সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটার সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যুসাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কালিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যদেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যুরেকর্ডীয় সম্পত্তিতে জোর পূর্বক ঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধেতালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচন

তালায় ভূমিদস্যু মোস্তাককে ঘের ছাড়তে সর্বশেষ তিন দিনের আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিনিধি : তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নোটিশ পেয়েও বরিবার ঘের ছেড়ে চলে যাননি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙা গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদ। উপরন্তু রবিবার পুলিশের একটি বিশাল টিম জবরদখলকারি মোস্তাক আহম্মেদ এর পক্ষ নিয়ে তালা উপজেলা খরাইল, বারাত, মীর্জাপুর, ভবানীপুর এলাকায় টহল দিয়েছে।

মোস্তাক আহম্মেদ এর সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা জমির মালিকদের হুমকি দিয়ে বলেছে“ এক সপ্তাহ আর কখনো পুরবে না। জমি ফিরিয়ে নিতে এলে রক্তের হোলি খেলা হবে।
এদিকে চুক্তিপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নোটিশ অমান্য করে ঘেরের জমি ছেড়ে না দেওয়ায় কেশবপুর উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোস্তাক আহম্মেদকে বুধবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছে জমির মালিক ও জনপ্রতিনিধিরা। ব্যত্তয় ঘটলে বৃহষ্পতিবার স্থানীয় সাংসদ, তেতুলিয়া, কুমিরা ও ইসলামকাটির তিন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে জমির মালিকদের অধিকার ফিরিয়ে আনা হবে।
কুমিরা ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাক নূরু সরদার রবিবার বিকেলে তালা উপজেলার মীর্জাপুর ঘোষপাড়া সার্বজনীন দুর্গাপুজা মণ্ডপ চত্বরে অনুষ্ঠিত এক মত বিনিময় সভায় বলেন, এক সময় কপোতাক্ষ নদ ছিল তালাবাসীর অভিশাপ।

বর্ষার পানি সরতে না পেরে নদের দু’তীর উপচে বিস্তীর্ন অঞ্চল প্লাবিত হতো। বছরের ছয় মাসেরও বেশি সময় জলাবদ্ধ থাকায় এলাকায় ফসল হতো না।

বাধ্য হয়ে মীর্জাপুর, ভবানীপুর, বারাত, খরাইল এলাকার কৃষকরা তাদের জমি মাছ চাষের জন্য লীজ দিতো। সর্বপরি কয়েক বছর আগে কেশবপুরের চুয়াডাঙা গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদ কৌশলে তাদের এলাকার কয়েকজন হিন্দু জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি লীজ নেয়। যারা নিজেরা ঘের করতো তাদেরকে ভয় দেখিয়ে জমি লীজ নেওয়ার চেষ্টা করেন মোস্তাক। তাতেও লাভ না হওয়ায় মোস্তাক ভবানীপুর, খরাইল, মীর্জাপুর, বারাতসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষকে মারপিট করে পুলিশে প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেষ্টায় কপোতাক্ষ খননের ফলে এখন তালা উপজেলা জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত। মোস্তাক মাছ চাষের নামে ঘেরের মাটি অঙ্গার বানিয়ে ফেলেছে। ২৫০ বিঘা ও ১১০০ বিঘা ঘেরের মাঝখানের রাস্তায় মানুষ তো নয়, গরু ছাগল ও চলতে পারে না। এটা আর সহ্য করা হবে না। গত বছরের ২৬ অক্টোবর খরাইলের প্রহ্লাদ মণ্ডলকে তার ঘেরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে নৌকায় বেঁধে দীর্ঘপথ নির্যাতন করে মোহনা বাজারে নিয়ে তাকে চোর ও চাঁদাবাজ আখ্যা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পাটকেলঘাটার ইন্দ্রজিৎ সাধুকে ম্যানেজ করে প্রহ্লাদকে দিয়ে মামলা তুলে নেয় মোস্তাক। এর কয়েকদিন পর মোস্তাক তার ঘেরে ৫০০ মন মাছ লুট ও ২১ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে প্রহ্লাদের নামে মামলা করে। যা আজো চলমান। মোস্তাক বাহিনীর হাতে এলাকার কমপক্ষে ২৫ জন সাধারণ কৃষক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

মীর্জাপুরের আশীষ ঘোষ, চিত্তরঞ্জন মণ্ডল, খরাইলের প্রহ্লাদ মণ্ডল বলেন, মোস্তাক একজন সন্ত্রাসী ও বিএনপি নেতা হয়েও গায়ের জোরে এ এলাকায় ঘের করতে চায়। এজন্য একশ্রেণীর প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সে কিনে ফেলেছে। ম্যানেজ করেছে পুলিশকে। ফলে হারির মেয়াদ গত ৩০ চৈত্র পার হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাত দিনের নোটিশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে মোস্তাক। কেশবপুর থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে তালার সাধারণ মানুষকে হুমকি দিয়েছে। এটা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে জীবন দিয়েও মোস্তাক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে প্রতিহত করা হবে।
ঘোষপাড়া দুর্গা মন্দির থেকে জমির মালিক ও সাধারণ কৃষকরা বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মীর্জাপুর শ্মশানে চলে আসেন। সেখানে উপস্থিত হন তালা- কলারোয়ার সাংসদ অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি প্রভাষক মহিবুল্লহ মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু, রফিকুল ইসলাম, হিরন্ময় মণ্ডল, নির্মল মণ্ডলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা , কর্মী ও সমর্থকরা।
বক্তব্য রাখার একপর্যায়ে সাংসদ মোস্তফ$া লুৎফুল্লাহ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে মোস্তাক আহম্মেদ রবিবারের মধ্যে ঘের ছাড়েনি। তাই সবদিক ভেবে ইউপি সদস্য মাসুদ, খায়রুল ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ারকে নিয়ে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করে যারা জমি ফিরিয়ে নিতে চান এমন কৃষকদের তালিকা তৈরি করতে হবে। বুধবারের মধ্যে মোস্তাক আহম্মেদ তার ঘের থেকে মাছ ধরে নিয়ে জমি ছেড়ে না দিলে তিনিসহ কুমিরা, ইসলামকাটি ও তেঁতুলিয়ার তিন চেয়ারম্যানকে নিয়ে জনগণকে সংগঠিত করে বৃহষ্পতিবার সকালে সকল বাধা অপসারন করে কৃষকদের চাষের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে বুধবারের মধ্যে তিনি এলাকার কোন কৃষককে মোস্তাকের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহবান জানান।#

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জীবন মৃত্যুর সন্ধীক্ষণে ৮ মাসের শিশু হাফসা হালিম সাবা

জীবন মৃত্যুর সন্ধীক্ষণে ৮ মাসের শিশু হাফসা হালিম সাবা। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুটি মৃত্যু পথের যাত্রী। তবে উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো সুস্থ হতে পারবে শিশু সাবা।
সে তালা উপজেলার মঙ্গলানন্দকাটি গ্রামের হতদরিদ্র মো: হালিম শেখের কন্যা। জন্ম থেকে হার্টে ছিদ্র থাকায় বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে। এপর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক টাকা তার পিছনে ব্যয় করেছেন অসহায় দরিদ্র পিতা হালিম। ইতোমধ্যে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিজের বশত ভিটার কিছু অংশ বিক্রয় করে ফেলেছেন।

কিন্তু তাকে পুরো সুস্থ্য করতে হলে বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন যা তার হতদরিদ্র পিতা হালিম শেখের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। ৮ মাসের শিশুকে সুস্থ্য করতে তার পিতা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সকলেই স্ব স্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলেই বেঁচে যেতে পারে একটি নিষ্পাপ প্রাণ। শিশু হাফসা হালিম সাবাকে সাহায্য পাঠাতে সরাসরি পিতা হালিম শেখের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। মোবাইল নং ০১৭৩৯ ১২৪১৬৬ (বিকাশ) এছাড়া সোনালী ব্যাংক খলিশখালী শাখা একাউন্ট নাম্বার ২৮১২৬০১০০৮৮১৭। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাসুদ রানা-কুয়াশা সিরিজের স্বত্ব শেখ আবদুল হাকিমের

সাহিত্য ও সংস্কৃতি: সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় ‘মাসুদ রানা’ও ‘কুয়াশা’ সিরিজের জন্য নিজের লেখা বইগুলোর স্বত্বাধিকারী হিসেবে লেখক শেখ আবদুল হাকিমকে স্বীকৃতি দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের ওপর নো অর্ডার দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। এর ফলে, হাইকোর্টের রায় বহাল থাকলো বলে জানান আইনজীবীরা।

এ বিষয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ৩০ মে দিন ঠিক করেছেন চেম্বারজজ আদালত।

ব্যারিস্টার ইফতাবুল কামাল অয়ন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জানান, প্রয়াত আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রিটের পক্ষভুক্ত হয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল আবেদন করেছেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের রায় স্থগিত করারও আর্জি জানিয়েছিলেন। আজ সেটির ওপর শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত স্থগিতাদেশ না দিয়ে লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য আগামী ৩০ মে দিন ধার্য করেছেন।

রিটকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের আপিল আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে রোববার (২৪ এপ্রিল) আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের চেম্বার জজ আদালত এই আদেশ দেন। আদালতে আজ আপিল আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মুরাদ রেজা। আর কপিরাইট অফিসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান ও ব্যারিস্টার ইফতাবুল কামাল অয়ন।

এর আগে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় ‘মাসুদ রানা’ ও ‘কুয়াশা’ সিরিজের জন্য নিজের লেখা বইগুলোর স্বত্ব পেয়েছিলেন লেখক শেখ আবদুল হাকিম। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কপিরাইট অফিসের আদেশের বিরুদ্ধে করা সেবা প্রকাশনীর কাজী আনোয়ার হোসেনের রিট খারিজ করে এই রায় দেন। এর ফলে ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি বই এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের স্বত্ব পান প্রয়াত লেখক শেখ আবদুল হাকিম।

ওইদিন আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মুরাদ রেজা। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার এ বি এম হামিদুল মিসবাহ। কপিরাইট অফিসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান ও ব্যারিস্টার ইফতাবুল কামাল অয়ন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নাসিম ইসলাম রাজু। ওই রায়ের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আপিল আবেদন করেন কাজী আনোয়ার হোসেনের আইনজীবীরা। সেটি আজ চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য ওঠে।

এর আগে সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি বই এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব শেখ আবদুল হাকিমের- কপিরাইট অফিসের এমন সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, কপিরাইট অফিসের এই সিদ্ধান্ত কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন আদালত। ওই রুলের ওপর শুনানি চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে।

২০২০ সালে লেখক কাজী আনোয়ার হোসেনের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল জারিসহ আদেশ দেন। আদালতে ওইদিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী (বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল) এ এম আমিন উদ্দিন ও ব্যারিস্টার এ বি এম হামিদুল মিসবাহ।

হামিদুল মিসবাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি বই এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে শেখ আবদুল হাকিমকে স্বত্ব দিয়ে কপিরাইট অফিস ২০২০ সালের ১৪ জুন আদেশ জারি করে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন কাজী আনোয়ার হোসেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১৪ জুনের ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রুল জারি করেন। রুলে এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় কপিরাইট অফিসের ওই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি হবে না- তা জানতে চান আদালত। রুলের বিবাদীরা হচ্ছেন সংস্কৃতি সচিব, কপিরাইট অফিস, রেজিস্ট্রার অব কপিরাইটস এবং কপিরাইট বোর্ড।

২০১৯ সালের ২৯ জুলাই শেখ আবদুল হাকিম ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব বা মালিকানা দাবি করে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কপিরাইট আইনে অভিযোগ দাখিল করেন।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আইনি লড়াই শেষে ২০২০ সালের ১৪ জুন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস শেখ আবদুল হাকিমের পক্ষে আদেশ দেয়। ফলে দাবি করা মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি এবং কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক স্বত্ব শেখ আবদুল হাকিমের হয়।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্তে বলা হয়, সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে কপিরাইট বোর্ড বা বিজ্ঞ আদালত থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত আবেদনকারীর দাবি করা ও তালিকাভুক্ত বইগুলোর প্রকাশ বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য প্রতিপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হলো। এছাড়া প্রতিপক্ষকে আবেদনকারীর কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন করা প্রকাশিত বইগুলোর সংস্করণ ও বিক্রিত কপির সংখ্যা এবং বিক্রয় মূল্যের হিসাব বিবরণী এ আদেশ জারির তারিখের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

কপিরাইট অফিসের এই আদেশের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সেবার কাজী আনোয়ার হোসেন। সেই রিটটিই আজ খারিজ করে দিলেন আদালত। এর ফলে মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের জন্য নিজের লেখা বইগুলোর স্বত্বাধিকার পেলেন শেখ আবদুল হাকিম।

বাংলাদেশের রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান লেখক ও অনুবাদক শেখ আবদুল হাকিম এ বছরের ২৮ আগস্ট মারা গেছেন। মৃত্যুর পর নিজের লেখা বইগুলোর স্বত্ব পেলেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা: বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম

অর্থনীতির খবর : সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টায় সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম কিছুটা কমলেও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার খবরে আবার অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। একদিনের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে কেজিতে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ২০ টাকা বেড়েছে। সামনে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েলের কাঁচামাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় সারাবিশ্বে এর প্রভাব পড়বে। কারণ ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ। এতে পাম অয়েলের পাশাপাশি অন্যান্য ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাবে। ভোজ্যতেলের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামও বাড়বে।

এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েলের কাঁচামাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়ানো উচিত। এক্ষেত্রে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ভোজ্যতেল বিক্রি কার্যক্রম বাড়ানো যেতে পারে।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কেবিনেট মিটিংয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেন, বাসাবাড়িতে রান্নার তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে তেলের কাঁচামাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এটি কার্যকর হবে।

ইন্দোনেশিয়ার এই নিষেধাজ্ঞার খবর শনিবার দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর একদিন পরই রোববার দেশের বাজারে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বেড়ে গেছে। এক লাখে খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ২৫ টাকা।

গত শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ১৬০ টাকা কেজি। এখন তা বেড়ে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাম অয়েলের দাম বেড়ে ১৭৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা দাম বাড়ার পাশাপাশি পাইকারিতে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বেড়েছে।

এ বিষয়ে মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. আফজাল বলেন, ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি নিষেজ্ঞার খবরে পাইকারিতে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বাড়তি দামে কেনার কারণে আমরাও বাড়তি দামে বিক্রি করছি। এখন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ১৬০ টাকা। পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা, যা আগে ছিল ১৫০ টাকা।

ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েলের কাঁচামাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বাংলাদেশে কী ধরনের প্রভাব পড়বে- জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম মাওলা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার এ নিষেজ্ঞার কারণে সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে। এরই মধ্যে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে, সামনে আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, সারাবিশ্বে পাম অয়েলের বড় জোগানদার ইন্দোনেশিয়া। এখন ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েলের কাঁচামাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় শুধু বাংলাদেশ না সারাবিশ্বে এর প্রভাব পড়বে। ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জিনিসপত্রের দামও বাড়বে।

মৌলভীবাজারের আব্দুল রশিদ অ্যান্ড সন্স’র স্বত্বাধিকারী হাজি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইন্দোনেশিয়ার এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাবে। ভোজ্যতেলের বাজারে আবার আগের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সরকারের উচিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই ভর্তুকির ব্যবস্থা করা।

সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার নিষেধাজ্ঞার ফলে শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ সারাবিশ্বে এর প্রভাব পড়বে। দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। বিষয়টি নিয়ে ঈদের পর আমরা সরকারের সঙ্গে বসবো। আপাতত ঈদের আগে আমরা তেলের দাম বাড়াচ্ছি না।

সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামবলেন, ভোজ্যতেলের দাম আগেই বেড়েছিল। সরকার পদক্ষেপ নিয়ে দাম কিছুটা কমিয়েছে। তবে সেটা কতটা কার্যকর হয়েছে তা দেখার বিষয়। এখন ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েলের কাঁচামাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় সারাবিশ্বেই এর প্রভাব পড়বে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ঠেকানো মুশকিল। কাজেই যেটা করতে হবে তা হলো- যারা দরিদ্র মানুষ তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সহায়তা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, দাম নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। এটা করতে গেলে দামও নিয়ন্ত্রণ হয় না, নানা রকমের অভিযোগ আসতে থাকে। বাজারে একটা খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আবার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে দুর্নীতিও দেখা যায়। কাজেই সরকার টিসিবির মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ বাড়ালে কিছুটা সুফল মিলতে পারে।

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাধার পর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে দেশের বাজারে অস্বাভাবিক হারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৯০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গত মার্চে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং পাম অয়েল আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার। ফলে সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দাম কিছুটা কমে আসে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েলের কাঁচামাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে এমন সংবাদের পর আবার দাম বাড়ার পালে হাওয়া লেগেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় এলাকাবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ করায় শ্যালক ও শ্বাশুরের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় নিরিহ এলাকাবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ করায় আপন শ্যালক ও শিক্ষক নেতা সাবেক কমিশনার চাচা শ্বাশুর আশরাফ মাস্টারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন, পুরাতন সাতক্ষীরা ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের মৃত হামিদুল ইসলামের পুত্র আব্দুল মালেক।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার পুঞ্জু বেশের পুত্র আশরাফ আলী একজন শিক্ষাবিদ, শিক্ষক নেতা ও সাবেক কমিশনার হিসেবে সাতক্ষীরা জেলায় অত্যান্ত সুনাম রয়েছে। তিনি ১৯৭১ সালে পল্লী মঙ্গল হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে ধুলিহর ইউনাইডেট হাইস্কুলের প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তার বিরুদ্ধে ৭১ সালের কোন দাগ লাগেনি।

অবসর গ্রহনের পর থেকে এলাকায় বিভিন্ন সমাজ কল্যাণ মূলক কাজকর্ম করে যাচ্ছেন। আশরাফ মাস্টারের সাতক্ষীরা শহরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু আশরাফ মাস্টারের ভাইয়ের জামাতা আশাশুনি এলাকার মৃত আফছার আলির পুত্র বজলুর রহমান (ঘর জামাই) একজন চিহ্নিত ঠক, প্রতারক।

বজলুর রহমান এলাকার মানুষকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে অবৈধভাবে অর্থ হানিয়ে নেয়। প্রতিবাদ করলে প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে নানাভাবে হয়রানি করে। এটা নিয়ে তার আপন শ্যালক আব্দুল কাদের, চাচা শ্বশুর আশরাফ মাস্টার বিরোধীতা করেন। এ নিয়ে বজলুর রহমানের সাথে তাদের মনোমালিন্য হয়। এর জের ধরে বজলুর রহমান ষড়যন্ত্র শুরু করে। এদিকে গত ১১ এপ্রিল ২০২২ তারিখে বাদ আসর পুরাতন সাতক্ষীরা ডাঙ্গীপাড়া মসজিদে এলাকাবাসীকে হয়রানির কারন জিজ্ঞাসার জন্য আশরাফ মাস্টার তাকে ডাকেন। তাকে বলা হয় জামাই মানুষ এলাকার মানুষের পিছনে লাগেন কেন।

মসজিদের মধ্যে গালি দেওয়ার কারণে গ্রামাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে বজলুর দৌড়ে বাড়ি চলে যায়। সে সময় তাকে মারপিট বা বাড়ি ঘর ভাংচুরের মত কোন ঘটনা ঘটেনি। অথচ ওই ঘটনায় পুরাতন সাতক্ষীরা ফাঁড়িতে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে বজলু। ডাঙ্গীপাড়া মসজিদে অতি সুনামের সাথে দীর্ঘদিন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আশরাফ মাস্টার। ওই বজলুর রহমান থাকে ঘর জামাই। এলাকার মানুষকে হয়রানি করে দিশেহারা করে তুলেছে ওই ঘর জামাই বজলুর রহমান।

যাদের আতœীয় হওয়ার কারনে গ্রামাবাসী তাকে কিছুই বলেন না অথচ গত ২২ এপ্রিল ২২ তারিখে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে চাচাশ্বশুর আশরাফ মাস্টার, আপন শ্যালক আব্দুল কাদের, আব্দুল গফুর ও হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করেছে। আমরা উক্ত সংবাদ সম্মেলনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘর জামাই বজলুর রহমানের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে নিরিহ এলাকাবাসীকে রক্ষায় তাকে গ্রেফতার পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় প্রায় ৪০০ বছর বয়সী বনবিবির বটগাছ

দেবহাটা প্রতিনিধি :
সবুজের সমারোহ। বাতাসে ভেসে আসে পাখির কলকাকলি। গাছের পাতায় বাতাসের শব্দ আর ডালে বসা পাখির ডাক মিলে তৈরি হয় প্রশান্তির এক আবহ। ছড়িয়ে থাকা একেকটি শাখাকে তখন মনে হয় পরম মমতায় বাড়িয়ে দেওয়া হাত। গাছের নিচে বসলে আর উঠতে ইচ্ছে করে না। অচেনা এক মায়া যেন টেনে ধরে।

প্রকৃতি আর মানবমনের এ অদৃশ্য যোগসূত্রের দেখা মিলবে সাতক্ষীরার দেবহাটার বনবিবির বটতলায়। শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে দেবহাটা উপজেলা সদর। সেখানেই রয়েছে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ৪০০ বছর বয়সী এই বটগাছ। এটিই ‘বনবিবির বটতলা’ নামে পরিচিত।

প্রায় সাড়ে তিন একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে বটগাছটি। গাছের শাখা-প্রশাখা থেকে নেমে আসা অংশ মাটির সঙ্গে তৈরি করেছে আঙ্গিক সম্পর্ক। ধারণা করা হয়, বহু পুরোনো বটতলাটি একসময় সাধু ও ঋষিদের ধ্যানের জায়গা ছিল। এখানে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা হতো। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালিত হতো। কথিত আছে, কারও মনের বাসনা পূরণের জন্য এখানে এসে বনবিবিকে স্মরণ করলে এবং তাঁর কাছে চাইলে মনের আশা পূরণ হতো।

বর্তমানে এখানে আর সাধু-ঋষিদের ধ্যান করতে দেখা যায় না। তবে বিনোদনের জন্য অনেক নারী-পুরুষ এখানে ভিড় জমায়। ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রুহুল আমিন জানান, ‘বটতলা জায়গাটি অনেক ঐতিহ্যবাহী। এখানে প্রতিবছর হাজুত-মানত মেলা হয়। মেলায় হিন্দু, মুসলিম–সব ধর্মের মানুষ অংশ নেয়। আমরাও মেলায় আসি, অনেক মজা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাছটি কত বছরের পুরোনো কেউ বলতে পারে না। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হলো, কেউ বলতে পারে না এর মূল গোড়া কোথায়? আমি শুনেছি, কেউ গাছটি কাটার চেষ্টা করলে তার বা তার পরিবারের সদস্যদের কোনো না কোনো ক্ষতি হয়। তাই কেউ কাটে না।’

এই বটতলাতেই ভারত-বাংলাদেশের যৌথ ছবি শঙ্খচিলের অনেক দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইত্যাদি অনুষ্ঠানেও এটি নিয়ে পর্ব প্রচারিত হয়। উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রতিবছর এই বটতলায় পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপিত হয়। পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।

স্থানটির চারপাশে এখন বসতি গড়ে উঠেছে। তাই ধীরে ধীরে এই বটতলাটি নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে। কিন্তু উপজেলার ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছে বনবিবির বটতলা। ছায়া সুনিবিড়, পাখির কুজনে মুখরিত, শ্যামল ও নয়নাভিরাম এই স্থানটিতে অবসরের কিছুটা সময় বসে থাকলে মনের সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। মনটা সতেজ হয়ে ওঠে। প্রকৃতির অপূর্ব দৃশ্য দেখতে দেখতে সময় কেটে যায়। বেড়াতে আসা আব্দুস সালাম জানান, ‘জায়গাটি অনেক নিরিবিলি এবং খুবই সুন্দর হওয়ায় মাঝে মাঝে বেড়াতে আসি। কিন্তু এখানে বসার কোনো স্থান নেই। কোথাও কোনো পরিপাটি নেই। জায়গাটি যদি সুন্দর ব্যবস্থাপনা করা যায়, তাহলে এখান থেকে সরকার রাজস্ব আদায় করতে পারবে। সবাই এসে সময় কাটাতে পারবে।’

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘বনবিবি বটতলা ঘিরে আমাদের অনেক উদ্যোগ রয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু কাজ করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঈদের আগেই সাতক্ষীরায় মুজিববর্ষের ঘর পাচ্ছেন ২৪০ ভূমিহীন পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি :
ঈদের আগেই সাতক্ষীরায় মুজিববর্ষের গৃহ পাচ্ছেন ২৪০জন ভূমিহীন পরিবার। আগামী ২৬ এপ্রিল ৩২ হাজার ৯০৪ জন বাস্তহারা, ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর এই উপহারের জমিসহ ঘর। ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বাস গৃহ হস্তান্তর অনুষ্ঠান সফল করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তানজিল্লুর রহমান। এসময় জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট কৃষ্ণা রায় ও বাপ্পী দত্তসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয় “বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবেনা” প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলার ভূমিহীন, গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তৃতীয় পর্যায়ে ৮০৯টি বরাদ্দকৃত গৃহের কার্যক্রম চলমান আছে। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ খরচ ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। যা দ্বিতীয় পর্যায়ে ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও প্রথম পর্যায়ে ছিল ১লাখ ৭১ হাজার টাকা।
আগামী ২৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জানা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের তুলনায় তৃতীয় ধাপে কাঠামোতে আসছে বেশ পরিবর্তন। বাড়ানো হয়েছে নির্মাণ ব্যয়। যে কারণে ঘরগুলো মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। দুই শতাংশ জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর করে দেওয়া হয়েছে তাদের। এর সঙ্গে রান্নাঘর ও টয়লেট ছিল। আঙিনায় হাঁস-মুরগি পালন ও শাক-সবজি চাষেরও জায়গা ছিল।

এর মধ্যে তালায় বরাদ্দ হয়েছে ১১৫ টি, শ্যামনগরে ১৮৯ টি, দেবহাটায় ৮৫ টি, কলারোয়ায় ১৪০টি, কালিগঞ্জ ১১৫টি, সদরে ৮৫টি, এবং আশাশুনিতে ১৪৭টি। আগামী ২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশব্যাপি গৃহ হস্তান্তরের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তবে বরাদ্দকৃত ঘরগুলোর মধ্যে নির্মান সম্পন্ন হয়েছে তালায় ১৫টি, শ্যামনগরে ৮৫টি, দেবহাটায় ৫টি, কলারোয়ায় ২০টি, কালিগঞ্জে ২৫টি, সদরে ৪৩ টি এবং আশাশুনিতে ৪৭টি। ২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর নির্মান সম্পন্ন হওয়া ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে একই দিন বেলা ১২ টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা। উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর হুসাইন সুজন প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনির খরিয়াটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি জবর দখল চেষ্টায় হামলা !

নিজস্ব প্রতিনিধি :
আশাশুনির খরিয়াটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি জবর দখল চেষ্টায় হামলা এবং মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আশাশুনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আশাশুনির খরিয়াটি গ্রামের মৃত প্রভাষ সরকারের পুত্র সুনীল সরকারের সাথে নিজেদের শরিক এবং একই এলাকার মো: আনার গাজীর পুত্র মইনুর গাজী গংয়ের বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ২৩ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মইনুর গাজীর নেতৃত্বে একই এলাকার আব্দুল গাজীর পুত্র মোত্তাজুল গাজী, মৃত আব্দুল জলিলে পুত্র রিয়াছত আলী,আব্দুল গাজীর পুত্র হাফিজুল ইসলাম, মৃত সুলতান গাজীর পুত্র করিম গাজী, করিম গাজীর পুত্র ফারুক গাজী, মৃত সিরাত গাজীর পুত্র বারিক গাজী,

মৃত. সোহরাব গাজীর পুত্র আলমগীর গাজী, জাহাঙ্গীর গাজী, আনার গাজীর পুত্র শাহিনুর গাজী, মৃত. বাখের গাজীর পুত্র আব্দুল গাজী, মৃত বিশু গাজীর পুত্র আনার গাজীসহ ১০/১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সুনীল সরকারের বাড়িতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ঘেড়াবেড়া দেওয়া শুরু করে। এতে বাধা দেওয়ায় সুনীলের কাকা চিত্তরঞ্জন সরকার, কাকিমা তারকি রানী সরকার, কাকাতো ভাই নয়ন সরকার কাকিমা মিনতী রানী সরকারকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে।

এছাড়া লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করে কাকা চিত্তরঞ্জনের মাথা থেতলিয়ে দেয় এবং মিনতী রানীর পরনের কাপড় চোপড় টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটনায়। সে সময় তাদের ডাক চিৎকারী স্থানীয় ছুটে এসে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে। হামলাকারী চলে যাওয়ার সময় তাদের ভিটাবাড়ি দখল করে নিয়ে তাদেরকে ভারতে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করে। এঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তা এবং মারপিটের ঘটনায় তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest