সর্বশেষ সংবাদ-
কালিগঞ্জে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ- ২০ লাখ টাকার ক্ষতিসাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনের সুস্থতা কামনায় প্রেসক্লাবের বিবৃতিচ্যানেল ওয়ানে জাকিরের নিয়োগ : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দনসাতক্ষীরা’র শ্যামনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষে আহত ১৪কালিগঞ্জে বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখল ও লুটপাটের অভিযোগসাতক্ষীরার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনসাতক্ষীরায় মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল খাতে জ্ঞান বিনিময়-কৌশলগত সহযোগিতার সেমিনারসাতক্ষীরায় জলবায়ু সহনশীলতায় নারী নেতৃত্বের ভূমিকা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালাশ্যামনগরে সুপেয় পানির সংকট তুলে ধরতে দৌড়ে অংশ নিল ২ শতাধিক মানুষসাতক্ষীরায় হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন’র উদ্বোধন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মেকানিক পদে ২১৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

যোগ্যতা
মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় পাস করা প্রার্থীরা এ পদে আবেদন করতে পারবেন। মেকানিক পদে সংশ্লিষ্ট কাজে এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে মাগুরা, নড়াইল, কুমিল্লা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।

আবেদনের বয়স
আবেদনকারীদের বয়স ৩০ জুন-২০১৭ পর্যন্ত ১৮-৩০ বছর হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য বয়সসীমা ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

আবেদন প্রক্রিয়া
আগ্রহী প্রার্থীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (http://dphe.gov.bd/) গিয়ে আবেদনপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। তা পূরণ করে প্রকল্প পরিচালকের (সদস্য সচিব) কার্যালয় থানা সদর ও গ্রোথ সেন্টারে অবস্থিত পৌরসভাগুলোয় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ও এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প, সপ্তম তলা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ১৪ শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০ বরাবর সরাসরি বা ডাকযোগে আবেদনপত্র অফিস চলাকালীন প্রেরণ করতে হবে। আবেদনপত্র সরাসরি পৌঁছানোর শেষ তারিখ ১৭ আগস্ট-২০১৭ পর্যন্ত।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি দেখুন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে আসা (ব্রেক্সিট) নিয়ে আয়োজিত মুক্ত আলোচনায় বর্ণবাদী মন্তব্য করায় ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) অ্যানি মেরি মরিসকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে লন্ডনভিত্তিক নীতি-গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পলিটেইয়া’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্তব্যের জন্য মরিসকে বহিষ্কার করা হয়।

যুক্তরাজ্যের নিউটন অ্যাবটন সংসদীয় এলাকার এমপি অ্যানি মরিস। তাঁকে কখন বহিষ্কার করা হয়েছে, তা জানা যায়নি।

পলিটেইয়ার আলোচনায় ব্রেক্সিটের পক্ষে গণভোটের পর দুই বছর হতে চললেও ইইউর সঙ্গে এখনো কোনো চুক্তি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মরিস। এ সময় তিনি বর্ণবাদী একটি প্রবাদ (নিগার ইন দ্য উডপাইল তথা কাঠের স্তূপে নিগ্রো) ব্যবহার করেন। আর এর জেরেই বহিষ্কার করা হয় তাঁকে।

আলোচনায় মরিস বলেন, মাত্র ৭ শতাংশ অর্থনৈতিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে ব্রেক্সিটের প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, অনেকেই আমার এ কথাকে চ্যালেঞ্জ করবেন। তাঁদের কাছে অনুরোধ হলো, আপনারা এ বিষয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখবেন। এটা হতাশ হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়।’

এর কিছুক্ষণ পর ক্ষোভ প্রকাশ করে মরিস বলেন, ব্রেক্সিটের দুই বছর হয়ে গেলেও এখনো এ নিয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। এটা অনেকটা ‘কাঠে লুকানো নিগ্রোদের’ (নিগার ইন দ্য উড) মতো।

‘নিগার ইন দ্য উড’ প্রবাদটি ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের বোঝাতে ব্যবহার করা হতো। এই প্রবাদ ব্যবহারের পর থেকেই মরিসকে বহিষ্কারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মেকে চাপ দেন বিরোধীরা। এর পরপরই কনজারভেটিভ পার্টির এক চিঠিতে অ্যানিকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মরিস বিবিসিকে বলেন, ‘এই মন্তব্য সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। এই অপরাধের জন্য আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি।’

বহিষ্কারের ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী টেরিজা বলেন, ‘আমি তাঁর এ বক্তব্য শুনে মর্মাহত। এ ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি চিফ হুইপকে তাৎক্ষণিকভাবে ওই সদস্যকে বরখাস্ত করতে বলেছি। রাজনীতিতে এ ধরনের মন্তব্যের কোনো জায়গা নেই, এমনকি আজকের সমাজেও নয়।’

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রিন পার্টির নেতা করোলিন লুকাস অ্যানিকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে বলেন, ‘হাউস অব কমন্সে তাঁর কোনো জায়গা নেই।’

লেবার পার্টির এমপি চুকা উমিন বলেন, তিনি নির্বাক। মরিসের এ আচরণ খুবই হতাশাজনক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ এ পৌঁছেছে। কিন্তু এখনও মানুষ ১০০ বছর বেঁচে থাকার চিন্তা করতে পারে না। এক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি যদি জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনা যায়, তাহলে দীর্ঘজীবন একেবারে হাতের মুঠোয় এসে যায়।

এছাড়াও আয়ু বাড়ানোর জন্য আরও যে সকল কাজ করতে হবে, তা নিয়ে আমাদের আজকের এই আলোচনা-

১. কম বয়সী মায়ের শরীর থেকে জন্ম নিলে আয়ু বাড়ে। শুনতে একটু অন্য রকম লাগলেও, বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে এই ধরণা একেবারেই ভুল নয়। আসলে ২৫ বছর বা তার কম বয়সী মায়ের শরীরে যাদের জন্ম হয়, তাদের আয়ু সাধারণত ১০০ বছর হয়েই থাকে। সেই কারণে দেখবেন আগেকার দিনে মানুষেরা সুস্থ শরীরে অনেক দিন পর্যন্ত বাঁচতেন। কারণ সে সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে এবং বাচ্চা প্রসব হয়ে যেত। এখন পরিস্থিতি একেবারে বদলে গেছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনের কর্মরত হওয়ার কারণে পরিবার পরিকল্পনায় অনেক ক্ষেত্রেই দেরি করে ফেলছে। ফলে প্রসবের সময় মায়ের জীবনহানীর আশঙ্কা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাচ্চাও একাধিক শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্ম নিচ্ছে।

২. গ্রিন টি এবং কালো চায়ে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ক্যাটাচিন নামে একটি উপাদান। এটি হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে সারা শরীরে রক্ত প্রবাহ যাতে ঠিক মতো হতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে সার্বিকভাবে শরীরের উন্নতি ঘটে। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু বছর আগে হওয়া একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল দিনে এক কাপ লাল চা অথবা গ্রিন টি খেলে আয়ু চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পায়। এবার বুঝেছেন তো ব্রিটিশ, জাপানি এবং ভারতীয়দের গড় আয়ু বাকিদের থেকে কেন বেশি হয়!

৩. যারা প্রতিদিন কম করে ৩০ মিনিট হাঁটেন তাদের আয়ু প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পায়, এমনই দাবি করে থাকেন চিকিৎসকেরা। হাঁটার সময় হার্টে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়, ফলে স্বাভাবিকভাবেই হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। আর হার্ট ঠিক মতো দৌড়াবে তো সুস্থ শরীর এবং আয়ু বৃদ্ধি নিয়ে কোনও চিন্তাই থাকবে না।

৪. ১৪-২১, এই বয়সেই শরীরের বেশি করে খেয়াল রাখতে হবে। আর কেউ যদি এমনটা না করেন তাহলেই কিন্তু বিপদ! যেমন ধরুন ১৪ পার হতে না হতেই যদি কেউ ওজন বৃদ্ধি করে ফেলে তাহলে আগামী সময়ে গিয়ে টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়তে থাকে। তাই যৌবনে শরীর যত তরতাজা এবং চনমনে থাকবে, পরবর্তী জীবনে তাত বেশি সুফল পাওয়া যাবে।

৫. জাম খান বেশি করে। কারণ, এই ফলে রয়েছে পনিফেনালস নামে একটি উপাদান, যা হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তির রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে অ্যালঝাইমারসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমায়। ফলে সুস্থ এবং দীর্ঘ জীবনের পথ প্রশস্ত হয়।

৬. কেস স্টাডি করে দেখা গেছে যারা কম করে ১২ বছর আনন্দের সঙ্গে স্কুল এবং কলেজ লাইফ কাটিয়েছেন তাদের আয়ু বাকিদের থেকে বেশি হয়। কেন এমনটা হয় জানেন? আসলে স্কুল বা কলেজ আমাদের শুধু শিক্ষিত করে তোলে না, সেই সঙ্গে অনেক বিষয়ে সচেতনও করে। তাই তো জীবন সম্পর্কে ধারণাটা স্পষ্ট হয়ে যায়। সেই সঙ্গে শরীরে পক্ষে কী খারাপ এবং কী ভাল সে বিষয়েও জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ মেলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ জীবনের পরিধি বাড়তে থাকে।

৭. শুনতে অবাস্তব লাগলেও বিজ্ঞান প্রমাণ করে ছেড়েছে যে যারা প্রতিদিন কাপড় কাচা, ঘর মোছা এবং রান্না করার মতো কাজগুলি করে থাকেন তাদের আয়ু বৃদ্ধি পায়। কারণ এই কাজগুলি করার সময় শরীর এবং মস্তিষ্কের সচলতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে প্রায় ৩০০ ক্যালরি বার্ন হয়। ফলে কম বয়সে মৃত্যুর আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

যশোরের কেশবপুরে সানতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফুটবল খেলতে চাওয়ায় ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ সরকারের বিরুদ্ধে শ্রেণীকক্ষে আটকে ৬ শিক্ষার্থীকে নগ্ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত রোববার এ ঘটনা ঘটে। এঘটনার পরে গত সোমবার ওই ৬ শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে না চাইলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

এঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লক্ষণ কুমার হালদারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন ও এর জন্য ৭২ ঘণ্টার ‘আল্টিমেটাম’ দেন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রভাত কুমার রায় গতকাল মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মৌখিক নির্দেশে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে আড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযয়ে বদলি করেন।

অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ সরকার জানান, এ প্রসঙ্গে তার কিছু বলার নেই।

অভিভাবক সদস্য জালাল উদ্দীন বিশ্বাস জানান, ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ফুটবল খেলার জন্য বল আনতে যায় প্রধান শিক্ষকের কাছে। এ সময় তিনি তাদের হাতে বল না দিয়ে শিশু শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বল খেলতে দেন।

এরপরও তারা বল খেলতে চাইলে এক পর্যায়ে ওই প্রধান শিক্ষক ৬ শিক্ষার্থীকে একটি শ্রেণীকক্ষে ডেকে প্যান্ট খুলে নগ্ন হতে বলেন।

শিক্ষার্থীরা প্রথমে অপারগতা প্রকাশ করলেও পরে প্রধান শিক্ষকের হুকুমে বাধ্য হয় নগ্ন হতে। শিশু শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী জানালার ফাঁক দিয়ে এ দৃশ্য দেখে ও ঘটনার কথা জানায়। এতে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন।

অভিভাবক হাসান আলী জানান, ওই প্রধান শিক্ষক কোনো শিক্ষার্থীকে স্কুলের টয়লেট ব্যবহার করতে দেন না। কারও বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হলে সেই শিক্ষার্থীকে সরাসরি বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হতো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সপরিবার গত পরশু রাতে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার খেয়ে বাসায় ফিরছিলেন তামিম ইকবাল। ঠিক তখনই কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করে। এসময় তাঁরা দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে বেঁচেছেন। এ ঘটনার পর আতঙ্কিত তামিম কাল রাতেই লন্ডন থেকে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে দেশের বিমান ধরেছেন।

এসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে ৮-৯টি ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনার ফিরছেন মাত্র এক ম্যাচ খেলেই। স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ও পুত্র আরহাম ইকবাল খানকে নিয়ে ৭ জুলাই ইংল্যান্ডে যান তামিম। দেশে ফেরার কথা ছিল আগামী মাসের শুরুতে।

জানা গেছে, পরিবার নিয়ে থাকার জন্য লন্ডনে এক মাসের জন্য একটি বাসাও ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। পরশুর ঘটনাটা লন্ডনের ঠিক কোন জায়গায় ঘটেছে, সেটি কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও বিসিবির একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড পরিচালক বলেন, ‘তামিম ও তার পরিবারকে ধাওয়া করেছিল কয়েকজন লোক। দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ায় তাদের কিছু হয়নি। এ ঘটনার পরই তামিম দেশে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।’ আক্রমণকারীদের হাতে অ্যাসিড ছিল বলেও শুনেছেন তিনি।

বিসিবির দায়িত্বশীল এই কর্মকর্তার ধারণা, ‘তামিমের স্ত্রী মাথায় হিজাব পরেন। হয়তো সে কারণেই তাঁদের টার্গেট করা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তামিমকে পাওয়া যায়নি।

এর আগে কাল বিকেলে কাউন্টি ক্লাব এসেক্স তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ব্যক্তিগত’ কারণে তামিম ক্লাব ছেড়ে যাচ্ছেন। বিবৃতিতে ইংলিশ কাউন্টির ক্লাবটি আরও লিখেছে, ‘আমরা তার মঙ্গল কামনা করছি। এই সময়ে তামিমের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি সম্মান জানালে আমরা খুশি হব।’

দেশে ফেরার ‘ব্যক্তিগত’ কারণটা কী, জানতে চাইলে তামিমের বড় ভাই নাফিস ইকবাল ও চাচা আকরাম খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মুঠোফোনে দুজনই বলেছেন, তামিম নিজেই দেশে ফিরে এসে কারণ জানাবেন। এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরীও।

বেশ কিছুদিন ধরেই ইংল্যান্ডের রাস্তাঘাটে ভিন্ন মত ও বর্ণের মানুষের ওপর কে বা কারা অ্যাসিড ছুড়ে মারছে। বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, গত ২১ জুন ইস্ট লন্ডনের বেকটনে রেশম খান ও জামিল মুক্তার নামে দুজনের ওপর এ রকম আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া পথচলতি মানুষের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়াসহ অন্যান্য আক্রমণের ঘটনা তো ঘটছেই। তামিমের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগে এসব নিয়ে চিন্তিত ছিলেন তিনি।

ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে আগামীকাল তামিম ইকবালের দলের পরের ম্যাচ সমারসেটের বিপক্ষে। এসেক্সের হয়ে গত রোববার কেন্টের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচটি খেলে এক ছক্কাসহ ৭ রান করেছেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতমাসে বলেছেন, গো-রক্ষার নাম করে মানুষ হত্যা “গ্রহণযোগ্য নয়”।

এই মন্তব্যের ঘণ্টা-খানেক পরেই একজন মুসলিম ব্যক্তি জনতার হাতে নিহত হন। তার বিরুদ্ধে গাড়িতে গরুর মাংস বহনের অভিযোগ তুলে তাকে হত্যা করা হয়।

মিস্টার মোদীর হিন্দুত্ব-বাদী বিজেপি সরকারের সময়ে গরু জবাইকে কেন্দ্র করে বিভক্তি চরম আকার নিয়েছে। গরু বিক্রি এবং জবাইর ক্ষেত্রে কড়াকড়ির ফলে বিভ্রান্তি এবং উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে।

ভারতে উত্তেজিত জনতার হাতে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বহু মানুষকে বিরক্ত করেছে।

অনেক এলাকায় বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে হিন্দু জনতার হাতে মুসলিম নাগরিকের হত্যার ঘটনা ঘটেছে। একটি এলাকায় দুই ধর্মে বিশ্বাসী এক দম্পতিকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

বিভিন্ন পরিসংখ্যানে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, এ ধরনের জাতিগত বিদ্বেষের ঘটনা বেড়েছে মিস্টার মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে।

দলটির প্রধান অমিত শাহ এ ধরনের অভিযোগ অবশ্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কংগ্রেস সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এ ধরনের হত্যার ঘটনা আরও বেশি ঘটেছে।

‘পিটিয়ে হত্যার শাসন’

যখন একজন সুপরিচিত সাংবাদিক মন্তব্য করেছেন ভারত এমন অবস্থার দিকে যাচ্ছে যেন সেখানে ‘পিটিয়ে হত্যার শাসন’ চলছে।

সমালোচকরা সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতে থাকেন যে, ভারতে বহুদিন ধরেই উত্তেজিত জনতা এবং ধর্মীয় সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে।

উদারপন্থীরা সাম্প্রতিক এসব হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে অতিরিক্ত বাড়িয়ে বলছেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।

বিজেপির একজন সংসদ সদস্য এবং কলামিস্ট লিখেছেন, “ভারতের সামাজিক সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সহিংসতা বিরাজমান ছিল এবং স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিক সহিংসতার ক্ষেত্রে উত্তেজিত জনতার সহিংসতা তার মাত্রা বাড়িয়েছে কোনও লক্ষ্য অর্জনে কিংবা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে” ।
‘সহিংসতা চালানো হচ্ছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় এবং উন্মত্তভাবে’

ভারতের অন্যতম বিখ্যাত একজন ঐতিহাসিক সঞ্জয় সুব্রাহমানিয়ামকে ভারতের সহিংসতার সংস্কৃতি নিয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, এটা তিনভাবে পরিলক্ষিত হবে। জাতিগত বা ধর্মীয় দাঙ্গা, উত্তেজিত জনতার দ্বারা সহিংসতা এবং সামাজিক রীতি রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ড।

এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী সংখ্যালঘুদের টার্গেট করছে। আর এই সহিংসতা ঘটছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় এবং তা সংঘটিত করা হচ্ছে উন্মত্তভাবে”।

ডক্টর সু্ব্রাহমানিয়াম বলেন, “চোর কিংবা ডাকাত অথবা কখনো কখনো গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটলে জনতা জড়ো হয় এবং চালককে মারতে থাকে। আইন প্রয়োগের দুর্বলতার কারণে এটা ঘটে।

তিনি বলেন, “আমি ধারনা করি যদিও প্রমাণ করা সম্ভব নয় যে, এই উত্তেজিত জনতা বিকারগ্রস্ত। তারা তাদের হাতে হঠাৎ পাওয়া ক্ষমতাকে উপভোগ করে। আমি বিশ্বাস করিনা যে, কোনও মানসিকভাবে সুস্থ মানুষ এধরনের উত্তেজিত জনতার কাতারে থাকতে পারেন”।

তবে তৃতীয় যে ধরনের অপরাধ ঘটছে সেটাই বর্তমানে ভারতের বহু মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

এই ইতিহাস বিশ্লেষক বলেন, “তৃতীয় যে ধরনটি দেখা যাচ্ছে সেখানে একদল মানুষ বিশ্বাস করছে কিছু সামাজিক রীতি-নীতি যে কোনমূল্যে রক্ষা করতে হবে। এমনকি যদি তা আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তবুও। এইসব মানুষেরা জানেন যে, যা করছেন তা বেআইনি কিন্তু সেটাকেই তারা সঠিক বলে মনে করছেন”।
“ভারতে যেটা ঘটছে সেটা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং অনেক রাজ্যের সরকার এসব ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে আছে অথবা তাদের সমর্থন করছে”।

আর এর ফলে আইনকে অবমাননা করা হচ্ছে সরাসরি, তিনি যোগ করেন।

‘এই সহিংসতা বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন’

ডক্টর সুব্রাহমানিয়াম বলেন, এই ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন কারণ এগুলো ‘বিক্ষিপ্ত এবং বিশৃঙ্খল’। আইনের প্রতি সামাজিকভাবে আস্থা বাড়ানো গেলে এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে তবেই তা বন্ধ করা সম্ভব।

তার মতে, এই সহিংসতা ঠেকাতে হলে কঠোর আইন প্রয়োগ, দায়ীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এগুলো রীতি-মাফিক সহিংসতার ঘটনা ফলে যারা বা যে সংগঠনগুলো এগুলো ঘটাচ্ছে তাদের দিকে নজরদারি চালালে তা ঠেকানো সম্ভব।

“কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এদের যারা রক্ষাকর্তা হিসেবে মাঠে নেমেছে তাদের পাহারা দেবে কে?”

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারতে গবাদি পশুর পাইকারি বাজারে মাংসের জন্য গরু-মোষ বিক্রিতে সরকার যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, দেশের সুপ্রিম কোর্ট তার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে অন্তত আগামী তিন মাসের জন্য গোটা ভারতে আবার আগের মতোই বাজারে গবাদি পশু কেনাবেচা করা যাবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে আপাতত স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছেন হাজার হাজার ব্যবসায়ী – গবাদি পশুর মাংস বেচেই যাদের দিন চলে।

সরকারকে রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলে আদালত আরও জানিয়েছে, মানুষের জীবন-জীবিকাকে হঠাৎ করে এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া যায় না।

ভারতে পশুর মাংস বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে মুসলিমরাই বেশি জড়িত।

ভারতে হিন্দুদের কাছে গরু অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত এবং অনেক রাজ্যেই গরু জবাই নিষিদ্ধ। কিন্তু এই প্রথম গরুর পাশাপাশি মহিষ জবাই করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

ভারতের মাংসের বেশিরভাগ আসে গরু থেকে নয়, মহিষ থেকে। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাংস রফতানিকারক দেশ।

এই মামলার রায়ে প্রধান বিচারপতি জগদীশ সিং খেকার বলেছেন, সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে মানুষের জীবিকা বিপন্ন হওয়া উচিৎ নয়।

ভারতের একটি মুসলিম সংগঠন ‘মুসলিম অল ইন্ডিয়া জামিয়াতুল কোরেশ একশন কমিটি’ আদালতের রায়কে তাদের বিজয় বলে বর্ণনা করেছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি জয়লাভ করার পর ভারতের বহু রাজ্য গরু জবাই নিষিদ্ধ করতে শুরু করে।

গুজরাটে গরু জবাই করলে শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান করে আইন করা হয় গত মার্চ মাসে। এর পাশাপাশি গরু জবাই করেছে এমন সন্দেহে মুসলিমদের ওপর বিভিন্ন রাজ্যে হামলা শুরু হয়।।

স্বঘোষিত গো রক্ষা কমিটির সদস্যরা গরু জবাই করার মিথ্যে গুজবের ভিত্তিতে বেশ কিছু মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র-বরাক নদীর উপত্যকায় প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে।

এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

আর এই পানি ভাটিতে নেমে আসার পর বাংলাদেশের উত্তর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে প্রবল বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আসামের সংবাদমাধ্যম বলছে, এপর্যন্ত বন্যায় মোট ৩০ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে।

গত চার দিনে ধরে ভারী বর্ষণের ফলে আসামের ১৫টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

এই জেলাগুলোর ১১০০ গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় আশ্রয় শিবিরে জায়গা নিয়েছেন প্রায় ১৮০০০ মানুষ।

বন্যার জলে মহাসড়কের একাংশ ডুবে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে।

আসামের বিভিন্ন জায়গায় জলের তোড়ে বাঁধ ভেসে গিয়েছে, সড়ক এবং সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest