সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতপ্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ যুবদল নেতা সুমনের: অপসাংবাদিকতার চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনফেক ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি খুলে ছবি বিকৃতি ও ব্ল্যাকমেইলিং সাতক্ষীরায় থানায় জিডিসখিপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুদের মাঝে খেলাধুলার পোশাক বিতরণসাতক্ষীরায় ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের উদ্যোগে সমন্বয় সভাতালায় রেকর্ডীয় জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধনসাতক্ষীরা সদরের লাবসায় ‘পাবলিক হেয়ারিং’অনুষ্ঠিতসাতক্ষীরায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক নিয়ে কল্যাণ ব্যানার্জি’ ফেসবুক আইডির পোস্ট: ব্যবস্থা গ্রহণে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশআশাশুনির প্রতাপনগরে বেড়িবাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে : এমপির ঘটনাস্থল পরিদর্শনদেবহাটায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরায় শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ভাতার চেক প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে জেলা শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু।

জেলা শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো: এনামুল হকের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলার সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল জব্বার। বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি সুকৃতি কুমার রায়, উপজেলার সভাপতি মোমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুমার বৈদ্য।

অনুষ্ঠানে ৫৯ জন অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ৩৮লক্ষ টাকার অবসর ভাতার চেক প্রদান করা হয়।
এসময় প্রধান অতিথি বলেন, শিক্ষককতা পেশা একটি মহান পেশা।

শিক্ষকরাই আমাদের মানুষে পরিণত করেন। কিন্তু দিন দিন শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও মর্যাদা করে যাচ্ছে। অথচ শিক্ষকের মর্যাদা অনেক। আমাদের সন্তানদের শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের খোজ কবর নিতে হবে। তিনি অবসরে যাওয়ার সকল শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় ফেসবুকে আত্মহত্যার ছবি আপলোড করে ও স্ট্যাটার্স দিয়ে এক যুবকের আত্মহত্যা করেছে।

মঙ্গলবার রাতে পাটকেলঘাটার বাইগুনি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বাইগুনি গ্রামের মিজান মোড়লের পুত্র মশিয়ার রহমান।
ফেসবুকে আত্মহত্যার ছবি পোস্ট ও স্ট্যাটাস দিয়ে মশিয়ার আত্মহত্যা করে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।
সেখানে তার দুই বছরের ছেলের মুখ না দেখতে পেরে আক্ষেপ করেন। পরে ঘরের ভেতরে আড়াই গলায় গামছা দিয়ে আত্মহত্যা করে।

সেখানে তিনি লিখেছেন “ যার টাকা নেই, তার কেউ নেই, বই আর শ^াশুড়ির জ¦ালাই বাধ্য হলাম, ছেলেটার মুখ টা দেখা হল না।”

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, ৩ বছর পূর্বে পাটকেলঘাটা থানার তৈলকুপি গ্রামের আবুল কাসেমর কন্যাকে বিয়ে করে ওই যুবক। সে সাতক্ষীরা এক্সপ্রেসে হেলপারী করতো। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর ভালো ভাবেই কাটছিল তাদের জীবন। সম্প্রতি স্ব পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারনে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যায়। এরই সূত্র ধরে তার স্ত্রী পাটকেলঘাটা থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার রায় আত্মহত্যার বিষটি নিশ্চিত করে জানান তদন্ত করার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ৭০টি কেন্দ্রে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চললেও বাস্তবে কাজীর গরু কেতাবে আছে গোয়ালে না থাকার মত অবস্থা।

অভিযোগ,কথিত রিসোর্স পার্সন, ট্রেইনার, কর্মকর্তা নিয়োগ ও সাসের অন্য প্রকল্পের স্টাফদের দিয়ে মাস্টার রোলে ভুয়া স্বাক্ষর দেখিয়ে প্রকল্পের সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। সমগ্র সাতক্ষীরা জেলায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থী মাত্র এক হাজার ৩০০ জন থাকলেও কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার।

সাতক্ষীরা জেলা আুপ আনুষ্ঠানিক শিক্ষ্যা ব্যুরোর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের এডিপি’র অর্থায়নে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ১১ থেকে ৪৫ বছরের মহিলা ও পুরুষের জন্য ‘মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-৪ কার্যক্রম’ বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) অনুমতি পায়। ৪ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ৪২ মাসের প্রকল্প শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের ২২ মাস পরে।

প্রকল্পের শুরুতেই কেন্দ্র নির্মাণ, আসবাবপত্র ও উপকরণ সরবরাহের জন্য বহুল প্রচারিত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করার কথা থাকলেও অখ্যাত একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে নি¤œমানের ঘর নির্মাণ ও উপকরণ সামগ্রী অফিস রেজুলেশনের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন সাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

শনিবার শেষ হওয়া সাস কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ট্রেইনার ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণে ভাতা বাবদ ছয় হাজার টাকা করে স্বাক্ষর করালেও তাদেরকে দেয়া হয়েছে মাত্র ৪ হাজার টাকা। এনিয়ে খোদ কর্মীদৈর মধ্যেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ্টি। সব মিলিয়ে সরকারের ২২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শিক্ষা প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্যে ভেস্তে যেতে বসেছে।

সরকারের এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরেপড়া মহিলা ও পুরুষের লেখাপড়া শেখানোর পাশাপাশি তাদের কারিগরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া। এতে প্রতিদিন বিকেল ও সন্ধ্যায় দুটি শিফটে ৩০ জন করে মোট ৬০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা রয়েছে। প্রত্যেক সাইকেল শিক্ষার্থীকে ৯ মাসের কোর্স সম্পন্ন করার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে না। প্রতিটি কেন্দ্রে সপ্তাহে চার দিন প্রশিক্ষণ ও দুই দিন মৌলিক শিক্ষার ক্লাস হওয়ার কথা।

এজন্যে প্রতি কেন্দ্রে দু’জন করে প্রশিক্ষক ও দু’জন করে সহায়ক-সহায়িকা রয়েছে। এদের মধ্যে প্রশিক্ষকরা ক্লাসপ্রতি ২০০ টাকা এবং সহায়ক-সহায়িকারা পাবেন প্রায় ১৭৫ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে একেকজন প্রশিক্ষক ৩ হাজার ২০০ এবং সহায়ক-সহায়িকারা পাবেন ১৩ থেকে ১৪০০’ টাকা। অথচ প্রশিক্ষকদের প্রতি মাসে দেয়া হচ্ছে ১৬০০ টাকা এবং সহায়ক-সহায়িকাদের ১১ থেকে ১৩০০ টাকা। এতে প্রশিক্ষক ও সহায়ক-সহায়িকাদের দেখিয়ে প্রতি মাসে লুটপাট করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতি শিফটে প্রশিক্ষণ উপকরণ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ টাকা। যা দিয়ে নামমাত্র উপকরণ কিনে সর্বস্ব লুটপাট করা হয়েছে। আবার অনেক কেন্দ্রে আদৌ উপকরণ দেয়া হয়নি। আর দেয়া হলেও তা এক শিফটের জন্য।

তালার ভায়ড়া, বারুইহাটি, চরগ্রাম, আটারই, খাজরা, নলতা, ধুলান্ডা, বাগমারা, ধানদিয়া, কাটাখালি গ্রামের কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, সেখানে কোন শিক্ষার্থী নেই, নেই কোন প্রশিক্ষক ও সয়ায়ক-সহায়িকা, পড়ে আছে পরিত্যক্ত ঘর।
ফারুক হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আবু জায়র, আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, কাগজে-কলমে ছাত্রছাত্রী দেখালেও কোনদিন কেন্দ্রে ১০-১৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী আসে না। এছাড়া প্রায় দিনই কেন্দ্রগুলোতে কোন ক্লাস হয় না, কোন শিক্ষার্থী আসেনা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীদের এখানে ভর্তি করা হয়েছে। সরকারের টাকাগুলো লুটপাট ছাড়া কোন কাজ হচ্ছে না। এ অবস্থা শুধু তালা উপজেলায় নয়, সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, দেবহাটা, কালিগঞ্জ উপজেলায়ও।

অভিভাবক সাবান আলী, রহিমা খাতুন, মোবরেক গাজী জানান, ভর্তির সময় তাদের বাচ্চাদের অনেক কিছু দেয়ার আশ^াস দেয় সাস কর্মকর্তারা। কিন্তু শুধু বই আর খাতা দিয়েছে। কোন কাপড়-চোপড় কিংবা ব্যাগ এখনও তারা দেয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঢালাওভাবে স্কুলগুলোতে ত্রুটি নেই, তবে সামান্য কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। অফিস যেভাবে বলে আমরা সেটাই করে থাকি। আমার বক্তব্য কথা পত্রিকার আসলে চাকরী চলে যাবে। তখন কিভাবে সংসার চালাবো।’
তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয় কার্যক্রম চলবে। বিষয়টি যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। কোন রকম অসংগতি প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র উপ-পরিচালক হিরন্ময় কুমার বিশ^াস জানান, ‘একজনের পক্ষে সকল জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া যারা ঝরে পড়েছে কিংবা কোনদিন স্কুলে যায়নি তাদের শিক্ষাদান করা খুবই কঠিন। আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবুও একটা ভাল কিছু উপহার দেয়ার প্রত্যয় আমি রাখছি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আশাশুনি প্রতিনিধি:
আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গায় দিনে দুপুরে গ্রিলের তলা ভেঙ্গে স্বর্ণালংকার, জমির কাগজপত্র সহ নগদ ৮২হাজার টাকা চুরি সংগঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের মৃত আবুল হোসেন ফকিরের ছেলে রহমত আলী ফকিরের বাড়িতে এই চুড়ি সংগঠিত হয়েছে।

সরজমিনে গেলে রহমত আলী ফকির জানান, আমার স্ত্রী, মেয়ে জামাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে।

আমি সকালে খাওয়া দাওয়া সেরে সাড়ে ৯টার দিকে বারান্দার গ্রিলের চাবিটা পিলারের উপরে রেখে পার্শ্ববর্তী রিজাউল মোড়লের বাড়িতে গিয়েছিল। সেখান থেকে এসে দেখি বারান্দার গিরিলে তালা লাগানো পিছনের দরজা সিটকুলি ভাঙ্গা এবং ঘরের শোকেস ও বক্সের তালাভাঙ্গা কাপড় চোপড় এলোমেলো করা। শোকেসের ড্রয়ের ভিতরে ব্যাগে থাকা এক জোড়া হাতের রুলি, এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও নগদ ৮২ হাজার টাকা এবং জায়গা জমির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে গেছে সঙ্গবদ্ধ চোরেরা। এ ঘটনায় থানা পুলিশকে অবহিত করলে থানার ওসি মমিনুল ইসলাম (পিপিএম) এর নির্দেশে এসআই নূর হোসেন ঘটনাস্থান পরিদর্শন করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান ঃ বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপের প্রভাবে সাতক্ষীরায় গতকাল থেকে মাঝে মধ্যে ঝড়ো হাওয়ার সাথে সাথে হালকা ও মাঝারী ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষ করে উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ থেকে ২ ফুটের অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস।

উপকূলীয় অঞ্চলে তিন নম্বর সর্তকতা সংকেত জারি করা হয়েছে। নি¤œচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার জরাজীর্ণ ৩৫ টি পয়েন্টে প্রায় ৬২ কিলোমিটার বেঁড়িবাধ ঝুকির মধ্যে রয়েছে। এদিকে, আশাশুনির খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুরে খোলপেটুয়া নদীর ৬-৭ হাত বেড়িবাধ ভেঙে ২০০ বিঘা মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়। পরে তা স্থানীয় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করা হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম জানান, তার ইউনিয়নের গদাইপুর এলাকার আব্দুল মান্নান মাষ্টারের মৎস্যঘের সংলগ্ন এলাকায় ৭/২ নং পোল্ডারে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে খোলপেটুয়া নদীর ৬-৭ হাত জরাজীর্ণ বেড়িবাধ ভেঙে যায়। এতে প্রায় ২০০ বিঘা মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে যায়। পরে দুপুরের মধ্যে তিনি স্থানীয়দের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে তা সংস্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে, পরবর্তী জোয়ারে কি হবে তা বলা যাচ্ছেনা বলে তিনি আরো জানান।

উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, গতকাল থেকেই থেমে থেমে হালকা, মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারী বর্ষনের কারনে শতাধিক ঘের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

এছাড়া গাবুরা, নাপিতখালি, জেলেখালি, তিন নম্বর পোল্ডারসহ বিভিন্ন এলাকায় উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। ইতিমধ্যে নদীর পানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। জোয়ারের সময় বাঁধের কানায় কানায় পানি উঠছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগের আওতায় মোট ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাধে মধ্যে জরাজীর্ণ ৩৫ টি পয়েন্টে প্রায় ৬২ উপকূল রক্ষা বেড়িবাধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তবে, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার অনেক জায়গায় চলমান রয়েছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা ও মাঝারী ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
এর ফলে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে ২ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গপোসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। আগামী ২-১ দিন আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতি থাকবে তারপর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়ে তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ৫৯.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

রাজনীতির খবর: বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথকে আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অর্পিত ক্ষমতাবলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আপনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বরিশাল জেলা শাখার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পদসহ দলীয় অন্যান্য সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার লিখিত জবাব আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ ক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পঙ্কজ দেবনাথকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

শিক্ষা ডেস্ক: সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির কারণে পেছানো ২০২২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ৬ই নভেম্বর শুরু হবে। এবার সকাল ও বিকেল দুই ধাপে পরীক্ষা নেওয়া হবে। সকালের পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেলের পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত করা হবে।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করেছে।

সূচি অনুযায়ী, লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ ৩৮ দিনেই শেষ হবে এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা। এরপর ১৫ ডিসেম্বর শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। যা শেষ হবে আগামী ২২ ডিসেম্বর।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. আবুল বাশার স্বাক্ষরিত সূচিতে জানানো হয়েছে, এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা দুই ঘণ্টার হবে। এরমধ্যে বহুনির্বাচনী ২০ মিনিট এবং সৃজনশীল পরীক্ষার জন্য ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় পাবে শিক্ষার্থীরা।

সূচিতে আরও জানানো হয়েছে, বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল প্রশ্নের মাঝে কোনো বিরতি থাকবে না। প্রথমে বহুনির্বাচনী এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ আসনে বসতে হবে। সময়সূচিতে মোট ১১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। এইচএসসিতে এবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষা না নিয়ে তা সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে নম্বর দেওয়া হবে।

সাধারণত প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও গত বছর করোনা মহামারির কারণে তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গত বছর এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয় প্রায় ৯ মাস পিছিয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি আর এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। তবে এবার বন্যা পরিস্থিতির কারণে উভয় পরীক্ষাই পিছিয়ে যায়।

গত ১৭ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। শিক্ষা বোর্ডগুলো সেই অনুযায়ী পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি তৈরি করে প্রকাশ করবে। এসএসসি পরীক্ষা শুরুর ৪৫ দিন পর অর্থাৎ নভেম্বরের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।

স্বাভাবিক সময়ে ১০০ নম্বরের বিষয়গুলোর পরীক্ষা হতো ৩ ঘণ্টা। কিন্তু এবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে কম নম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, নম্বর কমিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলেও তা ১০০ নম্বরে রূপান্তর করে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারণ করা হবে।

সাধারণত এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাস দুই পর এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। মাঝের সময়টাতে চলে প্রস্তুতি। এবার এ দুই পরীক্ষা শুরুর মাঝের সময় কমিয়ে আনা হয়েছে।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে পেছানো চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি :
স্বাধীনতার পূর্ব থেকে রাস্তার ধারে বসবাসকারী পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কায়পুত্র সম্প্রদায় (কাওরা) এর পূনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় মুষুলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা সদরের আলীপুর বল্ডফিল্ড সংলগ্ন সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জর সড়কে এ মানববন্ধন পালন করে তারা।

বাংলাদেশ দলিত পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি গৌর পদ দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি কওছার আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ দলিত পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পৌর বৈরাগী, সদস্য সুজন কুমার দাশ, নিতাই মিস্ত্রি সুস্মিতা দাস, কায়পুত্র সম্প্রদায় (কাওরা) এর নিমাই মন্ডল, ধীরেন্দ্র মন্ডল, চায়না দাশী, কমল মন্ডল প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে কায়পুত্র সম্প্রদায় (কাওরা) একটি ক্ষুদ্র সম্প্রদায়। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ সাতক্ষীরা সদরের আলীপুর বল্ডফিল্ড সংলগ্ন রাস্তার ধারে খাস জমিতে ১৯৬৫ সাল থেকে ঝুপড়ি ঘরের মধ্যে বসবাস করে আসছে। বর্তমানে সেখানে ৪৫টি পরিবার বসবাস করে। তাদের আয়ের একমাত্র মাধ্যম শূকর পালন করা। সম্প্রতি সাতক্ষীরায় সড়কের উন্নয়নের লক্ষে তাদের কে সেখান থেকে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আমরা স্বাগত জানাই। সেখানে বসবাস ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের মানুষগুলোকে অন্যত্র পুর্নবাসন করা হোক। তা নাহলে ওই সম্প্রদায়টি বিলুপ্তি হয়ে যাবে। অথচ ওই জনগোষ্ঠী আবহমানকাল থেকেই সমাজের কতিপয় অপরিহার্য পেশাল সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বৈষম্যের শিকার হন। বক্তারা অবিলম্বে তাদের অন্যত্র পূর্নবাসনের দাবি জানিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দলিত, হরিজন ও বেঁদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা(সংশোধিত) ২০১৩ বাস্তবায়নের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, তারা এতদিন অবৈধ জায়গায় ছিলো। সড়ক বিভাগে তাদের উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছেন। জায়গা তাদের ছাড়তে হবে। তবে যদি আমার কাছে আবেদন করে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest