সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় -৭নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৮ দফার বার্তাসাতক্ষীরা জেলা রোভার স্কাউটসের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতাসাতক্ষীরায় তারেক রহমানের ৮ দফার লিফলেট ছড়িয়ে দিল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’সাতক্ষীরায় রাইচ মিলের কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে অতীষ্ট এলাকাবাসী: ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সড়ক অবরোধপ্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদসাতক্ষীরায় মাদক এবং মাদক বিক্রির অবৈধ টাকাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারতালায় বাস মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিতআশাশুনিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলার তদন্তে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারদেবহাটায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

ইউএনওদের জন্য উচ্চমূল্যে ১০০ জিপ গাড়ি

দেশের খবর: উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) জন্য উচ্চমূল্যে ১০০ জিপ গাড়ি কেনার প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
প্রতিটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৯১ লাখ টাকা ধরে সরকারি যানবাহন অধিদফতরের প্রস্তাবে আপাতত অনুমোদন দেয়া হয়নি।
সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি যানবাহন অধিদফতরকে এ ব্যাপারে একটি চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে এসব উচ্চ মূল্যের গাড়ি কেনার প্রয়োজনীয়তা এবং ইউএনও’দের বর্তমান গাড়ির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, গাড়ির প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে। কিন্তু ঢাকায় অবস্থান করে সরকারের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এক কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি ব্যবহার করেন না। অথচ উপজেলা পর্যায়ে এত উচ্চ মূল্যের গাড়ি কেনার যৌক্তিকতা দেখছে না মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি কোন প্রক্রিয়ায় গাড়ির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেটিও সুস্পষ্ট নয়। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে উচ্চ মূল্যের এসব গাড়ি কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদন দিলে অহেতুক সমালোচনার মুখে পড়তে পারে সরকার। এসব বিষয় বিবেচনা করে গাড়ি কেনা যৌক্তিকতা সুনির্দিষ্ট করতে বলা হয়েছে অধিদফতরকে। মূলত এ কারণেই গাড়ি কেনা বাবদ প্রায় ৯১ কোটি টাকার প্রস্তাব এই মুহূর্তে অনুমোদন দেয়া হয়নি।

জানা গেছে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি যানবাহন অধিদফতরে একশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মূলত সরকারের প্রয়োজনে মোটরযান ক্রয় করতে এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যানবাহন অধিদফতর ইউএনওদের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। অধিদফতরের গাড়ি কেনা সংক্রান্ত ‘কনডেম কমিটি’র বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এরপর গাড়ি কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। সম্প্রতি অর্থ সচিবকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে সরকারি যানবাহন অধিদফতর।
ওই চিঠিতে যানবাহন অধিদফতরের পরিবহন কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের গতিশীলতা আনতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ব্যবহারের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনা দরকার। এজন্য অধিদফতরের অনুকূলে বরাদ্দ থেকে ৯০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমতি প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হল।’

সূত্রমতে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা গাড়ি ক্রয়ের প্রস্তাবটি বিশ্লেষণ করে এর পক্ষে একমত হতে পারেনি। যে কারণে প্রাথমিকভাবে কেনার অনুমোদন না দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এর যৌক্তিকতার পাঁচটি বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। বিশেষ করে ইউএনওদের ব্যবহৃত গাড়ি অকেজো বলা হয়েছে।
এই অকেজো ঘোষণা সংক্রান্ত বিআরটিএ’র পরিদর্শক দলের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এছাড়া কোন কোন উপজেলায় ইউএনওদের গাড়ি অকেজো হয়েছে সে তালিকাও দিতে বলা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ইউএনওদের ব্যবহৃত গাড়িগুলো কত সালে ক্রয় করা হয়েছিল, গাড়ির মডেল কী এবং গাড়িগুলো কত মূল্যে কেনা হয়েছে- এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়।
এছাড়া গাড়ি কেনার জন্য কনডেম কমিটির বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের রেজুলেশনের অনুলিপি চাওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি গাড়ির মূল্য ৯০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা নির্ধারণের যৌক্তিকতার বিষয়টি সুস্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের জন্য সর্বশেষ ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২০৮টি গাড়ি কেনা হয়। এর আগে অর্থবছরে অর্থাৎ ২০০৬-০৭ সালে কেনা হয় ৪৭টি জিপ গাড়ি। গত ১১ বছর মোট ২৫৫টি গাড়ি কেনা হয় ইউএনওদের জন্য।
সরকারি যানবাহন অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি বিধান অনুযায়ী একটি গাড়ির আয়ুষ্কাল ন্যূনতম ৮ বছর। ইউএনওদের ব্যবহৃত গাড়িগুলোর আয়ুষ্কাল ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

এছাড়া গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তায় বেশি চলাচল করে ইউএনওদের গাড়ি। যে কারণে গাড়িগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এসব গাড়ি মেরামতে অনেক ব্যয় হচ্ছে। এতে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এসব যৌক্তিকতা থেকে গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
অর্থ সচিবকে পাঠানো সরকারি যানবাহন অধিদফতরের চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কাজের স্বার্থে প্রতিস্থাপক হিসেবে ইউএনওদের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনা দরকার।
এসব গাড়ি কেনার পক্ষে সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকেও। গাড়ি কেনার জন্য প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে প্রাপ্ত দরপত্র চাওয়া হয়।
তাদের দেয়া দরপত্র অনুযায়ী প্রতিটি জিপ গাড়ির ক্রয় মূল্য হবে ৯০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ওই হিসেবে ১০০টি গাড়ি কিনতে ব্যয় হবে ৯০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কাজের গতিশীলতা আনতে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুতি গাড়িগুলো কেনার প্রয়োজন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এক নিয়োগ আবেদনে ৪০ কোটিরও বেশি আয়

অনলাইন ডেস্ক: ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে চাকরির আবেদনের জন্য কোনো প্রকার ফি না নিতে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নির্দেশনা কে সাধুবাদ জানিয়ে চাকুরি প্রার্থীরা চান ব্যাংকের মতো সরকারি চাকরিতেও নিয়োগ কার্যক্রমের জন্য ফি নেয়া বন্ধ হোক।
বাংলাদেশের প্রচুর পরিমাণ বেকার জনশক্তি একটি চাকরি পাওয়ার আশায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। একটি আসনের বিপরীতে শতশত প্রার্থী আবেদন করছেন। এই সুযোগই নিচ্ছে সরকারি সংস্থা বা বিভাগগুলো।’
দেখা গেছে, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগ পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭ জন প্রার্থী। গত ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এই আবেদন কার্যক্রম চলে। এই নিয়োগ পরীক্ষাবাবদ প্রতিজনের আবেদনের জন্য ১৬৮ টাকা ফি আদায় করা হয়। এই হিসাবে ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭ জন প্রার্থীর আবেদনে ৪০ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৭৬ টাকা জমা হয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তাফা কামাল জানান বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এবার রেকর্ডসংখ্যাক আবেদন জমা হয়েছে। এ বাবদ যে অর্থ জমা হয়েছে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফান্ডে রয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ করতে বিপুল পরিমাণে ব্যয় হয়ে থাকে। এ জন্য সারাদেশে বিপুল পরিমাণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত রাখতে হয়। সব মিলে অধিকাংশ অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। তবে এবার রেকর্ডসংখ্যক আবেদন আসায় সরকারি রাজস্ব আয় কিছু হলেও হতে পারে।
জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য টেলিটক মোবাইল ফোনে এসএমএমের মধ্যমে ফি জমা নেয়া হয়। সে অনুযায়ী, টেলিটকে দুটি এসএমএস পাঠানোবাবদ ৪ টাকা কর্তন করা হয়। বাকি টাকা নিয়োগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে জমা দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শাকিল আহমেদ জানান, বেশি আবেদন জমা হলেই টেলিটক কোম্পানির খুব বেশি লাভ হয় না। পুরো অর্থই নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে চলে যায়। তাই আবেদনকারীর কাছে দুটি এসএমএস বাবদ ৪ টাকা কর্তন করা হলেও আবেদনকারীকে একাধিক এসএমএস পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, প্রতি আবেদনে ৪ টাকা নিলেও টেলিটক কোম্পানির আয় হয়ে থাকে মাত্র দুই শতাংশের বেশি। আবেদন প্রতি ৪ টাকা কেটে বাকি টাকা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিতে হয়।

ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ২৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭ আবেদনকারীর মধ্যে সর্বোচ্চ আবেদন রয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। এ জেলায় মোট ৯৮ হাজার ৯৬৯টি আবেদন পড়েছে। এরপরে ময়মনসিংহে ৮৮ হাজার ২১৮টি, কুমিল্লায় ৮৪ হাজার ৭২৮টি, দিনাজপুরে ৬২ হাজার ৯৭১টি, রংপুরে ৫৯ হাজার ৭১টি, জয়পুরহাটে ১৮ হাজার ১৭৮টি, বগুড়ায় ৬৪ হাজার ৭২৭টি, নওগাঁয় ৪৯ হাজার ৮৬৩টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০ হাজার ২৭১টি আবেদন পড়েছে।

রাজশাহীতে ৫৭ হাজার ৩৮২টি, নাটোরে ৩৫ হাজার ২৫৭টি, সিরাজগঞ্জে ৫৮ হাজার ১৪৯টি, পাবনায় ৫১ হাজার ২৩১, কুষ্টিয়ায় ৩২ হাজার ৬০৯টি, মেহেরপুরে ১০ হাজার ৮৮৮টি, চুয়াডাঙ্গায় ১৮ হাজার ৬৬১টি, ঝিনাইদহে ৩৭ হাজার ৬১৭টি, মাগুরায় ২১ হাজার ৯৬২টি, যশোরে ৫৫ হাজার ৯৩২টি, নড়াইলে ১৫ হাজার ৬১৪টি, সাতক্ষীরায় ৪৫ হাজার ৬১টি, খুলনায় ৪৭ হাজার ১৮৮টি, বাগেরহাটে ৩২ হাজার ৯৭টি, জামালপুর ৫০ হাজার ৫০টি, শেরপুরে ২৫ হাজার ৪৬৬টি, নেত্রকোণায় ৪২ হাজার ৭৫৩টি, কিশোরগঞ্জে ৪৭ হাজার ৮৮৫টি, টাঙ্গাইলে ৬১ হাজার ৬৩০টি, গাজীপুরে ৩৫ হাজার ৫১৭টি, নরসিংদীতে ৩৮ হাজার ১৪৩টি, মানিকগঞ্জে ২৫ হাজার ৭১১টি, ঢাকায় ৬৪ হাজার ৫৫৮, নারায়ণগঞ্জে ২৭ হাজার ১২৭টি, মুন্সিগঞ্জে ১৮ হাজার ৭৫৯টি, রাজবাড়ীতে ২১ হাজার ৯০৬টি, ফরিদপুরে ৩৩ হাজার ৬৪৩টি, মাদারীপুরে ২৪ হাজার ৮০৭টি, শরীয়তপুরে ১৮ হাজার ৭৮৬টি, গোপালগঞ্জে ২৯ হাজার ২১৫টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৮ হাজার ৪০টি আবেদন পড়েছে।

চাঁদপুরে ৪৬ হাজার ৯১টি, লক্ষ্মীপুরে ২৩ হাজার ৩৩০টি, নোয়াখালীতে ৪০ হাজার ৭৩৯টি, ফেনীতে ২১ হাজার ৫০১টি, কক্সবাজারে ২৬ হাজার ৭৫০টি, বরিশালে ৬১ হাজার ৮৮৩টি, পিরোজপুরে ২৯ হাজার ২৭৮টি, ঝালকাঠিতে ১৯ হাজার ১৩৮টি, বরগুনায় ২১ হাজার ৭১৭টি, পটুয়াখালীতে ৪০ হাজার ৮০৭টি, ভোলায় ২৫ হাজার ১৪৫টি, সুনামগঞ্জে ৩৫ হাজার ৫১২টি, সিলেটে ৫০ হাজার ৩৭০টি, হবিগঞ্জে ৩৩ হাজার ৪৭৫টি, মৌলভীবাজারে ৩২ হাজার ১০৬টি, পঞ্চগড়ে ২১ হাজার ৬২৯টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩১ হাজার ৭৯৭টি, নীলফামারীতে ৩৯ হাজার ৭৫২টি, লালমনিরহাটে ২৬ হাজার ১২২টি, কুড়িগ্রামে ৪৩ হাজার ২৯৪টি এবং গাইবান্ধায় ৫৫ হাজার ৫১৭টি আবেদন।

জানা গেছে, সারা দেশে ১২ হাজার আসনের বিপরীতে প্রতি আসনে ২০০ জনের বেশি চাকরি প্রত্যাশী এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন। চলতি বছরের ১৯ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা আয়োজনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ডিসেম্বরের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা শেষ হতে পারে।
বেশি আবেদন পড়ার বিষয়ে ডিপিই’র মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এবার সর্বোচ্চ আবেদন এসেছে। এটি একটি ইতিবাচক বিষয় হিসেবে গণ্য করা হবে। বেশি আবেদন এলে কঠিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষক নেয়া সম্ভব হবে।

প্রার্থীরা http://dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। ওএমআর শিট পূরণের নির্দেশাবলি এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য ওয়েবসাইটে (www.dpe.gov.bd) পাওয়া যাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মধু খেলেই ৭ জটিল সমস্যার সমাধান

অনলাইন ডেস্ক: নানা গুণের মধুর উপকারিতা সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানি। গবেষণায় দেখা গেছে, মধু ও দারুচিনির মিশ্রণ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি।
হৃদরোগ থেকে শুরু করে ওজন কমানো পর্যন্ত প্রায় সব কিছুতেই মধু-দারুচিনির মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকরী। জেনে নিতে পারেন, মধু খেলে যে ৭ জটিল সমস্যা সহজেই সমাধান করতে পারবেন।

১) হৃদরোগ: হার্ট সুস্থ্য রাখার জন্য দারুচিনি ও মধুর পানির কোনও বিকল্প নেই। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস মধু ও দারুচিনি মিশ্রিত পানি পান করলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এই মিশ্রণ রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেবে।

২) কোলেস্টরল: এক কাপ চায়ের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে তিন টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। এটি রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা অন্তত ১০ শতাংশ কমেয়ে দেবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এই মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর।

৩) পিত্ত থলিতে সংক্রমণ: মধু-দারুচিনির মিশ্রণ পিত্ত থলির সংক্রমণ রোধ করতে সক্ষম। মধু দারুচিনিতে অ্যান্টি ব্যাক্টোরিয়াল উপাদান আছে, যা পিত্ত থলিকে বাইরের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে।

৪) বাত/আর্থারাইটিস-এর সমস্যা: একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মধু দারুচিনির পানি পান করার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাতের ব্যথা কমে যায়। এক গ্লাস গরম পানিতে দুই টেবিল চামচ মধু আর এক টেবিল চামচ দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এই পানি প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে ঘুম থেকে উঠে আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি আপনার বাতের ব্যথা কমিয়ে দেবে।

৫) চুল পড়া রোধে: অলিভ অয়েলের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মধু, ১ চা চামচ দারচিনির গুঁড়া মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে নিন। এটি চুলের ফাঁকা জায়গায় লাগান (যেখান থেকে চুল পড়ে গেছে সেখানে)। ১৫ মিনিট পর উষ্ণ গরম পানি দিয়ে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এটি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

৬) নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ দূর করতে: উষ্ণ গরম পানিতে মধু ও দারচিনি মেশান। প্রতিদিন সকালে এই মিশ্রণ পান করুন। এটি আপনার মুখের দুর্গন্ধ কাটাতে সাহায্য করবে।

৭) ওজন কমাতে: শরীরের বাড়তি ওজন কমাতেও মধু দারচিনির জুড়ি মেলা ভার। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দারচিনি ও মধু খুব দ্রুত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন দারচিনি গুঁড়ো ও মধু দিয়ে ফোটানো এক গ্লাস পানি খালিপেটে পান করুন। এটি আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘মিডিয়ার মেয়ে’ বলে বিমানবন্দরে সাফা কবিরকে হেনস্তা

বিনোদনের খবর: কিছুদিন আগে নাটকের শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড পাড়ি জমান মডেল ও অভিনেত্রী সাফা কবির। শুটিং শেষে গতকাল বুধবার বিকেলের ফ্লাইটে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমসের একদল নিরাপত্তারক্ষীর হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে। সেসময় তিনি একাই ছিলেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সাফা কবির জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার ফ্লাইটে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সন্ধ্যায় ঢাকাতে পৌঁছান। সেসময় বিমানবন্দরের কাস্টমস অতিক্রম করার সময় একদল সাদা পোশাকধারী নিরাপত্তাকর্মী তাকে তিনটি লাগেজসহ থামান। এরপর নিরাপত্তারক্ষীরা সাফা কবিরকে ‘মিডিয়ার মেয়ে’ বলে কটূক্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার তিনটি লাগেজ তল্লাশিও করতে চান। নিরাপত্তারক্ষীরা পুরুষ হওয়ায় লাগেজ চেক করতে সাফা কবির আপত্তি করেন।
সাফা কবির নারী নিরাপত্তারক্ষীদের মাধ্যমে তার লাগেজ চেক করতে অনুরোধ করলে তারা সে বিষয়টি আমলে না নিয়ে সাফাকে নিয়ে নানা বাজে মন্তব্য করতে শুরু করেন।
সাফা বলেন, ‘নারী হিসেবে আমার একটা প্রাইভেসি আছে। তাই কোনো নারী নিরাপত্তারক্ষী দিয়ে আমার লাগেজ তল্লাশি করাতে আমার কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু সাদা পোশাকধারী ওই নিরাপত্তারক্ষীরা বলেন, মিডিয়ার মেয়ের আবার প্রাইভেসি কীসের? এভাবে কথা কাটাকাটি চলে প্রায় ৩০ মিনিট। একপর্যায়ে একজন নারী নিরাপত্তারক্ষী এগিয়ে এসে আমার লাগেজ তল্লাশি করেন।’

সাফা বলেন, ‘তল্লাশি করে অবৈধ কিছু পেয়ে আটকাতে না পেরে আমার বহন করে আনা জিনিসের ট্যাক্স দাবি করে বসেন তারা। কিন্তু আমার কাছে ট্যাক্স দেয়ার মতো কোনো পণ্য ছিল না। পরে আইনিভাবে আটকাতে না পেরে ছেড়ে দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার তিনটি লাগেজে পোশাক ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী ছিল। নিরাপত্তার নামে আমি হেনস্তার শিকার হয়েছি। নিরাপত্তারক্ষীরা আমাকে সাহায্য না করে বরং চরম অপমান করেছেন। এভাবে হেনস্তা করার সময় আশপাশের অনেক মানুষ জড়ো হয় এবং সেগুলো তারা ভিডিও করেছে। এটা আমার জন্য মানিহানিকর। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
যোগ করে আরও বলেন, ‘বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে একজন মেয়ে হিসেবে আমি চরম অপদস্থ হয়েছি। মিডিয়ার মেয়ে বলে ওই নিরাপত্তারক্ষীরা আমাকে বাজেভাবে অপমান করেছেন। শিল্পী তো দূরের কথা, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি যথার্থ মূল্যায়ন পাইনি। আমার মতো একজন শিল্পীর যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন কীভাবে হেনস্তা হয় ধারণা করা যায়?’
এ বিষয়ে তদন্ত করে ওইসব নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন সাফা কবির।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোনালদোর লাল কার্ড সত্ত্বেও ইউভেন্তুসের জয়

খেলার খবর: ইউভেন্তুসের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেকে চোখে জল নিয়ে মাঠ ছাড়লেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। টুর্নামেন্টে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো দেখলেন লাল কার্ড। অবশ্য প্রায় এক ঘণ্টা এক জন কম নিয়ে খেলেও ভালেন্সিয়াকে হারিয়ে দিয়েছে মাস্সিমিলিয়ানো আল্লেগ্রির দল।

‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতেছে ইউভেন্তুস। দুই অর্ধে পেনাল্টি থেকে গোল দুটি করেন মিরালেম পিয়ানিচ।

এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে পল পগবার জোড়া গোলে ইয়াং বয়েজকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

প্রতিপক্ষের মাঠে বুধবার রাতে প্রথম ভালো সুযোগ পায় ইউভেন্তুস। ফেদেরিকো বের্নারদেস্কির ক্রসে ঠিক মতো শট নিতে পারেননি রোনালদো। গোল মুখে বল পেয়ে যান মারিও মানজুকিচ। খুব কাছে থেকেও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।

সপ্তম মিনিটে সামি খেদিরার অবিশ্বাস্য মিসে আবার হতাশ হতে হয় ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নদের। ফেদেরিকোর কাছ থেকে গোল মুখে বল পেয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান জার্মান মিডফিল্ডার।

২১তম মিনিটে দুবার দলকে বাঁচান ভালেন্সিয়ার ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক নেতো। খুব কাছ থেকে ফেদেরিকোর শট ফেরানোর পর ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন ব্লেইস মাতুইদির চেষ্টা।

জেইসন মুরিয়োকে হালকা ধাক্কা দিয়ে লাল কার্ড দেখেন রোনালদো। ৩১তম মিনিটে চোখে জল নিয়ে মাঠ ছাড়েন তারকা রোয়ার্ড।
ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় ১৫৪তম ম্যাচে এসে প্রথমবারের মতো লাল কার্ড দেখলেন তিনি।

ম্যাচের এই বাঁক বদল কাজে লাগাতে পারেনি ভালেন্সিয়া। অবশ্য ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইউভেন্তুসকে চেপে ধরেছিল তারা। ৩৭তম মিনিটে মিচি বাতশুয়াইয়ের শট ফিরিয়ে অতিথিদের ত্রাতা গোলরক্ষক ভয়চেখ স্ট্যাসনি।

৪৩তম মিনিটে দলকে প্রায় এগিয়েই নিচ্ছিলেন জোয়াও কানসেলো। একটি ক্রসে ঠিক মতো শট নিতে পারেননি তিনি। তবে বল নিজের নিয়ন্ত্রণেই থাকায় আবার শট নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। এবার গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে বল ফিরে মাঠে।

বিপদমুক্ত করার চেষ্টায় ডি-বক্সে কানসেলোকে ফাউল করে বসেন দানিয়েল পারেয়ো। সফল স্পট কিকে ৪৫তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন পিয়ানিচ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পিয়ানিচ। তার কর্নারের সময় ডি-বক্সে লিওনার্দো বোনুচ্চিকে ফাউল করেন মুরিয়ো। ৫১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে আবার নেতোকে ফাঁকি দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন পিয়ানিচ।

আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়া স্প্যানিশ দলটি দ্বিতীয়ার্ধে প্রবল চাপে রাখে ইউভেন্তুসকে; কিন্তু জালের দেখা পায়নি।
যোগ করা সময়ে একটি ক্রস বিপদমুক্ত করার চেষ্টায় লাফিয়ে হেড করার সময় গাব্রিয়েল পাউলিস্তার মুখে দানিয়েল রুগানির কনুই লাগলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। ব্যবধান কমানোর সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ভালেন্সিয়া অধিনায়ক। পারেয়োর শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন ভয়চেখ।ইয়াং বয়েজের মাঠে ৩৫তম মিনিটে ইউনাইটেডকে এগিয়ে নেন পল পগবা। ৪৪তম মিনিটে সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ফরাসি তারকা।

৬৬তম মিনিটে জালের দেখা পান অঁতনি মার্সিয়াল। প্রতিপক্ষের মাঠে ৩-০ গোলের জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করল জোসে মরিনিয়োর শিষ্যরা।

টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছে শিরোপাধারী রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ইতালির দল রোমাকে।

‘জি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেক রিপাবলিকের ভিক্তোরিয়া প্লজেনের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছে রাশিয়ার সিএসকেএ মস্কো।

শুভ সূচনা করেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখও। পর্তুগালের ক্লাব বেনফিকাকে তাদেরই মাঠে ২-০ গোলে হারিয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

‘ই’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে ডাচ ক্লাব আয়াক্স ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়েছে গ্রিসের এইকে অ্যাথেন্সকে।

‘এফ’ গ্রুপে ম্যানচেস্টার সিটিকে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে ফ্রান্সের অলিম্পিক লিওঁ। গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইউক্রেনের শাখতার দোনেৎস্কের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছে জার্মানির হফেনহাইম।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছে ইউভেন্তুস। দুই অর্ধে পেনাল্টি থেকে গোল দুটি করেন মিরালেম পিয়ানিচ।

এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইয়ং বয়েজকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

প্রতিপক্ষর মাঠে বুধবার রাতে প্রথম ভালো সুযোগ পায় ইউভেন্তুস। ফেদেরিকো বের্নারদেস্কির ক্রসে ঠিক মতো শট নিতে পারেননি রোনালদো। গোল মুখে বল পেয়ে যান মারিও মানজুকিচ। খুব কাছে থেকেও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।

সপ্তম মিনিটে সামি খেদিরার অবিশ্বাস্য মিসে আবার হতাশ হতে হয় ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নদের। ফেদেরিকোর কাছ থেকে গোল মুখে বল পেয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল পাঠান জার্মান মিডফিল্ডার।

২১তম মিনিটে দুবার দলকে বাঁচান ভালেন্সিয়ার ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক নেতো। খুব কাছ থেকে ফেদেরিকোর শট ফেরানোর পর ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন ব্লেইস মাতুইদির চেষ্টা।

জেইসন মুরিয়োকে হালকা ধাক্কা দিয়ে লাল কার্ড দেখেন রোনালদো। ৩১তম মিনিটে চোখে জল নিয়ে মাঠ ছাড়েন তারকা ফরোয়ার্ড। ম্যাচের এই বাঁক বদল কাজে লাগাতে পারেনি ভালেন্সিয়া।
ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় ১৫৪তম ম্যাচে এসে প্রথমবারের মতো লাল কার্ড দেখলেন রোনালদো। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইউভেন্তুসকে চেপে ধরে ভালেন্সিয়া। ৩৭তম মিনিটে মিচি বাতশুয়াইয়ের শট ফিরিয়ে অতিথিদের ত্রাতা গোলরক্ষক ভয়চেখ স্ট্যাসনি।

৪৩তম মিনিটে দলকে প্রায় এগিয়েই নিচ্ছিলেন জোয়াও কানসেলো। একটি ক্রসে ঠিক মতো শট নিতে পারেননি তিনি। তবে বল নিজের নিয়ন্ত্রণেই থাকায় আবার শট নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। এবার গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে বল ফিরে মাঠে।

বিপদমুক্ত করার চেষ্টায় ডি বক্সে কানসেলোকে ফাউল করে বসেন দানিয়েল পারেয়ো। সফল স্পট কিকে ৪৫তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন পিয়ানিচ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান দ্বিহুণ করেন পিয়ানিচ। তার কর্নারের সময় ডি বক্সে লিওনার্দো বোনুচ্চিকে ফাউল করেন মুরিয়ো। ৫১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে আবার নেতোকে ফাঁকি দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন পিয়ানিচ।

আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়া স্প্যানিশ দলটি দ্বিতীয়ার্ধে প্রবল চাপে রাখে ইউভেন্তুসকে। কিন্তু জালের দেখা পায়নি ভালেন্সিয়া।

গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইয়ং বয়েজের বিপক্ষে ৩৫তম মিনিটে ইউনাইটেডকে এগিয়ে নেন পল পগবা। ৪৪তম মিনিটে সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ফরাসি তারকা।

৬৬তম মিনিটে জালের দেখা পান অঁতনি মার্সিয়াল। প্রতিপক্ষের মাঠে ৩-০ গোলের জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করল জোসে মরিনিয়োর শিষ্যরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হুমকির মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি-এস কে সিনহা

দেশের খবর: যাকে ঘিরে এক বছর আগে বাংলাদেশের বিচারঙ্গনে রীতিমত ভূমিকম্প ঘটে গিয়েছিল, সেই বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিদেশে বসে একটি বই লিখেছেন, যেখানে দেশত্যাগ ও পদত্যাগ নিয়ে এসেছে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য।

‘এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শিরোনামে আত্মজীবনীমূলক এই বইয়ে বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধান বিচারপতি দাবি করেছেন, তিনি দেশ ছেড়েছেন ‘হুমকির মুখে’; একই কারণে বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

আর সেই হুমকি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা– ডিজিএফআইয়ের তরফ থেকে এসেছিল বলে দাবি করা হয়েছে বইটিতে।

বিচারপতি সিনহার অভিযোগের বিষয়ে সরকারের মন্ত্রীদের কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আর ডিজিএফআই বলেছে, কাওকে হুমকি ধামকি দেওয়ার মত কাজ তারা কখনোই করে না।

৬১০ পৃষ্ঠার এই বইটি অ্যামাজনের কিন্ডেল সংস্করণে বিক্রি হচ্ছে। বইয়ের কিছু অংশ অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিচারপতি সিনহা ভূমিকায় লিখেছেন, ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশের বিচারাঙ্গনে যুক্ত থাকার সুবাদে এর রূপান্তর এবং বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাগুলো দেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সিলেটের নিম্ন আদালতের একজন আইনজীবী হিসেবে শুরু করে বাংলাদেশের বিচারালয়ের শীর্ষ অবস্থানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনের সৌভাগ্য হয়েছে তার।

“কিন্তু ২০১৭ সালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে ঐতিহাসিক এক রায় দেওয়ার পর বর্তমান সরকার আমাকে পদত্যাগ করতে এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে।”
বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়াকে ওই রায়ের মাধ্যমে অবৈধ ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট। আর তারপর যা ঘটেছে, তাকে বিচারপতি সিনহা বর্ণনা করেছেন ‘নজিরবিহীন ঘটনা’ হিসেবে।পৌন তিন বছর প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করা বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি। কিন্তু কার্যকাল শেষ হওয়ার ৮১ দিন আগেই তাকে ‘নজিরবিহীন’ ওই পরিস্থিতির মধ্যে পদত্যাগ করতে হয়।

বাংলাদেশে আর কখনও কোনো প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে এত আলোচনা হয়নি; আর কোনো প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগও করতে হয়নি।

অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকর্মীর সঙ্গে বাদানুবাদ, বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার অভিযোগ আনা, অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধ, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে উত্তেজনা- এরকম বহু ঘটনায় বিচারপতি সিনহা বহুবার সংবাদ শিরোনামে এসেছেন।

সর্বশেষ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে তিনি ছুটিতে যান। সরকারের পক্ষ থেকে অসুস্থতার কথা বলা হলেও ১৩ অক্টেবর তিনি রীতিমত বোমা ফাটিয়ে বিদেশে চলে যান।

বিচারপতি সিনহা বলে যান, তিনি অসুস্থ নন, ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় তিনি ‘বিব্রত’। তার ছুটির মেয়াদ শেষে ১১ নভেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিচারপতি সিনহা পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।

পদত্যাগ করার পর বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ ওঠার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বলা হয়, ওইসব অভিযোগের কারণে আপিল বিভাগের অন্য বিচারকরা আর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে মামলা নিষ্পত্তিতে রাজি নন। সেসব অভিযোগ নিয়ে দুদক পরে অনুসন্ধানও শুরু করে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সে সময় বলেন, একজন বিচারপতির মাধ্যমে দেশে জুডিশিয়াল ক্যু করার চেষ্টা হয়েছিল। আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, বিচারকদের নিয়ন্ত্রণে সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধির নামে তা কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন বিচারপতি সিনহা।

বিচারপতি সিনহার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে আসেন বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। তার সময়ে বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট নিয়ে সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের টানাপড়েনের অবসান ঘটে।

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে নেওয়া অবৈধ ঘোষণার যে রায় নিয়ে সঙ্কট জটিল মাত্রা পেয়েছিল, সেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্যও সরকার আবেদন করে।

অবশ্য সরকার সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দিলে আপিল বিভাগের তখনকার জ্যেষ্ঠতম বিচারক ওয়াহহাব মিঞাও চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে বিদায় নেন।
‘দুর্ভাগ্যজনক, নজিরবিহীন

বিচারপতি সিনহার বইয়ের ভূমিকাসহ ১০টি অধ্যায় অ্যামাজানের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

আইন পেশায় এস কে সিনহার টিকে থাকার সংগ্রাম, নানা অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশের বিচার বিভাগের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের নৈতিকতার ‘অবক্ষয়’, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও বাংলাদেশের ‘শিশু গণতন্ত্রের’ অবস্থা, পুলিশের ‘বাড়াবাড়ি’, জরুরি অবস্থার প্রভাব এবং জরুরি অবস্থার প্রভাব, এবং ‘ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের অর্থ আদায়ের’ বিষয়ে আলোকপাত করার কথা বলা হয়েছে ভূমিকায়।

শৈশব থেকে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল নিয়েও এ বইয়ে লিখেছেন বিচারপতি সিনহা।

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির পদে থাকা অবস্থায় কোন পরিস্থিতিতে সরকারের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, কোন পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, আর কেন বিদেশে থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল- সে বিষয়ে নিজের ভাষ্য এ বইয়ে তুলে ধরেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি।

তিনি লিখেছেন, ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে যখন বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়া হল তখন থেকেই টানাপড়েনের শুরু।

২০১৬ বছরের ৫ মে হাই কোর্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। পরের বছর জুলাইয়ে আপিল বিভাগের রায়ে তা বাহল থাকলে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় পড়েন বিচারপতি সিনহা।

পরের মাসে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে তাতে বিচারপতি সিনহার ৪০০ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ দেখে শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। সাবেক প্রধান বিচারপতি বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ওই রায়কে ‘ভ্রমাত্মক’ বলেন।

ওই পর্যবেক্ষণে সংসদ ও সরকার এবং জাতির জনককে খাটো করা হয়েছে অভিযোগ তুলে বিচারপতি সিনহার পদত্যাগের দাবি তোলে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা; অন্যদিকে বিএনপি প্রধান বিচারপতির পক্ষে দাঁড়ায়।

সেই সময়ের কথা তুলে ধরে বিচারপতি সিনহা তার বইয়ে লিখেছেন, “আপিল বিভাগের রায়ের পর ১৩ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের রায় বাতিলের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়। পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী, তার দলের লোকজন এবং সরকারের মন্ত্রীরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আইনমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনতে থাকেন।”

বিচারপতি সিনহা অভিযোগ করেছেন, ওই সময় তাকে তার বাসভবনে আটকে থাকতে হয়। আইনজীবী ও বিচারপতিদেরকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছিল না। সংবাদমাধ্যমকে বলা হচ্ছিল- তিনি অসুস্থ, ছুটির আবেদন করেছেন।

“কয়েকজন মন্ত্রী বলছিলেন যে, আমি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাব। ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর আমি যখন দেশ ছাড়তে বাধ্য হলাম, একটি বিবৃতি দিয়ে আমি বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করলাম যে আমি অসুস্থ নই, চিরতরে দেশ ছেড়েও যাচ্ছি না।

“আমি আশা করছিলাম, আদালতে আমার অনুপস্থিতি আর আদালতের নিয়মিত অবকাশের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা থিতিয়ে আসার সুযোগ পাবে এবং সুবিবেচনার উদয় হবে, সরকার হয়ত ওই রায়ের মর্ম বুঝতে পারবে, তারা বুঝবে যে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রাষ্ট্র ও দেশের জন্যই দরকার।

“শেষ পর্যন্ত আমার পরিবার আর স্বজনরা যখন দেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, যাকে বলা হয় ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স, তাদের হুমকির মুখে পড়ল, তখন আমি বিদেশ থেকেই পদত্যাগপত্র জমা দিই।”

বিচারপতি সিনহার অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডিজিএফআইয়ের পিআরএমসি বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বইটি তারা এখনো হাতে পাননি, সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

“তবে স্পষ্ট কথা হল, ডিজিএফআই কখনো কোনো ব্যক্তিকে হুমকি দেয় না বা এ ধরনের কোনো কাজও করে না।”

বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা বিভাগ। বুধবার রাতে বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান প্রবাহে বিচারপতি সিনহা ওই সময়ের পরিস্থিতি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেন।

ওই সাক্ষাৎকারের অডিও বিবিসি বাংলার ফেইসবুক পেইজেও দেওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মতামত উপেক্ষা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস

দেশের খবর: জাতীয় সংসদের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি, উদ্বেগ ও মতামত উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আপত্তির মুখে বিলটি পাস হয়।

এই আইনে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হলে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল হবে। তবে এই আইনটিতেই বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো চারটি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশকে পরোয়ানা ও কারও অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনে ঢোকানো হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের সমালোচিত আইন ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’। আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় বসে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক এই আইন লঙ্ঘন হয়, এমন অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনে বিচার করা যাবে।

এই আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধ বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে। অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এ সময়ে সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবস সময় বাড়ানো যাবে। আইনে বলা হয়েছে, তথ্য অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর বিধানাবলি কার্যকর থাকবে।

আইনে ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ; মানহানিকর তথ্য প্রকাশ; ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত; আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তি তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে অপরাধে জেল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যও আইনের বেশ কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেন। তবে সেসব আপত্তি টেকেনি।

ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ১১ জন ও স্বতন্ত্র একজন সাংসদ বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও আরও পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার প্রস্তাব দেন। তবে এর মধ্যে তিনজন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন না। আর জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন।

বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, অংশীজনদের আপত্তি ও বিতর্কিত ধারাগুলো অপরিবর্তিত রেখে সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা খুবই উদ্বেগজনক। একদিকে বিলের ৮, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগ ও মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। যা তাদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে বিতর্কিত ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ অনুসরণের সুপারিশ করার দৃষ্টান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক। নিবর্তনমূলক এই আইন সংযোজনের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেন।

ফখরুল ইমাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ৩২ ধারার অপপ্রয়োগের ফলে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী দুর্নীতি মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত আইনি অধিকার ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হবে। ফলে এই ধরনের অপরাধের আরও বিস্তার ঘটবে। এ ছাড়াও অনুসন্ধানীমূলক সাংবাদিকতা ও যে কোনো ধরনের গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। এটি আইনে পরিণত হলে তা সংবিধানের মূল চেতনা, বিশেষ করে মুক্ত চিন্তা, বাক স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করবে। ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি কল্যাণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিতের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে প্রস্তাবিত আইনটি তাতে বাধা সৃষ্টি করবে। গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের ভূমিকা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। গণমাধ্যমসহ সকল নাগরিকের সমস্ত ধরনের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সরকারকে সহযোগিতা প্রদান এবং বাধাহীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে তার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন।

বিরোধী দলের সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতামত ও চিন্তার স্বাধীনতার যে কথা বলা হয়েছে, এই আইন হবে তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করা হলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনেক জায়গায় ৫৭ ধরার ভীতি আরও বেশিভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার প্রতিকারে কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিরোধী দলের এই সাংসদ বলেন, সম্পাদকদের উদ্বেগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও আইনে তা প্রতিফলিত হয়নি। এই আইন গণমাধ্যমকে ক্ষুব্ধ করবে। নির্বাচনের আগে সমাজের এ রকম একটি বিশাল প্রগতিশীল অংশকে ক্ষুব্ধ করা ঠিক হবে না।

নুরুল ইসলাম মিলন, নুর ই হাসনা লিলি চৌধুরী, মাহজাবিন মোর্শেদ, রওশন আরা মান্নান ও শামীম হায়দার পাটোয়ারি, মোহাম্মদ নোমান বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও আরও পরীক্ষা নীরিক্ষা করার প্রস্তাব দেন।

কাজী ফিরোজ রশীদ তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে বলেন, সময়োপযোগী বিলটি আরও আগে আসা উচিত ছিল। প্রচুর যাচাই বাছাই হয়েছে, কালক্ষেপণ না করে আইনটি পাস করা হোক।

সাংসদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট দেখলে দেখা যাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কী পরিমাণ আলোচনা করেছি। আইনমন্ত্রী যে কতবার তাদের সঙ্গে বসেছেন, পরামর্শ নিয়েছেন। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। যেটা সংসদে উত্থাপিত বিল ও সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট হবে। তারা যেসব বিষয়ে একমত হয়েছেন তাসহ যেসব জায়গায় যে ধরনের সংশোধন করা দরকার আমরা করেছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সম্পাদক পরিষদ নেতৃবৃন্দ সংসদীয় কমিটি ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে যে কথাগুলো বলেছেন, তা সম্ভবত ভুলে গিয়েছেন। না হলে এই বিল সম্পর্কে তাদের সমালোচনার অবস্থান বিরাজ করে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপায়টি এই আইন খুলে দেবে।’

মোস্তফা জব্বার বলেন, সাংবাদিকেরা ৩২ ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেখানে তারা গুপ্তচরবৃত্তির কথা বলেছিলেন-সংসদীয় কমিটি সেটাকে সংশোধন করে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের কথা বলেছেন। এই আইনের অপপ্রয়োগের নজির নেই।

মোস্তফা জব্বার দাবি করেন, তাঁরা সাংবাদিকদের সামনে সব উপস্থাপন করেছেন। তাঁদের কথা অনুসারে যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন দরকার তার সবই করেছেন। সংবাদপত্র দমন বা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আইন নয়। এই আইন কেবল ডিজিটাল অপরাধ দমন করার জন্য।

ভবিষ্যতে ডিজিটাল যুদ্ধ হবে উল্লেখ করে মোস্তফা জব্বার বলেন, এই যুদ্ধে যদি রাষ্ট্রকে নিরাপত্তা দিতে না পারি, রাষ্ট্র যদি বিপন্ন হয় তাহলে অপরাধটা আমাদেরই হবে। আমরা তা হতে দিতে পারি না।

মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘এই আইনটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক আইন। আমরা একটি ঐতিহাসিক কাজের সাক্ষী হয়ে সংসদে থাকছি।’
পরে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। তবে ফখরুল ইমামের দেওয়া একটি সংশোধনী গৃহীত হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এই আইন কার্যকর হলে তথ্যও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা বাতিল হবে। তবে এসব ধারায় বিচারাধীন মামলা এসব ধারাতেই চলবে।

গত ২৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করেছিল মন্ত্রিসভা। তখন থেকে এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পক্ষ আপত্তি জানিয়ে আসছে। সম্পাদক পরিষদ এই আইনের ৮টি (৮,২১, ২৫,২৮, ২৯,৩১, ৩২ ও ৪৩) ধারা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিল। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এসব ধারা বাক্স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা হতে পারে। এ ছাড়া ১০টি পশ্চিমা দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকেরা এই আইনের ৪টি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ৯টি ধারা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল।

আপত্তির মুখে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। এই প্রেক্ষাপটে গত ৯ এপ্রিল বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠায় সংসদ। সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠন সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিলটি নিয়ে দুই দফা বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। যে ধারাগুলো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি ছিল, তার কয়েকটিতে কিছু জায়গায় ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা, সাজার মেয়াদ কমানো এবং শব্দ ও ভাষাগত কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়ালের দুর্দান্ত সূচনা

খেলার খবর: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানের শুরুটা দুর্দান্ত হল রিয়াল মাদ্রিদের। ইতালিয়ান ক্লাব রোমাকে হারিয়ে ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

বুধবার রাতে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ের নিজেদের মাঠে ম্যাচের পুরোটা সময় দাপটের সঙ্গে খেলে হুলেন লোপেতেগির দল। অধিকাংশ সময় বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ করতে রিয়াল। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে ইসকোর গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফ্রি কিক থেকে আসে স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ডের গোলটি।

পরে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে সাফল্যের দেখা পান বেল। মদ্রিচের বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে জালে পাঠান এই উইঙ্গার। এরপর অতিরিক্ত সময়ের দুর্দান্ত এক গোলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেন বেলের বদলি নামা মারিয়ানো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest