সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যুরেকর্ডীয় সম্পত্তিতে জোর পূর্বক ঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধেতালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনআশাশুনিতে অবঃ শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম গঠনআশাশুনিতে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতিসাতক্ষীরা জেলা হিউম্যান রাইটস জার্নালিষ্ট নেটওয়ার্কের কমিটি গঠনসাতক্ষীরায় ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিদর্শন

সাতক্ষীরায় কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্পের রোভিং সেমিনার

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্পের আওতায় রোভিং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (০৮ জুন) বেলা ১১টায় সদর উপজেলা মিলনায়তনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ

অধিদপ্তরের আয়োজনে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা-তুজ-জোহরা’র সভাপতিত্বে রোভিং সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি সাতক্ষীরা’র উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম।

রোভিং সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এস.এম মারুফ তানভীর হুসাইন সুজন, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম,

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ মো. জুলফিকার আলী ও জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার এস.এম খালিদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ। টেকনিক্যাল সেশনে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম। রোভিং সেমিনারে কৃষক কৃষাণীসহ মোট ৬৫জন অংশগ্রহণ করে।

অপরদিকে বিকালে এনএটিপি-২ প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে সদর উপজেলা মিলনায়তনে সিআইজি নেতৃবৃন্দদের নিয়ে সিআইজি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলা মিলনায়তনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে সিআইজি কংগ্রেস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি সাতক্ষীরা’র উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার এস.এম খালিদ সাইফুল্লাহ। সিআইজি কংগ্রেস অনুষ্ঠানে সদরের বিভিন্ন সিআইজির ১৫০ জন নেতৃবৃন্দ অংশ নেয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় বারতা নারী পুরুষের সমতা কিশোর কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের মিটিং
 দেবহাটা ব্যুরো:  প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা “বারতা নারী পুরুষের সমতা” এই শোল গানকে সামনে রেখে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত কিশোর কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের আয়োজনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক প্রথম মিটিং শুরু হয়েছে দেবহাটা উপজেলা চত্বরে বুধবার সকাল ১০টা উক্ত অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ও আরো উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা প্রকৌশলী অফিসার শৌভন সরকার উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াছিন আলী
দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ আব্দুর রয়ুক সহ দেবহাটা উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক/ শিক্ষিকা বৃন্দ।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটা থানায় সিআর ওয়ারেন্টভূক্ত ১ আসামী গ্রেফতার

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটা থানায় সিআর ওয়ারেন্টভূক্ত ১জন আসামী গ্রেফতার হয়েছে। আটককৃত আসামীকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার) এর দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) সজীব খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

(ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) কনক কুমার দাস ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) এসএম জামিল আহমেদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে দেবহাটা থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ইং ০৮/০৬/২০২২ তারিখ,

এসআই(নিঃ) আসিফ মাহমুদ, এএসআই(নিঃ) আশরাফুল ইসলাম, শামীম হোসেন সংঙ্গীয় ফোর্সসহ দেবহাটা থানাধীন সুবর্নাবাদ এলাকা থেকে সিআর ৩০৯/২১(উত্তরা পশ্চিম) এর আসামী ১।প্রীতিষ রায়, পিতা- কালিপদ রায়, সাং- সুবর্নাবাদ, থানা-দেবহাটা, জেলা-সাতক্ষীরাকে গ্রেফতার করে আসামীকে ইং- ০৮ জুন আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জের মৃতপ্রায় ৩ টি খাল দখলমুক্ত করে পুন:খনন: প্রাণ ফিরবে কৃষি ও মৎস্য চাষে

নিজস্ব প্রতিনিধি :
কালিগঞ্জে প্রবাহমান একাধিক খালকে বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা নিয়ে দখল করে আসছিলেন প্রভাবশালীরা।

দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকায় খালগুলো মরে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে এসব খালগুলো অত্র অঞ্চলের মানুষের গলার কাটা হয়ে দাড়াতো। পানি নিস্কাশনের খাল মরে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে ভোগান্তিতে পড়তেন তারা।

শুষ্ক মৌসুমে পানি না পেয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ত। চরম বিপাকে ছিলো সেখানকার মৎস্য চাষীরাও ।

তবে সম্প্রতি কালিগঞ্জের তিনটি প্রবাহমান খাল প্রভাবশালী দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করে খনন করে দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। এতে খালগুলো প্রাণ ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি সেসব অঞ্চলের কৃষকদেরও মুখে হাসি ফুটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কালিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য চাষের উন্নতির লক্ষে জলাশয় সংস্কার প্রকল্পের আওতায় মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং কালিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসের বাস্তবায়নে কালিগঞ্জের রতনপুর ইউনিয়ন কলকলিয়া খাল, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ঘোষখালী খাল এবং তারালি ইউনিয়নের তারালি খাল ৩টি পুন:খনন করা হয়েছে। এছাড়া কুশলিয়া ইউনিয়নের ভদ্রখালী এলাকায় একটি পুকুর পুন:খনন করা হয়েছে।

পুকুরটি ১৯০৪ সালের পর প্রথম পুন:খনন ও সংস্কার করায় মানুষের সুপেয় পানির সঙ্কট কাটাতে সাহায্য করবে।
এর মধ্যে খননকৃত কলকলিয়া খালের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৯ শ ৪০ফুট এবং প্রস্থ ৮০ফুট। ঘোষখালী খালের দৈর্ঘ্য ৫হাজার ৮শ ফুট এবং প্রস্থ ৮৫ ফুট এছাড়া তারালি খালের দৈর্ঘ্য ৫হাজার ৮শ ফুট এবং প্রস্থ ৮৫ ফুট খনন করা হয়েছে। প্রতিটি খাল খননের জন্য ৩৩লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ ছিলো।

খালগুলো খনন করায় অত্র এলাকায় কৃষির ও মৎস্যের ফলন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি খালের পাশ্ববর্তী বাসিন্দাদের জন্য পানির অবাধ সরবরাহও নিশ্চিত হবে এবং খালের মাধ্যমে মাছের প্রাচুর্যতা বৃদ্ধি পাবে।

এটাকে যদি ধরে রাখা যায় তাহলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে খালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রতনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শেবানী মন্ডল বলেন, কলকলিয়া খাল দিয়ে ইউনিয়নের শত শত বিঘা বিলসহ বসতবাড়ীর পানি নিস্কাশিত হয়। খালটি অবৈধ দখলের কারণে সরু নর্দমায় পরিণত হয়েছিল।

এতে কৃষকরাও ঠিকমত পানি না পেয়ে চাষাবাদ করতে পারত না। মৎস্যচাষীরাও বিপাকে পড়ত। খালটি দখলমুক্ত করে খনন করায় সকলেরই সুবিধা হয়েছে। কৃষকরা পানি নিতে পারবে। মৎস্যচাষীরাও উপকৃত হবে।

পাশাপাশি আমরাও জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পাবো।
রতনপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বর বাবু গাজী বলেন, খালটি খনন করায় এলাকাবাসী জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পাবে। খালটি কোনভাবে ইজারা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রতনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলম আল রাজী টোকন বলেন, কলকলিয়া খালটি কালিন্দি নদীর সাথে সরাসরি সংযুক্ত। অথচ প্রভাবশালীরা বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা নিয়ে দখল করে খালটিকে প্রায় মেরে ফেলেছিল। ওই সব দখলদারদের উচ্ছেদ করে মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে খনন করে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। খালটি এলাকার মানুষের জীবন জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
এদিকে দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়নের টোনা গ্রামের ঈশ্বর রাধাপদের পুত্র গণেশ সরকার বলেন, ঘোষখালী খালটি দিয়ে বাঁশঘাটা, নবিননগর, বেড়াখালী, সাড়াতোলা, শ্রীপুর, ফতেপুর, গোবিন্দকাটি, সোনাতলাসহ প্রায় ১০টি গ্রামের পানি নিস্কাশিত হয়ে গোয়ালঘাষিয়া নদীতে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এসব অঞ্চলের মানুষ বিপাকে পড়ত। খালটি খনন হওয়ায় কৃষক ও মৎস্য চাষীসহ সকলেই উপকৃত হবে।
কালিগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার নাজমুল হুদা বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় খালগুলো খনন করা হয়েছে। এতে অত্র এলাকায় কৃষির ও মৎস্যের ফলন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি খালের পাশ্ববর্তী বাসিন্দাদের জন্য পানির অবাধ সরবরাহও নিশ্চিত হবে এবং খালের মাধ্যমে মাছের প্রাচুর্যতা বৃদ্ধি পাবে। এটাকে যদি ধরে রাখা যায় তাহলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে খালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশ ছাত্রঐক্য পরিষদ সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কমিটির নিন্দা

বাংলাদেশ ছাত্রঐক্য পরিষদ সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কমিটির অনুমতি ছাড়া ঝাউডাঙ্গা ছাত্রঐক্য পরিষদের কমিটি গঠনের নিন্দা জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

গতকাল বাংলাদেশ ছাত্রঐক্য পরিষদ সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কমিটির আহবায়ক শুভ সাহা ও সদস্য সচিব প্রান্ত ঘোষ স্বাক্ষরিত একপত্রে নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি সদর উপজেলা কমিটির অনুমতি না নিয়ে অবৈধভাবে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রঐক্যপরিষদের কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা গঠনতন্ত্র অবমাননার সামিল।

আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। উক্ত অবৈধ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত পূর্বক গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ছাত্র ঐক্য পরিষদের কমিটি গঠনের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের নামে অর্ধকোটি টাকা বাণিজ্যের  পায়তারা !

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মোজাহার মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে অর্ধ কোটি টাকা বাণিজ্য করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে ম্যানেজিং কমিটি।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হারান চন্দ্র ঘোষের সহযোগিতায় নাম মাত্র নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে টাকার বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা।

জানাযায়,সম্প্রতি মোজাহার মোমেরিয়াল স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক,কম্পিউটার ল্যাব এসেসটেন্ট, নিরাপত্তাকর্মী, পরিছন্নতা কর্মী ও আয়া নিয়োগ দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

এক জনের বিপরীতে প্রধান শিক্ষক পদে ৫ জন আবেদন করেছেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ২১ জন, কম্পিউটার ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ৫ জন নিরাপত্তা কর্মী ৪ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে ৫ জন।
আগামী ১১ জুন শনিবার সকাল ১০ টায় আবেদন কারীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন অত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
তবে ওই স্কুলের সভাপতি আলহাজ্ব শাহাদাত হোসেন ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য মোসলেম আলী মোটা অংকের টাকা নিয়ে উপজেলার মৌতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা খাতুনকে প্রধান শিক্ষক পদে ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আজবাহার আলীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, মোজাহার উদ্দীন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোসলেম আলী ওই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্কুলের বিদ্যুৎসাহি সদস্য। তিনি স্কুলের সভাপতি আলহাজ্ব শাহাদাত হোসেনের আপন শ্যালক। মোসলেম আলী ২০২০ সালের ২৩ এপ্রিল অবসরে যান। অবসরে গিয়ে বিদ্যুৎসাহী সদস্য হয়েছেন বাণিজ্য করার জন্য। সভাপতি তার শ্যালক হলেও বিদ্যালয় চলে মোসলেম আলীর ইশারায়। এছাড়া টানা ৩০ বছর ধরে সাহাদত হোসেন সভাপতি হয়ে আছেন। বিদ্যালয়ের ১০ ঘর থেকে ২ টি দখল রেখেছেন র্দীঘদিন ধরে। তিনি কোন ভাড়া দেন না।
গত চার মাস আগে স্কুল পরিচালনা পরিষদ কমিটি গঠন করা হয়। নির্বিঘ্নে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য ওই কমিটির সভাপতি ও বিদ্যুৎসাহি সদস্য চেষ্টা করছে বলে জানাগেছে।
এবিষয়ে মোজাহার মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারান চন্দ্র ঘোষ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বানিজ্য ঘটনা আমার জানা নেই, যেভাবে হোক তিনি স্বচ্ছ নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান।
বিষয়টি জানার জন্য মোজাহার মোমেরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব শাহাদাত হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কালিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান, আগামী শনিবার মোজাহার মোমেরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হবে এটা তাকে জানানো হয়েছে। তবে নিয়োগ বাণিজ্য চলছে এটা তিনি অবগতনন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, আগে থাকতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে সিলিকশন হয়েছে এবিষয়ে তিনি অবগতনন। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে ইউনিয়ন পর্যায়ে রিকল প্রকল্প সমাপনী সভা

শ্যামনগর প্রতিনিধি :
দাতা সংস্থা অক্সফামের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় সুশীলনের বাস্তবায়নে রিকল-২০২১ প্রকল্পের ইউনিয়ন পর্যায়ে সমাপনী ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার ও মঙ্গলবার (৬ ও ৭ জুন) আটুলিয়া ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে পৃথকভাবে মিটিং দুইটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্প সমন্বয়কারী এসএম জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় উক্ত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন সুশীলনের উপ-পরিচালক মোস্তফা আক্তারুজ্জামান।

এসময় তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকে শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্পটির কাজ করে আসছে নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপখাওয়ানো, যুবদের কর্মসংস্থান, প্রতিবন্ধীদের জীবন মান উন্নয়ন, আইজিএ সহায়তা, নিরাপদ পানি প্রাপ্যতা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে লিংকেজ করাই ছিল প্রকল্পের মুখ্য উদ্দেশ্য। রিকল প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মএলাকার ২৪টি সিবিও সমবায় অফিসের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন করাই ছিল প্রকল্পের বড় সফলতা। সমাপনী সভায় রিকল প্রকল্পের সিবিও সদস্য, সিএসও সহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী সভায় সিবিও সদস্যরা তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা তাদের সিবিও তে যে সকল উন্নয়ন হয়েছে সেগুলো উপস্থাপন করতে যেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।তারা বলেন, রিকল তাদের মাথার উপর ছায়া হিসাবে এতদিন কাজ করেছে, রিকল প্রকল্প শেষ হলেও তারা রিকলের অর্জন গুলো ধরে রাখবে ও তাদের চলমান সেবামূলক কাজ গুলো বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সহায়তা কামনা করেন।

আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু সকলকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে বলেন, রিকল প্রকল্পের সাথে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম। প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে আমি জানি এই প্রকল্পটির অর্জন অনেক। গ্রামীন অবহেলিত নারীরা আজ স্বাবলম্বী তারা অনেক কাজের সাথে যুক্ত হয়ে পরিবারে স্বচ্ছলতা আনতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি যে সকল সম্পদ রেখে যাচ্ছে সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদ তদারকি করবে ও সিবিও পরিচালনায় কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে তাকে জানানোর অনুরোধ জানান।

বুড়িগোয়ালিনী ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান জিএস আঃ রউফ তার বক্তব্যে বলেন, রিকল একটা সফল প্রকল্প, এই প্রকল্প তাদের লক্ষ্য কে সামনে রেখে অনেক সেবামুলক কাজ করেছে। নারীরা বর্তমানে সরকারী বেসরকারী দপ্তরে যোগাযোগ করার মত সক্ষমতা অর্জন করেছে, তারা আয়বৃদ্ধি মুলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে নিয়ে যে কাজগুলো করা হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি এই ধরনের প্রকল্প আবারও বাস্তবায়নের জন্য দাতা সংস্থার নিকট আনুরোধ জানান। কর্মশালায় সিবিও সদস্য ছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনীধি, শিক্ষক প্রতিনীধি, সাংবাদিক প্রতিনিধি, ইউপি মেম্বর সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নবীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য : মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক সংকটে ভারত

বিদেশের খবর: নবী হযরত মুহম্মদকে (সা.) নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক টানাপোড়েন প্রকট হচ্ছে।

উপসাগরীয় দেশ কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইনের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, মালদ্বীপ, জর্ডান, লিবিয়াও ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে।

কুয়েতের বাজারে ভারতীয় পণ্য বর্জন করা হয়েছে। ইরান, কুয়েত এবং কাতার ওই ঘটনায় নিন্দা জানাতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। সৌদি আরব সমালোচনা জানিয়ে কড়া ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, উপসাগরীয় এবং এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সঙ্গে নয়া দিল্লির সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় ভারতীয় কূটনীতিকরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ঝড়ের যে আরও অনেকখানি বাকি তা টের পাওয়া যাচ্ছে।

এই বিতর্কের মূলে রয়েছেন নূপুর শর্মা, যিনি ছিলেন ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির মুখপাত্র। গত মাসে এক টেলিভিশন বিতর্কে তিনি নবীকে নিয়ে বিতর্কিত ওই মন্তব্য করেছিলেন। তার সেই বক্তব্যের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।

বিজেপির দিল্লি শাখার মিডিয়া প্রধান নভিন কুমার জিন্দালও বিতর্কিত এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে টুইটারে উসকানিমূলক পোস্ট দেন।

তাদের এসব মন্তব্যকে ভারতে বিদ্যমান তীব্র ধর্মীয় বিভাজনের প্রতিফলন বলছেন সমালোচকরা। এই বিভাজন দেশটি গত কয়েক বছর ধরেই প্রত্যক্ষ করে আসছে। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও আক্রমণ তীব্রভাবে বেড়েছে।

দুই বিজেপি নেতার, বিশেষ করে নূপুর শর্মার বক্তব্য ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে ক্ষুব্ধ করেছে। কিছু রাজ্যে বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভও দেখা গেছে।

বিজেপির এই দুই নেতা এরই মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। নূপুরের সদস্যপদ স্থগিত এবং জিন্দালকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি এক বিবৃতিতে বিজেপি বলেছে, “বিজেপি যেকোনো ধর্মের যেকোনো ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে অপমানের কঠোর নিন্দা জানায়। কোনো সম্প্রদায় বা ধর্মকে অপমান বা হেয় করে- এমন যেকোনো আদর্শেরও বিরুদ্ধেও বিজেপি। বিজেপি এ ধরণের মানুষ কিংবা দর্শনকে সমর্থন করে না।”

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় যেভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গেছে তাতে বিজেপির নেওয়া এ পদক্ষেপ হয়ত যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে না।

ভারতকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “এ ধরনের ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য যদি শাস্তি পেতে না হয়, এটি যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা মানবাধিকারের জন্য গুরুতর হুমকি হবে। এর মাধ্যমে বিদ্বেষ ও বিভাজন আরও বাড়বে, যা সংঘাত ও ঘৃণার চক্র তৈরি করবে।”

সৌদি আরবও তাদের বিবৃতিতে কড়া কড়া শব্দ ব্যবহার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিজেপির মুখপাত্রের বক্তব্যের নিন্দা জানাচ্ছে তারা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনীতিকদের মুখ খুলতে হচ্ছে।

কাতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তাল বলেছেন, ‘বিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তির’ মন্তব্য ভারত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করে না। বিজেপির সিনিয়র নেতা এবং অন্যান্য কূটনীতিকরাও বিতর্কিত সেই বক্তব্যের নিন্দা করেছেন।

বিতর্কিত ওই মন্তব্যের জেরে ৫৭ সদস্যের অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স (ওআইসি) এবং পাকিস্তানও ভারতের সমালোচনা করেছে। দিল্লি অবশ্য ওআইসি ও পাকিস্তানের সমালোচনাকে উড়িযে দিয়েছে। বলেছে, তাদের মন্তব্য ‘অবাঞ্ছিত ও সংকীর্ণচিত্তের’।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জল অনেকদূর গড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামলাতে এখন বিজেপি ও সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়া লাগতে পারে। তা না হলে আরব বিশ্ব ও ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সংকটে অনেক কিছু :

উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্য কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান এবং ইউএই। এই জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে ভারতের। ২০২০-২০২১ সালে জিসিসির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

এসব দেশে লাখ লাখ ভারতীয় কাজ করে, যারা কোটি কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠায় দেশে। ভারতের সবচেয়ে বেশি জ্বালানি আমদানিও হয় এসব দেশ থেকেই।

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিয়মিত সফর করতে দেখা গেছে। ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ভারত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে, ব্যাপক বাণিজ্য চুক্তির জন্য জিসিসির সঙ্গে তাদের আলাপও চলছে।

নরেন্দ্র মোদী ২০১৮ সালে আবুধাবিতে প্রথম হিন্দু মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন; একে ভারতের সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নজির বলে অভিহিতও করেছিলেন।

নবীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া দেশগুলোর তালিকায় আরব আমিরাতের নাম থাকা নয়া দিল্লির জন্য ‘খুবই দুশ্চিন্তার’, বলছেন বিশ্লেষকরা।

গত কয়েক বছরে আরব আমিরাতের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দেশটি বহুজাতিক বিভিন্ন ফোরামে ভারতকে সমর্থনও করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যে বিতর্ক শুরু হয়েছে তা আরব আমিরাত এবং অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সাফল্যে ছায়া ফেলতে পারে।

কয়েক বছরে দিল্লির সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কে আগের মতো উষ্ণতা নেই। এর মধ্যে এই বিতর্ক ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ানের আসন্ন ভারত সফরেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক অনিল ত্রিগুনায়াত আরব বিশ্বে কাজ করেছেন। তার ভাষ্য, ভারত এখন জটিল পরিস্থিতিতে আছে, এবং কেবল নেতৃত্ব পর্যায়ে আন্তরিক প্রচেষ্টাই ভারতের নেতিবাচক পতন রোধ করতে পারে।

এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে ভারতকে যে কূটনৈতিক মূল্য দিতে হবে, তাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের স্বার্থের বিশাল ক্ষতি করতে পারে, বলছেন অন্য কূটনীতিকরাও।

উইলসন সেন্টারের এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, বিদেশি রাষ্ট্র এমনকি দিল্লির ঘনিষ্ঠ কেউও যখন ভারতের কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সমালোচনা করেন, তখন ভারতীয় কর্মকর্তারা প্রায়শই আত্মপক্ষ সমর্থন করে প্রতিক্রিয়া দেখান।

“কিন্তু এই ক্ষেত্রে ভারতীয় কূটনীতিকরা ক্ষমা প্রার্থনা থেকে শুরু করে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নানা কৌশল অবলম্বন করতে পারেন,” বলেছেন তিনি।

আরব দেশগুলোও নিজ দেশের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ কমানোর উপায় খুঁজছে। এসব দেশে ভারতের সমালোচনা করে দেওয়া হ্যাশট্যাগগুলো ট্রেন্ড হচ্ছে, দেশগুলোর গণমাধ্যমেও নবী মোহাম্মদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ইস্যুটির খবর নিয়মিত আসছে।

এর মধ্যে কিছু হ্যাশট্যাগে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। কাতার ও কুয়েতের অনেক দোকান তাদের তাক থেকে ভারতীয় পণ্য সরিয়ে নিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

কুগেলম্যানসহ অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জিসিসির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এবং উভয় পক্ষই উত্তেজনা কমানোর দিকে মনোযোগ দেবে।

“কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে। অবশ্য ভারত তার শক্তিশালী অবস্থান ও প্রভাবের কারণেও নিজেকে কিছুটা রক্ষা করতে পারবে।

“নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থেই উপসাগরীয় দেশগুলো চাইবে ভারত তাদের কাছ থেকে জ্বালানি কিনুক, তারা চাইবে ভারতীয়রা থাকুক, কাজ করুক। সর্বোপরি তারা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে চাইবে,” বলেছেন তিনি।

ধর্মীয় বিভাজন বাড়ছে :

সমালোচকরা বলছেনে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতে ধর্মীয় মেরুকরণ বাড়ছিল। তার মধ্যে শতাব্দী প্রাচীন একটি মসজিদে প্রার্থনার অনুমতি চেয়ে বারানসীর স্থানীয় আদালতে হিন্দুদের কয়েকটি দলের আবেদনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনাও ছিল চরমে।

যে মসজিদে প্রার্থনার আবেদন জানানো হয়েছিল, সেটি একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপর নির্মিত হয়েছিল বলে দাবি করে আসছেন কট্টরপন্থি হিন্দুরা।

এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে টিভি চ্যানেলগুলো উস্কানিমূলক বিতর্কের আয়োজন করেছে; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্তর বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা দেখা গেছে। ডানপন্থি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অনেকে বিভিন্ন টিভি শোতে বিতর্কিত বক্তব্যও দিয়েছেন।

সমালোচকরা বলছেন, বিজেপি দাবি করলেও নূপুর শর্মা মোটেও ‘বিচ্ছিন্ন কেউ’ নন। তিনি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র ছিলেন, যার কাজ ছিল বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা।

বিষয়টি নিয়ে এই আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন ভারতের জন্য ‘জেগে ওঠার’ বার্তা হওয়া উচিত; বিভাজনের রাজনীতি যে আন্তর্জাতিক জটিলতায়ও ফেলতে পারে, তাও তাদের শেখা উচিত, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

“ক্রমবর্ধমান বিষাক্ত রাজনীতির ক্ষেত্রে, ভারতে যা ঘটে, সবসময়ই যে তা ভারতের ভেতরেই থাকে না, দিল্লি তা শিখছে। বিশ্বব্যাপী ভারতের যখন প্রভাব বাড়ছে, বিদেশে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হচ্ছে; তখন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিদেশের অসন্তোষের কারণ হলে ঝুঁকি বাড়বে,” বলেছেন কুগেলম্যান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest