বিদায় লগ্নে ইন্দিরা গান্ধীর দৃষ্টান্ত তুলে নরেন্দ্র মোদীকে বার্তা দিয়ে গেলেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। আর দু’দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেবেন প্রণব। তার আগে সোমবার সংসদের সেন্ট্রাল হলে ছিল এমপিদের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনা।

সেখানে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর আবেগ, উদ্যম, সৌজন্য এবং উষ্ণতার প্রশংসা করার পাশাপাশিই মোদী জমানায় যেভাবে কোনও আলোচনা ছাড়াই বিল পাশ করানো বা সংসদকে এড়িয়ে অধ্যাদেশ আনা হয়, তারও সমালোচনা করলেন তিনি। এছাড়াও ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে মোদীকে গণতন্ত্রের বার্তাও দিলেন সুকৌশলে।

রাষ্ট্রপতি জানান, তার ‘মেন্টর’ ছিলেন ইন্দিরা। সত্য বলতে কখনও দ্বিধা করতেন না। জরুরি অবস্থার জেরে কংগ্রেসের হারের পরে লন্ডনে সাংবাদিকেরা ইন্দিরাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘জরুরি অবস্থা থেকে লাভ কী হল?’

ইন্দিরার জবাব ছিল, ‘এই ২১ মাসে ভারতের সব অংশের মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পেরেছি।’ জবাব শুনে প্রথমে নীরবতা, তার পর অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন সকলে। কেউ আর কোনও প্রশ্ন করেননি।

ওই দৃষ্টান্ত দিয়েই প্রণব মুখার্জি বলেন, ‘তখনই আমি শিখেছিলাম, নিজের ভুল স্বীকার করে তা শুধরে নিতে। অজুহাত দেওয়ার থেকে নিজেকে শুধরে নেওয়া সব সময় ভাল।’

বিদায়বেলায় প্রণবের এসব খোঁচা মোদীর উদ্দেশেই বলে ধারণা অনেক এমপির। কারণ, এর ঠিক আগেই উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি প্রণবকেই উদ্ধৃত করে বলেছেন ‘অসহিষ্ণু’ ভারতের কথা। ক’দিন আগেও তিনি প্রণবকেই উদ্ধৃত করে রাজ্যপাল প্রসঙ্গে ঘুরিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনা করেছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক আইন রূপায়ণের জন্য সনিয়া গান্ধীর প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রণব এ দিন বাজপেয়ী, আদভানি, বাম নেতাদের কথাও উল্লেখ করেন।

সেই সঙ্গেই জানান, একমাত্র বাধ্য না হলে আর্থিক বিষয়েও অধ্যাদেশ আনা উচিত নয়। আইন তৈরির জন্য যেভাবে সময় কমছে, তা ‘দুর্ভাগ্যজনক’। আলোচনা ছাড়াই আইন হচ্ছে। এতে মানুষের বিশ্বাসভঙ্গ করা হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। আনন্দবাজার পত্রিকা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদফতরের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা জানিয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশনা পেয়েছে।

ঢাকায় বাতাসের গতি দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার যা উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকায় ঘণ্টায় ২৫-৩৫ কিলোমিটার। সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৮ শতাংশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে একসঙ্গে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে দুজন শিশুও রয়েছেন। গতকাল রোববার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া থানার পুলিশ ওই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে আসার অভিযোগে ওই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরো জানায়, গত রোববার রাত ১০টার দিকে ধৃত বাংলাদেশিরা ভারত থেকে চোরাইপথে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

ভারতীয় পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে মুহাম্মদ রাজিন (২৩), আবুল হায়দার (১৮), ইয়াসিন শেখ (১৮) ও আসরাব বানুর (৩০) বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইল জেলায়। এ ছাড়া খাদিজা আখতার (২০) ও তানিয়া আখতার (২০) নামে খুলনা জেলার দুজন ও তানজিরা আলম (২৫) নামে যশোরের এক বাসিন্দা রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে তিন ও ছয় বছরের দুটি শিশু রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ১০ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলা করেছে পুলিশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্রবাহিনীর ক্ষমতা সর্বস্বীকৃত। তাদের রণশক্তিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ নামে একটি বিমানবাহী রণতরী যোগ করেছে দেশটি। এক লাখ টন ওজনের জাহাজটি এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় রণতরী।

স্থানীয় সময় শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতেই পানিতে ভাসানো হয় দৈত্যাকার এই রণতরী। এ সময় ট্রাম্প বলেন, ‘এই মাত্র বিশ্বের কাছে এক হাজার টন ওজনের বার্তা পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র।’

‘যেখান দিয়ে এই জাহাজ যাবে, সেখানে আমাদের বন্ধুরা নিশ্চিন্তে থাকবে। আর শত্রুরা ভয়ে কাঁপবে। কারণ, সবাই জানবে আমেরিকা আসছে এবং বেশ জোরালোভাবেই আসছে’, বলেন ট্রাম্প।

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রণতরীটিতে থাকছে বিশাল আকারের ডেক। সেটিতে রয়েছে তড়িৎচুম্বকীয় ব্যবস্থা। এর ফলে ডেক থেকে সহজেই উড়ে যেতে পারবে জঙ্গিবিমানগুলো।

তিনটি ফুটবল মাঠের সমান আকৃতির এই রণতরী নির্মাণ করেছে হানটিংটন ইনগালস ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের কাছে আরো তিনটি একই ধরনের রণতরী বানানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে থাকতে পারবে দুই হাজার ৬০০ নাবিক। এ ছাড়া ২৭টির বেশি জঙ্গিবিমান ধরবে রণতরীটিতে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ইসরায়েলের দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের প্রাচীন শহরে অবস্থিত মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থাপিত মেটাল ডিটেকটর সরানো হয়েছে। এর পরিবর্তে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।

স্থানীয় সময় সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইসরায়েলের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে সোমবার দিবাগত রাতে আল-আকসা মসজিদের পরিচালক শেখ নাজেহ বাকিরাত বলেন, শুধু মেটাল ডিটেকটর সরানোর মধ্য দিয়ে মুসলিমদের দাবি পূরণ হয়নি। মসজিদ প্রাঙ্গণে এখনো নিরাপত্তা ক্যামেরা রাখা হচ্ছে।

আল-আকসা মসজিদ পরিচালনা কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা শেখ রায়েদ সালেহ বলেন, ১৪ জুলাইয়ের পর নিরাপত্তার স্বার্থে যেসব উপকরণ স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো সরানোর আগপর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা ফিলিস্তিনিরা মেনে নেবে না।

‘এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি পরিষ্কার নয়, তারা মধ্যরাতে, আঁধারে বাদুড়ের মতো এই কাজ (মেটাল ডিটেকটর সরানো) করছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা কী দেখব, তা আল্লাহই ভালো জানেন’, যোগ করেন রায়েদ।

১৪ জুলাই, শুক্রবার আল-আকসা মসজিদের কাছে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের গুলিতে ইসরায়েলের দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন। এর পরই ইসরায়েল আল-আকসা প্রাঙ্গণে মেটাল ডিটেকটর বসায়।

এ নিয়ে গত সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে ফিলিস্তিনিদের। এতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

তালা ডেস্ক : ফেসবুকে অশ্লীল মন্তব্য করায় সাতক্ষীরার তালা থানায় তিন ব্যক্তির নামে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে।
সোমবার (২৪ জুলাই) রাতে তালা উপ-শরের বাসিন্দা সৈয়দ তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় মামলাটি করেন। তালা থানার মামলা নং ১১, তারিখ ২৪/০৭/২০১৭ ইং।
মামলার আসামীরা হলেন-তালা উপজেলার নলতা গ্রামের পঞ্চানন মন্ডলের ছেলে অরবিন্দু মন্ডল (৪৫), উপ-শহরের মহল্লাপাড়ার মীর খোকনের ছেলে মীর মাসুম ওরুফে বিকুল (৩০) ও একই পাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে মীর রাসেল (২৮)।
মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ১৫ জুলাই ২০১৭ তারিখে ‘মীর জাকিরের সমার্থক’ নামে ফেসবুকে আইডি থেকে সমাজে তাকে (তরিকুল) হেয়প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন ধরণের অশ্বীল মন্তব্য করা হয়। যাহা হলো-‘দুর্নীতিবাজ সৈয়দ তরিকুল এবার তালা উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু সনৎ কুমারকে জড়িয়ে মিথ্যা ভাবে ফাঁসাচ্ছে। এসময় মীর মাসুম ওরুফে বিকুলের আইডি থেকে বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে নানা কূৎসা রটিয়েছে।
একই উদ্দেশ্যে ১৬ জুলাই অরবিন্দু মন্ডল তার নিজ আইডি থেকে লেখেন-‘এই সেই চেটার। যে উপজেলা চেয়ারম্যানের নামে মিথ্যা প্রচার করছে। আর যারা এই তরিকুল চেটারকে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা, মদ, ফেন্সিডিল ও নানাভাবে অসামাজিক করিয়েছে।’
একই উদ্দেশ্যে ১৭ জুলাই মীর রাসেল তার নিজ আইডি থেকে লেখেন-‘যে লাদেনকে অনুসরণ করে বিভিন্ন স্থান থেকে নিজের দক্ষ মনোবল দ্বারা নির্মিত মিথ্যা বানোয়াট গল্প তৈরি এবং সেটা ভিডিও তৈরি করে জাতির উদ্দ্যেশে পাঠাচ্ছে। আমার জানামতে লাদের নাকি বিভিন্ন গুহাতে আত্মগোপন করেছিল। কিন্তু বর্তমানে লাদেনে বেশি তরিকুল কোথায় অবস্থান করছে জাতি জানতে চাই। তার অপরুপসৌন্দর্যপূর্ন রুপটি জাতি দেখতে চায়। এই ছন্দবেশি লাদেনের আগমনের জন্য অপেক্ষাতে আছে তালাবাসি।’
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ফেসবুকে অশ্বীল মন্তব্য (কমেন্ট) করায় তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে তিন জনের নামে মামলাটি করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এম.শাহীন গোলদার : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের ৫১ জন নেতা-কর্মীসহ ৭৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ১৩০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার বিকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার হয় ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে-সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুস সোবহান মুকুল, কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মুজাহিদ আলী, সেক্রেটারি আব্দুল ওহাব, কালিগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়নব, আশাশুনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম সহ ৫১ জন নেতা-কর্মী রয়েছে।
তারা সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলামের জানাযা নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ গ্রেফতার করে।
ওই ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিটিভির জেলা প্রতিনিধি মোজাফফর রহমান এবং বাংলাভিশন টিভি চ্যানেলের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান থানায় গেলে পুলিশ তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ৬২ জন,কলারোয়া থানা ০৫ জন, তালা থানা ০৪ জন, কালিগঞ্জ থানা ০২ জন, শ্যামনগর থানা ০২ জন, আশাশুনি থানা ০২ জন, দেবহাটা থানা ০১ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ০১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

‘বঙ্গবন্ধুর ছবিকে যথাযথ মর্যাদায় প্রকাশ করা হয়নি’ এবং ‘ছবির বিকৃতি হয়েছে’ এমন অভিযোগে আদালতে দাঁড় করানো হয়েছে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। আত্মসমর্পণের পর আদালত প্রথমে জামিন নামঞ্জুর করেছেন, এরপর একই আদালত আবার খাস কামরায় বসে জামিন আবেদনে সাক্ষর করেছেন। মামলা দায়েরকারী ব্যক্তিটি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহ সাজু। এতখানি জানা গিয়েছিল প্রথমে।
প্রাথমিক তথ্যে সচেতন মানুষজন তাদের ক্ষোভ, প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে; হয়রানির প্রতিবাদ করেছে। এবং এ প্রতিবাদ পৌঁছেছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়েও। সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছেন, ক্ষোভ সৃষ্টি হয় বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাতেও। একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা মামলাকে আমলে নিতে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।
প্রাথমিক তথ্য-প্রাপ্তির পর সকলের ক্ষোভ ছিল মামলা দায়েরকারী ওবায়েদুল্লাহ সাজুর বিরুদ্ধে, এবং এটাই স্বাভাবিক ছিল। পরবর্তীতে একে একে উঠে আসে ভয়াবহ চিত্র। পরিষ্কার হয়ে যায় এ হয়রানির নেপথ্যে ছিল দীর্ঘ প্রক্রিয়া, এবং সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার তৎকালীন এবং বর্তমান বরগুনা সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। দৃশ্যপটে এক আওয়ামী লীগ ও আইনজীবী নেতা আসলেও নেপথ্যে ছিল অনেকেই।
তার বিরুদ্ধে কেন এত ক্ষোভ তারিক সালমনের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে কিছুটা আন্দাজ করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘আমি আট মাস বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় কর্মরত ছিলাম। এসময় আমাকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যাতে সঠিকভাবে যথাযথভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্যে আমি তৎপর ছিলাম। কঠোর অবস্থানে ছিলাম। আমি সেখানকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। আমি অবৈধ স্থাপনা করতে দেইনি আমি যতদিন সেখানে ছিলাম। এসব কারণে সেখানকার প্রভাবশালীরা আমার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিল। আমার অনুমান, তারা আমাকে হয়রানি করার জন্য বাদীকে দিয়ে এই মামলাটি করিয়েছে।’
তারিক সালমনকে আগৈলঝাড়া থেকে বরগুনা সদরে বদলি করা হয়েছিল। বিক্ষুব্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের কারণে তাকে যে বদলি করা হয়েছিল সেটা ভালোভাবেই অনুমান করা যায়। বদলির পর জুনের ৪ তারিখে স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত সবকটি পত্রিকার রিপোর্টের ভাষা ছিল একই রকম। শিরোনামটি ছিল ‘বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতকারী সেই ইউএনও অবশেষে বদলি’। এ খবরের প্রতিবাদ তিনি সকল পত্রিকায় পাঠালেও তারা সেটা প্রকাশ করেনি বলে জানিয়েছেন ইউএনও তারিক সালমন।
হয়রানির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সেরা ছবিকে উপজেলা প্রশাসন ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আমন্ত্রণ পত্র প্রকাশ করে, আর সেখান থেকেই অভিযোগ তোলা হয় ছবি যথাযথ মর্যাদায় প্রকাশ করা হয়নি এবং বিকৃতি হয়েছে। ৩ এপ্রিল বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) গাজী মো. সাইফুজ্জামান ইউএনওকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেন, ইউএনও উত্তরও দেন। এই উত্তরকে আবার ‘সন্তোষজনক নয়’ বলে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সচিবকে লিখিতভাবে জানান বরিশালের তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)। ওই চিঠিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। দাপ্তরিক এ চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকেও।
বিভাগীয় কমিশনারের এমন চিঠির পর ৪ জুন বরগুনা সদরে বদলি করা হয় ইউএনও গাজী তারিক সালমনকে। প্রশাসনিক সকল ব্যবস্থা গ্রহণের পর ৭ জুন মামলা করেন বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক (বর্তমানে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত) সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহ সাজু। অভিযোগ আমলে নিয়ে চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক আলী হোসাইন ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের আদেশ দেন। এরপর ১৯ জুলাই ইউএনও আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলেও প্রথমে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠান বিচারক, এবং এর ঘণ্টাদু’য়েকের মধ্যে খাস কামরায় বসে জামিন দেন তিনি।
এখানে উল্লেখের দরকার একজন ইউএনওর বিরুদ্ধে এত প্রশাসনিক কার্যপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো, শাস্তিমূলক বদলিও হলো কিন্তু সরকার সেটা জানত না তা অবিশ্বাস্যই ঠেকে। কারণ, ১৮ এপ্রিল মানে ৩ মাস আগে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে কারণ দর্শানোর জবাবে বিভাগীয় কমিশনারের চিঠি গিয়েছিল; একই সঙ্গে অনুলিপি গিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও। শেখ হাসিনা ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মন্ত্রণালয়গুলো ৩ মাস আগে থেকেই জানত ইউএনওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এবং ধারাবাহিকতা। অথচ কী আশ্চর্য তাদের মন্ত্রণালয়গুলো কোন ব্যবস্থা নেয়নি, ওটা আটকায়নি। উলটো ৪ জুন ইউএনওকে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সচিবকে চিঠি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে অনুলিপি দেওয়া বিভাগীয় কমিশনারের সেই চিঠিটাকে স্রেফ চিঠি হিসেবেই দেখা সম্ভব হত যদি না ইউএনও-কে বদলি করা হতো। কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ ওঠার পর বদলিকে স্বাভাবিক বদলি হিসেবে দেখার সুযোগ নাই। ওটা নিশ্চিতভাবেই ছিল শাস্তিমূলক বদলি। ৪ জুন থেকে বরগুনা সদরে বদলি হন ইউএনও তারিক সালমন।
এখানেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আছে। আর অধীনস্থ মন্ত্রণালয়ে কী হচ্ছে না হচ্ছে এসব সম্পর্কে যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীগণ অবগত না থাকেন তাহলে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কিছু হতে পারে না।
এখন হয়ত অনেকেই বলতে চাইবে তারা এত ব্যস্ত সবকিছু দেখার সুযোগ কোথায়, কিন্তু ব্যস্ততা দায়িত্ব আর দায় এড়িয়ে যাওয়ার অজুহাত হতে পারে না। বসকেই তার অধীনস্থদের দায়িত্ব নিতেই হয়, আর এটাই স্বাভাবিক। এখানে যেমন আমরা একজন বিচারকের ভুল বিচারের জন্যে দায় দিচ্ছি প্রধান বিচারপতিকে, এটা যৌক্তিক; এবং একইভাবে ওই যৌক্তিকতার আওতায় কি মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীও পড়েন না?
ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পর ক্ষোভ প্রতিবাদ সকল কিছুই ছিল মামলাকারী আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রীও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এনিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর বিস্ময় এবং দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পর বিস্ময়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে আছেন অনেকেই, অথচ বিস্ময় ত এত হেনস্থার পর হতে পারে না। কারণ মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত সকল কিছুই জানার কথা। তার মন্ত্রণালয় যে সেটা জানে সে প্রমাণও আছে। তাহলে বিলম্বিত বিস্ময়ে বুঁদ হয়ে থাকার চাইতে সমন্বয়হীন প্রশাসনের পালে লাগাম টানার দাবি জানানো জরুরি।
সাম্প্রতিক বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ কিংবা লীগ নামধারী কেউ কিছু করলেই দলের উচ্চ পর্যায় থেকে ‘হাইব্রিড’, ‘কাউয়া’, ‘নব্যলীগার’, ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে কতক শব্দ ভেসে আসে। এটা যে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা সেও প্রমাণিত। কারণ এ শব্দগুলো যাদের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে চলেছে সে তাদেরকেই উচ্চস্থান দিয়েছে খোদ আওয়ামী লীগ। দল, সংসদ ও সরকার সকল স্থানেই দলবদলে আওয়ামী লীগে এসে তরী ভেড়ানো অনেকেই আছে। সেক্ষেত্রে অনুপ্রবেশকারী, হাইব্রিড শব্দপ্রয়োগ যে স্রেফ তামাশা এক- সে বলার অপেক্ষা রাখে না।
শেষ পর্যন্ত তারিক সালমনের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক এ মামলা প্রত্যাহার হয়েছে, এটা ইতিবাচক খবর।
হয়রানির এ সময়ে দেশের বেশিরভাগ লোকই প্রতিবাদ করেছে। কিছু লোক আবার প্রধানমন্ত্রীর বিস্ময়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে, তাদের কাছে হয়রানির চাইতে দলপ্রধানের বিস্ময়ের মূল্য ছিল বেশি। এই প্রতিবাদ আর স্তুতিবাক্যের আড়ালে পড়ে গেছে প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার করুণ চিত্র। এক তারিক সালমন না হয় শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছেন, কিন্তু অন্য সালমনদের রক্ষাকল্পে রাষ্ট্র-সরকার কতখানি সক্ষম ও সচেতন সে নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।
সমস্যার মূলে হাত দিন। সমাধান করতে না পারলে অনেকভাবেই অন্য তারিক সালমনেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকবে। সময় যখন প্রতিবাদ, আবেগপ্রকাশ, টেলিফোন, দুঃখপ্রকাশের পালায় আবর্তিত; তখন প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার করুণ চিত্র অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে স্তুতিবাক্যের আড়ালে! অথচ এ আলোচনাটা জোরালো হয়ে ওঠার দরকার ছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest