অবাক হওয়ার মতো কথা হলেও, এই বিশ্বাস কিংবা কুসংস্কারটি কিন্তু এখনও বহু মানুষদের মধ্যে পাওয়া যায়৷ এবং এর জন্য ওঝারাই দায়ি, বলছেন ওয়াকিবহাল মহল৷

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় গত মাসে ১৮ বছর বয়সি শঙ্করী মাহাতোকে কুকুরে কামড়েছিল৷ কিন্তু ডাক্তারের কাছে না গিয়ে শঙ্করী যায় পাশের গ্রামের এক ওঝার কাছে৷

সে গ্রামের ৭০ বছর বয়সি ওঝা বুদ্ধেশ্বর সিং মেয়েটিকে জড়িবুটি মেশানো দই-চিঁড়ে খেতে দেন এবং বলেন যে, ঐ খেলেই তাঁর আর কুকুরের কামড় থেকে কোনো অসুখবিসুখ করবে না৷ খবর ডয়চে ভেলের।

শঙ্করী মাহাতোর বক্তব্য: ‘‘আমরা জানি, কুকুরে কামড়ালে মানুষের পেটে কুকুরের বাচ্চা হয়৷ তা থেকেই জলাতঙ্ক ঘটে আর মানুষ মরে যায়৷ ওঝা যে ওষুধ দিয়েছে, তার জন্যেই আমি বেঁচে গেছি৷”

শঙ্করীর মা মালতী মাহাতো জানান যে, তাঁকেও বছর আটেক আগে কুকুরে কামড়েছিল এবং তিনি বুদ্ধেশ্বর সিং-এর ওষুধ খেয়ে সেরে ওঠেন৷

ডাক্তারি শাস্ত্রে নিরক্ষর, সরল মানুষজনের এই অদ্ভুত বিশ্বাসটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পাপি প্রেগন্যান্সি সিনড্রোম’ বা পিপিএস অর্থাৎ ‘পেটে কুকুরের বাচ্চা রোগ’৷

পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড় ইত্যাদি রাজ্যে হাজার হাজার মানুষ এই আজগুবি রোগের কথা বিশ্বাস করেন৷

মনস্তত্ত্ববিদ কুমার কান্তি ঘোষ প্রায় দু’দশক ধরে পিপিএস নিয়ে গবেষণা করেছেন৷ তিনি বলেন, আসলে এই কুসংস্কারের পিছনে রয়েছে গণ-হিস্টিরিয়া৷

মালদা সরকারি হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের প্রধান ড. ঘোষ বলেন, তাঁদের হাসপাতালে তাঁরা একাধিকবার পিপিএস-এর ঘটনা দেখেছেন৷ পেট পরীক্ষা করে কিছুই না পাওয়া যাবার পর রোগীদের মানসিক চিকিৎসার জন্য তাঁর বিভাগে পাঠাতে হয়েছে৷

ওঝা বুদ্ধেশ্বর সিং কোনোদিন স্কুল-পাঠশালার মুখ দেখেননি৷ তিনি বলেন, ‘‘কুকুরে কামড়ানোর হপ্তা দুয়েক বাদে পেটে কুকুরের বাচ্চা জন্ম নেয়৷ তারা নাকি পেটের মধ্যেই লাফালাফি, দৌড়োদৌড়ি করে – আর তাদের সঙ্গে রোগীও ছটফট করে৷ জল দেখলে রোগী তাতে ঐ কুকুরের বাচ্চাদের মুখ দেখে৷ তারপর নিজেই চারদিকে ছুটোছুটি করে পাগলা কুকুরের মতো ডাকতে ডাকতে মারা যায়৷”

কুকুরে কামড়ানোর সাত দিনের মধ্যে বুদ্ধেশ্বর সিংয়ের ওষুধ খেলে আর নাকি কুকুরের বাচ্চা জন্মাতে পারে না, আর জন্মালেও ওঝার ওষুধের গুণে সেসব বাচ্চা মারা যায়, রোগীও প্রাণে বেঁচে থাকে৷

এখন প্রশ্ন হলো, নিরক্ষরতা আর কুসংস্কারের কোনো ভালো ওষুধ ডাক্তারদের জানা আছে কিনা৷

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কেএম রেজাউল করিম: দেবহাটার ৫ নারীর কঠোর পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায় ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। বর্তমানে তারা সমাজের অন্য মানুষের মত সুখে শান্তিতে পরিবারের সদস্যদের সাথে বসবাস করছে। অধিক পরিশ্রম আর প্রচেষ্টা নিজেদের উন্নয়ন ঘটানোর কাহিনি জানিয়েছেন উপজেলার ৫ নারী।

কঠোর পরিশ্রমী সালমার ব্যবসায় সফলতা
উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী সালমা খাতুন। তিনি একজন পরিশ্রমী ব্যক্তি। কঠোর পরিশ্রমে তার সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। সফলতার কথা জানিয়ে সালমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি শয্যাশয়ী। তার উপার্জন বন্ধ থাকায় পরিবার একেবারে অচল হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়ে আমি সংসারের হাল ধরার জন্য কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি। বর্তমানে আমার কাপড়ের ব্যবসার লভ্যংশদিয়ে সংসার পরিচালনা করছি। এমনকি আমাদের জমির উপর ৩টি পাকা ঘর নির্মান করেছি। যার মধ্যে ২টি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এতে আমার দোকান ও ভাড়া ঘর থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে অনেক ভাল জীবন যাপন করছি। আমার ২ সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। সমাজে আমার গ্রহণ যোগ্যতা বেড়েছে।

বে-সরকারি চাকরিতে ভাগ্য ফিরেছে ঝরনার
উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামের তুষার রায়ের স্ত্রী ঝরনা রায়। তিনি এইচ,এস,সি পাশ। সফলতার কথা জানিয়ে ঝরনা রায় বলেন, আমার সংসারে ৬জন সদস্য। আমার স্বামী একজন দিনমুজুর। সে অন্যের জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চিংড়ি চাষ শুরু করে। কিন্তু ভাইরাসে সব মাছ মারা যায়। সে কারনে অঅমার স্বামী ঋনের চাপে হতাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। তারপক্ষে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারনে আমি সংষারে দায়িত্ব গ্রহন করি। আমি বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাকের একটা ছোট চাকুরীতে যোগদান করি। সেই চাকুরীর উপর নির্ভর করে সংসার চালানো, স্বামীর ঋনের টাকা পরিশোধ, ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখা চালাতে থাকি। বর্তমানে আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুখে দিন কাটছে। আমার মেয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ছেলে ৭ম শ্রেণিতে পড়ছে।

একজন রতœগর্ভ মা ফতেমা
দেবহাটার রতœগর্ভা মা ফতেমা। সে উপজেলার খলিশাখালী গ্রামের আব্দুর রহিম মোড়লের স্ত্রী। সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার নিভৃতে পল্লীতে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন ফতেমা খাতুন। তিনি ছিলেন সমাজ সচেতন, শিক্ষানুরাগী এবং আতœপ্রত্যায়ী। নিজে নিরক্ষর হয়েও শিক্ষার প্রতি ছিলেন অদ্যম অনুরাগী। কোন প্রতিকুলতায় তাকে হার মানাতে পারেনি। তার ছিল ৭ ছেলে ২ মেয়ে। স্বামী ছিলেন অন্যর ঘেরের সামান্য বেতনের কর্মচারী। সে কারনে বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন করতেন ফতেমা। এই উৎস্য থেকে উৎপাদিত অর্থ দিয়ে ছেলে-মেয়েদের খাতা-কলম কিনে দিতেন। একই বই পর্যাক্রমে সবাই পড়ত। তার সন্তানেরা ৫ম, ৮ম, এসএসসি তে মেধা তালিকায় স্থান করে নেয়। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে উচ্চ শিক্ষায় সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে। যার মধ্যে ৩জন বিসিএস পাশ করেছেন। ৭ ছেলেরা হল ফারুক হোসেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক, কামরুল ইসলাম খুলনা মেট্রোপলিটনের সহকারী কমিশনার, ডাঃ শরিফুল ইসলাম (এফসিপিএস) কনসালটেন্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, আরিফুল ইসলাম চাপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র সরকারী সিনিয়র কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, খায়রুল ইসলাম পলিটেকনিক ইঞ্জিনিয়ার, রফিকুল এম কম পাশ মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক, তরিকুল ইসলাম দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। মেয়েরা হলেন আয়েশা খাতুন বিএ (অনার্স) পাশ এবং আফরোজা খাতুন এম এ পাশ। বর্তমানে তিনি স্বামী সন্তান নিয়ে সুখী সমৃদ্ধিশালী জীবনযাপন করছেন।

তাহেরা এখন স্বাবলম্বী
উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের বহেরা গ্রামের শেখ সুরাত আলীর স্ত্রী উম্মে তাহেরা(উষা) স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাহেরা জানান, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য শারিরিক নির্যাতন করত। পিতা গরীব হওয়ায় যৌতুক দিতে না পারায় নির্যতনের মাত্রা বেড়ে যায়। দিনের পর দিন নির্যাতন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাবার বাড়িতে চলে আসেন তাহেরা। সে জন্য
স্বামী তাকে বৈধ তালাক দেয়। সে সময় পাশে দাঁড়ানোর মত কেউই ছিল না। নিরাপত্তার কারনে ২য় বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েও কোন আশার আলো দেখা মেলেনি। বাধ্য হয়ে নিজের একান্ত প্রচেষ্টায় বাড়িতে হাঁস-মুরগী ও গাভী পালন করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে আসে। বর্তমান তাহেরার এক কন্যা সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনার্স এবং অপরজন ১ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। পূর্বের তুলনায় সংসারে অনেক উন্নয়ন হয়েছে তার। বেড়েছে সমাজের গ্রহণ যোগ্যতাও।

সংগ্রাম করে চলছে খাদিজার জীবনযাত্রা
উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী খাদিজা পারভীন। সংগ্রাম করে চলছে যার জীবন সংগ্রাম। নিজের ভাগ্যর পরিবর্তন ঘটতাতে প্রথমে সার্স (এনজিও)তে জনসংগঠক হিসাবে দর্জি বিজ্ঞান স্কুলের ট্রেনার হিসাবে কাজ শুরু করে সে। তারপর প্রগতি সমবায় ঋনদান সমিতিতে মাঠ কর্মী হিসাবে কাজ করে খাদিজা। একই সাথে উত্তরণের সফল প্রকল্পের নিউট্রিশন পাটে কাজ করছেন তিনি। বর্তমানে ব্লাডপ্রেশার মাপাযন্ত্র, ডায়বেটিক্স পরীক্ষা মেশিন, ওজন মাপক যন্ত্র অছে। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে থাকে। এছাড়া কিশোরী মেয়েদের স্বাস্থ্য সেবার উপর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ধর্ষণের কোন দেশকাল নেই। সুযোগ পেলেই ধর্ষকেরা শিশু, কিশোরী কিংবা গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু এবার মায়ের কোলের এক শিশুকে ধর্ষণ করে বেধড়ক লাটিপেটা খেয়েছেন এক ধর্ষক।

ধর্ষণের শিকার সেই শিশুটিকে কোলে করেই তার মা এবং গ্রামের অন্যান্য নারীরা ধর্ষককে বেঁধে ইচ্ছামতো লাঠিপেটা করেছেন। পরে আধমরা অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতে এবং এটির ভিডিওক্লিপ লাইভলিকে প্রচারিত হয়েছে। ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত দৈনিক `সংবাদ প্রতিদিন`। ঘটনার ভিডিও দিয়ে নিউজটি করা হলেও ঘটনার স্থল এবং কবে ঘটনাটি ঘটেছে, উল্লেখ করা হয়নি। তবে এলাকাটিকে পাহাড়ি এলাকা বলে মনে হয়েছে।

ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে, ধর্ষক বাঁধা অবস্থায় মাঠে পড়ে রয়েছেন। আর তাকে ঘিরে রেখেছেন গ্রামের নারীরা। একজন একজন করে এগিয়ে আসছেন আর ধর্ষককে লাঠিপেটা করছেন। শেষমেশ আধমরা অবস্থায় স্থানীয় পুলিশ ধর্ষককে উদ্ধার করে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেই ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন-

https://www.youtube.com/watch?v=WdnC5DZOx1U

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঢালকানগর এলাকায় একটি টিনসেট বাসায় গ্যাস পাইপ লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের সাতজন দগ্ধ হয়েছে। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। আজ ৫ জুলাই ভোর সোয়া ৪টার দিকে ঢালকানগর ৫৭/বি নম্বর টিনসেট বাসায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন, আলেয়া বেগম (৬৫), শাহীদা বেগম (৪৫), শাহনাজ (৩৫), আলী আকবর (৫০), শরিফা (১৩), শরিফুল ইসলাম (৩৫) ও শুভ (৮)। দগ্ধ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

প্রতিবেশী জনি জানান, ভোরে ওই টিনসেট বাসায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলো। দুই রুমের ওই বাসার মধ্য দিয়ে গ্যাসের পাইপ লাইন লাগানো ছিল। গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণে তারা সবাই দগ্ধ হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। ঘটনার পরপরই তাদেরকে উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে এসেছি।

বার্ণ ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল জানান, বিস্ফোরণে তাদের শরীর যথাক্রমে ৩৩, ২৫, ৯, ২৫, ২, ৪৫ ও ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তারা সবাই চিকিৎসাধীন আছে বলে জানান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিশ্বের যেসব দেশে বাল্যবিয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশী ঘটে, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।
তাই বলা যেতে পারে, দেশে বাল্যবিয়ের ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু নিজের বিয়ে ভাঙতে হাত কেটে ফেলার কথা এর আগে শোনা যায়নি।
তবে এমনই একটি ঘটনা ঘটিয়েছেন বিথী আক্তার। আর ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে।
ওই গ্রামেরই একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিথী আক্তার, বয়স ১৫ বছর।
পড়াশোনা করতে আগ্রহী বিথীর অমতেই তার পরিবার এক বাস ড্রাইভারের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে।
অল্প বয়সে বিয়ে করা ঠিক নয়, এই বিষয়টি তিনি বাবা-মাকে বুঝাতে ব্যর্থ হয়ে অনেকটা নিরুপায় হয়েই বিথী সিদ্ধান্ত নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করার।
“বয়স কম, ক্লাস নাইনে পড়ি । জোর করে বিয়ে দিতে চাইছিল ড্রাইভারের সঙ্গে”- উপজেলার সবচেয়ে বড় কর্মকর্তাকে ফোন করার কারণ ব্যাখ্যা করে বলছিলেন বিথী আক্তার।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসারউদ্দিন জানান হঠাৎ করেই গত সপ্তাহে তার কাছে বিথী নামের ওই কিশোরীটি ফোন করে।
“মেয়েটা আস্তে আস্তে বলছিল আপনি কি বাল্যবিয়ে ঠেকাতে পারবেন? আমি তখন বললাম পারবোনা কেন। মেয়েটি জানায় যে তারই বিয়ে ভাঙতে হবে। পরদিন বৃহস্পতিবারেই বিয়ে”। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ জুন মাসের ২৯ তারিখে বিথীর গ্রামে যান উপজেলার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদেরকে সহযোগিতা করতে হাজির হন এলাকার কিছু মানুষ।
এরা সবাই বিথীদের বাড়িতে গিয়ে দেখেন যে সেখানে পারিবারিকভাবে বিয়ের সব প্রস্তুতি চলছে।
কিন্তু বিথীর বাবা বেল্লালকে যখন বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে বলা হয়, তখন তিনি এক নাটকীয় মুহুর্ত তৈরি করেন বলে জানান আবু নাসারউদ্দিন।

বিয়ে নিয়ে নাটকীয়তা :
“আমরা যাওয়ার কিছু পর পুলিশও আসলো। তাদের অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলাম। অনেক পরে আসলো মেয়ের বাবা বেল্লাল। মেয়েকে বয়সের আগেই বিয়ে দিচ্ছেন কেন, এটা জানতে চেয়ে মেয়েটিকে ডেকে আনতে বললে তিনি এমন এক মেয়েকে এনে বসালেন, যাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছিল বয়স একটু বেশি” – বলছিলেন নাসারউদ্দিন।
বিথী ওই কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ক্লাস নাইনে পড়েন। কিন্তু যে মেয়েকে তার বাবা কর্মকর্তাদের সামনে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি মেট্রিক পাশ করেছেন এমনটা জানার পর সন্দেহ হয় কর্মকর্তাদের।
এরপর প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায় নিজের মেয়ের পরিবর্তে অন্য আরেকজনকে বসিয়ে দিয়েছেন বিথীর বাবা।
আবু নাসারউদ্দিন বলছিলেন “আমি যখন বললাম আপনি মেয়ের পরিবর্তে নিজের বোনকে বসিয়ে দিয়েছেন, এটা কি ঠিক হলো? এমন সময় ফিক করে হেসে দেন বেল্লাল। অনেক পরে বিথীকে সবার সামনে নিয়ে আসেন তার বাবা”।
“এই মেয়েকে দেখলে আপনার অনেক খারাপ লাগবে যে এমন বাচ্চা মেয়েটাকে এক ড্রাইভারের সাথে বিয়ে দেয়ার চিন্তা করেছে তার পরিবার”- বলেন তিনি।
মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে, বিয়ের বয়স হয়নি, ১৮ বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে দেয়া ঠিক নয় – এসব কথা বলে অনেক বুঝানো হয় বিথীর পরিবারকে।
“মেয়ের বাবা বলেন যে বিয়ে উপলক্ষে অনেক খরচ হয়ে গেছে, গরীব মানুষ। তখন বলি যে পরে যখন মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হবে বিয়ের সব খরচ আমি দেখবো, তবু এই বিয়েটা বন্ধ করেন”-বলেন নাসারউদ্দিন।
তিনি জানান, বিথীর বাবার কাছ থেকে মুচলেকাও নেয়া হয়েছে যে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের দিবেন না।
টেলিফোনে ছেলের বাড়িকে নিষেধ করে, পড়ালেখার সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন কর্মকর্তারা।

তাহলে কেন বিথীকে নিজের হাত কাটতে হলো?
বিথীকে জোর করে তার পরিবার বিয়ে দেবে না, এই আশ্বাস পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পুলিশের দল যখন বিথীদের বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তার পরিবার আবারো তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিথী কান্নাকাটি করার পরও তার মা জোর করে তার বিয়ে দিতে চাইছিলেন।
এমনকি বিথীকে মারধোরও করে তার মা – প্রতিবেশী ও উপজেলার তথ্য কর্মকর্তা এমনটাই জানিয়েছেন।
যদিও বিথীর কথায়, “মা হালকা দুই-একটা থাপ্পর মারছে”।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিথীর ফোলা চোখের পাশে তিনি আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন।
বিয়ে নিয়ে মা-মেয়ের বাকবিতন্ডার মধ্যে এক পর্যায়ে উঠানে থাকা বটি মেয়ের দিকে ছুঁড়ে মারে তার মা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে নাসারউদ্দিন বলেন, ওই সময় বিথী বটিটি নিয়ে বলে যে “আমিই নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি, বলে বাম হাতে কোপ মারে”।
বিবিসির সাথে আলাপকালে একধরনের জড়তা নিয়েই বিথী বলছিলেন “মা বকাঝকা দিছে। কিছু করতে পারছিলাম না। তাই নিজের হাত নিজেই কাটছি। রাগের মাথায় কাজটা করছি”।
বটি দিয়ে কোপ দেয়ার কারণে হাতের তিনটি রগ কেটেছে বিথীর। তবে হাতের ব্যান্ডেজ নিয়েই তিনি এখন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার বিথী নিজের হাত কাটলেও খবরটা তিনি পেয়েছেন রোববার, অর্থাৎ ২রা জুলাই।
“বিথী স্কুলে গেছে কি-না তা জানতে শনিবার ওর স্কুলে ফোন দেই। হেডমাস্টার জানায় যে ঘরে আত্মীয়স্বজন আছে তাদের বিদায় দিলো, এজন্য সে আসেনি। এরপর রোববার ফোন দিয়ে যখন জানলাম যে আসেনি, তখন সন্দেহ জাগে মেয়েকে বিয়ে দিল কি-না”।
এরপর আবার বিথীদের বাড়ি গিয়ে ও তথ্য কর্মকর্তার সাহায্যে পুরো ঘটনা জানতে পারেন তিনি।
এবারে নিজের হাত কেটে বাল্যবিয়ে রুখলো বিথী। কিন্তু আবারো যদি পরিবার তাকে চাপ দেয় তাহলে সে কী করবে?
“আর এমন করতে পারবে না বাবা-মা। বিয়ে দিতে চাইলে স্যারের কাছে শুনেই সেটা করবো”-বলেন বিথী।
ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছার কথাও জানালেন বিথী আক্তার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সরকারকে বিব্রত করতেই কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করা হয়েছিল। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এমন তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘সরকারকে বিব্রত করতেই আমাকে চোখ বেঁধে অপহরণ করা হয়েছিল। কে বা কারা অপহরণ করেছিল, আমি তাদের চিনি না।’
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টায় ১৯ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ থাকা ফরহাদ মজহারকে আদালতে নেয়া হয়। এর আগে সোমবার রাত ১১টার দিকে যশোরের অভয়নগর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়া যাত্রীবাহী একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবিবের খাস কামরায় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। একই আদালতে ‘নিজ জিম্মায়’ যাওয়ার আবেদনের ওপরও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে বিচারক মো. আহসান হাবিব ফরহাদ মজহারকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি নিজ জিম্মায় যেতে চান? ‘হ্যাঁ’ বোধক সম্মতি জানালে আদালত ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ মজহার জবানবন্দিতে বলেন, সোমবার ভোরে আমি ওষুধ কেনার জন্য বাসা থেকে বের হই। পথিমধ্যে কে বা কারা আমাকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এ সময় তারা আমার চোখ বেঁধে ফেলে। আমি তাদের কাউকে চিনতে পারিনি। তারা কতজন ছিল তাও সঠিক জানি না। অপহরণের পর তারা আমার কাছে কোনো চাঁদা দাবি করেনি। আমি নিজেই মুক্তি পাওয়ার জন্য তাদের টাকার অফার করি। এরপর টাকার জন্য বাসায় ফোন করি। তবে তারা আমার কাছ থেকে টাকা না নিয়েই ছেড়ে দেয়।
ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনায় সোমবার রাতে স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৪। এর আগে তিনি জিডি করেছিলেন। জিডি নং- ১০১।
ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার এবং পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের পর ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার আমাদের জানিয়েছেন, সোমবার ভোরে বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই একদল দুর্বৃত্ত তাকে ধরে চোখ বেঁধে একটি সাদা মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যায়।’
তিনি স্বেচ্ছায় বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, না কি ফোন করে তাকে বাসার বাইরে আনা হয়েছিল- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি (ফরহাদ মজহার) আমাদের জানিয়েছেন, ওষুধ কেনার জন্য তিনি বাসা থেকে বের হন। তাকে কেউ ফোন করেননি। বাসা থেকে বের হওয়ার পরই তাকে জোর করে অপহরণ করা হয়।’
স্ত্রীর দায়ের করা ‘অপহরণ’ মামলা প্রসঙ্গে আব্দুল বাতেন বলেন, অপহরণ মামলার বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
ডিবির এ কর্মকর্তা আরও জানান, নিখোঁজের পর উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত- পুরো বিষয়টি জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এ কারণে তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নেয়া হচ্ছে।
সোমবার রাতে যশোরের অভয়নগরের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সকালে তাকে নেয়া হয় আদাবর থানায়। সেখান থেকে তেজগাঁওয়ের ডিসি কার্যালয়ে নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করতে পরে তাকে নেয়া হয় মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে।
সোমবার ফরহাদ মজহার নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আদাবর থানায় এ সংক্রান্ত একটি অপহরণ মামলা হয়েছে বলে ডিসি বিপ্লব জানালেও পরিবার দাবি, তারা এখনও কোনো মামলা দায়ের করেননি। শুধু লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সোমবার ভোরে শ্যামলীর রিং রোড ১ নং হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। পরবর্তীতে তিনি স্ত্রীকে মোবাইলে ফোনে জানান, কে বা কারা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাকে মেরেও ফেলা হতে পারে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ছয়বার ফোন করে ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়ে মোবাইল ট্রাকিং করে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগরের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বাংলাদেশের সুন্দরবন ‘ন্যাচারাল ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ বা বিশ্ব এতিহ্যের মার্যাদা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে। তবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনকে মর্যাদার তালিকায় রাখতে সরকার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটিকে কোনোক্রমেই যাতে বিশ্ব এতিহ্যের মর্যাদা থেকে বাদ দেয়া না হয় সে জন্য সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলো তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের কাউন্সিলের সভায়।

মঙ্গলবার থেকে এই সভা ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে শুরু হয়েছে। সভা শেষ হবে আগামী ১২ জুলাই। এই সভায় সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য থেকে বাদ দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ১৩ সদদ্যের একটি প্রতিনিধি দল এখন পোল্যাল্ডে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের ৪০টি পরিবেশবাদী সংগঠন সুন্দরবনকে বিশ্বের ঐতিহ্যির মর্যাদা থেকে বাদ দেয়ার জন্য খোলা চিঠি দিয়েছে ইউনেস্কোর ওয়াল্ড হেরিটেজ সেন্টারের কাছে। তারা চিঠিটি আমলে নিয়েছে। এটি ওই বৈঠকের আলোচনার সূচিতে রয়েছে।

চিঠিতে তারা বলেছে, সুন্দরবনের পাশে বাংলাদেশ সরকার ও ভারত মিলে রামপালে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে। যেটি করলে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এছাড়া বনের ভেতর দিয়ে কয়লা ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে। এগুলোর কারণেও সুন্দরবনের ক্ষতি হচ্ছে। বনের ভেতরের বিভিন্ন নদীতে মাঝে মধ্যেই তেল, কয়লা ও সারবাহী ট্যাঙ্কার ডুবে বনের জীববৈচিত্রের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এগুলোর পেছনে সরকারের নিবর ভূমিকা রয়েছে। যে কারণে তারা সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।

কাউন্সিলের ৪১তম বার্ষিক সভার প্রস্তুতি বৈঠক শুরু হয়েছে ২ জুলাই থেকে। ৩ জুলাই তা শেষ হয়েছে। আজ (৪ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে মূল বৈঠক। এ সভায় সুন্দরবন নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে যেকোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে যাতে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত না হয় সে জন্য সরকারের গৃহীত বিভিন্ন ধরনের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করছেন। বৈঠকে সুন্দরবন নিয়ে কোনো নেতিবাচক আলোচনা হতে থাকলে তারা এর বিপরীতে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরবে।

এর আগে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কাউন্সিলের ৩৯ ও ৪০তম বার্ষিক সভায় রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের ক্ষতি করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

সূত্রে জানা গেছে, গেল বছর রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবনের জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ উল্লেখ করে কাউন্সিল। এই প্রকল্প বাতিল করে অন্যত্র সরিয়ে নিতে সরকারের প্রতি লিখিত আহ্বান জানায় ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার। এরপর সরকারের তরফ থেকে জবাব পাঠানো হয়। পরে ইউনেস্কোর একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে যায়। ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পাঁচ মাস পর সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠায় সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বা ইআইএ করেছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) নামের একটি সংস্থার মাধ্যমে। কিন্তু ওই ইআইএ আন্তর্জাতিক মানের হয়নি। তাতে সঠিক চিত্র উঠে আসেনি। রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে সেখানকার ইকো সিস্টেমের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইউনেস্কোর এমন মনোভাবের কারণে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কাউন্সিলের ৪১তম বার্ষিক সভাটি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কাউন্সিলে অংশ নিতে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রদিনিধি দল।

বাগেরহাটের রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল ও বন-সংলগ্ন এলাকায়  দূষণকারী শিল্পকারখানা স্থাপনের ফলে এ আশঙ্কা করছে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র ।

জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো সরকারকে ২০১৪ সালের ১১ জুলাই চিঠি দিয়ে বলেছিল, বিশ্বের সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় এই বনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হলে বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান হারাবে সুন্দরবন। বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে সুন্দরবন নাম লেখাবে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের’ তালিকায়।

এছাড়া সুন্দরবন রক্ষায় কী উদ্যোগ নেয়া হবে তা উল্লেখ করে ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন চাইলেও কোনো উত্তর পায়নি ইউনেসকো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : বহমান নদীকে মৃত দেখিয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের কুলতলিতে কাকশিয়ালি নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে দেবেন না স্থানীয় জনগণ। তারা বলেন একশ্রেণির সুবিধাভোগী মানুষের স্বার্থে এ সাঁকো তৈরি হলে তা নদীকে যেমন অচল করে তুলবে তেমনি নদীর দুই প্রান্তের মানুষের একমাত্র ব্যবসা চিংড়ি ঘের মার খাবে। মঙ্গলবার সকালে কালিগঞ্জের কুলতলি খেয়াঘাটে আহুত এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, তার ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত গোবিন্দকাটি, ঘোজা, টোনা, বাঁশদহ ও বেড়াখালি গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কাকশিয়ালী নদী। খরস্রোতা এ নদীর গোবিন্দকাটি বড়িবাঁধের পাশে রয়েছে কুলতলী খেয়াঘাট। এ খেয়াঘাটটি জেলা পরিষদের কাছ থেকে বাংলা ১৪২৪ সালের পহেলা বৈশাখ হতে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি শেখ আব্দুল মান্নান। এ খেয়াঘাটের উত্তর-পূর্ব পাশে উজিরপূর ত্রিমোহিনী নামকস্থানে একটি স্যাঁকো নির্মাণ করে আশাশুনি, কালিগঞ্জ সদর ও সাতক্ষীরার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য এলাকাবাসি দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলো। অথচ সেখানে স্যাঁকো নির্মাণ না করে গত ২০ জুন কাকশিয়ালী নদীকে মজা (মৃতপ্রায়) দেখিয়ে কুলতলী খেয়াঘাটে ইজারাগ্রহীতা শেখ আব্দুল মান্নানকে জনস্বার্থ বিরোধী ৩০ হাজার টাকার বাঁশের স্যাঁকো তৈরির অনুমোদন দিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এএনএম মঈনুল ইসলাম। অনুমোদনপত্রে বাঁশের স্যাঁকো নির্মাণে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তার লোকজন বিরোধিতা করেছেন বলে উলে¬খ রয়েছে। এরপরও গত রোববার থেকে কুলতলী খেয়াঘাটে বাঁশের স্যাঁকো তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় সঁকো তৈরি হলে চিংড়ির জন্য প্রয়োজনীয় লোনা পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। পুরো মৎস্য চাষই মার খাবে। এছাড়া সচল নদী হয়ে পড়বে অচল ও প্রবাহহীন।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর এক পত্রে বলা হয়, কুলতলি খেয়াঘাটটি চলতি বছরের পয়লা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত সাতক্ষীরার রসুলপুরের আবদুল মান্নানের নামে একসনা ইজারা দেওয়া হয়েছে। এরপর নতুন করে তিনি আবেদন করে বলেছেন যে নদী মজে যাওয়ার কারণে খেয়া পারাপার বিঘিœত হচ্ছে। ফলে সেখানে খেয়া তুলে দিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হলে জানসাধারণ উপকৃত হবেন। এজন্য ওই নদীতে একই ব্যক্তিকে সাঁকো তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আনম ময়নুল ইসলাম তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
তবে স্থানীয়রা বলেন, কাকশিয়ালি নদী সচল। নিয়মিত জোয়ারভাটা খেলে এ নদীতে। বাঁশের সাাঁকো দিয়ে নদীর গতিপথ রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে। যে কোনো মূল্যে আমরা তা প্রতিহত করবো বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক বিভাস সরকার, শিবপদ সরকার, পশুপতি সরকার, মাখন লাল সরকার, তারালি ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, দিলীপ সরকার, গৌর চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ। তারা বলেন জনগনের চোখে ধুলো দিয়ে প্রবহমান নদীকে মৃত দেখিয়ে এই সাঁকো তৈরি হচ্ছে। তবে সাঁকো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন তিনি কোনো সাঁকো তৈরি করছেন না। সাঁকো তৈরি করছেন এলাকার শ্রীদাম বিশ্বাস ও রবিউল ইসলাম। জানতে চাইলে শ্রীদাম বিশ্বাস বলেন আমি দৈনিক ৩২০ টাকার পারিশ্রমিকে কাজ করি মাত্র। নদীর বাঁশের সাঁকো তৈরি করছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল মান্নান। কাগজপত্র সবই তার নামে। তিনি বলেন সাঁকো নির্মান কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। এ আবেদন দিয়েছেন সাঁকো নির্মাতা আবদুল মান্নান। কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন খান জানান, তিনি জেলা পরিষদ থেকে একটি চিঠি পাওয়ার পর শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন জানান, বিষয়টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest