প্রসংশিত হচ্ছে রিয়াজ-তানিয়ার ‘কলুর বলদ’

বিনোদন সংবাদ: একটা নাটকের কথা মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। দর্শকের প্রসংশায় ভাসছে নাটকটি। মিডিয়ার আড্ডাতে উঠে এসেছে নাটকটির নাম। প্রতিদিনই অসংখ্য নাটক প্রচার হয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে। মাঝে মধ্যে কিছু কিছু নাটক হয় আলোচনার শিরোনাম। সম্প্রতি প্রচার হওয়া এমনই একটি নাটক রিয়াজ-তানিয়া অভিনীত ‘কলুর বলদ’।

এবারের ঈদুল ফিতরে চ্যানেল আইয়ে প্রচার হয় মেজবাহ উদ্দিন সুমন রচিত ও সাজ্জাদ সুমন পরিচালিত নাটক ‘কলুর বলদ’। প্রচারের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বমহলে নাটকটি এসেছে আলোচনায়। গত ২০ জুন চ্যানেল আই তাদের ইউটিউব চ্যানেলেও প্রকাশ করে নাটকটি। এরই মধ্যে সাড়ে ৭ লক্ষরও অধিক বার দেখা হয়েছে এটি।

নাটকটি কেন পছন্দ করছেন দর্শক? কী আছে এই নাটকে? কলুর বলদের গল্পে একটু চোখ বুলালেই সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। প্রবাসী এক যুবকের দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে ‘কলুর বলদ’ নাটকটির গল্প শুরু হয়। গল্পটির প্রধান চরিত্র মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে রাজু। যে কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি দেয়। এদিকে চাকরি থেকে তার বাবা অবসর নিয়েছেন। অন্যদিকে এক বোনের বিয়ে হয়েছে এবং আরো দুজন ছোট ভাই-বোন আছে রাজুর।

পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বলতে বড় ছেলেটিই। যার কারণে বাধ্য হয়ে ভালো আয় রোজগারের আশায় বিদেশে পাড়ি জমায় সে। দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে রাজু দেশে টাকা পাঠায়। তার উপার্জিত অর্থে বাবা দেশে বাড়ির কাজ শুরু করেন। তা ছাড়া পুরো পরিবারের খরচও বহন করে রাজু। প্রেমিকা শোভাকে না বলে বিদেশ গিয়েছিল সে। যাওয়ার সময় শোভার জন্য একটি চিঠি রেখে গিয়েছিল।

মধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের জন্য কাপুরুষের মতো নিজের ভালোবাসাকে বিসর্জন দেয় রাজু। দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে দেশে ফিরেছে সে। দেশে ফেরার পর বাবা, ভাই, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই জিজ্ঞেস করে ‘আবার কবে বিদেশে ফিরে যাবি’। বাবার তাগিদ বাড়িটির আরেক তলা উঠাতে হবে, মেয়েটির বিয়ে দিতে হবে, ছোট ছেলেটিকে মেডিক্যালে ভর্তি করাতে হবে। এজন্য আরো টাকা লাগবে।

শুধু মা আর শোভা চায় রাজু বিয়ে করে দেশে সেটেল হোক। রাজু নিজেও দেশে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার ভাবনা নিয়েই দেশে ফিরেছে। কারণ দীর্ঘ সময় আপনজনদের কাছ থেকে দূরে থেকে রাজু অনেক ক্লান্ত। কিন্তু সবার চাওয়া আর রাশি রাশি সমস্যার সামনে নিজের কোনো ইচ্ছের কথাই আর বলতে পারে না। নিজের সমস্ত চাওয়া, স্বপ্ন, ভালোলাগা, হৃদয়ের খুব গোপনে লালিত কষ্ট অগোচরে জমা রেখেই আবার বিদেশে চলে যায় রাজু। তারপর কী হয়? নাটকেই দেখতে হবে।

নাটকটি সম্পর্কে নির্মাতা সাজ্জাদ সুমন বলনে, ‘‘সামাজকি দায়বদ্ধতা থেকেই এমন একটি নাটক নির্মাণ করার চেষ্টা করেছি। প্রবাসীরা আমাদের অর্থনৈতিক ভাবেেএগিয়ে নিচ্ছেন। তাদের না বলা কথাই আমি এই নাটকটির মাধ্যমে বলতে চেয়েছি । নাটকটি নিয়ে দর্শকের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ।’’

নাটকটিতে রিয়াজ আহমেদ ও তানিয়া আহমেদ ছাড়াও আরও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশিদ, দিলারা জামান , আজম খান,হিমি হাফিজসহ আরও অনেকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর আবারও হামলা

দেশের খবর: সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পূর্ব নির্ধারিত পতাকা ও বিক্ষোভ মিছিলে আবারো চড়াও হয়ে হামলা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

আজ সোমবার সকালে আন্দোলনকারীদের বেধড়ক পিটুনি দেয় ছাত্রলীগ। এতে শিক্ষার্থীদের পূর্ব নির্ধারিত পতাকা ও বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড হয়ে গেছে।

জানা যায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ করার জন্য সোমবার সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে থাকে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের বেশ কিছু কলেজের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এরা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনকে মারধর করে এবং মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর নাহার মিলা সাংবাদিকদের জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের উপর হামলা করেছে। মেয়েদেরকেও তারা লাথি-ঘুষি মেরেছে। একজন মেয়ের মাথাও ফেটে গেছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন ডাকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সংবাদ সম্মেলন শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল্লাহ নূরসহ সাত শিক্ষার্থী আহত হন।

এরপর গতকাল কোটা সংস্কার আন্দোলনের আরেক নেতা রাশেদ খানকে মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। রাজধানী শাহবাগ থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ছাত্রলীগের এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর পরীবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে আজকের কর্মসূচির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক লুৎফর নাহার নীলা ও শফিউল আলম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বেলজিয়ামের অভ্যুদয় নাকি জাপানি সূর্যোদয়

খেলার খবর: সোনালি প্রজন্ম নিয়ে রাশিয়ায় বেলজিয়াম। এডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইন, থিবো কর্তোয়াদের মতো তারকা নিয়ে শিরোপাস্বপ্নে বিভোর তারা। জাপান অবশ্য শিরোপা নিয়ে ভাবছে না। এত দিন শেষ ষোলোর গণ্ডি পার হতে না পারা দলটির কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়াই বিশেষ কিছু। সেন্টার ব্যাক মায়া ইউসিদা তাই বাস্তববাদী, ‘আমরা কখনো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলিনি। এবার নতুন চ্যালেঞ্জ, যেখানে জিতে ইতিহাস গড়তে চাই সবাই।’

বেলজিয়ামের ফুটবল ইতিহাস সমৃদ্ধ অনেক। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে খেলেছে সেমিফাইনাল। গত আসরে পৌঁছে শেষ আটে। টানা ২৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকায় ফিফা র্যাংকিংয়ে এখন তিনে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স ও ২০১০-এ স্পেনের পর নতুন দল হিসেবে শিরোপাস্বপ্ন দেখতেই পারে বেলজিয়াম। তবে কোচ রবার্তো মার্তিনেস সবার আগে পেরোতে চান জাপান বাধা, ‘টেকনিক্যালি জাপানের ফুটবল অনেক শক্তিশালী। ৯০ মিনিট একইভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে জাপান। ওরা ছেড়ে কথা বলবে না। আর জাপান জিতলে বিস্ময়েরও কিছু হবে না।’

ইতিহাসের দিকে তাকিয়েই মার্তিনেজের এমন সতর্কতা। দুই দলের পাঁচ দেখায় বেলজিয়াম জিতেছে শুধু এক ম্যাচ। সেটাও সবশেষ দেখায় গত বছর নভেম্বরে। রোমেলু লুকাকুর গোলে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম। ম্যাচের স্মৃতি ধূসর হয়নি মার্তিনেসের, ‘উপভোগ্য এক ম্যাচ খেলেছিলাম গত বছর। ওদের কোচ বদল হয়েছে কিন্তু মানসিকতা একই রয়েছে।’
বিশ্বকাপের মতো গত ইউরোয় ফেভারিট ছিল বেলজিয়াম। স্বপ্ন ভাঙে কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েলসের কাছে হেরে। ১৩ মিনিটের গোলে উড়ন্ত সূচনার পরও বিধ্বস্ত ১-৩ ব্যবধানে। এর পর থেকে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে চূড়ায় উঠছে বেলজিয়াম। ১০ ম্যাচের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে গ্রুপে হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। পয়েন্ট হারিয়েছে মাত্র ২টি আর গোল ৪৩টি। প্রীতি ম্যাচে দাপট দেখানো বেলজিয়াম বিশ্বকাপ শুরু করে পানামাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে।

