সাতক্ষীরায় পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ আটক ৭২

আসাদুজ্জামান: সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪ জন মাদক মামলার আসামী ও জামায়াত-শিবিরের ৯ নেতা-কর্মীসহ ৭২ জনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল পযর্ন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে ৫টি পেট্রোল বোমা ও ৬টি জিহাদী বইসহ বেশ কিছু মাদক দ্রব্য। এসময় বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ২৮ জন, কলারোয়া থানা থেকে ৭ জন, তালা থানা ১২ জন, কালিগঞ্জ থানা ৯ জন, শ্যামনগর থানা ১১ জন, আশাশুনি থানা ৯ জন, দেবহাটা থানা ৩ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কয়লা দুর্নীতি; ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দেশের খবর: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার মে. টন কয়লা গায়েবের ঘটনায় সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে মামলাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়েছে।

পার্বতীপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ফখরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ‘মামলাটি দুদকের আওতাধীন হওয়ায় তদন্তের জন্য ইতোমধ্যেই দুদকে পাঠানো হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- সাময়িক বরখাস্তকৃত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুর-উজ-জামান চৌধুরী, উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলাম, সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সদ্য বিদায়ী কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানীয়া, ব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন) মোশাররফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিসেস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার, ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হক, উপ-ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মোর্শেদুজ্জামান, উপ-ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) জাহেদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক (ভেল্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্রনাথ বর্মন, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান, উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) জোবায়ের আলী, প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী এবং মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা।

অভিযোগে জানানো হয়, খনি উন্নয়নের সময় (২০০১) থেকে ১৯ জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪২ দশমিক ৩৩ মে. টন কয়লা উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত কয়লা থেকে পার্শ্ববর্তী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৯ দশমিক ২৯ মে. টন কয়লা সরবরাহ, বেসরকারি ক্রেতাদের কাছে ডিও’র মাধ্যমে ৩৩ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ দশমিক ৩৭ মে. টন কয়লা বিক্রি এবং কয়লা খনির বয়লারে ১২ হাজার ৮৮ দশমিক ২৭ মে. টন কয়লা ব্যবহার করা হয়। কয়লার উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার হিসাব করলে ১৯ জুলাই কোল ইয়ার্ডে রেকর্ডভিত্তিক কয়লার মজুদ দাড়ায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মে. টন। কিন্তু বাস্তবে মজুদ ছিল প্রায় ৩ হাজার মে. টন কয়লা। অর্থাৎ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মে. টন কয়লা ঘাটতি রয়েছে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৩০ কোটি টাকা বলে জানানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এই ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ জন আসামি অনেক আগে থেকেই তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে সংঘটিত কয়লা চুরির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অনুমিত হয়।

মজুদকৃত কয়লার হিসাবের গড়মিলের বিষয়টি দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) এবং ৪০৯ ধারা অনুযায়ী এজাহারভুক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আরও ৪-৫ দিন থাকবে বৃষ্টি

দেশের খবর: বাংলাদেশের উপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। যা আগামী আরও ৪ থেকে ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

বুধবার (২৫ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫- থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো কিংবা দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম রুহুল কুদ্দুছ জানান-ভারতের উত্তরপশ্চিম ঝাড়খণ্ড এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর-পশ্চিম মধ্য প্রদেশ এবং তৎসংলগ্ন উত্তর প্রদেশে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তরপূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাহাড় ধসে চার ভাই-বোনসহ নিহত ৫

দেশের খবর: কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া বাঁচামিয়ার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ জুলাই) বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- ওই এলাকার জামাল হোসেনের মেয়ে মর্জিয়া আকতার (১৪), কাফিয়া আকতার (১০), আবদুল খাইর (৮) ও খাইরুন্নেছা (৬)।

নিহতদের মামা খোরশেদুল আলম জানান, ভোরে উঠে মা বাড়ির বাইরে কাজ করছিলেন। এসময় হঠাৎ বাড়ির পাশের পাহাড় ধসে বাড়ির উপর পড়ে। এতে ঘুমন্ত চার শিশু মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। এ ঘটনায় মা চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তাৎক্ষণিক স্থানীয় মসজিদের মাইকেও ঘোষণা দিয়ে মানুষ ডাকা হয়।

এদিকে কক্সবাজারের রামুর মিথাছড়িতেও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার তুজুলপুরে সার্কাসের আড়ালে চলছে রমরমা জুয়ার আসর

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙা ইউনিয়নের তুজুলপুর হাইস্কুল মাঠে সার্কাসের অনুমোদন নিয়ে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। অভিযোগ, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই প্রতি রাতে এ জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। এতে আয়োজক কমিটির সদস্য ছাড়াও একটি মহল লুটে নিচ্ছে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা। নিঃস্ব হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ। এলাকায় বেড়েছে চুরি ও ছিনতাই।
তুজুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, তুজুলপুর কৃষি ক্লাবের আয়োজনে তুজুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গত ১৭ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে ‘দি বাংলাদেশ গোল্ড সার্কাস’। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্কাস চালানোর জন্য ১২ দিনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। সার্কাস পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন নওয়্পাাড়ার শফিকুল ইসলাম। মাঠ ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের আজীবন সদস্য ও স্থানীয় কৃষি ক্লাবের সভাপতি ইয়ারব হোসেন তাদের কাছে অনুমতি নিয়েছে। এজন্য সার্কাস শেষ হলে কিছু টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তুজুলপুর গ্রামের আরাফাত হোসেন, ইমন ও আকাশ জানান, ১৭ জুলাই সার্কাস শুরু হলেও সন্ধ্যার পর থেকে প্যাণ্ডেলের মধ্যে ক্যাসিনো (চরকি) জুয়া শুরু হয়। রাত ১১ টা থেকে পরদিন ভোর চারটা পর্যন্ত চলে ওয়ান টেন। ভ্যান চালক, দিন মজুর, ব্যবসায়ি ছাড়াও বিভিন্ন পেশার মানুষ প্রতিদিন এ খেলায় অংশ নিচ্ছে। নামে সার্কাসের ম্যানেজার হলেও জুয়া খেলার পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন শফিকুল ইসলাম। জুয়ার জন্য শফিকুলকে সার্কাস আয়োজক কমিটিকে দিন প্রতি দিতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এ ছাড়াও প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে গুণতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। সব মিলিয়ে খরচ বাদ দিয়ে শফিকুল ইসলাম প্রতিদিন জুয়ার মাধ্যমে লুটে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
তারা আরো জানান, সার্কাস দেখতে প্রতিদিন এক’শ লোক না হলেও জুয়ার বোর্ডে আসে কয়েক’শ মানুষ। এরমধ্যে ভ্যান চালক, দিনমজুর, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ি, চাকুরীজীবি রয়েছেন। সার্কাসের নিরাপত্তা দেওয়ার নামে প্রশাসনের সদস্যদের কেউ কেউ জুয়ায় অংশ নিচ্ছেন। তাবে তারা হারলে টাকা ফেরৎ দেওয়া হচ্ছে। জুয়ার খরচ যোগাতে মাঠের পাশেই ওঁৎ পেতে রয়েছেন এক শ্রেণীর মানুষ, যারা কিনছেন মোটর সাইকেল, সাইকেল, ভ্যান, মোবাইল ফোন, ছাতাসহ বিভিন্ন সামগ্রী। কম দামে এসব জিনিস বিক্রি করে জুয়ার বোর্ডে নিঃস্ব হয়ে অনেকেই চুরি ও ছিনতাই করছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলী হোসেনকে না জানিয়েই মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় বিরোধ দেখা দিলেও পরে তা মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে। সার্কাস শুরু থেকে হাউজিং খেলা চললেও তিন দিন পর সদর থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সার্কাস ও জুয়াসহ সমগ্র কর্ম পরিকল্পনা দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন সার্কাস আয়োজক কমিটির সভাপতি ইয়ারব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রহমান, কোষাধ্যক্ষ সুদে ফারুক, ইয়ারব হোসেনের ভাগ্নে মনি, জাহাঙ্গীর, কবিরুলসহ কয়েকজন। প্রথম দিনে জুয়ার বিরোধিতা করায় আবুসাব নামের একজনকে পেটানোর পর ক্লাবে আটক রাখা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এহেন পরিস্থিতিতে সোমবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।
তুজুলপুর মাধমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলী হোসেন জানান, সার্কাস অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে তাকে প্রথমে জানানো না হলেও পরে তাকে অবহিত করা হয়েছে। তবে সেখানে যে জুয়া চলছে এটা তিনি জানেন না। তবে জুয়া চললে এলাকায় ক্ষতি হয়। সেকারণে আজই খোঁজ নিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সার্কাস আয়োজন কমিটির সভাপতি ইয়ারব হোসেন সার্কাসের আড়ালে জুয়া চলার কথা অস্বীকার না করেই বলেন, কৃষি ক্লাবটা ভাড়া নেওয়া। তাই নিজস্ব জায়গা কিনে ভবন করার প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে এটা তারা করছেন। তবে বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
সার্কাস প্যণ্ডেলের ম্যানেজার কাম জুয়ার ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম বলেন,সার্কাসের সঙ্গে একটু আধটু না চললে যাব কোথায় বলুন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ইফতেখার হোসেন জানান, তুজুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সার্কাসের অনুমোদন দিলেও সেখানে কোন জুয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তাৎক্ষণিক জুয়া খেলার খবর পেলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পুলিশের সব প্রতিবেদন দেখতে চান ডিসিরা

দেশের খবর: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিভাগ নিয়ে ১৬টি প্রস্তাব এনেছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। এরমধ্যে রয়েছে, জেলায় সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর পুলিশি প্রতিবেদন। দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদন দেখতে চান তারা। মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলনের পঞ্চম অধিবেশনে (২৬ জুলাই) এই প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। প্রস্তাবগুলোর পক্ষে যুক্তিসহ বাস্তবায়নের সুপারিশও করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এসব জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চরাঞ্চলে একটি নৌথানা গঠনের জন্য প্রস্তাব এনেছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক। অন্যদিকে সঠিকতা ও মেয়াদ যাচাইয়ের জন্য সারাদেশের সব জেলা থেকে ইস্যু করা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের সব তথ্য একটি জাতীয় অনলাইন ডাটাবেইজে সংরক্ষণের প্রস্তাব করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে প্রতি উপজেলায় এক প্লাটুন আনসার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে একটি থানা কিংবা তদন্ত কেন্দ্র অথবা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক। এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানান্তরের জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ মানুষের জান-মাল রক্ষায় থানা স্থাপন করা প্রয়োজন।

সিলেট মহানগর এলাকায় সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর প্রতিবেদন মহানগর পুলিশ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সরবরাহ না করায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অগোচরে থাকে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জানতে চান। এ জন্য সিলেট মহানগর এলাকায় সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর প্রতিবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানোর প্রস্তাব করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক।

মুজিবনগরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্রের ভেতরে স্মৃতিসৌধ, জাতির পিতার ভাস্কর্যসহ মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মিউজিয়াম, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও মুক্তিযুদ্ধকালের বিভিন্ন প্রতীকী স্থাপত্যসহ বাংলাদেশের মানচিত্র রয়েছে। অনেক ভিআইপি ও ভিভিআইপি কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করে থাকেন। এ জন্য মুজিবনগর নামে আনসার ব্যাটালিয়ন স্থাপন করার প্রস্তাব করেছেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক।

মাঠ প্রশাসনে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিজস্ব ও সরকারি কাজে সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। সচিবালয়ে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য ঢাকার জেলা প্রশাসক প্রস্তাব করেছেন।

কারাবন্দিদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের সব কারাগারে সহকারি সার্জন ও ডিপ্লোমা নার্সের শূন্য পদগুলো পূরণ ও অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্ধের প্রস্তাব করেছেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক। বগুড়া, টাঙ্গাইল ও ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক প্রস্তাব করেছেন জেলা কারাগারগুলোতে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের জন্য।

নৌ, অগ্নি দুর্ঘটনা দ্রুত প্রতিরোধে ও উদ্ধার কাজ তরান্বিত করতে বরিশাল বিভাগের প্রতিটি জেলায় একটি করে নৌ ফায়ার স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার। ডুবুরির সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

বিভাগীয় শহরে স্বয়ংসম্পূর্ণ মাদকদ্রব্য টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন খুলনা ও মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক এবং বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার। এর সপক্ষে যুক্তি হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০’-এর বিভিন্ন ধারার অপরাধে মামলা দায়েরের পর আলামত হিসেবে বিভিন্ন মাদকের রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠাতে হয়। এ জন্য টেস্টের ফল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। ফলে অপরাধও বেড়ে যায়।

কারাবন্দিদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে প্রস্তাব করেছেন ঝিনাইদহ ও ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক। সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর প্রস্তাব করেছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক।

‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০’-এর ১৯ নম্বর টেবিলে অক্সিমরফোন হাইড্রোক্লোরাইড (ও মরফোন) নামক মাদককে তফশিলভুক্ত করে শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব করেছেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি দিনাজপুরের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় ফেনসিডিলের পরিবর্তে এর ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে। মাদক আইনে এই নতুন মাদক সম্পর্কে কোনও বিধান না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায়, বেকারত্ব হ্র্যাস, গণ-উপদ্রব ও প্রকাশ্য জুয়া খেলার পরিমাণ কমানোর লক্ষ্যে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৯০ এবং বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন-১৯৬৭-এর ৪ ধারার জরিমানার পরিমাণ বাড়াতে প্রস্তাব করেছেন রংপুরের জেলা প্রশাসক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ২৩ নির্দেশনা

দেশের খবর: সরকারের নেয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এ নির্দেশ দেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ডিসিদের সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে দৃষ্টি রাখাসহ ২৩টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-

(১) সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

(২) যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযান চলবে।

(৩) জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সর্বক্ষেত্রে শান্তিশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বপালন করতে হবে।

(৪) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচনে উদ্যোগী হতে হবে।

(৫) তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে।

(৬) তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে।

(৭) শিক্ষার সব স্তরে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি, ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে।

(৮) ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভূমিরক্ষায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

(৯) কৃষি-উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

(১০) ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

(১১) দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

(১২) পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

(১৩) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২’ এবং এ সংক্রান্ত স্থায়ী নির্দেশনাবলি অনুসারে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

(১৪) সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার প্রদান ও আদালতে মামলাজট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে কার্যকর করতে হবে।

(১৫) জেলা প্রশাসকরা জেলাপর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। এসব কমিটিকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে হবে।

(১৬) দফতরসমূহের বিদ্যমান সেবাগুলো তৃণমূলে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তথ্য মেলা, সেবা সপ্তাহ পালনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

(১৭) শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্যপরিবহন ও আমদানি-রফতানি নির্বিঘ্ন করা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

(১৮) বাজারব্যবস্থার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

(১৯) নারী ও শিশু নির্যাতন ও পাচার, যৌতুক, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে নজরদারি বাড়াতে হবে।

(২০) নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

(২১) নিজ নিজ জেলায় ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়াতে হবে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংস্কৃতিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে।

(২২) প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

(২৩) পার্বত্য জেলাসমূহের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, বনাঞ্চল, নদী-জলাশয়, প্রাণিসম্পদ এবং গিরিশৃঙ্গগুলোর সৌন্দর্য সংরক্ষণ করতে হবে।

এছাড়া, পর্যটনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটিরশিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুধের চেয়েও গোমূত্রের দাম বেশি

ভিন্ন স্বাদের খবর: ভারতের রাজস্থান রাজ্যের গরুচাষীরা বলছেন, গরুর দুধের চেয়েও গরুর মূত্র বিক্রি তাদের জন্যে বেশি লাভজনক। তাদের অনেকে গোমূত্র বিক্রি করছেন গরুর দুধের থেকেও বেশি দামে। অনেকে আবার যে গোমূত্র বিক্রি করছেন, তার দাম গরুর দুধের প্রায় কাছাকাছি।

কৃষকরা বলছেন, গরুর দুধের দাম যেখানে লিটার প্রতি ২০ থেকে ২২ টাকা, সেখানে এক লিটার গোমূত্র কেউ বিক্রি করছেন ১৫ থেকে ৩০ টাকায়। কেউবা আবার দাম নিচ্ছেন ৫০ টাকাও।

তবে গরুর দুধ দোয়ানোর থেকে গোমূত্র সংগ্রহ করা অনেক বেশি কষ্টসাধ্য কাজ। সারা রাত জেগে বসে থাকতে হয় গোমূত্র সংগ্রহ করার জন্য।

তবে যে বাড়তি রোজগার হচ্ছে গোমূত্র বিক্রি করে, তার জন্য ওইটুকু কষ্ট সহ্য করতেও রাজী রাজস্থানের গরুচাষীরা। তবে দেশি প্রজাতির গরু, যেমন গির বা থারপার্কার গরুর মূত্রের চাহিদা বেশ বেশি। অন্য দিকে জার্সি গরুর মূত্র তুলনায় কম বিক্রি হয়।

কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, গোমূত্র থেকে তৈরি জৈব সার যেমন চাষের জন্য প্রয়োজনীয়, তেমনই গোমূত্রের মধ্যে যেসব উপকারী রাসায়নিক রয়েছে, যা ঔষধি হিসাবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও হিন্দুদের পূজা অর্চনার জন্যও গোমূত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

রাজস্থানের মহারানা প্রতাপ কৃষি ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় গোমূত্র নিয়ে বড় আকারে গবেষণা চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ইউ এস শর্মা বলেছেন, গোমূত্র থেকে অনেক গোপালক বাড়তি রোজগার করতে শুরু করেছেন। গোমূত্র সংগ্রহ করার জন্য বেশ কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীও তৈরি হয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা আর জৈব চাষের ক্ষেতে দেওয়ার জন্যেও বেশ কয়েকশো লিটার গোমূত্র প্রয়োজন হয় প্রতিমাসে। তবে এখনও গোটা ব্যবস্থাটাই অসংগঠিত অবস্থায় চলছে।

কেন গোমূত্রের চাহিদা বাড়ছে?

আঞ্চলিক গবেষণা-পরিচালক শান্তি কুমার শর্মা বলেছেন, গোমূত্রের মধ্যে ৯৫% জল থাকলেও বাকি অংশের মধ্যে আড়াই শতাংশ ইউরিয়া আর অন্য আড়াই শতাংশের মধ্যে হরমোন, এনজাইম, অ্যাস্ট্রোজেন, ল্যাক্টোজসহ প্রায় ১৪-১৫ রকমের রাসায়নিক থাকে। গোমূত্রের মধ্যে গোবর আর গুড় মিশিয়ে গাঁজানো হয়, তারপরে সেটি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়।

কৃষিবিজ্ঞানীদের একাংশ বলছেন, দেশে জৈব চাষের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোমূত্রের চাহিদাও বাড়ছে। বিশেষত রাজস্থানে বাড়ছে জৈব-চাষের এলাকা।

আর জৈব-ফসলের জন্য যে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, সেখানে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় কী ধরনের সার ব্যবহার করা হয়েছে ওই ফসল ফলাতে। রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হলে সেই ফসলকে ‘জৈব’ বলে আখ্যা দেওয়া হয় না। তাই সরাসরি গোমূত্র অথবা তার থেকে তৈরি সার জৈব চাষের জন্য অপরিহার্য।

কৃষি গবেষক শান্তি কুমার শর্মা বলেন, জৈব ফসলের চাহিদা শহরাঞ্চলের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে বাড়ছে। তাই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গোমূত্রের চাহিদাও। অনেক ব্যবসায়ী গোমূত্রকে নানা ভাবে বাজারজাত করছেন। গরুচাষীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হলে গোমূত্রের যোগানও বাড়বে। তারাও গরু পালন করে বেশী রোজগার করতে পারবেন।

জৈব চাষ ছাড়াও হিন্দুদের পূজা অর্চনার জন্যও গোমূত্র মেশানো একটি উপাচারের প্রয়োজন হয় যার নাম পঞ্চগব্য। বিজ্ঞানীদের একাংশের দাবী গোমূত্রের ঔষধিগুণও রয়েছে। নানা রোগ নিরাময়ে গোমূত্র থেকে আরোহিত উপাদান কাজ করে বলে দাবী তাদের। যদিও এ নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest