সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যুরেকর্ডীয় সম্পত্তিতে জোর পূর্বক ঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধেতালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনআশাশুনিতে অবঃ শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম গঠনআশাশুনিতে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতিসাতক্ষীরা জেলা হিউম্যান রাইটস জার্নালিষ্ট নেটওয়ার্কের কমিটি গঠনসাতক্ষীরায় ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিদর্শন

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা

আসাদুজ্জামান ঃ পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ থেকে র‌্যালিটি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

র‌্যালি ও আলোচনা সভায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ আমানুল্লাহ আল হাদী, সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, সিভিল সার্জন ডাক্তার হুসাইন সাফায়াত,

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম, জেলা পুলিশিং কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ ডাঃ আবুল কালাম বাবলাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্কুল কলেজর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আলোচনা সভা শেষে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বড় পদ্মার মাধ্যমে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মূল পর্ব জনসাধারণকে দেখানো হয়।
এদিকে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে চায়ের দোকান থেকে শুরু হয়ে সব শ্রেনীর মানুষের মধ্যে এক ধরনের আনন্দ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় কিশোরের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি

 ঃ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নারিকেল গাছের সঙ্গে ধাক্কা মারায় এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরা সদরের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম জুয়েল হোসেন (১৭)।
তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দত্তডাঙা গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
মৃতের স্বজনরা জানান, জুয়েল শুক্রবার বিকেলে আবাদের হাট থেকে মোটর সাইকেলে বাড়ি ফিরছিল।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সে জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে খাদে পড়ে মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী নারিকেল গাছের সঙ্গে ধাক্কা মারে। এতে তার মাথায় জোর আঘাত লেগে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স.ম কাইয়ুম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাত পোহালেই স্বপ্নপূরণের দিন, উদ্বোধন হবে পদ্মা সেতু

অনলাইন ডেস্ক: দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের দিন এসে গেছে। ফেরি, লঞ্চ, স্পিড বোট কিংবা ট্রলারে চড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খরস্রোতা প্রমত্তা পদ্মা পাড়ি দেওয়ার দিন শেষ হচ্ছে। স্বপ্নের সেতু উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে ভোগান্তি ছাড়াই দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ পাড়ি দেবে পদ্মা। এতে সময়ও বাঁচবে আগের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি। স্বপ্নসেতুকে ঘিরে জল্পনা-কল্পনার অভাব নেই পদ্মাপাড়ের মানুষের।

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে চলেছে শনিবার (২৫ জুন)। উদ্বোধনকে ঘিরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান হবে সেতুর দুইপ্রান্তেই। এরই মধ্যে জাঁকজমকভাবে সাজানো হয়েছে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত। উভয়প্রান্তেই নির্মাণ করা হয়েছে ৪০ ফুট উচ্চতার দুটি ম্যুরাল। দুটি ম্যুরালে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি। এর পাশে নির্মাণ করা হয়েছে উদ্বোধনী ফলক।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত থেকে সেতু উদ্বোধন করে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। এরপর গাড়িতে চড়ে সেতু পার হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে আরেকটি উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন।

বাংলাবাজার ঘাটের তিন কিলোমিটার জুড়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে ইতোমধ্যে। এছাড়া ওই অঞ্চলের জেলাগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন করেছেন এবং রাস্তার উপরে তোরণ নির্মাণ করেছেন। প্রায় দশ লাখ লোকের জনসমাগম হবে বলে আশা করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। লোকসমাগম বাড়াতে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা। পদ্মা সেতু নির্মান করা চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে সেতুটি বুঝিয়ে দিয়েছেন।

বাংলাবাজার ঘাটে জনসভার মঞ্চ করা হয়েছে পদ্মা সেতুর আদলে। এগারোটি পিলারের ওপর দশটি স্প্যান বসিয়ে পদ্মা সেতুর আদলেই ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চের ঠিক সামনে পানিতে ভাসমান বিশাল আকৃতির একটি নৌকা। দেখে মনে হবে পদ্মা সেতুর পাশ দিয়ে বড় একটি নৌকা চলছে। নিরাপত্তার জন্য মঞ্চের ভেতরে ও বাইরে বসানো হয়েছে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার। থাকবে দেড় শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। র‌্যাব, পুলিশ, সেনা সদস্য, এসএসএফসহ নানা বাহিনীও তৎপর। এটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে রূপ নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বপ্নের সেতুর উদ্বোধনী মঞ্চে থাকবেন ৪১ জন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও মঞ্চে থাকবেন আওয়ামী লীগের পাঁচজন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের ২১ জন নেতা। বাকি ১৫ জন মন্ত্রিসভার সদস্য, দলীয় এমপি এবং দক্ষিণাঞ্চলের জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাওয়া প্রান্তের সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে দেশের রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের দাওয়াত দেয়া হয়েছে।

সমাবেশটিকে ঐতিহাসিক সমাবেশ করার লক্ষ্যে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। দক্ষিণের ২১ জেলা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসবেন। প্রায় দশ লাখ লোকের জনসমাগম হবে বলে ধারণা করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু (মূল সেতু) দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। ২০০১ সালের ৪ জুলাই পদ্মা সেতু নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল সেতু নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর ২০১৭ সালে ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুতে বসে প্রথম স্প্যান। সেই থেকে তিন বছর দুই মাস ১০ দিনে বা মোট ১১৬৭ দিন পর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর সেতুর সব স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পুরো পদ্মা সেতু। তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান-ই’ ভাসমান ক্রেন দিয়ে স্প্যানগুলো বসানো হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজন হয় দুই হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে র্যাব।

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার সেই সোনালী অধ্যায় শুরুর অপেক্ষায় এখন পুরো জাতি।

শত দুর্ভোগ, আর ভোগান্তির দিন শেষ হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের। পদ্মার বুকে দৃশ্যমান এই পদ্মাসেতুর দ্বার খুলতে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্য। আর তাতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে পদ্মার দুই পাড়ের মানুষেরা।

একনজরে পদ্মা সেতু

প্রকল্পের নাম: পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প।

প্রকল্পের অবস্থান: রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।

যেভাবে শুরু: ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়। এরপর ২০০১ সালে জাপানিদের সহায়তায় সম্ভাব্যতা যাচাই হয়। ২০০৪ সালের জুলাই মাসে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকার সুপারিশ মেনে মাওয়া-জাজিরার মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করে। মহাজোট সরকার শপথ নিয়েই তাদের নিয়োগ দেয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু করার চূড়ান্ত নকশা করা হয়।

একনেক সভায় অনুমোদন: ২০০৭ সালে ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন পায়। পরে নকশা পরিবর্তন হয়ে দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণ ব্যয়ও বাড়ে। ২০১১ সালে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকার সংশোধিত প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৬ সালে আবারও আট হাজার ২৮৬ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ালে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সবশেষ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর পুরো টাকাই সরকারি অর্থায়ন।

প্রকল্পের মেয়াদ: ১ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ৩০ জুন ২০২৩।

প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

মূল সেতুর ঠিকাদার: পদ্মা সেতু নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির নাম চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের আওতাধীন চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি।

মূল চুক্তিমূল্য: ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

কাজ শুরু: ২৬ নভেম্বর, ২০১৪।

চুক্তি অনুযায়ী কাজ সমাপ্তির তারিখ: ২৫ নভেম্বর, ২০১৮। পরে কয়েক ধাপে সময় বাড়ানো হয়।

কাজের মূল সময়সীমা: ৪৮ মাস। বর্ধিত সময় ৪৩ মাস।

কাজ সমাপ্তির পুনঃনির্ধারিত তারিখ: ৩০ জুন, ২০২২ (বর্ধিত সময়সহ)।

রেল সংযোগ: পদ্মা সেতুতে রেললাইন স্থাপন হচ্ছে স্প্যানের মধ্য দিয়ে।

অফিসিয়াল নাম: পদ্মা সেতু।

নকশা: আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম এইসিওএমের (AECOM) নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে গঠিত একটি দল।

ধরন: পদ্মা সেতুর ধরন দ্বিতলবিশিষ্ট।

প্রধান উপকরণ: কংক্রিট ও স্টিল।

রক্ষণাবেক্ষণ: বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

দৈর্ঘ্য: পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।

প্রস্থ: পদ্মা সেতুর প্রস্থ হবে ৭২ ফুট, এতে থাকবে চার লেনের সড়ক। মাঝখানে রোড ডিভাইডার।

ভায়াডাক্ট: পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট ৩ দশমিক ১৮ কিলোমিটার।

ভায়াডাক্ট পিলার: ৮১টি।

পানির স্তর থেকে উচ্চতা: ৬০ ফুট।

পাইলিং গভীরতা: ৩৮৩ ফুট।

মোট পিলার: ৪২টি।

মোট পাইলিং: ২৮৬টি।

সংযোগ সড়ক: পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক দুই প্রান্তে (জাজিরা ও মাওয়া) ১৪ কিলোমিটার।

মোট লোকবল: পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ করছে প্রায় চার হাজার মানুষ।

প্রবৃদ্ধি বাড়বে: ১ দশমিক ২ শতাংশ।

নদীশাসন: প্রকল্প এলাকায় প্রায় ১৪ কিলোমিটার নদীশাসন করতে হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া এলাকায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং বাকি ১২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার জাজিরা এলাকায়।

ঠিকাদারের নাম: সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড চায়না।

চুক্তিমূল্য: ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

ভূমি অধিগ্রহণ: ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ২ হাজার ৬৯৩ দশমিক ২১ হেক্টর।

অ্যাপ্রোচ রোড: জাজিরা ও মাওয়া।

সেতু পাড়ে বৃক্ষরোপণ: লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪ লক্ষাধিক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ থেকে বাদ মুমিনুল-মুস্তাফিজ

খেলার খবর: টেস্ট ক্রিকেটে লম্বা সময় ধরে রানের খরায় বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক। নিজের ব্যর্থতার চাপে কদিন আগে অধিনায়কত্বও ছেড়েছেন তিনি। এবার বাদ পড়লেন একাদশ থেকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে মুমিনুলকে রাখা হয়নি। তাঁর জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা এনামুল হক বিজয়।

এ ছাড়াও সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে আরেকটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। এই টেস্টে জায়গা হারিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন শরিফুল ইসলাম। অ্যান্টিগা টেস্টের একাদশ থেকে এই দুটি পরিবর্তন এনেই সেন্ট লুসিয়া টেস্ট শুরু করেছে সাকিব আল হাসানের দল।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। গুদাকেশ মোতির পরিবর্তে একাদশে এসেছেন অ্যান্ডারসন ফিলিপে।

আজ শুক্রবার ড‍্যারেন স‍্যামি ন‍্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ।

এর আগে সিরিজের প্রথম টেস্টেও টসে হেরেছিল বাংলাদেশ। ওই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। চার দিনেই ওই টেস্টে স্রেফ উড়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে, বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপই ডুবিয়েছে সফরকারীদের। না টপ অর্ডার, না মিডল অর্ডার, না লোয়ার অর্ডার—কোনো বিভাগেই ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশের।

ওই টেস্টের দুই ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে লড়েছেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু নুরুল হাসান সোহানকে লড়াই করেও দলকে বাঁচাতে পারেননি। ফলে ওই টেস্টে বাংলাদেশ হেরে যায় সাত উইকেটে। সিরিজেও পিছিয়ে পড়ে ১-০ ব্যবধানে।

সিরিজে পিছিয়ে পড়ায় সেন্ট লুসিয়াতে বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছে হোয়াইটওয়াশ। তবে এই চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টে সাফল্য পায় কি না সেটাই দেখার অপেক্ষা।

বাংলাদেশের একাদশ: তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, এনামুল হক বিজয়, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, এবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বন্যার্তদের জন্য দেড় কোটি টাকা তোলা তাশরীফকে পুলিশের ধমক

বিশেষ ডেস্ক: বন্যায় সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের একাধিক অঞ্চল ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে। বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ‘কুড়েঘর’ ব্যান্ডের তরুণ গায়ক তাশরীফ খান। গত ১৩ জুন থেকে সিলেটের বানভাসি মানুষদের সহায়তা করা এ গায়ক ফেসবুক লাইভে আহ্বান জানিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি তুলেছেন।

এই তাশরীফ খান অভিযোগ এনেছেন সিলেটের একটি জায়গায় চা খেতে গিয়ে পুলিশের দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন তিনি, খেয়েছেন ধমকও।

ফেসবুক লাইভে এসে তরুণ এ গায়ক সে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, “সারা দিন কাজ করার পর গতকাল আড়াইটার দিকে সিলেটের একটি জায়গায় আমরা লাল চা খাচ্ছিলাম। এরপর পুলিশের একটা গাড়ি এলো। পুলিশের একজন অফিসার মোটামুটি ধমকের স্বরেই বললেন, ‘আপনারা কোথাকার? এখানে কী করতেছেন?’ আমি বললাম, স্যার আমরা এখানে ত্রাণ দিতে এসেছি ঢাকা থেকে। আপনাদের সিলেটের জন্যই কাজ করতেছি। আমরা চা খেয়ে এখান থেকে চলে যাব। এরপর আমাকে সরাসরি ধমক দেওয়া হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, ‘চলে যান এখান থেকে।’”

গায়ক আরও যুক্ত করেছেন “এরপর আমি তাঁকে বলেছি, স্যার দয়া করে কোনো নাগরিককে এভাবে ধমক দেবেন না। সিলেট বিপদে আছে। আমরা সিলেটের জন্য কাজ করতে এসেছি। আমরা এখানে চুরি-চামারি করতে আসিনি। আমি উনাকে রিকোয়েস্ট করে বলেছি, স্যার চা শেষ করে আমি চলে যাব। তারপর আমাকে কী বলা হয়েছে শুনুন—তখন আমাকে আঙুল তুলে বলা হয়েছে, ‘এখন তো ভালো করে বলেছি, এরপর খারাপ করে বলব। এক্ষুনি চলে যান এখান থেকে।’ এ কথাটা শোনার পর আমি একটা শব্দও করি নাই।”

লাইভে সেই পুলিশ সদস্যের উদ্দেশে তাশরীফ বলেন, ‘স্যার দয়া করে এ সময়টাতে আপনারা একটু পাশে দাঁড়ায়েন। আমাদের পারলে একটু সাহস দিয়েন। আমাদের সাহসটা খুব দরকার। আপনারা সাথে থাকলে আমাদের মন, আমাদের কাঁধটা অনেক ভারী হয়ে যায়।’

তাশরীফ খান বর্তমানে তাঁর দল নিয়ে ১২ হাজার পরিবারকে সহায়তা করার জন্য কাজ করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিদেশের খবর: ভারত চার মাসেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৭ হাজার ৩৩৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে নতুন তরঙ্গের ভয়ের মধ্যে দেখা দিয়েছে এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ। ২৪ ঘণ্টার এই পরিসংখ্যানটি গতকালের সংক্রমণের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি।

এ ছাড়াও, গত ২৪ কোভিড-সংক্রান্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মহামারীর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট পাঁচ লাখ ২৪ হাজার ৯৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। এ সময়ে ১৩ হাজার ২৯ জন সুস্থ হয়েছেন। দেশটিতে সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে।

শেষ ২৪ ঘণ্টায় মোট সংক্রমণের মধ্যে গতকাল মহারাষ্ট্রে পাঁচ হাজার ২১৮ জন, দিল্লিতে এক হাজার ৯৩৪ জন শনাক্ত হয়, যা এক দিন আগের প্রতিবেদনের দ্বিগুণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়া গতকাল জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক ডেকেছেন এবং ভাইরাসের সম্ভাব্য মিউটেশনগুলি স্ক্যান করতে এবং পুরো জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ওপর নজরদারির ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় আঃলীগ নেতা হাজী রফিকুলের প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিফলেট বিতরণ

দেবহাটা প্রতিনিধি :দেবহাটায় পদ্মা সেতু করায় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ¦ রফিকুল ইসলামের লিফলেট বিতরণ।

শুক্রবার ২৪ জুন, ২২ ইং তারিখে সকাল ১০ টায় দেবহাটা রিপোটার্স ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেবহাটাবাসীর পক্ষে লিফলেট বিতরণ করেন।

এসময় আলহাজ¦ রফিকুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু করায় দেবহাটাবাসীর পক্ষে কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, পদ্মা সেতু করার জন্য আজ বাংলাদেশ বিশে^র দরবারে মাথা উচু করে দাড়াতে পেরেছে। সারা বিশ^ আজ বাংলাদেশের প্রশংসা করছে আর এর অবদান সম্পূর্নভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

তিনি বলেন, যারা পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল তারা আজ আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। আলহাজ¦ রফিকুল ইসলাম এসময় পদ্মা সেতু উচ্চতা, দুরত্ব ও এর তৈরির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এসময় মোহনা টিভির প্রতিনিধি আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা রিপোটার্স ক্লাবের সভাপতি ডাঃ অহিদুজ্জামান, সিনিয়র সহ-সভাপতি আকতার হোসেন ডাবলু, সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আবির হোসেন লিয়ন, সাহিত্য ও প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক জিএম তারেক মনোয়ার, সদস্য আবুল হাসান, আশরাফুল ইসলাম বাদল প্রমুখ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে হাজী রফিকুল ইসলাম উপজেলা সদরের বিভিন্ন দোকানে উপস্থিত জনসাধারনের মধ্যে এই লিফলেট বিতরন করেন। উল্লেখ্য, হাজী রফিকুল ইসলাম গত কয়েকদিন যাবৎ উপজেলার বিভিন্ন বাজার, গ্রাম ও সাধারন মানুষের মধ্যে এই লিফলেট বিতরন করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পদ্মা সেতু থানার প্রথম আটক আসামি সাতক্ষীরার জেল পালানো সিদ্দীক

অনলাইন ডেস্ক : দুই বছর আগে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মই বেয়ে পালিয়ে যাওয়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশ।

বুধবার (২২ জুন) শরীয়তপুর পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানাধীন নাওডোবা মিনাকান্দি থেকে আবু বকরকে আটক করা হয়।

আবু বক্কর সিদ্দিক সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার চণ্ডিপুর এলাকার মৃত কেছের আলীর ছেলে।

জানা যায়, ২০২০ সালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে মই বেয়ে পালান যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিক। এর আগে একটি হত্যা মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে আপিল করলে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় তাকে। ২০১২ সাল থেকে কারাবন্দি ছিলেন তিনি।

শরীয়তপুর পদ্মা সেতুর দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানাধীন নাওডোবা মিনাকান্দি চৌরাস্তা এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন তিনি। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, সাজাপ্রাপ্ত আসামি তিনি। পালানোর ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারের পর আবু বক্করকে শরীয়তপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest