সাতক্ষীরার হাবিবুল্লাহ হত্যায় ১জনের ফাঁসি ও ২ জনের যাবজ্জীবন

আসাদুজ্জামান: সাতক্ষীরার আশাশুনির চাঞ্চল্যকর কলেজ ছাত্র হাবিবুল্লাহ সরদারকে হত্যার দায়ে এক জনের মৃত্যুদণ্ড ও অপর দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করেছে আদালত। এ মামলায় আরও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে আদালত বাকি ২৩ আসামিকে খালাস দিয়েছে। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক অরুনাভ চক্রবর্তী এ আদেশ দেন।

ফাঁসির দ্বন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী হলেন, আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়া গ্রামের ডাঃ সাইফুল্লাহ। এ রায়ের সময় তিনি পলাতক ছিলেন। যাবজ্জীবন দ্বন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামীরা হলেন, একই এলাকার জিয়ারুল ও মামুন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১১ জুলাই কৃষি জমিতে গভীর নলকূপের পানি বিতরনকে কেন্দ্র করে আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়া গ্রামের দুই পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পানি বিতরন কমিটির সভাপতি আলিমুদ্দিন সরদারের ছেলে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হাবিবুল্লাহ সরদারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলিমুদ্দিন সরদার বাদি হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০০/১৫০ জনের বিরুদ্ধে ১২ জুলাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক লুৎফর রহমান দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ৩৫ জন আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ মামলার বাদি, পুলিশ ও ডাক্তারসহ ১৪ জন স্বাক্ষীরা সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত সোমবার দুপুরে এক জনের মৃত্যুদ-, দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও অপর ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- প্রদান করেন। দন্ডিত ৯ আসামিরা হলেন মো. জুলফিকার, আবু হাসান, আবদুল মালেক, আবদুস সালাম, রব্বানি, বেল্লাল হোসেন, জামান, রহিম ও পিকলু।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন, জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. তপন কুমার দাস। এ সময় তাকে সহায়তা করেন, অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. আব্দুস সামাদ, অ্যাড. জিএম লুৎফর রহমান, অ্যাড. অজয় কুমার সরকার, অ্যাড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম, অ্যাড. শহীদুল ইসলাম পিণ্টু প্রমুখ।
আসামীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাড. এসএম হায়দার আলী ও অতিরিক্ত পিপি অ্যাড.নিজামউদ্দিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আলজেরিয়ায় ২ ফিলিস্তিনি বিজ্ঞানীর লাশ উদ্ধার

বিদেশের খবর: আলজেরিয়া থেকে সুলাইমান আল ফাররা (৩৪) এবং মোহাম্মদ আলবানা(৩৫) নামের ২ ফিলিস্তিনি বিজ্ঞানীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির রাজধানী আলজিয়ার্সের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রবিবার আলজেরিয়ায় ফিলিস্তিনি দূতাবাসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, ওই দুই বিজ্ঞানী গাজা উপত্যকার খান ইউনিসের বাসিন্দা ছিলেন। আলজেরিয়ার রাজধানীর উপকণ্ঠে জারালদায় আল ফাররার অ্যাপার্টমেন্টে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে তাঁদের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

ফিলিস্তিনি দূতাবাসের প্রতিবেদন বলছে, এই দুই বিজ্ঞানী বিদ্যুতের শর্টসার্কিট কিংবা গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যেতে পারেন।

এদিকে ফিলিস্তিনিদের অনেকে দাবি করছেন, এ দুই বিজ্ঞানী গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জনসেবায় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য যেন না থাকে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনসেবায় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য যেন না থাকে। জনগণ যাতে দুর্ভোগে না পড়েন। অহেতুক কোনও প্রকল্পও নেওয়ার দরকার নেই।’জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন ও জনপ্রশাসন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সোমবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যেতে চাই। সমৃদ্ধ হতে চাই। নতুন নতুন উপায় উদ্ভাবন করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। জনসেবায় মেধা প্রয়োগ করতে হবে। জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকার ইনোভেশন প্রকল্পও নিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা অবশ্যই মেধাবী। মেধাবী বলেই তারা চাকরি পেয়েছেন। তাদের উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখতে হবে।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ কমাতে মেট্রোরেল করছি। আমাদের সক্ষমতাও বেড়েছে। মানুষের যেন সার্বিক উন্নয়ন হয়, জাতির পিতা সেই কথাই বলেছিলেন। তার রাজনীতি ছিল মানুষের উন্নয়ন করা। সেই লক্ষ্যে তিনি স্বাধীনতা অর্জন করেন।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হলি আর্টিজান হামলার চার্জশিট দাখিল; হাসনাত করিমক বাদ

দেশের খবর: হলি আর্টিজানে রক্তাক্ত জঙ্গি হামলার ঘটনায় পলাতক জঙ্গি নেতা শরিফুল ইসলাম খালেদ এবং মামুনুর রশীদ রিপনসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে সিটিটিসির দেয়া চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

আজ দিনের কোন এক সময়ে আদালতে ওই চার্জশিট জমা দেবেন গোয়েন্দারা। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের দৃষ্টি কাড়তে নব্য জেএমবি সদস্যরা ওই হামলা চালায় বলে গোয়েন্দা তদন্তে বের হয়ে এসেছে। দুপুরে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম এ কথা জানান।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬’র পয়লা জুলাই রাতভর জিম্মি করে রেখে জঙ্গিরা দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং ৯ ইতালীয়, ৭ জাপানি, এক ভারতীয় ও এক মার্কিন নাগরিককে হত্যা করে। মামলায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট- সিটিটিসি’র তদন্তে উঠে আসে জঙ্গি নেতা কানাডীয় নাগরিক তামিম চৌধুরী, সারোয়ার জাহান, তানভীর কাদেরী শিপার, নূরুল ইসলাম মারজান বাশারুজ্জামান চকলেট, মেজর জাহিদ, ছোট মিজান এবং নিবরাসসহ জঙ্গিরা নাটোরের একটি বাসায় বসে হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।

ঘটনায় নিজেদের জড়িয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তার হওয়া ৬ জঙ্গি রাশেদুর ইসলাম র‌্যাশ, রাজিব গান্ধি, হাতকাটা মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাকিবুল হাসান রিগ্যান এবং বড় মিজান। এরা ছাড়াও চার্জশিটে আরও দুই পলাতক জঙ্গির নাম যুক্ত হচ্ছে। হামলা ও হত্যা ঘটনায় ৮ জঙ্গির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ জোগাড় করেছেন তদন্তকারীরা। তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেবে পুলিশ। আসামিদের দু’জন এখনও পলাতক। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে গ্রেফতার একজনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন হামলার মোটিভ ছিলো নতুন গড়ে ওঠা নব্য জেএমবির অস্তিত্ব জানান দেয়া। নেতৃত্ব পর্যায়ে জঙ্গিদের একজনকে জীবন্ত ধরতে না পারায় হলি আর্টিজানের হামলার পেছনে দেশের কোনো রাজনৈতিক শক্তির পৃষ্ঠপোষকতা ছিলো কি না, জানতে পারেননি তদন্তকারী গোয়েন্দারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিনামূল্যে চিকিত্সা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা

দেশের খবর: মুক্তিযোদ্ধাদের দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূলে চিকিত্সা সুবিধা প্রদানের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতা অনুযায়ী এখন থেকে সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য কোনো খরচ করতে হবে না মুক্তিযোদ্ধাদের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সরকারি হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবা ফ্রি ঘোষণা করেছে। কিন্তু সীমিত সম্পদের কারণে অনেক সময় জটিল রোগে আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যয়বহুল চিকিত্সাসেবা ব্যয় বহন করতে পারে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই ঘাটতির জায়গাটুকু পূরণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালগুলোতে ইতিমধ্যে প্রাথমিক বরাদ্দের টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
রবিবার সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে স্বাস্থ্য সচিব (স্বাস্থ্যসেবা) সিরাজুল হক খান ও মুুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সচিব অপরূপ চৌধুরী স্বাক্ষর করেন। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহত্ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় সম্মান ও গৌরবের সঙ্গে মাথা উঁচু করে পরিচয় দেওয়ার সাহস করেন মুক্তিযোদ্ধারা। অথচ বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধারা নানাভাবে হয়রানি ও অবহেলার শিকার হয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবন সায়াহ্নে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে দেশের উপজেলা, জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে অবস্থিত সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে বা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বা বিশেষায়িত হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিত্সাসেবা প্রদানের জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। হাসপাতালে অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহসহ সর্বোত্তমভাবে সকল চিকিত্সাসেবা প্রদান নিশ্চিত করা হবে। সকল ধরনের চিকিত্সা, পরামর্শ, শল্য চিকিত্সা, হাসপাতাল কর্তৃক সরবরাহযোগ্য ওষুধ, বেড সরবরাহ, পথ্য এবং নার্সিং ইত্যাদি চিকিত্সাসেবা অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে হাসপাতালে প্রদত্ত নিয়মিত সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত চিকিত্সা সেবার প্রয়োজন হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এই সেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও বিশেষায়িত পর্যায়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘আমরা মাদক উৎপাদন করি না, কিন্তু কুফল ভোগ করি’

দেশের খবর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘আমরা মাদক উৎপাদন করি না। কিন্তু এর সব ধরনের কুফল ভোগ করি। এটাতো হতে পারে না। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা যুদ্ধে নেমেছি। এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে। নইলে আমরা পথ হারিয়ে ফেলব।’
রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ এর বিজ্ঞাপনচিত্র (টিভিসি) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারত ও মিয়ানমারে মাদক তৈরী হয়। সেগুলো আমাদের দেশে আসে। আগে ভারত থেকে ফেনসিডিল আসতো। ভারতের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর তারা সীমান্তে ফেনসিডিলের কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। যে কারণে ফেনসিডিল যে নেশার উপাদান ছিল তা মাদকসেবীরা ভুলতে বসেছে। তারা এখন ইয়াবায় আসক্ত। আর ইয়াবা আসে মিয়ানমার থেকে। মাদক বিরোধী অভিযানে আমরা সব রুট বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছি।’
আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘রয়টার্সের এক সাংবাদিক আমাকে প্রশ্ন করেছেন, তোমরা এভাবে মানুষ মারছো কেনো? আমি বললাম-কই, আমরাতো মানুষ মারছি না। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটছে তা তোমরাও জানো। যেখানেই অবৈধ ব্যবসা হয়, সেখানেই অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়। আর বড় অঙ্কের এসব অবৈধ আর্থিক লেনদেন রক্ষা করতেই তাদের দরকার হয় অবৈধ অস্ত্র। আর যখনই আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে যাচ্ছে, তখন তারা চ্যালেঞ্জ করছে’। তিনি আরো বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশে অবৈধ অস্ত্রের চ্যালেঞ্জের মুখে নিরাপত্তা বাহিনী বসে থাকে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমনের মতো জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এর সফলতাও আছে। দেশের কারাগারগুলোতে যেখানে ৩৭ হাজারের কিছু বেশি বন্দি ধারণ ক্ষমতা রয়েছে, সেখানে বর্তমানে আছে ৯০ হাজারের ওপরে। এখানে ৪৩ হাজার রয়েছে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী।’
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) ড. মো.জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘মাদক একটি সামাজিক সমস্যা। সুতরাং এটি সামাজিক ভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। শুধু অভিযানের ওপর নির্ভর করলে চলবে না।’
র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানান, মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর গত ৮০ দিনে ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান হয়েছে। এতে ৪৭জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় ১০২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
র‍্যাবের মহাপরিচালক আগামী কিছুদিন কক্সবাজার ও টেকনাফ এলাকায় সব ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘ওই এলাকায় মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রতিদিন অস্বাভাবিক লেনদেন হচ্ছে। এটা কিছুদিন বন্ধ রেখে দেখা যেতে পারে প্রতিক্রিয়া কী হয়।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খাদ্যের জন্য বাংলাদেশ কারও মুখাপেক্ষী নয়: স্পিকার

দেশের খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘খাদ্যের জন্য বাংলাদেশ এখন কারও মুখাপেক্ষী নয়। নিজেরাই নিজেদের খাদ্য উৎপাদন করতে সক্ষম।’ রবিবার নিজ নির্বাচনি এলাকা ২৪ রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)-এর বাজিতপুরের লালদিঘিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর আয়োজিত ‘বুলকাফ রিয়ারিং ইউনিট কাম মিনি ল্যাব’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকার প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটাতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মন্তব্য করে স্পিকার বলেন, ‘মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে চতুর্থ। প্রাণিজ আমিষের চাহিদাসহ অন্যান্য পুষ্টি চাহিদা পূরণেও বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।’
নিজের নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে স্পিকার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাদেশের মতো পীরগঞ্জেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’ এ সময় সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সুফল তৃণমূলে পৌঁছে দিতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এরপর স্পিকার‘বুলকাফ রিয়ারিং ইউনিট কাম মিনি ল্যাব’-এর ভিত্তি প্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন।
কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভ্রণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন প্রকল্পের পরিচালক মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দীন ও প্রকল্প পরিচালক ড. বেলাল হোসেন।
পরে স্পিকার পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে তিনি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী ফলদ বৃক্ষ মেলা-২০১৮ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাসা থেকে ডেকে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যা, গ্রেপ্তার কথিত স্বামী

দেশের খবর: ভোলা জেলার লালমোহন থানার গজারিয়া গ্রামের মরণ আলীর স্ত্রী ৫ সন্তানের জননী রাশেদা বেগম (৩০)। থাকতেন মোহাম্মদপুর এলাকার সোনা মিয়ার টেক বস্তিতে। অভাব অনটনের সংসারে কাগজ কুড়িয়ে কোনো রকমে খেয়ে পড়ে দিন কাটত রাশেদা বেগমের। দেখতে সুদরী হওয়ায় রাশেদার প্রতি নজর পড়ে সিএনজি চালক বিল্লাল হোসেনের। স্বামী মরণ আলীকে ভয়ভীতি এবং মারধর করে ৫ সন্তানসহ আগের স্বামীর কাছ থেকে তালাক না নিয়েই রাশিদাকে বিয়ে করে বিল্লাল (৪৮) হোসেন।
এক বছরের সংসার জীবনে তাদের কোনো সন্তান না হলেও উল্টো আগের ঘরের ২ ছেলে সন্তান গায়েব হয়ে যায়। সন্তান নিখোঁজের ঘটনায় মা রাশেদা বেগম মোহাম্মদপুর থানায় জিডি করলেও খোঁজ মেলেনি তার আদরের সন্তানদের। নিখোঁজ সন্তানদের ব্যাপারে স্ত্রী রাশেদা স্বামী বিল্লালের কাছে জানতে চাইলে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বেশ কয়েকবার ঝগড়া হয়। এমনকি স্বামী বিল্লাল তার স্ত্রী রাশিদাকে সন্তান এবং প্রতিবেশীদের সামনে মারধরও করেছে বেশ কয়েকবার।
নিখোঁজ সন্তানের ব্যাপারে স্ত্রী রাশেদা বেগমের পীড়াপীড়ি সেই সাথে ঝগড়া ঝাটি থেকে তার স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা করে স্বামী বিল্লাল হোসেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর স্ত্রী রাশিদাকে নিয়ে কাজের কথা বলে বাইরে বের হলে নিখোঁজ হয় রাশেদা। নিখোঁজের ছয় দিন পর অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ঘাটারচর গ্রামের টানপাড়া বিলের উত্তর পাশে এলাকাবাসী রাশেদার মৃতদেহ দেখতে পায়। পরে এলাকাবাসী থানা পুলিশকে খবর দিলে থানা পুলিশ অজ্ঞাত লাশ হিসেবে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এস আই বাদশা আলম একটি অপমৃত্য মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং- ৫৬/১৬)।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলার তদন্তে বেড়িয়ে এসেছে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য। রবিবার গণ্যমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মামলাটি প্রথমে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও প্রায় চার মাস আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলার এস আই মিজানুর রহমান মামলাটির তদন্ত ভার গ্রহণ করে। মামলাটি পিবিআই এর শিডিউলভুক্ত একটি চাঞ্চল্যকর মামলা হওয়ায় অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্তভার গ্রহণ করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য নিয়ে কাজ শুরু করে পিবিআই ঢাকা জেলা পুলিশ।
পরবর্তীতিতে প্রযুক্তিগত তথ্যের পর্যালোচনা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য প্রমাণ নিশ্চিত হয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আছে মর্মে ভিকটিম রাশিদার স্বামী ভোলা জেলার লালমোহন থানার কচুখালী গ্রামের মৃত কালু মিয়া ফরাজীর ছেলে বিল্লাল হোসেনকে (৪৮) চট্রগ্রাম জেলার হালিশহর এলাকা থেকে গত ১৯ জুলাই (বৃহষ্পতিবার) পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করেন মামলার তদন্তকারী অফিসার।
গ্রেফতারকৃত আসামি বিল্লালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, সে একাধিক বিয়ে করেছে। ভিকটিম রাশিদাকে প্রথমে সে না চেনার ভান করলেও পরে ব্যাপক জিজ্ঞসাবাদের এক পর্যায়ে রাশিদা তার কথিত স্ত্রী ছিল বলে জানায়।
ভিকটিম রাশিদার ছেলে পেশায় টোকাই শরীফ (১৪) জানায়, তার সামনে থেকে তার মাকে বিল্লাল হোসেন বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর প্রায় এক সপ্তাহ পর একটা বিলে মায়ের লাশ পাওয়া যায়। মা মারা যাওয়ার পর থেকে বিল্লাল হোসেনকে মোহাম্মদপুর এলাকায় আর দেখা যায়নি বলেও জানায় ভিকটিমের ছেলে।
মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই মিজানুর রহমান জানান, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই খোজ নিয়ে জানতে পারি ভিকটিম রাশিদা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে রাশিদার কথিত স্বামী বিল্লাল আত্মগোপনে চলে যায়। বিষয়টি আমাদের সন্দেহ হওয়ায় আমরা তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং এই ঘটনায় আরো কারো সম্পৃক্ততা আছে কিনা সে ব্যাপারে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালত গ্রেফতারকৃত আসামিকে ৪ দিনের রিমান্ড মুঞ্জুর করেছে বলেও জানান তদন্তকারী অফিসার। তিনি বলেন, ভিকটিম রাশেদার দুই সন্তানকে পাচার এবং এই ঘটনার জের ধরেই রাশিদা খুন হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে ।
পিবিআই ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান বারী নূর বলেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে এবং নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা ব্যাপকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া অপর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest