Welkom bij Lalabet, een toonaangevend online casino dat populair is in Nederland. Of je nu een doorgewinterde speler bent of net begint, Lalabet Casino biedt een scala aan spellen en mogelijkheden voor iedereen. Met een gemakkelijk te navigeren interface, maakt Lalabet inloggen het eenvoudig voor gebruikers om snel toegang te krijgen tot hun favoriete spellen.
Lalabet biedt tal van voordelen voor spelers in Nederland, waaronder een soepele gebruikerservaring en uitstekende klantenservice. Ook is er de lalabet app, waardoor spelers overal en altijd kunnen genieten van het spelaanbod.
Gegarandeerd veilige transacties en een scala aan betaalopties maken Lalabet login gemakkelijk en betrouwbaar. Ontdek vandaag nog de spannende wereld van Lalabet Casino!
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বুধবার বিকালে মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট সাতক্ষীরা এর আয়োজনে মায়ের বাড়ী পঞ্চ মন্দিরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতারণী অনুষ্ঠান -১৮ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাতক্ষীরা অনিন্দিতা রায়। বিশেষ অতিথি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, মোঃ রুহুল আমীন, সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি বাবু বিশ্বনাথ ঘোষ, জয় মহাপ্রভু সেবক সংঘের সহ-সভাপতি বাবু ডাঃ সুশান্ত ঘোষ,জেলা মন্দির সমিতির সহ-সভাপতি বাবু এ্যাড. অমিত মুখার্জী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন “মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম সহকারী প্রকল্প পরিচালক লিটন শিকদার এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সুজিত কুমার মন্ডল ,বাবু দিপঙ্কর কুমার মন্ডল,জেলার ৭টি উপজেলার শিশুদের কবিতা আবৃতি,জাতীয় সংঙ্গীত,হাড়ী ভাঙ্গা, প্রতিযেগীতা অংশ গ্রহণকারীদেরকে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফিল্ড সুপারভাইজার মিন্টু লাল হালদার।
বিদেশের খবর: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি কোনোদিনও তার মার্কিন সমকক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন না। আইআরজিসি’র প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ আলী জাফারি মঙ্গলবার রাতে এক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করে ট্রাম্প সোমবার যে বক্তব্য দিয়েছেন সে সম্পর্কে এক বক্তব্যে জেনারেল জাফারি আরো বলেন, ইরানের জনগণ তাদের দায়িত্বশীলদের কখনোই বড় শয়তান আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসার অনুমতি দেবে না।
তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ইরান উত্তর কোরিয়া নয় যে আমেরিকার আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেবে। আধিপত্যবাদ মেনে নিতে প্রস্তুত দেশগুলোর সঙ্গে ইসলামপ্রিয় ইরানি জনগণের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেনারেল জাফারি বলেন, ইরানি জাতি কখনো হুমকি বরদাশত করে না এবং বিদেশিদের যে কোনো চাপের মুখে তাদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বেড়ে যায়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধোঁকাবাজি সম্পর্কে ইরান পুরোপুরি অবগত রয়েছে উল্লেখ করে আইআরজিসি’র প্রধান বলেন, ইরানের সরকার ও জনগণ তাদের মহান নেতার দিকনির্দেশনায় অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা ও আল্লাহর দেয়া খনিজ সম্পদ ব্যবহার করে আমেরিকার নিপীড়নমূলক নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতনের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানি জনগণের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেন, তিনি ইরানের সঙ্গে ‘নিঃশর্ত’ আলোচনায় বসতে চান। ট্রাম্প এমন সময় এ প্রতারণামূলক ঘোষণা দিলেন যখন তিনি গত ৮ মে একতরফাভাবে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকাকে বের করে নেন। একইসঙ্গে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এ ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সমাজ।
দেশের খবর: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক খুনিদের দু’জনের অবস্থান এতোদিনেও চিহ্নিত করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি বিদেশে বসবাসরত চিহ্নিত খুনিদের দেশে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশে কারান্তরীণ রাখার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জানানোর সুপারিশ করা হয়।
সংসদ ভবনে বুধবার অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মুহাম্মদ ফারুক খান, কাজী নাবিল আহমেদ, মো. সোহরাব উদ্দিন ও সেলিম উদ্দিন বৈঠকে অংশ নেন।
কমিটি সূত্র জানায়, আদালতের রায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ৬ জনের মধ্যে ৪ জনের অবস্থান চিহ্ণিত করা গেছে। তবে দুই জনের বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে কানাডায় অবস্থানরত নূর চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জার্মানিতে মোসলেম উদ্দিন ও শরিফুল হক ডালিম স্পেনে অবস্থান করছেন জানার পর তাদের ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে খন্দকার আবদুর রশিদ ও আবদুল মাজেদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়। কমিটি সাজাপ্রাপ্ত সব খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করার সুপারিশ করে।
সংসদের গণসংযোগ বিভাগ জানায়, বৈঠকের শুরুতে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার পরাজিত শত্রু ও তাদের দেশি-বিদেশি দোসরদের ষড়যন্ত্রে ঘাতকের বুলেটে নির্মমভাবে নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাহবুবুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য কণিকা: আপনি কি প্রায়ই অ্যান্টাসিড ওষুধ খেতে খেতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন? পাকিস্থলির গ্যাস্ট্রিক গ্ল্যান্ডে অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণ হলে পেটে অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি হয়। সাধারণত খাবার খাওয়ায় দীর্ঘ বিরতি, খালি পেটে থাকা বা অতিরিক্ত চা, অ্যালকোহল বা কফি পানের কারণে পেটে গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এছাড়া মশলাদার খাবার খাওয়া, ভাজা-পোড়া খাবার, খাবার খাওয়ায় অনিয়ম, অতিরিক্ত মদপান, স্ট্রেস, ধুমপান, রাতে ঘুামনোর সময় খাবার খাওয়া, খাবার খাওয়ার পরপরাই শুয়ে পড়া প্রভৃতি কারণেও পেটে গ্যাস হতে পারে। গ্যাসের কারণে পেট ফুলে যাওয়া, বুকে জ্বালা-পোড়া, হেঁচকি ওঠা, ঢেকুর এবং ওগরানোর মতো সমস্যা হতে পারে। তবে এমন ১০টি ঘরোয়া ওষুধ রয়েছে যেগুলো আপনাকে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা থেকে চিরদিনের জন্য মুক্তি দিতে পারে।
১. কলা
এতে আছে প্রচুর পটাশিয়াম এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড যা এসিড রিফ্লাক্সের বিরুদ্ধে একটি বাফার বা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন একটি করে কলা খেলেই আপনার আর কখনো গ্যাস-অম্বলের সমস্যা হবে না।
২. তুলসি পাতা
তুলসি পাতা পাকস্থলিতে শ্লেষ্মার মতো পদার্থ উৎপাদন বাড়াতে উদ্দীপনা যোগায়। এর রয়েছে শীতলীকরন এবং বায়ুনাশক উপাদান যা গ্যাস্ট্রিক এসিডের কার্যকারিতা কমাতে সহায়ক। গ্যাসের সমস্যা হলেই ৫-৬টি তুলসি পাতা চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন। অথবা ৩-৪টি তুলসি পাতা সেদ্ধ করে পানিটুকু মধু দিয়ে পান করুন।
৩. দারুচিনি
বেশিরভাগ হজমজনতি সমস্যার ওষুধ দারুচিনি। এতে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড যা হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় এবং শোষণক্রিয়াকে শক্তিশালি করে। আধা চা চামচ দারুচিনি গুড়ো এক কাপ পানিতে মিশিয়ে সেদ্ধ করে নিন। এরপর ঠাণ্ডা করে পান করুন। প্রতিদিন এভাবে তিনবার দারুচিনি জুস পান করুন।
৪. পুদিনা পাতা
এসিড নিঃসরণের গতি কমায় এবং হজম ক্ষমতা বাড়ায় পুদিনা পাতা। এই পাতার একটি শীতলীকরণ প্রভাবও আছে। যা এসিড রিফ্লাক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া কমায়। কয়েকটি পুদিনা পাতা কুচি কুচি করে একটি পাত্রে পানি নিয়ে সেদ্ধ করে নিন। এরপর পানিটুক ছেঁকে ঠাণ্ডা করে পান করুন।
৫. মৌরি বীজ
তাৎক্ষণিকভাবে এসিড কমিয়ে স্বস্তি এন দেয় মৌরি বীজ। খাবার খাওয়ার পর এই বীজ চিবিয়ে খেলে এই উপকার পাওয়া যায়। বদহজম এবং পেট ফাঁপার চিকিৎসায়ও এটি বেশ কার্যকর। আধাকাপ পানিতে কয়েকটি মৌরি বীজ নিয়ে সেদ্ধ করে পানিটুকু পান করুন।
৬. ঘোল
এটি তাৎক্ষণিকভাবে এসিড কমিয়ে স্বস্তি এনে দেয়। এতে থাকা ক্যালসিয়াম পাকস্থলিতে এসিড জমা হওয়া প্রতিরোধ করে। এর সঙ্গে গোল মরিচ যোগ করলে আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে। এতে থাকা ল্যাকটিক এসিড হজম প্রক্রিয়াকেও শক্তিশালী করে।
৭. লবঙ্গ
এটি পাকিস্থলিতে গ্যাস উৎপাদন প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন দুটি লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে আপনি গ্যাসের সমস্যা চিরতরে থেকে মুক্তি পাবেন।
৮. ডাবের পানি
ডাবের পানি পাকস্থলিতে শ্লেষ্মা উৎপাদনে সহায়ক। যা পাকস্থলিকে অতিরিক্ত গ্যাস সৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে দেহের পিএইচ অ্যাসিডিক লেভেল ক্ষারীয় হয়ে যায়। ফলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দূর হয়।
৯. ঠাণ্ডা দুধ
ঠাণ্ডা দুধ খেলে পাকস্থলির গ্যাস্ট্রিক এসিড স্থিতিশীল হয়ে আসে। দুধে আছে ক্যালসিয়াম যা পাকস্থলিতে এসিড তৈরি প্রতিরোধ করে। সুতরাং অ্যাসিডিটির সমস্যা হলেই এক গ্লাস ঠাণ্ডা দুধ পান করুন।
১০. এলাচ
এলাচ হজম ক্ষমতা বাড়াতে এবং পাকস্থলির খিঁচুনি দূর করতে সহায়ক। এটি অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণের কুপ্রভাব দূর করে। দুটি এলাচ গুড়ো করে পানিতে সেদ্ধ করে পানিটুক পান করে নিন।
স্বাস্থ্য কণিকা: অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা হঠাৎ করে শুরু হয় এবং তা খুব মারাত্মক হয়। এ সময় শিশুরা খুব কান্নাকাটি করে। এ ধরনের ব্যথার উপসর্গ ও করণীয় সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে জটিলতা এড়ানো যায়। লিখেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফ উল হক কাজল
মানুষের বৃহদন্ত্রের সঙ্গে লাগানো কনিষ্ঠ আঙুলের মতো একটি সরু থলের নাম ‘অ্যাপেন্ডিক্স’। লম্বায় এটি দুই থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে, যা থাকে তলপেটের ডান দিকে। মানুষের এমনকি প্রাইমেট গোত্রের (শিম্পাঞ্জি, বানর, গরিলা ইত্যাদি) প্রজাতির মধ্যেও অ্যাপেন্ডিক্স রয়েছে। তবে বেশির ভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীর অ্যাপেন্ডিক্স নেই। এই ছোট্ট থলেতে আকস্মিক প্রদাহ হলে দেখা দেয় অসহনীয় ব্যথা, যার নাম অ্যাপেন্ডিসাইটিস। শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ—সবার ক্ষেত্রে এটা মারাত্মক হতে পারে।
যাদের হয়
আমেরিকায় প্রতিবছর হাজারে একজন শিশু অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হয়। তবে বাংলাদেশে কত মানুষ এতে আক্রান্ত হয়, এর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। মানুষের আয়ুষ্কালে ৯ শতাংশ পুরুষ এবং সাত শতাংশ নারী এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিশুদের মধ্যেও এই রোগের প্রবণতা রয়েছে। শিশু বলতে সাধারণত ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সকে বোঝায়। এর মধ্যে নবজাতক হলো জন্মের পর ২৮ দিন পর্যন্ত। এক বছর পর্যন্ত বয়সীরা ইনফ্যান্ট। তবে ১৮ বছরের নিচের বয়সী বা শিশুদের অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্তের আশঙ্কা এক-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয় ১১ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের।
ঝুঁকি
অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলে দ্রুত রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করা উচিত। কারো অ্যাপেন্ডিসাইটিস হওয়ার পর সঠিক চিকিৎসা প্রয়োগ না করলে বা বিলম্বে চিকিৎসা করালে অনেক সময় তা ফেটে যেতে পারে, পুঁজ হতে পারে বা চাকার মতো হয়ে যেতে পারে। এই প্রতিক্রিয়াগুলো কিন্তু মারাত্মক, যাতে জীবনসংহার পর্যন্ত হতে পারে।
উপসর্গ
শিশুরা সমস্যাগুলো ঠিকমতো বলতে পারে না, আবার অনেক মা-বাবাও বুঝতে পারেন না তাঁদের সন্তানের অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে কি না। এই ব্যথার অবশ্য কিছু উপসর্গ বা লক্ষণ থাকে। যেমন—
♦ প্রথম ও প্রধান লক্ষণ পেট ব্যথা। এই ব্যথা থেমে থেমে ওঠে, পরে সেটি তীব্র ও হালকা—দুই রকমেরই হতে পারে।
♦ প্রাথমিকভাবে নাভির চারদিকে হালকা ব্যথা হয়। এরপর ডান দিকে তলপেটে ব্যথা (যেখানে অ্যাপেন্ডিস অবস্থিত) ছড়িয়ে যায়।
♦ ডান তলপেটে টেন্ডারনেসের সঙ্গে সঙ্গে ওই স্থানে গার্ডিং (শক্ত অনুভূত হওয়া) পাওয়া যায়, কাশি দিলে ওই স্থানে ব্যথা হতে পারে। তবে কখনো কখনো অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলেও ডান তলপেটে টেন্ডারনেস বা গার্ডিং থাকে না।
♦ নাড়ির গতি দ্রুত হওয়া, ক্ষুধামান্দ্য, মুখে দুর্গন্ধ, জিহ্বায় সাদা আবরণ ইত্যাদি।
♦ অনেক সময় পেট ব্যথা, বমি, জ্বর, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি উপসর্গ থাকে। এসব লক্ষণ প্রকাশ পেলে তা একুইট অ্যাপেন্ডিসাইটিস হতে পারে। একুইট গ্যাস্ট্রোএন্টেরিটিটিস বা একুইট অ্যাপেন্ডিসাইটিসের উপসর্গ অনেক সময় একই রকম হয়।
♦ পেট খারাপের ব্যথা নাভির চারদিকে হলেও তা কিন্তু স্থান পরিবর্তন করে না।
♦ প্রস্রাবে ইনফেকশন হলেও পেটে ব্যথা বা অ্যাপেন্ডিসাইটিস মনে হতে পারে।
♦ কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েও পেট ব্যথা হতে পারে।
♦ শরীরের ছোট ছোট গ্ল্যান্ড (লিজেন্ডারি লিম্ফ নোড) বড় হতে পারে। ভাইরাল ইনফেকশন বা ইনফ্লুয়েঞ্জা হলেও এই গ্ল্যান্ডগুলো বড় হয়ে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের মতো ব্যথা হতে পারে।
♦ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগী কিছু খেতে চাইবে না।
♦ বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। জোর করে খাওয়াতে গেলেও বমি হতে পারে।
♦ হালকা জ্বর হয়, যা ৯৯-১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
পরীক্ষা
শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিসাইটিস নির্ণয় করা দুরূহ। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন দূরদৃষ্টি বা পর্যবেক্ষণে পারদর্শিতা। প্রথমে রোগের ইতিহাস জানতে হয়। অনেক সময় পেটে কোনো ব্যথা হয় না বা সামান্য ব্যথা হয়। এ পরিস্থিতিতে রোগ নির্ণয় বিলম্বিত হতে পারে। তবে উপসর্গ দেখে যদি অ্যাপেন্ডিসাইটিস মনে না হয়, তাহলে রক্ত পরীক্ষা, পেটের এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম করালে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে বোঝা যায় তা অ্যাপেন্ডিসাইটিস এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।
চিকিৎসা
অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলে সন্দেহ হলে সে ক্ষেত্রে অতি দ্রুত শল্যচিকিৎসা করাতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি নিশ্চিত হওয়া যায়, এটা অ্যাপেন্ডিসাইটিস, তখন তা অ্যাপেনডিক্টমি করা হয় বা অ্যাপেন্ডিসটা অপারেশন করে কেটে ফেলতে হয়। এটি দুই পদ্ধতিতে করা যায়। প্রথমত, সনাতন পদ্ধতিতে পেট কেটে অ্যাপেন্ডিক্স ফেলে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, পেটে ছিদ্র করে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমেও তা অপসারণ করা।
অপারেশনের বিকল্প
অনেক সময় অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানের লেখাপড়ার চাপ বা অন্য বিশেষ কারণে অপারেশন না করিয়ে বিকল্প চিকিৎসার কথা আমাদের কাছে জানতে চান। আসলে অপারেশন না করে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসা করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুটির ক্ষেত্রে ঝুঁকি তো বটেই, অনেক সময় চিকিৎসকের জন্যও এই সিদ্ধান্ত দেওয়া কঠিন হয়। তবে কোনো কোনো অ্যাপেন্ডিসাইটিস অ্যান্টিবায়োটিকে রেসপন্স করে। অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে যদি ভালো হয়ে যায়, তখন এমনো হতে পারে যে সারা জীবন তার আর অ্যাপেন্ডিসাইটিসের কোনো ব্যথাই হলো না। এটা অবশ্য রেয়ার বা খুব কম ক্ষেত্রে ঘটতে পারে।
সব পেট ব্যথাই অ্যাপেন্ডিসাইটিস নয়
শিশুদের পেট ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। তবে বেশির ভাগ পেট ব্যথাই অ্যাপেন্ডিসাইটিস নয়। সাধারণ পেট ব্যথা বা গ্যাস্ট্রোএন্টেরিটিটিস সাধারণত এক দিন বা দুই দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু শিশুর অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা হলে তা কিন্তু এক বা দুই দিনের মধ্যে সারে না। চিকিৎসা না করালে এতে বরং জটিলতা বাড়ে।
অ্যাপেন্ডিক্স কতটা দরকারি
অনেকে বলছেন, অ্যাপেন্ডিক্স কোনো দরকারি কিছু নয়; বরং বাড়তি বা অতিরিক্ত অঙ্গ। আবার অনেকে বলছেন, এটি শরীরের জন্য উপকারী। আসলে অ্যাপেন্ডিক্স আদৌ আমাদের কোনো উপকারে আসতে পারে কি না—এ বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের মিডওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গত বছর বলেছেন, যেসব প্রাণীর দেহে অ্যাপেন্ডিক্স আছে, তাদের অন্ত্রে উচ্চহারে লিম্ফয়েড টিস্যু জমা হয়, যা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই টিস্যু কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া উৎপাদনে উদ্দীপনা জোগাতে পারে। ফলে ডায়রিয়ার সময় ওই ব্যাকটেরিয়াগুলো পাকস্থলী থেকে বের হয়ে গেলেও আবার অ্যাপেন্ডিক্স গ্রন্থি থেকে সেগুলো বেড়ে ওঠে। তাঁরা এ-ও বলেছেন, যাদের দেহ থেকে অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়, তারা কোনো রোগে আক্রান্ত হলে সুস্থ হতে অনেক বেশি সময় লেগে যায়। কারণ উপকারী ব্যাকটেরিয়ার আশ্রয়স্থল হিসেবে অ্যাপেন্ডিক্স গ্রন্থিটি না থাকায় তাদের পেট থেকে সব উপকারী ব্যাকটেরিয়া বের হয়ে পড়ে।
তবে অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগ হওয়ার কারণ কী, তা এখনো পরিষ্কার জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, যখন এর প্রবেশপথটি রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন এ রোগ দেখা দেয়।
আশাশুনি প্রতিনিধি: “সবাই মিলে সচেতন হই, জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ ও প্রতিহত করি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আশাশুনিতে…
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ আসনে এবি পার্টির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জি এম সালাউদ্দিন শাকিল (এমএ,…
অনলাইন ডেস্ক : ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার প্রধান কিছু অংশে সম্মতি জানানোর পর…