এরপর তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৫-২ আর ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। গ্রুপ পর্বে তেমন পরীক্ষায় পড়তে না হওয়াটা ভোগাতে পারে আজ। প্রতিপক্ষ জাপান হলেও মার্তিনেস সেরাটা খেলার কথা বললেন এ জন্যই, ‘এ ধরনের টুর্নামেন্টে সহজ কোনো অর্ধ নেই। গত ইউরোয় বলা হচ্ছিল বেলজিয়াম সহজ পথে পড়েছে অথচ আমরা হেরে যাই ওয়েলসের কাছে। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল নিয়ে ভাবছি না, জাপানকে হারানোই লক্ষ্য এখন।’

বেলজিয়ামের উল্টো ছবি জাপানে। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে নিজেদের গ্রুপে হারিয়েছে ১০ পয়েন্ট। গত ডিসেম্বরে ইস্ট এশিয়ান কাপে দক্ষিণ কোরিয়া বিধ্বস্ত করে ৪-১ গোলে। নিষ্প্রভ প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও। প্যারাগুয়েকে ৪-২ গোলে হারানোটা ছিল ২০১৮ সালে তাদের প্রথম জয়। আগের কোচ বদলে নিয়োগ দেওয়া হয় আকিরো নিশিনোকে। গ্রুপে পোল্যান্ড আর কলম্বিয়া থাকায় জাপান ছিল আন্ডারগড। সেই জাপানের সূর্যোদয় বিশ্বকাপে। প্রথম ম্যাচেই হারিয়ে দেয় কলম্বিয়াকে, যা ছিল বিশ্বকাপে কোনো লাতিনের বিপক্ষে এশিয়ান দলের প্রথম জয়। সেনেগালের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ড্রর পর হার পোল্যান্ডের সঙ্গে। সেনেগালের সমান পয়েন্ট হলেও কম হলুদ কার্ডে শেষ ষোলোর পৃথিবীতে জাপান। বেলজিয়ামকে ভয় করে নামছেন না সেন্টার ব্যাক মায়া ইউসিদা, ‘লুকাকুকে থামাতে হবে আমাদের। আমি একাই পারব না, দল হয়ে থামাতে হবে। তেমনি দল হয়ে আক্রমণও করতে হবে। এটা করতে পারলেই সম্ভব প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা।’

দুই ম্যাচে চার গোল করা রোমেলু লুকাকু চোট পেয়েছিলেন সামান্য। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্রামে ছিলেন তাই। আজ শতভাগ ফিট হয়ে ফিরবেন তিনি। কোচ রবার্তো মার্তিনেজকে স্বস্তি দিচ্ছে অধিনায়ক ভিনসেন্ট কোম্পানি আর থমাস ভারমিউলেনের পুরো ফিট হয়ে ওঠা। সেরা তারকা এডেন হ্যাজার্ডও ছন্দে। দুটো অ্যাসিস্ট হয়ে গেছে কেভিন ডি ব্রুইনেরও। মার্তিনেস তাই স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বেলজিয়ামকে, ‘নক আউটে সবাই ভয়ংকর, বিশ্বের সেরা ১৬ দল আছে এখানে। নিজেদের ওপর আস্থা আছে আমাদের। এত দিন যেভাবে খেলে এসেছি, সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’ তাহলেই সম্ভব বেলজিয়ামের অভ্যুদয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ব্রাজিল-মেক্সিকো : আজকের সম্ভাব্য একাদশ

খেলার খবর: কোয়ার্টার ফাইনালে যাবার লড়াইয়ে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল-মেক্সিকো। যদিও ইতিহাস ও ফর্ম বলছে, মেক্সিকোর সঙ্গে দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা পেরুতে ব্রাজিলের খুব একটা কষ্ট হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ছোট দল আর বড় দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়নি। যার প্রমাণ গ্রুপ পর্বেই জাপানের কাছে হেরে বাদ যাওয়া গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। যারা এবারো বিশ্বকাপের বড় দাবিদার ছিল।

সামারায় আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-মেক্সিকো।

বিশ্বকাপে এর আগে চার বার দেখা হয়েছিল ব্রাজিল-মেক্সিকোর। এর মধ্যে তিন বারই জিতেছে ব্রাজিল, একটি ড্র। খায়নি কোনো গোলও। মেক্সিকো নিয়মিত শেষ ষোলোতে উঠলেও সেখান থেকে বাদ পড়াটাই তাদের নিয়তি হয়ে গেছে। সেখান থেকে আজ তারা নতুন কিছু করে দেখাতে চায়। অন্যদিকে ব্রাজিলও তাদের জয়ের ধারা ধরে রাখতে চায়।

এবার দেখে নেওয়া যাক দুদলের আজকের একাদশ :

ব্রাজিল (৪-৩-৩): অ্যালিসন; ফাগনার, সিলভা, মিরান্ডা, লুইজ; পাওলিনহো, কৌতিনহো, কাসেমিরো; উইলিয়ান, হেসুস, নেইমার।

মেক্সিকো (৪-২-৩-১): ওচোয়া; সালসিদো, আয়ালা, গায়ার্দো, আলভারেজ; লায়ুন, গুয়ার্দাদো; ভেলা, হেরেরা, লোজানো; চিচারিতো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকে ‘অকল্পনীয়’ বললেন জাতিসংঘের মহাসচিব

দেশের খবর: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গাদের দুর্দশার করুণ চিত্র স্বচক্ষে দেখতে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। পরিদর্শনকালে রোহিঙ্গার মুখ থেকে হত্যা ও নির্যাতনের নানা বর্ণনা শুনছেন তারা।

রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঘোরার ফাঁকেই জাতিসংঘ মহাসচিব এক টুইটে বললেন তার অভিজ্ঞতার কথা।

তিনি লিখেছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে হত্যা আর ধর্ষণের যে বিবরণ তিনি শুনেছেন তা ‘অকল্পনীয়’। তারা বিচার চায়, নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে চায়।

এ সময় রোহিঙ্গারা বলেন, নাগরিক হিসেবে পূর্ণ অধিকার ছাড়া মিয়ানমার কখনো রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ হবে না। তাই সব অধিকার নিয়েই আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই।

এর আগে আজ সকাল ১১টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে পৌঁছেছে তাদের গাড়িবহর। সেখানে নেমেই তারা প্রথমে ক্যাম্পের ট্রানজিট পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। এরপর তারা কুতুপালং মেইন রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং নারীদের আলাদা আশ্রয়স্থল পরিদর্শন করেন।

রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে দুই দিনের সফরে গত শনিবার ঢাকায় আসেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। গতকাল রবিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যশোরের বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ

মোঃ রাসেল ইসলাম, বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি: দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমদানি পণ্যের উপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪ হাজার ১৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এতে ঘাটতি হয়েছে ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ১৮ লাখ ২ হাজার ২৮৪ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরণের পণ্য।

বাণিজ্যের সঙ্গে সংশিষ্টরা মনে করছেন, বন্দরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সমস্যা, পণ্যের নিরাপত্তা শঙ্কা ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অযৌক্তিক হারে দিন দিন আমদানি পণ্যের উপর শুল্ককর বৃদ্ধিতে পাচার কার্যক্রম বেড়ে যাওয়া রাজস্ব সংকটের কারণ।

এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৭শ ৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার বিপরীতে বছর শেষে আদায় হয়েছিল ৩ হাজার ৮০৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ছিল ৪৫ কোটি ৪০ লাখ।

এছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ১৪৩ কোটি। বছরের শেষ মুহূর্তে আবার তা কমিয়ে ২,৮৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে ২,৯৪০ কোটি টাকা আদায় করে উদবিত্ত দেখানো হয়েছিল। এভাবে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি ছিল ১৩৪ কোটি ৭৩ লাখ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ঘাটতি ৪৫২ কোটি ৮৯ লাখ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ১৯৪ কোটি।

আমদানিকারক ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী জানান, কাস্টমসের অযথা হয়রানি, টেবিলে ঘুষ আর বন্দরে নিরাপত্তা সমস্যার কারণে আমদানি কমায় রাজস্ব আদায়ে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। হয়রানি বন্ধ ও ঘুষ কমলে এ পথে আরও আমদানি বাড়বে। কমবে দেশিয় বাজারে আমদানি পণ্যের মূল্য।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, বর্তমান সরকারের আমলে বন্দরে সবচেয়ে বেশি অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যা আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে মারাত্বকভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। অবকাঠামো উন্নয়ন হলে বর্তমানে যে রাজস্ব আসছে তখন তার দ্বিগুণ আসবে বলে মতপ্রকাশ করেন তিনি।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, দিন দিন আমদানি পণ্যের উপর অযৌতিক হারে শুল্ককর বাড়ছে। এতে বৈধভাবে আমদানি কমে বাড়ছে শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে পণ্য পাচার। শুল্কহার স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা হলে বৈধ পথে আমদানি বাড়বে। এতে বাড়বে রাজস্ব আয়।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, গত দু’দশকে বেনাপোল বন্দরে আটটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা শত শত কোটি টাকা লোকশানের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় ক্ষতিপূরণ না পেয়ে অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। কেউ আবার এ পথে ব্যবসা বন্ধ করে অন্য বন্দরে গেছেন। আমদানি পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে আবার ব্যবসা বাড়বে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের পরিসংখ্যান শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহাবুব হোসেন রাজস্ব ঘাটতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম জানান, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন জায়গা অধিগ্রহণ ও আমদানি পণ্যের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন ধরনের সতর্কতামূলক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম চালু হলে এ বন্দর দিয়ে আমদানি সঙ্গে রাজস্বও বাড়বে বলে জানান তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বেকার হচ্ছেন নায়ক-নায়িকারা

বিনোদন সংবাদ: বেকার হচ্ছেন ঢালিউডের নায়ক-নায়িকারা। কারণ ছবির অভাব। ঢাকাই চলচ্চিত্রে ছবির খরা চলছে এবং যুগেরও বেশি সময় ধরে। ২০০৬ সালের পর থেকে ছবি নির্মাণ কমতে থাকে। একসময় বছরে ১০০ ছবিও নির্মাণ হয়েছে। ২০০৬ সালের পর থেকে এই সংখ্যা কমতে থাকে। কোনো বছর অর্ধশতেরও কম ছবি মুক্তি পেয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে যাওয়ায় নায়ক-নায়িকারা অনেক আগে থেকেই বেকার হতে শুরু করেছেন। ছবির অভাবে অনেক নায়ক-নায়িকাই বাধ্য হয়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। শুধু নায়ক-নায়িকাই নয়, ছবির অভাবে অনেক নির্মাতাও অন্য পেশায় চলে গেছেন।

চিত্রনায়ক রিয়াজ ২০০৮ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্রে সরব ছিলেন। এরপর ছবির অভাবে ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন। শুরু করেন স্পিরুলনা ভিত্তিক শরবত, নুডলসের ব্যবসা। এই ব্যবসার পাশাপাশি একটি আবাসন কোম্পানিতে কিছুদিন চাকরিও করেন। এরপর আবার রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ও যুক্ত হন তিনি। চিত্রনায়ক ওমর সানি নব্বইয়ের দশকে বড় দাপিয়ে বেড়ান। পরে ছবির অভাবে তিনিও ব্যবসায় মনোযোগ দেন। একসময়ের দর্শকপ্রিয় নায়ক শাকিল খানও ছবির অভাবে ফিরে যান গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। সেখানে এল এম এল ব্যবসায় যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি। জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর রাজধানীতে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল খুলেছেন। নায়িকা রেসি আর নিপুণ খুলেছেন বিউটি পারলার। বাপ্পারাজের রয়েছে বায়িং হাউসের ব্যবসা। মিষ্টি জান্নাতের রয়েছে খাবার আর কাপড়ের দোকান। ছবির অভাবে অন্য পেশায় যাওয়া বা বেকার হয়ে পড়া শিল্পীর তালিকা অনেক দীর্ঘ। সিনেমা হল মালিকদের কথায়, নায়কদের মধ্যে একমাত্র শাকিব খানের ছবি চালালে অর্থের মুখ দেখা যায়। ঢালিউডের ছবি সংকটে শাকিব খানই একমাত্র ভরসা হয়ে আছে। এক যুগেরও বেশি সময়। এরপরের কাতারে আরিফিন শুভ, বাপ্পী ও সায়মন ছাড়া আর কারও ছবি চলে না। নায়িকাদের মধ্যে বর্তমানে মাহি, পরী, বুবলী, জয়া, ববি, নুসরাত ফারিয়ার ছবির চাহিদা রয়েছে। আসলে এসব নায়ক-নায়িকা এখন যেসব ছবি নির্মাণ হয় তাতে সুযোগ পান। নির্মাতারা তাদের নিয়ে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ফলে যেসব ছবি নির্মাণ হচ্ছে তাতে হাতেগোনা নায়ক-নায়িকাই ঘুরে-ফিরে কাজ পাচ্ছেন। বাকিরা বেকার হয়ে পড়েছেন। শুধু নায়ক-নায়িকাই নন, ছবির অভাবে বেকার হয়ে পড়া নির্মাতাদের তালিকাও নেহায়েত ছোট নয়। সম্প্রতি অর্ধশতাধিক ছবির নির্মাতা দীর্ঘসময় ধরে হাতে ছবি না থাকা শাহাদাৎ হোসেন লিটন পুরোদস্তুর গাড়ি ব্যবসায়ী হয়ে গেছেন। প্রখ্যাত আরেক নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর গ্রামের বাড়িতে মঞ্চনাটক আর যাত্রাপালা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। অনেক নির্মাতা আবার চাকরি আর ব্যবসা নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। চলচ্চিত্র সাংবাদিক ও গবেষক অনুপম হায়াতের কথায় নব্বই দশকের শেষ ভাগে এসে দেশীয় চলচ্চিত্রকে অশ্লীলতা গ্রাস করলে উচ্চ থেকে মধ্যবিত্তের দর্শক সিনেমা হলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে মহিলারা আর সিনেমা হলে যায় না। সপরিবারে সিনেমা দেখার কালচারও শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে সিনেপ্লেক্সগুলোতে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত এবং পরিবার নিয়ে দর্শক যাচ্ছে। কিন্তু দেশে ঢাকায় মাত্র কয়েকটি সিনেপ্লেক্স রয়েছে। ছবির অভাবে সিনেমা হলের সংখ্যা ১২৫০ থেকে কমে এখন ২৫০-এর কোঠায় এসে ঠেকেছে। সিনেমা হল কমে যাওয়ায় বর্তমানে যে পরিমাণ বাজেট দিয়ে ছবি নির্মাণ করলে ছবিটি চলবে তা আর হচ্ছে না। কারণ হাতেগোনা সিনেমা হলে ছবি চালিয়ে লগ্নিকৃত অর্থ তুলে আনা যায় না। ফলে ছবি নির্মাণে কোনো প্রযোজক আর আগের মতো এগিয়ে আসতে চায় না। বেশিরভাগ নামি-দামি চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ছবির অভাব দিনে দিনে বাড়ছে আর বেকার হচ্ছে নায়ক-নায়িকারা। সিনিয়র আর সহশিল্পীদের অবস্থা এখন ছবির অভাবে সবচেয়ে শোচনীয়। সিনিয়র আর সহশিল্পীদের মধ্যে বৃহৎ একটি অংশ এখন অসহায় আর মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
২৫ বছর বয়সেই মালয়েশিয়ার মন্ত্রী!

বিদেশের খবর: মালয়েশিয়ার রাজনীতিবিদ সাইদ সাদিক সাইদ আবদুল রহমানের বয়স মাত্র ২৫। এ বয়সেই দেশটির মন্ত্রী পদে যোগদান করেছেন তিনি। সাইদ সাদিককে বলা হচ্ছে দেশটির সবচেয়ে কণিষ্ঠতম মন্ত্রী। যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী পদে আজ সোমবার শপথ নিয়েছেন তিনি।

এত অল্প বয়সে মন্ত্রী নিয়োগ পাওয়ায় সাইদ সাদিক প্রশংসার পাশাপাশি নানা প্রশ্নের সম্মুখীনও হচ্ছেন। তিনি একটি মন্ত্রণালয়কে নেতৃত্ব দেয়ার মতো যোগ্য কী না কেউ কেউ এ প্রশ্নও তুলেছেন। কিন্তু সাইদ সাদিক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেছেন, সব সন্দেহবাদীকে তিনি প্রমাণ করে দেবেন তিনি এ নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য।
সাইদ সাদিক রাজনীতিতে গুরু মানেন আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার হিসেবে খ্যাত ডা. মাহাথির মোহাম্মদ। সেই মাহাথির নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী হিসেবেই শপথ নিলেন আজ। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তিও প্রত্যাখান করেছিলেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest