভয় বীর সেনানী মোড়ল আব্দুস সালাম জন্ম গ্রহন করেন ১৯৪৮ খ্রিঃ ১লা এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার কৃষ্ণকাটি গ্রামে। তার পিতার নাম হাজী আবুল কাশেম মোড়ল, মাতা আশাফুন্নেছা বেগম। ৩ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ছোট বেলায় তাঁর বাবা মা ও গ্রামবাসী আদর করে তাকে ডাকতো বাচা। লেখাপড়ার হাতে খড়ি কৃষ্ণকাটি প্রাইমারী স্কুলে। এর পরবর্তীতে ভর্তি হন কপিলমুণি সহচরী বিদ্যামন্দিরে। এই স্কুলে লেখাপড়ার সময় ১৯৬২ সালে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় তদানীন্তন পাকিস্তান সরকারের হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বাতিলের আন্দোলন ও ধর্মঘট পালনের মধ্যে দিয়েই মূলতঃ রাজনীতিতে হাতে খড়ি মোড়ল আব্দুস সালাম মোড়লের। তিনি ১৯৬৪ সালে কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দিরে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী দাবার আন্দোলন, স্কুলের নির্বাচিত মণিটর এবং ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে ঐ স্কুল থেকে ২য় বিভাগে মেট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন। উচ্চ শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে ভর্তি হন বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ দৌলতপুর ব্রজলাল (বি,এল কলেজ) মহাবিদ্যালয়ে এবং ১৯৬৬ সালে দৌলতপুর কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে এখান থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বাগেরহাটে আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র (পি,সি কলেজ) মহাবিদ্যালয়ে ¯œাতক শ্রেণীতে ভর্তি হন। সে সময়ে দেশে রাজনীতি তুঙ্গে, তিনিও সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত পর পর দু’বার বাগেরহাট মহাকুমায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী সরকার বিরোধী গণআন্দোলনে ক্যাম্পাস থেকে গ্রেফতার হন এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারী সরকার আন্দোলন মুখে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। ঐ একই বছর তৎকালীণ পাকিস্তানের মন্ত্রী খান এ সবুর তার রাজনৈতিক সফরে তালায় এসে পরবর্তীতে কৃষ্ণকাটি হাইস্কুল পরিদর্শনে যান। এই সময় সবুর খানের আগমনের প্রতিবাদে পাড়া থেকে ছেড়া জুতা সংগ্রহ করে কৃষ্ণকাটি রাস্তায় রাস্তায় জুতার মালা টাঙ্গিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে সংবিধানের ১৬ তম সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায় নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করায় বেসরকারী বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ডাকযোগে নোটিশটি পাঠান সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এসএম জুলফিকার আলী জুনু। এতে বলা হয়, রায় ঘোষণার পর মন্ত্রী বলেন, ১৬তম সংশোধনী বাতিল করে এভাবে রায় দিতে পারে না আদালত।
বি. এম আলাউদ্দীন: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ফকরাবাদ গ্রামে সোবহান গাইনের পুত্র জিয়ারুল গাইনের বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়েছে এলাকার আলোচিত দুধর্ষ চোর ও মাদক স¤্রাট মৃত: রজব আলী সরদারের পুত্র শাহীনুর সরদার (শাহীন) (৪২)। সোমবার আনুমানিক রাত্র ২.০০ টায় উক্ত ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে জিয়ারুল গাইন সমিতি থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে শাহীনুর সরদার তার বাড়িতে চুরি করতে যায়। জিয়ারুল ও তার স্ত্রী প্রতিদিনের ন্যায় বাড়ীর বারন্ডায় ঘুমায়, সেই সুবাধে সে ঘরের ভিতর প্রবেশ করে আলমারির তালা ভাঙে , জিয়ারুল শব্দ শুনতে পেয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকলে চোর শাহীনুর তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। জিয়ারুল তাকে জাপটে ধরে চিৎকার করতে থাকে তখন স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে চোর আটকে রেখে স্থানীয় মেম্বর হাফেজ মো: রুহুল আমিন এর নিকট হস্তান্তর করে। মেম্বর সকালে শাহীনুর কে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে সে পয়শা ও ডলার চক্রের মূল হোতা হিসাবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিলো এবং মাদক, চুরি, ছিনতাই মামলায় একাধিক বার কারা বরণ করে। কিন্তু আইনের ফাক ফোকড় দিয়ে বেরিয়ে এসে আবারো একই কাজ লিপ্ত হয়ে এলাকা বাসীকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এমতাবস্থায় কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির জন্য উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
আশাশুনি ব্যুরো: ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার মাদ্রাসা ছাত্র সিয়াম আশাশুনির কুল্যায় উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ছাত্রটি কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলা সদরের গরু ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান চৌধুরীর পুত্র মো: নাদির সিয়াম (১২)। জানাগেছে সিয়াম ইটনা আলিয়া মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণির ছাত্র। মাদ্রাসা সুপার রংপুর এলাকার আশরাফুল আলম হেবজখানায় দেরিতে যাওয়ার জন্য নাদির সিয়ামকে মারধর করে। শিক্ষকের উপর অভিমান করে ইটনা থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা সদর রেলষ্টেশন থেকে রেল যোগে খুলনায় আসে। ক্ষুদার জ্বালা সইতে না পেরে খুলনা সোনাডাঙ্গা বাসস্টা-ের একটি চায়ের দোকানে ২৭টাকার বিভিন্ন খাবার খায় সিয়াম। কিন্তু বিল দিতে না পারায় চা দোকানী তাকে মারধর করতে থাকে। এমন সময় খুলনা থেকে কাজ শেষে বাড়ী ফেরার পথে আশাশুনির কুল্যার মোড়ের বাসিন্দা মো: আলামিন ও সাহাদাত হোসেন এ ঘটনা দেখে তারা দোকানীর বিল দিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করে। সিয়াম অসুস্থ হওয়ায় কিশোরগঞ্জ থেকে কবে এসেছে ঠিক করে বলতে পারছে না। সে তার ব্যাগ হারিয়ে ফেলায় তার পরিবারের মোবাইল নাম্বারটিও হারিয়ে ফেলেছে। সিয়ামকে নিজ ঠিকানায় পৌছে দিতে সাহাদাত-আলামিন তাকে সাথে করে বাড়িতে (কুল্যার মোড়) নিয়ে আসে। বিষয়টি ইটনা থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করলে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত কেউ এমন অভিযোগ করেননি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।