সর্বশেষ সংবাদ-
কালিগঞ্জে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ- ২০ লাখ টাকার ক্ষতিসাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনের সুস্থতা কামনায় প্রেসক্লাবের বিবৃতিচ্যানেল ওয়ানে জাকিরের নিয়োগ : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দনসাতক্ষীরা’র শ্যামনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষে আহত ১৪কালিগঞ্জে বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখল ও লুটপাটের অভিযোগসাতক্ষীরার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনসাতক্ষীরায় মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল খাতে জ্ঞান বিনিময়-কৌশলগত সহযোগিতার সেমিনারসাতক্ষীরায় জলবায়ু সহনশীলতায় নারী নেতৃত্বের ভূমিকা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালাশ্যামনগরে সুপেয় পানির সংকট তুলে ধরতে দৌড়ে অংশ নিল ২ শতাধিক মানুষসাতক্ষীরায় হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন’র উদ্বোধন

ডেস্ক রিপোর্ট : বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তাকে আজ সকালে পর্যবেক্ষণ করেছেন ৮ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। বুধবার সকালে বোর্ডের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে মুক্তাকে পর্যবেক্ষণ করেন।
বোর্ডের সদস্যরা বর্তমানে বৈঠকে বসেছেন। বৈঠক শেষে মুক্তার রোগ ও চিকিৎসার বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তাকে ঢামেক বার্ন ইউনিটে আনা হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, মুক্তা রক্তশূন্যতা ও পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তাকে রক্ত ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। তাকে অপারেশনের জন্যে ফিট করতে আগামী দুই-তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।
মুক্তার চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবারই ৮ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ঢামেক কর্তৃপক্ষ। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হলেন- ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, ইউনিটের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, একই ইউনিটের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ খন্দকার, ঢামেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলাম, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রায়হানা আউয়াল এবং ঢামেক হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রাশেদ মোহাম্মদ খান।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই মুক্তার যাবতীয় চিকিৎসার দায়ভার বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ফরহাদ মজহারের জবানবন্দির সঙ্গে প্রাপ্ত তথ্যের অসংগতি আছে। তদন্ত শেষে শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

আজ বুধবার ডিএমপির সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন আছাদুজ্জামান মিয়া।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ফরহাদ মজহারের অপহরণ রহস্যের সমাধান শিগগির হবে।

কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার গত ৩ জুলাই ভোর ৫টায় শ্যামলীর নিজ বাসা থেকে বের হন। ১৮ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে একটি বাস থেকে নামিয়ে আনে।

ফরহাদ মজহার জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। তাঁকে একটি মাইক্রোবাসে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যান।

গত ৮ জুলাই মাদকবিরোধী এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছিলেন, ফরহাদ মজহার সম্ভবত অপহরণের স্বীকার হননি।

সূত্র: প্রথম আলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের নাশকতা ও মাদক বিভিন্ন অভিযোগে জামায়াতের একজন কর্মীসহ ৪১ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় ২৫ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সকল ঘটনায় ০৯ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১১ জন, কলারোয়া থানা ০৫ জন, তালা থানা ১০ জন, কালিগঞ্জ থানা ০৩ জন, শ্যামনগর থানা ০২ জন, আশাশুনি থানা ০৫ জন, দেবহাটা থানা ০৩ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ০২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং গুম হওয়া পরিবার থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে বিএনপি জানিয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৪৩৫ ব্যক্তি গুম হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫২ জনের এখনও হদিস পাওয়া যায়নি। ৩৯ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। আর ৩৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং ২৭ জন বিভিন্ন সময়ে মুক্তি পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির কাছে গুম ও নিখোঁজদের তালিকা চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ তালিকা প্রকাশ করে বিএনপি। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা প্রকাশ করেন।

এসময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ পান না অথচ গুম হওয়া মানুষদের পরিবারের নীরব কান্না থেমে নেই। আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীদের চোখে পানি না আসলেও গুম হওয়া, খুন হওয়া, নির্যাতনের শিকার হওয়া স্বজন ও সহকর্মীদের চোখের পানিতে এখন বাংলাদেশ ভাসছে।

রিজভীর দেয়া তথ্য মতে, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরে কেবলমাত্র ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে কমপক্ষে ৫০ জনকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। গুম হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বিএনপি বা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনই অপেক্ষায় থাকেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য চৌধুরী আলম, সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হীরু, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির পারভেজ, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল সভাপতি আমিনুল ইসলাম জাকির, তেজগাঁও থানা বিএনপি নেতা সাজেদুল হক সুমন, সাজেদুলের খালাতো ভাই জাহিদুল করিম (তানভীর), পূর্ব নাখালপাড়ার আবদুল কাদের ভূঁইয়া (মাসুম), পশ্চিম নাখালপাড়ার মাজহারুল ইসলাম (রাসেল), মুগদাপাড়ার আসাদুজ্জামান (রানা), উত্তর বাড্ডার আল আমিন, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদল নেতা এ এম আদনান চৌধুরী ও কাওসার আহমেদ, সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের সভাপতি মাহাবুব হাসান, খালিদ হাসান (সোহেল) ও সম্রাট মোল্লা, জহিরুল ইসলাম (হাবিবুর বাশার জহির), পারভেজ হোসেন, মো. সোহেল (চঞ্চল), নিজাম উদ্দিন (মুন্না), তরিকুল ইসলাম (ঝন্টু), কাজী ফরহাদ, সেলিম রেজা (পিন্টু), ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন কুসুমসহ অনেকের হতভাগ্য পরিবার।

তিনি আরো বলেন, গুম হওয়া বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি এম এ আদনান চৌধুরীর বাবা রুহুল আমিন ছেলের অপেক্ষায় চোখের পানি ফেলতে ফেলতে অসুস্থ হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের নেতাকর্মীদের লুটপাটের টাকায় সুইস ব্যাংক জোয়ারের পানির মতো উপচে উঠেছে। তাই অন্যের আহাজারিতে আপনাদের মনে আনন্দ ধরে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বাব-মা, জমজ বোন হীরামনি ও ছোট ভাইসহ ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনেটে মুক্তামনি।

ডেস্ক রিপোর্ট : অজানা রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি দীর্ঘদিন ধরে অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছে। মেয়ের এ কষ্টের জন্য চিকিৎসকদের অবহেলাকেই দায়ী করলেন তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে মেয়ের পাশে বসে ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ে এতদিন চিকিৎসকদের অবহেলার শিকার হয়েছে। গত কয়েক বছরে যত ডাক্তারের কাছে গিয়েছি, তাদের বেশিরভাগই মেয়েটাকে ঠিকমতো দেখতেও আগ্রহী হতেন না। মেয়েটা যদি সঠিক চিকিৎসা পেতো তাহলে রোগটা এত বেশি হতো না, মেয়েটা এত কষ্টও পেতো না। তিন বছর আগে খুলনার এক ডাক্তার বলেছেন, ‘আপনার বাচ্চার ক্যান্সার, বেশিদিন আয়ু নাই, ফাও ট্রিটমেন্ট করাইয়েন না।’
সাতক্ষীরার কামারপাশা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘ডাক্তারের এই কথা শুনে মেয়ের চিকিৎসাটা বন্ধ রাখছিলাম। কিন্তু সেই ডাক্তারের বলা ১৫ দিন যেতে যেতে যখন আজ তিন বছর পার হলো, তখন আবার মেয়েটাকে নিয়ে আশার আলো দেখছি; আমার আর কিছু চাওয়ার নেই, আল্লাহ যেন আমার মেয়েটাকে সুস্থ করে তোলেন।’ বলতে বলতে গলা ধরে আসে ইব্রাহীম হোসেনের, চোখ মুছতে মুছতে তিনি পাশে শুয়ে থাকা মুক্তামনির মাথায় হাত রাখেন। ‘অবহেলার শিকার’ আশামনি এখন চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে ঢামেকে। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী। ছোট্ট মেয়েটি আবার সুস্থ হয়ে উঠবে এমন আশা এখন করতেই পারেন ইব্রাহীম হোসেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা আমার মেয়ের খবরটি প্রকাশ করল, তারপর আমরা আজ এখানে।’
মুক্তামনিকে ঢাকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালসহ সাতক্ষীরা ও খুলনার নানা হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেখিয়েছিলেন ইব্রাহীম হোসেন। কিন্তু চিকিৎসার পরিবর্তে হতাশ হতে হয়েছে। মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে তিনি বলেন, ‘এখন আর আমি হতাশ নই, দেরিতে হলেও ঠিক জায়গায় আমি আসতে পেরেছি, এটাই এখন সান্ত্বনা।’ সাতক্ষীরা থেকে সোমবার (১০ জুলাই) রাতে মুক্তামনির পরিবার ঢাকায় এলে মঙ্গলবার সকালেই তাকে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসায় ইতোমধ্যেই ৮ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মুক্তামনি কী রোগে আক্রান্ত তা বুধবার (১২ জুলাই) নাগাদ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন বার্ন ইউনিটের সম্বন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। মঙ্গলবারই শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিরল এক রোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ বছরের মুক্তামনি এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি আছে। তার এক হাত ফুলে গিয়ে দেহের চেয়েও ভারী হয়ে গেছে। সাদা রঙের শত শত পোকা ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই ফুলে যাওয়া অংশে। চার বছর ধরে এই ‘বোঝা’ বয়ে বেড়াচ্ছে ছোট্ট শিশুটি। শরীরের অসহ্য ব্যথা ও যন্ত্রণায় খেলাধুলা তো দূরের কথা, ঠিকমতো বসতেও পারে না মুক্তামনি। স্কুলেও যাওয়া হয় না তার।
মুক্তামনি বার্ন ইউনিটে ভর্তি হওয়ার পর মঙ্গলবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুই বেডের একটি কেবিনের এক বেডে মুক্তামনি শুয়ে শুয়ে পরোটা দিয়ে ডাল খাচ্ছে। তার গায়ে একটি কাঁথা জড়ানো। কিছুক্ষণ আগে হাসপাতালে আসার ধকল পরিবারটি তখনও সামলে উঠতে পারেনি। মুক্তার সঙ্গে হাসপাতালে এসেছেন তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন, মা আছিয়া খাতুন, চাচা আহসান হাবীব, মুক্তামনির জমজ বোন হীরামনি ও দেড় বছর বয়সী ছোট ভাইটি। ‘পুরো পরিবার চলে এসেছেন’ বলতেই মুক্তামনির চাচা আহসান হাবীব বলেন, ‘এই পুরো পরিবারটি বিগত বছরগুলোতে মুক্তার পাশেই রয়েছে আপা।’
মুক্তামনি কবে থেকে এই রোগে আক্রান্ত জানতে চাইলে তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘জন্মের দেড় বছর পরপরই তার ডান হাতের কুনইয়ের উপরের অংশে চামড়ার নিচে এক ধরনের গোটা হয়।তখন থেকেই ডাক্তারদের কাছে ঘুরছি। প্রথমে সাতক্ষীরার এক চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি হাড়ে টিউমার হয়েছে বলে জানান। তার ওষুধ খাওয়ালে গোটা কমে যায়, আবার হয়। এরপর গেলাম সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে খুলনা হাসপাতাল। খুলনায় এক্সরে করার পর তারা বলে হাড়ে ইনফেকশন। ওষুধ খাওয়ার পরও কোনও উন্নতি না হওয়াতে যশোর যাই। সেখানে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ খাওয়ানোর পর চামড়ার নিচের গোটা আর দেখা যায় না। কিন্তু একমাস পর আবার গোটা দেখা গেলে ফের হাসপাতালে যাই। ঢাকা থেকে তখন একজন অর্থোপেডিকসের চিকিৎসক যান যশোরের মা ও শিশু হাসপাতালে। তিনি বলেন, ‘এই বাচ্চার বুকের নিচের হাড়ে গোটা, পিঠে গোটা, হাতে গোটা-অপারেশন কয় জায়গায় করব।’ ইব্রাহীম হোসেন বলেন, এই কয়েক বছরে ডাক্তারদের কী পরিমাণ অবহেলা যে আমদের দেখতে হয়েছে। যেখানে গেছি সেখানেই আমরা অবহেলিত হয়েছি।’ ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘আমার নিজের স্পাইনাল কর্ডের সমস্যা ছিল, কিন্তু মেয়েটার জন্যই হয়তো আল্লাহ আমাকে সুস্থ করেছেন।’ এসময় পাশ থেকে মুক্তামনি বলে ওঠে, ‘আব্বু যদি সুস্থ না হতো, তাহলে আমারে দেখতো কে?’
মুক্তামনিকে সাভারের সিআরপি, ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়ে গেছেন ইব্রাহীম হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা ঘুরে খুলনার আদদ্বীন হাসপাতালে গেলে সেখানকার একজন ডাক্তার বলেন, “বাচ্চার ক্যান্সার, বেশিদিন আয়ু নাই, ফাও ট্রিটমেন্ট করাইয়েন না।” তারপর থেকেই ডাক্তারদের কাছে যাওয়া বন্ধ করে দেই। কারণ, মেয়েটাকে নিয়ে ঘুরলে তারও খুব কষ্ট হতো। ভেবেছি, যে কটা দিন বাঁচে, মেয়েটা যেন কষ্ট না পায়। তারপর কতশত হোমিওপ্যাথি আর কবিরাজের ওষুধ খাইয়েছি, তার ঠিক নেই। কিন্তু এরই মধ্যে মেয়েটার হাতের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। বাসা বেঁধেছে পোকা। হাত শরীরের চেয়েও ভারী হয়ে উঠেছে।’
মেয়েকে এভাবে দেখে কী ভাবতেন জানতে চাইলে মু্ক্তামনির মা আছমা খাতুন বলেন, ‘এত বছর ধরে দেখতে দেখতে এখন আর কিছু মনে হয় না, এটা স্বাভাবিক বিষয় হয়ে গেছে।’ পাশে থাকা মুক্তামনির জমজ বোন হীরামনি বলে, ‘আমাদের টিভি ছিল না। কিন্তু বোনের সময় কাটে না, খালি কান্না করে- এজন্য আব্বু টিভি কিনে দিছে। ওর জন্য আমার খুব কষ্ট হয়, আপনারা আমার বোনটারে ভালো কইরা দেন।’
এদিকে, এতোগুলো বছর ধরে মুক্তামনি সঠিক চিকিৎসা পায়নি বলে বিস্ময় প্রকাশ করেন ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে এসেও একটি মেয়ে এভাবে চিকিৎসার অভাবে পড়ে আছে, এটা ভেবে আমি যারপরনাই বিস্মিত, এটা কী করে হতে পারে।’ মেয়েটির সুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘মুক্তামনি রক্তশূন্যতা ও পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তাকে রক্ত ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। তাকে অপারেশনের জন্যে উপযুক্ত করতে দুই-তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে আমরা হতাশ নই, দেখা যাক কী হয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্ব থেকে হতাশাজনকভাবে বিদায়। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতে শ্রীলঙ্কা খেয়েছে আরো বড় হোঁচট। ৩-২ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হেরে গেছে নিচের সারির দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। হতাশাজনক এই ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।

২০১৩ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছিল ম্যাথিউস। তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে অনেক স্মরণীয় সাফল্যও পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ে অন্যতম প্রধান ভূমিকা ছিল ম্যাথিউসের। গত বছর লঙ্কানরা অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশও করেছিল ম্যাথিউসের নেতৃত্বে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়টা মোটেও ভালো যায়নি ম্যাথিউসের শ্রীলঙ্কার। ভয়াবহ বাজে ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্ব থেকে। এর পর শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর হয়তো ম্যাথিউসও পড়ে গেছেন বেশ চাপের মুখে।

২০১৩ সাল থেকে ম্যাথিউস ছিলেন তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। এখন তিনি সরে দাঁড়ানোয় আবার নতুন করে অধিনায়ক নির্বাচন করতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। নতুন অধিনায়ক হিসেবে আসতে পারে উপুল থারাঙ্গা বা দিনেশ চান্দিমালের নাম। ম্যাথিউসের অনুপস্থিতিতে থারাঙ্গা কিছু ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন শ্রীলঙ্কাকে। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চান্দিমাল পালন করেছেন সহ-অধিনায়কের ভূমিকা। নতুন কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রঙ্গনা হেরাথকেও।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আপনি যদি দিনে তিন কাপ কফি পান করেন, তা আপনার আয়ু বাড়াবে। দশটি ইউরোপীয় দেশের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের ওপর চালানো এক গবেষণার ভিত্তিকে গবেষকরা এই দাবি করছেন।

একটি গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত (অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন) এই গবেষণায় বলা হয়, এক কাপ অতিরিক্ত কফি মানুষের আয়ু বাড়াতে পারে। এই কফি যদি ডিক্যাফিনেটেড বা ক্যাফিনবিহীনও হয়।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকরা বলেন, বেশি কফি পানের সঙ্গে মৃত্যু ঝুঁকি কমার, বিশেষ করে হৃদরোগ এবং পাকস্থলীর রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যার ডেভিড স্পিগেলহালটার বলছেন, যদি এই গবেষণা সঠিক হয়, তাহলে প্রতিদিন এক কাপ অতিরিক্ত কফির কাণে একজন পুরুষের আয়ু তিন মাস এবং একম মহিলার আয়ু এক মাস বেড়ে যেতে পারে।

তবে এই গবেষণার ব্যাপারে অনেকের প্রশ্ন আছে। তারা বলছেন, কফি মানুষের আয়ু বাড়াচ্ছে, নাকি কফি পানকারীদের জীবন প্রণালীর কারণে তারা বেশিদিন বাঁচছেন সেটা পরিস্কার নয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারত শাসিত কাশ্মীরের পুলিশ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-এ তৈয়বার এমন এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে, যে আসলে হিন্দু।

সন্দীপ শর্মা নামের ওই ব্যক্তি নিষিদ্ধ সংগঠনটিতে যুক্ত হয়ে ‘আদিল’ নাম নিয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বেশ কিছু প্রাণঘাতী হামলা, ব্যাংক লুঠ, নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্র ছিনতাই, জঙ্গিদের নিরাপদ জায়গায় পৌঁছিয়ে দেওয়ার মতো বেশ কিছু ঘটনায় এ হিন্দু ব্যক্তি জড়িত বলে পুলিশ দাবী করেছে।

লস্কর-এ তৈয়বার মতো সংগঠনে কোনও হিন্দু ব্যক্তির যুক্ত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ বিস্মিত।

ধৃত ব্যক্তিকে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করানো হয়েছিল।

কে এই হিন্দু জঙ্গী ‘আদিল’?

ধৃত সন্দীপ শর্মা উত্তর প্রদেশের মুজফফরনগরের বাসিন্দা। সে ২০১২ সালে কাশ্মীরে আসে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

কাশ্মীর রেঞ্জের পুলিশ মহানির্দেশক মুনির খান বলছেন, “সন্দীপ গরমের সময়ে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করত আর শীতে পাঞ্জাবের পাতিয়ালায় চলে যেত। পাঞ্জাবে কাজ করার সময়েই কুলগাম জেলার বাসিন্দা শাহিদ আহমেদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। তারপরে সে দক্ষিণ কাশ্মীরে এসে প্রথমে এটিএম মেশিন থেকে টাকা লুঠ এবং অন্যান্য অপরাধে সামিল হয়।”

খানের কথায়, “লস্কর-এ তৈয়বার কমান্ডার বশির আহমদ ওয়ানি বা বশির লস্করির গোষ্ঠীর সদস্য। এই গোষ্ঠীটিই কিছুদিন আগে দক্ষিণ কাশ্মীরে এক থানার ওসি সহ ৫ পুলিশ কর্মীকে হত্যা করেছিল।”

পরে গোষ্ঠীটির প্রধান বশির লস্করি পুলিশের সঙ্গে এক সংঘর্ষে মারা যায়।

পুলিশ বলছে, যে বাড়িতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বশির লস্করির মৃত্যু হয়, ধৃত সন্দীপ শর্মা সেখানেই ছিল।

সংঘর্ষের ঠিক আগে সন্দীপসহ ওই বাড়ির অন্যান্য লোকজনকে পুলিশ নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

কাশ্মীরের পুলিশ বলছে যাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।

জানতে চাওয়া হয় যে বাড়িতে লস্কর-এ তৈয়বা জঙ্গিরা ঘাঁটি গেড়েছে, সে বাড়িতে তারা কী করছিল।

এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি সন্দীপ। তখনই সন্দেহ তৈরি হয় পুলিশের।

পরে আরো জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সন্দীপ লস্কর-এ তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest