সর্বশেষ সংবাদ-
কালিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যদেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যুরেকর্ডীয় সম্পত্তিতে জোর পূর্বক ঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধেতালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনআশাশুনিতে অবঃ শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম গঠনআশাশুনিতে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতিসাতক্ষীরা জেলা হিউম্যান রাইটস জার্নালিষ্ট নেটওয়ার্কের কমিটি গঠন

সাংবাদিক অপূর্ব অপুকে অপহরণচেষ্টা: প্রতিবাদে উত্তাল বরিশাল

বরিশাল ব্যুরো

প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বরিশাল। সময় টিভির বরিশাল ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক অপূর্ব অপুকে অপহরণচেষ্টায় জড়িতরা গ্রেফতার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বরিশালের সর্বস্থরের মানুষ।

বুধবার (১ জুন) সকালে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে ডাক দিলে তা জন সমুদ্রে রূপ পায়।

অর্ধশত সামাজিক,সাংস্কৃতিক, পেশাজীবি ও প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ আন্দোলনে একাট্টা হয়ে অপুকে অপহরনকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। সমাবেশে সাংবাদিক,শিক্ষক,সংস্কৃতি কর্মী, রাজনৈতিক নেতারা আল্টিমেটাম দেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপরাধীদের ধরতে না পারলে বরিশালে বৃহত্তর কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দেওয়া হবে।

নির্ধারিত সময় সকাল ১১ টার অনেক আগেই গোটা সদর রোড এলাকা লোকেলোকারন্য হয়। সমাবেশে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দীন বাবুলের সভাপতিত্বে আন্দোলনে একাতত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর, বরিশাল আইনজীবী সমিতি সাবেক সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল,শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন,বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইফুর রহমান মিরন, সাধারণ সম্পাদক ফিরদাউস সোহাগ,বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নজমুল হোসেন আকাশ,বরিশাল আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ স ম ইমামুল হাকিম, বিএম কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মিথুন সাহা, বরিশাল টেলিভিশন মিডিয়া এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আকতার ফারুক শাহীন, বরিশাল ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিইমজা) এর সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন সুমন,ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চীফ এ্যাসোসিয়েশন অফ বরিশালের সভাপতি পুলক চ্যাটার্জী ও সাধারণ সম্পাদক আকতার ফারুক শাহিন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজল ঘোষ, বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ চক্রবর্তী, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো প্রধান রাহাত খান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন বরিশাল ব্যুরো প্রধান মুরাদ আহমেদ, দৈনিক ইত্তেফাকের বরিশাল অফিস প্রধান শাহীন হাফিজ,পরিবেশ আন্দোলন নেতা শুভঙ্কর চক্রবর্তী, সম্মিলিত নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এনায়েত হোসেন শিপলু ছাড়াও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা,বরিশাল নিউজ এডিটরস কাউন্সিল, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি,বরিশাল ফটো সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ, বরিশাল টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সাংবাদিক সংগঠন ,সামাজিক সংগঠন , রাজনৈতিক সংগঠন,নাগরিক সমাজ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ।

সমাবেশে বরিশাল আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে অপুর ওপার হামলা ন্যাক্কারজনক। আমরা সাংবাদিকরা এমন ঘটনায় চিন্তিত। অপুর মতো একজন সাংবাদিকের উপর যদি দিনে দুপুরে এমন হামলা হয় তাহলে সাধারণ মানুষ তো আরও নিরাপত্তাহীনতায় আছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এমন দাবি জানাচ্ছি।

সমাবেশে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, অপু আপদমস্তক সাংবাদিক। আমি অপুকে ছোটবেলা থেকে চিনি। ও কোনদিন ও অন্যায়ের সাথে আপোস করেনি। অপুর মতো একজন নামকরা সাংবাদিকের উপর এমন হামলা ও অপহরন চেস্টা আসলেই আমাদের সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। আমরা দ্রুত এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গেফতারের দাবি জানাই।

বরিশালে এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার আক্তার ফারুক শাহীন বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন জেহাদ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল নগরীর উত্তরাঞ্চলে। সেনা সদস্যের জমি দখল ও চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস যতরকম অপকর্ম আছে করেছে সে। জেহাদের একটা নিজস্ব বাহিনীও ছিল। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত বাকি তিনজনও এলাকার চিহ্নিত অপরাধী। এরমধ্যে ট্যারা হাবিব, নূরে আলমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আর চিড়া মামুনের বিরুদ্ধেও মাদকের মামলা রয়েছে। এসব সন্ত্রাসিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইফুর রহমান মিরন বলেন, আমাদের দাবি স্পষ্ট। প্রশাসন কি করে আমরা সেদিকে তাকিয়ে আছি।দ্রুত সব অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা না হলে আমাদের আন্দোলন আরও কঠিন হবে।

বরিশাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান মুরাদ আহমেদ বলেন, আজকের এই মানববন্ধনে জনসাধারণের উপস্থিতিই প্রমান করে অপু কতোটা সৎ সাংবাদিক। আমি শুধু সবাইকে একটি কথা হুশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই বরিশালে সন্ত্রাসের দিন শেষে সাংবাদিকদের দিন শুরু।

সংস্কৃতিজন শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, সাংবাদিক অপু জাতীয় পুরস্কারপ্নাপ্ত একজন সংস্কৃতিকর্মী। সাংবাদিকতায় তার সুনাম সর্বত্র। তার ওপর এমন হামলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সামিল।

এদিকে মানববন্ধন অংশ নিয়ে সাংবাদিক অপুকে অপহরণ চেস্টার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতারা।

বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নজমুল হোসেন আকাশ বলেন, অপু যেমন বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করে সাংবাদিকতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে ঠিক তেমনি তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক কর্মীও। অপুর উপর এমন হামলা শুধু সাংবাদিক অঙ্গনে হুমকি না। এমন হামলা প্রমান করে দেশের সাংস্কৃতিকে যারা ধ্বংস করতে চায় তারা এ হামলায় জড়িত। আমি অবিলম্বে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

বরিশাল আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, অপু একজন নামকরা সাংবাদিক তার উপর এমন হামলা মেনে নেওয়া কঠিন। পুলিশ দ্রুত সবাইকে গ্রেফতার করবে বলে আশা রাখি।

এদিকে শান্ত বরিশালকে অশান্ত করার চেস্টা কারিরাই সাংবাদিক অপুকে অপহরণের চেস্টা চালিয়েছে বলে দাবি করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, দেশ আজ উন্নয়নের পথে হাটছে। এমন সময় গনমাধ্যম কর্মীদের টার্গেট করে যারা এসব করছেন তারা সাবধান হয়ে যান। আমার প্রধানমন্ত্রী অপুর বিষয়টা জানে। আমারও জনতে হবে কেন অপুর উপর এমন হামলা। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সব অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়েছে। আপনারা দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনুন যদি না পারেন আমাদের বলুন। আমি নিজে খুঁজে বের করে তাদের আপনাদের হাতে তুলে দিব।

এদিকে মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে দাবি করছে পুলিশ।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) ফজলুল করিম জানান, সিসি টিভি ফুটেজ দেখে আমারা অপরাধীদের সনাক্ত করেছি। আমাদের অভিযান চলছে। দ্রুত আমরা অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

এদিকে গত ২৯ মে বিকেল সাড়ে ৩ টায় সময় টিভির বরিশাল অফিসে যাওয়ার পথে ব্যুরো প্রধান অপূর্ব অপুকে অপহরণচেষ্টা চালায় একদল সন্ত্রাসী। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা গেলেও এখনও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নবযুগ শিক্ষা সোপান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গাছকাটার দুর্নীতির অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নবযুগ শিক্ষা সোপান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে গাছকাটা সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (১জুন) দুপুরের দিকে স্বয়ং কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন ঐ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে এই অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের আঙিনায় অবস্থিত ফল ও ছায়াদানকারী বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নিয়ম বহির্ভুত ভাবে বিক্রয় করে দিয়েছে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম। এছাড়াও বিদ্যালয়ে পরিদর্শন কালে মাত্র একজন সহকারী শিক্ষক ও একজন কর্মচারী ছাড়া আর কারর দেখা পাননি ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন পরিদর্শকদলটি। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন শিক্ষক হাজিরা খাতায় সাক্ষর চেক করলে দেখেন যে, প্রায় সব শিক্ষক হাজিরা খাতায় সাক্ষর করে কোন দায়িত্ব পালন না করে নিয়মছাড়াই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। যার ফলে এ বিদ্যালয়ের ফলাফল সহ শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও চিন্তিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক সহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ।
ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন আরও জানান, কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি উক্ত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে গাছকাটা সহ নিয়মবহির্ভুত অনুপস্থিত থাকা শিক্ষক সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। পরিদর্শন কালে আমি প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার সব নং বন্ধ পাই। এমতাবস্থায় আমি অত্র এলাকার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য এবং নিয়ম বহির্ভুতভাবে গাছ বিক্রয় করা সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কালিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তবে বিভিন্ন অনিয়মের কথা অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের বেঞ্চ সংকটের কারনে গাছ কেটে তা বেঞ্চ তেরি করা হয়েছে। আর পরের দিন (বৃহস্পতিবার) পরীক্ষা থাকায় সাড়ে ১২টার পরই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের কে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষা গ্রহনের পূর্ব প্রস্তুতির জন্য অধিকাংশ শিক্ষকরা ব্যস্ত ছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নদী খননে টিআরএম বাস্তবায়ন এবং উপকূলে টেকসই ভেড়ীবাধ নির্মানের দাবিতে পথসভা

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরায় কপোতাক্ষ, বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী খননে টিআরএম বাস্তবায়ন এবং উপকূলে টেকসই ভেড়ীবাধ নির্মানের দাবিতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকাল ৫টায় সাতক্ষীরা ইটাগাছা মোড়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন, নদী বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি আদিত্য মল্লিক।

নদী বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি, সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি মোঃ কওছার আলী, নদী, বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুস সামাদ, মানবাধিকার কর্মী শেখ ফারুক হোসেন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলী (ছোট বাবু),মনিরুল ইসলাম (রানা),

মোঃ হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সেলিম, দপ্তর সম্পাদক শেখ হাফিজুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন, আরমান আলী সহ মীর আশিক ইকবাল (বাপ্পী), মোঃ শাহাজান আলী, মোছাঃ নাজমা খাতুন মহিলা সম্পাদিকা, লাবসা ইউনিয়ন ভূমিহীন সমিতির সভাপতি শেখ রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।
বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় পথসভায় বক্তারা বলেন, বেতনা মরিচচাপ খননের জন্য বাজেট সঠিকভাবে খননের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কিন না তার জন্য সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং কার্যক্রম সমন্বয় ও গতিশীল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বয়ে একটি ফোরাম গঠন করতে হবে। যে কোন ধরনের বিপর্যয় এড়ানোর জন্য নির্ধারিত সময়ে বেতনা, মরিচচাপ খনন ও পার্শ্ব খালের সাথে সংযোগ টি আর এম, বাস্তবায়ন টেকসই বেড়িবাঁধ অসহায় ভূমিহীনদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

টি আর এম বাস্তবায়ন না হলে সরকার নদী রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে বেতনা মরিচচাপ খনন করার পর কোন আশার আলোর মুখ দেখবে না। অববাহিকার মানুষ ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে। মানুষের দাবী গুরুত্ব প্রদান করে সক্রিয় জন অংশগ্রহন সহ টি আর এম বাস্তবায়নের মাধ্যমে পলি ব্যবস্থাপনা হলে বেতনা মরিচচাপের পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।
অত্র এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধান হবে। কৃষি মৎস্যসহ এলাকার জীব বৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। ভূ- গর্ভস্থ পানি স্থির ও বৃদ্ধি পাবে ফলে মানুষের জীবন জীবিকার পরিবেশ ফিরে আসার মাধ্যমে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে ব্যক্ত করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি :পুষ্টি পরিবেশ অর্থেনৈতিক উন্নয়নে দুগ্ধ শিল্প” এই প্রতিপাদ্যে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ও দুগ্ধ সপ্তাহ ২০২২ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় র‌্যালি আলোচনা সভা ও এতিমখানা, প্রতিবন্ধী, ও স্কুলের শিশুদের মাঝে প্যাকেটজাত দুধ বিতরণ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পাদ অধিদপ্তরের আয়োজনে ও প্রাণিসম্পাদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প প্রাণিসম্পাদ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ও দুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে বুধবার (০১জুন) সকাল ১১ টায় জেলা প্রাণিসম্পাদ অফিসে সামনে থেকে র‌্যালি বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আরিফুর রহমান’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি,

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পাদ অফিসার ডা. এবিএম আব্দুর রউফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিন, জেলা বেটেরিনারী কর্মকতা ডা. বিপ্লব জিৎ কর্মকার,জেলা কৃত্রিম প্রজনন উপ-পরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পাদ প্রশিক্ষন কর্মকতা সুব্রত কুমার ব্যানার্জী সদর উপজেলা প্রণিসম্পাদ কর্মকতা মো. নাজমুস সাকিব সুইড খাতিমুনেচ্ছা হানিফ লস্কার প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম রফিক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন শিশুদের বেড়ে ওঠা
মেধা শক্তির জন্য দুধের প্রয়োজনিতা অপরিসীম দুধে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি রয়েছে। ডেইলি শিল্পের ভেতরে সিরাজগঞ্জ ১ম এবং সাতক্ষীরা জেলা ২য় স্থানে রয়েছে। রেগুলার ২০-৩০ হাজার লিটার সংগ্রহ করে মিল্কভিটা জেলা প্রাণি সম্পাদ অধিদপ্তর নিরাপদ দুধ উৎপাদের জন সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে সাতক্ষীরা জেলা দুধ উৎপাদনে দেশের মধ্যে প্রথম হবে বলে মনে করি আমরা।

এর আগে সকালে সাতক্ষীরা সরকারি বালক শিশু পারিবার, সুইড খাতিমুনেচ্ছা হানিফ লস্কার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল, ইসলামিয়া সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় ও জেলা কালেক্টেড স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্যাকেটজাত দুধ ও টি-শার্ট বিতরণ করা হয়। ###

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে পরিবহনের ধাক্কা: হেলপারসহ ১০জন আহত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাকা মারায় হানিফ পরিহনের এক হেল্পারসহ ১০ যাত্রী আহত হয়েছে। বুধবার ভোরে সাতক্ষীরা -যশোর সড়কের ছয়ঘরিয়া স্টার ভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সদর উপজেলার ঘোনা গ্রামের তানভির হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি গাবতলী টার্মিনাল থেকে সাতক্ষীরা আসার উদ্দেশ্যে হানিফ পরিবহনে(ঢাকা মেট্রো-ব – ১৪-৬৪৩৪) ওঠেন। ভোর চারটার দিকে পরিবহনটি সাতক্ষীরা সদরের ছয়ঘরিয়া স্টার ভাটার সামনে পৌঁছালে রাস্তায় কাচা মাটি পড়ে থাকার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাম পাশের একটি সৃস্টিফুল গাছে ধাক্কা মারে। এতে গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

হেলপার কলারোয়া উপজেলার শুভঙ্করকাটি গ্রামের মিহির মীর গেটের পাশের সীটের সঙ্গে চ্যাপটা হয়ে যায়। এ সময় তিনি ছাড়াও একই এলাকার আমেনা খাতুন, ইয়াছির আরাফাত,

শেখ গোলাম আযম ১০জন আহত হন। ফায়ার ব্রিগেড এসে মিহির মীরকে গাড়ির অংশ বিশেষ কেটে বের করে আনেন। মিহির মীরের দু’ পা মারাত্মক জখম হয়েছে। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ফয়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সাতক্ষীরা শাখার কর্মকর্তা অর্ঘ দেবনাথ জানান, দুর্ঘটনা কবলিত হানিফ পরিবহন থেকে হেলপার মিহির মীরকে তারা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধার করে।

বিনেরপোতা এলাকার নদী খননের কাচা মাটি ও স্থানীয় কৃষি জমির মাটি ভাটায় নিয়ে যাওয়ার কারণে ট্রলি থেকে পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই হানিফ পরিবহনসহ অন্যান্য গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ গোলাম কবীর জানান, দুর্ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন মর্মে তিনি জেনেছেন।#

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় মেয়েকে চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে মাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরায় বেসরকারি ক্লিনিকের এক নার্সকে সরকারি চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে তার মাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এঘটনায় ভুক্তভোগী নার্সের মাতা (৩৮) বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলার দায়ের করেছে। যার মামলা নং- ৮১, তাং ৩০/০৫/২২।

অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম জুয়েল (৩৫) সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল গ্রামের আব্দুল মান্নান মোল্যার পুত্র।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আশাশুনি উপজেলার পরিমল রায়ের কন্যা সাতক্ষীরা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স পদে চাকুরী করে। সম্প্রতি তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সরকারি নার্স পদে চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখায় পলাশপোল এলাকার আব্দুল মান্নান মোল্যার পুত্র আমিনুল ইসলাম জুয়েল। এ উদ্দেশ্যে ওই নার্সের মায়ের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করেন।

কিন্তু চাকুরি দিতে না পেরে ঘোরাতে থাকে। একপর্যায়ে গত ২৬ মে ২২ তারিখে ওই নার্স ক্লিনিকে চলে যাওয়ার পর বাড়িতে তার মা একা ছিলেন। এসময় উল্লেখিত আমিরুল ইসলাম জুয়েল তাদের ভাড়াবাড়িতে গিয়ে নার্সের মাকে একা পেয়ে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং যৌন পীড়ন ঘটনায়। সে সময় তার ডাক চিৎকারে বাড়ির মালিকসহ স্থানীয়রা ছুটে আসলে আমিরুল ইসলাম জুয়েল পালিয়ে যায়। এঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ওই নারী সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি ধর্ষন চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেশের খবর: ঢাকা বিভাগ ভেঙে বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলা নিয়ে পদ্মা নদীর নামানুসারে ‘পদ্মা’ নামে নতুন বিভাগ হচ্ছে। একইভাবে চট্টগ্রাম বিভাগ ভেঙে বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ছয় জেলা নিয়ে মেঘনা নদীর নামানুসারে ‘মেঘনা’ নামে অন্য একটি নতুন বিভাগ করা হচ্ছে। এই প্রথম দেশের প্রধান দুটি নদী পদ্মা-মেঘনার নামে নতুন দুটি বিভাগ হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত পদ্মা বিভাগের সদর দফতর হবে ফরিদপুরে এবং মেঘনা বিভাগের সদর দফতর হবে কুমিল্লায়।

আগামীকাল সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে এ বিভাগ দুটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার কথা। এ ছাড়া ওই বৈঠকে একটি নতুন পৌরসভা ও আরেকটি পৌরসভার সীমানা নির্ধারণসহ মোট ছয়টি এজেন্ডা উপস্থাপন করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিভাগ ভেঙে প্রস্তাবিত বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলা ফরিদপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর নিয়ে পদ্মা নদীর নামানুসারে এ বিভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর এর সদর দফতর হবে ফরিদপুরে। ফরিদপুর জেলার আয়তন ২ হাজার ৭৩ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ৬৯৭। গোপালগঞ্জ জেলার আয়তন ১ হাজার ৪৬৮ দশমিক ৭৪ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১১ লাখ ৭২ হাজার ৪১৫। রাজবাড়ীর আয়তন ১ হাজার ১১৮ দশমিক ৮০ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১০ লাখ ১৫ হাজার ৫১৯। শরীয়তপুরের আয়তন ১ হাজার ৩৬৩ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৪। মাদারীপুরের আয়তন ১ হাজার ১২৫ দশমিক ৬৯ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১২ লাখ ১২ হাজার ১৯৮। ফলে পদ্মা বিভাগের মোট আয়তন হবে ৭ হাজার ১৪৯ দশমিক ৯৯ বর্গকিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫৩। সাক্ষরতার হার ৪৮ দশমিক ৯ ভাগ।

বৃহত্তর কুমিল্লার তিন জেলা কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর এবং বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলা নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ মোট ছয় জেলা নিয়ে মেঘনা নদীর নামে ‘মেঘনা’ বিভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সদর দফতর হবে কুমিল্লায়। তবে বিভাগ সংক্রান্ত গণশুনানিতে নোয়াখালীর নেতারা প্রস্তাবিত মেঘনা বিভাগে থাকার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। অন্যদিকে কুমিল্লার সর্বস্তরের জনগণ তাদের বিভাগের নাম কুমিল্লা নামেই করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে সম্মতি দেননি। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক সভায় কোনো জেলার নামে নয়, নতুন দুটি বিভাগ পদ্মা ও মেঘনা নদীর নামেই হবে বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একনেকের বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানিয়েছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

জানা গেছে, বর্তমানে বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালীর ছয়টি জেলায় প্রায় ২ কোটি জনসংখ্যা রয়েছে। ওই ছয় জেলার আয়তন প্রায় ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার, যা ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের চেয়ে জনসংখ্যা ও আয়তনের প্রায় দ্বিগুণ। কুমিল্লায় সরকারের প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে কুমিল্লায় বিভাগ হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওপর জনগণের চাপ কমবে। ঢাকা শহরে বাড়তি লোকের চাপ হবে না। সেখানে যানজটও কমে আসবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে কুমিল্লার অবস্থান। একটি পরিপূর্ণ আবাসিক জেলা হিসেবে কুমিল্লার সুনাম রয়েছে। রাজধানী ও বন্দরনগরের ওপর চাপ কমাতে এ শহর বেশ ভূমিকা রাখবে। বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ছয় জেলার মধ্যবর্তী স্থানেও কুমিল্লার অবস্থান। ভৌগোলিক ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কুমিল্লা খুবই সমৃদ্ধ জনপদ। এ ছয় জেলার মানুষের সঙ্গে সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ অত্যন্ত মসৃণ। দাফতরিক বেশির ভাগ কাজেই ছয় জেলার মানুষ কুমিল্লায় জড়ো হন। এখানে দিনে এসে দিনে কাজ করে বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব। ছয় জেলার মানুষের আঞ্চলিক ভাষাও কাছাকাছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৫ টি বিশ্বরেকর্ড গড়তে যাচ্ছে পদ্মা সেতু

অনলাইন ডেস্ক: আর মাত্র ২৪ দিন পরেই উদ্বোধন করা হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন ঘেরা সেতুটিতে চলবে যানবাহন। এই সেতুটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু।

তবে কেবল এই রেকর্ড নয়, পদ্মা সেতুর ঝুলিতে রয়েছে ৫ বিশ্ব রেকর্ড। যার মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায় এটি কেবল একটি সাধারণ ব্রিজ বা সেতু নয় বরং বাঙালির অহংকার হতে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর রেকর্ডগুলো জানুন।

গভীরতম পাইল :

খরস্রোতা পদ্মা নদীতে নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু। পানি প্রবাহের বিবেচনায় বিশ্বে আমাজন নদীর পরই এর অবস্থান। মাটির ১২০ থেকে ১২৭ মিটার গভীরে গিয়ে পাইল বসানো হয়েছে এই সেতুতে। পৃথিবীর অন্য কোনো সেতু তৈরিতে এত গভীরে গিয়ে পাইল প্রবেশ করাতে হয়নি।

পদ্মা সেতু পাইলিং ও খুঁটির কিছু অংশে অতি মিহি মাইক্রোফাইন্ট সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এসব সিমেন্ট অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। সাধারণত কোনো সেতু তৈরিতে এত মিহি সিমেন্ট ব্যবহার করা হয় না।

পদ্মা সেতুর নদীতে থাকা ৪০টি পিলারের নিচের পাইল ইস্পাতের। আর ডাঙার দুইটি পিলারের পাইল কংক্রিটের। নদীতে যেসব পাইল বসানো হয়েছে সেগুলোতে দেওয়া হয়েছে ৩ মিটার ব্যাসার্ধের ইস্পাতের বড় পাইপ, যার ভেতরের অংশ ফাঁপা। নদীতে থাকা ৪০টি পিলারের মধ্যে ১৮টি পিলারের নিচে ইস্পাতের এমন ছয়টি করে পাইপ দেওয়া হয়েছে। বাকি ২২টি পিলারে বসানো হয়েছে ৭টি করে পাইপ। ডাঙার দুইটি পিলারের নিচে পাইল আছে ৩২টি। নদীতে পাইলিং করে তার মধ্যে রড ও কংক্রিটের ঢালাই দেওয়া হয়েছে।

সর্বোচ্চ সক্ষমতার বিয়ারিং :

পদ্মা সেতু এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন তা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও অটল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে। সেতুটিকে ভূমিকম্প থেকে রক্ষা করতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বেয়ারিং’। যার সক্ষমতা ১০ হাজার টন। এত বেশি সক্ষমতা সম্পন্ন বিয়ারিং এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো সেতুতে ব্যবহার করা হয়নি। ফলে, রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেও পদ্মা সেতু টিকে থাকতে পারবে।

নদী শাসন :

নদী শাসনের দিক থেকেও রেকর্ড করেছে এই সেতু। ১৪ কিলোমিটার নদী শাসন করা হচ্ছে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে। এর মধ্যে সেতুর মাওয়া প্রান্তে ১.৬ কিলোমিটার এবং জাজিরা প্রান্তে ১২.৪ কিলোমিটার এলাকা নদী শাসনের আওতায় এনে কাজ চলছে। পদ্মা সেতু তৈরিতে মোট খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। যার মধ্যে ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে নদী শাসনের জন্য। এর আগে নদীশাসনে এককভাবে এত বড় দরপত্র বিশ্বে আর হয়নি।

ব্রিজে ব্যবহৃত ক্রেন :

পিলারের ওপর স্প্যান বসাতে যে ক্রেনটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি চীন থেকে আনা হয়েছে। প্রতি মাসে এর ভাড়া বাবদ গুণতে হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের জুন থেকে শুরু করে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ক্রেনের জন্য খরচ হয়েছে সাড়ে তিন বছরে ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিশ্বে আর কোনো সেতু তৈরিতে ক্রেনের এত ভাড়া গুণতে হয়নি। উল্লেখ্য, এই ক্রেনটির বাজার দর ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সেতু তৈরির উপাদান :

আরেকটি রেকর্ড রয়েছে এর ঝুলিতে। পদ্মা সেতুই বিশ্বে প্রথম যেটি কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে। এই দুইটি উপাদানে এর আগে কোনো সেতু তৈরি হয়নি।

অর্থাৎ, নিজের বৈশিষ্ট্যের কারণেই পদ্মা সেতু বাংলাদেশ তো বটেই, পুরো বিশ্বেই আলোড়ন সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest