সর্বশেষ সংবাদ-
শাহজাতপুর বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক আকরাম – সদস্য সচিব শফিকুলইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৮৮% শিশু-কিশোর, ৫৩% অনলাইন যৌন হয়রানির শিকার২৪ ঘন্টা ধরে নিখোঁজ ব্যবসায়ী হাকিমের সন্ধান চায় পরিবারপুলিশও হবেন, দলীয় এজেন্ডাও বাস্তবায়ন করবেনএটা হতে পারে না, বললেন হাসনাতচতুর্থ ব্যারিকেড অতিক্রম করে বাহুবলে এনসিপি নেতারাদেবহাটায় ১০০ কেজি জেলি-পুশকৃত চিংড়ি জব্দ : তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানাশ্যামনগরের ভেটখালী বিলে পানিতে জলাবদ্ধতা : কৃষকের মাথায় হাতসংবাদ সম্মেলনে রাস্তা দখলের অভিযোগ অস্বীকার : রাস্তাটি ক্রয়কৃত দাবি ওমর ফারুকেরদক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যুসাতক্ষীরায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল ১৭ বিজিবি

মিথিলা-মোশাররফ করিমের ‘বিয়ের দাওয়াত রইলো’

বিনোদন সংবাদ: ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্মিত হয়েছে টেলিফিল্ম ‘বিয়ের দাওয়াত রইলো’। মারুফ রেহমানের গল্পে টেলিফিল্মটির চিত্রনাট্যও রচনা করেছেন রেদওয়ান রনি।নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও মোশাররফ করিম।

বিয়েকে কেন্দ্র করে টেলিফিল্মটির কাহিনি গড়ে উঠেছে। বিয়ের দাওয়াত মানেই পাড়া পড়শীর ঘুম হারাম করা তুমুল উৎসব। এই তুমুল উৎসবে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয় যখন এক পাত্রীকে বিয়ের জন্য তিন-তিনজন বর যায় শেরওয়ানি কিনতে। কিন্তু কোন পাত্রকে কবুল বলবে পাত্রী আর কারা শুধু সানায়ের সুর শুনেই হৃদয়ে পাথর বেঁধে হাঁ করে তাকিয়ে দেখবেন কনে যাত্রা? এমন একটি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে টেলিফিল্মটির গল্প।

মোশাররফ করিম-মিথিলা ছাড়াও টেলিফিল্মটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, মনোজ কুমার, সুমন পাটোয়ারী, মুকিত জাকারিয়া, শামীম জামান, চৈতী, নাফা, সোহেল খান প্রমুখ।

টেলিফিল্মে দুটি গান ব্যবহার করা হয়েছে। হৃদয় খান ও স্টুডিও ফিফটি এইটের গাওয়া একটি রোমান্টিক গান এবং একটি আইটেম সং রয়েছে। আইটেম সং-এ অভিনয় করেছেন হালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্পর্শিয়া।

৩১ আগস্ট রাত ১১টায় বেরসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিতে টেলিফিল্মটি প্রচারিত হবে। এছাড়া বাংলালিংক গ্রাহকরাও একই সময়ে টেলিফিল্মটি দেখতে পাবেন বাংলালিংকের জনপ্রিয় অ্যাপ বাংলাফ্লিক্সে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
একুশে স্টুডিও কনসার্টে কুমার বিশ্বজিৎ

বিনোদন রিপোর্ট: সচরাচর টিভি স্টুডিও কনসার্টে দেখা যায় না নন্দিত সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎকে। তবে ঈদের বিশেষ আয়োজনে বরাবরই চমকের ছাপ রাখেন তিনি। যদিও সংখ্যার বিচারে সেটি সবসময়ই সীমাবদ্ধ থাকে এক দুটি অনুষ্ঠানের মধ্যে।এই ঈদেও তিনি চমক হিসেবে রেখেছেন একুশে টিভির স্টুডিও কনসার্টকে। যা আজ (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টা থেকে সম্প্রচার হবে।
ঈদের বিশেষ এই স্টুডিও কনসার্ট সম্পর্কে কুমার বিশ্বজিৎ বললেন, ‘ঈদের এই বিশেষ আয়োজনে আশাকরি দর্শক শ্রোতাদের সুন্দর একটি পরিবেশনা উপহার দিতে পারবো।’
জানা গেছে, অভিনেত্রী স্বাগতার সঞ্চালনায় মোট ১৭টি গান পরিবেশন করবেন কুমার বিশ্বজিৎ।
অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করছেন আসাদুজ্জামান আসাদ ও মাসুদুজ্জামান সোহাগ।
অনুষ্ঠান প্রযোজকরা জানান, এটি লাইভ স্টুডিও কনসার্ট হলেও সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে না। একুশে টিভির স্টুডিওতে অনুষ্ঠানটির লাইভ রেকর্ডিং হয়েছে আগেই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে জবাইকরা হরিণসহ আটক ব্যক্তিকে ঘুষের বিনিময়ে মুক্তি!

শ্যামনগর ডেস্ক: সুন্দরবনের পশ্চিম বনবিভাগ সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা কবীর উদ্দীন ৩টি জবাই করা হরিণ ও সরঞ্জামসহ ১ চোরা শিকারীকে আটকের পর উৎকোচে বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে বনজীবীরা জানিয়েছেন। বনজীবীরা জানান, গত শনিবার দিবাগত রাতে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসার কেএম কবীর উদ্দীন গোপনে খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্সসহ বড় কেয়াখালী খালে অভিযান চালালে শিকারীরা বনবিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এসময় ১ শিকারী বন বিভাগের হাতে ধরা পড়ে। শিকারীদের নৌকা তালাশী করে ৩টি জবাই করা হরিণ ও শিকারের সরঞ্জাম উদ্ধার করেন। ধৃত ব্যক্তি হল দাতিনাখালী গ্রামের মৃত মালেক সানার ছেলে গনি সানা (৫০)। অপর শিকারীরা নদীতে ঝাপ দিয়ে পালিয়ে যায়। কয়েক ঘন্টা আটক রাখার পর মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে জবাই করা হরিণসহ আটককৃত শিকারীকে মুক্তি দেয়। এ ব্যাপারে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা কেএম কবীর উদ্দীনের সাথে কথা বললে তিনি তা অস্বীকার করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রক্তশূন্যতা দূর করে পুঁই শাক

অনলাইন ডেস্ক: সুস্থ থাকতে চাইলে প্রতিদিনের খাবার মেন্যুতে সবুজ শাকসবজি রাখার বিকল্প নেই। বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে থাকতে পুঁই শাক খান নিয়মিত। জেনে নিন পুঁই শাক নিয়মিত খাওয়া কেন জরুরি।
* পুঁই শাকে রয়েছে রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পিসিজ নামক একটি উপাদান। এটি শরীরের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।
* প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে পুঁই শাকে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহাজয করে।
* পুঁই শাকে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
* নিয়মিত পুঁই শাক খেলে ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকা যায়।
* খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ভাল কোলেস্টেরলের জোগান দেয় এটি।
* পুঁই শাকে রয়েছে প্রয়োজনীয় ক্যালশিয়াম, খনিজ লোহা, ম্যাগনেশিয়ম ও জিংক। এসব উপাদান সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
* পুঁই ফলে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লোহা রয়েছে। ফলে এটি রক্তশূন্যতা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শহিদুল আলমের মুক্তির দাবি জানালেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক

অনলাইন ডেস্ক: কারান্তরীণ ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলমের মুক্তি দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ২৮ আগস্ট মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের আম‌লে শহিদুল আলমের আটক থাকা ‘খুবই উদ্বেগজনক এবং অবিলম্বে এই পরিস্থিতির ইতি ঘটা উচিত’ বলে মনে করেন টিউলিপ সিদ্দিক। দ্য টাইমস বলছে, শহিদুল আলমকে আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে অনেকেই নিন্দা জানিয়েছেন। এই তালিকায় যুক্ত হলেন টিউলিপ সিদ্দিকও। এর আগে শহিদুলের কারামুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল বিজয়ী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেত্রী, শিল্পী, লেখক ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা।
প্রতিবেদনে বলা হয় টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে তার নিজের নাগরিকদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। আশা করি আমাদের পররাষ্ট্র দফতর বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কাছে এ ব্যাপারে দৃঢ় বার্তা পাঠাবে।’ এর আগে ড. মোহাম্মদ ইউনুস এবং অর্মত্য সেনসহ ১১ জন নোবেলজয়ী গত সপ্তাহের শেষের দিকে শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন। তবে দ্য টাইমসে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, টিউলিপ সিদ্দিকের এই আহ্বানের বিষয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লী‌গের কোনও শীর্ষ‌ পর্যায়ের নেতা মন্তব্য কর‌তে রা‌জি হন‌নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অ্যালার্জি মুক্ত রাখলেও, দাঁতে নখ কাটা ভালো নয়!

স্বাস্থ্য কণিকা: দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই রয়েছে। সাধারণত এটি একটি বদ অভ্যাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শিশুকালে দাঁত দিয়ে নখ কাটার কিছু সুফলও রয়েছে এমন মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব শিশুরা দাঁত দিয়ে নখ কাটে এবং বৃদ্ধাঙ্গুল মুখে রাখে পরবর্তী জীবনে তাদের অ্যালার্জি হয় না।
ইউনিভার্সিটি অব ওটাগো’র গবেষকরা ১৯৭২-৭৩ সালে জন্ম নেওয়া ১ হাজার ৩৭টি শিশুর বড় হওয়ার পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে এ মত দিয়েছেন। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
দাঁত দিয়ে নখ কাটলে নানা ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ হাত থেকে আমাদের শরীরে জীবাণু প্রবেশ করে।
এর আগে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আবেগ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রাপ্ত বয়সীরা দাঁত দিয়ে নখ কেটে থাকেন।
গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৩ বছর বয়সীদের যাদের শিশুকাল থেকে এ দু’টি অভ্যাস রয়েছে তাদের ৩৮ শতাংশ সাধারণ অ্যালার্জি রয়েছে। অন্যদিকে ৪৯ শতাংশের কোনো অ্যালার্জি নেই। এর কারণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষক হ্যানকক্স। তিনি বলেন, এই অভ্যাসকে উৎসাহিত করার কোনো কারণ নেই। তবে যাদের শিশুকাল থেকে এই অভ্যাস রয়েছে তাদের পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এসব শিশুরা বড় হওয়ার পরে তারা অ্যালার্জি মুক্ত। এমনকি অ্যাজমা ধরনের রোগও তাদের কম হয় না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জামাই-শ্যালক নিয়ে রেলওয়েকে গ্রাস করছেন মহাপরিচালক!

দেশের খবর: জামাই-শ্বশুরের ইচ্ছায়ই এখানে সব হয়! এই দুজন ছাড়া রেলের কোনো কাজ হয় না। বদলি, পদোন্নতি, পদায়ন, বিদেশ সফর—সব কিছুতেই তাঁদের হাত থাকবে। এর বাইরেও একজন আছেন। তিনি রেলের কেউ নন, কিন্তু দুলাভাই রেলের বড়কর্তা হওয়ার সুবাদে একের পর এক কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন। বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে গত তিন বছরে শতাধিক কিলোমিটার রেলপথ মেরামতের কাজ করেছেন শ্যালক। সোমবার বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে রাজধানীর রেল ভবনে গেলে একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বজনপ্রীতি আর অনিয়মের ফলে রেল বড় রকমের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন ইঞ্জিন ও বগি কেনার মাধ্যমে রেলে যাত্রীসেবার মান বহুগুণ বাড়ানো যায়। কিন্তু এদিকে কর্তৃপক্ষের নজর নেই। তাদের যত আগ্রহ ‘লাভজনক’ প্রকল্পের দিকে। এই কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘এ মুহূর্তে খুলনা রেলস্টেশনে আধুনিক ভবনের চেয়ে ইঞ্জিন দরকার, কিন্তু জোর দেওয়া হচ্ছে ভবন নির্মাণে।’

আরেকজন কর্মকর্তা রেলের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে বলেন, ‘শ্বশুর বা জামাইয়ের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না রেলে। কারণ তাতে চাকরিজীবনে অনিশ্চয়তাসহ অন্যান্য হয়রানির ভয় রয়েছে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বর্তমান দায়িত্বে আছেন ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। এরপর তিন বছর আট মাসে রেল সামনে না এগিয়ে পিছিয়েছে, বেগতির রেলে গতি আসার বদলে আগের চেয়েও স্থবির হয়েছে—এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ পাওয়া গেছে, প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া, কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, বদলি, সাজা পাওয়া কর্মচারীদের শাস্তি কমানো থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন মহাপরিচালক। কেউ তাঁর মেয়ে জামাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই ‘শাস্তির ভয়’ দেখানো হয়। মেয়ে জামাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর পশ্চিম রেলে তাঁকে বদলির জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, নানা অজুহাতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ‘বাণিজ্য’ করা হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে কলকাঠি নাড়ায় মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গড়ে তোলা সিন্ডিকেট। ‘কর্মকর্তা-কনসালট্যান্ট-কন্ট্রাক্টর’ নামের ত্রিশক্তির সিন্ডিকেটের প্রধান সমন্বয়ক এখন আমজাদ। জানা যায়, আমজাদ হোসেন নিজে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। এই সুবাদে রেলের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রকৌশল বিভাগ) বিভাগের কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। কনসালট্যান্সি সার্ভিসের নামে সাবেক কর্মকর্তারা প্রকল্প মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই বর্ধিত মূল্যের কাজ যাতে শুধু দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কেউ না পেতে পারে সে কাজটিও এই কনসালট্যান্টদের মাধ্যমে করা হয়। প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প ছকে (ডিপিপি) এমন সব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যাতে এই দুটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ না পায়।

রেলের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি বিভাগ ট্রেন চলাচলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এর মধ্যে আছে পরিবহন, সিগন্যাল ও টেলিকম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, যান্ত্রিক, স্টোর ও বৈদ্যুতিক বিভাগ। দীর্ঘদিন অবহেলিত রেলের সুষম উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সব বিভাগের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এগুলোর ৫০টিই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এবং তা মোট প্রকল্প মূল্যের ৮৫ শতাংশ। আর এই প্রকল্পগুলোর ৯৫ শতাংশই ম্যাক্স লিমিটেডসহ আরো একটি প্রতিষ্ঠানকে ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে। অথচ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ শুধু পূর্ত কাজ, রেললাইন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। তারা ট্রেন পরিচালনা, যাত্রীসেবা, পণ্য পরিবহন, রাজস্ব আয়, ইঞ্জিন, কোচ, ওয়াগন সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি কোনো কাজে জড়িত নয়।

রেলের কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৬০ জনকে ডিঙিয়ে জামাতা মামুনুলকে পদোন্নতি দিয়ে পরিচালকের (সংগ্রহ) মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন মহাপরিচালক। সব দরপত্র আহ্বান ও মালপত্র কেনা হয় মামুনুলের দপ্তর থেকে। জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামুনুলের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। আমজাদ তা ধামাচাপা দিয়েছেন। আমজাদ দায়িত্ব নেওয়ার পর মামুনুল রেকর্ডসংখ্যকবার বিদেশ সফরে গিয়েছেন। গত ৩ থেকে ১২ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে তাঁকে জাপান পাঠানো হয়।
জানা গেছে, মামুনুলের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী অপপ্রচার এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর রেল ভবনে এক সভায় রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক মামুনুলকে রেল ভবন থেকে পশ্চিমাঞ্চলে বদলি করার তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

মামুনুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ৯ মাস ধরে বর্তমান পদে কাজ করছি। তদবির, সুপারিশের অভিযোগ তোলা হচ্ছে যোগ্য মহাপরিচালক ভালো কাজ করছেন বলে। রেলে মহাপরিচালকের সমান্তরাল কেউ নেই। আমার চেয়ে বেশি বিদেশ ভ্রমণকারী অনেক জুনিয়রও আছেন।’

আমজাদের শ্যালক ঠিকাদার মো. বদরুল আলমের বাড়ি সিরাজগঞ্জের নতুন ভাঙ্গাবাড়ীতে। জানা যায়, বদরুলকে কাজ দেওয়ার জন্য মহাপরিচালক নিজে বারবার কর্মকর্তাদের ফোনে নির্দেশনা দেন। পশ্চিমাঞ্চলের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মকর্তাদের সহায়তায় বদরুল গত তিন বছরে শতাধিক কিলোমিটার রেলপথ মেরামতের কাজ করেন। যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে তিনি কাজ করেন এর মধ্যে আছে—১. মো. বদরুল আলম, নতুন ভাঙ্গাবাড়ী, সিরাজগঞ্জ, ২. মেসার্স এইচ কে ট্রেডিং, হাউস নং-১৪৪, শিরোইল ঘোড়ামারা, রাজশাহী, ৩. মো. আব্দুল কাইয়ুম, পাকশী, পাবনা, ৪. এশিয়া এন্টারপ্রাইজ, গৌরহাংগা, ঘোড়ামারা, রাজশাহী, ৫. মেসার্স মামুন ট্রেডিং, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী ও ৬. মেসার্স জারমান আলী, শিরোইল কলোনি, ঘোড়ামারা, রাজশাহী।

অভিযোগ রয়েছে, বদরুল রেলের বাতিল বা স্ক্র্যাপ মালামাল সংগ্রহ করেন ঢাকার মেসার্স হামিদ স্টিল করপোরেশন, দ্য ন্যাশনাল আয়রন স্টিল ওয়ার্কস ও মেসার্স মাসুদ ইস্পাত ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে এবং এগুলো দিয়েই রেললাইন মেরামতের কাজ করে থাকেন। ফলে কাজের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হচ্ছে।

তবে বদরুল আলম বলেন, ‘দুলাভাই ডিজি হওয়ার পর আমি তাঁর অফিসে যাইনি। কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করিনি যাতে আমার দাপট প্রকাশ পায়। আমি ২৮ বছর ধরে রেলে ঠিকাদারি করছি। পাথর, স্লিপার সরবরাহ করি। এখন নাটোরে তেলের গাড়ি রাখার লুপ লাইন তৈরির কাজ ও খুলনায় গ্রিড-৪-এর কাজ করছি। তার আগে সিরাজগঞ্জে স্টেশন ভবন করেছি। আমি কখনো স্ক্র্যাপ কিনিনি, ব্যবহার করিনি। যারা অভিযোগ দিচ্ছে তারা মিথ্যা বলছে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণে ২০১৬ সালের অক্টোবরে ১৫০টি মিটার গেজ কোচ কিনতে উন্নয়ন প্রকল্প ছক তৈরি করা হয় রেলভবন থেকে। কর ও ভ্যাট ছাড়া এগুলোর দাম ধরা হয় ৬৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অথচ এডিবির ঋণে একই ধরনের কোচ কেনায় ব্যয় হয় ৫২৭ কোটি টাকা। কোচগুলো কেনায় ১৫১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়। রেলের কোচ কেনায় ভ্যাট ও কর বাবদ ৪০ শতাংশ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। এ হিসাবে ১৫০টি কোচ কেনায় ভ্যাট-কর দিতে হবে ৬০ কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২১১ কোটি টাকা। প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে মহাপরিচালকের নির্দেশনানুসারে। এ বিষয়ে রেলের পরিকল্পনা শাখার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তাঁর নির্দেশ ছাড়া কোনো কাজ করি না। তিনি অনুমতি দিলেই তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাই।’

রেলভবন ঘুরে জানা যায়, ডিজির জামাতা ‘ম্যানেজ’ হলে আর কোনো কর্মকর্তাকে পেছনে তাকাতে হয় না। উচ্চাভিলাষী অনেক কর্মকর্তা এ সুযোগটি নিচ্ছেনও। প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য ৪০ লাখ, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদের জন্য ৩০ লাখ, বিভাগীয় প্রকৌশলী পদের জন্য ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার অলিখিত নিয়ম চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য পদভেদে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ আছে।

ডিজি যা বললেন : এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) আমজাদ হোসেন অস্বীকার করেন। মো. আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি কোনো সিন্ডিকেট গড়েননি। মেয়ের জামাইয়ের কোনো প্রভাব নেই। বরং মেয়ের জামাইয়ের পদোন্নতি তিনি আটকে রেখেছেন নিজে ‘নিরপেক্ষ’ থাকার জন্য। শ্যালক বদরুল আলম ৩০ বছর ধরেই ঠিকাদারি করছে দাবি করে তিনি বলেন, বদরুল গত পাঁচ বছরেও তাঁর দপ্তরে আসেনি। তাঁর ভাষায় : ‘আমার মেয়ের জামাইকে দেখলে কেউ বলবে না সে কোনো অনিয়ম করছে।’

তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর সিন্ডিকেট গড়েছেন কি না জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, ‘বিনিয়োগের বড় অংশ চলে যায় পাথর আমদানি, পরামর্শকদের পেছনে ব্যয়ের আয়কর ও ভ্যাট আর ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ। পাথরে শুল্ক দিতে হয় ৭৪ শতাংশ, বিদেশি ও দেশি পরামর্শক ব্যয়ে যাথাক্রমে ৩৫ ও ২৭ শতাংশ আয়কর দিতে হয়। বিনিয়োগ প্রকল্পের ৪০-৫০ শতাংশই চলে যায় ভ্যাট-ট্যাক্সে। আমি কেন সিন্ডিকেট করব? আমি রেলের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সব বিভাগের কাজেই আন্তরিক।’

একটি নতুন ইঞ্জিনের দাম ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ১০০টি ইঞ্জিন কিনতে দরকার মাত্র তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা। অথচ এই ১০০টি নতুন ইঞ্জিন কেনা হলে বাংলাদেশ রেলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কয়েক গুণ বেড়ে যেত। তা কেন করা হয়নি জানতে চাইলে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘৪৬টি ইঞ্জিন কেনা হয়েছে। আরো ১০০টি আসবে। ২৭০টি কোচ আমদানি করা হয়েছে। আরো ১০০০টি আসবে। তখন রেলের চেহারা পাল্টে যাবে।’ কেন ইঞ্জিন ও কোচ আনার প্রকল্প কম তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একা প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে জড়িত নই।’ বদলি বাণিজ্যের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন আমজাদ।

তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সিনিয়রদের ডিঙিয়ে পদোন্নতি দেওয়ার পর আবারও পদোন্নতির সুযোগ আছে মামুনুুলের জন্য, কিন্তু রেলভবনে কমিশন বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতেই পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে এ অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমাকে দুর্বল করার জন্য অবসরে যাওয়া একটি মাফিয়া চক্র আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিচ্ছে। আমি আজই অবসরে যাওয়ার আবেদন করছি।’
সূত্র: যুগান্তর অনলাইন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খুশকি তাড়াতে ঘরোয়া উপায়

লাইফস্টাইল সংবাদ: খুশকি তাড়াতে কত কিছুই না করে থাকেন আপনি। খুশকি তাড়াতে বাজারে নানা ধরনের শ্যাম্পু পাওয়া যায়। কিন্তু এসব শ্যাম্পু খুশকি তাড়াতে সাহায্য করলেও শ্যাম্পুতে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় বলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে আপনার চুলের অনেক ক্ষতি হয়।

তাই কিছু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে নিজেই বানিয়ে নিন প্রাকৃতিক হেয়ার মাস্ক।ঘরোয়া উপায়ে দুর করুন চুলের খুশকি।

আসুন জেনে নেই ঘরোয়া উপায়ে কীবাবে তাড়াবেন চুলের খুশকি।

দই, মধু ও লেবুর মাস্ক

যা লাগবে

আধাকাপ টক দই, এক টেবিল চামচ লেবুর রস আর এক টেবিলচামচ মধু।

যেভাবে বানাবেন

সবকয়টা উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে একটা মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন। চুলের গোড়াসহ পুরো চুলে ভালো করে মেখে আধ ঘণ্টা রাখুন। সালফেট বিহীন কোমল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার থেকে দুইবার করলেই ফল পাবেন।

কেন উপকারী

লেবুর রসের অ্যাসিড মাথার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স আর তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে রাখে, মধু আর দই আর্দ্রতা জোগায়।

নারিকেল তেল

যা লাগবে

শুধু তিন টেবিল চামচ নারিকেল তেল

যেভাবে বানাবেন

নারিকেল তেলটা একটু গরম করে নিন। মাথায় আঙুল দিয়ে ধীরে ধীরে মাসাজ করুন। অন্তত ১০-১৫ মিনিট মাসাজ করবেন। পুরো মাথা তেল দিয়ে মাসাজ করা হয়ে গেলে বাকি তেল চুলে লাগিয়ে নিন। আধঘণ্টা তেল চুলে বসতে দিন। তারপর কোমল সালফেট বিহীন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কেন উপকারী

নারিকেল তেলের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ রয়েছে। নারিকেল মাথার ত্বকের গভীরে ঢুকে তা খুশকি কমিয়ে থাকে।

জবাফুল আর মেথি

যা লাগবে

১০-১২টা জবাপাতা, এক টেবিলচামচ মেথি আর আধকাপ টক দই।

যেভাবে বানাবেন

মেথি সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ভেজানো মেথি আর জবাপাতা একসঙ্গে বেটে নিন। এই মিশ্রণে মেশান টক দই। এবার পুরো মাথা আর চুলে ভালো করে মেখে আধঘণ্টা রাখুন। কোমল সালফেট বিহীন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই তিনবার করতে হবে।

কেন উপকারী

জবাপাতা খুশকির অব্যর্থ ওষুধ, একইসঙ্গে চুলের শুষ্কতা কমাতেও কার্যকর। মেথির গুণের সঙ্গে জবাপাতার গুণ মিশলে খুশকি তো যাবেই, চুলও হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest