সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কালিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যদেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যুরেকর্ডীয় সম্পত্তিতে জোর পূর্বক ঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধেতালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনআশাশুনিতে অবঃ শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম গঠন

দেশের খবর: ঢাকা বিভাগ ভেঙে বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলা নিয়ে পদ্মা নদীর নামানুসারে ‘পদ্মা’ নামে নতুন বিভাগ হচ্ছে। একইভাবে চট্টগ্রাম বিভাগ ভেঙে বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ছয় জেলা নিয়ে মেঘনা নদীর নামানুসারে ‘মেঘনা’ নামে অন্য একটি নতুন বিভাগ করা হচ্ছে। এই প্রথম দেশের প্রধান দুটি নদী পদ্মা-মেঘনার নামে নতুন দুটি বিভাগ হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত পদ্মা বিভাগের সদর দফতর হবে ফরিদপুরে এবং মেঘনা বিভাগের সদর দফতর হবে কুমিল্লায়।

আগামীকাল সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে এ বিভাগ দুটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার কথা। এ ছাড়া ওই বৈঠকে একটি নতুন পৌরসভা ও আরেকটি পৌরসভার সীমানা নির্ধারণসহ মোট ছয়টি এজেন্ডা উপস্থাপন করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিভাগ ভেঙে প্রস্তাবিত বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলা ফরিদপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর নিয়ে পদ্মা নদীর নামানুসারে এ বিভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর এর সদর দফতর হবে ফরিদপুরে। ফরিদপুর জেলার আয়তন ২ হাজার ৭৩ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ৬৯৭। গোপালগঞ্জ জেলার আয়তন ১ হাজার ৪৬৮ দশমিক ৭৪ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১১ লাখ ৭২ হাজার ৪১৫। রাজবাড়ীর আয়তন ১ হাজার ১১৮ দশমিক ৮০ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১০ লাখ ১৫ হাজার ৫১৯। শরীয়তপুরের আয়তন ১ হাজার ৩৬৩ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৪। মাদারীপুরের আয়তন ১ হাজার ১২৫ দশমিক ৬৯ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১২ লাখ ১২ হাজার ১৯৮। ফলে পদ্মা বিভাগের মোট আয়তন হবে ৭ হাজার ১৪৯ দশমিক ৯৯ বর্গকিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫৩। সাক্ষরতার হার ৪৮ দশমিক ৯ ভাগ।

বৃহত্তর কুমিল্লার তিন জেলা কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর এবং বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলা নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ মোট ছয় জেলা নিয়ে মেঘনা নদীর নামে ‘মেঘনা’ বিভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সদর দফতর হবে কুমিল্লায়। তবে বিভাগ সংক্রান্ত গণশুনানিতে নোয়াখালীর নেতারা প্রস্তাবিত মেঘনা বিভাগে থাকার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। অন্যদিকে কুমিল্লার সর্বস্তরের জনগণ তাদের বিভাগের নাম কুমিল্লা নামেই করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে সম্মতি দেননি। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক সভায় কোনো জেলার নামে নয়, নতুন দুটি বিভাগ পদ্মা ও মেঘনা নদীর নামেই হবে বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একনেকের বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানিয়েছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

জানা গেছে, বর্তমানে বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালীর ছয়টি জেলায় প্রায় ২ কোটি জনসংখ্যা রয়েছে। ওই ছয় জেলার আয়তন প্রায় ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার, যা ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের চেয়ে জনসংখ্যা ও আয়তনের প্রায় দ্বিগুণ। কুমিল্লায় সরকারের প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে কুমিল্লায় বিভাগ হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওপর জনগণের চাপ কমবে। ঢাকা শহরে বাড়তি লোকের চাপ হবে না। সেখানে যানজটও কমে আসবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে কুমিল্লার অবস্থান। একটি পরিপূর্ণ আবাসিক জেলা হিসেবে কুমিল্লার সুনাম রয়েছে। রাজধানী ও বন্দরনগরের ওপর চাপ কমাতে এ শহর বেশ ভূমিকা রাখবে। বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ছয় জেলার মধ্যবর্তী স্থানেও কুমিল্লার অবস্থান। ভৌগোলিক ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কুমিল্লা খুবই সমৃদ্ধ জনপদ। এ ছয় জেলার মানুষের সঙ্গে সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ অত্যন্ত মসৃণ। দাফতরিক বেশির ভাগ কাজেই ছয় জেলার মানুষ কুমিল্লায় জড়ো হন। এখানে দিনে এসে দিনে কাজ করে বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব। ছয় জেলার মানুষের আঞ্চলিক ভাষাও কাছাকাছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৫ টি বিশ্বরেকর্ড গড়তে যাচ্ছে পদ্মা সেতু

অনলাইন ডেস্ক: আর মাত্র ২৪ দিন পরেই উদ্বোধন করা হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন ঘেরা সেতুটিতে চলবে যানবাহন। এই সেতুটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু।

তবে কেবল এই রেকর্ড নয়, পদ্মা সেতুর ঝুলিতে রয়েছে ৫ বিশ্ব রেকর্ড। যার মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায় এটি কেবল একটি সাধারণ ব্রিজ বা সেতু নয় বরং বাঙালির অহংকার হতে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর রেকর্ডগুলো জানুন।

গভীরতম পাইল :

খরস্রোতা পদ্মা নদীতে নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু। পানি প্রবাহের বিবেচনায় বিশ্বে আমাজন নদীর পরই এর অবস্থান। মাটির ১২০ থেকে ১২৭ মিটার গভীরে গিয়ে পাইল বসানো হয়েছে এই সেতুতে। পৃথিবীর অন্য কোনো সেতু তৈরিতে এত গভীরে গিয়ে পাইল প্রবেশ করাতে হয়নি।

পদ্মা সেতু পাইলিং ও খুঁটির কিছু অংশে অতি মিহি মাইক্রোফাইন্ট সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এসব সিমেন্ট অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। সাধারণত কোনো সেতু তৈরিতে এত মিহি সিমেন্ট ব্যবহার করা হয় না।

পদ্মা সেতুর নদীতে থাকা ৪০টি পিলারের নিচের পাইল ইস্পাতের। আর ডাঙার দুইটি পিলারের পাইল কংক্রিটের। নদীতে যেসব পাইল বসানো হয়েছে সেগুলোতে দেওয়া হয়েছে ৩ মিটার ব্যাসার্ধের ইস্পাতের বড় পাইপ, যার ভেতরের অংশ ফাঁপা। নদীতে থাকা ৪০টি পিলারের মধ্যে ১৮টি পিলারের নিচে ইস্পাতের এমন ছয়টি করে পাইপ দেওয়া হয়েছে। বাকি ২২টি পিলারে বসানো হয়েছে ৭টি করে পাইপ। ডাঙার দুইটি পিলারের নিচে পাইল আছে ৩২টি। নদীতে পাইলিং করে তার মধ্যে রড ও কংক্রিটের ঢালাই দেওয়া হয়েছে।

সর্বোচ্চ সক্ষমতার বিয়ারিং :

পদ্মা সেতু এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন তা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও অটল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে। সেতুটিকে ভূমিকম্প থেকে রক্ষা করতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বেয়ারিং’। যার সক্ষমতা ১০ হাজার টন। এত বেশি সক্ষমতা সম্পন্ন বিয়ারিং এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো সেতুতে ব্যবহার করা হয়নি। ফলে, রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেও পদ্মা সেতু টিকে থাকতে পারবে।

নদী শাসন :

নদী শাসনের দিক থেকেও রেকর্ড করেছে এই সেতু। ১৪ কিলোমিটার নদী শাসন করা হচ্ছে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে। এর মধ্যে সেতুর মাওয়া প্রান্তে ১.৬ কিলোমিটার এবং জাজিরা প্রান্তে ১২.৪ কিলোমিটার এলাকা নদী শাসনের আওতায় এনে কাজ চলছে। পদ্মা সেতু তৈরিতে মোট খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। যার মধ্যে ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে নদী শাসনের জন্য। এর আগে নদীশাসনে এককভাবে এত বড় দরপত্র বিশ্বে আর হয়নি।

ব্রিজে ব্যবহৃত ক্রেন :

পিলারের ওপর স্প্যান বসাতে যে ক্রেনটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি চীন থেকে আনা হয়েছে। প্রতি মাসে এর ভাড়া বাবদ গুণতে হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের জুন থেকে শুরু করে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ক্রেনের জন্য খরচ হয়েছে সাড়ে তিন বছরে ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিশ্বে আর কোনো সেতু তৈরিতে ক্রেনের এত ভাড়া গুণতে হয়নি। উল্লেখ্য, এই ক্রেনটির বাজার দর ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সেতু তৈরির উপাদান :

আরেকটি রেকর্ড রয়েছে এর ঝুলিতে। পদ্মা সেতুই বিশ্বে প্রথম যেটি কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে। এই দুইটি উপাদানে এর আগে কোনো সেতু তৈরি হয়নি।

অর্থাৎ, নিজের বৈশিষ্ট্যের কারণেই পদ্মা সেতু বাংলাদেশ তো বটেই, পুরো বিশ্বেই আলোড়ন সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা!

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ চার দিনের ব্যবধানে দু’বার ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ভিকটিম এসএসসি পরীক্ষাথী মাইমুনা ইয়াসমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়ার চাচা মুনসুর আলীর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
মৃত মাইমুনা ইয়াসমিন সাতক্ষীরা শহরের দক্ষিণ কাটিয়া ঈদগাহ এলাকার আজিজুর রহমানের মেয়ে। সে নবারুন বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

কাটিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, গত ৩ মে সাতক্ষীরা শহরতলীর ইটাগাছার বনলতা হাউজিং কমপ্লেক্স এলাকায় এক সময়কার সহপাঠীর বাড়িতে যেয়ে পূর্ব পরিচিত জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইরুনিয়নের খলিষাবুনিয়া গ্রামের হৃদয় হোসেন(২১) চেতনানাশক ¯েপ্র করে মাইমুনা ইয়াসমিনকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে গত ৭ মে সন্ধ্যার পর বাড়ির পিছনে এক নারীর সহযোগিতায় গোয়ালঘরে হৃদয় হোসেন তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চার দিনের ব্যবধানে ওই মেয়ে দুইবার ধর্ষিত হয়েছে এমন অভিযোগে তার বাবা আজিজুর রহমান বাদি হয়ে ৯ মে সাতক্ষীরা সদর থানায় হৃদয় হোসেন ও দুই নারীর নাম উল্লেখ করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(২)/৩০ ধারায় মামলা(২০) দায়ের করেন।
মামলা রেকর্ড করার ঘটনাস্থলে যেয়ে ও ওই দুই নারীসহ চারজনকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভিকটিমের বক্তব্যের সাথে মামলায় বর্ণিত অভিযোগ গোলমেলে মনে হওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

১০ মে মেয়েটি সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম ইয়াসমিন নাহারের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। একই দিনে সদর হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। মামলার পর থেকে মেয়েটি বিমর্ষ ছিল।

মিজানুর রহমান আরো জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে মাইমুনা ইয়াসমিনের লাশ তার বাড়ি সংলগ্ন ঢাকায় অবস্থানকারি চাচা মুনসুর রহমানের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। মেয়েকে ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ রেখে চাবি তার বাবা আজিজুর রহমান নিয়ে গিয়েছিলেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা মোঃ গোলাম কবীর জানান, মাইমুনা ইয়াসমিনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের বাবা বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। লাশের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।#

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশের মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি

অর্থনীতির খবর: মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবারও ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে। এর ফলে রিজার্ভ কমে ৪২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাসে (২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ৩১ মে) প্রায় ৬০০ কোটি (৬ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজার থেকে ৫৩ হাজার কোটি টাকার (প্রতি ডলার ৮৯টাকা) বেশি তুলে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এত ডলার বাজারে ছাড়া হয়নি। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে।

বাজারে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ কম। সে কারণে প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তব্যাংক দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সামাল দিতে সবশেষ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরেক দফা কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ দফায় এক ধাক্কায় টাকার মান ১ টাকা ১০ পয়সা কমিয়ে সব ব্যাংকের জন্য ডলারের একক দর ৮৯ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দরে ডলার কেনাবেচা করলেও সাধারণ মানুষের কাছে নগদ ডলার বিক্রি করছে সাড়ে ৪ টাকা থেকে ৭ টাকা বেশি দরে। খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে বিক্রি হচ্ছে আরও বেশি দামে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক মঙ্গলবার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক থেকে ১ ডলার কিনতে লেগেছে ৯৩ টাকা ৯০ পয়সা। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯৩ টাকা ৫০ পয়সায়।

বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে ১ ডলার কিনতে লেগেছে ৯৬ টাকা। প্রাইম ব্যাংক নিয়েছে ৯৫ টাকা। খোলাবাজারে প্রতি ডলার ৯৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

অস্থির বাজারে ১৭ মে খোলাবাজারে ডলারের দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে ১০৪ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। ১৮ মে ১০০ টাকার বেশি দরে কার্ব মাকেটে ডলার বিক্রি হয়। ১৯ মে অবশ্য ডলারের দর ১০০ টাকার নিচে নেমে এসে ৯৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৯৬ টাকায় ৩০ পয়সায় বিক্রি হয়। এরপর থেকে কার্ব মাকেটে ডলার ৯৬ টাকা থেকে ৯৮ টাকার মধ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে।

ওই কয় দিন ইস্টার্ন ও প্রাইম ব্যাংক ৯৮ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে।

ব্যাংকগুলোর দাবির পরিপেক্ষিতে রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তব্যাংক কেনাবেচার ক্ষেত্রে ডলারের দাম ৮৯ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। পাশাপাশি আমদানিকারকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের দাম ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। ব্যাংকগুলো অবশ্য আন্তব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিল।

ব্যাংকগুলো সোম ও মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া ৮৯ টাকা দরে নিজেদের মধ্যে ডলার কেনোবেচা করেছে। আমদানিকারকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রেও ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা দর মেনেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বাজারে ডলারের চাহিদা মেটাতে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের মঙ্গলবার পর্যন্ত অর্থাৎ অর্থবছরের ১১ মাসে মোট ৫৯৫ কোটি (৫.৯৫ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক । বিভিন্ন সময়ে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার দরে এই ডলার বাজারে ছাড়া হয়েছে।

মঙ্গলবার যে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার ছাড়া হয়েছে তা সোমবার থেকে নতুন বেঁধে দেওয়া দর ৮৯ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছর জুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে বাজার থেকে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার দর।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ১০ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অনলাইন ডেস্ক : ২০০৯ সাল থেকে দূরদর্শী রাজস্ব ও ঋণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশ। গত ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিক রয়েছে এবং মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালে এই অঞ্চলের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা সাড়ে ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান প্রায় এক তৃতীয়াংশ। তবে ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান এক পঞ্চমাংশ থেকে বেড়ে এক তৃতীয়াংশ হয়েছে।

১৯৮০ সালের পর থেকে জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অবদান দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৯০’র দশকের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি ২০ গুণ বেড়ে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স থেকে শুরু করে স্বল্প মজুরির শ্রমও অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

রেমিটেন্স, রপ্তানি এবং কৃষির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারতের তুলনায় মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০২০ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৯৮ ডলার থেকে কমে এক হাজার ৯২৯ ডলার হয়েছে। দেশটির অর্থনীতির আকার ২ দশমিক ৮৭ ট্রিলিয়ন থেকে কমে ২ দশমিক ৬৬ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

গত ১৫ বছরে প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ ধরে রাখায় ২০২০ সালে মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ৯৬১ মার্কিন ডলার নিয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। একই বছর বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৩৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। ২০০৪ সালের পর থেকে প্রত্যেক বছর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। ২০১৭ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করায় বড় প্রতিবেশী এই দেশটিকে ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক ঋণ সংকটের আগে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ভারতের অর্ধেক থাকলেও ২০১৪ সালের মধ্যে তা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে ভারতের অর্থনীতি ৭.৩ শতাংশ সংকুচিত হলেও একই সময়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৩ শতাংশ বেড়েছে।

আজ বাংলাদেশ রাজস্ব ঘাটতি, পণ্যসামগ্রী বাণিজ্যের ভারসাম্য, কর্মসংস্থান, সরকারি ঋণ এবং বিনিয়োগ থেকে জিডিপির অনুপাতেও ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া মানব উন্নয়ন কর্মসূচি বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা, প্রজনন হার এবং বাল্যবিয়ে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

গড় আয়ু, জন্মহার এবং শিশু পুষ্টির মতো বেশ কিছু মানব উন্নয়ন সূচকে ভারতের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্থানের সুযোগ-সুবিধা বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে গেছে। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করেছে, যার ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হয়েছে।

অন্যদিকে, মানব উন্নয়ন সূচকে ভারতের অবস্থান সুবিধাজনক নয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলোতে এসব সূচক অত্যন্ত নাজুক। যেমন— বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে গত বছর কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের হার ছিল ১৯ শতাংশ। আর বাংলাদেশে তা ৩৫ শতাংশ।

ভারতের হিন্দিভাষী রাজ্যগুলো বাল্যবিয়ে এবং অকাল গর্ভধারণ মোকাবিলায় রীতিমতো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিহার রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি ১ হাজারে অন্তত ৪৭। বাংলাদেশের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রজনন সমস্যার সমাধান।

ভারত ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে পুরোনো ৫০০ এবং ১০০০ রুপির নোট বাতিলের ঘোষণা দেয়। দুর্নীতি প্রতিরোধ, ডিজিটাল লেনদেনে মানুষকে উৎসাহ দান, দেশকে জাল নোট মুক্ত করা এবং কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কয়েক বছর ধরে ওঠানামা করেছে। তবে ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে।

নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত মানুষের দৈনিক খাদ্য ও জ্বালানি কেনাকাটা বাধাগ্রস্ত করে। এর নেতিবাচক প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদনেও আঘাত করে। প্রায় ৮৬ শতাংশ নগদ অর্থ রাতারাতি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কল্যাণে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থানীয় মুদ্রায় গত ৫০ বছরে প্রায় ২৭০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি জিডিপির মাত্র ৫ শতাংশ বা তার কম রয়ে গেছে। রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণের ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।

মূলত বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে শ্রমঘন এবং অদক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক নির্ভর খাত টেক্সটাইল, গার্মেন্টস ও জুতো শিল্প থেকে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের সুবিধাভোগী অবস্থান, বিনিয়োগবান্ধব আইন এবং কম মজুরির কারণে অনেক ভারতীয় ক্রেতা বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে।

ভারতের ষষ্ঠ বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার বাংলাদেশ। ২০২০-২১ সালে উভয় দেশের মধ্যে ১০ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে। যা ২০১৯-২০ সালের সাড়ে ৯ বিলিয়নের চেয়ে বেশি। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি করবে। তবে এর পুরো সম্ভাবনা কেবল উন্নত পরিবহন সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে।

বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে সম্প্রতি যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে পণ্য, পরিষেবা ও জ্বালানির বাণিজ্য বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তঃসীমান্ত বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। এমনকি ছোট এক প্রতিবেশী এগিয়ে যাওয়ায় এখনও অব্যবহৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার অন্বেষণ বাকি রয়েছে। তবে আপাতত দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক বীরত্বের যাত্রা উপভোগ করছে বাংলাদেশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণকেই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে এগিয়ে আসতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সবসময় বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার (৩১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিক্যাব টকে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় ডিক্যাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈন উদ্দিন বক্তব্যে রাখেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ভয়ভীতিহীন সাংবাদিকতা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় উৎসাহ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৫০ বছরে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করে যাবে, যেভাবে গত ৫০ বছর কাজ করে গেছে।

র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে পিটার হাস বলেন, র‌্যাবের ওপর অভিযোগের সুরাহায় সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ও বাহিনীটিকে জবাবদিহিতায় আনা ছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। আমরা র‌্যাবকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় কার্যকর একটি বাহিনী হিসেবে দেখতে চাই। তবে তাদের মৌলিক মানবাধিকারও মেনে চলতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাটকেলঘাটা খাদ্য গুদামে নিম্ন মানের চাল ক্রয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি.এল.এস.ডি) আবুল হাসানের বিরুদ্ধে নিম্ন মানের চাল আমাদানীসহ নানা অনিময় দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর সরকার নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ৫৭২৯ মেট্রিক টন চাল ও ২৫৩৪ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের জন্য বরাদ্ধ পান ওই কর্মকর্তা।

একই সাথে উপজেলা ভিত্তিত মিল এবং কৃষকদের কাছ থেকে ধান চাল ক্রয়ের কথা থাকলে ও বাস্তবে দেখা গেছে তার ভিন্ন রুপ। সরজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, খাদ্য কর্মকর্তা যোগাদের পর থেকে স্থানীয় গন্যমাধ্যম কর্মীদের ম্যানেজ করে পাটকেলঘাটা এলাকার গোটা কয়েক ব্যাবসায়ীদের সাথে গড়ে তোলে গভীর সখ্যতা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মিলের নামে বরাদ্দকৃত চাল না নিয়ে অসাধু ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহনের মাধ্যমে নিম্ন মানের চাল আমাদানি করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যাবসায়ী জানান, খাদ্য কর্মকর্তা আবুল হাসান পাটকেলঘাটা বাজারের জৈনেক ব্যাবসায়ী প্রনয় কুমার পালের কাছ থেকে ৩৩ মিলের বরাদ্ধ দিয়ে কুষ্টিয়া জেলা থেকে নিম্ন মানের চালের আমদানী করেন।

এছাড়া আরো কয়েক ব্যাবসায়ীর সাথে অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশায় আশাশুনি ও কলারোয়া উপজেলা থেকে চাল আমদানী করেন। এছাড়া চলতি বছর আমদানীকৃত ধান চাল থেকে ১০-১৫ লক্ষ টাকা আয় করবেন ওই কর্মকর্তা। এ আয়ের একটি বড় অংশ যায় জেলা ও উপজেলা খাদ্য খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাদের পকেটে বলে অভিযোগ তার। কিছুদিন আগে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করতে গেলে ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে ট্রাক ভর্তি চাল আমদানীর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এক পর্যায়ে ওই ব্যাবসায়ী চাপে পড়ে অপকটে সিন্ডিকেটের বিষয়টি স্বীকার করেন। এছাড়া নিম্ন মানের চাল আমদানির বিষয়ে তথ্য দিয়ে পরিচয় গোপনের জন্য অনুরোধ জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সরাকারী মূল্য তালিকা ৪০ টাকা কেজি হিসাবে ধার্য করা হয়েছে। অনেক সময় নিম্ন মানের চাল কিনে গোডাউনে দিতে হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এজন্য আবুল হাসানকে ১-২%হারে টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে পাটকেলঘাটা বাজারের ব্যাবসায়ীর প্রনয় কুমার পালের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি তালা উপজেলা মিল মালিক সমিতির সভাপতিসহ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ পদে সুনামের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করে আসছি। কে বা কারা আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে সেটি আমার বোদগম্য নয়। ৩৩ টা মিলের নামে আমার কোন বরাদ্ধ নেই আমি নিজেই একটি মিল চালাই। কুষ্টিয়া থেকে চাল আমাদানি করি ঠিকই তবে সেটি সরকারী গোডাউনে বিক্রি করিনা। তবে কেন ব্যাবসায়ীদের চাল কম পড়লে সাহায্য করি বলে তিনি অপকটে স্বীকার করেন। এবিষয়ে অভিযুক্ত ওই পাটকেলঘাটা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি.এল.এস.ডি) আবুল হাসানের সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিলের নামে বরাদ্ধ যে কেউ নিতে পরে তার জন্য দায়ী আমি না। আমার গোডাউনে কোন নিম্ন মানের চাল আমদানী করা হয়না। তবে বরাদ্ধকৃত মিলের তালিকা চাইলে তিনি তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাদার তেরেসা পুরুস্কার পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেককে জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ’র শুভেচ্ছা 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

সাংগঠনিক  দক্ষতা ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখায়  আলোকিত মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মাদার তেরেসা গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড – ২০২২ ইং এর পুরুস্কার পাওয়া জাতীয় শ্রমিকলীগ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী

(দাহ্য পর্দাথ বহনকারী ব্যতীত) ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং- খুলনা ৭৬৪ এর সভাপতি  বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল খালেককে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী (দাহ্য পর্দাথ বহনকারী ব্যতীত) ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং- ৭৬৪ এর নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার সকালে নারিকেল তলা মোড়স্থ অত্র শ্রমিক ইউনিয়ন কার্য্যলয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল খালেককে ফুলেল জানান জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী (দাহ্য পর্দাথ বহনকারী ব্যতীত) ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং- খুলনা ৭৬৪ এর সহ-সভাপতি মোঃ রকিব,  সাধারণ সম্পাদক  মোঃ আব্দুল কাদের কাদু,

সহ-সাধারন সম্পাদক শেখ জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সড়ক সম্পাদক কবিরুল ইসলাম, কোষাইধক্ষ আশরাফুজ্জামান ময়না, অফিস সম্পাদক সেলিম আহমেদ,  কার্য্যকারী সদস্য আবু সিদ্দিক,  শামিম রেজা, আঃ রাজ্জাক, আঃ কাদের, আক্তার হোসেন বাবলু, শহিদুল বিশ্বাস, সাইফুল ইসলাম, মামুন কবির, অফিস সহকারী আশরাফ আলী প্রমূখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest